Home চোখের আড়ালে ভালোবাসি চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৩৫

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৩৫

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৩৫
আয়াত বিনতে নূর

এদিকে চৌধুরী বাড়ির ড্রয়িং রুমে সবাই বসে আছে। কেউ কোনো কথা বলছে না, কেউ হাসছে না, কেউ চিৎকার করছে না। এক অদ্ভুত নিরবতা ভর করেছে চারপাশে।বাড়িটা ফাকা ফাকা, যেন নিঃশব্দের ছায়া দেয়ার জন্যই তৈরি।টেবিলে বসে রিয়া চামচ দিয়ে ভাত ঘুরাচ্ছে, কিন্তু তার মন নেই খাওয়ায়।মনের অন্ধকারে ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই বিষয়—ফারিস আর নিশিতার ঘটনাটা।
রিয়া বিরক্ত, বিভ্রান্ত এবং হতবাক—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত উত্তেজনা।

“এই আচরণগুলো কি শুধু বোনের প্রতি দায়িত্বের পরিচয়, নাকি এর পিছনে আরও কিছু আছে?”—
মনেই বারবার প্রশ্ন জাগছে। যদি কিছু ঘটে থাকে, তাহলে কেন রিয়াকে জানানো হলো না?
নিশিতার প্রতি রিয়ার কোনো ক্ষতি নেই। তারপরও কেন কিছু লুকানো হচ্ছে? কেন নিশিতা এমন আচরণ করছে?
এই প্রশ্নগুলো রিয়ার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। আর সত্যিই, গত কয়েকদিন ধরে নিশিতার বদলে যাওয়া আচরণ সবার নজর কাড়ছে। সে এখন আর আগের মতো খোলামেলা নয়।কারও সঙ্গে কম কথা বলছে, কম হাসছে।
কিন্তু কেন?আর ফারিস ভাইয়ের সঙ্গে সে কোথায় যায়, কেন যায়—এগুলো তো কেউ জানে না।
রিয়ার এই সন্দেহ বা কৌতূহল স্বাভাবিকই মনে হচ্ছে।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“কি রে, তাড়াতাড়ি খা রিয়া। কলেজে যেতে দেরি হয়ে যাবে।”
—হঠাৎ করেই রাজীব বলল।
রিয়া রাজীবের কথা শুনে চুপচাপ খাওয়া শুরু করল।কিন্তু মন কোথায়? নিশিতার বিষয়টা এখনও মাথার ভেতরে ঘুরপাক খাচ্ছে।
এসময় রিয়ার ফোনে অহনার কল আসে।
রিয়া কলটি রিসিভ করে।
ওপাস থেকে অহনা বলল,
“কি রে? কলেজে আসবি তো নাকি? আর নিশি কোথায়? ওর ফোনে কল দিলাম কিন্তু রিসিভ হলো না। তাই তোকে কল দিলাম।”
রিয়া কিছুক্ষণ চুপ থেকে ভাবল কী বলবে।
অবশেষে সে মিনমিন করে বলল,

“হুম, আমি কলেজে আসছি। তুইও আসিস। এখন রাখি নাহলে দেরি হয়ে যাবে।”
এই বলে রিয়া ফোন কেটে দিল।
রাজীব ইতিমধ্যে উঠে দাঁড়িয়ে এগোতে লাগল।
“যাই হোক, লেইট হয়ে যাচ্ছে। আমরা এবার যাই, না হলে আবারও ওখানে কি অবস্থা দেখতে হবে।”
এপিছনই বলে রাজীব উঠে দাড়িয়ে এগোতে লাগলো। রিয়া উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
“ভাইয়া, দাড়াও। আমার লেইট হচ্ছে কলেজের জন্য। আমাকে ড্রপ করে দাও।”
তার কণ্ঠে একটু তাড়াহুড়ো, কিন্তু চোখে এখনো সেই ভেতরের অস্থিরতা স্পষ্ট। ফারিস আর নিশিতার ঘটনা ঘুরছে মাথায়, আর সঙ্গে কলেজের চাপ।
রাজীব হেসে বলল,

“তাড়াতাড়ি আয়। ওদিকে সামলানো লাগবে আমার।”
তার দৃষ্টিতে মৃদু উদ্বেগ, কিন্তু কোনো রকম প্রতিক্রিয়া না দেখানোর চেষ্টা। একমাত্র রিয়া বোঝে, বড় ভাইয়ের এই হালকা আতঙ্কের মধ্যে লুকানো দায়িত্ববোধ।
এই দৃশ্য দেখে আমেনা চৌধুরী বললেন,
“আরে তোরা দুইজন তো কিছুই খেলি না? না খেয়ে চলে যাচ্ছিস এভাবে? আর একটু কিছু খেয়ে যা।”
তার কণ্ঠে মমতার ছোঁয়া, কিন্তু সামান্য চাপও আছে—কারণ ওদের রুটিন নিয়মকানুন ভাঙছে।
রিয়া আর রাজীব একসাথে বলল,

“সময় নেই, ছোট আম্মু। এসে খাবো।”
এই বলে তারা তাড়াহুড়ো করে চলে গেল।
রিয়ার পেছনে পিছনে তাকালেই মনে হচ্ছিল, যেন পুরো ঘরটা এখন নিঃশব্দে তাকিয়ে আছে—ফাঁকা টেবিল, বেসরকারি চেয়ারের খোঁচা, এবং বাতাসের হালকা ঢেউ। আমেনা চৌধুরী শুধু দীর্ঘ শ্বাস ফেললেন। চোখে চিন্তার রেখা, মুখে অল্প হাসি—একই সঙ্গে প্রিয়দের নিয়ে সামান্য উদ্বেগ।
তারপর বললেন,

“এদের শুধু ভাবি আর বড় ভাইজানই শাসন করতে পারবে।”
কণ্ঠের সেই মৃদু হিউমার আর সতর্কতা এক সঙ্গে ঘুলে মিশেছে। কোনো সময় নষ্ট না করে, আমেনা চৌধুরী উঠে পড়লেন চেয়ার থেকে। তার পদক্ষেপে ঘরের কাঠের মেঝের চুপচাপ ছন্দ। তারপর মেডদের ডাক দিলেন,
“এগুলো তাড়াতাড়ি পরিষ্কার করে দিও। আর নিশি আসলে ওকে বলো, আমি আমার রুমে আছি, দেখা করতে।”
মেইডরা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিল।আমেনা ধীরে ধীরে নিজের রুমের দিকে চলে গেলেন।
দরজা বন্ধ হতেই যেন পুরো বাড়ি আরও নিঃশব্দ হয়ে যায়। কোণে কোণে এখন ঘুমন্ত কৌশল, অজানা রহস্য, এবং টুকরো টুকরো প্রশ্নের ছায়া নেমে এসেছে। রিয়ার মনে এক অদ্ভুত চঞ্চল উত্তেজনা।নিশিতার রহস্যময় বদল, ফারিস ভাইয়ের অদৃশ্য উপস্থিতি—সব মিলিয়ে যেন এক অদৃশ্য চাপের বাতাস রিয়ার চারপাশে ঘুরছে।
এটি শুধু একটি সাধারণ সকাল নয়—একটি গল্পের শুরু, যা ধীরে ধীরে অন্ধকারের দিকে এগোচ্ছে।

কিছুক্ষণ পর ফারিসের গাড়িটা ধীরে ধীরে থামলো চৌধুরী ভিলার সামনে।বাড়ির অদ্ভুত শান্তি এবং রাতের হালকা কুয়াশা যেন গাড়িটাকে ঘিরে ধরে।
ফারিস গাড়ির জানালা নামাল, তার চোখ নিশিতার দিকে।
“এখন বাড়ি যা। আমি অফিসে যাচ্ছি,”
ফারিস বলল। কণ্ঠে তার স্বাভাবিক আত্মবিশ্বাস, কিন্তু সেই সাথে একটি অদ্ভুত সুরক্ষা-অঙ্গীকার লুকানো।
নিশিতা কেবল মাথা ধীরে ধীরে নাড়ালো।
গাড়ি থেকে নামার পর সে এক মুহূর্ত থমকে দাঁড়ালো। পদক্ষেপ ভিজে পড়ছে, হাত দুটো জড়িয়ে ধরা। ভেতরে ঢুকতে ভয় পাচ্ছে—বাড়ির নিঃশব্দতা তার হৃদয়কে আরও অস্থির করছে।
রাস্তা চুপচাপ। বাতাসও যেন হঠাৎ থেমে গেছে।
নিশিতার চোখ চারপাশে ঘোরাফেরা করছে,

প্রতিটি ছায়া, প্রতিটি শব্দ—সব কিছু যেন তার দিকে তাকিয়ে আছে। ফারিস বিষয়টা বুঝলো।
সে গাড়ি থেকে বের হয়ে নিশিতার পাশে দাঁড়ালো।
হঠাৎ করেই নিশিতাকে নিজের কাছে টেনে নিল।
তার কণ্ঠে মৃদু, গভীর, গলায় বলে উঠে —
“চিন্তা করিস না। কেউ কিছু বলবে না। এখন রেস্ট কর। অনেক ধকল গেছে তোর উপর।”
নিশিতা কেবল হুম করে উত্তর দিল।
ফারিস থেমে থাকল না। সে নিশিতাকে আরও কাছে টেনে নিল, ঠোঁট দিয়ে ঠোঁট ঢেকে দিল।
নিশিতা অপ্রত্যাশিতভাবে ছটফট করতে লাগলো,
হৃদয় দ্রুত ধড়কাচ্ছে, হাত-পা অচেতনভাবে ছুটছে, কিন্তু ফারিসের উপস্থিতি ছাড়া সে শক্তি পাচ্ছে না।
কিছুক্ষণ পর ফারিস নিজেই ধীরে ধীরে ছাড়লো।
নিশিতা দূরে হেঁটে গিয়ে বলল,

“আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন? ভুলে গেছেন এটা চৌধুরী ভিলা?”
ফারিস স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,
“আর তুই আমার বউ। যেখানে খুশি সেখানে আদর করবো। এখন বাড়ি যা। লেইট হচ্ছে।”
নিশিতা এক মুহূর্তের জন্য স্থবির হয়ে রইল।
মনের মধ্যে অজানা উত্তেজনা, শরীরের হালকা ঝাঁকুনি। কিন্তু সে আর কিছু ভাবল না। ধীরে ধীরে বাড়ির ভিতরে ঢুকে গেল। ফারিস গাড়ি নিয়ে চলে গেল। পেছনে রয়ে গেলো নিঃশব্দ, নিশিতার বুকের ধড়কনাকে কেবল বাতাসের ফিসফিসে মিশিয়ে দিয়ে। রাস্তা শান্ত, কিন্তু রহস্য, ভয়, এবং অপ্রকাশিত আকাঙ্ক্ষার ছায়া চারপাশে ঘুরছে।

নিশিতা বাড়ির ভিতরে ঢুকলো। ড্রয়িং রুম একেবারেই ফাঁকা, নিঃশব্দ—একটু ধীরে ধীরে হাঁটলেও যেন প্রতিটি শব্দ তার নিজের কানে বড় হয়ে ফিরে আসে।হালকা বাতাস, বন্ধ জানালা, নিঃশব্দ ফার্নিচারের মাঝে, নিশিতার হৃদয় যেন ধুকপুক করছে। এই সময়, একটা মেড এসে তার দিকে এগিয়ে এল।
“আপনাকে ছোট ম্যাম দেখা করতে বলেছে। তার রুমে যেতে বলল। ছোট মেডাম রুমে আছে।”
নিশিতা কিছুটা ঘাবড়ে গেল। ভয় হাত-পা কাঁপাচ্ছে, দৃষ্টি অচল। কিন্তু ধীরে ধীরে নিজের মনকে সামলে, নিশিতা আমেনা চৌধুরীর রুমের দিকে এগোতে লাগলো।দরজার সামনে এসে সে নক করল।

“ভিতরে আয়,”
আমেনা চৌধুরীর কণ্ঠ ভেসে এলো।
নিশিতা ভয়ে ভয়ে ধীরে ধীরে দরজা খুলে ভিতরে ঢুকলো।আমেনা চৌধুরী তাকালেন, চোখে সামান্য বিরক্তি, মুখে মৃদু মমতা।
“এতো দেরি করলি কেনো? এমনিতেই বাড়িতে কেউ নেই, তার উপর তোরা আবারও লাগাম ছাড়া কাজ করিস। কয়দিকটা দেখবো আমি বলতো।”
নিশিতা হালকা নিঃশ্বাস ছাড়লো, কিছুটা নিশ্চিন্ত হলো। তারপর কোমল কণ্ঠে বলল,
“সরি, আম্মু। আর হবে না।”
আমেনা চৌধুরী বললেন,
“কিছু খেয়েছিস?”

নিশিতা মাথা নাড়াল। আমেনা চৌধুরী আবারও বললেন,
“তাহলে গিয়ে রেস্ট নে।”
নিশিতা একটু দ্বিধায় জিজ্ঞেস করল,
“আচ্ছা, আম্মু, রিয়া কোথায়?”
“ও কলেজে চলে গেছে,”
আমেনা চৌধুরী উত্তর দিলেন।
নিশিতার মন একটু খারাপ হলো।রিয়া ওকে না নিয়েই কলেজে চলে গেল।নিশিতা ছোট্ট হাহাকার করে ভাবল, এটা মানতে তার কষ্ট হচ্ছে। শেষে নিশিতা ভীতি আর মন খারাপ একসাথে
চেপে ধরে বলল,

“আমি কলেজে যাই, আম্মু?”
আমেনা চৌধুরী মৃদু কণ্ঠে বললেন,
“নাহ… থাক। তুই গিয়ে রেস্ট কর। কাল থেকে না হয় কলেজে যাস।”
নিশিতা আর কিছু না বলে ধীরে ধীরে উপরের নিজের রুমের দিকে চলে গেল। দরজা বন্ধ হতেই যেন পুরো বাড়িতে নীরবতা এবং অদৃশ্য চাপ নেমে আসে।বাড়ির নিঃশব্দ, ফাঁকা ঘর, নিশিতার মনের অস্থিরতা—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি।
নিশিতা ধীরে ধীরে রুমে প্রবেশ করল।
কিন্তু এই মুহূর্তে, তার মনোযোগ অন্য কোথাও।

মাথায় বারবার ঘুরছে একটাই প্রশ্ন—রিয়া কি ওর উপর রাগ করলো? ওকে না নিয়ে কখনো কলেজে যায়নি রিয়া।আর আজকে এভাবে হঠাৎ চলে গেছে।নিশিতার মনে অদ্ভুত চাপ, অদ্ভুত অনুভূতি।
এখন এসব ভাবতে গেলে মাথা গুলিয়ে যাবে।
নিজেকে শান্ত করতে, নিশিতা ধীরে ধীরে পড়ার জন্য বসলো।আর মাত্র ১৭ দিন পরই ফাইলান পরীক্ষা।সেই চিন্তাও আরেকটি চাপ হয়ে ভেসে উঠছে মনে। আর কিছু না ভেবে পড়তে বসে পড়ে।

এদিকে রাজীব গাড়ি চালাচ্ছে। রিয়া চুপচাপ, একদম নীরব।মনটা শুধু এক জায়গায় আটকে—নিশিতা আর ফারিসের কথা।নিশিতা আজকাল কিছু বলছে না, আর সেই অদৃশ্য দূরত্ব রিয়ার উপর গভীর প্রভাব ফেলছে। রিয়া বুঝতে পারছে, নিশিতার প্রতি কিছুটা অভিমান আছে, কিন্তু কি কারণে—তা বোঝা কঠিন।
হঠাৎ করেই রাজীব বলল,
“আচ্ছা, তোর ওই বান্ধবী অহনার বিএফ-টিএফ আছে নাকি?”
রিয়া অবাক হয়ে তাকাল রাজীবের দিকে। রাজীব খানিক শুকনো ঢোক গিলল। রিয়া কণ্ঠে লাজুক একটা টোনে জিজ্ঞেস করল,

“তুমি কি বলতে চাইছো, ভাইয়া?”
রাজীব স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,
“না মানে, এমনিই আরকি।”
কিছুক্ষণের মধ্যে দুজন আর কোনো কথা বলল না।
গাড়ি পৌঁছালো কলেজের সামনে। রিয়া ধীরে ধীরে গাড়ি থেকে নামল। রাজীবের চোখ হঠাৎ গাড়ির বাইরের মিররে পড়ে গেল। সেখান থেকে দেখলো রিকশা থেকে অহনা নামছে। মুচকি হেসে রাজীব গাড়ি স্টার্ট দিলো এবং চলে গেল।
রিয়ার মনে হালকা উত্তেজনা, আর ফারিসের ঘটনা, আর অহনার অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি—সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে, আজকের দিনটা এক অদ্ভুত নীরব, রহস্যময় আভা নিয়ে ভরা। আর অহনাকে দেখে রিয়া হঠাৎ দৌড়ে এগোলো।
রিয়াকে আসতে দেখে অহনাও দ্রুত এগিয়ে এল।
নিশ্চিন্ত নয়, চোখে কৌতূহল আর উদ্রেক।

“আরে, তুই? নিশি কোথায়? ও কি কলেজে আসেনি?”
অহনাকে দেখেও রিয়া চুপ করে রইলো।
কিছু বলল না। রিয়াকে চুপ থাকতে দেখে অহনা একটু আগ্রহী কণ্ঠে বলল,
“কি হলো, বলবি তো?”
রিয়া অবশেষে মৃদু কণ্ঠে বলল,
“ক্লাস রুমে চল, সব বলব তোকে।”
এই বলে তারা একসাথে ক্লাস রুমের দিকে চলে গেল। পেছনে বাতাসের হালকা ফিসফিস, পা ফেলার শব্দ, আর কলেজের নিঃশব্দ করিডরের হালকা প্রতিধ্বনি—সব মিলিয়ে যেন আজকের দিনটাকে আরও রহস্যময় করে তুলছে।

ফারিস গাড়ি চালাচ্ছিল। রাস্তার আলো-ছায়ার খেলা, হালকা কুয়াশা, গাড়ির হিউম—সব মিলিয়ে এক অদৃশ্য উত্তেজনা তৈরি করছে। হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। ফারিস চোখ তুলে দেখলো—রাজীব কল দিয়েছে। এক মুহূর্ত থেমে, গতি সামান্য ধীর করল।
ফোন রিসিভ করল। ওপাশ থেকে রাজীব বলতে লাগলো—
“ভাইয়া, কোথায় তুমি? একটু পরে মিটিং আছে। আজকে আমাদের ডিল সাইন করার দিন। নিহানকে বলে ১১:০০ সময় মিটিং এর টাইম দিছি। তুমি তো এখনও আসলে না।”
রাজীবের কণ্ঠে সতর্কতা আর তাড়াহুড়োর মিশ্রণ।
মনে হচ্ছিল—সময় যেন ব্যস্ততার সাথে ফারিসের চোখের সামনে উড়ছে। ফারিস স্টিয়ারিং
ধরে বলল,

“আসছি আমি। রাস্তায় আছি। তুই গিয়ে একটু বস মিটিং রুমে। আমি আসছি, আর ২০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছাব।”
রাজীব হালকা স্বরে বলল,
“আচ্ছা, ভাইয়া।”
এইবলে কল কেটে দিল। ফারিস চোখে সামান্য চাপ আর মৃদু হাসি নিয়ে গাড়ি চালাতে থাকল।
রাস্তার দুপাশে হালকা বৃষ্টি পড়ছে, গ্লাসে ঝাপসা দাগ ফেলে।
সিগনাল লাইট, গাড়ির হর্ন, দ্রুত চলা ট্রাফিক—সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে, সময় নিজেই তার উপর চাপ দিচ্ছে। ফারিস দ্রুত নিজের কণ্ঠে বলে—“আজকের দিনটা ঠিক রাখতে হবে। ডিল সাইন মিস করলে বড় ঝামেলা।”

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৩৪

তার হৃদয় তাড়াহুড়ো করছে। প্রতিটি লাল লাইট, প্রতিটি হর্ন, প্রতিটি গাড়ির আচরণ যেন তার মনকে আরও চাপ দিচ্ছে। দূরে ট্রাফিক লাইট লাল হয়ে গেল। ফারিস ধীর গতি নিয়েও গাড়ি থামাল।
হালকা বৃষ্টি কাচে পড়ছে।ফারিসের চোখে অস্থিরতা, মানুষের ভিড়, চলমান গাড়ি, রাস্তার ঝাপসা আলো—সবই যেন তার চিন্তাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে যেন……..

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৩৬