ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ৪৩ (২)
মারিয়াম ফুল
“নাকটা চুরি, চোখ দুটো চুরি, তিলও চুরি… হুম? না, না… দেখতে একদম বিড়ালের বাচ্চার মতো হয়েছে। এতটুকুন নাক, এতটুকুন মুখ…”
রুদ্রর ফিসফিসানি আর অনুভূতির কথাগুলো কানে যেতেই তোয়ালের ভাঁজে থাকা ছোট্ট প্রাণটা সামান্য নড়েচড়ে উঠল। তুলতুলে ক্ষুদ্র হাত দুটো বাতাসের মাঝে আলতো করে ছড়িয়ে নাড়িয়ে সে কয়েকবার পিটপিট করে হাই তুলল। তারপর যেন গভীর ঘুমে নিমজ্জিত রাজ্য থেকে ধীরে ধীরে জেগে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে খুব সাবধানে আলতো করে চোখের পাতলা দুটি পাতা খুলল।
রুদ্র একদম নিশ্চল, অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সেই নিষ্পাপ, অপার্থিব মুখের দিকে। কিন্তু বাচ্চাটা চোখ পুরোপুরি খুলতেই রুদ্রর হাতের তালুতে এক উষ্ণ ভেজা অনুভূতি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করল। ভিজে ভারী হয়ে উঠছে সুতির তোয়ালেটা। বুঝতে বাকি রইল না, দুনিয়াতে এসেই এই খুদে বুঝিয়ে দিয়েছে, নিজের উপস্থিতি জানান দিতে সে একটুও কম যায় না!ঠিক পরমুহূর্তেই হাসপাতালের থমথমে করিডোর কাঁপিয়ে সশব্দে কান্না জুড়ে দিল সদ্যজাত শিশুটি। তার সেই তীব্র, সরু কান্না যেন থামতেই চাইছে না।কখনো কান্নার তীব্রতা বাড়ছে, আবার পরমুহূর্তেই ক্ষীণ হয়ে আসছে, তবু থামার কোনো নামগন্ধ নেই। ছোট্ট বুকটা ওঠানামা করছে দ্রুত, আর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বেরিয়ে আসছে একটানা কান্নার শব্দ।
রুদ্র এক মুহূর্তের জন্য একদম দিশেহারা হয়ে গেল। কী করবে, কীভাবে সামলাবে, কিছুই যেন মাথায় আসছে না তার! এতক্ষণ ধরে ওটির সামনে দুশ্চিন্তায় স্তব্ধ হয়ে থাকা মানুষটা এখন কপালের চামড়ায় গভীর ভাঁজ ফেলে ঘাবড়ে গিয়ে ওটির বন্ধ দরজার সামনে বরফের মতো দাঁড়িয়ে আছে। বাচ্চাটা এভাবে কাঁদছে, অথচ তাকে কীভাবে শান্ত করতে হয়, সেটুকুও তার জানা নেই।
দাঁত কিড়মিড় করে নিজের ভেতরের উদগত মেজাজ আর বিরক্তি সামলানোর এক নিষ্ফল চেষ্টা করল রুদ্র। বাচ্চার লালচে হয়ে ওঠা মুখের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলে উঠল, “এই! এই কুদ্দুস বয়রাতি, কাঁদছিস কেন? চুপ, চুপ! একদম কান্না করবি না!”
কিন্তু সদ্য জন্ম নেওয়া নিষ্পাপ প্রাণটার যেন কোনো কথাতেই পাত্তা দেওয়ার ফুরসত নেই! বরং ক্ষুদে প্রাণটা নিজের ছোট্ট ফুসফুসের সমস্ত শক্তি উজাড় করে কান্না করে চলল।বাচ্চাটার একটানা কান্নায় রুদ্রর মাথায় যেন ধীরে ধীরে রক্ত চড়ে যাচ্ছে।অস্বস্তিতে তার অবস্থা কাহিল। কোন কায়দায় এই কান্না থামানো সম্ভব, তা কিছুতেই তার ক্ষুরধার মাথায় ঢুকছে না। আর এদিকে ততক্ষণে বাচ্চাটাকে ধরে থাকা তার হাত, শার্টের স্লিভ, এমনকি তোয়ালের নিচের অংশটুকুও ভিজে একাকার! সব মিলিয়ে রুদ্রর অবস্থা তখন একেবারে নাজেহাল।
ঠিক তখনই ওই করিডোর ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন এক মাঝবয়সী মহিলা। রুদ্রর এই করুণ অবস্থা দেখে তিনি নিজের হাঁটার গতি কিছুটা কমিয়ে মৃদু হেসে বললেন, “বাবা, এত ছোট বাচ্চাদের এভাবে এক জায়গায় শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে কোলে নিয়ে রাখলে হয়? একটু দোলা দিতে হয়, হালকা হাঁটাহাঁটি করুন, মুখে মিষ্টি করে হালকা গুনগুন গান গান… দেখবেন একদম শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে যাবে।”
মহিলার কথা শুনে রুদ্র তো পড়ে গেল মস্ত বড় বিপাকে! সে গান গাইবে? এই হাসপাতালে, “মানুষের সামনে সে সুর তুলে গান গাইবে? প্রশ্নই ওঠে না…. ”
কিন্তু বাচ্চার কান্না যেভাবেই হোক থামানো বড্ড জরুরি। আশপাশ দিয়ে হাসপাতালের নার্স, ওয়ার্ডবয় আর কত শত মানুষজন ব্যস্ত হয়ে আসা-যাওয়া করছে, সবাই আড়চোখে তাকিয়ে দেখছে।
ঘোর বিরক্তিতে রুদ্রর ভুরু দুটো আরও কুঁচকে একদম এক হয়ে এলো। সে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাচ্চাটিকে নিজের চওড়া বুকের কাছে আরেকটু শক্ত কিন্তু সাবধানে চেপে ধরে করিডোর ধরে ধীরপায়ে এদিক-ওদিক হাঁটতে শুরু করল।
হাঁটতে হাঁটতে রুদ্র খেয়াল করল, বাচ্চাটার কান্না পুরোপুরি থামেনি ঠিকই, তবে মাঝেমধ্যে একটু থামছে। দু-এক মুহূর্তের জন্য চোখ দুটো বুজে আসছে, মনে হচ্ছে এবার বুঝি শান্ত হলো। কিন্তু পরমুহূর্তেই ভেতরে জমিয়ে রাখা সমস্ত দম একসঙ্গে উজাড় করে আবারও চিৎকার করে কেঁদে উঠছে….বাধ্য হয়ে এবার নিজের মতো করে অদ্ভুত সব লোভ দেখানোর অভিনব পথ ধরল রুদ্র। নিজের চোখ দুটি গোল গোল করে, গম্ভীর মুখটা খানিকটা নরম করে বাচ্চার একদম মুখের সামনে এনে ফিসফিস করে লোভ দেখাতে লাগল, “ওরে আমার হাতুমবিলাই রে! কান্না থামাও রে , তুমি বড় হলে সুন্দর দেখে বউ এনে দেব রে! এভাবে চেঁচামেচি করে এখানে আমার ইজ্জত মেরো না রে…”
কথাগুলো মুখে আনতেই নিজের অজান্তে রুদ্রর ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল। হাসিটা যেন আর চেপে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। রুদ্র ঠোঁট চেপে সেই হাসি সামলানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। ঠিক তখনই রুদ্র খেয়াল করল, তাকে অবাক করে দিয়ে ছেলেটাও যেন তার কথার মর্ম বুঝে ফেলেছে! এক নিমেষে থেমে গেছে এতক্ষণকার কান্নার হাঁকডাক। চারপাশ মুহূর্তেই নিস্তব্ধ হয়ে গেল। রুদ্রর মনে হলো, এইমাত্র সে যেন কোনো এক অসম্ভব কঠিন যুদ্ধ জয় করে ফিরেছে! এমনকি সেই যুদ্ধের পুরস্কার হিসেবে বিশাল কোনো রাজ্য নয়, গোটা পৃথিবীটাকেই বুঝি নিজের নামে লিখিয়ে ফেলেছে।
এক দিনের পুঁচকে বাচ্চাটাকে দুহাতে সামান্য উঁচুতে তুলে ধরল রুদ্র। চোখেমুখে তখন অদ্ভুত এক বিজয়ীর উচ্ছ্বাস। এতক্ষণ যে কান্না থামানোর জন্য তার নাজেহাল অবস্থা হয়েছিল, সেই কান্না থামাতে পেরেছে অবশেষে! আনন্দটা যেন সামলাতেই পারছে না।
“ইয়েস! ইয়েস, আই ডিড ইট! ইটস মাই বয়!”
পরমুহূর্তেই আবার ভয় পেয়ে বাচ্চাটাকে আগের মতো সযত্নে নিজের চওড়া বুকের কাছে টেনে আনল। ওর পুঁচকে, মোলায়েম কানের একদম কাছে মুখটা নামিয়ে অতি গোপনীয়তার ভঙ্গিতে ফিসফিস করে বলল, “আমি আমার বাইক রাইডিং পার্টনার পেয়ে গেছি। রেডি থাকিস, মাই বস !”
সদ্য জন্ম নেওয়া পুঁচকে প্রাণটা যেন বাবার প্রস্তাবে সায় দেওয়ার জন্যই ‘হুমম… আআআ…’ জাতীয় কিছু অস্পষ্ট অথচ সুমিষ্ট শব্দ করে উঠল। তার হাবভাব আর মুখের অভিব্যক্তিখানা এমন, যেন রুদ্রর সমস্ত প্ল্যান, রাইডিংয়ের চুক্তি, ভবিষ্যতের সব পরিকল্পনা এক বাক্যেই সে খুব ভালো করে বুঝে ফেলেছে!
ঠিক তখনই আবার সেখানে এসে উপস্থিত হলেন ডক্টর নিদিতা।রুদ্রকে বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে একদৃষ্টে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটিয়ে বললেন,”কী মি. চৌধুরী, নিজের ছোট সংস্করণ নাকি মেহেরের?”
রুদ্র বাচ্চার তুলতুলে মুখটা থেকে এক মুহূর্তের জন্যও চোখ না তুলেই ঠোঁটের কোণে একরাশ আত্মতৃপ্তির হাসি ফুটিয়ে বলল, “আমার এতে কোনো অধিকার নেই ডক্টর। পুরোটাই ওর মায়ের থেকে চুরি করা।”
রুদ্রর কথার ইঙ্গিত অবশ্য ডক্টর নিদিতা বুঝলেন না। বরং বাবা-ছেলের এমন মায়াময় মুহূর্তটা দেখে বললেন,“সব বাবাদের প্রথম প্রতিক্রিয়া এমনই হয়। যাই হোক, বাচ্চাকে এখন নার্সারিতে নিয়ে গিয়ে রুটিন চেকআপ আর প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। আর আধঘণ্টার মধ্যেই মেহেরকে পোস্ট-অপারেটিভ কেবিনের ৫০৪ নম্বর রুমে শিফট করা হবে। ”
কথা শেষ করে তিনি পাশের নার্সকে ইশারা করতেই, নার্সটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে রুদ্রর বাহু থেকে তোয়ালে জড়ানো বাচ্চাটিকে নিজের কোলে তুলে নিলেন।বাচ্চাটাকে কোল থেকে সরিয়ে নেওয়ার সাথে সাথেই হঠাৎ খালি হয়ে যাওয়া নিজের নিঃসঙ্গ দুহাতের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল রুদ্র। মাত্র একমুহূর্ত আগেই যেখানে এক অদ্ভুত পূর্ণতা আর উষ্ণ ছিল, সেখানে এখন এক খালি খালি অনুভূতি। মনে হলো, বুকের ভেতরটা বুঝি আবার এক নিমেষে ফাঁকা হয়ে গেল। ইচ্ছে হলো, আর একটু… শুধু আর একটু নিজের বুকের কাছে জড়িয়ে ধরে রাখে সেই ছোট্ট উষ্ণ প্রাণটাকে। অথচ নার্স ততক্ষণে সামনে এগিয়ে যেতে শুরু করেছেন। রুদ্র স্থির হয়ে সেদিকেই তাকিয়ে রইল। চোখেমুখে স্পষ্ট বিস্ময়, যেন এত তাড়াতাড়ি তার কাছ থেকে বাচ্চাটাকে সরিয়ে নেওয়াটা সে কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে না।
অন্য দিকে,
মেঘলা ছাদ থেকে প্রায় দৌড়ে নিজের রুমে চলে এলো। একনাগাড়ে দৌড়ানোর ফলে বুকে ধড়ফড়ানি, হাঁপিয়ে উঠেছে সে। ধকধক করতে থাকা বুকের ওপর এক হাত রেখে খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। এমন অদ্ভুত, অনাস্বাদিত লজ্জা তার পুরো জীবনে কখনো অনুভূত হয়নি। তীব্র এক রক্তিম লজ্জা তাকে যেন আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরছে। অথচ মাশফিকে সে আজ প্রথম দেখেনি একদম ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছে, একসঙ্গে বড় হয়েছে। বিয়ের পর প্রতিটা দিন মাশফি তাকে ভিডিও কলে দেখতে চাইতো, কথা বলতে চাইতো, অথচ মেঘলা নিজেই তো কত অজুহাতে ধরা দিত না, চোখ এড়িয়ে চলত!
হঠাৎ তার চোখ গেল বিছানার ওপর পড়ে থাকা ফোনটার দিকে। ছাদে যাওয়ার সময় তাড়াহুড়োয় ফোনটা নিতে ভুলে গিয়েছিল সে। দ্রুত পা ফেলে বিছানার দিকে এগিয়ে গেল। কিন্তু ফোনটা হাতে নেওয়ার জন্য যেই না হাত বাড়াল, ঠিক তখনই পেছনে অন্য কারো উপস্তিতির স্পষ্ট টের পেল মেঘলা।
বুকের ভেতরের ধড়ফড়ানি এক লাফে কয়েক গুণ বেড়ে গেল। মাশফি! পেছনে যে দাঁড়িয়ে আছে, তা বুঝতে তার এক সেকেন্ডও দেরি হলো না। শরীরের ভেতরের আড়ষ্টতায় থমকে দাঁড়িয়ে রইল সে, ঘুরল না।
বরং মাশফি নিজেই ধীরপায়ে হেঁটে মেঘলার সামনে এসে দাঁড়াল। মেঘলা সঙ্গে সঙ্গে নিজের পলক নামিয়ে চোখ দুটি মেঝেমুখী করে ফেলল।
মাশফি মেঘলার এই লাজুক নীরবতা লক্ষ্য করল। তার চোখেমুখে ফুটে ওঠা অস্বস্তি দেখে মাশফি এক পা পিছিয়ে গিয়ে গম্ভীর গলায় বলে উঠল,
“আমি চলে যাচ্ছি।”
কথাটা কানে যেতেই মেঘলা নিজের গোল গোল দুটি চোখ বড় বড় করে মাশফির দিকে তাকাল। বুকের ভেতর হঠাৎ কিসের যেন একটা চিনচিনে টান পড়ল। থমকে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, “কোথায়?”
“যেখান থেকে এসেছি, সেখানে।” মাশফির নির্লিপ্ত গলায় উত্তর দিল…
মেঘলা এক মুহূর্ত দ্বিধা করল, তারপর চোখের চাউনি আরও নরম করে আলতো কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, “আমাকে নিয়ে যাবেন না আপনি?”
মাশফির ঠোঁটের কোণে মুহূর্তেই একচিলতে মিষ্টি হাসির রেখা ফুটে উঠল। চোখের দৃষ্টিতে এক অদ্ভুত ভালোলাগা ছড়িয়ে দিয়ে বলল, “হুম… কিন্তু আপনি তো যেতে চাচ্ছেন না বোধহয়।”
মেঘলার ভেতরের লজ্জাটা তখনও কাটে নি , তব গলার আওয়াজ কাঁপিয়ে কাঁপিয়ে বলল, “ভাইয়া… আপনার… সাথে থাকতে চাই…”
‘ভাইয়া’ ডাকটা বাতাসে ভাসতেই মাশফি যেন ঠাঁই দাঁড়িয়ে রটে গেল! থমকে যাওয়া দৃষ্টিতে সে মেঘলার দিকে তাকাল। যে মেয়েটিকে আক্দ করে বিয়ে করার ছ’মাসের ওপর পার হয়ে গেছে, সে কি না এখনও তাকে একদম অনায়াসে ‘ভাইয়া’ বলে ডাকছে!
মাশফি নিজের কপালটা খানিকটা কুঁচকে, নিজেকে যথাসম্ভব গম্ভীর করার বিফল চেষ্টা করল। চোখের দৃষ্টি একটু তীক্ষ্ণ করে সে মেঘলার দিকে এক পা এগিয়ে এলো।
“আমি তোমার ভাইয়া হই?” মাশফি ভুরু বলল, “দু’দিন পর আমাদের বাচ্চা হবে, তখন কি ওদের ডেকে ডেকে বলবে—আমার সোনা মানিকেরা, ওই দেখো তোমাদের মামা এসেছেন?”
মেঘলা অবাক চোখে মাশফির দিকে তাকিয়ে রইল। চোখ দুটো তার আরও গোল গোল হয়ে গেল। আশ্চর্য তো! সে তো ভাই-ই বলে এসেছে এতদিন, নতুন করে আবার কী হলো! ইচ্ছে হচ্ছিল মুখ ভেংচিয়ে একচোট শ শুনিয়ে দিতে—’হ্যাঁ, বলব! বেশ করব বলব!’
কিন্তু নিজের অন্তরের সুপ্ত বাসনাটুকু বুকের আড়ালেই গুমরে রেখে সে মুখটা সামান্য সোজা করে বলল,
“না…”
“তাহলে?”
মেঘলা ঠোঁটের কোণে দুষ্টুমির আবছা ছায়া এনে বলল, “বলব—ওরে আমার জাদু সোনা, ওই দেখ তোদের বামা এসেছেন!”
মাশফি নিজের দুই বুড়ো আঙুল ওপরের দিকে তুলে কপালে হালকা ভাঁজ ফেলে বলল, “বামাটা আবার কী?”
মেঘলা ততক্ষণে একটু সাহস সঞ্চার করে নিয়েছে। সে মাশফির মুখোমুখি হয়ে চটপটে গলায় বুঝিয়ে দিল, “আপনি যেহেতু তাদের বাপ হবেন, তাই বাপের ‘বা’… আর যেহেতু আগে থেকেই আমার ভাইয়া অর্থাৎ ওদের মামা, তাই মামার ‘মা’। দুটো মিলিয়ে কী হয়?”
মাশফি নিচের ঠোঁট উল্টে, ভুরু খানিকটা চড়িয়ে আওড়াল, “বামা…”
মেঘলা মাথা নেড়ে সায় দিল, “এই তো! আপনি বামা! নিজের আসল পরিচয় পেয়েছেন এবার?”
“তবে রে মেয়ে! দাঁড়া দেখাচ্ছি বামা কাকে বলে!”
কথাটা বলেই মাশফি এক ঝটকায় মেঘলার নরম হাতটা চেপে ধরতে গেল, কিন্তু মেঘলা চটপটে বিড়ালের মতো নিজেকে এক পাশে সরিয়ে নিয়ে আবার ঘরের দরজা দিয়ে দিল দৌড়!
তার হঠাৎ ছুটে চলে যাওয়া দেখে মাশফি পেছন থেকে হেঁকে বলল,
“তুমি কি প্রতিদিনই দৌড়ের প্রতিযোগিতায় নামো নাকি?”
মেঘলা থামল না, দূর থেকেই মাশফিকে আর কোনো উত্তর দেওয়া প্রয়োজন মনে না করে সিঁড়ির দিকে উধাও হয়ে গেল।
মাশফি হতভম্ব হয়ে ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে রইল। নিজের এক হাত দিয়ে ঘাড়টা আলতো ডলে নিয়ে ওদিকে তাকিয়ে রইল । তার হবু বাচ্চারা তাকে ‘বামা’ বলে সম্বোধন করবে এই অদ্ভুত সম্বোধনটি হজম করা তার জন্য বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়াল!
এক ঘণ্টা পর…
হাসপাতালের পোস্ট-ওপারেটিভ কেবিনে শিফট করা হয়েছে মেহেরকে। ৫০৪ নম্বর রুমের চারপাশটা একদম শান্ত, নরম আলোয় মোড়ানো। তবে মেহেরের শরীরজুড়ে তখনও চরম ক্লান্তি আর তীব্র ধকলের রেশ। প্রতিটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেন একেকটা নিস্তেজ পাথর, অবশ হয়ে আসছে শরীরের প্রতিটা রন্ধ্র। মা হওয়া যে এতটা কষ্টের, হাড়-মাংস নিংড়ানো যন্ত্রণার—তা কল্পনারও অতীত ছিল তার কাছে।ডান হাতের পিঠে ফোটানো ক্যানুলা আর ওপর থেকে টুপটাপ করে পড়তে থাকা স্যালাইনের শব্দ ছাড়া ঘরজুড়ে আর কোনো শব্দ নেই।
হঠাৎ কেবিনের দরজার লক খোলার মৃদু শব্দ হলো।
মেহের দরজার দিকে ক্লান্ত মুখটা ফিরিয়ে সকাতরে তাকাল। প্রসবের পর নিজের সন্তানকে কোল নেওয়ার জন্য মনটা ছটফট করছে তার। ভেবেছিল নিশ্চয়ই নার্স তার ছোট্টমানিকটাকে কোলে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু না, ওটির দরজা ঠেলে ধীরপায়ে ভেতরে ঢুকলো রুদ্র!
রুদ্রকে দেখেই মেহেরের ভেতরের ব্যাকুলতা বাঁধ ভাঙল। নিজের শারীরিক দুর্বলতা ভুলে অধৈর্য হয়ে বলে উঠল, “বেবিকে এখনো এখানে এনে দিচ্ছে না কেন? আমি তো ওকে এখনো চোখ ভরে দেখিইনি! আপনি দয়া করে নার্সকে একটু এনে দিতে বলুন না!”
রুদ্র মেহেরের আকুতিমাখা কথাটা পুরোপুরি না শোনার ভান করল। যেন ওখানকার বাতাস ছাড়া আর কিছুই শোনেনি সে! একদম গম্ভীর মুখে হেঁটে এসে বেডের পাশে থাকা সোফাটিতে ধপ করে আরাম করে বসল। তারপর পকেট থেকে নিজের ফোনটা বের করে অনায়াসে স্ক্রিন স্ক্রল করতে শুরু করল, ঠিক এমন ভাব—যেন মেহের নামের কোনো জীব এই ঘরে উপস্থিতই নেই!
মেহের ব্যথায় চোখ-মুখ কুঁচকে রেগে গিয়ে নিচের ঠোঁট উল্টে ফেলল। মনে মনে গালি দিতে লাগল—‘এই লোকের সমস্যাটা কী, হুম? আমার একটা কথা শুনলে কি উনার কানের পর্দা ফেটে পড়ে যাবে নাকি?’
মেহেরের মেজাজ এক লহমায় সপ্তমে চড়তে লাগল। গায়ের চাদরটা কামড়ে ধরে ইচ্ছে করছিল —ইস, যদি এখন গায়ের সব জোর জোগাড় করে গিয়ে এই লাটসাহেবের মাথার চুলগুলো হাত দিয়ে শক্ত করে চেপে এক পাক মুচড়ে দেওয়া যেত!
‘দেখেছো, দেখেছো! কত বড় লাটসাহেব এসেছেন, সোফায় বসে আছেন! হনুমান একটা মনে মনে বলতে লাগল মেহের।
রুদ্র সোফায় পিঠ ঠেকিয়ে আরেকটু বেঁকে, নিজের মতো আলসেমিতে আরাম করে বসতেই মেহের মনে মনে আবার ক্ষোভ উগড়ে দিল—‘ভালোই হয়েছে রূপসা উনাকে বিয়ে করেনি! এমন কাঠখোট্টা নমুনাকে বিয়ে করলে জীবনেও সহ্য করতে পারত না! আমি দয়াবতী বলেই এত সহ্য করছি…!’
ঠিক তখনই রুদ্র ফোন থেকে চোখ একবিন্দু না তুলেই হালকা হেসে কায়দা করে কেসে উঠল। তারপর সোজা হয়ে বসে বলল, “তুমি মনে মনে আমাকে কিছু বলছো?”
মেহের ঝট করে নিজের চোখ দুটি গোল করে, মুখ বাড়িয়ে একদম নির্ভেজাল এক নিষ্পাপ হাসি দিয়ে বলল, “জি না! স্যার, আপনার মতো মহৎ ও মহান ব্যক্তিত্বকে কি কেউ বকতে পারে?আপনি তো সাক্ষাৎ ভদ্রতার মূর্ত প্রতীক”
তবে মুখের হাসি ঠিক রেখেই মেহের দাঁত চেপে মনে মনে বলল—‘বকছি না, আমি আপনাকে ষোলো আনা মনে মনে গালি দিচ্ছি… গালি!’
রুদ্র নিজের ডান হাতের আঙুল দিয়ে গালের একপাশ ঘষতে ঘষতে একেবারেই নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল, “শকুনের দুয়ায় তো আর গরু মরে না! ভাবছো তো রূপসা আমাকে বিয়ে না করে বেঁচে গেছে, আর তুমি বলি হয়েছ?”
মেহের থমকে গিয়ে এক ঢোক গিলল। তাজ্জব ব্যাপার! এই লোকটা কি জিনের বাদশা নাকি? প্রতিবার কীভাবে তার ভেতরের চিন্তাগুলো একদম হুবহু ধরে ফেলে?
আমতা আমতা করে তোতলা ভঙ্গিতে মেহের মুখ সামলে বলল, “না… মোটেই না! আমি ওসব কেন ভাবতে যাব?”
রুদ্র ফোনটা এক হাতে ধরে অন্য হাতে স্ক্রিনে আঙুল চালাতে চালাতে ধীর গলায় বলল, “মাথা চুলকানো আর আঙুল মটকানো বন্ধ করো। তুমি মিথ্যে বলতে গেলেই তোমার কপাল কুঁচকে যায়।”
মেহের বিরক্ত হয়ে রুদ্রর দিকে মুখ ভেংচে একটা ভেংচি কাটল। তারপর পরক্ষণেই প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা, ত্যাড়ামি ছাড়ুন তো! বলুন না, আমার ছেলে কার মতো হয়েছে?”
রুদ্র এবার ফোন থেকে চোখ সরিয়ে চোখ তুলে একপলক মেহেরের দিকে তাকাল। একদম সোজাসাপ্টা, কোনো দ্বিধা ছাড়াই উত্তর দিল, “কেন? আমার মতো হয়েছে!”
মেহের আবার চোখ-মুখ কুঁচকে হাত নেড়ে ভেংচি কাটল। “আহা! বললেই হলো নাকি? আপনার মতো হতে যাবে কোন দুঃখে? সত্যি করে বলুন না, ও কার মতো হয়েছে?”
রুদ্র সোফায় হেলান দিয়ে বলল, “তোমার মতো তো অন্তত হয়নি! আর তোমার ফ্যামিলির কাউকে আমার মনে পড়ছে না। বাচ্চাটা একদম হয়েছে সাদা কবুতরের বাচ্চার মতো! কিন্তু সমস্যা হলো, তুমি তো আবার এত ফর্সা নও!”
মেহের কপাল কুঁচকে গেল। কী আশ্চর্য কথা! সে ফর্সা না?! এই হাসপাতালে এসে কি লোকটার চোখের মাথা খারাপ হলো? সে তো যথেষ্ট ফর্সা! ছেলে তার চেয়েও ফর্সা হয়েছে নাকি?
মেহের অভিমানী, আধো-আধো কণ্ঠে শুধালো, “তাহলে ও কার মতো ফর্সা?”
রুদ্র যেন এই প্রশ্নটার জন্যই অপেক্ষা করছিল! নিজের চওড়া বুক ফুলিয়ে সগর্বে উত্তর দিল, “আমার মতো ফর্সা!”
মেহের এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না, খিলখিল করে হেসে উঠল। “আপনি ফর্সা? আমার চেয়েও ফর্সা? আপনার কি দৃষ্টিশক্তি কমে গেছে নাকি ক্যাপ্টেন সাহেব ?”
“কেন, আমি কি ফর্সা নই?” রুদ্র এবার ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে একেবারে গম্ভীর হয়ে, বেশ চ্যালেঞ্জের সুরে প্রশ্ন করল।
“হ্যাঁ, আপনি ফর্সা… কিন্তু আমার মতো মোটেই নন! আমি আপনার চেয়ে অনেক বেশি ফর্সা!”
“আচ্ছা? আসো দেখি, কে কতটা ফর্সা!” কথাটা বলেই রুদ্র সোফা ছেড়ে এক ঝটকায় উঠে দাঁড়াল। তারপর দীর্ঘ পায়ে মেহেরের বেডের একদম গা ঘেঁষে এসে দাঁড়াল। মেহের কিছুই বুঝতে পারল না—হঠাৎ এই লোকটার মনের ভেতরে কীসের ভূত চাপল….
রুদ্র নিজের এক হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “হাত দাও!”
মেহের ভুরু কুঁচকে রইল। রুদ্র আবার তাড়া দিল, “হাত দাও বলছি!”
মেহের ভয়ে ভয়ে, একটু ইতস্তত করে নিজের ডান হাতটা আস্তে করে এগিয়ে দিল। রুদ্র মেহেরের হাতের ঠিক পাশে নিজের হাতটা এনে পাশাপাশি মেলালো। একদম পরিষ্কার বোঝা গেল, রুদ্রর হাতের চামড়ার রং মেহেরের হাতের চেয়েও এক ধাপ ফর্সা!
মেহের একবার নিজের হাত, একবার রুদ্রর হাতের দিকে তাকিয়ে রইল। চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল অবিশ্বাসে। তারপর কিছুতেই মানতে না পেরে চেঁচিয়ে উঠল, “মানি না, মানব না! আপনার এই হাত নকল! রোদে পোড়েননি বলেই এমন লাগছে। মুখ ফর্সা হতে পারে, তাই বলে হাত এত ফর্সা হবে নাকি!”
রুদ্র ঠোঁট উল্টে নাটকীয় গলায় বলে উঠল, “ওরে আমার মহারানী ভিক্টোরিয়া! মানবে না মানে? যাও, সোজা শাহবাগে গিয়ে ব্যানার টাঙিয়ে আন্দোলন করো! গিয়ে সবাইকে ডেকে বলো—‘ক্যাপ্টেন সাহেবের চেয়ে আমি বেশি ফর্সা!’ যাও, দৌড় দাও! দেখি সেখানে গেলে তোমার মতো এই পাগল-ছাগলের কথা কেউ কানে তোলে কি না ”
“আমি পাগল-ছাগল?!”—মেহের চোখের মনি দুটো বড় বড় করে, কপাল কুঁচকে শুধালো।
রুদ্র বুড়ো আঙুল নাচিয়ে অমায়িক হেসে বলল, “পাবনা মানসিক হাসপাতালের সার্টিফিকেট এনে দিতে হবে নাকি?”
মেহের নাক-মুখ কুঁচকে, রেগেমেগে আগুন হয়ে কিছু একটা কড়া কথা বলতে যাবে—ঠিক তখনই কেবিনের দরজায় দুটো আলতো নক হলো। নার্স কোলে করে নরম সুতির তোয়ালে জড়ানো সেই ছোট্ট পুটলিটাকে নিয়ে ভেতরে ঢুকলেন।
তোয়ালে মোড়ানো বাচ্চাটাকে দেখেই মেহেরের ভেতরের সমস্ত রাগ, ঝগড়া আর উত্তাপ এক মুহূর্তে বাষ্প হয়ে উবে গেল। সে একদম চুপ হয়ে আকুল চোখে সেদিকে তাকাল। মেহেরের হঠাৎ এই অতর্কিত নীরবতা দেখে রুদ্রও পেছনে ঘুরে তাকাল।
মেহের নিজের দুই হাত ব্যাকুল করে উঁচিয়ে নার্সকে প্রায় মিনতি করে বলল, “দেখি… আমাকে দিন আমার সোনাটাকে! তাড়াতাড়ি দিন!”
মেহেরের ব্যাকুলতা শোনামাত্রই রুদ্র নার্সের দিকে প্রায় একপ্রকার ছোটখাটো দৌড় লাগাল—যাতে নার্স ভুল করেও মেহেরের কোলে আগে বাচ্চাটিকে না দেয়! নার্স কিছুই বুঝে উঠতে না পেরে বাধ্য হয়ে রুদ্রর বাড়িয়ে দেওয়া চওড়া দুহাতেই তোয়ালে জড়ানো বাচ্চাটিকে সোপর্দ করলেন।হাসিমুখে বললেন, “স্যার, বেবিকে ফিড করানোর টাইম হয়ে গেছে। আর ডক্টর নিদিতা কিছুক্ষণের মধ্যেই আসবেন বেবি আর মাদারকে চেক করতে।” কথাটি বলেই নার্স কেবিনের দরজা টেনে বাইরে চলে গেলেন।
রুদ্র নিজের দুহাতে আলতো করে ধরে রাখা সেই অবোধ শিশুটির দিকে তাকাল। তোয়ালের ভাঁজ থেকে পিটপিট করে তাকাচ্ছে খুদে প্রাণ আর চুপচাপ নিজের নরম বুড়ো আঙুলটা চপচপ মিষ্টি শব্দে চুষছে। পেটে যে তার ভীষণ খিদে লেগেছে, তা তার এই চপচপ শব্দেই পরিষ্কার!
মেহের নিজের চোখের সামনে নিজের আর অন্তর অস্তিত্বকে এভাবে রুদ্রর বুকে দেখে এক নিমেষে তার দু-চোখ নোনা জলে ভরে উঠল।আকুল …. কাপা গলায় রুদ্রর দিকে তাকিয়ে বলল, “প্লিজ… দিন না আমাকে…”
রুদ্র যেন মেহেরের এই কাতর আবদার কানেই তুলল না! বাচ্চাটা মুখ দিয়ে ছোট ছোট ‘উম্মম… এহ্…’ জাতীয় মৃদু সুরের শব্দ করছে। তা দেখে রুদ্রর ঠোঁটের কোণে একচিলতে অপার্থিব আনন্দের হাসি ফুটে উঠল।
মেহেরকে জ্বালানোর জন্যই ছোট্ট তোয়ালে মুড়িয়ে ছেলেটাকে আরেকটু নিজের চওড়া বুকের উষ্ণতায় জড়িয়ে নিল রুদ্র। তারপর ছেলের নরম কপালে আলতো করে একটা চুমু খেল। আড়চোখে মেহেরের দিকে তাকিয়ে ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি ফুটিয়ে, বেশ বাড়িয়ে বাড়িয়ে আদর করতে করতে গুনগুন করে বলে উঠল,
“হইলি তো হইলি… একদম মায়ের মতোই হইলি!”
একটু থেমে ছেলের পুঁচকে নাকটা আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো চেপে ধরে আবার ফিসফিস করল, “তবে শোন বাপ, খবরদার মায়ের মতো আবার চুনোপুঁটি হবো না কিন্তু! আমার মতো হবি—একদম জিম বডি, সিল্কি চুল, শার্প জ-লাইন… উফ… মেয়েদের হার্টথ্রব ”
তারপর মুখটা আরও গম্ভীর করে বলল, “আর একটা কথা মনে রাখিস, বাপ। মেয়েদের কোনোদিন পাত্তা দিবি না… যেমন তোর মাকে আমি দিই না।”এক সেকেন্ড থেমে মেহেরের দিকেই চোখ টিপে ফিসফিস করে বলল
“তাও দেখবি… ট্যাঁপ ট্যাঁপ করে শুধু তোর দিকেই তাকিয়ে থাকবে!”
ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ৪৩
মেহের মুখ বেঁকিয়ে, স্যালাইনের হাতটা তুলেই সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁজালো গলায় ঝেঁঝে উঠল, “মোটেই না! আপনার কিসের অত রূপ বয়ে গেছে যে আমি ট্যাঁপ ট্যাঁপ করে আপনার দিকে তাকাতে যাব, হ্যাঁ? অদ্ভুত! নিজের ঢোল নিজে পেটানো বন্ধ করুন তো!”
