চিত্রাঙ্গনা পর্ব ৮৬
ইশরাত জাহান জেরিন
জানালার বাইরে অন্ধকার আকাশে মেঘের স্তর জমে আছে। মাঝে মাঝে দূরের কোনো অচেনা কুকুরের ডাকে নিস্তব্ধতা ভেঙে আবার থেমে যাচ্ছে। ঘরের ভেতর হালকা হলুদ আলো জ্বলছে। দরজাটা ভেতর থেকে আলতো করে বন্ধ করল অভ্র। কয়েক সেকেন্ড দুজনেই চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। আয়েশা দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছে, শাড়ির আঁচলটা কাঁধে টেনে ধরেছে অজান্তেই। তার বুকটা একটু দ্রুত উঠানামা করছে। চোখ দুটো নিচের দিকে নত। অভ্র কিছুক্ষণ তাকে দেখল। নরম স্বরে বলল, ” এত চুপ হয়ে গেলে কেন?”
“জানি না।”
“ভয় লাগছে?”
আয়েশা মাথা নেড়ে বলল, “না… ভয় না… শুধু… অদ্ভুত লাগছে।”
অভ্র ধীরে ধীরে কয়েক কদম এগিয়ে এল। তাদের মাঝখানের দূরত্ব কমে এল। দুজন মানুষের গোপন অনুভূতির উষ্ণতায় ঘরটাও উষ্ণ হয়ে উঠল। অভ্র একটু ঝুঁকে আয়েশার চোখের দিকে তাকাল। “আমার দিকে তাকাও তো।”
আয়েশা ধীরে ধীরে চোখ তুলল। সেই চোখের ভেতর এত গভীরতা ছিল যে অভ্র কয়েক মুহূর্ত কিছুই বলতে পারল না। যেন বহুদিনের জমে থাকা অনুভূতি এক মুহূর্তে এসে ভিড় করেছে। হঠাৎ অভ্র হাত বাড়িয়ে দিল।
আয়েশার কাঁধের উপর আলতো করে হাত রাখল।
স্পর্শটা খুব কোমল ছিল। সেই কোমলতার মধ্যেই একটা তীব্র স্রোত বইল আয়েশার শরীর জুড়ে। সে অজান্তেই একটু কেঁপে উঠল। অভ্র মৃদু হেসে বলল, “এতটা কাঁপছ কেন?”
আয়েশা এবার সত্যি লজ্জা পেল। ” তুমি খুব কাছে দাঁড়িয়ে আছো…”
” আর যদি আরও কাছে আসি?” কথাটা বলেই অভ্র একটুখানি এগিয়ে এলো। এবার তাদের মাঝখানে আর কোনো দূরত্ব রইল না। আয়েশার নিশ্বাস গরম হয়ে এসে লাগছে অভ্রর গালে। তার শাড়ির সুগন্ধ, চুলের মৃদু ঘ্রাণ অভ্রের ভেতর মাদকতা তৈরি করছে। অভ্র ধীরে ধীরে তার থুতনিটা আঙুল দিয়ে তুলে দিল। ” তুমি জানো, তোমাকে এভাবে দেখলে আমার কী মনে হয়?
আয়েশা ফিসফিস করে বলল, “কী?”
” মনে হয়… এই পৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দর মানুষটা খোদা আমার ঘরে নেয়ামত হিসেবে পাঠিয়েছে।”
আয়েশা আর কিছু বলল না। সে শুধু একটু এগিয়ে এলো। তার কপালটা আলতো করে এসে ঠেকল অভ্রর বুকে। অভ্র কয়েক সেকেন্ড স্থির দাঁড়িয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে দুই হাত তুলে আয়েশাকে জড়িয়ে ধরল।
আয়েশা চোখ বন্ধ করল। তার মনে হচ্ছিল পৃথিবীর সব শব্দ দূরে সরে গেছে। শুধু এই বুকের ভেতরকার হৃদস্পন্দনটাই সত্যি।
” সরকার ভাই…”
” হুম ঘরনী?”
“তুমি আসার পর জীবন কেমন সহজ আর সুন্দর হয়ে গেছে।”
অভ্র তার চুলে মুখ ডুবিয়ে নরম স্বরে বলল, ” তাই বুঝি?”
আয়েশা একটু সরে এসে তার দিকে তাকাল। চোখ দুটো ভিজে উঠেছে হালকা। ” হুম।” অভ্র উত্তর দিল না। সে শুধু আয়েশার কপালে ধীরে ধীরে একটা চুমু রাখল।
তারপর গালে। তারপর খুব কাছে এসে থেমে গেল।
তাদের দুজনের নিঃশ্বাস এক হয়ে যাচ্ছে। দুজন মানুষের ধীরে ধীরে একে অপরের কাছে হারিয়ে যাওয়ার স্রোত ঘরের ভেতর বইছে। আয়েশা আলতো করে অভ্রর শার্টের কলারটা মুঠো করে ধরল। ফিসফিস করে বলল, ” আজ রাতটা… অতীত ভুলে সুখের হোক। হয়ে উঠুক কেবল আমাদের।
অভ্র তার দিকে গভীর চোখে তাকাল।
তারপর ধীরে ধীরে মাথা নেড়ে বলল, “হুম শুধু আমাদের।”
জানালাটা আধখোলা। বৃষ্টি হবে হয়তো। বাইরে আকাশে মেঘ ভেসে যাচ্ছে। দূরে কোথাও বজ্রপাতের আলো মাঝে মাঝে আকাশে ক্ষণিকের দাগ কেটে যাচ্ছে। ঘরের ভেতর দাঁড়িয়ে আছে নিরু।
তার চুলগুলো একটু এলোমেলো। বজ্র দরজার পাশে দাঁড়িয়ে তাকে দেখছিল এতক্ষণ। তার দৃষ্টি সবসময়ের মতোই তীক্ষ্ণ। কিন্তু আজ সেই তীক্ষ্ণতার ভেতর একটা আদুরে প্রেম মিশে আছে। নিরু ঘরের ভেতর ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে বলল,” ঘরটা এত অন্ধকার করে রেখেছো কেন?
বজ্র ঠান্ডা স্বরে বলল, “অন্ধকারে অনেক কিছু স্পষ্ট দেখা যায়, করাও যায় তাই।”
নিরু ঘুরে তাকাল। “ যেমন?”
বজ্র একটু এগিয়ে এলো। “ যেমন… মানুষ আসলে কী লুকিয়ে রাখে।”
নিরু ভ্রু তুলল। “তো তুমি কি লুকাচ্ছো?”
“আপাতত নিজের ফিলিংস। তবে বেশিক্ষণ বোধ-হয় লুকাতে পারব না। এমন বউ থাকলে কিছু বুঝি লুকানো যায়?”
নিরু হেসে ফেলল। কিন্তু সেই হাসির ভেতরেও একটুখানি কাঁপুনি ছিল। “ ভয় করছে কিন্তু!”
বজ্র এবার পুরোপুরি তার সামনে এসে দাঁড়াল।
তাদের মাঝখানে মাত্র এক হাত দূরত্ব। “ আমার সামনে ভয় নয় কেবল ভালোবাসা চলবে।”
নিরু এক মুহূর্ত চুপ করে রইল। তারপর হঠাৎ এক পা এগিয়ে এলো। এবার দূরত্বটা প্রায় নেই।
তার চোখ সরাসরি বজ্রের চোখে।
“ যদি ভয় না পাই?
বজ্র নিচু স্বরে বলল,” তাহলে প্রমাণ দাও।”
কথাটা বাতাসে ঝুলে রইল কয়েক সেকেন্ড
নিরু ধীরে ধীরে হাত তুলল। তার আঙুলগুলো গিয়ে ঠেকল বজ্রের বুকের ওপর। সে আঙুল দিয়ে আলতো করে চাপ দিলো। বজ্রের হৃদয়ে স্পন্দন তীব্র হতেই নিরু হেসে বলল, “ এটাই প্রমাণ।”
বজ্র কয়েক সেকেন্ড স্থির দাঁড়িয়ে রইল সে নিরুর কব্জিটা ধরে ফেলল।
“তুমি আগুন নিয়ে খেলছো নিরু।”
নিরু মৃদু স্বরে বলল, “আগুন তুমি হলে আগুনে পুড়তে আমার আপত্তি নেই।”
বজ্র এবার তাকে নিজের দিকে টেনে নিল। নিরু এসে ঠেকল তার বুকে। তাদের নিঃশ্বাস একে অপরের মুখে লাগছে। জানালার বাইরে আবার একবার বজ্রপাত হলো। সেই আলো এক মুহূর্তের জন্য ঘরটা উজ্জ্বল করে দিল। আর সেই আলোতে দেখা গেল তাদের দুজনের চোখের ভেতর জমে থাকা অদ্ভুত আকর্ষণ।
বজ্র তার কানের কাছে মুখ এনে বলল, “ভালোবাসি নিরু।
“তাই বলে এত কাছে আসবে?” নিরু একটু হেসে ফেলল। তার হাত এবার ধীরে ধীরে উঠে গেল বজ্রের কাঁধে। “কি আর করার বউ? কায়সার বংশের বংশধরকে পৃথিবীর আলো দেখাতে হবে তো?”
বজ্র আর নিজেকে থামাল না। সে আলতো করে নিরুর চিবুক তুলে দিল। দুজনের চোখ এক মুহূর্ত আটকে রইল। তারপর বজ্র তার কপালে ধীরে একটা চুমু রাখল। কিন্তু সেই চুমুর ভেতর ছিল হৃদয় দখলের ঘোষণা। নিরু চোখ বন্ধ করল। তার হাত শক্ত হয়ে জড়িয়ে ধরল বজ্রের শার্ট। বাইরে তখন বাতাস একটু জোরে বইতে শুরু করেছে। জানালার পর্দা দুলছে অনবরত। তবুও ঝড়ের থেকেও তীব্র হচ্ছে এইঘরের মধ্যকার দু’টো শব্দহীন অনুভূতি।
রাত ভালোই হয়েছে। মেঝেতে একটা পাতলা কার্পেট পেতে বসেছে পিয়াস আর নিশু। কার্পেটের মাঝখানে রাখা লুডুর বোর্ড। চারদিকে ছড়িয়ে আছে ছোট ছোট গুটি। নিশু দুই হাঁটু ভাঁজ করে বসে আছে, তার চুলগুলো একপাশে নেমে এসেছে কাঁধের উপর। পিয়াস পাশেই হেলান দিয়ে বসে আছে, হাতে পাশা।
নিশু চোখ কুঁচকে বলল, “খেলায় একটা শর্ত আছে।
পিয়াস ভ্রু তুলল। “ আবার শর্ত কিসের? আগের ২ বার যখন হারলে তখন তো শর্ত দেয় নি?”
“কারণ এবার আমি জিতবো।”
“এবারও হারবে। আচ্ছা যাও খেলা এমনি এমনি হবে না।” পিয়াস একটু ঝুঁকে এলো। “বলো শুনি।”
নিশু মুচকি হেসে বলল, “ যে হারবে, সে বিজয়ীর একটা কথা অমান্য করতে পারবে না। যা আমি করতে বলব তাই করতে হবে।”
পিয়াস হেসে উঠল। “ মানে বাজি?”
“ ঠিক তাই।”
“আর তুমি যদি হারো?”
নিশু চোখ সরু করে তাকাল।
“আমি হারি না।”
পিয়াস পাশাটা আঙুলে ঘুরাতে ঘুরাতে বলল,
“অথচ একটু আগেও দুইবার হারলে,আবার হারবে।”
“ দেখা যাবে।”
খেলা শুরু হলো। পাশা গড়িয়ে পড়ছে, গুটি এগোচ্ছে, কখনো নিশু উল্লাস করছে, কখনো পিয়াস মুচকি হেসে তাকিয়ে থাকছে। মাঝে মাঝে তারা একে অপরকে খোঁচা দিচ্ছে।
নিশু বিরক্ত গলায় বলল, “ এই পাশা আপনার পক্ষে কেন যাচ্ছে?
পিয়াস শান্তভাবে বলল, “ পাশাও বুঝে কার সঙ্গে থাকা উচিত।”
“ খুব আত্মবিশ্বাস!”
“ কারণ আমি জিতব।”
নিশু চোখ ঘুরিয়ে বলল, “দেখা যাবে শেষে কে কাকে কথা মানাবে।”
খেলা ধীরে ধীরে শেষের দিকে এগোলো। শেষবার পাশা ফেলল পিয়াস। গুটিটা গিয়ে ঠিক শেষ ঘরে ঢুকে পড়ল। এক মুহূর্ত নীরবতা। তারপর পিয়াস ধীরে ধীরে নিশুর দিকে তাকাল। মিটমিটিয়ে হেসে গুন-গুন করে উঠল, “আজ পাশা খেলবো রে শ্যাম……”
নিশু ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,“আপনি ইচ্ছা করে জিতেছেন।”
পিয়াস হেসে ফেলল। “ লুডুতে ইচ্ছা করে জেতা যায় নাকি?”
নিশু একটু চুপ করে রইল। তারপর নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল, “ ঠিক আছে। বলুন… কী চাই?”
পিয়াস কিছুক্ষণ তাকে দেখল। “সত্যি মানবে?”
নিশু ধীরে মাথা নেড়ে বলল, “ বাজি ধরেছি যখন… মানতেই হবে।”
পিয়াস আস্তে করে সামনে এগিয়ে এলো। তাদের মাঝখানের বোর্ডটা সরিয়ে দিল। “ তাহলে আমার কথা শুনো।”
নিশুর বুকের ভেতর হালকা কাঁপুনি উঠল।
“কী?”
পিয়াস নিচু স্বরে বলল, “ একটু কাছে আসো।”
নিশু কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকল। তারপর ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো। এবার তাদের দুজনের মাঝে আর কোনো খেলার বোর্ড নেই। শুধু দুটো মানুষের নিঃশ্বাসের উষ্ণতা। পিয়াস তার দিকে তাকিয়ে বলল,
“ জানো… তুমি যখন হার মানলে, তখন সবচেয়ে সুন্দর লাগছিল।”
নিশু লজ্জা পেয়ে হেসে ফেলল। “ হারতে আমার ভালো লাগে না।”
“ কিন্তু তোমায় হারতে দেখে আমার তো ভালোই লাগছে।
পিয়াস ধীরে ধীরে তার হাতটা ধরল।
নিশুর আঙুলগুলো একটু কেঁপে উঠল।
“ পিয়াস…”
“হুম?”
“ বাজির সুযোগ নিচ্ছেন না তো?”
“কেন আপত্তি আছে বুঝি?”
নিশু আর কিছু বলল না। পিয়াস নিচু গলায় বলল,
“জানো নিশু… তুমি যখন এভাবে চুপ করে থাকো, তখন মনে হয় তোমাকে আর ছাড়তে পারব না। তোমার এমন রূপ আমায় মাতাল করে।”
নিশু চোখ নামিয়ে ফেলল। “আপনি সবসময় এত অদ্ভুত কথা বলেন কেন?”
পিয়াস তার খুব কাছে এসে দাঁড়াল। দুজনের মাঝখানে তখন কেবল নিঃশ্বাসের দূরত্ব।
“অদ্ভুত না… সত্যি। “তুমি কখনোই বুঝতে পারবে না, তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করলে নিজেকে থামানো কত কঠিন হয়।”
নিশুর গাল লাল হয়ে উঠল। “পিয়াস…”
পিয়াস আলতো করে তার কানের পাশে ঝুঁকে ফিসফিস করল, “এইভাবে আমার নাম ধরে ডেকো না… আমি আরও পাগল হয়ে যাই।”
নিশু কাঁপা গলায় বলল, “আপনি তো এমনিতেই পাগল।”
পিয়াস মৃদু হেসে তার হাতটা ধরে ফেলল। তার আঙুলগুলো নিজের আঙুলের ভেতরে জড়িয়ে নিয়ে বলল, “হ্যাঁ, পাগল… কিন্তু শুধু তোমার জন্য।”
নিশু এবার মাথা তুলে তার চোখের দিকে তাকাল।
“ধরুন এত ভালোবাসার পরও আমি হারিয়ে গেলাম?” নিশু আস্তে বলল।
পিয়াস তার চিবুকটা আলতো করে তুলে দিল। “তাহলে পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত গিয়ে তোমাকে আবার ফিরিয়ে আনব। হারাতে দিবো না।”
“এতটা অধিকার কেন?”
পিয়াস ফিসফিস করে বলল, “কারণ তুমি আমার দুর্বলতা।” তারপর সে খুব ধীরে নিশুকে নিজের দিকে টেনে নিল। নিশুর মাথাটা তার কাঁধে এসে ঠেকল। পিয়াসের হাত তার পিঠে আলতো করে থেমে রইল।
পিয়াস আস্তে বলল, “শুনছো? তোমার নিঃশ্বাসটা কত দ্রুত চলছে।”
নিশু চোখ বন্ধ করে বলল, “আপনি এত কাছে এলে তো এমন হবেই।”
পিয়াস মৃদু হেসে তার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল। তারপর ধীরে গালে। নিশু তার শার্টটা ধরে ফেলল।
“পিয়াস…”
“হুম?”
“আর কাছে আসবেন না…”
পিয়াস থামল না। খুব ধীরে বলল, “তুমি চাইলে আমি থামব… কিন্তু তোমার চোখ তো বলছে অন্য কথা।”
নিশু চুপ করে রইল। পিয়াস তার কপালে আবার একটা দীর্ঘ চুমু দিল, তারপর তাকে আলতো করে বুকে জড়িয়ে ধরল। বাইরে বৃষ্টি তখনও পড়ছে।
আর ঘরের ভেতর দুজন মানুষের নিঃশ্বাস ধীরে ধীরে এক হয়ে যাচ্ছে, ভালোবাসা, আকর্ষণ আর একটু অন্ধকারে ভেজা আবেগে।
বাইরে তখন গভীর রাত। আকাশ জুড়ে কালো মেঘের স্তর। গাছের পাতায় টুপটাপ শব্দ তুলে বৃষ্টি পড়ছে অবিরাম। যেন প্রকৃতিও আজ মানুষের ভেতরের সব না বলা কান্নাগুলো শুনে কাঁদছে। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে নদী। ঘরের আলো ম্লান, বাইরে বৃষ্টির ফোঁটা জানালার কাঁচ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে। তার কাঁধে শাড়ির আঁচলটা আলগা হয়ে আছে। সে বিছানায় ঘুমন্ত মেয়ের দিকে একবার তাকালো। তারপর চোখ গেল রাজনের ফাঁকা অংশে। সেদিকে তাকাতেই বুকটা হুহু করে উঠল।
ওখানে তো একসময় তার স্বামীর শুয়ে থাকার কথা ছিল৷ একসাথে গল্প করা, রাত জেগে কথা বলার কথা ছিল। নদী ধীরে ধীরে বিছানায় বসে পড়ে।
তার ঠোঁট কেঁপে ওঠে। “মানুষের জীবনে এত দুঃখ কেন আসে…?” একটা সময় সে জানালার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, “তুমি থাকলে… হয়তো এত একা লাগত না…” তার চোখ থেকে নীরবে গড়িয়ে পড়ে জল। তবে সে কী জানে? তার এত চোখের জল যার জন্য সে যে তার কথা একবারটিও ভাবছে না?
রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোয় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে পড়ছে। চারপাশে প্রায় কেউ নেই। শুধু ভেজা রাস্তা, কাদা আর বৃষ্টির শব্দ। সেই রাস্তায় টলতে টলতে হাঁটছে রাজন। তার শার্টের বোতাম দু-একটা খোলা, কাপড় পুরো ভিজে গেছে। চোখ লাল, মুখে মদের তীব্র গন্ধ। হাতে আধখালি একটা বোতল।
সে হাঁটছে… কিন্তু যেন কোথাও পৌঁছানোর জন্য না।
শুধু পালানোর জন্য। নিজের কাছ থেকে পালানোর জন্য। হঠাৎ সে থেমে যায় রাস্তার মাঝখানে।
বৃষ্টি তার মুখে আঘাত করছে। কিন্তু সে মাথা তুলে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার ঠোঁট কাঁপে।
“কেন… কেন করলাম আমি…?” তার গলার স্বর ভারী হয়ে আসে। একটা নাম তার বুকের ভেতর ছুরি হয়ে ঘুরে বেড়ায়, সেই নাম রাবসা। রাজনের চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই মুখটা। মায়াভরা চোখ। তার বুকের ভেতরটা যেন ছিঁড়ে যায়। সে দুহাত দিয়ে নিজের মাথা চেপে ধরে।
“আমি তোরে ভালোবাসতাম… রাবসা…কেন বেঈমানি করলি?”
“তবু আমি… আমি তোদের মেরে ফেললাম…”
রাজন হঠাৎ হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে ভেজা রাস্তায়।
বোতলটা হাত থেকে গড়িয়ে দূরে পড়ে যায়।
সে দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কাঁদতে শুরু করে।
“আমি পাপী… আমি জানোয়ার… আমার কারনে আমার ভাই মরছে। ওরে আমি মাইরা ফেলছি। নিজের মায়ের পেটের ভাইরে মাইরা ফেলছি। আমার বাঁচার অধিকার নাই…” বৃষ্টি যেন আরও জোরে নেমে আসে।
চারপাশে কেউ নেই। শুধু ভেজা রাত আর এক মানুষের অপরাধবোধ। রাজন ধীরে ধীরে মাথা তুলে ফিসফিস করে, “হে ধরনী তুই আমায় ঘৃণা কর… আমারে কোনোদিন ক্ষমা করিস না। খোদার আজাব আমার জন্য হালাল হইয়া যাক। আমি এসবেরই যোগ্য। আমার কারনে সব মরছে, মোহনা, তার সন্তান, রোশান সব।” দুঃখ রাজনকে নিজের পাপের আগুনে পুড়িয়ে মারছে।
কেবল দুঃখ তো কেবল তার একার না। মার্জিয়া বেগম তার ছেলে সোহাগ নিজের ভেতরের দুঃখে পুড়ছেন। তার তো আফসোস করার মতোও আফসোস নেই। স্বামী, সন্তান, ছেলের বউ সব তাকে দুঃখ দিয়ে হারিয়ে গেল। দিয়ে গেল কেবল নির্ঘুম একটা জীবন। যা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে মারবে। কারণ দুঃখ ডাকপিয়ন বিলি করে গেছে তাদের প্রতিটি ঘরে ঘরে। বিছানায় শুয়ে আছে সোহাগ। কিন্তু তার চোখে ঘুম নেই। ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকে সে। মনের ভেতর বারবার ভেসে ওঠে একটাই মুখ, চিত্রা। তার ঠোঁটে তিক্ত একটা হাসি ফুটে ওঠে। “তুমি তো আমারই ছিলে… তবুও আমার নও…”
চিত্রা তার কাছেই ছিল, তবু কখনো পুরোপুরি তার হলো না। কোথায় সে আর কোথায় চিত্রা! এই জাত-কুল মেনে ভালোবাসা কবে পৃথিবী থেকে যাবে?”
এই আফসোসটা সোহাগের বুকের ভেতর এখন পাথরের মতো জমে গেছে। বাইরে বৃষ্টির শব্দ বাড়ল হঠাৎ । সোহাগ চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করল, “যদি সময়টা আবার ফিরত…” কিন্তু সময় তো আর ফিরে আসে না। তবে হয়তো কেবল সোহাগ যে চায়, সময় ফিরে আসুক তেমন কিন্তু নয়। এই দুনিয়ার গল্পে তার মতো অসহায় নিয়ে নির্ঘুম রাত আরো অনেকেই পার করছে।
শহরের প্রান্তের পুরোনো কবরস্থানটা আজ ভিজে চুপচুপে। মৃত মানুষের বদলে এখানে কেউ নেই। তবে পুরোটা সত্য নয় হয়তো। একটা কবরের পাশে বসে আছে সোহান। তার শার্ট পুরো ভিজে গেছে। চুল থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু সে সেদিকে খেয়ালই করছে না। কবরের মাটির ওপর হাত রেখে চুপচাপ বসে আছে।
এটা তার মায়ের কবর। তার গলা ভারী হয়ে আসে।
“আম্মা… তুমি এমন কইরা চইলা গেলা কেন…?” বৃষ্টির ফোঁটা আর চোখের জল একসাথে মিশে যায়। একদিকে মাকে হারানোর যন্ত্রণা।
অন্যদিকে তার ভালোবাসা হারানোর অসহ্য শূন্যতা।
সে মাথা নিচু করে ফিসফিস করে, “আম্মা… আমি খুব ক্লান্ত… এই এক জীবনে আমার মতো পাপীর আফসোসের শেষ নাই, না রাখতে পারলাম তোমারে, আর না পারলাম চিত্রার ভালোবাসার যোগ্য হইতে। আমি বুঝি আম্মা এতই অযোগ্য? আমি আর পারতাছি না, আমারে মাটি নিয়া যায় না কেন?”
জায়নামাজের ওপর বসে আছে রুমানা। তাহাজ্জুদের নামাজ শেষ করে দু’হাত তুলে মুনাজাত করছে। তার কাঁধ কাঁপছে। চোখ দিয়ে অবিরাম পানি ঝরছে।
তার কণ্ঠ ভেঙে যায়। “খোদা… আমি অনেক ভুল করছি…” তার গলা আটকে আসে। “তুমি যদি ক্ষমা কইরা দাও… আর কিছু চাই না…” তার চোখ বন্ধ হয়ে আসে। তার জীবনে এখন আর কোনো চাওয়া নেই।
শুধু একটা ইচ্ছে। মৃত স্বামীর সাথে আবার দেখা করা।
সে কাঁদতে কাঁদতে বলল, “আমারে মাফ করে দাও…
আমাকে তার কাছে নিয়ে যাও…”
ওদিকে ওপর পাশের রুমে অবস্থিত জুনায়েদ এলাহীরও বুঝি একই দশা? তার চোখে ঘুম নেই। সে বসে আছে।
টেবিলের ওপর একটা পুরোনো ছবির ফ্রেম দেখছে।
তার স্ত্রী আর ছোট ছেলের ছবি। জুনায়েদ ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকে দীর্ঘক্ষণ। তার চোখ লাল হয়ে আছে। সে নামাজ পড়ে না, ধর্মের নিয়মও খুব মানে না।
তবু আজ তার বুকের ভেতর একই ফরিয়াদ। সে ধীরে ধীরে ছবিটা হাতে তুলে নেয়। কণ্ঠ ভেঙে যায়।
“তোরা ছাড়া এই জীবনটা… খুব ফাঁকা হয়ে গেছে… সব দোষ আমার। না হইতে পারলাম ভালা বাপ, না স্বামী। সবাই আমার জন্য শেষ হইছে। আমার পাপের ফল সব” তার ঠোঁট কাঁপে।
শেষ রাত। হঠাৎই ফারাজের ঘুম ভেঙে যায়।
সে কিছুক্ষণ চুপচাপ ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকল। চিত্রার পেটে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিলো। বাইরে টুপটাপ শব্দ—বৃষ্টি পড়ছে এখনও। ফারাজ ধীরে ধীরে উঠে বসল। বিছানার পাশ থেকে সিগারেটের প্যাকেটটা তুলে নিলো সে। নীরবে দরজা খুলে বারান্দায় এসে দাঁড়াল। বাইরে রাতের শহরটা ভিজে আছে। রাস্তার বাতির হলদেটে আলোয় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো চিকচিক করছে। দূরে কোথাও জমে থাকা পানিতে টুপটাপ শব্দ তুলছে বৃষ্টির শেষ দফা। ফারাজ রেলিংয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়ায়। প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে ঠোঁটে রাখে। লাইটারের আগুন জ্বলে ওঠে ক্ষণিকের জন্য। তার মুখটা মুহূর্তে আলোকিত হয়ে আবার অন্ধকারে ডুবে যায়। প্রথম টানটা নিয়ে সে ধোঁয়া ছেড়ে দেয় ধীরে।
ধোঁয়া আর বৃষ্টির কুয়াশা যেন এক হয়ে যায় রাতের ভেতর। ফারাজের চোখ তখন দূরে কোথাও আটকে আছে। কিন্তু সে আসলে কিছুই দেখছে না। তার দৃষ্টি পেরিয়ে গেছে এই ভেজা শহর, এই রাত, এই বারান্দা।
মনে পড়ছে অনেক কিছু। কিছু স্মৃতি বৃষ্টির মতোই, চাইলে থামে না। কিছু মানুষও ঠিক তেমনই চাইলে ভুলে থাকা যায় না। সে একবার চিত্রার দিকে তাকাল। তার হঠাৎ পেছনের একটা মনে পড়ে গেল। এখন তার কাছে অনেক হিসেব পরিষ্কার। সেদিন মনে আছে, রাজনকে অনুসরণে করে পতিতা পল্লীতে পৌছে গিয়েছিল চিত্রা। সেদিন চাইলে চিত্রা নিজেকে বাঁচাতে পারত। তার সেই ক্ষমতাও ছিল। তবে ইচ্ছে করে নিজেকে বিপদে ফেলার কারণ ছিল ফারাজ এলাহী৷ সে আসলে যাচাই করতে চেয়েছিল এই ফারাজ এলাহী তাকে কতখানি ভালোবাসে। আসলে ভালোবাসার জন্য মানুষ সব করতে পারে তাই? মরণের ভয় করে না, বিপদের ভয় করে না। সে সিগারেট ফেলতেই হঠাৎ পেছন থেকে উষ্ণ একটা দেহ তাকে জড়িয়ে ধরতেই সে বলে উঠল, “বিবিজান আমি তোমার ঘুম ভাঙিয়ে দিয়েছি?”
“উঁহু।”
“শরীর অসুস্থ লাগছে?” ফারাজ চিত্রার দিকে তাকাল। চিত্রা বলল, “উঁহু।”
“দেখো যদি কোনো অসুবিধা হয় অবশ্যই বলবে। আমায় এভাবে চিন্তায় রাখবে না। একেবারে সত্যি কথা বলবে।”
“আচ্ছা। আপনার সাথে আমার বিয়ের দেখতে দেখতে একবছর হয়ে গেছে। এই বাড়িতে যখন এসেছিলাম তখনও বৃষ্টির সিজন শুরু হয়েছিল। দেখতে দেখতে বছর ঘুরে আবার ভালোবাসা নিয়ে বৃষ্টি চলে এলো।”
“কত জলদি সময় কেটে গিয়েছে তাই না? বুঝতেই পারলাম না, বছর কখন এলো, কখন গেল।”
“প্রিয় মানুষের সঙ্গে জীবন কাটালে সময়ের হিসাব করা মুশকিল হয়ে যায়।”
ফারাজ চিত্রার কপালে একটা চুমু দিয়ে বলল, “খিদে পেয়েছে?”
“একটু।”
“ওয়েট তোমার জন্য হেলদি কিছু বানিয়ে আনি।”
“আচ্ছা, আর শুনুন আমার না আপনার ইয়ে খেতে মন চাচ্ছে।”
“কী!”
“আরে, কি জানি হ্যাঁ মনে পড়েছে ওইযে ফারাজ স্পেশাল পিরিতের খাবার। স্ট্রোবেরি উইথ কনডেন্স মিল্ক।”
“ওহ ওইটা? একটুর জন্য এলার্জি বাড়িয়ে আবার ডাউন করে দিলে। ছোটলোক বউ কোথাকার।”
ফারাজ নিচে যেতেই চিত্রা এবার আকাশের দিকে তাকালো। বৃষ্টি ছুঁয়ে দেখল। তারপর ভাবনায় চলে গেল। আজকে যেই সন্তান তার গর্ভে আছে হয়তো কখনো এই সন্তানকে চিত্রা বাঁচাতেই পারত না। বিয়ের শুরু থেকে রুমানা তাকে অনবরত খাবারের সাথে বাচ্চা নষ্টের ঔষধ দিয়ে গেছে। যদিও প্রথম যেদিন ঔষধ দিচ্ছিল ওইদিনই নদী তা দেখে ফেলে। এবং আড়ালে চিত্রাকে জানায়। চিত্রা বিষয়টা কাউকে বুঝতে দেয়নি। তারপর রুমানা প্রতিবার খাবার দিলেই চিত্রা তা গ্রহণ তো করত কিন্তু ফেলে দিতো। খেত না। এসব ফারাজকে জানানো ঠিক হবে না। রুমানা এখন ভালোর পথে এসেছে। শুধু শুধু অতীত ঘেঁটে লাভ নেই। চিত্রা আর রক্তপাত চায় না। রুমানার এই বিষয় জানতে পারলে নির্গাত তাকে ফারাজ জানে মেরেই ফেলবে। অন্তত সে এই একটা বিষয় না জানুক কখনো।
কিছুক্ষণ পর নিচতলা থেকে পায়ের শব্দ ভেসে এলো। সিঁড়ি বেয়ে ধীরে ধীরে উপরে উঠে আসে ফারাজ। হাতে একটা ছোট ট্রে। ট্রেতে একটা বাটিতে কাটা স্ট্রবেরি আর তার উপর ঘন সাদা কনডেন্স মিল্ক ঢেলে রেখেছে। বারান্দার দরজায় এসে দাঁড়িয়ে ফারাজ হালকা হাসল।
“এই যে, ফারাজ স্পেশাল পিরিতের খাবার হাজির।”
চিত্রা ঘুরে তাকাল। তার চোখে তখনও বৃষ্টির ছোঁয়া। চুলের গোছা একটু ভিজে কপালে লেগে আছে।
“সত্যি এনেছেন?” সে শিশুর মতো উচ্ছ্বাসে বলল।
ফারাজ ট্রেটা টেবিলে রেখে বলল, “ম্যাডাম অর্ডার করলে না এনে উপায় আছে?”
চিত্রা হেসে তার দিকে এগিয়ে এলো। বৃষ্টির হাওয়ায় তার গায়ের সাদা শার্টটা দুলছে। ফারাজ একটা স্ট্রবেরি তুলে কনডেন্স মিল্কে ডুবিয়ে চিত্রার সামনে ধরল। “মুখ খোলো।”
চিত্রা ভুরু কুঁচকে বলল,
“আমি নিজে খেতে পারি।”
“জানি। কিন্তু আমি খাওয়াতে চাই।”
চিত্রা একটু লজ্জা পেলেও শেষ পর্যন্ত মুখ খুলল। ফারাজ আলতো করে স্ট্রবেরিটা তার ঠোঁটের কাছে ধরল। চিত্রা কামড় দিতেই কনডেন্স মিল্কের একটু দাগ ঠোঁটের কোণে লেগে রইল। ফারাজ তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। চিত্রা অবাক হয়ে বলল,
“কি?”
ফারাজ মৃদু হেসে তার আঙুল দিয়ে সেই সাদা দাগটা মুছে দিল। “তুমি খাওয়ার থেকেও বেশি নোংরা করো।”
চিত্রা হালকা ধাক্কা দিল তাকে। “আপনি না একদম অসভ্য।”
ফারাজ কাছে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল, “শুধু তোমার জন্য।”
বাইরে তখনও টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছে। দূরের রাস্তার আলোয় ঝাপসা শহরটা যেন নরম হয়ে গেছে।
চিত্রা এবার একটা স্ট্রবেরি তুলে ফারাজের দিকে বাড়িয়ে দিল। “এইবার আপনার পালা।”
ফারাজ একটু এগিয়ে এলো। কিন্তু স্ট্রবেরিটা খাওয়ার বদলে সে চিত্রার হাতটাই ধরে ফেলল।
“হাত ঠান্ডা হয়ে গেছে তোমার,” সে ধীরে বলল।
চিত্রা মৃদু স্বরে বলল, “আপনি তো আছেন গরম করার জন্য।”
ফারাজ ধীরে ধীরে চিত্রাকে নিজের কাছে টেনে নিল। চিত্রার মাথাটা এসে ঠেকল তার বুকে। ফারাজ তার চুলে হাত বুলিয়ে দিল।
“জানো, মাঝে মাঝে খুব ভয় লাগে।”
চিত্রা মাথা তুলে তাকাল। “কিসের ভয়?”
“এত সুখ যদি একদিন হঠাৎ হারিয়ে যায়…”
চিত্রা তার ঠোঁটে আঙুল রাখল। “চুপ। খারাপ কথা বলবেন না।”
তারপর সে ধীরে ফারাজের কাঁধে মাথা রাখল।
“আপনি থাকলে কিছু হারাবে না।”
চিত্রাঙ্গনা পর্ব ৮৫
ফারাজ আলতো করে তার কপালে একটা দীর্ঘ চুমু দিল। বৃষ্টির ঠান্ডা হাওয়ার মাঝেও তাদের দুজনের শরীরের উষ্ণতা ধীরে ধীরে মিশে গেল। চিত্রা তার বাহুর ভেতরে আরও একটু গুটিয়ে এলো। ফারাজ তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। টেবিলে রাখা স্ট্রবেরির বাটিটা প্রায় ভুলেই গেল তারা। হঠাৎ ফারাজ আবছা অন্ধকারে চিত্রার দিকে তাকিয়ে হাস্কি কণ্ঠে বলল, “ওয়ানস মোর প্লিজ।”

ai porbe ato sukh porer porbe dekhbo abr ke jani mara gese😔
Porer porbo kobe asbe??
Happy Ending dio plsssss🙏🙏🙏