চৌদ্দের চিঠি পর্ব ১২ (২)
আরোবা চৌধুরী আরু
ফজরের আজানের সুর ভেসে আসছে চারদিক থেকে—মসজিদের মিনার থেকে নরম, টানটান ধ্বনি ভোরের বাতাস চিরে ছড়িয়ে পড়ছে। জানালার কাঁচে তখনো রাতের শিশির জমে আছে, বাইরে আকাশে নীল আর কমলার মিশ্রণ ফুটে উঠছে ধীরে ধীরে। ভোরের হালকা কুয়াশা গাছের ডগায় লেপ্টে আছে, আর দূরে কোন অচেনা পাখি ডেকে উঠছে একবার।
নাফিসার অভ্যাস—সকাল সকাল উঠে ফজরের নামাজ আদায় করা। প্রতিদিনের মতোই আজানের প্রথম সুর কানে পৌঁছাতেই চোখ ধীরে ধীরে খুলে গেল। ঘুম ভাঙার সেই ধীর মুহূর্তে তার ভেতরটা শান্ত ছিল, কিন্তু কিছু সেকেন্ড পরই বুকের ভেতর ধক ধক করে উঠল।
কারণ—সে হঠাৎ অনুভব করলো, তার পাশেই কেউ আছে।
মাথা সামান্য উঁচু করে তাকাতেই পর্দার ফাঁক গলে আসা ভোরের আলোয় স্পষ্ট হলো—সায়মান। একদম কাছে, এতটাই কাছে যে তার উষ্ণ নিঃশ্বাস নাফিসার গালে এসে লাগছে। চমকে উঠে ছিটকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করল সে, কিন্তু বুঝল পারছে না—কারণ সায়মানের হাত শক্ত করে তাকে জড়িয়ে আছে। যেন তাকে ছেড়ে দেওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
নাফিসার চোখে অবাক হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে একধরনের দ্বিধা জমে উঠল।
সে ভাবছে—সায়মান এখানে কী করছে? কিভাবে…
অন্যদিকে সায়মানের মুখে অদ্ভুত শান্তি। তার ঘুমের গভীরতায় যেন অনেকদিনের জমে থাকা ক্লান্তি ধুয়ে গেছে। এমন নিশ্চিন্ত, নির্ভার ঘুম নাফিসা এর আগে তার মুখে দেখেনি। মনে হচ্ছিল, কোনো বোঝা নেই, কোনো চিন্তা নেই—শুধু শান্তির এক দীর্ঘশ্বাস যেন তার বুকে জমে আছে।
নাফিসা আস্তে আস্তে নিজের শরীর সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল। আঙুলের ডগা দিয়ে সায়মানের হাতটাকে ঠেলে দেখল, কিন্তু হাত নড়ল না। বরং, যেন অবচেতনেই, সায়মান তাকে আরও কাছে টেনে নিল।
নাফিসার নিশ্বাস গলা আটকে এলো—বিস্ময়ে, আরেকটু ভয় মিশ্রিত লজ্জায়। ভোরের ঠান্ডা হাওয়া জানালা দিয়ে ঢুকছিল, কিন্তু তার গাল গরম হয়ে উঠেছিল।
এদিকে, ঘুমের ভেতর থেকেও সায়মানের কপাল সামান্য কুঁচকে উঠল। কেউ যেন তার প্রশান্তি ভেঙে দিচ্ছে—এতে সে বিরক্ত। ঠোঁটের কোণে সামান্য অসন্তোষ ফুটে উঠল, কিন্তু চোখ খোলার মতো তাড়া নেই তার। বরং হাতের আলগা চাপ আরও দৃঢ় হলো।
নাফিসা নিজেকে ছাড়াতে অনবরত নড়তে থাকল যার ফলে, সায়মানের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলো,
ঘুমের গভীরতা ভাঙার সাথে সাথে সায়মানের ভুরু জোড়া কুঁচকে উঠল। যেন কোনো অচেনা অস্বস্তি তার স্বপ্নে হালকা টোকা দিয়েছে। কয়েক সেকেন্ড পর ধীরে ধীরে চোখ খুলল সে—পলক কয়েকবার ফেলল, ভোরের ম্লান আলোয় চারপাশ বোঝার চেষ্টা করল।
মুহূর্তেই বুঝতে পারল—এটা তার নিজের ঘর নয়। চোখের কোণে বিস্ময়ের রেখা ফুটে উঠল, আর ভুরু আরও কুঁচকে গেল। ঘুম ভাঙার পর মানুষের মস্তিষ্ক যেমন ধীরগতিতে কাজ করে, সায়মানেরও তেমনই হচ্ছে—ভাবনাগুলো একেকটা যেন ধোঁয়ার কুণ্ডুলির মতো এসে মিলিয়ে যাচ্ছে।
তারপর হঠাৎই গত রাতের কিছু খণ্ডচিত্র মনে পড়ল—একটা নারীকণ্ঠের ভীতসন্ত্রস্ত চিৎকার, অন্ধকারে তাড়াহুড়ো করে কোনো দরজা খোলা, আর তার নিজের তীব্র তাগিদে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু এরপর? সেখানেই স্মৃতি ঝাপসা। সে কখন, কিভাবে এখানে এসে শুয়ে পড়েছে—তার কোনো ধারণা নেই।
সায়মান ধীরে ধীরে উঠে বসল। চুলগুলো এলোমেলো, চোখে এখনো আধো ঘুমের ছাপ, কিন্তু মনে কেমন যেন অস্বস্তির ঢেউ উঠছে।
অন্যদিকে, নাফিসা তখন তার আঁকড়ে ধরা হাত থেকে মুক্ত হয়েই। উঠে বসেই তাড়াহুড়ো করে বিছানার পাশে রাখা ওড়নাটা টেনে নিয়েছে, বুক থেকে মাথা পর্যন্ত জড়িয়ে ফেলেছে নিজেকে। তার চোখ নিচের দিকে, ঠোঁট কামড়ে ধরা—চোখে ভয়, লজ্জা আর অস্থিরতার মিশ্র ছায়া।
সায়মানের চোখে পড়ল সেই দৃশ্য। কয়েক সেকেন্ড নিঃশ্বাস আটকে রইল তার, তারপর গলা শুকিয়ে এলো—অবচেতনেই এক ঢোক গিলল। মনে মনে ভাবল, এই মেয়েটা যেন ভুল না বোঝে আমাকে…
সে গলা খাঁকারি দিয়ে আস্তে বলল, কণ্ঠে এক ধরনের দ্বিধা, যেন প্রতিটি শব্দ বেছে নিতে হচ্ছে—
“আসলে… কাল রাতে তুমি… চিৎকার করছিলে। মনে হয় দুঃস্বপ্ন দেখেছিলে। আমি পাশের দিক দিয়ে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ শব্দ শুনে ভেতরে চলে আসি। অনেকবার চেষ্টা করেছিলাম তোমাকে শান্ত করতে… তারপর কেমন করে এখানে শুয়ে পড়লাম, সেটা আমি নিজেও জানি না।”
শেষ কথাগুলো বলার সময় তার চোখ মাটিতে নেমে এলো। আরেকটু থেমে, নিচু স্বরে যোগ করল—
“সরি…”
নীরবতার মাঝে, দুজনের মনেই জমে আছে এক অঘোষিত অস্বস্তি—যেন পরবর্তী কথাগুলো বলার আগে দুজনই নিজ নিজ ভেতরের গিঁট খুলে নিচ্ছে।
নাফিসা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল সায়মানের দিকে।
এত বড়, গম্ভীর মানুষ… তাকে এভাবে বিনয়ের সাথে “সরি” বলছে!মনে মনে,
বুকের ভেতর হালকা কম্পন নিয়ে কিছু বলতে চাইলেও, গলা আটকে গেল—শব্দ যেন ঠিকমতো বেরোতে চায় না।
তারপর হঠাৎই মাথায় এক চিন্তা এলো—সে কি ঘুমের মধ্যে কিছু বলে ফেলেছিল?
ভাবনাটা আসতেই ঠোঁট শুকিয়ে গেল, অবচেতনেই এক ঢোক গিলল নাফিসা।
সায়মান তখনো তার দিকে তাকিয়ে, যেন নিজের অজুহাতটা আবারও পরিষ্কার করতে চাইছে। কিন্তু সে নিজে আবার ভাবছে সে এত সাফাই দিতে যাচ্ছে কেন।
নিচু গলায়, ধীর স্বরে বলল,
“এই পিচ্চি… আমি সত্যিই জানি না কিভাবে এখানে শুয়ে পড়েছি।”
নাফিসা আস্তে আস্তে মুখ তুলে তাকাল। চোখে ভয়ের বদলে এবার যেন একরকম নির্ভরতার ছাপ। মিনমিন করে বলল,
“আমি আপনাকে বিশ্বাস করি… আপনি ইচ্ছা করে এখানে আসেননি, আমি বুঝতে পেরেছি।”
কথাটা শুনে সায়মানের চোখ সামান্য ছোট হয়ে এলো।
সে মুগ্ধও হলো, আবার বিস্মিতও—এই ছোট্ট মেয়ে এত ভারী কথা বলে কীভাবে!
কিন্তু ঠিক তখনই, গত রাতের একটা ঘটনা ঝলসে উঠল মনে—নাফিসার কণ্ঠে উচ্চারিত “শাহিন মামা” নামটা।
সেই শব্দ মনে পড়তেই তার মাথায় যেন আগুন জ্বলে উঠল।
চোখে একরকম তীব্রতা এসে গেল, মুঠো শক্ত হয়ে গেল।
হঠাৎই কণ্ঠের স্বর বদলে গিয়ে কড়া হয়ে উঠল—
“শাহিন মামা কে?”
প্রশ্নটা শুনে নাফিসা চমকে উঠল।
মুহূর্তের জন্য শ্বাস আটকে গেল, বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে গেল।
তার ঠোঁট কাঁপতে লাগল, চোখে ভয়ের ছায়া আরও গাঢ় হলো।
অবশেষে খুব ধীরে, প্রায় ফিসফিসিয়ে বলল,
“আপনি ভুল শুনেছেন… কেউ না।”
ঘরের ভেতরে হঠাৎ যেন হাওয়া ভারী হয়ে গেল। দুজনেই চুপ—কেউ আর কথা বলছে না, কিন্তু নীরবতার ভেতরে জমে আছে হাজারো প্রশ্ন, হাজারো উত্তর, যেগুলো কেউ উচ্চারণ করার সাহস পাচ্ছে না।
সায়মান কিছুক্ষণ নাফিসার চোখের দিকে তাকিয়ে রইল।
চোখের ভেতরেই সে বুঝে গেল—নাফিসা কিছু বলবে না, বললেও সত্যটা বলবে না। সে , এখনই ঘাটালো না বিষয়টা।
সে ধীরে ধীরে বিছানা থেকে নামল। পায়ের শব্দ খুব মৃদু, যেন ভোরের নীরবতা ভেঙে না যায়।
দরজার দিকে কয়েক পা এগিয়েই থেমে গেল—কী মনে করে আবার ঘুরে দাঁড়াল।
চোখে এক ধরনের দৃঢ়তা নিয়ে নাফিসার দিকে তাকিয়ে বলল,
“আজ স্কুল থেকে আমি তোমাকে নিতে যাব। রিশার সাথে আসার দরকার নেই। মনে থাকবে।”
নাফিসা বিস্মিত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাল। কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল।
মনে মনে ভাবল, আবার কোথায় নিয়ে যাবে আমাকে?
কিন্তু প্রশ্নটা মুখে আনল না।
তার নীরবতা সায়মানের চোখ এড়াল না।
এক চিলতে বিরক্তি মিশ্রিত ঠাট্টা-স্বর নিয়ে বলল,
“এই পিচ্চি, সব সময় কি ভাবো এত? ছোট মানুষের এত ভাবনা ভালো না।
আর একটা কথা—এত ভারী ভারী কথা বলাও ভালো না। ছোট মানুষ ছোট মানুষের মতো থাকবে, ছোট মানুষের মতো বিহেভ করবে। এত ভারিক্কি কথা, ভারিক্কি ভাবনা—আমার পছন্দ না। ছোট মানুষের মতো কথা বলার আর ব্যবহার করার অভ্যাস করবে। ওকে?”
নাফিসা হা হয়ে গেল। এটা কেমন কথা!
সে তো এমনই—তার চিন্তা, তার ভাষা সবসময় একটু গভীর। এবার কেমন করে ছোট মানুষের মতো আচরণ করবে, সে বুঝতেই পারল না।
সায়মানের কথা তার মাথার ওপর দিয়েই চলে গেল।
দরজা বন্ধ হতেই নাফিসা এক দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।
মুহূর্তেই মনে হলো—এতক্ষণ যেন সে শ্বাস আটকেই রেখেছিল।
এই লোকটার সামনে এলেই তার ভেতরে অদ্ভুত এক অনুভূতি হয়—মিশ্র ভয়, অস্থিরতা আর… অন্য কিছু, যা সে নিজেও ঠিক বুঝতে পারে না।
তার ওপর—ভাবতেই শরীর গরম হয়ে উঠল—সে তো এই লোকটার সাথে জড়িয়ে সারা রাত কাটিয়েছে!
ভাবনাটা মাথায় আসতেই লজ্জায় গাল লাল হয়ে গেল, বুকের ভেতর হাঁসফাঁস শুরু হয়ে গেল।
সে কিভাবে পারল…!
এগুলো ভাবতে ভাবতেই তার চোখ ঘড়ির দিকে গেল—নামাজের সময় হয়ে গেছে।
তাড়াহুড়ো করে উঠে ওড়নাটা ঠিক করল, তারপর অজু করতে চলে গেল।
শীতল পানির স্পর্শে একটু হলেও মন শান্ত হলো।
ফিরে এসে বিছানার এক কোণে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে নামাজ শুরু করল, ঠোঁট ধীরে ধীরে কুরআনের আয়াত উচ্চারণ করছে, আর মনে মনে চেষ্টা করছে সব অস্থিরতা আল্লাহর হাতে সঁপে দিতে।
সকালের নাস্তার সময় নাফিসা সায়মানকে দেখতে পেল না। তার চোখ জানালার বাইরে ঢাকা শহরের ব্যস্ত রাস্তায় আটকে গেল। ড্রাইভার গাড়ি চালাচ্ছিলেন আর ড্রাইভারের পাশেই একজন গার্ড বসে । এই বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় সবাইকে গার্ড নিয়ে যেতে হয়—নাফিসা এটা বুঝতেই পারছে না কেন এমনটা করে।
তার পাশেই বসে রিশা আছে , কিন্তু ‘বসা’ বললে ভুল হবে। সে হেলান দিয়ে পুরোপুরি ঘুমিয়ে পড়েছে। এত ঘুম পাগল মেয়েটা! নাফিসা ভেবেই হাসি আটকাতে পারল না।
স্কুলের সামনে পৌঁছতেই ,
আস্তে করে ডেকে উঠল, “আপু, আমরা চলে এসেছি। উঠো।”
রিশা তখন ঘুমের ঘোর থেকেই হাত দিয়ে ঘাড় ঝাঁকাতে লাগল। “এই ব্ল্যাক ডায়মন্ড, প্লিজ আমাকে বিরক্ত করো না। তোমার ব্ল্যাক ঠোঁটগুলো খেতে কী ব্ল্যাক চকলেটের মত লাগবে নাকি মিল্ক ব্ল্যাক চকলেট? প্লিজ, ডিস্টার্ব করো না দেখতে দাও তো!”
তারপর জোরে ডেকে উঠল, “আপু, রিশু আপু! আমরা চলে এসেছি।”
রিশা হুড়মুড় করে উঠে পড়ল, “কি হলো? কি হলো?” করে তাড়াহুড়ো করতে লাগল।
নাফিসা একটু ধীর স্বরে বলল, “স্কুলে এসে গেছি, উঠো।”
রিশা হেসে বলল, “হ্যাঁ, কি সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখছিলাম। তোর জন্য ভেঙ্গে গেল রে নাফু! এই স্বপ্নটা কবে বাস্তবে আসবে, আল্লাহ জানে।”
“চল, তাড়াতাড়ি কর, লেট হয়ে যাচ্ছে।”
নাফিসাকে রিশা বিদায় জানিয়ে ওর ক্লাসরুমের দিকে ছুটে গেল। সে ভাবছে—এখন ওর বেস্ট ফ্রেন্ড জারিনের কাছে গিয়ে ওর স্বপ্নের কথা বলবে, না হলে এই মুহূর্তের হজম হবে না।
এদিকে, প্রতিদিনই নাফিসা রিশার নতুন নতুন রূপ দেখে মুচকি হেসে ওঠে। সে আজও রিশার এমন তাড়াহুড়ো দেখে মুগ্ধ।
ঠিক তখনই পাশে এসে দাঁড়ায় মেহরিন।
“কিরে নাফু, মিষ্টি মিষ্টি হাসছিস কেন?”
নাফিসা চমকে তাকিয়ে হাসিমুখে বলে, “আসসালামু আলাইকুম।”
মেহরিন কানে হাত দিয়ে বলে, “ওয়ালাইকুম আসসালাম।”
“চল, দেরি হয়ে যাচ্ছে, ক্লাসে যাই আমরা।”
দুই বান্ধবী হাত ধরে ধরে ক্লাসের দিকে এগোতে থাকে।
ক্লাসে ঢুকে ওদের বেঞ্চে হঠাৎ ধপাশ করে ব্যাগ রাখল মেহরাব।
চৌদ্দের চিঠি পর্ব ১২
“হাই, কিউটি নাফিসা!”
নাফিসা মুচকি হেসে সালাম জানাল।
মেহরাব হাসিমুখে সাড়া দিল।
মেহরিন তার ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে মুখ ঘুরিয়ে বলল, “উড়ে এসে জুড়ে বসেছে!”
মেহরাব একটু বিরক্তি দেখিয়ে বলল, “কি বললি তুই?”
“আমি তো কিছুই বলিনি,” মেহরিন মুচকি দিয়ে বলল, “তুই অন্য জায়গায় গিয়ে বসো, আমাদের এখানে বসলে কেন?”
“আমার ইচ্ছা, তোর কথায় বুঝতে হবে নাকি কোথায় বসবো আর কোথায় বসবো না।”
তাদের কথাকাটাকাটির মাঝেই ক্লাসে এসে উপস্থিত হল টিচার।
