Home চারুবৃত্ত চারুবৃত্ত পর্ব ১৯

চারুবৃত্ত পর্ব ১৯

চারুবৃত্ত পর্ব ১৯
জুলি জোনাকি

চারু শান্ত হলো । বৃত্ত আলতো করে চারুর মাথাটা তুলে চোখের পানি মুছে দিয়ে ফের বলল,
“কি হয়েছে? এতো বিরক্তির ছাপ কেন চোখে মুখে । আমায় বলো , সমাধান করে দিব । ”
চারু তাকালো না বৃত্তের দিক , যদি মনটা ঘুরে যায় ? তাই অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে বলল,
“আপনি আর আমার সামনে আসবেন না ।”
“কদিনের জন্য,?”

চারু এবার তাকালো , বৃত্তের চোখে পানি ছলছল করছিল , চারু চোখ সরিয়ে বলল,
“ক কখনোই আসবেন না আর । ”
বৃত্ত চোখের পানি মুখে ,মুখে হাসি টেনে চারুর চুল গুলো এলোমেলো করে মাথায় হাত রেখে বলল,
“ঠিক আছে, যেমন বলবে । তাহলে আজ আসি , আমায় খুব করে মনে পড়লে ডেকো , ভারি শ্বাস ফেলার আগেই আমায় পেয়ে যাবে । ”

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

চারুর যেন গলা দলা পাকিয়ে কান্না আসছিল । বৃত্ত যেতেই চারু মুখ চেপে অঝরে কান্না করতে লাগলো । বৃত্ত ও পুরো রাস্তা কান্না করতে করতে বাড়ি পৌঁছে সোজা মায়ের রুমে গিয়ে কেন যেন মাকে জড়িয়ে বাচ্চাদের মতো কান্না করতে লাগলো । বৃত্তের মা চমকাল , এমন করে কান্না করছে কেন ? অনেক দিন পর ছেলে তাকে এমন ভাবে জড়িয়ে ধরেছে । বৃত্ত এমন কান্না দেখে মায়ের মন আচমকা গলতে লাগলো । মাথায় হাত বুলিয়ে ডাকলো,
“বৃত্ত ….কি হয়েছে বাবা ?”
বৃত্ত শক্ত করে মাকে আকরে ধরলো । বৃত্তের মা ছেলের এমন পাগলামি দেখে বুঝতে পারলো কি হয়েছে, ছেলেকে এমন ভাবে কান্না করতে দেখেনি সে । ফের প্রশ্ন করলো,

“কি হয়েছে আব্বু?”
বৃত্ত কান্না মেশান স্বরে বলল,
“চারুকে এনে দাও মা , আর কিছুই চাইবো না তোমার থেকে । যা বলবে তাই করবো শুধু চারুকে এনে দাও ।”
তার ছেলে এমন ভাবে কারো জন্য কখনো কান্না করেনি, এমন ভাবে কখনো কিছু চায়নি, তবে আজ কি হলো ?
ছেলের চুলে হাত দিয়ে বলল,
“ওর থেকে ভালো মেয়ে এনে দিব বাবা ।”
“আমি ওর মাঝেই সুখ খুঁজে নিব শুধু এনে দাও । প্লিজ মা। ”
চারুকে এতো ভালোবাসে তা জানো ছিল না বৃত্তের মায়ের । সে কি এবার তার ছেলের এমন পাগলামীর জন্য মনকে পরিবর্তন করবে ? নাকি সেই নিজের জেদ নিয়ে বসে থাকবে ।
বৃত্তের মা আর কিছুই বললো না । কেবল ছেলের কান্না কানে বাজতে লাগলো । বুকের ভেতর ভেতর কেঁপে কেঁপে উঠছিল ছেলের কান্নার শব্দে ।

“ও চারু খাবি আয় । ”
চারু ওয়াশরুমে অনেক খন হলো গেছে । চারুর মা দরজার সামনে এসে ডাকলেন । চারু ভেতরে কান্না করছে তা চারুর মায়ের কানে গেল । উতলা হয়ে দরজা ধাক্কাতে লাগলো আর বললো,
“ও চারু কি হইছে মা , কানদার শব্দ আইতাছে, দরজা খুল।”
অনেক ধাক্কানোর পরে দরজা খুলে মাকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো । চারুর মা জিজ্ঞেস করলো তবে উওর এলো না । বেশ কিছুক্ষণ পরে চারু থামলো । কারো সাথে কথা না বলে শুয়ে পড়লো । চারুর এমন আচরণে চারুর মাও বেশ চিন্তায় পড়ে গেলেন ।

সারা রাত বৃত্তের মায়ের চোখে ঘুম নেই । ছেলের দিকে সেই রাত থেকে তাকিয়ে আছে, এখন সকাল । বৃত্ত অনেক রাত করে কেদে ঘুমিয়েছে । সকাল হতেই ছেলে কে ডাকলো । বৃত্ত পিটপিট করে তাকালো । ঘড়িতে তখন সাতটা বাজে । বৃত্তের চোখ মুখ ফোলা । তার খেয়ালে এলো কাল রাতের কথা , তার মাকে বলা সব কথা মনে পড়তেই তাকালো মায়ের দিক ।
রাতে ঘুময়নি বলে চোখ লাল হয়ে আছে । মাকে আর তেমন কিছু বললো না । মাকে এসব কথা বলে ভুলকরেছে এমন ভেবে উঠে দাঁড়ালো বৃত্ত, আর শক্ত কন্ঠে বলল,

“সরি , কাল ওসব বলার জন্য । তোমায় কিছু করতে হবে না । ”
এই বলে বৃত্ত নিজের ঘরে চলে গেল । সবার সামনে নিজেকে স্বাভাবিক রেখেছিল ।
এমন ভাবে দিন যাচ্ছিল । চারুর সাথে তেমন দেখা হয় না , চার পাঁচ দিন হলো চারুর সাথে কথা হয় না , চুপিচুপি দূর থেকে একটু দেখা করেই চলে আসতো । চারুও এতোদিনে বেশ চুপসে গেছে ।
বৃত্ত কে আসতে বারণ করার পরেও চারু পথ চেয়ে তাকিয়ে থাকে , এই বুঝি বৃত্ত এসে ডাকবে,
“চারু শুনছো ।”

তবে আজ কয়েকদিন হলো তার দেখা নেই । বারবার ফোনের দিকেও তাকাতো বৃত্ত একবার ফোন করবে বলে ,তবে ফোন আসতো না । বৃত্তের কথা ভেবে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে চারু ।
এ কদিনে আদিল বেশ কয়েকবার চারুকে ভালো লাগার কথা বলেছে তবে চারু বার বার বারণ করে দিয়েছে । তাই সেও এসে শুধু চারুকে দেখে দেখে চলে যায় ।

একদিন বৃত্তের মা এলো চারুর কাছে , তারপর রক্ত চোখে চারুকে কোথাও নিয়ে গেল । চারুর সাথে লতা আর আদিলও গেল ।
বৃত্ত তখন বাড়িতে বসে কপালে হাত রেখে চারুর কথা ভাবছিল এমন সময় বৃত্তের ফোনে ফোন এলো , বিন্দু ফোন করেছে,

“হ্য হ্যালো ভা ভাইয়া? ”
“হুমম, কেমন আছিস? ”
বিন্দু কাদো কাদো হয়ে বলল,
“ভালো না ভাইয়া, চারু …..”
চারুর নাম শুনে বৃত্ত ধপ করে বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো, উত্তেজিত হয়ে বলল,
“চারু কি ? কি হয়েছে চারুর ।”
” আ আসলে ভাইয়া , মা চা চারুকে ….”
“কি করেছে মা চারুকে ?”
” আ আমি বলতে পারবো না তুমি এসে নিজের চ চোখে দেখে য যাও । ”
“কোথায় চারু ?”
বৃত্ত ঘামতে শুরু করলো । বিন্দু ঢোক গিলে বলল,
” আ আমাদের গ্রামের ভাঙ্গা বাড়িতে, সাবধানে এসো । ”
“চা চারু ঠিক আছে তো । ”

উওর না দিয়েই ফোন কেটে দিল । বৃত্ত আবার ফোন করলো কিন্তু ধরলো না । বৃত্ত তার বাবাকে ডাকলো , তারপর সব খুলে বলতেই বৃত্তের বাবা বলল,
“এবার তোমার মা একটু বেশি বেশি করছে । মেয়েটার কিছু হলে তোমার মাকে আমি তালাক দিব । ”
বাবা আর ছেলে দ্রুত সেখানে চলে গেল ।

চারুবৃত্ত পর্ব ১৮

বেশ লোকজনের ভীড় । আদিল বর সেজে চারুর পাশে দাঁড়িয়ে ছিল । বৃত্ত চারুকে বউ সেজে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রেগে চারুর কাছে যেতে লাগলো, আদিল এসে আটকালো । বৃত্ত কোন কথা না বলে আদিলকে নাক বরাবর জোরে একটা ঘুষি মারলো, নিমিষেই আদিলের নাক থেকে রক্ত পড়তে লাগলো .

চারুবৃত্ত পর্ব ২০