Home চারুবৃত্ত চারুবৃত্ত পর্ব ৯

চারুবৃত্ত পর্ব ৯

চারুবৃত্ত পর্ব ৯
জুলি জোনাকি

দিন যায় তো রাত যায় , এভাবেই দিন যাচ্ছিল । চারুর পরীক্ষা এসেই গেলো, দিনে পড়ার সময় হয়ে ওঠে না দেখে রাত জেগে প্রেপারেশন নিচ্ছে । ইদানিং বৃত্তের মুখোমুখি খুবই কম হয় । পরীক্ষার জন্য বৃত্ত ও তেমন একটা জালাতন করে না । শুধু দূর থেকেই দেখে চোখের শান্তি মেলায় ।
কাল থেকে পরীক্ষা শুরু হবে চারুর ,তাই রাতে পড়ছিল চারু ,বৃত্ত চারুর ঘরের কাছে এসেও বারবার ফিরে যাচ্ছে । হাত বাড়িয়ে দরজায় টোকা দিতে গিয়েও থেমে যাচ্ছে । ফের হাত বাড়িয়ে টোকা দিবে তার আগেই দরজা খুলে গেল । চারুও চমকাল , বৃত্ত কে এমন সময় আশা করে নি । রাত তখন দুইটা , চারু চোখ ঘুরিয়ে চারপাশটা দেখে নিল । কাউকে নজরে এলো না । চারু ভারি সরে প্রশ্ন ছুড়লো ,

“এতো রাতে আপনি এখানে ?”
হিমসিম খেল বৃত্ত , কি যে বলি । মাথা চুলকে বলল,
” ওই আসলে ,তুমি কি পড়ছিলে ?”
“হুমম । ”
“ওহ , খেয়েছ ?”
” হুমম ।”
” কাল থেকে তো পরীক্ষা, পড়তে কোনো প্রবলেম হচ্ছে না ?”
” না ।”
বৃত্ত হাসফাস করলো । আর কি বলা যায় । কিছুখন চুপ থেকে চারুকে দেখলো , চারু নীরবতা কাটিয়ে বলল,
” আর কিছু বলবেন ?”
“কেন ।”
“আমি একটু রান্না ঘরে যাব পানি খেতে ।”
“ওহ যাও ।”
বৃত্ত সরে দাঁড়াল । চারু যেতেই বৃত্ত মাথা চুলকে হাসলো ।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

আজ চারুর পরীক্ষা দুপুর দুইটা থেকে শুরু । একমাস হবে । বৃত্ত সকালে কলেজে গেছে তার সকাল বিকাল দু বেলায় ডিউটি আছে । চারু যাবে অন্য কলেজে , অন্য কলেজে সিট পরেছে । পরীক্ষা হোক আর যাই হোক , তার রান্না বান্না করে বাড়ির সব কাজ করে পড়তে বসেছিল এমন সময় ফোনটা বেজে উঠল,হাতে নিয়ে দেখলো বৃত্ত লেখা । ফোনটা ধরলো না , কয়েক বার বেজে উঠল তবুও ধরলো না কেবল পড়াতে তার মনোযোগ আটকাল ।
বিকাল পাঁচটায় পরীক্ষা শেষ হতেই চারু সোজা বাড়ি ফেরার পথ ধরলো , অনেকটা দূরে গাড়ির জন্য দাড়িয়ে ছিল , এমন সময় পাশ থেকে কেউ ডাকলো ,

” চারু ।”
চারু তাকালো, বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল,
” আপনি ?”
” হুমম, বাড়ি ফিরছিলাম , ওই খানে গাড়ির জন্য দাড়িয়ে ছিলাম তোমায় দেখে এখানে এলাম । পরীক্ষা কেমন হলো ?”
” আলহামদুলিল্লা ভালো ।”
” ওহ ।”
বৃত্ত আর কিছু না বলে সোজা দাঁড়িয়ে থাকলো , চারু আড় চোখে তাকাল, কিছু বলছে না দেখে , চুপিচুপি ফের তাকাল । কেমন দেখাচ্ছিল, বড্ড ক্লান্ত, শার্ট টা ও হালকা ঘামে ভিজে গেছে । চারু চোখ সরিয়ে নিচের ঠোঁট কামরে ধরে এদিক ওদিক চোখ ঘোরাচ্ছিল । একটা রিকশা আসতেই বৃত্ত হাত উঠিয়ে থামাল , তারপর চারুর দিক তাকিয়ে বলল,

” চলো যাওয়া যাক ।”
চারু মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল । রিকশাতে বসতেই বৃত্ত পাশে বসতে চাইলে চারু হালকা চেঁচিয়ে বলল,
” না , মানে আপনি অন্য গাড়িতে আসুন ।”
বৃত্ত পাল্টা কোনো প্রশ্ন না করে মামাকে বলল,
” ও সেখানে বলবে ওখানে নামিয়ে দিবেন ।কেমন ?”
” আইচ্ছা ।”
ভারা টা বৃত্ত দিয়ে দিল । চারু আর ফিরে তাকালো না , কেবল বৃত্ত একাই তাকিয়ে ছিল ।

রাতে বাড়িতে খুশি ঝলক দেখা গেল । বেশ লোকজন এসেছে । বিন্দু আর বিন্তির এক বাড়িতেই বিয়ের প্রস্তাব এসেছে । পনেরো দিন পর এ বাড়ির দুই মেয়ের ধুমধাম করে বিয়ে । আজ রাতে এসে বিয়ের তারিখ পাকা করে গেল । এতে বাড়ির সবাই বেশ হাসি খুশি ।
চারুর কাল পরীক্ষা নেই , তাই সে রান্না ঘরে এটা ওটা রান্না করে সবার সামনে এনে দিচ্ছে । বৃত্ত ও সবার সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছিল ঠিকি তবে তার চোখ দুটো বার বার চারুর দিকে আটকাচ্ছিল । আজ কয়েক দিন হলো মেয়েটার সাথে কথা হয় না তেমন । দৃঢ় শ্বাস ছেড়ে অনুভুতি গুলোকে কিছু দিনের জন্য চাপিয়ে রাখলো ।
খাবার টেবিলে হইচই পড়লো । বৃত্ত চুপচাপ কোন কথা না বলে কোন দিক না তাকিয়ে খেয়ে ঘরে চলে গেল । চারু একবার তাকাল , আজ বৃত্তকে বড্ড কেমন কেমন দেখাচ্ছে ।
কাজ শেষ করে ঘরে গেল চারু , মায়ের কাছে বসে মাথায় তেল নিতে নিতে বলল,

” মা ”
“হুমম ।”
“আর কিছুদিন পর এবাড়ির ঋন শোধ হবে । তারপর আমি আর তুমি অনেক দূরে চলে যাব , তখন তোমায় কাজ করতে হবে না আমিই সব করবো। ”
” হ আমিও তাই ভাবলুম । ”
” হুমমম ।”
ছোট্ট একটা দায়িত্বে যেন চারু ভীষণ ক্লান্ত । মুখ ফুটে কাউকে বলতে পারে না । কেবল নিজের মাঝে লুকিয়ে রেখে মন ভারি করে । সেও তার মনকে বুঝতে পেরেছে , মন যে তার ডাকে সাড়া দিতে চাচ্ছে । বার বার মনকে বোঝাচ্ছে, মন বুঝছে কই ।
ভাবনার মাঝে ফোনে টুং করে একটা মেসেজ এলো , তাতে লেখা ,

” ফ্রি থাকলে একটু ছাদে এসো ।”
অনেকখন ফোনের দিক তাকিয়ে থেকে , ফোনটা রেখে পড়তে বসো ।
ওদিকে ছাদে বৃত্ত অপেক্ষা করছিল । বেশ কিছুক্ষণ পর আরেকটা মেসেজ দিল ,
” আসবে না ?”
এতেও কোন জবাব এলো না । এখনকার মত হাল ছেড়ে একাই ছাদে বসলো । আকাশে চাঁদ নেই মেঘে ঢাকা পরেছে । বৃত্ত আনমনে হাসলো ।

“কাকিমা এখন কি কিছু করতে হবে ?”
” হ্যা রে চারু , নাড়কেল গুলো কুড়ে দে নাড়ু বানাতে হবে । ”
“আমি করে দেই আপা , আমার মাইডার কাইল পরীক্ষা আছে , একটু পড়ুক ।”
” আচ্ছা তুই যা ।”
সকালে খাওয়া দাওয়া শেষ করে বৃত্তের মা চারুর হাতে হাতে কাজ করছিল । মেয়ের বিয়ে বলে কথা অনেক কাজ । তবে সেদিন চারুকে কটা কড়া কথা শুনিয়ে এখন ভালো ব্যবহার করছে । চারু রুমে চলে গেল । চারুর আজ পরীক্ষা না থাকলেও অন্য গ্রুপে পরীক্ষা আছে তাই বৃত্ত কলেজে গেছে । বিন্দু আর বিন্তি পার্লারে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে । যাওয়ার আগে চারুকে ডাকলো কিন্তু চারু গেল না ।
বৃত্তের মা আর চারুর মা এক সাথে কাজ করছিল । তখন রুহি আবার এলো । বিন্দু আর বিন্তি পার্লারে গেছে শুনে সেও চারুকে জোর করে নিয়ে গেল একাএকা যাবে না বলে ।

“কিরে তুই এখানে ?”
“আরে তোর বিয়ে আর আমি আসবো না ?”
“চারু তুই তো আসতে চাইলি না এলি যে ?”
“আমি জোর করে এনেছি ।”
“জোর করে আনতে গেলি কেন ? কাল ওর পরীক্ষা?।”
“তো কী হয়েছে বাড়ি গিয়ে পড়বে । ”
চারু চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল । তার যে বলার মতো কিছুই নেই ।

” বৃত্ত ভাই, কেমন আছো ?”
বৃত্ত হল থেকে ফিরে ঘরে এসে মাত্রই শার্ট চেন্জ করছিল , অর্ধেক খুলতেই রুহির আওয়াজ কানে যেতেই শার্ট পড়ে পেছনে তাকালো ,
” আবার এসেছিস ।”
“তো আসবো না আমার হবু ননদের বিয়ে বলে কথা ।”
” বিয়ে তো এখনো দেড়ি আছে , এতো আগে এখানেকি ?”
রুহি ভেতরে ডুকে বৃত্ত কাছাকাছি গিয়ে বলল,
” তোমার জন্য এসেছি । তোমায় ছাড়া থাকতে বড্ড কষ্ট হয় আমার ।”
” এই বেয়াদব, বেহায়া মেয়ে মুখে লাগাম দে । জোরে একটা থাপ্পড় মারলে সব আবেগ উধাও হয়ে যাবে । ”
“বৃত্ত ভাই , এটা আবেগ না কতো বার বলবো ?”
” সে যাই হোক , তোক দেখলেই আমার এলার্জি বেরে যায় । বের হ রুম থেকে । ”
“যাব না কি করবে হুমমম ?”
বৃত্ত কান ধরে বের করে ঘর টা আটকে দিতে দিতে বলল,

চারুবৃত্ত পর্ব ৮

” আমি যারে চাই সে আমায় চায় না এদিকে আরেকটা জালিয়ে মারছে । ”
দরজা আটকে শার্ট টা খুললো । তখন বাইরে থেকে কেউ দরজায় টোকা দিল , বৃত্ত বিরক্ত নিয়ে বলল,
” দেখ রুহি আমি মাত্রই আসলাম , বড্ড ক্লান্ত লাগছে জালাস না তো এখন ।”
ওপাশ থেকে উওর এলো ,
” আ আমি চারু ।”
শার্ট টা বিছানা ওপর ছুড়ে মারে জোরে হেটে দরজা টা দ্রুত খুলে দিল …….

চারুবৃত্ত পর্ব ১০