Home কি করিলে বলো পাইবো তোমারে কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ৫

কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ৫

কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ৫
মুনমুন বুড়ি

ঠাস করে এক আছাড় মেরে ফোনটা ভেঙে ফেলল কৌশিক। রাগে হাত-পা কাঁপছে কৌশিকের। এতটা এতটা দূর অবধি চলে গেছে ওদের সম্পর্ক। মেনে নিতে পারছে না কিছুতেই। মিহি এমনটা কীভাবে করতে পারে? কীভাবে ছয় বছরের সম্পর্ক এত তাড়াতাড়ি ভুলে যেতে পারে মিহি?
কৌশিকই তো ছিল সবচেয়ে প্রিয় মানুষ মিহির। ওর থেকে বেশি তো কাউকে কোনো দিন উপরে রাখেনি মিহি। তাহলে কেন, কেন, কেন? কেন আজ দূরে সরে গেল মিহি?
সবকিছু মেনে নিয়ে কৌশিক তো আবার নতুনভাবে সবটা শুরু করতে চেয়েছিল। তাহলে কেন হলো ওর সঙ্গে এমন?
আহত কণ্ঠে অভিযোগের সুরে অভ্র বলল—

— কেন, মনি, কেন এমন করলে? আমার তো যন্ত্রণা হচ্ছে খুব, মনি খুব, খুব। আমি তো কখনো তোমাকে ছাড়া এক মুহূর্তের জন্যও অন্য কারো কথা চিন্তা করিনি। তাহলে তুমি কীভাবে পারলে? সত্যিই কি তোমার ভালোবাসা এত ঠুনকো ছিল, নাকি আমার মধ্যে কোনো কমতি ছিল, মনি? খুব যন্ত্রণা হচ্ছে… কী করলে তুমি! এই অসহ্য যন্ত্রণা দূর হবে কীভাবে, মিহি? আমি কী করব, বলো।
কথাগুলো বলেই চারপাশে কিছু খুঁজতে লাগল কৌশিক। হঠাৎ কাঙ্ক্ষিত জিনিসটা পেয়ে গেল। দ্রুত গিয়ে সেটা হাতে তুলে নিল কৌশিক। চোখ বন্ধ করে যেই হাতে কিছু করতে যাবে, তার আগেই কেউ এসে ছিনিয়ে নিল ছুরিটা কৌশিকের কাছ থেকে।
তৎক্ষণাৎ পাগলামি শুরু হয়ে গেল কৌশিকের। চিৎকার করে বলতে লাগল

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

— তোমার এত বড় সাহস কী করে হলো, প্রত্যুষ! আমাকে দাও, ওটা আমাকে দাও! আমার কষ্ট হচ্ছে। আমি মায়ের কাছে যাব। মা ছাড়া আমাকে কেউ বোঝে না, কেউ না। সবাই মিথ্যুক, প্রতারক। সব মিথ্যে, সব মিথ্যে, সব, সব, সব, সব—
মুহূর্তেই শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে গেল কৌশিকের। শ্বাস নেওয়ার জন্য ছটফট করতে লাগল। কাশতে লাগল। প্রতূষ দ্রুত গিয়ে ইনহেলারটা নিয়ে এলো। কৌশিককে দিতেই আস্তে আস্তে শান্ত হয়ে এলো কৌশিক। শেষে দুর্বল কণ্ঠে বলে উঠল—
— কেউ কখনো আমাকে বোঝেনি। আমি কি খুব কঠিন? আমাকে আমার মতো করে একটু বোঝা যায় না?

শপিং করে সবাই বাড়ি এসেছে। ঘণ্টাখানেক হবে। সবাই ক্লান্ত, যে যার রুমে রেস্ট নিচ্ছে। আজকে সবথেকে বেশি খুশি ছিল তিহি। কিন্তু বাড়ি আসার পরই যা দেখল তারপর তিহির মন খারাপ হয়ে গেল
যখন দেখল বাড়িতে অভ্র এসেছে। খালি বাড়িতে অভ্র আর মিহি কী করছিল—যদিও যখন ওরা এসেছিল তখন দরজা অভ্রই খুলেছিল। মিহি ওপরের রুমে ছিল। আর তিহিরা আসার আরও আধঘণ্টা পর মিহি বের হয়েছিল। বিষয়টা সবাই একটু অন্য নজরে দেখছিল, কিন্তু তিহির সামনে কেউ সেটা প্রকাশ করেনি। তবু তিহি বিষয়টা মোটেও ভালো নজরে দেখেনি।
মিহিকে আসার পর থেকেই কয়েকবার পা থেকে মাথা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করেছে, কিন্তু সন্দেহভাজন কিছু পায়নি।
তিহির ভাবনার মাঝেই মিহির রুমে প্রবেশ করল তিহি। মিহিকে দেখামাত্রই প্রশ্ন করল—

— অভ্র কেন এসেছিল রে, মিহি?
মিহি তিহির দিকে তাকিয়ে সরাসরি বলল—
— আমি জানি না, আপু।
— তোকে কিছু বলেছে?
মিহি বলতে চাইল না সত্যিটা, তাই বানিয়ে বলল
— ভাইয়ার নাকি এখানে একটা কাজ ছিল। কাজ করে ফেরার সময় ভাইয়ার নাকি খারাপ লাগছিল, তাই বাড়ি এসেছে।
তিহি সন্তুষ্ট হলো মিহির উত্তরে। মনে হলো শরীর থেকে অনেক বড় বোঝা নেমে গেছে। তাই খুশিতে মিহিকে জড়িয়ে ধরতে যাবে—তখনই মিহির গলার দিকে তিহির চোখ যায়, আর তখন কার কামড়ের দাগটা চোখে পড়ে।
মুহূর্তেই যেন তিহির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল।

— তোর গলায় এটা কিসের দাগ?
মিহি তাড়াতাড়ি করে জায়গাটা ওড়না দিয়ে ঢেকে ফেলল। ঢোঁক গিলে বলল—
— কই, কিছু না তো।
তিহি মিহিকে টেনে আয়নার সামনে নিয়ে যায়। ওড়নাটা সরিয়ে দাগটা দেখিয়ে প্রশ্ন করল—
— তাহলে এটা কোথা থেকে এলো?
— ওটা কিছু না। মশা কামড়েছিল।
— তোর কি আমাকে বোকা মনে হয়? মশার কামড়ের দাগ এমন হয়?

কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ৪

মিহি চুপ করে আছে। কোনো কথা বলছে না।
তিহি মিহিকে টেনে নিজের মুখোমুখি করে বলল—
— সত্যি করে বল, মিহি। তোকে আমার কসম।
এবার আর মিহি চুপ থাকতে পারল না। আমতা আমতা করে বলল—
— আ… আপু, ওই অভ্র ভা… ভাইয়া—
— অভ্র!

কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ৬+৭