Home কি করিলে বলো পাইবো তোমারে কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ১

কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ১

কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ১
মুনমুন বুড়ি

নিজের বড় বোনের হবু স্বামীর কাছে ৪ ঘণ্টা ধরে ধর্ষণের শিকার হয়েছে মিহি। নিজের শারীরিক চাহিদা মিটিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে অভ্র। এখন তাকে দেখতে কতটা নিষ্পাপ লাগছে অথচ কিছু ঘণ্টা আগেই পৈশাচিক রূপটা দেখেছে মিহি। ব্যথাময় শরীরটা নিয়ে অনেক কষ্টে উঠে বসলো মিহি। চারিপাশে একবার তাকালো—ঘরের অবস্থা নেহাতই ভয়ংকর। পুরো ঘরটার উপর দিয়ে যেন ঝড় বয়ে গেছে। মিহি চাদরটা গায়ে পেঁচিয়ে বেড থেকে নামলো। দাঁড়ানোর শক্তিটুকু পর্যন্ত নেই। শরীরে খুবই কষ্ট হচ্ছে মিহির।
আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই দেখতে পেল গলায় ও ঠোঁটে অসংখ্য আঘাত আর চিহ্ন। নিজের শরীরের প্রতি নিজেরই ঘৃণা জন্মালো মিহির। “আচ্ছা এই শরীরটা কি এখন অপবিত্র হয়ে গেছে?” প্রশ্নটা মাথায় আসতেই নিজের জীবনটা শেষ করে দিতে ইচ্ছে করলো।
হঠাৎ মিহি মুখ ঢেকে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো।

— নাটক শেষ হয়েছে তোর?
পুরুষালি কণ্ঠ কানে আসতেই চোখ তুললো মিহি। অভ্র তখনও হেডবোর্ডে হেলান দিয়ে বসে আছে, হাতে সিগারেট।
মিহির প্রচণ্ড রাগ উঠলো। লোকটার দিকে ঘৃণাভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। মিহির এমন তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেখে অভ্র কটাক্ষ করে বললো—
— কী , এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন? মারবি আমাকে? তোর বাপ-ভাইকে বিচার দেবি আমার নামে ?সমস্যা নাই। পারলে পুলিশের কাছে যাবি। দেখি কে আমার কী করে, কার বাপের এত সাধ্য।
মিহি হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে লোকটার দিকে। একটুও কি অনুশোচনা হচ্ছে না লোকটার?

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

— আমি বাইরে গিয়ে এখনই সবাইকে বলে দেব। আপনার সাথে কিছুদিন পর আপুর বিয়ে। আপনি কীভাবে আমার সাথে, আমার আপুর সাথে এটা করতে পারলেন?
— তোর আপুর সাথে কোথায় করলাম? এখনো তো তোর সাথেই করলাম। তবে চিন্তা করিস না, তোর আপুর সাথেও করবো খুব শীঘ্রই।
মিহির শরীর রাগে ঝাঁপিয়ে উঠলো। একটি কাঁচের গ্লাস নিয়ে তেড়ে আসলো লোকটার দিকে।
লোকটার কাছে আসতেই ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলো মিহি। অভ্র জ্বলন্ত সিগারেট চেপে ধরলো মিহির গলায়।

— তেজ দেখাস আমাকে শালী? দুই টাকার মেয়ে হবি না। এত তেজ আসে কোথা থেকে?
— জানোয়ার! আমার জীবন শেষ করে শান্তি হয়নি, এখন আবার আমার আপুর জীবন শেষ করবি তুই? তোর মানসম্মান আমি ধুলোয় মিশিয়ে দেব। আমি এখনই বাইরে গিয়ে আব্বুকে বলবো, তুই আমার সাথে কী করেছিস। তোকে জেল আর ভাত খাওয়াব।
অভ্রকে তুইতুকারি করায় অভ্র প্রচণ্ড রেগে গেল। ফলস্বরূপ মিহির চুলের গোড়া শক্ত করে ধরে বললো—
— তুই আগে নিজের মানসম্মান বাঁচা। তুই এসব কথা বাইরে গিয়ে বললে তোর আপু আগে মরবে, তারপর তোর বাপ স্ট্রোক করবে। তোর ভাই সমাজে মাথা উঁচু করে চলতে পারবে না কোনোদিন। আর তুই? তোর কথা বাদই দিলাম—সমাজের চোখে তুই হয়ে থাকবি নোংরা কীট। আমার কী হবে? আমি কিছু টাকা দিলেই পুলিশ আমার কেনা হয়ে যাবে।
মিহি হঠাৎই একটা অভাবনীয় কাজ করে বসলো।

— থুঃ!
এক দলা থুথু ছুঁড়ে মারলো অভ্রর মুখে।
রাগে অভ্রর চোখ লাল হয়ে গেল। ঠাস করে থাপ্পড় মারলো মিহিকে। তারপর এক ধাক্কা মারলো—মিহি টাল সামলাতে না পেরে টেবিলে গিয়ে পড়লো।
অসহ্য ব্যথায় কেঁদে উঠলো মিহি।
অভ্র শার্ট-প্যান্ট গায়ে জড়িয়ে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।
মেঝেতে পড়ে রইলো মিহি। নিজের জীবনের প্রতি নিজেই ধিক্কার দিচ্ছে।

আজ মিহির বোন তিহির এনগেজমেন্ট অভ্রর সাথে। মিহি বসে বসে দেখছে বড় বোনের খুশি। কী আনন্দিত আজ মেয়েটি। হবে না কেন—দুই বছর পর নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে পাচ্ছে যে। কিন্তু লোকটা তো না আর ভাবতে পারছে না মিহি। আচ্ছা, ওরকম একটা নিকৃষ্ট লোকের সাথে বিয়ে হলে তো আপুর জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে—ভাবতেই বুকটা কেঁপে উঠলো মিহির। আপুকে কি সব বলা উচিত না? হ্যাঁ, একবার শেষ চেষ্টা করবে মিহি। ভাবনা অনুযায়ী তিহির সামনে এসে দাঁড়ালো মিহি। মনকে শক্ত করে ডাকলো তিহিকে—
— আপু।
বোনের ডাকে মিহির দিকে তাকালো তিহি। মিহি নরম কণ্ঠে বললো—
— হ্যাঁ বল বোনু।
— আপু, বিয়েটা না করলে হয় না?

মুহূর্তেই যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো তিহির। গলা দিয়ে স্বর বের হচ্ছে না, তবু অনেক কষ্টে বললো—
— কী বলছিস এসব, মিহি? তুই তো জানিস আমি অভ্রকে কতটা ভালোবাসি। তারপরও এসব কথা কেন বলছিস? মিহি, কোনো কী সমস্যা হয়েছে বল আমাকে, আমি সব ঠিক করে দেব—বল আপুকে?
মিহির চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়লো। বুকের ভেতরে অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে। কীভাবে বলবে বড় বোনকে—যার ভালোবাসার মানুষটি কত বড় ক্ষতি করেছে মিহির।
— আপু, অভ্র ভাইয়া ভালো না। তুমি ওনাকে বিয়ে করো না, প্লিজ। উনি অনেক খারাপ।
— কেন এসব বলছিস, তিহি? আমি জানি অভ্র একটু মাথা গরম মানুষ। তোর সাথে কি বাজে ব্যবহার করেছে অভ্র? করলে আমাকে বল, আমি ওকে বলবো।

— আপু, উনি ভালো না। তুমি ওনাকে বিয়ে কর—
বাকি কথা শেষ করতে পারলো না মিহি। তার আগেই তিহি ওকে থামিয়ে দিল—
— ব্যাস, মিহি। অনেকক্ষণ ধরে তোর অনেক কথা শুনছি। বারবার বিয়ে করো না, বিয়ে করো না—এসব কী! তুই জানিস আমি অভ্রকে কত ভালোবাসি। কত কষ্ট করে আমি অভ্রকে পেয়েছি। আমি জানি না তোর সাথে অভ্রর কী হয়েছে—যাই হোক। শুনে রাখ, আমি অভ্রকেই চাই। ও যতটা খারাপ হোক, যাই কিছু করুক—আমার কোনো যায় আসে না। ও যদি পৃথিবীর সবথেকে নিকৃষ্ট কাজও করে, তারপরও আমি ওকেই ভালোবাসি আর ওকেই বিয়ে করবো।

কথাগুলো বলেই রুম থেকে হনহন করে বের হয়ে গেল তিহি। মিহি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো বোনের যাওয়ার দিকে। মনে মনে ভাবলো—সত্যিই ভালোবাসা মানুষকে অন্ধ বানিয়ে দেয়।
কিছুক্ষণ পর রুমের দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ হলো। মিহি সামনে তাকিয়ে দেখতে পেল অভ্র দরজার সাথে হেলান দিয়ে কুটিল হাসি দিচ্ছে। অভ্র কটাক্ষ করে বলে উঠলো—
— কী, আপু শোনেনি কথা? আসলে ভালোবাসা, বুঝলি—ভালোবাসার জালে ফেসেছে। তোর জন্য খারাপ লাগছে। ইস! তোর কথা তো তোর নিজের বোনই শুনলো না, আর বাইরের মানুষ শুনবে বল। তার থেকে ভালো, তুই আমার কথা শুনে চল। গাড়ি, বাড়ি, টাকা—কোনো দিক দিয়েই অভাব রাখবো না।
মিহি অশ্রুভরা চোখে তাকিয়ে আছে অভ্রর দিকে। মানুষ এত খারাপও হয়—অভ্রকে না দেখলে জানতো না মিহি।

— নিচে তোর প্রেমিক পুরুষ আসছে, দেখা করবি না তার সাথে?
হঠাৎ অভ্রর কথায় ধ্যান ভাঙলো মিহির। চোখ তুলে চাইল অভ্রর দিকে। এক মুহূর্তে দিন-দুনিয়া সব ভুলে ছুটে চললো দরজার দিকে। কিন্তু হঠাৎ অভ্রর কথায় তার পা থেমে গেল—
— তোর প্রাণপ্রিয় পুরুষকে গিয়ে বলবি—তুই আর পবিত্র নেই। ভার্জিনিটি নষ্ট হয়ে গেছে তোর।
ঝট করে অভ্রর দিকে চাইল মিহি। এক মুহূর্তে মনে পড়লো বিভীষিকাময় সমস্ত ঘটনা। মুহূর্তেই মেঝেতে দপ করে বসে বুকভাঙা কান্নায় ভেঙে পড়লো মিহি।

কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ২