চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৩৪
আয়াত বিনতে নূর
ধরনীতে নতুন এক সকালের শুরু হলো—
যেন রাতের সমস্ত ক্লান্তি ধুয়ে-মুছে নিয়ে প্রকৃতি নিজেই নতুন করে শ্বাস নিচ্ছে। ঢাকা শহরের কোলাহল থেকে বহু দূরে অবস্থিত সেই নিরিবিলি বাড়িটি—Sky Angel—আজ ভোরে আরও বেশি স্বপ্নিল লাগছে। বিশাল জানালাগুলো দিয়ে ভোরের মিষ্টি রোদ ধীরে ধীরে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েছে। আলোটা ঠিক চোখে লাগে না, বরং ছুঁয়ে যায়—উষ্ণ, নরম, শান্ত।
কাল রাতের তুমুল ঝড়ের কথা মনে পড়লেই শরীরের ভেতর কেমন যেন শিহরণ জাগে। আকাশ ভেঙে পড়ার মতো বাতাস, জানালায় আছড়ে পড়া বৃষ্টি, চারপাশে এক অস্থিরতা। কিন্তু সেই ঝড়ের পর আজ সকালের আকাশ একদম পরিষ্কার—একফোঁটাও মেঘ নেই। নীল আকাশটা এতটাই স্বচ্ছ যে, মনে হয় জীবনের সব ভার যেন এই ভোরে এসে হালকা হয়ে গেছে।
নিশিতা ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকালো।
একবার, তারপর আরেকবার চোখ পিটপিট করলো—ঘুম আর জাগরণের মাঝামাঝি কোথাও দাঁড়িয়ে।
চারপাশটা অপরিচিত নয়, আবার পুরোপুরি চেনাও না। এই ঘরটা এখন তার কাছে শুধু একটা জায়গা নয়, বরং কিছু স্মৃতির নীরব আশ্রয়।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
সে উঠে বসতে চাইলো।
কিন্তু ঠিক তখনই অনুভব করলো—তার শরীরের উপর ভারী কোনো কিছুর ভর।
অস্বস্তিকর নয়, বরং অদ্ভুত রকম পরিচিত আর নিরাপদ। নিশিতা নিচে তাকালো।
দেখলো—ফারিস।
নিশিতাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তার বুকে মাথা রেখে গভীর ঘুমে ডুবে আছে সে। ফারিসের এক হাত নিশিতার কোমরের চারপাশে, আরেক হাত যেন অনিচ্ছায়ই তাকে কাছে টেনে রেখেছে।
তার নিঃশ্বাসগুলো ধীর, গভীর—প্রতিটা শ্বাসে যেন একরাশ নিশ্চিন্ততা। এই মানুষটা ঘুমের মাঝেও ছাড়তে চায় না—এই উপলব্ধিটাই নিশিতার ঠোঁটে একফোঁটা মুচকি হাসি এনে দিলো।
ফারিসের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলো সে।
ঘুমন্ত মুখটা এতটা শান্ত, এতটা নির্ভার যে, নিশিতার বুকের ভেতর কোথাও একটা নরম অনুভূতি জন্ম নিলো।
যে মানুষটা জেগে থাকলে এতটা দৃঢ়, এতটা সংযত—ঘুমের মাঝে সে যেন একেবারেই আলাদা।
কোনো কঠোরতা নেই, কোনো আড়াল নেই—শুধু নির্ভরতার ছায়া। নিশিতা খুব সাবধানে হাত তুললো। আলতো করে ফারিসের চুলে আঙুল বুলিয়ে দিলো।
চুলগুলো একটু এলোমেলো, তবু তার মধ্যেও কেমন একটা স্বাভাবিক সৌন্দর্য।
ফারিস সামান্য নড়লো, কিন্তু জেগে উঠলো না।
বরং নিশিতাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো—অজান্তেই।
নিশিতা নিশ্বাস আটকে ফেললো এক মুহূর্তের জন্য।
এই আলিঙ্গনে কোনো দাবি নেই, কোনো তাড়াহুড়ো নেই—শুধু থাকা। একসাথে থাকা।
জানালার বাইরে পাখিরা ডাকছে। নতুন দিনের গান। রোদের আলো ধীরে ধীরে বিছানার চাদরের উপর ছড়িয়ে পড়ছে, ফারিসের কাঁধ ছুঁয়ে নিশিতার মুখে এসে থামছে। এই আলোয় সবকিছু এত বাস্তব, এত জীবন্ত লাগছে যে নিশিতার মনে হলো—এই মুহূর্তটা যদি থেমে যেত! তার মনে পড়লো গত রাতের কথা। ঝড়, অন্ধকার, ভয়—সবকিছুর মধ্যেও ফারিস ছিল। ঠিক যেমন এখন আছে।
নিশিতা মনে মনে ভাবলো— জীবনেও কি এমন না?
ঝড় আসে, অন্ধকার নামে, সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়।
কিন্তু ঝড়ের পরই তো আসে এমন এক সকাল,
যেখানে আলো থাকে, শান্তি থাকে,
আর থাকে এমন একজন—যার বুকের উপর মাথা রাখলে দুনিয়ার সব ভয় তুচ্ছ হয়ে যায়।
নিশিতা আর উঠে বসলো না।
বরং নিজেকে আরও একটু ফারিসের কাছে টেনে নিলো। চোখ বন্ধ করলো আবার।
নিশিতা এবার সত্যিই ফারিসকে সরাতে চাইলো।
আলতো করে না—একটু জোর করেই।
কিন্তু ফারিস যেন সেই চেষ্টা টের পেয়ে আরও শক্ত করে তাকে জড়িয়ে ধরলো। ঘুমের মাঝেই তার হাত নিশিতার কোমর চেপে ধরলো, মাথাটা আরও গভীরভাবে বুকে গুঁজে দিলো। নিশিতা বিরক্ত হয়ে গেলো। এই মানুষটার সাথে পেরে ওঠা সত্যিই দায়!
সে আবার নড়াচড়া করলো, এবার একটু বেশি অস্থিরভাবে। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হলো না।
বরং ফারিস যেন ইচ্ছে করেই তাকে ছাড়ছে না।
নিশিতা এবার পুরোপুরি ঝামেলায় পড়ে গেলো।
তার মাথার ভেতর একের পর এক চিন্তা ভিড় করতে লাগলো।
কাল রাত—বাড়ি ফেরা হয়নি।
ফোন—চার্জ শেষ। বাড়ির মানুষ—মা, বড় আম্মু, সবাই নিশ্চয়ই চিন্তায় অস্থির।
“এখন বাড়ি গিয়ে কী বলবো?”
এই প্রশ্নটাই তার মাথার ভেতর ঘুরপাক খেতে লাগলো। আর সহ্য হলো না।
নিশিতা হঠাৎ করেই জোরে ফারিসকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো। ফারিস আধো ঘুমে একটু নড়ে উঠলো, কিন্তু নিশিতা আর দেরি করলো না।
তাড়াহুড়ো করে নিজে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালো।
ঘরের ভেতরটা তখন পুরোপুরি আলোয় ভরে গেছে। ভোর পেরিয়ে সকাল।
নিশিতা তখনই খেয়াল করলো—তার গায়ে কী আছে। ফারিসের কালো রঙের শার্ট।
শার্টটা এত বড় যে তার হাঁটু পর্যন্ত এসে ঠেকেছে।
তবু নিশিতার অস্বস্তি কাটছে না।
সে অস্থিরভাবে শার্টটা আরও নিচে টেনে নামানোর চেষ্টা করতে লাগলো। একবার ডান দিক, একবার বাম দিক— যেন কোনোভাবে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার মরিয়া চেষ্টা। ঠিক তখনই বিছানায় শুয়ে থাকা ফারিস চোখ মেলে তাকালো। নিশিতাকে এই অবস্থায় দেখে তার ঠোঁটের কোণে একটা দুষ্টু হাসি ফুটে উঠলো। সে মুখ টিপে হাসলো—একটু চাপা, একটু কৌতুকপূর্ণ।
তারপর বিরক্তির ভান করে বলল—
“সমস্যা কি তোর?”
“শান্তিতে ঘুমাতেও দিস না আমাকে!”
ফারিসের গলায় ঘুমঘুম ভাব, কিন্তু হাসিটা লুকানো যাচ্ছে না। নিশিতা এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেলো।
এমন কথার জন্য সে একেবারেই প্রস্তুত ছিল না।
তারপর চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রেগে উঠলো।
রাগটা মুখে না এনে পারলো না। নিশিতা জোর দিয়ে বলল—
“৭টা বেজে গেছে!” “দেখেছেন আপনি?”
তার কণ্ঠে স্পষ্ট আতঙ্ক আর বিরক্তি।
“কাল আমরা বাড়ি ফিরিনি,” “বাড়ির সবাই হয়তো ভীষণ চিন্তা করছে!” “এখন আমি বাড়ি গিয়ে কী বলবো, বলুন তো?”
শেষ কথাটায় নিশিতার গলা একটু কেঁপে উঠলো।
চিন্তাটা যেন এবার সত্যিই তাকে চেপে ধরেছে।
ফারিস ধীরে ধীরে উঠে বসলো। বিছানার
হেডবোর্ডে হেলান দিয়ে আরাম করে বসে নিশিতার দিকে তাকালো।
তার চোখে একটুও তাড়াহুড়ো নেই—বরং অদ্ভুত রকমের শান্ত ভাব। ফারিস হালকা হেসে বলল—
“এত টেনশন কিসের?”
নিশিতা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।
ফারিস আবার বলল—
“আমি আছি না?” “সব কিছুর জবাব আমি দেবো।”
নিশিতা তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ করলো—
“না না! সব জায়গায় আপনি থাকবেন—এটা হয় না।” “এটা আমার ব্যাপার।”
ফারিস এবার একটু সিরিয়াস হলো।
বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে নিশিতার সামনে এসে থামলো। তার উচ্চতায় নিশিতা এমনিতেই একটু পিছিয়ে গেলো।
ফারিস গম্ভীর গলায় বলল—
“তুই আমার দায়িত্ব।”
“আর তুই একা না—এটা ভুলে যাস না।”
কথাগুলো কঠিন না, কিন্তু ভারী।
নিশিতার বুকের ভেতর কেমন যেন একটা অজানা অনুভূতি ঢেউ খেলিয়ে গেলো। সে কিছু বলতে চাইলো, কিন্তু শব্দ খুঁজে পেলো না। ফারিস কথাটা বলেই আবার গড়িয়ে শুয়ে পড়লো। এক হাত বালিশের নিচে, আরেক হাত কপালের ওপর ছুঁড়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করল— যেন দুনিয়ার কোনো ঝামেলাই তার নয়।
“ওসব আমি সামলে নিবো,”
ঘুমঘুম গলায় কথাটা ছুড়ে দিয়ে বলল ফারিস,
“তুই চিন্তা করিস না।”
এই বলেই সে আবার আরাম করে ঘুমিয়ে পড়লো।
নিশিতা কয়েক সেকেন্ড নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইলো।
বিশ্বাসই করতে পারছিল না— এই মানুষটা এতটা নিশ্চিন্ত কীভাবে থাকতে পারে! সে ফারিসের দিকে তাকিয়ে রইলো। ঘুমন্ত মুখটা এখনো আগের মতোই শান্ত, মনে হচ্ছে পৃথিবীর সব সমস্যার সমাধান যেন তার কাছে খুব সহজ।
আর ঠিক তখনই— বেড সাইডে রাখা ফোনটা হঠাৎ বেজে উঠলো।নিশিতার শরীরটা কেঁপে উঠলো। হৃদপিণ্ডটা যেন এক লাফে বুকের ভেতর উঠে এলো।সে ধীরে ধীরে ফোনটার দিকে এগিয়ে গেলো। স্ক্রিনের দিকে তাকাতেই চোখে ভেসে উঠলো—
“আম্মু”
নিশিতা কাঁপা কাঁপা হাতে আবারও ফোনটা তুলে নিলো।হৃদপিণ্ডটা যেন বুকের ভেতর ধাক্কাধাক্কি করছে। একটা গভীর শ্বাস নিয়ে কলটা রিসিভ করলো।
“হ্যালো…”
রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে পরিচিত অথচ কর্তৃত্বপূর্ণ গলা ভেসে এলো—
“ফোন রিসিভ করতে এতো সময় লাগে কেন তোর, নিশি?”
আমেনা চৌধুরীর কণ্ঠে ছিল হালকা বিরক্তি, তার সাথে চাপা উদ্বেগ।নিশিতা গিলে ফেললো শুকনো ঢোক।নিজেকে সামলে নিয়ে বলল—
“আসলে আম্মু… আমি ফোনের কাছে ছিলাম না, তাই দেরি হয়ে গেছে। সরি।”
এক মুহূর্ত নীরবতা।
তারপর আমেনা চৌধুরী বললেন—
“আচ্ছা, এসব বাদ দে।” “তুই রেডি হয়ে থাকিস।”
“ফারিস তোকে অহনার বাড়ি থেকে নিয়ে আসবে।”
এই কথা শুনে নিশিতার চোখ বড় হয়ে গেলো।
মাথার ভেতর যেন একটা বাজ পড়ে গেলো আমেনা চৌধুরী আবার বলতে লাগলেন—
“বলে যাবি তো তুই অহনার বাড়ি গেছিস?”
“আমি তো চিন্তায় ছিলাম, তারপর রিয়া আমাকে বলল…”
এইটুকু শুনেই নিশিতা পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে গেলো।
এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো—সব শেষ! কিন্তু পরক্ষণেই তার মাথায় আরেকটা ভাব এলো।
যাক… রিয়া বাঁচিয়ে দিয়েছে।এক অদ্ভুত স্বস্তির নিশ্বাস বের হলো তার বুক থেকে। নিশিতা সাবধানে বলল—
“ফারিস ভাই কী করে নিতে আসবে আমাকে?”
“ওনি জানে আমি অহনাদের বাসায়?”
ওপাশ থেকে আমেনা চৌধুরী হেসে বললেন—
“আরে পাগলি!” “ফারিসও তো রাতে বাড়ি ফেরেনি।”
এই কথায় নিশিতার কপাল আবার কুঁচকে গেলো।
আমেনা চৌধুরী বলতে থাকলেন—
“ও অফিসে ছিল সারারাত।” “বাড়িতেও এখন কেউ নেই।” “তোর বাবা সিলেট গেছেন।”
“আর তোর বড় আম্মু, আর বড় আব্বু—ওরা সবাই বাবা আর শ্বশুরবাড়ি গেছে।”
একটু থেমে আবার বললেন—
“বাড়িতে এখন আমি, রিয়া আর রাজীব আছি।”
“ফারিস অফিস থেকে ফেরার পথে তোকে নিয়ে আসবে।”
নিশিতা চুপচাপ শুনে যাচ্ছিল।আমেনা চৌধুরী শেষ করলেন—
“ও আমাকে রাতে কল করে বলেছে, তুই নাকি অহনাদের বাসায় থাকবি।” “আর ও তোকে ফেরার সময় নিয়ে আসবে।” “তাই আমি আর চিন্তা করিনি।”
একটু নরম গলায় বললেন —
“আচ্ছা, এখন রাখি।” “তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আয়।”
কলটা কেটে গেলো। নিশিতা ফোনটা নামিয়ে ধরে কিছুক্ষণ নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইলো। মাথার ভেতর ঝড় বইছে। আবারও আবাক। এই লোকটা—সব কিছু আগে থেকেই ম্যানেজ করে রেখেছে! সে নিজের অজান্তেই বিড়বিড় করে উঠলো—
“এই লোকটা এত চিন্তা ধরাতে পারে না!” “একবার আমাকে বললে কি হতো এসব?” “তাহলে তো আমি এতো প্যানিক করতাম না!”
তারপর ধীরে ধীরে ঘুমন্ত ফারিসের দিকে তাকালো।
লোকটা আরামে ঘুমাচ্ছে, যেন দুনিয়ায় কোনো দায়িত্বই নেই। নিশিতা বিরক্তি মেশানো গলায়
বলল—
“আমার ঘুম হারাম করে নিজে ঘুমাচ্ছে আরামে।”
“বাহ বাহ!”
এই বলে সে ফোনটা রেখে দিলো। আর দেরি না করে ক্লজেটের দিকে এগিয়ে গেলো। টাওয়াল আর মেরুন রঙের একটা থ্রি-পিস বের করলো।
কাপড়টা দেখে একটু থামলো— গভীর মেরুন রঙ, সাদামাটা কিন্তু পরিপাটি। তারপর ওয়াশরুমে ঢুকে দরজা আটকে দিলো। শাওয়ারের নিচে গিয়ে দাঁড়িয়ে এক ঘোরের মধ্যে শাওয়ার ছেড়ে দিলো।
ঠান্ডা পানি মাথার উপর পড়তেই শরীর কেঁপে উঠলো। ধীরে ধীরে গত রাতের ক্লান্তি,
না-ঘুমে কাটা সময়ের ধোঁয়াশা, মনের ভেতরের ভয় আর অস্থিরতা— সব যেন পানির সাথে গড়িয়ে যেতে লাগলো।
সে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকলো।
পানির শব্দের ভেতর নিজের নিঃশ্বাস শুনতে পেলো। বেশ কিছুক্ষণ পর শাওয়ার বন্ধ করে বের হলো সে। ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে সরাসরি আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। টাওয়াল দিয়ে প্যাঁচানো চুলগুলো খুলে ফেললো। চুলগুলো খুব ঘন। ভিজে থাকার কারণে পানি টপটপ করে মেঝেতে পড়ছে। নিশিতা ধীরে ধীরে টাওয়াল দিয়ে চুল মুছতে লাগলো। তারপর সব চুল এক পাশে এনে এক ঝাড়া দিলো।
ঠিক তখনই— কয়েক ফোঁটা পানি গিয়ে পড়লো বিছানায় শুয়ে থাকা ফারিসের মুখে। ফারিস সঙ্গে সঙ্গে চোখ কুঁচকে তাকালো। ঘুম ভাঙা বিরক্তি নিয়ে প্রথমে তাকালেও—
পরের মুহূর্তেই সে নিশিতাকে দেখতে পেলো।
ভেজা চুল, হালকা ভেজা মুখ,মেরুন থ্রি-পিসের কাপড় হাতে ধরা—পুরো দৃশ্যটাই যেন অন্যরকম।
ফারিস উঠে বসলো না।শুধু বালিশে হেলান দিয়ে
নিশিতার দিকে তাকিয়ে রইলো। তার চোখে বিরক্তি নেই। আছে একধরনের মুগ্ধতা। নিশিতা সেটা টের পেয়ে থেমে গেলো। চোখাচোখি হলো দুজনের।
এক মুহূর্ত— কেউ কিছু বললো না।
ঘরের ভেতর তখন শুধু ভেজা চুল থেকে পড়া পানির শব্দ আর দু’জন মানুষের নিঃশ্বাস।
ফারিস ধীরে ধীরে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালো।
ঘরের ভেতর তখনো সকালের নরম আলো ছড়িয়ে আছে। নিশিতা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একমনোযোগে নিজের ভেজা চুল মুছছিল—এতটাই মনোযোগী যে পিছনে কী হচ্ছে, সেটা খেয়ালই করলো না। কিন্তু তবু… কেমন একটা অনুভূতি তার ভেতর দিয়ে বয়ে গেল। সে বুঝতে পারলো—ফারিস তার দিকে এগিয়ে আসছে।
নিশিতা কিছু বললো না। চোখ তুলে তাকালো না।
শুধু আগের মতোই চুল মুছতে থাকলো, যেন কিছুই টের পায়নি।
ফারিস নিঃশব্দে তার পেছনে এসে দাঁড়ালো।
এক মুহূর্ত দেরি করলো— তারপর হঠাৎ করেই পিছন থেকে নিশিতাকে জড়িয়ে ধরলো। নিশিতা একটু হকচকিয়ে উঠলো। শরীরটা কেঁপে উঠলো হালকা করে। কিন্তু পরক্ষণেই ফারিসকে চিনে শান্ত হয়ে গেলো। ফারিস তার মুখটা নিশিতার ভেজা চুলে গুঁজে দিলো। চুল থেকে আসা শ্যাম্পুর হালকা গন্ধ, ভেজা চুলের ঠান্ডা স্পর্শ—সব মিলিয়ে তার কণ্ঠটা নেশা-নেশা হয়ে উঠলো।
সে নিচু স্বরে বলল—
“সকাল সকাল নেশা ধরিয়ে দিলি, বেইবি…”
একটু থেমে বলল —
“এখন কী করবো আমি?” “তোকে খুব আদর করতে ইচ্ছে করছে।”
নিশিতা কথাগুলো শুনে মুখ টিপে হাসলো।
কিন্তু হাসিটা বেশিক্ষণ টিকতে দিলো না।
নিজেকে সামলে নিয়ে রাগী রাগী ভাব ধরলো।
সে বলল—
“বাড়ি ফিরতে হবে।”“আম্মু কল করছিলো।”
“তাড়াতাড়ি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিন, আর গায়ে কিছু পড়ুন।”
তার চোখ ফারিসের দিকে গেলো। তারপর একটু চোখ কুঁচকে বলল —
“এভাবে শর্ট-ট্রাউজার না পড়ে।”
ফারিস হাসলো। হাসিটা ছিল দুষ্টু, আত্মবিশ্বাসী।
সে টাওয়াল তুলে নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে পিছনে ফিরে চোখ টিপ মেরে বলল—
“বউয়ের সামনে এসব পড়ে কোনো লাভ নেই, বেবি।”“তোর সামনে আমি যেমন খুশি তেমনই থাকবো।”
এই বলে সে ওয়াশরুমে ঢুকে দরজা আটকে দিলো।
নিশিতা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলো। মাথাটা হালকা ঝিমঝিম করছে।
“এই মানুষটা…!”
সে মনে মনে বিড়বিড় করলো। ফারিস যে ওর সাথে এমন খোলাখুলি ফ্লার্ট করতে পারে—এটা এখনো নিশিতার বিশ্বাস হতে চাইছে না।
মুখে কিছু না বললেও, বুকের ভেতর অদ্ভুত এক অনুভূতি নড়েচড়ে বসলো। আর বেশি ভাবলো না সে। চুলগুলো খুলেই ওড়না হাতে নিলো।
ধীরে ধীরে নিচে, কিচেনের দিকে চলে গেলো।
কিচেনে ঢুকেই এক নজরে চারপাশটা দেখলো।
সবকিছু পরিপাটি, কিন্তু খুব একটা বদল চোখে পড়লো না।
যেন ঘরটা এখনো ঘুম থেকে পুরোপুরি জাগেনি।
নিশিতা দেরি না করে ব্রেড টোস্ট করতে দিলো।
এরপর ফ্রিজ খুলে ভেতরে তাকাতেই তার চোখ চকচক করে উঠলো। ফ্রেশ স্ট্রবেরি।
আর… নিউটেলা। এই দুটোই তার ভীষণ পছন্দ।
মুখে অজান্তেই একটা ছোট্ট হাসি ফুটে উঠলো।
সে তাড়াতাড়ি ফ্রিজ থেকে দুটোই বের করলো।
নিউটেলার বয়ামের ঢাকনা খুলে একদম বাচ্চাদের মতো আঙুল ঢুকিয়ে একটু তুলে নিলো আর সরাসরি মুখে পুরে দিলো। মুহূর্তেই তার চোখ দুটো আধবোজা হয়ে এলো। মুখে এমন একটা এক্সপ্রেশন ফুটে উঠলো— যেন এটা শুধু চকলেট না, যেন অমৃত!
নিশিতা নিজেই ফিসফিস করে বলল—
“ইশশ…!”
কিচেনের নীরব সকালে একটা ছোট্ট, চুরি করা সুখের মুহূর্ত। উপরে ওয়াশরুমে পানি পড়ার শব্দ,
আর নিচে নিশিতার ঠোঁটে লেগে থাকা নিউটেলার মিষ্টি স্বাদ— সব মিলিয়ে এই সকালটা ধীরে ধীরে অন্য রকম হয়ে গেলো।
নিশিতা ধীরে ধীরে কেবিনেটের ওপর উঠে বসলো।
একদম বাচ্চাদের মতো—পা দুটো গুটিয়ে, হাঁটু বুকের কাছে টেনে। মনে হলো যেন এই জায়গাটাই এখন তার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। নিউটেলার কৌটাটা কোলে নিয়ে একেবারে আপন মনে খেতে শুরু করলো।
কোনো তাড়া নেই, কোনো ভয় নেই—
শুধু নিজের পছন্দের স্বাদ আর এই নীরব সকাল।
ঠিক তখনই ফারিস নিচে নেমে এসে কিচেনে ঢুকলো। প্রথমে ফারিস থমকে গেলো।চোখের সামনে যে দৃশ্যটা দেখলো— নিশিতা আরামে কেবিনেটের ওপর বসে, মুখে নিউটেলা, চোখে প্রশান্তি— দৃশ্যটা যতটা কিউট, ততটাই বিরক্তিকর তার কাছে। নিশিতা একদমই খেয়াল করলো না যে ফারিস এসেছে।
একধ্যানে সে তার প্রিয় নিউটেলা খেয়ে যাচ্ছিল।
ফারিস এগিয়ে গিয়ে হঠাৎই বিরক্ত হয়ে উঠলো।
এক টানে নিশিতার হাত থেকে কৌটাটা কেড়ে নিলো।
“এই!”
নিশিতা চমকে তাকালো। তারপর ঠিক বাচ্চাদের মতো মুখ ফুলিয়ে রইলো। চোখে স্পষ্ট অভিযোগ—
আমার জিনিস কে নিলো! ফারিস কৌটাটা পাশে রেখে নিশিতার দিকে তাকিয়ে গভীর নিঃশ্বাস ফেললো। সে এগিয়ে এসে নিশিতাকে কেবিনেট থেকে নামিয়ে দাঁড় করালো। তারপর কোমর চেপে ধরে নিজের সাথে টেনে নিলো।
নিচু কিন্তু দৃঢ় গলায় বলল—
“এগুলো সব তোর জন্যই এনেছি।” “কিন্তু তাই বলে সকাল করে খালি পেটে এসব খাবি?” “শরীর খারাপ হবে না?”
নিশিতা তখনো মুখ ফুলিয়ে রেখেছে। একটাও কথা বললো না। ফারিস এক হাত দিয়ে নিশিতার চিবুক ধরে মুখটা উপরে তুললো।
“নিজে এত মিষ্টি খেলি,”
হালকা হাসি নিয়ে বলল,
“আমাকেও একটু দে।”
নিশিতা কিছু বলতে যাবে— ঠিক তখনই—
ফারিস ঝুঁকে এসে নিশিতার ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো। নিশিতা একেবারে হতভম্ব!
হঠাৎ এমন আক্রমণে সে ফারিসের বুকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করলো।
“ছাড়ুন!” “এই! কী করছেন!”
কিন্তু ফারিস এক সেকেন্ডের জন্যও ছাড়লো না।
বরং আরও শক্ত করে ধরে রাখলো।
কিছুক্ষণ পর নিশিতার ঠোঁটের কোনে লেগে থাকা চকলেটটুকু নিজের ঠোঁট দিয়ে তুলে নিলো।
তারপর ধীরে ধীরে নিশিতাকে ছেড়ে দিয়ে বলল—
“এটা তো অনেক মিষ্টি।”
চোখে দুষ্টু হাসি।
“এই রকম মিষ্টি রোজ খেতে চাই।” “বউ, না করবি না।”
নিশিতা ছাড়া পেয়ে হাঁপাতে শুরু করলো।
গাল দুটো লাল হয়ে উঠেছে। রাগ আর লজ্জা—দুটোই একসাথে। সে ঘুরে চলে যেতে চাইলো।
ঠিক তখনই ফারিস গম্ভীর কণ্ঠে বলল—
“দাঁড়া।” “কোথাও যাবি না।”
নিশিতা থেমে গেলো।
ফারিস একটু নরম গলায় বলে উঠলো —
“তোর ভালোর জন্যই বকেছি।” “তাড়াতাড়ি ব্রেকফাস্ট কর।” “বাড়িও যেতে হবে…”
একটু থেমে বলল—
“আমাদের।”
নিশিতা ধীরে বলল—
“আমি তো কিছু বানাতে পারি না।” “শুধু ব্রেড টোস্ট ছাড়া।”
ফারিস তার হাত ধরে টান মেরে নিজের কাছে এনে
বুকের সাথে চেপে ধরলো।
“তোকে দিয়ে কাজ করানোর জন্য বিয়ে করিনি,”
স্পষ্ট কণ্ঠে বলল ফারিস ।
“তোর হাসবেন্ড রান্না করতে জানে।” “তোকে কিছুই করতে হবে না।”
নিশিতা চোখ তুলে তাকিয়ে বলল—
“তাহলে কেন বিয়ে করলেন?”
ফারিস নিশিতার গলায় মুখ গুঁজে দিলো।
তার কণ্ঠটা নরম হয়ে এলো।
“ভালোবাসার জন্য।” “আদর করার জন্য।”
“আর…”
একটু থেমে ফিসফিস করে বলল—
“আমার বাচ্চার মা বানানোর জন্য।” “তোর এতটুকুই কাজ।”
এই বলে একের পর এক ছোট ছোট চুমু একে দিলো। নিশিতার বুকের ভেতর কেমন করে উঠলো।
সে লজ্জা পেলো— কিন্তু সেটা প্রকাশ করলো না।
ফারিস এবার তাকে ছেড়ে দিয়ে নিজের শার্টের হাতা গুটিয়ে নিলো। তারপর কিচেনে ঘুরে দাঁড়িয়ে
ব্রেকফাস্ট বানাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। কাজের মাঝেই বলল—
“চুপচাপ গিয়ে বস।” “এখানে থাকলে ঘেমে যাবি।”
“ড্রয়িং রুমে গিয়ে বস।” “আমি আসছি।”
নিশিতা প্রথমে যেতে চাইলো না। কিন্তু ফারিসের জোরাজোরিতে শেষমেশ ড্রয়িং রুমে গিয়ে
সোফায় বসলো। কিচেন থেকে ভেসে আসা রান্নার শব্দ, আর ড্রয়িং রুমে বসে নিশিতার মনের ভেতর
একটাই অনুভূতি— এই মানুষটা যতই দাপুটে হোক,
তার যত্নটা ঠিক ততটাই গভীর।
নিশিতা ড্রয়িং রুমে একা বসে থাকতে থাকতে একটু বোর হয়ে গেলো। ঘড়ির কাঁটা তখন সকাল আটটা ছুঁইছুঁই। চারপাশে হালকা রোদে ঘরটা যেন সোনালী আলোয় ঝলমল করছে। এই নরম সকালটা আরও সুন্দর লাগতো— যদি কেউ পাশে থাকতো, কথা বলার মতো। তাই ভাবলো, টিভি দেখা যাক না হয়। যেই ভাবা সেই কাজ।
রিমোট হাতে নিয়ে টিভি অন করলো।
চ্যানেল বদলাতে বদলাতে নিউজ, ড্রামা, মিউজিক—সব ঘুরে শেষে
একটা কার্টুন চ্যানেলে গিয়ে থেমে গেলো।
সেখানে টম-জেরি একে অন্যের পেছনে ছুটছে।
নিশিতার মুখে অজান্তেই একচিলতে হাসি খেলে গেলো। তার চোখে তখন নির্দোষ একটা শিশুসুলভ উচ্ছ্বাস— যেন এই পৃথিবীতে কোনো চিন্তাই নেই।
এদিকে কিচেনে ফারিস ঠিক তখনই ব্রেকফাস্ট শেষ করেছে। পরিপাটি করে দুইটা প্লেট সাজিয়েছে— টোস্ট, স্ক্র্যাম্বলড এগ, তাজা স্ট্রবেরি আর পাশে এক কাপ কফি। আরেক পাশে তার নিজের কফি মগ। হাসতে হাসতে ট্রে হাতে নিয়ে ড্রয়িং রুমের দিকে এগিয়ে এলো। ড্রয়িং রুমে ঢুকেই থমকে গেলো ফারিস।
সামনে দৃশ্যটা এমন— তার স্ত্রী, মেরুন রঙের ড্রেসে, কুশনে আধশোয়া হয়ে একদম বাচ্চাদের মতো মন দিয়ে কার্টুন দেখছে। চোখে একটুখানি উজ্জ্বলতা, ঠোঁটে হালকা হাসি, আর হাতে রিমোটটা শক্ত করে ধরা। ফারিস চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে ধীরে ধীরে মাথা নেড়ে হেসে উঠলো।
“হায় আল্লাহ,”
নিজের মনে বিড়বিড় করে বলল,
“আমার বউ যে পিচ্চি বউ, সেটা জানতাম…”
“কিন্তু এতোটা পিচ্চি ভাবিনি!”
তারপর একটু থেমে আবার বলল,
“আমি এখন চিন্তায় আছি—আমার বাচ্চা সামলাবো, না আমার বউকে?”
তার গলায় মজা, চোখে ভালোবাসা।
নিশিতা তখনও টেরই পায়নি ফারিস এসে দাঁড়িয়ে আছে।ফারিস নিঃশব্দে তার পাশে গিয়ে ট্রেটা রাখলো টেবিলের ওপর। তারপর নিঃশব্দে বসে পড়লো পাশে। নিশিতা চমকে উঠলো,
“ওফ! আপনি কবে এলেন?”
ফারিস হেসে উত্তর দিলো,
“যখন তুমি টম আর জেরির ঝগড়া মীমাংসা করছিলে।”
নিশিতা মুখে হালকা লজ্জার ছায়া
টেনে নিয়ে বলল,
“আমি এমনি… বোর হচ্ছিলাম।”
“যেমন আছিস, তেমন থাক,”
ফারিস হেসে বলল,
“কারণ এই রকম বোর হবার সময়েই তুই সবচেয়ে কিউট লাগিস।”
নিশিতা লজ্জায় নিচের দিকে তাকালো,
কিন্তু তার ঠোঁটের কোণে হাসি লুকাতে পারলো না।
ফারিস খাবার সামনে এগিয়ে দিলো,
“এই নে, আগে খেয়ে ফেল। তারপর বাড়ি ফিরতে হবে।”
নিশিতা তেমন কিছু না বলে শান্তভাবে খেতে শুরু করলো। তার মুখের ভঙ্গিটা এত মিষ্টি—
ফারিস চুপচাপ তাকিয়ে রইলো অনেকক্ষণ।
ফারিসও অল্প কিছু খেলো, তারপর ঘড়ি দেখে উঠে বলল,
“চল, এখন রওনা দিতে হবে।
দেরি হলে তোর আম্মু চিন্তা করবে।”
দুজনেই ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগিয়ে গেলো।
বাইরে সূর্যের আলোটা তখন ঠিক উষ্ণ আর কোমল। বাতাসে হালকা গন্ধ—ভেজা মাটির, সকালবেলার চায়ের। গাড়িতে উঠে ফারিস ইঞ্জিন অন করলো। নিশিতা জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রইলো— দূরে গাছের ফাঁক দিয়ে আকাশটাকে দেখা যায়, আজ অনেক উজ্জ্বল, অনেক শান্ত।
ফারিস গাড়ি চালাতে চালাতে একবার তাকালো নিশিতার দিকে— তার চুলগুলো হাওয়ায় উড়ছে, মুখে একটুখানি হাসি, আর চোখে মিশে আছে অদ্ভুত এক প্রশান্তি।
চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৩৩
“তুই এমন থাকলে,”
ফারিস মনে মনে ভাবলো,
“এই পৃথিবীর ঝড়ও আমার কিচ্ছু করতে পারবে না।”
গাড়ি ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছিলো চৌধুরী বাড়ির উদ্দেশ্যে। রাস্তার দু’পাশে সারি সারি গাছ, ভোরের রোদের আলো পাতার ফাঁক গলে পড়ছে।
রাতের ঝড়ের কোনো চিহ্ন নেই—সবকিছু ধুয়ে-মুছে যেন নতুন হয়ে উঠেছে। গাড়ির ভেতর নরম এক নীরবতা। ইঞ্জিনের মৃদু শব্দ পরিবেশটা যেনো আরও মনরোম হয়ে উঠেছে…..
