কিশোরী কন্যা পর্ব ৭
হামিদা আক্তার ইভা
“শোন কনক,মাইয়া মানুষের এত জেদ ভালো না বুঝলি?আমি আগে জানতাম না তুই তাহসিনরে ভালোবাসোস।যদি আগে জানতাম তাইলে তোর দাদারে কইয়া একটা ব্যবস্থা করতাম।কিন্তু এহন ভালোবাসি কইলেই তো হইবো না তাই না?ওর বিয়া হইছে,নতুন বউ নিয়া সংসারও শুরু করছে।”
কনক মাথা নিচু করে বসে রইলো।রজনী বেগম ফের বললেন,
“খাউন এমনে বন্ধ কইরা রাখলে না খাইয়া মুইরা যাবি।এহন হাজার চাইলেও কিছু করার নাই।এডি যদি তাহসিনের বউয়ের কানে যায় তাইলে ওয় খারাপ মনে করব।”
কনক মাথা নাড়িয়ে শুধোয়,
“আমি ঝামেলা কেন করব দাদি?আমার ভাগ্যে ছিল না বলেই সে আমার হয়নি।”
“মুখে এই কথা কইলেও মনে বিষ রাখিস না।বংশ কইতেও একটা জিনিস আছে।আমার থিকা ভালো আর এডি ক্যারা জানে?”
কনক দাদির ঘর থেকে বেরিয়ে এলো।আজ তাহসিনরা আসছে।এতক্ষণে বোধহয় রওনাও হয়েছে তারা।বাড়ির মানুষ সব ব্যস্ত।চেয়ারম্যান বাড়ির বিশাল ড্রয়িংরুমে মাহতাব তার লোকজনদের সাথে তার কাজ নিয়ে কথা বলছে।কোথাও একটা সমাবেশ আছে বোধহয়।পাশেই রুহুল গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে আছে বড় ভাইয়ের পাশে।
দুপুরের একটু পর দিয়ে রুহুল তাহসিনদের নিয়ে এলো বাড়িতে।বাড়িতে যখন প্রবেশ করল তারা তখন পুতুল আদনানের গলা শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।আদনান মেয়েটার ভয় বুঝতে পেরে ফিসফিস করে বলল,
“পুতুল,কী হয়েছে?”
পুতুল উত্তর দিলো না।বাড়ির মহিলারা ব্যস্ত হলেন ওদের দেখে।অরুণিমা বেগম নাতনীকে দেখে ভীষণ খুশি হলেন।অনেক গুলো মাস পর আজ পুতুল এসেছে বাড়িতে।তিনি পুতুলকে কোলে নিয়ে মুখশ্রী জুড়ে ছোট ছোট চুমু একে বললেন,
“কতদিন পর দেখলাম।পরাণটা কেমন করে আল্লাহ ছাড়া কেও জানে না।”
পুতুল ভিতু চোখে বাড়ির আশেপাশে চোখ বুলিয়ে ছলছল চোখে বাবার দিকে তাকালো।তাহসিন মেয়ের দৃষ্টি অনুসরণ করে চারপাশে চোখ বুলাচ্ছিল।ওকে কাঁদতে দেখে মায়ের কোল থেকে নিজের কাছে নিয়ে অরুণিমা বেগমকে বলল,
“আম্মা,অনেকটা রাস্তা জার্নি করেছি।পুতুল কেমন ভালো করেই জানেন।আমি ওকে ফ্রেশ করিয়ে একটু পর নিয়ে আসি?”
অরুণিমা বেগম মাথা নাড়লেন।তাহসিন ময়ূরী আর পুতুলকে নিয়ে ঘরে এসে মেয়েকে বিছানায় বসালো।নিজে হাঁটু ভেঙে বিছানার নিচে বসে মেয়ের দিকে তাকালো।
“আম্মা,আপনি ভয় পাচ্ছেন কেন?দাদির কাছে গিয়ে ভয় পেয়েছেন?”
পুতুল নিচু স্বরে বলল,
“আমি এখানে থাকব না বাবা।”
“কেন আম্মা?এখানে সবাই আছে।সবাই আপনাকে কত ভালোবাসে।”
পুতুল ঘনঘন মাথা নাড়িয়ে কেঁদে উঠল।
“সবাই ভালোবাসে না,ভালোবাসে না।”
ময়ূরী প্রথম দিন থেকেই ভীষণ অবাক হচ্ছে পুতুলের ব্যবহার দেখে।মেয়েটা সহজে সবার সাথে মিশতে পারে না।এমনকি ময়ূরীর সাথেও ভালো করে কথা বলে না।এটা তো ওর দাদা বাড়ি,তাহলে এখানে সমস্যা কোথায়?সে নাহয় নতুন তাই হয়তো মিশতে পারছে না কিন্তু এখানে?
তাহসিন উঠে দাঁড়াল।গায়ে জড়ানো কালো শার্টের হাতা গুটিয়ে মেয়েকে কোলে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকলো।হাত মুখ ধুইয়ে দিয়ে ময়ূরীর পাশে বসিয়ে গম্ভীর হয়ে বলল,
“এভাবে কান্না কাটি করা বন্ধ করেন।”
পুতুল রাগ দেখিয়ে ময়ূরীর কোমর জড়িয়ে ধরে পেটে মুখ গুঁজে দিলো।ময়ূরী আশ্চর্য হয়ে তাহসিনের দিকে তাকালো।কিছুটা হতবাক হয়ে বলল,
“আমি কিছু বুঝতে পারছি না।পুতুল এখানে থাকতে চায় না কেন?”
“জানি না।”
তাহসিন জামা কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকলো।ময়ূরী পুতুলের মাথায় হাত রাখল।
“কাঁদছ কেন পুতুল?আমি না তোমার মা হই?মাকে বলবে না কী হয়েছে?”
পুতুল এবারও উত্তর দিলো না।ময়ূরীও আগ বাড়িয়ে কিছু জিজ্ঞেস করল না আর।খানিকক্ষণ পর ঘরে এলো আফিয়া এবং নুপুর।পুতুলকে দেখে আফিয়ার খুশি আর দেখে কে?পুতুল না চাইলেও জোর করে কোলে নিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
“কতদিন পর পুতুল সোনা এসেছে বাড়িতে।চাচির কথা কী মনে পড়ে না?”
পুতুল ঠোঁট উল্টে বলল,
“তোমরা আমাকে নিয়ে এত টানাটানি করো কেন?আমার ব্যথা লাগে।”
আফিয়া সহ ময়ূরী নিজেও শব্দ করে হেসে উঠল।আফিয়া পুতুলকে নিজের কোলের উপর বসিয়ে আদর করে বলল,
“তুমি মানুষটাই পুতুলের মতো,তাই তোমাকে নিয়ে সবাই টানাটানি করে।”
“আমি কী সুন্দর চাচিমা?”
“খুব খুব সুন্দর।একদম পুতুলের মতো।”
আফিয়া’র মুখের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে পুতুল ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
“আমি তো পুতুলই।তাহলে পুতুলের মতো সুন্দর কেমন করে হই?”
“ওরে, মানে তুমিই পুতুল,কিন্তু তোমার নামের মতোই পুতুলের মতো সুন্দর।”
পুতুল ভ্রু কুঁচকে বলল,
“এই যে তুমি বললে আমি সুন্দর,তাইলে এখন কি আমি রাজকন্যা?”
“অবশ্যই রাজকন্যা,কিন্তু রাজকন্যারা তো কাঁদে না।”
পুতুল সঙ্গে সঙ্গে মুখ গম্ভীর করে বলল,
“আমি কাঁদি না! আমি শুধু একটু পানি ফেলি। চোখের ব্যায়াম করি।”
“কার থেকে শিখেছ এটা?”
“বাবার থেকে।”
আফিয়া আদুরে বাচ্চাটাকে বুকে আগলে নিলো।তার একটা বাচ্চা নেই।এতদিনে হয়তো পুতুলের মতোই একটা রাজকন্যা থাকত তার।সে পুতুলের গালে আলতো হাত স্পর্শ করে বলল,
“আহারে,আমার একটা সন্তান নেই।আমার একটা সন্তান থাকলে বোধহয় পুতুলের মতোই হত।”
তখন তাহসিন গোসল সেরে বের হলো ওয়াশরুম থেকে।আফিয়া জিজ্ঞেস করল এখন খাবারের ব্যবস্থা করবে নাকি।তাদের খাবার ঘরে দিয়ে যেতে বলল সে।আফিয়া ঘর থেকে যাওয়ার পর নুপুর পুতুলকে নিয়ে বাইরে যেতে চাইলে পুতুল গেলো না।তাহসিন বলল একটু সময় যাক তাহলে এমনিই নরমাল হয়ে যাবে।নুপুর মাথা নেড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে গেলে তাহসিন ময়ূরীর দিকে তাকায়।দৃষ্টি অদ্ভুত।ট্রাউজারের পকেটে হাত গুঁজে ঠোঁট কামড়ে চোখ ছোট ছোট করে তাক করা। ময়ূরী বারবার আড়চোখে তাহসিনের অদ্ভুত দৃষ্টির দিকে তাকাচ্ছে।শেষে লজ্জায় চুপ থাকতে না পেরে বলল,
“আপনি এমন করে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন কেন?”
তাহসিন ঠোঁট চেপে হাসলো বউয়ের কথা শুনে।
“তোমার দিকে তাকিয়ে থাকলে মনে হয় পাপ করছি।”
“তাহলে তাকাবেন না।”
“শোনো মেয়ে,পাপেরও একধরনের শান্তি আছে, বুঝলে?যেটার নাম তুমিময় হালাল পাপ।”
তাহসিনের কণ্ঠে এমন ভারী শান্ত স্বর, কথার ভেতরে যেন জ্বলছে একরাশ অনুচ্চারিত ভালোবাসা।ময়ূরী চুপ করে তাকিয়ে রইলো ওর দিকে।চোখে-মুখে মৃদু বিস্ময়,ঠোঁটের কোণে অজানা লজ্জা।ওর গাল লাল হয়ে উঠল।বিছানার চাদরের কোণা মুঠো করে টানল ধীরে,যেন কিছু বলতে চেয়ে থেমে গেলো।
তাহসিন এক পা সামনে এগিয়ে এলো।কপালে লেপ্টে থাকা চুল গুলো আলতো করে ছুঁয়ে দিয়ে কানের কাছে গুঁজে দিলো।মেয়েটা লজ্জাবতীর মতো শিটিয়ে নিলো নিজেকে।লাজে গাল দুটো রক্তিম হয়ে এলো।তাহসিন না চাইতেও মুচকি হাসল।
“শোনো,তাড়াতাড়ি বড় হও বুঝলে?কিশোরী বধূ বড় হলে প্রেম করব।”
ময়ূরী তাড়াহুড়ো করে উঠে বসল।তাহসিনের হাত গাল থেকে সরিয়ে দিয়ে লাজুক কণ্ঠে বলল,
“ইশ,কিসব কথা।”
পুতুল ভ্রু কুঁচকে দুজনের কাহিনি দেখছে।গায়ের জামা মুখের ভেতর নিয়ে কামড়ে ধরে সামনে তাকিয়ে আছে।
তাহসিন মুচকি হেসে ময়ূরীর পাশে গিয়ে দাঁড়াল।দৃষ্টিটা এমনই যেন অন্ধকার রাতেও ওর চোখে আগুন জ্বলছে।কিছুক্ষণ ময়ূরীর দিকে তাকিয়ে থেকে গম্ভীর গলায় বলল,
“তুমি জানো?তোমাকে লজ্জা পেতে দেখলে আমার খুব শান্তি লাগে।”
ময়ূরী অবাক হয়ে তাকালো,
“কেন?”
“তুমি লজ্জা পেলে গাল লাল হয়ে যায়,চোখ নিচু হয়ে যায়,ঠোঁট কাঁপে তখন মনে হয়, তোমার এই মুখটাকেই আল্লাহ শুধু লজ্জার রঙে এঁকে বানিয়েছে।মনে হয় পৃথিবীর সব লালচে রঙ আমার কিশোরী বধূর লাজে রাঙা গাল দুটোয় আশ্রয় নিয়েছে।”
তাহসিন ঠোঁটের কোণে একচিলতে হাসি টেনে কাছে এসে কানের পাশে ফিসফিস করে বলল,
“ভয় পেও না কিশোরী বধূ,আমি শুধু লজ্জা দেবো,ছুঁব না।”
এই কথাটা শুনে ময়ূরী তাড়াতাড়ি পেছিয়ে গেল।
“আপনি থাকেন নিজের মতো, আমি যাই।”
তাহসিন হাত বাড়িয়ে ওর চুলের কোণা ধরে বলল,
“দাঁড়াও,এত তাড়াহুড়ো কিসের? এখনো তো ঠিক মতো তাকানোই হলো না।”
ময়ূরী ঠোঁট কামড়ে বলল,
“আপনার কোনো কাজ নেই বুঝি?”
“আছে,আপাতত তোমাকে লজ্জা দেয়াই আমার কাজ।”
লজ্জা আর ধরে রাখে কে?ময়ূরী হতভম্ব হয়ে ছুটে গেলো ওয়াশরুমের দিকে।তাহসিন শব্দ করে হেসে উঠল।গলা উঁচিয়ে বলল,
“লজ্জা পেও না মেয়ে,ছুঁয়ে দেয়ার আগে এত লজ্জা পেতে নেই।”
বিকেল বেলা ঘরের বাইরে এলো ময়ূরী পুতুলকে নিয়ে।সাথে আফিয়া,নুপুর,কুসুম আর ছোট চাচি আছেন।এত মহিলাদের মাঝে আদনান একা দাদির পাশে বসে বসে আপেল খাচ্ছে।পুতুল হিমির কোলে বসে চারপাশে চোখ বুলাচ্ছে।এই বাড়ির প্রত্যেকে হিমিকে ভালো করেই চেনেন।হিমিই ধরতে গেলে বাচ্চাটাকে বড় করেছে।ওর কাছেই থাকে সে।
রজনী বেগম পান মুখে দিয়ে পাটিতে পা মেলে দিয়ে বললেন,
“মাইয়া মানুষের এত দেরি কইরা বিয়া করতে নাই।হিমি বিয়া করবা কবে?কয়দিন পর পোলা পাইবা?”
সে যতবার এই বাড়িতে এসেছে ঠিক ততবার রজনী বেগম এই কথা হয়েছে।মাঝে মধ্যে ভীষণ বিরক্ত লাগে এই ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলতে তবুও বলতে হয়।সে চাপা শ্বাস ফেলে বলল,
“একদিন না একদিন বিয়ে তো করবই দাদি।”
আদনান কথার মাঝে কথা কেটে বলল,
“দাদি,আমার জন্য একটা মেয়ে দেখো।বিয়েটা এবার করতেই হবে।”
রজনী বেগম খুশি হলেন আদনানের কথা শুনে।তিনি একগাল হেসে বললেন,
“মজা করিস না কইলাম।আমি কিন্তু সত্যি মাইয়া দেখমু।”
“আর কতদিন এভাবে বসে থাকব বলো?তুমি মেয়ে দেখা শুরু করো।”
হিমি কাপের ধারে ঠোঁট ছোঁয়ালো, চা খাওয়ার ভান করছে শুধু।ভেতরে ভেতরে বুকের ভেতরটা কেমন যেন কাঁপছে।চোখ তুলে তাকাতেও পারছে না আদনানের দিকে।অথচ ওর চোখ ঠিকই টের পাচ্ছে, আদনান ওর দিকেই তাকিয়ে আছে,অদ্ভুত এক দৃষ্টিতে।
রজনী বেগম তখনো মজা করে বলছেন,
“এইবার আমি ঠিক মাইয়া দেখমু।”
আদনান ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি টেনে বলল,
“তুমি ঠিক করে দেখো দাদি,কিন্তু আমি না দেখে বিয়ে করব না।”
“কেনরে? আমি যে মাইয়া পছন্দ করমু,সেইটা তো ভালোই হইবো।”
“ভালো হবে কি না জানি না দাদি,কিন্তু যার হাসিতে মন শান্তি পাবে,যার চোখে তাকালে মাথা ঘুরে যাবে, এমন মেয়ে যদি পাই তাহলে বিয়ে করব।”
সবাই হাসলো।শুধু হিমি মাথা নিচু করে রইলো। গাল গরম হয়ে উঠছে তার।পুতুল কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে আছে দুজনের দিকে।
“চাচ্চু,তোমার মাথা ঘুরে যায় কেন?”
পুতুলের সরল প্রশ্নে আদনান হেসে মেয়েটাকে কোলে টেনে নিয়ে বলল,
“কারণ রাজকন্যার মতো কেউ তাকিয়ে থাকে মাঝে মাঝে।”
রজনী বেগম হেসে বললেন,
“রাজকন্যা কেডা রে? আমি চিনি না নাকি?”
আদনান আড়চোখে হিমির নত মাথার দিকে তাকিয়ে বলল,
“বলব কোনো একদিন।”
রাতে রজনী বেগমের আদেশে ময়ূরী কাজ করছিল।বাড়ির কয়েকজন পুরুষ খাবার টেবিলে বসেছেন।এই বাড়ির কাজের একজন মহিলা আছেন।নাম খুব সম্ভবত চম্পা।বয়স ৩২-৩৩ তো হবেই।বেশ সুন্দর দেখতে।তবে তার আচার আচরণ ভীষণ অদ্ভুত।গায়ের শাড়িটাও গায়ে ভালো করে জড়ায়নি।তিনি রান্না ঘরে কাজ করছিলেন।খাবার গুলো নিয়ে টেবিলের উপর রাখছিলেন।ময়ূরী এবার অবাকের চরম পর্যায়।ময়ূরী চাতক পাখির মতো তাহসিনকে খুঁজলো।তাহসিন কিংবা আদনান কেও নেই এখানে।লোকটার সামনে এভাবে এই মহিলা ঘুরলে তার মেজাজ গরম হবে নিঃসন্দেহে।দাদাই বা কোথায়?ছোট চাচা,রুহুল ও মাহতাব বসেছে খেতে।মাহতাব খাবারে মন দিলেও ছোট চাচার মতিগতি মোটেও ভালো লাগছে না তার।
চম্পা রান্না ঘরে সবজির বলটা নিতে এলে ময়ূরী বলে,
“আপনার বুকের আঁচল ঠিক করুন।”
চম্পা তীক্ষ্ণ চোখে তাকায় ময়ূরীর দিকে।আঁচল ঠিক না করেই উল্টো ময়ূরীকে বলল,
“তুমি নতুন বউ,নতুন বউয়ের মতো থাকো।নিজের মাথায় কাপড় রাইখা আমারে নিয়া পড়লা কেন?”
ময়ূরীর চোয়াল শক্ত হলো।
“নিজের পাছা খোলা রেখে আমার মাথার কাপড় নিয়ে টানছেন কেন?আমি আমার স্বামী ছাড়া অন্য পুরুষদের সামনে মাথায় কাপড় ছাড়া যাই না সেটা ভালো করেই জানেন।এখানে আমার চাচা শ্বশুর,দেবর সহ বড় ভাসুর উপস্থিত আছেন।আপনি কোন আক্কেলে এভাবে চলা-ফেরা করছেন?”
কিশোরী কন্যা পর্ব ৬
“শোনো মাইয়া,আমারে নিয়া বেশি নাক গলায়ো না।তাইলে..”
“তাহলে কী করবেন আপনি?কী বলতে চাইছেন?একে তো নোংরামি করছেন আবার আমার সাথে বড় গলায় কথা বলছেন?খারাপ কিছু বলেছি আপনাকে?শরীর খোলা রাখার ইচ্ছে থাকলে বাড়ির বাইরে যাবেন,বাড়ির ভেতরে এসব নোংরামি করবেন না।”
