Home চারুবৃত্ত চারুবৃত্ত পর্ব ১১

চারুবৃত্ত পর্ব ১১

চারুবৃত্ত পর্ব ১১
জুলি জোনাকি

সন্ধ্যার আকাশে মেঘ জমেছে । সেদিকে কারো খেয়ালটি নেই । চারু বৃত্তের ডাকে সাড়া না দিয়ে সেখান থেকে চলে আসতেই বৃত্তের মায়ের মুখোমুখি হলো । খপ করে হতটা ধরে ফেললো বৃত্তের মা । চোখ রাঙ্গিয়ে আড়ালে নিয়ে গেল । বৃত্তের মা কিছু বলাল আগেই চারু বলে উঠলো,

“কাকিমা বিশ্বাস করো আমি এমন কিচ্ছু করি নাই । তুমি যা বলছো তাই শুনছি ।”
“তাই শুনছিস ? শোন চারু আমার ছেলে যে তোর এই বেহাল রুপের প্রেমে পড়েছে তা তুইও জানিস আমিও জানি । তাই যা বলছি ভালো করে শোন , বৃত্ত যেখানে থাকবে তুই তার ধারের কাছেও থাকবি না । বিয়ে টা শেষ হোক তোরা চলে যাবি , ঋণ শোধ করতে হবে না শুধু বৃত্তের থেকে দূরে থাক তাহলেই হবে । আর যদি আমার ছেলের তালে তাল মেলাতে যাস তাহলে ওরে তো কিছু করতে পারবো না তোরে তো পারবো , ভাবতেও পারবি কি করবো । ”
একটু থেমে চারুর গাল চেপে ফের শোনাল ,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“ও তোর কাছে আসছে চাইলে এমন ভাবে আঘার করবি যেন তোকে ঘৃণা করে । মনে রাখিস হয় তোর বেহাল দশা করবো না হলে তোর পাগল মায়ের । এখন যা হলুদ সন্ধ্যার ব্যবস্থা কর । ”
এমন তেঁতো কথা বলে থামলো । তারপর সেখান থেকে বলতে বলতে চলে গেল ,
” এই জন্য ছোট লোকদের বাড়িতে থাকতে দিতে নেই , নিজের জাত ভুলে যায় ।”
চারু গাল ধরে কয়েক ফোটা পানি ফেললো । চোখ মুছে বসার ঘরে সব ব্যবস্থা করতে গেল ।
বৃত্ত ঘরে ছিল , কি গানে নাচবে তাই ভাবছে । এমন সময়ে দুই বোন ভাইয়ের ঘরে এলো , বিন্তি দরজায় হেলান দিয়ে ফোন টিপলো আর বিন্দু বলল,

” ভেতরে আসবো ভাইয়া ?”
হলুদ শাড়ি পড়ে দু বোন দরজার দাঁড়িয়ে ডাকলো । বৃত্ত তাকিয়ে হেসে জবাব দিলো,
” দুই রাজকন্যা । ভেতরে আয় । ”
” কি করছো নিচে যাবে না ?”
“হ্যা যাব তো ।”
” চলো এক সাথে যাই ?”
” তা না হয় গেলাম তার আগে একটা হেল্প কর ?”
“কি হেল্প? ”
বৃত্ত সেদিন একটা শাড়ি কিনে এনেছিল , তবে দেওয়ার সাহস হয়নি জন্য দেয়নি । সেই শাড়িটা বের করে বিন্দুর হাতে দিয়ে বলল,

” এটা মেয়েটাকে দিতে পারবি ?”
“শাড়ি ? চারুর জন্য কিনেছ ?”
“হুমম ।”
“কবে কিনলে ?”
“আমার জন্মদিনে ।”
“তো দাওনি কেন ?”
” আমি দিলে বুঝি ও নিবে ?”
“তাও ঠিক ।কিন্তু আমার থেকেও তো নাও নিতে পারে । ”
“সেভাবেই দিবি যেন নেয় । ”
দরজায় হেলান দিয়ে ফোনে মুখ গুঁজে বিন্তি বলল,
“তা না হয় দিলাম , কিন্তু তুমিতো জানো ভাইয়া তোমার বোনরা কাজ টাকা ছাড়া করে না । আগে টাকা দাও , কাজ হয়ে যাবে ।”
বৃত্ত চোখ ছোট ছোট করে তাকাল, বিন্দু হেসে ফেললো । বৃত্ত বলল,

” কাজ হলে দিব যা ।”
” আগে দাও , কাজ অবশ্যই হবে ।”
“নিজের বোনরাই এমন করে , হয় কপাল ।”
বৃত্ত দুই হাজার টাকা বের করে দিল , বিন্তি এসে খপ করে কেরে নিয়ে টাকা টা দেখে ভাব নিয়ে বলল,
” দুই হাজার টাকায় কাজ হবে না । আরো লাগবে ।”
“আর কতো ?”
“আরো দুই হাজার দাও ।”
বৃত্ত চোয়াল শক্ত করে দু হাজার টাকা বের করে হাতে দিয়ে শুধল,

“কাজ না হলে ডাবল টাকা ফেরত দিবি ।”
“সে দেখা যাবে ।”
বলে বিন্তি বিন্দু হাত থেকে শাড়িটা নিয়ে গেল । আর বিন্দু বৃত্ত কাছে দাঁড়িয়ে হাত ধরে বলল,
” ভাইয়া, মা দেখে ফেললে চারুর কি হাল হবে তা তোমার আমার অজানা নয় । এমন কিছু করো না ।”
বোনের মাথায় হাত দিয়ে বলল,
” ঠিক আছে, চলো নিচে যাই ।”
“বৃত্ত ভাই ।”

বৃত্ত বিন্দু কে নিয়ে ঘর থেকে বেরুতেই রুহি এসে সামনে দাঁড়াল । বৃত্ত কড়া সুরে বলল,
“ভুল হয়ে গেছে , আমার তো তিন বোন , দুইটা বিদায় হবে আরেকটা এসে জালিয়ে মারবে । ”
বিন্দু হাতের কুনই দিয়ে বৃত্তের বুকে গুতা মেরে বললো ,
“বর তো এখানেই আছে , বউ ও আছে রুহি চল বিয়ে টা করে নিবি । ”
রুহি এসে বৃত্তের আরেক হাত চেপে ধরে বলল,
“আমি তো সবসময়ই তৈরি । চলো ?”
বৃত্ত নিজের ফাদে নিজেই আটকে গেল । ভেবাচেকা খেয়ে রুহির থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে বলল,
” আমার গার্লফ্রেন্ড আছে । একদম বিরক্ত করবি না ।”
“কিহহহহ ?আমি থাকতে তোমার এতো বড় সাহস যে অন্য মেয়ের সাথে প্রেমে লিপতো হয়েছো ? বলবো ফুপি কে ?”
“যা বল ।”
রুহি ফুপি ফুপি করতে করতে চলে গেল । বিন্দু আর বৃত্ত হাসতে হাসতে নিচে নামলো ।

“এটা কি বিন্তি? ”
“শাড়ি , তোর জন্য ?”
“আমার জন্য? ”
“হুমম আমার আর বিন্দুর তরফ থেকে পড়ে আয় হলুদ দিবি না ?”
চারু হাসলো । শাড়িটা ফিরিয়ে দিয়ে বলল,
” আমি শাড়ি পড়ি না তুমি তো জানোই ।”
” পড়িস না আজ পড়বি , সবাই পড়বে । ”
“কিন্তু এটা তো পিঙ্ক কালার , আজতো সবাই হলুদ পড়বে ।”
“ওহো তাই তো , আচ্ছা এটা কাল পড়িস , আজ আমি একটা হলুদ শাড়ি এনে দিচ্ছি । ”
চারু হলুদের ব্যবস্থা করছিল এমন সময় বিন্তি এসে শাড়িটা দিল । শাড়িটা খুলে দেখলো , ভারি সুন্দর । শাড়িটা নিজের গায়ে রেখে দেখছিল তখন পেছন থেকে বৃত্ত বলল,

“বাহ বেশ মানিয়েছে তো । ”
চারু তাকালো, কিছু না বলে সেখান থেকে চলে গেল । বিন্দু বলল,
“কি হলো ?”
বৃত্ত ঠোঁট উল্টে বলল,
“কি জানি ।”
সবাই হলুদ শাড়ি আর পাঞ্জাবি পড়েছে । চারু ও পড়তে যাচ্ছিল কিন্তু বৃত্তের মা বারণ করেতে আর পড়ে নি । বৃত্ত বারবার জনার চেষ্টা করেছিল কিন্তু চারু ইগ্নোর করে চলে গেছে ।
অনুষ্ঠান শুরু হলো । গান বাজনা বাজছে বৃত্ত আর রুহি এক সাথে নাচতে লাগলো । চারু দূরে দাঁড়িয়ে মায়ের সাথে দেখছিল ।
নাচ থামিয়ে বৃত্ত এদিক ওদিক তাকাতেই চারুকে চোখে পড়লো । সবাই মজা করছে , সেই ফাকে বৃত্ত উঠে গিয়ে চারুর থেকে একটু দূরে বসলো । চারু একবার বাঁকা চোখে তাকাল, বৃত্ত তাকিয়েই ছিল চারু তাকাতেই হেসে আচমকা গাইতে লাগলো ,

“নেশা লাগিলো রে
বাঁকা দু-নয়নে
নেশা লাগিলো রে ”
“নেশা লাগিলো রে
বাঁকা দু-নয়নে
নেশা লাগিলো রে ”
চারুর কানে গানটা স্পষ্ট যেতেই ফের তাকাল । চোখ বন্ধ করে ঠোঁটে হাসি টেনে এক মনে গান গেয়ে যাচ্ছে। বৃত্ত গান থামিয়ে চারুর দিক ঘার ঘুমিয়ে তাকাতেই দেখলো চারু নেই । আনমনে বেশ কিচ্ছুখন হাসলো বৃত্ত । এমন কাণ্ড বৃত্তের মায়ের চোখ এড়িয়ে যেতে পাড়লো না । ছেলের রাগটা চারুর ওপর নিবে বলে হাসফাস করছিল ।

চারুবৃত্ত পর্ব ১০

রাত তখন দুইটা, সবে গান বাজনা বন্ধ করে সবাই ঘুমাতে গেল , বৃত্তের মা সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিল । চারু আর তার মা থালা বাসন ধুয়ে বসার ঘর পরিষ্কার করে তারপর ঘরে গেল । মাত্রই বিছানাতে গা এলিয়ে দিতে যাবে , তখন দরজায় টোকা পড়লো……..

চারুবৃত্ত পর্ব ১১ (২)