Home কালকুঠুরি কালকুঠুরি পর্ব ৬০

কালকুঠুরি পর্ব ৬০

কালকুঠুরি পর্ব ৬০
sumona khatun mollika

সামনের পরে থাকা লাশগুলো কে দেখে সাফিনের মাথা চরম লেবেলের খারাপ হয়ে যাচ্ছে ! জবাব খুঁজে পাচ্ছে না কেন সামির এদেরকে মেরে দিল! সিযাম তাকে শান্ত হতে বলল৷
মাথা ঠান্ডা করে সাফিন বাড়ি ফিরে গেল। সামির ভার্সিটিতে। বাড়িতে যায়নি। সামনে পেলে সাফিন হযত তার রক্ত দিয়ে গোসল করত। ওই ১৫ জনকে সে হাতের গুটি করে রাখতে চেয়েছিল। যখন প্রয়োজন ব্যাবহার করবে। সামির সব ভেস্তে দিল।

মাহা তার কেবিনে বসে। কযেকজন বড় অফিসারসহ, মাহবুব উদ্দিন এসে হাজির হলো। সেলুট দিয়ে বলল,,
“বলুন মেডাম। ”
“সামির সিকান্দার কে গ্রেপ্তার করে নিয়াসুন। এটাই তার পেছনে আপনাদের শেষ দৌড়াদৌড়ি ”
“কি কারণে তাকে ধরে নিযাসবো মেডাম? ”
“গুম হওয়া ১৫ জন শিক্ষার্থী এবং সাব ইন্সপেক্টর তৈমুর কে হত্যা মামলায় । ”
“সামির সিকান্দার এর বিরুদ্ধে মামলা কে দায়ের করেছে মেডাম? ”
“মীর মুগ্ধ উদ্দিন ! সম্পর্কে তার শালা। একদম প্রমাণসহ।৷ চিন্তা করবেন না তিনি স্বয়ং সাক্ষী পাঠিয়ে দেবেন ঠিক সময় মতো। ”
“কিন্তু সাফিন বা সিয়াম সিকান্দার উনারা,,,,”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

ওসি মাহবুব উদ্দিন কে কথা এগোতে না দিয়ে সাদা একটা কাগজে ঘ্যাচ করে সিগনেচার করে কাগজটা তার দিকে এগিয়ে দিলো মাহাদিবা।
শান্ত কণ্ঠে আওড়ালো,,
” এইযে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট ! যাই হয়ে যাক ভুলবশতও শ্যুট করবেন না। মরে গেলে খুব সহজ শাস্তি পেয়ে যাবে ”
“ইয়েস মেডাম। ”

মাহার কণ্ঠস্বর মাহবুব উদ্দিন এর ভেতরটা কেমন দুলিয়ে তুলল। মাহবুব উদ্দিন , মুগ্ধর ব্যাপারে বেশি কিছু জিজ্ঞেস করলনা। দেখা যাক সামনে কি হয়! তাদেরকে বিদায় দিয়ে মাহা প্রধান বিচারপতির সাথে দেখা করতে চলে যায় । অনেক হয়েছে রক্তের খেলা। এবারে এসবের বিহিত হওয়া প্রয়োজন। বাইরের পরিস্থিতি বেগতিক ক্ষমতা বাঁচাতে সাফিন সিকান্দার ঠিক কতজনকে সরিয়ে দেবে তার কোনো ঠিক নেই। সরকার যা করবে করুক। এসব নিয়ে মাহার মাথা ব্যাথা নেই। আপাতত সামির সিকান্দার কে ধরাটা জরুরি হয়ে পরেছে।

সামহাকে সঙ্গে করে সেতু ভার্সিটিতে গিয়েছিল । বাড়িতে কেও থাকবেনা। সেদিন মেধা ফেরত আসার কথা । তার জন্যই মূলত তারা সেজেগুজে ভার্সিটি এলাকায় গিয়েছিল । সামহা সামিরের মতোই স্মার্ট আর স্মৃতিশক্তি প্রখর। তার ঠিকই মনে আছে, আব্বু বলেছিল, সে রাবি-র প্রফেসর। চোখ মেলে তাকাতেই দেখল দেযালে বড়সড় করে লেখা রাবি! রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। গাল টেনে একটু হাসলো। কায়দা করে সেতুকে বলল

” ও সেতু চলো তো একটু ভেতর থেকে ঘুরে আসি। ওইখানে ”
“ভেতরে হয়ত ভির, যাওয়া যাবে না ভুমি। ”
“না নিয়ে গেলে আমি এখন এখানে শুযে পরব। চলো চলো চলো চলো! ”
“আহহা রে! আচ্ছা চলো। তবে ঢুস করে যেন গায়েব হয়ে যেওনা। এত ভীরে তোমাকে কোথায় খুঁজবো? ”
“আরে চলোতো ”

ভেতরে ঢোকার সময় সামহার ধাক্কা লাগে রুবেল দেওয়ান এর সাথে । ক্রোধিত চোখে সে শুধু একবার পেছন ফিরে তাকায়। সামহার চোখ বরাবর তাকাতেই ওর কুটিত অক্ষিযুগল দেখে হুট করে মনে হয় সামির সিকান্দার তাকিয়ে আছে। একটু অবাকও হয় বটে। বড় হলে কেমন হবে ধারণা নাই। তবে এখন যে চেহারা একদম সামির সিকান্দার এর কপি!
সামহা হুট করে সামনে তাকিয়ে চলে গেল । সেতুর হাত ধরে ঘুরতে ঘুরতে তার উদ্দেশ্যও পুরোন হয়ে গেল। তড়িৎ গতিতে হাত ঝড়ি মেরে ছাড়িয়ে আব্বু বলে চেচিয়ে উঠলো ।
“আব্বু এদিকে তাকাও। আব্বুউ! ”
তার চিৎকারে সামনে দাড়ানো লাল শার্ট আর রঙচটা জিন্সের প্যান্ট পরা লোকটা আৎকে তাকালো। বুকের মধ্যে ছ্যাত করে উঠলো।
দুজন একে অপরের দিকে ছুটে যেতে লাগলো। সামহার গতি বাতাসের বেগের মতো।
সামির চেঁচালো,, ” সামহা, আস্তে দৌড়াও পরে যাবে। ”
সামহা তার দিকে দৌড়তে দৌড়তে হোঁচট খেয়ে পরে গেল। আবারো উঠে দাড়ালো। সেতু দৌড়ে চলেছে তার পেছনে। চোখের পলকে সামহা ঝাপিয়ে পরল তার আব্বুর কোলে। সামির তাকে এলোপাতাড়ি গালে কপালে চুমু খেয়ে জিজ্ঞেস করল,
” তুমি ঠিকাছো তো না, ব্যাথা লাগেনিতো! মা ”
সামহা দুচোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলল,
“আর ওদের সাথে থাকবোনা। তোমার সঙ্গে যাবো। আম্মু কেও সঙ্গে নেব। যাবে তো না? ”

তার প্রশ্নের জবাব করার আগেই চারপাশ ভরে গেল পুলিশের নীল গাড়িতে। দলে দলে পুলিশ সেনারা ছুটে এসে ঘিরে ধরল তাদের। মাহবুব উদ্দিন যেন উড়ে গিয়ে সামহাকে ধরে টানতে শুরু করলো। সেতুও তাকে টানছে। সামহা তার শার্ট জাপটে ধরে আছে। কিছুতেই ছাড়ছেনা। শার্টের পকেট ছিড়ে সামিরের বাম বুকে সামহার আচড়ের দাগ কেটে যায় । সামিরকে ৬-৭ জন মিলে ধরতে পারছে না। তবে সবাই হাত পা চেপে হ্যান্ডকাপ পরানোয় সামির আর সামহাকে টেনে ধরতে পারলোনা। ছাত্র জনতা ও ভিড় লাগিয়েছে কি হচ্ছে দেখার জন্য । সামহাকেও ধরে রাখতে পারছেনা সেতু। হাতে সজোরে কামড় মেরে বেরিয়ে যায় সামহা কিন্তু দৌড়ের মাঝে হঠাৎ কোথা থেকে একটা বুলেট ছুটে গিয়ে সামহার কাঁধ ছুযে বেরিয়ে যায় । ঠাস করে হওয়া ভয়ানক আওয়াজে সামির স্তব্ধ হয়ে যায় । ছুটতে ছুটতেই সামহা সেন্সলেস হয়ে পরে যায় । কাঁধ দিয়ে ছুটে বেরিয়ে আসে রক্ত । বোরখা ভিজে ওঠে রক্তে। সামির তার রক্ত দেখে কেমন শান্ত হয়ে যায় ।
সন্তানের আঘাত কখনোই একজন বাবা সইতে পারেনা। সামির চিৎকার করেনা শুধু অস্ফুট স্বরে উচ্চারণ করে ” আমার সংস্পর্শে আসায় তোমার আবারো ক্ষতি হলো বোরখাওয়ালী বেবি ”
সামিরকে আর টানাটানি করতে হলোনা। সে নিজেই শান্ত হয়ে গেল । রকি দৌড়ে এসে জিজ্ঞেস করল,
“কার অর্ডারে সামির ভাই কে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন? ”

মাহবুব উদ্দিন তার মুখের ওপর এরেস্ট ওয়ারেন্ট পেপার ছুড়ে দিয়ে সামিরকে থানায় নিয়ে যেতে বলল। তারপর সামহাকে কোলে তুলে সোজা সিটি হসপিটাল এ। সামির শুধু তাকিয়ে দেখল, মাহবুব উদ্দিন আর সেতু তার বোরখাওয়ালী বেবি টাকে আহত অবস্থায় তুলে নিয়ে চলে গেল।
থানার রাস্তা কাপিয়ে গাড়িগুলো পরপর থামিয়ে সামিরকে নিয়ে জেলের ওই পারে ছেড়ে দিল পুলিশের এসিপি। সামির কিছু শুনতেও পারছে না বলতেও পারছে না। বুকটা ফেটে যাচ্ছে । কে করছে তার সাথে এমন! কেনই বা করছে! চাইলেইতো সামিরকে সহজেই মেরে দিয়ে কাহিনি শেষ করে দিতে পারে। কেন তাকে বারবার নাকানিচুবানি খাওয়ানো হচ্ছে একটা নিষ্পাপ বাচ্চাকে ব্যাবহার করে!

সামির ধপ করে দ এর মতো করে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে বসে পরল। মনে মনে খুব করে চাইলো এবার যেন এই অধমের ওপরে গজব বর্ষিত হয়। আর মুক্তি চাইনা তার। আর চাইনা রক্তে ডোবা দিন। চায়না বাঁচতে । সামির ভিষণ বড় করে ভারী একটা নিঃশ্বাস ফেলল। এই জেলখানাটাই তার সবচে আপন মনে হয় । না চাইতেও কেমন নিজের ভেতরে টেনে নেয় সামিরকে। বদ্ধ কারাগার বারবার যেন বলে,,
” ওরে শালা বাঙ্গি যাস না। তুই এখানেই সেফ ”

সিয়াম ছুটে এসে এসিপির কলার চেপে ধরে বলল,,
” সাহস কতো, আমার ভাইকে ধরে এনেছেন? বেল পেপারস চলে আসবে। ওকে ছেড়ে দিন ”
” আসবেনা বস। যাকে দিয়ে বেল পেপারস সই করাবেন সে নিজেই এরেস্ট ওয়ারেন্ট দিয়েছে। ”
” আমি বলছি ওকে ছেড়ে দিন। কে কিসের ওয়ারেন্ট দিযেছে ওসব দেখার বা জানার কোনো ইচ্ছে নেই। ছেড়ে দিন নয়ত ব্যাপারটা খারাপের দিকে যাবে। ”
” আমার কিছুই করার নেই সিয়াম সিকান্দার । দুঃখিত। ”

মাহবুব উদ্দিন খবর পাঠালে মাহা ছুটে চলে যায় সিটি হসপিটালে৷ সেখানে মেধা, সেতু, লামু সবাই ছিল। অতসব জনতার মধ্যে আব্বুকে ওভাবে টেনে হিচড়ে নিয়ে যাওয়া টা সহ্য করতে পারেনি তার সরল মন। বাবুর অবস্থা দেখে মাহা ধপ করে বসে কাঁদতে শুরু করে। মাথার ভেতরে কিলবিল করছে ভয়ানক সব চিন্তা ধারা। ছাড়বে না। সামহার কিছু হলে সামির সিকান্দার ভিরান কাওকে ছাড়বেনা। সব ধ্বংস করে দিয়ে নিজেও বিলিন হয়ে যাবে অন্তরীক্ষের অভ্যন্তরে।

কিন্তু এইসব কিছুর জন্য মাহা সামিরকেই দায়ী করে । কেন সবাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সামহাকে টোপ বানায়! জগৎ-সংসারে মাহার সে বাদে আর কেই বা আছে। সামহার জ্ঞান ফিরলেও ডক্টর কাওকে ভেতরে যাবার অনুমতি দিলেন না । থানা থেকে কল আসলে মাহা এবং মাহবুব উদ্দিন দুজনেই বেরিয়ে গেল । কাশেম এসে সামহাকে এভাবে দেখে কান্না করে ফেলল।
মেধা কাশেমকে অনেকবছর পর দেখে অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল । পছন্দের পুরুষ মানুষের কান্না দেখা কজন নারীর ভাগ্যে জোটে!

সামির কে শত চেষ্টা করেও ছাড়াতে পারলোনা সাফিন বা সিয়াম। রুবেল দেওয়ান সেইদিনেই বাড়ি ত্যাগ করেছে। সরকার উচ্চেদ এর ঝামেলা শুরু হওয়ায় অবিলম্বে দেশ ছেরেছে গোটা সিকান্দার ফ্যামিলি। সঙ্গে নেওয়া যাচ্ছেনা নাজিয়া আর সিভান কে। নাজিয়া কিছুতেই সামির কে ছাড়া দেশ ছাড়তে চায়না। তাই জবরদস্তি তাকে নুসরাতের বাবাদের কাছে পাঠানো হলো।

সিভান রইল কাশেমের কাছে। রাহা সিভানের জন্য কাঁদতে কাঁদতে অস্হির হলেও সিভান কারো কথা গ্রাহ্য করেনি। তার বাঙ্গি কাকা তার জীবন। সে কিভাবে তার প্রাণভোমরা ফেলে বিদেশে পালিয়ে যাবে! মাহবুব উদ্দিন তাকে বাধা দেয়নি। সে সামির যে জেলে আটক রয়েছে সেই জেলের বাইরে বসে রইল। সাফিন কাশেম কে উদ্দেশ্য করে বলল,,
“আমার বিশ্বাস সামির মরবেনা। ওকে মরতে হলেও আমার অনুমতি নিতে হবে। ওর, আমাকে মারতে হলেও আমার অনুমতি নিতে হবে । ”
কাশেম কিছুই বলেনি। রকিকে দিয়ে খবর পাঠিয়েছে সাফিন সিকান্দার সবাইকে নিয়ে দেশ ছেড়েছে আর সিভান সঙ্গে যায়নি । মেধা গিয়েছিল দেখা করতে। সামির শুধু তার দিকে তাকিয়ে হেসেছে। খুব একটা কথা বলেনি।

তিনদিন পরে সামিরকে কোর্টে চালান করা হয়েছে। সাক্ষীর নাম তালাশ করেও পায়নি কেও। প্রধান বিচারপতির হাতে প্রমাণ হিসেবে ভিডিও তুলে দেয়া হয়েছে।
সুরক্ষার কথা চিন্তা করে মীর মুগ্ধ উদ্দিন কে কোর্টে হাজির করা হবেনা। মাহার কথা রেখে ওই ভিডিওই হচ্ছে সামির সিকান্দার এর বিপক্ষে সবচে বড় প্রমাণ।

কাঙ্খিত সেই দিনটার আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন । বিষণ্নতায় ডোবা আকাশ যেন এখনি কেঁদে উঠবে। রাজশাহী কোর্টে সেদিন চরম জনতার ভির। উকিল আর মেজিস্ট্রেটদের দৌড়াদৌড়ি শেষে সবাই স্হির হয়ে বসল যে যার জায়গায় । আশ্চর্য সামিরের পক্ষে কোনো উকিল আওয়াজ তোলেনি। তারা যেন বহুদিনের ক্ষোভ মিটিয়ে নিচ্ছে সিকান্দার দের ওপরে। বেশি বর্ণনায় না যাই। সামিরকে কাঠগড়ায় দাড় করানোর পর সামির চারপাশে চোখ বুলিয়ে দেখল। শত শত মানুষের ভীরে দৃষ্টি গিয়ে আটকালো মেজিস্ট্রেট ফারনাজের ওপরে। নেমপ্লেটের লেখাটা চকচক করছে। সামির নিজের মনকে বোঝালো।

“এখানে সবচে শক্তিশালী বোধহয় ওই নারী টিই। কেন ছাড়বে সে সামির সিকান্দার কে । তার জন্য তার বাচ্চাকে দুই, তিনবার আহত হতে হয়েছে। তার ননদ হত্যা হয়েছে। মাহবুব উদ্দিন নিশ্চয়ই নিজের ছোট বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু ভুলে যায়নি। ”

ভাবনার ছেদ ঘটিয়ে প্রধান বিচারপতির আদেশে কার্যক্রম শুরু হলো। কোরআন শরিফ এগিয়ে দিয়ে শপথ করতে বললে সামির জবাব দিল,
“যাকে মানিনা তার নামে আর কিসের শপথ করব। আজন্ম যে আমার সাথে বেইমানি করেছে তার নামে আবার কিসের শপথ । সরান এসব। যা বলার বলুন! ”

জনতার ভিরে বসে চোখের অশ্রু বিসর্জন দিয়ে নাজিয়া চেয়ে রইল কাঠগড়ায় দাড়ানো সামির সিকান্দার এর দিকে। সবাই যে সব প্রশ্ন করছে সামির শুধু উপর নিচে মাথা নেড়ে হ্যা বলে সব স্বিকার করছে। ভিডিওটি অতিরিক্ত ভায়োলেন্ট হওয়ায় কাওকে দেখানে হয়নি। জর্জ সাহেব চোখ বন্ধ করে ফেললেন। ভিডিওটি সরাতে বলে তিনি মেজিস্ট্রেটেরে কাছে কোর্ট স্টেটমেন্ট পেপারসে সিগনেচার চাইলেন। ওই কাগজে সই করতে কেন যেন মাহার পুরো শরীরে কম্পন ধরে গেল। কাঁপা কাঁপা হাতে সই করে ফেলল। লাল আবরণে মোড়ানো ফাইলটি চলে গেল প্রধান বিচারপতির হাতে।
আকাশ-ও যেন ডুকরে গর্জে উঠলো। লাল ফাইলটায় চোখ বুলিয়ে তিনি গট গট করে সই করে তার হাতের হাতুড়ি তুলে ভয়াবহ কিছু শব্দ উচ্চারণ করলেন,,,

” অডার অডার অডার, সকল প্রমাণ এবং সাক্ষী সমেত আগামী ৫ই আগস্ট আসামী সামির সিকান্দার এর ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হলো। ততদিন তাকে কেন্দ্রীয় কারাগারে সশ্রম কারাদণ্ডে আটক রাখা হবে। বিশেষ প্রযোজন এবং আইনজীবী দের অনুমতি ব্যাতীত কারো সাথে দেখা করতে দেওযা যাবেনা ”
কথাটা কত সহজেই বলে জর্জ সাহেব হাতের কলমের নিপ ভেঙে ফেললেন। নাজিয়া দৌড়ে গিয়ে সামিরের হাত টেনে ধরে বলল,,
“আপনারা উনাকে ছেড়ে দিন। উনার দোষ নাই । সামির সিকান্দার , ওদের কে বাঁচাতে ওদেরকে মেরেছে। ওনাকে ছেড়ে দিন ”
সিভানও চেঁচাতে থাকে, ” ছেড়ে দে, তোর আইনের গুষ্টি মারি!আরে আইনের চোখ অন্ধ নয়। আইন একচোখা। ছাড় আমার কাকাকে। ”

সামির দুজনের দিকে ঘুরে তাকায় । নাজিযার মাথায় হাত দিয়ে বলে,,
” যেতে দিন বেয়াইন সাহেবা। আমি অবৈধ। আমার সঙ্গ সবার জন্য অমঙ্গলজনক। সিভানকে দেখে রাখবেন । সিভু, একটা কথা রাখ বাপ আমার। শুধু ঝামেলার জন্য না তুই এই দেশ ছেড়ে চলে যা। পড়াশোনা করে নিজের জীবন গুছিয়ে নে। কথা দে আর কাঁদবি না । ঠিক করে পড়াশোনা করবি। ”

আর কিছুই বলতে পারলনা। পুলিশ অফিসার টেনে সামিরকে নিয়ে গেল। মাহা দুরে দাড়িয়ে স্তব্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল, ওরা সামিরকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে । যেভাবে পাঁচটা বছর আগে টেনে নিয়ে গিয়েছিল। তারপর আর মাহা – সামিরের দেখা হয়নি। এবারো কি আর হবেনা? মাহার স্তব্ধতার পেছনে আড়াল হয়ে রইলো তার হাহাকার।
অলুক্ষুণে নাম্বারটা সামিরের পিছু ছাড়লোনা। সে আর শুধু সামির সিকান্দার নয়। ফাঁসির আসামী কয়েদি ২১৮ সামির সিকান্দার ।

সামহা হসপিটালের বেডএ শুয়ে। কারো সাথে কথা বলছে না৷ গলার সেই ক্রসের লকেটটা দরে সেটার দিকে তাকিয়ে নিঃশব্দে কাঁদছে। মাথায় গুরছে ওরা কি আব্বু কে আর ফিরিয়ে দেবেনা! মাহা তাকে বাধা দেয়নি। সামহাকে কাঁদতে দেখে সেও মুখ লুকিয়ে কেঁদে ওঠে । মনের ভেতরে ঘুরপাক খায় ,, ” হায়রে সামির সিকান্দার , আপনার মায়া এতটাই ভয়ানক! আপনার রক্তের টান কি এতটাই দৃঢ়! আপনি কি সত্যি আর ফিরবেননা, ন্যায় বিচার করতে গিয়ে কি আমি নিজের মেয়ে টার সাথে অন্যায় করে ফেললাম “!
মাহা হাঁটুতে ভর করে বসে আছে মাথার ভেতরে শুধু ঘুরপাক খাচ্ছে
” আগামী ৫ আগস্ট সামির সিকান্দার এর ফাঁসি ”

সামির বসে বসে বুকের বাঁপাশটা একবার নেড়ে দেখলো আঁচড়ের দাগগুলি এখনো স্পষ্ট। ভিজলোনা চোখ। শুষ্ক হলোনা গলা। শুধু স্তব্ধ হয়ে গেল সামির সিকান্দার এর সমস্ত চঞ্চলতা । উঠে এগিয়ে গিয়ে জেলার সাহেবকে বলল,,
” আমার একটা কথা রাখবেন? ”
” জেলার হয়ে দাগী আসামীর অনুরোধ রাখবো? ”
“অনুরোধ না। জিজ্ঞাসা করছি ”
” বলুন? ”
” আমাকে কিছু সাদা কাগজ আর কলম দিতে পারবেন? ”
” জাদু টাদু করবেন নাকি? ”
” ওসব সাইয়ার কাম আমি পারিনা। ”
” অপেক্ষা করুন। ”

সামির ভুলে গেছে কিন্তু নিজ অজান্তেই সে একবার জেলার সাহেবকে সাহায্য করেছিল। তার প্রতিদান হিসেবে সে সামিরের কথাটা রেখেছে।
জেলার সাহেব একটা কলম আর তিনটে লম্বা লম্বা কাগজ এনে দিলেন। ওখানে দাড়িয়েই দেখলেন এবং সামির তার হাতেই কাগজটা ধরিয়ে দিয়ে বলল, এটাকি কোনোভাবে বিচারপতি মেজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো যাবে না?

জেলার সাহেব মাথা নেড়ে হ্যা জানালেন। সামির দুটো কাগজ তাকে দিয়ে দিল আর একটায় যত্ন করে বসে সামহার ছবি আকালো। সিভানের ছবি আকালো সিয়েরার ছবি আকালো।৷ ইতি আর মাহারও ছবি আকালো। মাহার শুধু চোখদুটোই আকালো।

‎জেলার সাহেব কাগজদুটো না খুলে সোজা মাহদিবার কাছেই নিয়ে যাচ্ছিল। মাঝপথে প্রধান বিচারপতির হাতে পরে যায় কাগজদুটো। তিনি ওপরে বিচারপতি লেখাটা দেখে মনে করেন হয়ত কিছু জরুরি লেখা। নিজ উদ্যোগ এ চিঠিটা পড়তে লাগলেন। চিঠি শেষে কেন যেন তার মাথাটা ঝিম ধরে এলো। বুকের ভেতরটা খচ করে উঠলো। একজন দাগী খুনির জন্য ন্যায়বিচারক প্রধান বিচারপতির চোখ ভিজেছে কথাটা মোটেও ঠুনকোভাবে নেওযার নয়। তিনি খবর পাঠিয়ে মেজিস্ট্রেট ফারনাজকে ডেকে পাঠালেন। চিঠিটা ধরিয়ে দিয়ে বললেন, আপনার মনে হয় পড়া উচিৎ। আপনার সিদ্ধান্ত জানাবেন।

মাহা কাগজদুটো মেলে ধরলে দেখতে পায় অসম্ভব সুন্দর সেই হাতের লেখা। আগের মতই রয়েছে। বদরায়নি একটুও। চিটিটা পড়তে সাহস হচ্ছিল না। সে খুব ভালো করে জানে সামির সিকান্দার খুব নিখুঁতভাবে ইমোশনাল ব্ল্যাকমিল করতে পারে। তবুও নিজেকে শক্ত করে পড়তে আরম্ভ করল,,

সন্মানীয় বিচারপতি বাঙ্গি ,,,
ভূমিকা করতে পারবোনা। ভদ্রতার সহিত অভিবাদন জানানোটা ঠিক সামির বাঙ্গির সাথে যায়না। আপনি জানেন আপনি ঠিক কতটা স্বার্থপর? যতটা স্বার্থপর হলে একজনের হৃদয় থেকে রক্তক্ষরণ করার ক্ষমতা থাকে। আপনিও সবার মতো একি ক্ষেতের বাঙ্গি। বিরক্ত লাগলেও একটু শুনুন, জানেন, আমি একজন কে বলেছিলাম, আমাকে খুঁজে পেতে আপনাদের মহাসমুদ্রের গভীর অতলে তলিয়ে যেতে হবে। আপনি বুদ্ধিমান। আগেই বুঝেছিলেন আমাকে এত সহজে আপনি খুঁজে পাবেন না। তািতো আমার রক্তর প্রতি দুর্বলতাকে টোপ বানিয়ে জাল মেরেছেন । রক্তের টানে আমি যখন ছোট্ট একটা বাচ্চাকে টোপ হিসেবে গ্রহণ করে উপরিভাগে ভেসে উঠলাম, আপনারা অমনি খপ করে আমায় ধরে ফেললেন।

জানেন একফোঁটা আপন এবং বৈধ রক্তের তৃষ্ণায় আমি কতটা তরপেছি! ? জানবেন না। বুঝবেনও না হয়ত। কারন আপনিতো আপনার বাবা মায়ের বৈধ সন্তান বলুন। যদি ধরুন আপনি অনাথ তবুও তো বৈধ। আপনাকে কেও কখনও অবৈধ বলে কটাক্ষ করেনি। অবহেলা করেনি অবৈধ বলে। ব্যাবহার করেনি হাতিয়ার হিসেবে।
কেউ একবার বলেছিল শৈশব মধুর হয়। তবে আমার শৈশব যে বিষবৃক্ষে পরিপূর্ণ একটা বাগান ছিল। যেই বাগানে আমি উম্মাদের মতো ছুটে বেড়াতাম শুধু একবুক সতেজ নিঃশ্বাস এর তাড়নায় । বিষাক্ত বায়ু কাঁটার মতো বিধতো আমার রন্দ্রে রন্দ্রে। প্রতি রাতের সঙ্গি হতো দুঃস্বপ্নের হাতছানি। আপনিতো মহামতি বিচারপতি । বিবেচনাই আপনার ধর্ম এবং কর্ম। একবার আপনার বিবেক দিয়ে কল্পনা করে দেখুন তো,,

ণআপনি মাত্র পঞ্চবার্ষীয় এক শিশু। দুষ্টামি আর ছুটে বেড়ানো দুরন্ত চাতক পাখি। আপনার পায়ে লোহার বেড়ি পরানো। কবরের মতো অন্ধকার এক ঘর। বাতাসে ভেসে আসছে আপনাকে নাড়ি ছিড়ে জন্ম দেওয়া জন্মদায়িনী নারীর আর্তচিৎকার। আপনি জোড়ে জোড়ে গুনছেন ১,২,৩,৪… ৯৯,, ১০০,,, তবুও আপনায় কথা দিয়ে যাওয়া মা ফিরে আসেনা। কেন? কেন আসলোনা জবাব দিন? সে-তো বলে গিয়েছিলো আল্লাহ বাঁচাবেন । রক্ষা করবেন তিনি, তুই শুধু ১ থেকে ১০০ পরযন্ত গোন বাপ। মা চলে আসবো।

আমার এই বুক থেকে ওরা ছিনিয়ে নিযে গেল মাকে। কই মাতো এলোনা। আপনি চিৎকার করে করে বারবার গুনছেন, ১, ২, ৩,৪… তবে মা ফেরত এলোনা। ক্লান্ত হয়ে ঘুমালেন। পরদিন খিদের চোটে হাহাকার করাতে আপনাকে খেতে দেওয়া হলো লাল পানি। এবং সেই তরল, আপনার জন্মদায়িনী অভাগা মায়ের রক্ত । নাকোচ করায় আপনার মাথার ওপর ঢেলে দেওয়া হলো সেই রক্ত । তাতেই শেষ নয়। আপনি আলোর দিক চেয়ে বদ্ধ দড়জা দিকে তাকিয়ে দেখলেন ওরা… ওরা আপনার মায়ের লাশটাকেও ছাড়েনি।
আপনার চোখের সামনে আপনার মা কে চাপাতি দিয়ে কেটে টুকরো করে ফেলা হলো। পরে রইল তার চোখ খোলা মাথাটুকু। ভাবতে কি পারেন ওই মুহূর্তটা ঠিক কতটা ভয়ানক নৃশংস হতে পারে?
পরে থাকা মদ, গাজা আর নিজের প্রসাব সেবন করতে হলো খিদে মেটাতে। আপনার আল্লাহ কেন তখন আমাকে তুলে নেননি? কেন আমাকে মৃত্যু দিলেন না? আমি মুক্তি পেতাম তাই? অবৈধ বলেকি মুক্তির অধিকার নেই? শারীরিক মানসিক তাড়নায় আমি ছটফটাইলাম তবুও তা কেউ দেখলোনা।
মহামতি বিচারপতি মেজিস্ট্রেট মেডাম,

” এই শহরের মানুষ বড়ো স্বার্থপর। নিজের জবান দিয়ে তারা ছুড়ির চেয়েও ধারালো আঘাত করতে পারে। শালার বাঙ্গিরা পরকে কাঁদিয়ে নিজে সুখ লুটে। ”
যখন ওরা আমাকে অবৈধ বলত, আমি মুখে হাসি রাখলেও আমার অন্তর ফেটে বেরোতো, এইযে শোন বাঙ্গির নাতিরা আমি নিজ ইচ্ছে তে অবৈধ হইনি। মহোদয়া, আমি এটুক জীবনে বহুত পাপ করেছি। পাপি হাতদুটো এখনো অগনিত লোকের রক্তে রঞ্জিত হয়ে আছে। তবে একটা কথা দাগ দিয়ে বলতে পারি, আমি মদ গিলে টাল হয়ে হোক বা এলার্জিতে মাতাল হয়ে , কোনোদিনও কোনো নারীর দেহে অবৈধ রক্ত ঢেলে আসিনি। আমি নিজে প্রমাণ একটা অবৈধ বাচ্চার জীবন ঠিক কতটা সুন্দর হয়। তাই কখনো চাইনি আমার জন্য আমার বাচ্চার মৃত্যু হোক। জীবিত মৃত্যু । ঝুলে থাকা মৃত্যু ।

তাছাড়া জীবনের আরেকটা পার্ট ছিল। কিশোর জীবন পেরিয়ে যৌবনে পা দিতেই সেদিন ভাঙা টিন পাঠালো এডভোকেটের ফািল চুরি করতে। ভিক্ষুক সেজে গিয়েছিলাম । সেদিন একটা জোড়াভুরুওয়ালা মেযের চোখে আমি সোনালী স্বপন খুজে পেলাম। আঁধার রাতের গহ্বর চিড়ে দিবার উজ্জ্বল কিরণ ছুয়ে দিল আমায়। সে আমার থেকে ওয়াদা নিলো। বড় হয়ে যেন তাকে বিয়ে করি। তাকে নাম বলিনি। বলেছিলাম আমি সিকান্দার । ট্যাগটা লাগাতে খুব ভালোবাসতাম। এলাকায় দাগী আসামী হওয়ার কারণে আমাকে জেলে ভরে দেওয়া হলো। শালার সেদিনই আমার ১৮ বছর পুরছে। সাইয়ার বেটা পুলিশ বাঙ্গি শশুড় আব্বা চরম পেদানি দিছিলো। মানা করার পরেও উল্টা ঝুলাইয়া ডান্ডা দিয়া৷ বেল্ট দিয়া । বের হয়ে প্রথমেই শশুড় আব্বা কে বাঙ্গি ক্ষেতে পাঠাইছিলাম। টাটা বাই বাই। তারপর আর সেই আলোর দেখা পাইনি।

জানিনা কেমনে ট্যালেন্টপুলে চান্স পাইলাম। ডিপার্টমেন্ট সিআর হইলাম। সাফিন ভাই যখন জেলে গেল রাজনীতি তে তখন বেশ মন দিয়েছি। তখন ভুলবশত এক ভুল মেয়ে কে তুলে নিয়ে গেলাম ছুড়ির জোড়া ভুরু । বোরকায় ঢাকা চেহারা। সেখান থেকে এক চড়ের বদলে আমি তার বর হয়ে গেলাম। যেদিন শুনলাম বপ হবো,, না শুনিনি নিজেই বুঝেছি। জানতে দেইনি কাওকে। বেশ খুশি ছিলাম। তবে ও-ই যে আমি অবৈধ। আমার কপালে সুখও অবৈধ। জুটলোনা। আগুনে পুড়ে ভষ্ম হয়ে গেল সব। আবারো অন্ধকারে পতিত হলাম আমি। পাঁচটা বছর কেটেছে অসহনীয় যন্ত্রণায়। বুকফাটা আর্তনাদ কেও শোনেনি।৷ ভাবলাম অন্ত আপনার আল্লাহর কাছে গিয়ে দুজনের জন্য কিছু চেয়ে আসি। মাত্র ওইটুকের বদলে তিনি আবারো এক বোরখাওয়ালী পিচ্চি সৈনিককে পাঠালেন আমাকে ভেঙে দিতে। যাকে আপনারা এই পাপির ডঙ্কাবাজা বুক থেকে ছিনিয়ে নিলেন। জীবনে আলো আধারে দৌড়াদৌড়ি করতে করতে আমি ক্লান্ত ।

“এই অন্তরাত্মা বিলাসী গল্পের সমাপ্তি নেই। এ যেন এক দুঃখের মহুয়ায় বেচে থাকা ”
আগামী ৫ তারিখ, আমার মুক্তি হবে। জানিনা চোখের কোণ ভিজছে কেন তবে আমার একটা অনুরোধ কি রাখবেন? শেষ ইচ্ছে তো রাখতে হয়। নাকি অবৈধ জন্য সেি অধিকার আমি পাবোনা? বেশি কিছু না শুধু…
শুধু আপনার বাচ্চাটাকে একবার জড়িয়ে ধরে আব্বু ডাকতে দেবেন? দেবেনতো বিচারপতি ফারনাজ মেডাম?
আপনি ন্যায় বিচারক। আশা নয় ভরসা করছি অবৈধ আমার বৈধ ইচ্ছে টুকু আপনি রাখবেন। রাখবেন তো?

আসামী সামির সিকান্দার
কয়েদি নংঃ ২১৮

মাহা চিঠিটা পড়তেই স্তব্ধ হয়ে বসে পরলো। কি করবে এখন সে! দুদিন কেটে গেল। সামিরের খোঁজ নিতে গেলোনা কেও। গেলনা বললে ভুল হবে। তাদেরকে মূলত সামির সিকান্দার পর্যন্ত পৌছুতে দেওয়া হলোনা। সবটা সময় সামির আচড় লাগা বুকটাতে হাত বুলায়। বেলা গড়িয়েছে দিগন্তের উজ্জ্বল রোদ বাঁকা করে আলো দিচ্ছে । সামির হাঁটুতে মুখ গুজে বসেছিল আচমকা তার কানে ঢুকলো এক চিকন মিষ্টি সুর,, অসহায় গলায় ডাকলো সে,,
” আব্বুউ?? ”

সামিরের বুকের বাপাশটা ধরাস করে উঠলো। তড়িঘড়ি করে তাকিয়ে দেখলো, কারাগারের ওপারে, তার বাঙ্গি ছানা দাড়িয়ে।
” সামহাআ? ”
” আব্বু, ”
একটু পুলিশ অফিসার সামহাকে সামনে এগোতে দিলোনা। নিকাবের আড়ার থেকে মাহন বলর,,
” যেতে দিন ”
” দিবাআ! ”
নিকাব তুলে মাহা ব্যাথিত কণ্ঠে। জিজ্ঞেস করল,
” কেমন আছেন সামির সিকান্দার।? ”
” তুমি বেঁচে আছো? তারমানে সামহা.. ”
” আপনার মেয়ে । আপনার অংশ আপনার বংশ আপনার বৈধ রক্ত সামহা সিকান্দার ভুমি।”

সামির যেন পাগল হয়ে গেল। গারদের ওইপার থেকেই সামহাকে এলোপাতাড়ি চুমু খেয়ে চেচিয়ে চেচিয়ে বলল,,
” দেখ সবাই, শোন সবাই, ও আমার মেয়ে । ও আমার মেয়ে । আমার বাচ্চা, আমার মা, সোনা। ”
” আব্বু.. তুমি ওখানে কেন আব্বু! ”
” আমি,, ! ”
সামির এবার স্তব্ধ হয়ে বসে। শান্ত কণ্ঠে মাহাকে জিজ্ঞেস করে,, ” তুমিহ! তুমি আবারো আমাকে ধোঁকা দিলে দিবা। ”
” এটা জরুরি সামির সিকান্দার ”
“হেহহ! আমার কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিতে তুমি আজ,, ২ আগস্টে এসে আমাকে বলছ,, ধর বাঙ্গি, এটা তর ছুড়ি! কত প্রশ্ন কতি যে প্রশ্ন আপাতত শুধু জবাব দাও,, তোমাদেরকে সেদিন বাঁচালো কে? ”

কালকুঠুরি পর্ব ৫৯

” আমি! ”
পেছন থেকে ভেসে আসা পুরুষালি কণ্ঠ তাক করে সামির তাকালো। চোখদুটো বিষ্ময়ে ফেটে বেরিয়ে আসবে! ছলনা, আবারো ছলনা। এত বড় ধোঁকা ! সামির শুধু আলগা করে উচ্চারণ করল,,
“কাইশসাআ……… ”

কালকুঠুরি বোনাস পর্ব

দ্বিতীয় পরিচ্ছদ সমাপ্ত

4 COMMENTS

Comments are closed.