খান সাহেব পর্ব ৩
সুমাইয়া জাহান
ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে আছে এগারো জন পুরুষ। তাদের ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে বাড়ির সকল মেম্বাররা। বাড়ির মেয়েগুলো এককোণে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের দেখেই বুঝা যাচ্ছে কতটা এক্সসাইটেড তারা। পারছেনা শুধু ছেলেগুলোর গায়ের ওপর ঢোলে পড়তে। হঠাৎ রাইশা বলে উঠল‚
“শেরাজ খান! আমি আপনার অনেক বড় ফ্যান। প্লিজ, একটা সেলফি তুলতে পারি?”
এইটুকু একটা পুঁচকে মেয়ের মুখ থেকে নিজের পুরো নাম শুনে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ল শেরাজ।
রাইশার কথা শুনে আনোয়ার সাহেব ধমকের সুরে মেয়েকে বললেন,
“এইসব কি রাইশা? দিন দিন বেয়াদব হয়ে যাচ্ছো। শেরাজ তোমার বড় ভাইয়ের ফ্রেন্ড। তোমার থেকে বয়সে কতটা বড়। তুমি তার নাম ধরে সম্মোধন করো কিভাবে? ভাইয়া বলে ডাকবে। আর ওরা এখন অনেক টায়ার্ড। মাত্র এসেছে— আগে ফ্রেশ হোক, বিশ্রাম নিক, কিছু খাওয়া-দাওয়া করুক। তারপর বাকিসব হবে। এখন ওদের একদম বিরক্ত করবে না।”
বাবার মুখ থেকে এমন কথা শুনে মুখটা কালো করে ফেলল রাইশা। সে বিড়বিড়িয়ে বলল,
“নিজের ক্রাশকে কি কেউ ভাইয়া বলে ডাকে। আমি কখনোই শেরাজকে ভাইয়া বলে ডাকব না।”
শেরাজের উদ্দেশ্যে আনোয়ার সাহেব বললেন, “আসলে বাবা কিছু মনে করো না। ছোট তো, তাই বুঝতে পারেনি।”
“ইটস ওকে, আঙ্কেল! আমি কিছু মনে করিনি।”
“তা বাবা আসতে কোনো সমস্যা হয়নি তো তোমাদের?”
“না আঙ্কেল। কোনো সমস্যা হয়নি।”
“ঠিক আছে বাবা। রাহিন সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দাও ওদের।”
“বাবার আদেশ পেয়ে সকলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো রাহিন। রাহিনের হঠাৎ খেয়াল হলো সুমু এখানে নেই।”
“বাবা, সুমু কোথায়?”
“সত্যিতো! আমার সুমু মামনি কোথায়?”
মিনা বেগম বললেন,
“আছে হয়তো এদিক সেদিক কোথাও। ওরা যাক আগে ফ্রেশ হয়ে নিক।”
আনোয়ারা সাহেব বললেন,
“হ্যাঁ! ঠিক বলেছ। এখন রুমে যাও, গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও। তোমাদের আন্টিকে বলছি, তোমাদের জন্য রুমে খাবার পাঠাতে। খাবার খেয়ে বিশ্রাম নাও। রাহিন এখন ওদের তোমার রুমে নিয়ে যাও। ফ্রেশ হোক ওরা। আর শেরাজ বাবা শোনো, কোনো দরকার হলে নির্দ্বিধায় বলবে। মনে করো এইটা তোমাদের নিজের বাড়ি।”
শেরাজ ভদ্রতাসূচক মাথা নাড়ল। রাহিন সবাইকে নিয়ে নিজের রুমের উদ্দেশ্যে চলে গেল।
দূর থেকে সবটা পর্যবেক্ষণ করল একজোড়া চোখ। এতো মানুষের ভিড়ে কাঙ্ক্ষিত মানুষটাকেই ভালো করে দেখেতে পারল না সে। আর নিজের কাজিন আর কাজিনের ফ্রেন্ডগুলোর ওপর অনেক রাগ হচ্ছে সুমুর। এতো ডং করার কি আছে বুঝে উঠতে পারল না সে। ওদের চোখ দেখে মনে হচ্ছিল— চোখ দিয়ে খিলে খাবে আমার খান সাহেবকে। আমিও তো তার অনেক বড় ফ্যান। কই আমি তো এমন করছি না। এদের সবকিছুতে বাড়াবাড়ি। না জানি খান সাহেব কি ভাবল।
কথাগুলো ভাবতে-ভাবতে রুমের দিকে চলে গেল সুমু। তার এখন খুব বেশি রাগ হচ্ছে।
এদিকে, আনোয়ার সাহেব ইফতিয়াকে পাঠাল সুমুকে ডেকে আনতে। সুমু ততক্ষণে নিজের রুমে চলে এসেছে। টেবিলে মাত্র নিজের পার্সোনাল ডায়েরিটা নিয়ে বসেছিল সে। হঠাৎ রুমের দরজা খোলার শব্দ হলো। ঝটপট ডায়েরিটা বালিশের নিচে রেখে উঠে দাঁড়াল। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল ইফতিয়া। এসে বিছানায় বসে সুমুর উদ্দেশ্যে বলল,
“কিরে তুই রুমে কি করিস?”
“কিছু না।”
সুমু মনে মনে বলল,
“নিজের মা সব কাজ আমাকে দিয়ে করিয়েছে। তার যে একটা এতো বড় মেয়ে আছে চোখে পড়েনা তার। অবশ্য চোখে পড়লেই বা কি। কাজ করতে বলবে না।”
কথাগুলো ভেতরে রেখেই সে মুখে বলল,
“কিছু বলতে চাস?”
“হুম! বাহিরে তোকে সবাই খুঁজল। জানিস, শেরাজ খান আর তার ফ্রেন্ডরা এসেছে। সবার কত হ্যান্ডসাম। আর তুই জানিস শেরাজকে ফোনে দেখতে যতটা সুন্দর। সরাসরি তার থেকেও অনেক বেশি সুন্দর।”
ইফতিয়ার মুখ থেকে এমন কথা সহ্য হলো না সুমুর। সে রাগ দেখিয়ে বলল,
“তুই কি বলতে এসেছিস— ওইটা বলে বেরো রুম থেকে।”
“বড়মামা তোকে ডাকছে। তাড়াতাড়ি নিচে আয়।”
কথাটা বলেই চলে গেল ইফতিয়া। সুমুও চলল পিছনে- পিছনে।
ড্রয়িংরুমে আনোয়ার সাহেব বসে আছেন। হয়তো সুমুর অপেক্ষায়।
“মামা,আপনি আমাকে ডেকেছেন?”
“হ্যাঁ মামনি! আমার কাছে এসো।”
সুমু গিয়ে তার মামার পাশে বসল। আনোয়ার সাহেব সুমুর মাথায় হাত রাখলেন। অদূরে সুরে বললেন,
“মামনি তুমি তো জানোই বাসায় কিছু নতুন গেস্ট এসেছে। এই প্রথমবার তারা এসেছে। আমাদের সবার দায়িত্ব তাদের কারো যাতে কোনো কিছুতে অসুবিধা না হয় ওইটা দেখা।”
“হ্যাঁ মামা! তুমি বলো আমাকে কি করতে হবে। আমি এক্ষুনি করে দিচ্ছি।”
আনোয়ার সাহেব হেসে ফেললেন। সুমুর মাথায় আলতো হাত বুলিয়ে বললেন,
“তোমাকে কিছু করতে হবে না মামনি। শুধু তুমি যেই রুমটায় থাকো— ওইটা ছেড়ে তোমার মাইশা আপুর রুমে শিফট হয়ে যাও মামনি। রাহিনের ফ্রেন্ড শেরাজ— ছেলেটা খুব ব্যস্ত মানুষ। শুনেছি ছেলেটা নিজের কাজের জায়গায় খুব সিনসিয়ার। মাত্র পঁচিশ বছর বয়সে নিজের জীবনে কতোটা উন্নতি করে ফেলেছে। আসতেই চাইছিল না কাজ ফেলে। শুধু ফ্রেন্ডদের কথা ফেলতে পারবেনা বলে এসেছে। কিন্তু দেখো, এখানে এসেও ছেলেটা নিজের কাজের প্রতি কোনো অবহেলা করবে না। আর তাই নিজের কাজের জন্য ছেলেটার একটা একান্ত রুম লাগবে। তুমি যেই রুমটায় থাকো। ওই রুমে বাহিরের আওয়াজ কম যায়। আর কারো খুব একটা ওইদিকে যাওয়ার প্রয়োজন পড়েনা। ওই রুমটা হলে ছেলেটা শান্তিতে নিজের ব্যবসার কাজ করতে পারবে। তুমি তো জানোই, বিয়ে বাড়িতে অনেক মানুষ। সব রুম বুক। শুধু তোমার রুমে তোমার তিনজন থাকো। তাই বলছিলাম, তোমরা তিনজন— তুমি, নাজমিন আর সামিয়া, তোমার মাইশা আপুর রুমে শিফট হয়ে যাও।”
“এইভাবে কেনো বলছ মামা? আমি এক্ষুনি মাইশা আপুর রুমে শিফট হচ্ছি।”
“ধন্যবাদ মামনি!”
“তাহলে, আমি যায় মামা?”
“হ্যাঁ মামনি।”
কথা শেষ করে সুমু নিজের রুমের উদ্দেশ্যে চলে গেল। রুমে যাওয়ার সময় সামিয়া আর নাজমিনকেও ডেকে নিয়ে গেল।
রুমে ঢুকে সে মনে-মনে বলল,
“ওই মানুষটার জন্য শুধু রুম কেনো— দুনিয়ার সবকিছু ছেড়ে দিতে রাজি আছি আমি”।
কথাটা মনে-মনে বলে, বোনদের তাড়া দিল তাড়াতাড়ি সব গুছানোর জন্য। হঠাৎ মিনা বেগমের কন্ঠ শোনা গেল।
“কিরে সুমু? তাড়াতাড়ি কর।”
“এইতো হয়ে গেছে মামি।”
নিজেদের সব জিনিস গুছিয়ে নিয়ে— বোনদের নিয়ে ঝটপট বেরিয়ে গেল রুম থেকে।
রাত বাজে এগারোটা। বড়রা ডিনার শেষে নিজেদের রুমে ফিরল। আর ছোটরা সবাই ছাদে আসলো ব্যাচেলর পার্টির জন্য।
রাহিন ও তার সব ফ্রেন্ডরা মিলে শেরাজকে বোঝাচ্ছে ছাদে যাওয়ার জন্য। কিন্তু সে কোনোমতেই যেতে রাজি না।
রাহিন ভ্রু কুঁচকে বলল,
“চলনা ভাই। এমন করছিস কেনো?”
আইয়ুব বলল,
“এস.কে বিয়ে বাড়িতে এসেছি। বিয়ের সব রিচুয়ালে না থাকলে হয় ভাই।”
“শোন! তোরা যা। আমাকে জোর করিস না, প্লিজ। আমি অনেক টায়ার্ড। প্লিজ, বিরক্ত করিস না।”
রিসান বলল,
“আরে, আগে চল তুই। গেলেই দেখবি সব টায়ার্ডনেস কেটে যাবে।”
রিয়াদ বলল,
“আর তাছাড়া তুই রুমে একা বসে বোর হবি। তখন তোর আরও বেশি টায়ার্ড লাগবে।”
আইয়ুব বলল,
“আর আমরা কি তোকে একা রেখে যেতে পারি বল? আমরা তোকে রেখে গেলে তুই তো আমাদের পাগলের মতো মিস করবি।”
সবার জোড়াজুড়িতে শেষমেশ রাজি হলো শেরাজ। বন্ধুগুলোকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসে সে। এদের কখনো ফিরাতে পারেনা। জীবনের সব খারাপ পরিস্থিতিতে এই বন্ধু নামক বাদরগুলোই ওর পাশে ছিল।
পুরো ছাদ জুড়ে কৃত্রিম আলোয় আলোকিত। চারপাশের এক অন্যরকম সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। অডিও স্পিকারের অল্প আওয়াজে গান বাজছে। সুমু ছাদের এককোণে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির সাথে গানটা উপভোগ করছে। হঠাৎ চোখ দুটো ছাদের দরজার দিকে আটকে গেল তার। সময়টা কেমন জানো থমকে গেল। পুরো ছাদ জুড়ে পিনপিন নিরবতা। শুধু অডিও স্পিকার থেকে গান ভেসে আসছে। এতক্ষণ ছাদে থাকা প্রতিটা মানুষের চোখ ছাদের দরজার দিকে। সবাইকে এইভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে শেরাজ কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ল। সে বুঝে উঠতে পারলো না তাকে দেখে এইভাবে হ্যাং হয়ে যাওয়ার কি আছে। রাহিন ফ্রেন্ডের অস্বস্তির কারণ বুঝে সকলের উদ্দেশ্যে বলে উঠল।
“পার্টি কি আমাদের রেখেই শুরু করে ফেলেছিস তোরা?”
এই কথায় সকলের ধ্যান ভাঙল। তখন সকলে ছুটে আসলো শেরাজের সাথে সেলফি তুলতে। সেলফি তুলে অনেকে অলরেডি ইনস্টাগ্রামে শেরাজকে মেনশন দিয়ে পোস্টও করে ফেলেছে। অনেকে রিতিমতো তাকে অনুরোধ করছে ইনস্টাগ্রামে ফলো ব্যাক দিতে। শেরাজ সকলের কাজে খুব বিরক্ত।
শেরাজের অবস্থা দেখে রাহিনের কাছে গিয়ে আইয়ুব বলল,
“শা*লা! শেরাজের ভাগ্য দেখ। যেখানেই যায় মেয়েরা ওর পাশে পাশে ঘুরে। ভাই তুই কি কখনও দেখেছিস মৌমাছির পেছনে ফুলকে ঘুরতে। কোনো ফুল কেনো নিজে থেকে চাইবে তার মধু কোনো মৌমাছি শুষে নিক। কিন্তু এই শেরাজকে দেখ, হাজারো ফুল ওর পেছনে ঘুরে। শা*লা সারাজীবন ভার্জিন মৌমাছি হয়েই থেকে গেল। আর আমাদের দেখ, আমাদের দিকে কোনো ফুল ফিরিয়েও তাকায় না। আমরা তাকালেও মুখ ঘুরিয়ে শেরাজের কাছে চলে যায়।”
আইয়ুবের কথা শুনে রাহান ঠোঁট টিপে হেসে বলল,
“আমার কিন্তু এইসব ফুলের প্রতি কোনো ইন্টারেস্ট নেই। আমি তো শুধু আমার প্রিয়তমাতে আসক্ত। ইশ্! কবে যে আমার পিচ্চি বড় হবে— আর আমার ভালোবাসা বুঝবে।”
রাহিনের দৃষ্টি চঞ্চল মেয়েটা সামিয়ার দিকে। যে এখন তার বান্ধবী নাজমিনকে জ্বালাতে ব্যস্ত।
হঠাৎ দুই বন্ধুর কথার মাঝেই ঘটে গেলো এক অদ্ভুত কান্ড। নাজমিন দৌড়াতে গিয়ে আইয়ুবের সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়তে নিল। আইয়ুব নাজমিনকে ধরতে গিয়ে দুইহাত রাখলো নাজমিনের কোমরের। আর নাজমিনের দুইহাত শক্ত করে আইয়ুবের হুডি ধরে ঝুলে আছে। আইয়ুব হালকা ঝুঁকে আছে নাজমিনের ওপর। মেয়েটা পড়ে যাবার ভয় পাবার থেকেও অবাক হয়ে গেল বেশি। চোখ দুটো কোটর ছেড়ে বেরিয়ে আসার অবস্থা।
ওদের অবস্থা দেখে সবাই ঠোঁট টিপে হাসছে। পাশ থেকে রাহিনের কাশির শব্দ শুনে ধ্যান ভাঙাল দুজনের।
হঠাৎ নাজমিন রেগে গেল। রাগে শরীর জ্বলছে তার। সে চেঁচিয়ে বলল,
“ওই মিয়া এইভাবে ধরে রেখেছেন কেনো? ছাড়ুন আমাকে।”
নাজমিনের কথা শুনে আইয়ুব দিল ওর কোমর ছেড়ে। ব্যাস! মেয়েটা ঠাস করে পড়ে গেল। রাগে ব্যথায় জোরে চেঁচিয়ে উঠল,
“ওমাগো, আমার কোমরটা শেষ। ওই মিয়া আপনি আমাকে ফেলে দিলেন কোনো? দিলেন তো আমার তুলোর মতো নরম কোমরটা ভেঙে গুড়িয়ে।”
নাজমিনের কথা শুনে আইয়ুব বলল,
“আরে আমি আবার কি করলাম? তুমিই তো বললে ছেড়ে দিতে।”
“তাই বলে আপনি এইভাবে ছাড়বেন। ওই মিয়া আপনার মাথায় কি গোবর পোড়া নাকি? আপনি বুঝেন না এইভাবে ছাড়লে আমি পড়ে ব্যথা পাবো।”
“কি বললে তুমি? আমার মাথায় গোবর পোড়া। এই তুমি কি অন্ধ নাকি? দেখতে পাচ্ছো না এইখানে আমরা দাঁড়িয়ে আছি। তারপরেও ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মতো লাফাতে-লাফাতে গায়ে ওপর উঠে গেলে। আর ভিটামিনের অভাবে ভুগলে তো এমন হবেই। এইটুকু জোরে পড়ে কেউ ব্যথাই পায়না। আর তোমার কোমর ভেঙে গেলো?”
“কি? আমি ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মতো লাফিয়েছি আর আমি ভিটামিনের অভাবে ভুগছি? আপনি আমাকে ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা বললেন?”
“তা নয়তো কি? আমাকে দেখেছো— আমি কতো স্ট্রং। আর তুমি নিজেকে দেখো— শুটকি তুমি।”
“এই যে মিস্টার শুনুন, এইটাকে শুটকি বলে না— স্লিম বলে স্লিম। আমি ফিগার মেইনটেইন করে চলি বুঝেছেন।”
“এমন স্লিম হয়ে লাভ কি? যে নিজেকে ব্যালেন্স করতে পারবে না। হালকা ধাক্কায় পড়ে যাবে।-
“শুনুন! আমি নিজেকে ব্যালেন্স করতে পারি। আর হ্যাঁ, সন্ধ্যায়ও না ছাদের এই সাইডটা পুরো ফাঁকা ছিল। কোনো খাম্বা এইখানে ছিল না। আমি কি করে জানবো, হঠাৎ এইখানে অপ্রয়োজনীয় একটা খাম্বা দাঁড়ানো থাকবে।”
“হোয়াট রাবিশ। এই খাম্বাটা আবার কি? কি ল্যাঙ্গুয়েজ।”
“বলেছিলাম না, মাথায় গোবর পোড়া। তখন তো আন্দাজে বলেছিলাম। এখন দেখছি আন্দাজে আমি নিশানা ঠিক জায়গায় ছুঁড়েছি।”
“হেই ইউ, জাস্ট শাট আপ।”
“ইউ শাট আপ।”
“ইউ শাট আপ।”
“ইউ, ইউ, ইউ।”
“ইউ!”
“এনাফ!”
হঠাৎ করো ধমকে দুজনের কেঁপে উঠল। শেরাজ ওদের দুজনের সামনে এসে বলল,
“হোয়াট ইজ দিস? কি হচ্ছেটা কি? আইয়ুব! ও না হয় বাচ্চা। তুইও কি বাচ্চা?”
“ভাই! তোর ওকে বাচ্চা মনে হলো। দেখলি কিভাবে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করে। ঝগড়াটে মহিলা।”
“কিহ! আমি ঝগড়াটে মহিলা? আর আপনি কি হ্যাঁ? অসভ্য পুরুষ। মেয়েদের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় জানেনা— আবার আসছে আমাকে ঝগড়াটে বলতে।”
“এই মেয়ে শোনো!”
“আইয়ুব! তুই থামবি?”
খান সাহেব পর্ব ২
শেরাজের চোখ রাঙানি দেখে কেউ আর কোনো কথা বাড়ানোর সাহস পেল না।
সামিয়া দৌড়ে এসে নাজমিনের দিকে হাত বাড়িয়ে বলল,
“এতক্ষণ বসে ঝগড়া করতে-করতে হাঁপিয়ে উঠেছিস তুই। প্লিজ এইবার উঠে আয়।”
সামিয়ার দিকে কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে উঠে আসলো নাজমিন।
