চৌদ্দের চিঠি পর্ব ২৮
আরোবা চৌধুরী আরু
হলঘরের ভারী পরিবেশ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। ভাঙা কাঁচের টুকরো, রক্তের গন্ধ, সবার চোখে আতঙ্ক আর রাগের ছাপ এখনো স্পষ্ট। উত্তেজনায় জমাট বাঁধা বাতাসে নিঃশ্বাসও যেন ভারী হয়ে আসছে।
মাহবুব রাশিদ ধীরে ধীরে দাঁড়িয়ে চারপাশে একবার তাকালেন। তাঁর চোখে দৃঢ়তা, কণ্ঠে শান্ত অথচ কর্তৃত্বময় সুর।
————“মঈন, পরিবারে কেউ বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই যেন কারো সাথে করে বের হয়। আমি এহসানকে যতটুকু চিনি, সে চুপ করে বসে থাকবে না। তাই আগে থেকেই সেফটি নিতে হবে। আশা করি বুঝতে পেরেছ।”
কথাগুলো নিস্তব্ধ হলঘরে গম্ভীর প্রতিধ্বনির মতো ছড়িয়ে পড়ল।
মঈন রাশিদ এক পা এগিয়ে এসে মাথা নাড়ল। কণ্ঠে দৃঢ়তা আর এক ধরনের সতর্কতা ভেসে উঠল।
————“জি ভাইয়া, আমি খেয়াল রাখব। এই বিষয়টা আমার নজরে থাকবে। চারদিকের সুরক্ষাও আমি বাড়িয়ে দেব।”
কথা শেষ করেই সে চোখ ঘুরিয়ে সায়মানের দিকে তাকাল। মাহবুবও তখন ওর দিকে কঠোর দৃষ্টিতে চেয়ে আছেন।
————“আর তোমার আদরের ভাইপোকে বলে দাও, মাথা ঠান্ডা করে কাজ করতে। এই ধরণের পরিস্থিতিতে তার সাথে রাগ যায় না।”
মাহবুবের গম্ভীর দৃষ্টি সায়মানের চোখে গিয়ে আটকালো। কিন্তু সায়মান তখনও চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে, নিঃশ্বাস ভারী, ঠোঁটের কোণায় লালচে দাগ শুকিয়ে গেছে। তার চোখে ছিল নিঃশব্দ আগুন, অথচ ঠোঁট থেকে একটি শব্দও বেরোল না।
মঈন রাশিদ তাকাল একবার সায়মানের দিকে, একবার ভাই মাহবুবের দিকে। ভেতরে ভেতরে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
————“দুইটাই তো এক…”
তারপর ধীরে ঘুরে সাইফানের দিকে তাকিয়ে বলল মাহবুব রাশিদ————
———— “সাইফান, বাকিটা সামলাও। আমি উপরে যাচ্ছি।”
বলে তিনি পায়ের ভারী শব্দ তুলতে তুলতে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে চলে গেলেন।
সাইফান মাথা নেড়ে সম্মতি দিল। সাথে সাথেই রিদওয়ানকে নিয়ে স্টাফদের ডাকল।
————“সবকিছু পরিষ্কার করো। হলঘর একদম গোছানো চাই।”
ভাঙা কাঁচ, রক্তে ভিজে থাকা কার্পেট, উল্টে থাকা টেবিল———সব ঠিক করার জন্য স্টাফরা ছুটে এল। ভাঙা গ্লাসের কটকট শব্দে ঘরটা আবার ভরে উঠল, কিন্তু তার ভেতরও একটা অস্বস্তি যেন চেপে রইল।
এইদিকে, সাবিহা খালেদ মুখ শক্ত করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অপমান আর ক্ষোভে তাঁর শরীর কাঁপছে। চোখে অগ্নি, ঠোঁটে চাপা শ্বাস। পাশের হাত ধরে দাঁড়ানো রাইমার দিকে তাকিয়ে এক ঝটকায় বললেন————
————“চলো।”
মেয়েকে সাথে নিয়ে তিনি রাগে গজগজ করতে করতে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে গেলেন। মনের ভেতরে আগুন জ্বলছে। “আজকের এই অপমান… শেষ দেখে ছাড়ব আমি। সামান্য এক দুই পয়সার মেয়ের জন্য সবার সামনে আমায় কথা শুনতে হলো! না… এভাবে ছেড়ে দেব না।”
ওদিকে মঈন রাশিদ এগিয়ে এল সায়মানের দিকে। নিঃশব্দে ওর ঘাড়ে হাত রাখল। কণ্ঠে ছিল দৃঢ় আশ্বাস, এক ধরনের স্নেহমাখা শক্তি।
————“উপরে যা। তুই যা করেছিস, একদম ঠিক করেছিস। দ্বিতীয়বার ভাববে ও কোন মেয়ের গায়ে হাত দেওয়ার আগে। এটা পাওনা ছিল। আমি সবসময় তোর সাথে আছি। অনেক ধকল গেছে, এখন উপরে গিয়ে রেস্ট নে।”
কথাগুলো শুনে সায়মান চোখ তুলে মঈনের দিকে তাকাল। চোখে এখনো লাল আগুন জ্বলছে, কিন্তু ভেতরে একটা অদৃশ্য স্বস্তি যেন কাজ করল। ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল। কিছু না বলে ভারী পদক্ষেপে সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে উঠে গেল।
হলঘরে ছড়িয়ে থাকা উত্তেজনার আবহ ধীরে ধীরে ফিকে হতে লাগল।
দূরে দাঁড়িয়ে থাকা আরিব অবশেষে গভীরভাবে শ্বাস ফেলল। বুকের ভেতর কেঁপে উঠছিল এতক্ষণ। “যাক… নাফিসাকে ঠিক সময় দা ভাই বাঁচিয়ে নিয়েছে। না হলে কি হতো… ভাবতেই বুক হিম হয়ে আসছে।”
তার দৃষ্টি অজান্তেই সিঁড়ির দিকে চলে গেল। ভেতরে যেন একটা কৃতজ্ঞতা, ভয় আর স্বস্তির মিশ্রণ একসাথে ভেসে উঠল।
চারিদিক আবার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে, কিন্তু বাতাসে এখনও ভারী টানটান উত্তেজনার ছাপ লেগে রইল।
রাতের নিস্তব্ধতা ঘিরে ফেলেছে পুরো বাড়িটাকে। ভারী পরিবেশে যেন প্রতিটি নিঃশ্বাসও স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। নাফিসার রুমে এখন কেবল একটাই শব্দ——— নাফিসার হাহাকার মেশানো মৃদু কান্না আর আফিয়া বেগমের সান্ত্বনামাখা গলায় ফিসফিসানি।
বিছানার মাথার কাছে বসে আছেন আফিয়া বেগম। বুকের ভেতর শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছেন নাফিসাকে। তাঁর চোখ ভিজে গেছে, নাক দিয়ে আসছে টানা শব্দ। বুকের ভেতরটা যেন কেঁপে কেঁপে উঠছে প্রতিটি দমকে। পাশেই বসে আছেন বিলকিস আরা, হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন নাফিসার পিঠে, শান্ত করার চেষ্টা করছেন।
চারপাশ ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে পরিবারের বাকিরা। রিশা ঠোঁট কামড়ে নিঃশব্দে চোখ মুছছে। জারিন কপালে হাত চেপে রেখেছে, বুকের ভেতরটা ধকধক করছে। ইমা বেগম একপাশে দাঁড়িয়ে আছে , চোখে একরাশ দুঃখ জমে আছে। রুহি ঠোঁটে হাত চেপে চুপ করে আছে, যেন ভয় পেয়ে গেছে।রুশনা বাচ্চাদেরকে রেখে এসে এখানে দাঁড়িয়েছে সব ঘটনা শোনার পর থেকে ভীষণ খারাপ লাগা কাজ করছে ওর ভিতর।
ঘরে বাতাস ভারী। আলো জ্বলছে মৃদু, জানলার পর্দা নড়ছে না———সবকিছু থমথমে। শুধু কান্নার শব্দই কানে বিঁধছে।
এমন সময় দরজার সামনে এসে দাঁড়াল সায়মান। ভারী পদক্ষেপে এগিয়ে এসে একদৃষ্টিতে ভেতরের দৃশ্যটা দেখল। নাফিসা এখনো সেই একই শাড়ি পরে কাঁদছে। এক মুহূর্তের জন্য চোখে আগুন জ্বলে উঠল সায়মানের। শিরায় শিরায় যেন আবার ক্রোধ ছুটে গেল।
হঠাৎ গম্ভীর কণ্ঠে সবার উদ্দেশ্যে বলে উঠল————
————“ওকে একা ছেড়ে দাও। সবাই নিজের রুমে যাও।”
তার কণ্ঠস্বর যেন বিদ্যুতের মতো কেটে গেল ঘরের ভেতর দিয়ে। সবাই চমকে তাকাল দরজার দিকে। সায়মানের চোখে এমন দৃঢ়তা যে কেউ সাহস পেল না কিছু বলার ।
একটু নীরবতা ভাঙল রোশনা। সে এগিয়ে এসে সায়মানের দিকে তাকিয়ে ধীর গলায় সবার উদ্দেশ্যে বলল————
————“হ্যাঁ, ওকে এবার রেস্ট নিতে দাও। সবাই বের হওয়াই ভালো।”
কথাগুলোতে যেন অনুমোদন মিলে গেল। একে একে সবাই মাথা নাড়ল।
বিলকিস আরা উঠে দাঁড়ালেন, রিশার চোখে হাত বুলিয়ে বাইরে গেল জারিন এর হাত ধরে। রুহিও নিঃশব্দে বেরিয়ে গেল। ইমা বেগম শেষবারের মতো নাফিসার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে কান্না চাপতে চাপতে বেরিয়ে এলেন।
শুধু থেকে গেলেন আফিয়া বেগম আর রুশনা । তিনি বুকের ভেতর থেকে নাফিসার মাথা আলগোছে তুললেন। দু’হাতে ওর গাল মুছে দিলেন, এখনও ভিজে চোখে স্নেহ ভেসে আছে। কপালে নরম একটা চুমু খেলেন।
—————“মামনি, আর হবে না। আমার মেয়ের দিকে আর কেউ হাত দিতে পারবে না। কোন কিছু হলে আগে আমার কাছে বলবি। ঠিক আছে?”
নাফিসা চোখ ভিজে মাথা নাড়ল।
আফিয়া বেগম ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন————
————“ফ্রেশ হয়ে নে। তারপর ঘুম দে। সব ঠিক হয়ে যাবে। কিছু হয়নি। এগুলো নিয়ে আর ভাববি না। আমার মেয়ে অনেক স্ট্রং।”
মুখে দৃঢ়তার কথা বললেও তাঁর চোখে ভেসে উঠছিল ব্যথা আর আতঙ্ক। শেষবারের মতো নাফিসাকে বুক ভরে দেখে নিয়ে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন। রোশনাও তাঁকে সাথে করে বেরিয়ে এল।
দরজা ধীরে বন্ধ হওয়ার শব্দ হলো। ঘরে এখন আর কেউ নেই। নিস্তব্ধতা আরও ঘনীভূত হয়ে উঠল।
কিন্তু হঠাৎই আবার এক ভারী শব্দ কেঁপে উঠল ঘরজুড়ে।
ধাপ!
সায়মান ভেতরে ঢুকে দরজা জোরে বন্ধ করে দিল। দরজা লাগানোর শব্দটা যেন হৃৎপিণ্ডে বাজলো নাফিসার।
সে কেঁপে উঠল, চমকে চোখ বড় করে তাকাল সামনে। সায়মান দাঁড়িয়ে আছে। তার দৃষ্টি একদৃষ্টিতে গেঁথে আছে নাফিসার মুখে।
ঘরের ভেতরে এখন কেবল দু’জন।
আর বাতাসে ছড়িয়ে আছে অদ্ভুত এক টানটান উত্তেজনা…
সায়মানের পদক্ষেপ যেন অগ্নির মতো গরম। প্রতিটি কদম ঘরের বাতাস ভারী করে তুলছে। চোখে ছিল একদৃষ্টির দৃষ্টি————অচেনা, প্রচণ্ড, তীব্র। হঠাৎই সে ঝাঁটকায় দিয়ে নাফিসাকে কোলে তুলে নিল।
অপ্রস্তুত নাফিসার ঠোঁট থেকে চাপা একটা হাহাকার বেরিয়ে এলো। ওর দুই হাত অবচেতনেই সায়মানের গলা আঁকড়ে ধরল, পড়ে যাওয়ার ভয়ে । বুকের ভেতর দ্রুত ওঠানামা করতে লাগল।
সায়মান একটিও কথা না বলে শক্ত বাহুতে ওকে নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে এগোল। পায়ের শব্দ প্রতিধ্বনির মতো বাজতে লাগল। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকেই ধুপ করে বন্ধ করে দিল।
সেকেন্ড খানেক পরেই শাওয়ারের ঝরঝরে শব্দ মিলিয়ে গেল সেই নিস্তব্ধতার মধ্যে। ঠান্ডা পানি সোজা নেমে এলো দুজনের উপর। এক মুহূর্তেই চুল, গাল, কাঁধ, কাপড় সব ভিজে গেল।
নাফিসার শরীরে প্রথম ফোঁটাগুলো পড়তেই কাঁপুনি বয়ে গেল। ওর চোখ বড় হয়ে গেল, ঠোঁট ফাঁক হয়ে গেল নিঃশব্দে। ভেজা চুল গাল বেয়ে নেমে এলো, পানির ফোঁটা মিশে গিয়ে যেন ওর চোখের অশ্রুকেও ঢেকে দিল।
সায়মান শক্ত হাতে ওকে শাওয়ারের নিচে দাঁড় করিয়ে দিল। মুখে কোনো কথা নেই, শুধু দৃষ্টি তীক্ষ্ণ আর গভীর। ধীরে ধীরে সে হাত বাড়াল, নাফিসার মাথার ভিজে চুল সরিয়ে দিল একপাশে। কপাল বেয়ে নেমে আসা ফোঁটাগুলো আঙুলের ডগায় থামিয়ে দিল।তারপর এক টান দিয়ে ওর শাড়ির আঁচল সরিয়ে দিলো।
নাফিসার নিঃশ্বাস কেঁপে উঠল, বুক দ্রুত ওঠানামা করতে লাগল। সে চমকে দু’হাত দিয়ে বুক আড়াল করতে চাইল,কিন্তু সায়মান সেটুকুও সুযোগ দিল না,, একই ভঙ্গিতে বাকি শাড়িটা খুলে টান দিয়ে ফেলে দিল ওয়াশরুমের এক কোনায়। নাফিসা আঁতকে উঠে, মুহূর্তেই আবার সায়মানের বুকে মুখ লুকিয়ে ফেলল———— যেন নিজের কে আড়াল করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে,পানির ধাক্কা আর আবেগ একসাথে সামলাতে পারছে না।
শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে দুজনের শরীর ঘনিয়ে এলো। পানি অবিরাম ঝরছে, চোখে-মুখে গড়িয়ে দুজনের ঠোঁটে, গলায় ফোঁটা ফোঁটা মিলেমিশে যাচ্ছে।
সায়মান হাত বাড়িয়ে ধীরে ধীরে নাফিসার গলা ছুঁলো। আঙুলের ডগা বেয়ে পানি নেমে এলো, আর সে যেন প্রতিটি ফোঁটা মুছে দিতে চাইছে। গলার পর হাত নামল কাঁধে, তারপর ———— যেন ধীরে ধীরে ওকে পরিস্কার করছে লাগল নিজের নিজের হাতের সাহায্যে , ভয় মুছে দিচ্ছে।
প্রতিটি ছোঁয়াতেই নাফিসা কেঁপে উঠছে । শরীর কাঁপছে, ঠোঁট কাঁপছে, চোখ আধো বুজে যাচ্ছে। নিঃশ্বাস এত ভারী হয়ে উঠল যে পানির শব্দের সাথেই মিশে যাচ্ছে।
হঠাৎ এক মুহূর্তে সায়মান ওর চিবুক ধরে মুখটা উপরে তুলল। চোখে চোখ মিলতেই সময় যেন থেমে গেল। দু’জনের চোখে পানির ফোঁটা ঝলমল করছিল———— কিন্তু ভেতরে ছিল এক ঝড়, এক টান, যেটা থেকে কেউই মুক্তি পাচ্ছে না।
নাফিসা নিঃশব্দে সায়মানকে আঁকড়ে ধরল, সারা শরীরের কাঁপুনি বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখল। শাওয়ারের পানি চারপাশ ভিজিয়ে দিচ্ছে, কিন্তু ওয়াশরুমের ভেতর সবচেয়ে ভারী দু’জনের নিঃশ্বাস———— ধীর, গভীর, অস্থির।
ওরা দুজন যেন এখন একে অপরের ভেতরেই ডুবে গেল…
শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে দুজনের শরীর ভিজে একাকার। ঠান্ডা পানির ধারায় চুল, মুখ, গলা———— সবকিছু ভিজে যাচ্ছে, কিন্তু ভেতরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে।
হঠাৎই সায়মান হাত বাড়িয়ে নাফিসার গাল দু’পাশে ধরে নিল। ওর ভেজা মুখটা শক্ত করে নিজের আঙুলের ভেতর আটকে নিয়ে গভীরভাবে তাকাতে লাগল। একেবারে চোখের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে মনে হলো সেই দৃষ্টি।
পানি ধীরে ধীরে নাফিসার মাথা থেকে গড়িয়ে নেমে আসছে। প্রথমে কপাল, তারপর ভ্রু বেয়ে, ঠোঁটের কোণে এসে থামল একফোঁটা, আরেকটা ফোঁটা গড়িয়ে গিয়ে গলার ভেতর মিলিয়ে গেল।
সেই দৃশ্য চোখের সামনে ধরা পড়তেই সায়মানের বুকের ভেতর ধাক্কা লাগল। অদ্ভুতভাবে সে এক ঢোক গিলে ফেলল———কেন যেন বুঝতে পারল না। যেন ওই পানির ফোঁটাগুলো নাফিসার ঠোঁট ছুঁয়ে নেমে যাচ্ছে দেখে ভেতরের পুরুষসত্তা হঠাৎ উত্তাল হয়ে উঠেছে।
একটা অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে ঢুকে গেল সে।
মুহূর্তের মধ্যেই ধীরে ধীরে মাথা ঝুঁকিয়ে নাফিসার ঠোঁটের দিকে এগিয়ে এলো। দু’চোখ বন্ধ করে ফেলল নাফিসা। নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠল। ঠিক পরের মুহূর্তে সায়মান নিজের ঠোঁট দিয়ে ওর ঠোঁট আঁকড়ে ধরল।
নাফিসা সেকেন্ডের ভেতরেই কেঁপে উঠল, কিন্তু তারপরই নিজেকে সামলে নিয়ে, দুই হাত বাড়িয়ে শক্ত করে সায়মানের ভিজে চুল মুঠো করে ধরল। যেন ওকে ছেড়ে দেওয়া মানে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া। এটাই মনে হলো নাফিসার জন্য কাল হয়ে উঠলো। সায়মানকে না চাইতেও উসকে দিল।
৩৪ বছরের প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের প্রতিটি ইন্দ্রিয় তখন উত্তাল। সেই চুম্বন এক মুহূর্তেই তাকে আরও উন্মাদ করে তুলল। ঠোঁটের প্রতিটি ছোঁয়ায় যেন সে নাফিসার ভেতর নিজের এক নতুন রাজত্ব শুরু করল।
শক্ত হাতে কোমর জাপটে ধরল, নিজের শরীরের সাথে আরও মিশিয়ে নিল নাফিসাকে। দু’জনের বুক একসাথে ধকধক করতে লাগল।
ঠোঁটের দীর্ঘ লড়াই শেষে সায়মান ধীরে ধীরে নিচে নামতে শুরু করল। ঠোঁট বোলাতে বোলাতে নামল গলা অব্দি। একেকটা ছোঁয়ায় নাফিসা শিউরে উঠছে । শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে তার কণ্ঠ থেকে চাপা ঘুঙরানি বেরিয়ে আসছে।
সায়মানের ঠোঁট এসে থামল গলার বাঁকানো জায়গায়। ওখানে নাফিসার ছোট্ট বিউটিবনের উপর কালো সেই তিল জ্বলজ্বল করছে। চোখের দৃষ্টি আটকে গেল সেখানেই। হঠাৎ করেই সে শক্ত করে দাঁত চেপে ধরল ওর ওপর, যেন এক অদ্ভুত অধিকার ঘোষণা করছে।
————“আহহহ!” শব্দ করে উঠল নাফিসা।
শব্দটা এত গভীর, এত অসহায় শোনালো যে ঘরের ভেতরের পরিবেশ মুহূর্তেই আরও বিদ্যুতায়িত হয়ে উঠল।
ঠিক তখনই সায়মান হঠাৎ থেমে গেল। যেন নিজের ভেতরের আগুনকে টেনে ধরে রাখতে পারছে না, অথচ চেষ্টা করছে।
সে ধীরে ধীরে নাফিসাকে ছেড়ে দিল। কয়েক কদম দূরে গিয়ে দেয়ালে এক হাত ঠেকিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়াল। বুক দ্রুত ওঠানামা করছে, জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। পানির ফোঁটাগুলো কপাল থেকে নেমে মাটিতে পড়ছে, কিন্তু তার ভেতরের অস্থিরতাকে ঠান্ডা করতে পারছে না।
———— শ্বাসের শব্দ এত ভারী যে মনে হচ্ছে চারপাশে বজ্রপাতের মতো গর্জে উঠছে।
অন্যদিকে নাফিসা পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, দুই চোখ আধো বুজে। ভিজে চুল কাঁধ জুড়ে ছড়িয়ে আছে। বুক দ্রুত ওঠানামা করছে, যেন হাঁপানি রোগীর মতো হাঁপাচ্ছে। প্রতিটি নিঃশ্বাসই যেন শরীরের ভেতরের ঝড়ের সাক্ষী হয়ে বাজছে।
ওয়াশরুমের ভেতর তখন আর শুধু শাওয়ারের শব্দ নয়———— দুজন নরনারীর দম ফেলার অস্থির শব্দ, এক অদ্ভুত নীরবতা, আর এক আবেগঘন মুহূর্ত যা কাউকে আর ছেড়ে যেতে চাইছে না…।
হালকা ধোঁয়ার মতো কুয়াশা জমে আছে বাথরুমের কাঁচের আয়নায়। শাওয়ারের ঝরঝরে শব্দ থেমে গিয়ে এখন শুধু পানির ফোঁটা টুপটাপ করে পড়ছে মেঝেতে। ভেতরের ভারী পরিবেশটা যেন এক অদ্ভুত নীরবতায় ঢেকে গেছে।
সায়মান গভীর এক শ্বাস টেনে নিল। চোখ বুজে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। তারপর ওয়াশরুমের কভাট খুলে সাদা তোয়ালেটা বের করে নিয়ে ধীরে ধীরে নাফিসার দিকে বাড়িয়ে দিল। কণ্ঠে গাম্ভীর্য, চোখে দমন করা আগুন——
————“এটা নাও। তোয়ালে পড়ে রুমে যাও, জামাকাপড় পরে নিও। আর আমার রুম থেকে আমার ড্রেস নিয়ে এসো ।”
কথাগুলো শোনার পর নাফিসার বুক আরও জোরে উঠানামা করতে লাগল। এতোক্ষণ পর্যন্ত যে কাঁপুনি শরীর ভর করেছিল, সায়মানের গম্ভীর স্বর সেটা আরও বাড়িয়ে দিল। চোখ বড় বড় করে তাকাল তার দিকে। হঠাৎই মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল———
—————“আপনার সামনে চেঞ্জ করব?”
বলার সাথে সাথেই জিভ কামড়ে ফেলল, মাথা নিচু করে ফেলল লজ্জায়।
সায়মান সঙ্গে সঙ্গে গম্ভীর গলায় ছুড়ে দিল কথা————
————“ইডিয়েট! আমি পিছন ঘুরে থাকছি। তুমি রুমে গেলে ফ্লোর ভিজে যাবে। তাই এখানেই চেঞ্জ করো, হারি আপ।”
এ কথা বলেই সায়মান পিছন ফিরে দাঁড়াল। চোখ বন্ধ করে গিলল একটা ঢোক। নিজের ভেতরের অস্থিরতা সামলাতে যেন প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
নাফিসার লজ্জায় মনে হচ্ছে কান দিয়ে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। গাল দুটো আগুনের মতো লাল হয়ে গেছে। ধীরে ধীরে ভিজে বাকি কাপড় শরীর থেকে নামিয়ে নিল। সায়মানের দিকে তাকালো,, এখনো পেছনে ঘুরে আছে একটা সরষ একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিল,, কাঁপা হাতে সাদা তোয়ালে জড়িয়ে নিল শরীরে। ভেতরে বুক ধপধপ করছে।
ওয়াশরুমের দরজা খুলে বাইরে বের হওয়ার সাথে সাথেই বুকের ভেতর হাত চাপা দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস ফেলল। মনে হচ্ছে ভেতরের ঝড়টা বুকে আর ধরে রাখা যাচ্ছে না।
নাফিসা বের হওয়ার সাথে সাথে একটা বড় নিশ্বাস ফেলে, সায়মান শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে আবার নিজেকে ভিজিয়ে নিচ্ছে। ঠান্ডা পানি গায়ে পড়ছে, কিন্তু ভেতরের আগুন নিভছে না। মাথা ফেটে যাচ্ছে যন্ত্রণায়। আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে গম্ভীর চোখে ফিসফিস করে উঠল———
————“এই মেয়েটার সামনে এলে আমি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি না। জানি না, এই পরিস্থিতি একদিন কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে…”
আরো কিছু ভাবনা ভাবতে থাকলো ভাবতেই ঠোঁটের কোনায় মৃদু হাসি দেখা দিল।
এদিকে নাফিসা নিজের ঘরে গিয়ে আলমারি খুলে ধীরে ধীরে জামাকাপড় বের করল। সাদা কটন কামিজ, হালকা নীল ওড়না পরে নিল। তবু বুকের ভেতর ধড়ফড় থামল না। মাথার ভেতরে বারবার ফিরে আসছে ওয়াশরুমের সেই মুহূর্ত———— সায়মানের গম্ভীর দৃষ্টি, ভিজে স্পর্শ, শরীরের গন্ধ… যেন এখনও চারপাশে ভাসছে।
ড্রেস পরে দরজা খুলে করিডরে পা রাখতেই চারদিক একেবারে নিস্তব্ধ। অন্ধকারে মৃদু হলওয়ের লাইট জ্বলছে। চারিদিক দেখে নিশ্চিত হলো, কাউকে দেখা যাচ্ছে না। স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে সাবধানে সায়মানের ঘরের দিকে হাঁটল।
ঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই বুকের ভেতর কেঁপে উঠল। সায়মানের রুমে গাঢ় পুরুষালী গন্ধ ভাসছে————মাটির মতো, কাঠের মতো শক্তিশালী। সেই গন্ধ যেন আবার নাফিসাকে মাতাল করে দিল। মাথায় ভেসে উঠল আবার সবে ঘটে যাওয়া মুহূর্তগুলো। মনে হতেই গাল জ্বলে উঠল লজ্জায়।
ধীরে ধীরে আলমারির কাছে গিয়ে হাত রাখল। ভেতর থেকে একটা অফ-হোয়াইট টি-শার্ট আর কালচে গ্রে টাউজার বের করল। পোশাক দুটো বুকে চেপে ধরে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ————মনে হচ্ছে, এই কাপড়ের গন্ধও তাকে সায়মানের আরও কাছে টেনে নিচ্ছে।
তারপর ধীরে ধীরে আবার দরজা খুলল। করিডরের চারপাশে একবার তাকাল। সব ফাঁকা। নিশ্বাস বন্ধ করে পা টিপে টিপে নিজের ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। দরজা ভিড়িয়ে ভেতরে ঢুকেই বুক ভরে নিঃশ্বাস ফেলল।
চারপাশ নিস্তব্ধ, কিন্তু ভেতরে ভেতরে নাফিসার হৃদস্পন্দন এখনও বজ্রপাতের মতো বাজছে। মনে হচ্ছে, আজকের রাতটা তার জন্য একেবারেই আর স্বাভাবিক থাকবে না…
খট করে ওয়াশরুমের দরজা খুলে যাওয়ার শব্দ হলো,সায়ামন বেরিয়ে এলো। সবকিছু এক মুহূর্তে ঘরের নিস্তব্ধতাকে আরও গভীর করল।
নাফিসার চোখ সেদিকের দিকে গেল। হা করে তাকিয়ে রইল———— সামনের দৃশ্য দেখে সে যেন নিশ্বাস আটকে গেল। সায়মান শুধুই একটি সাদা তোয়ালে দিয়ে নিজেকে ঢাকা রেখেছে। শ্যামলা বর্ণ শরীরের বুকের ওপর লমে জমে থাকা পানি এখনও ঝলমল করছে। কাঁধ, হাত———সব মাংসপেশি যেন সূক্ষ্মভাবে ফুটে উঠেছে। গোসলের পর তার শরীরের উজ্জ্বলতা, ভিজে চুলের ফোঁটা, ঠোঁটের কোণে পানি—————সব মিলেমিশে এক অদ্ভুত টান তৈরি করছে।
নাফিসা হা করে তাকিয়ে আছে। চোখ বড়, নিঃশ্বাস থেমে থেমে যাচ্ছে। তার ভেতরে শিশিরের মতো এক অচেনা অনুভূতি জাগল————লজ্জা, বিস্ময়, আগ্রহ সব মিলেমিশে। প্রথমবারের মতো সে সায়মানকে এভাবে দেখছে, আর ভেতরে মনের এক অদ্ভুত কেঁপুনি চলে এসেছে।
সায়মান সরাসরি নাফিসার দিকে তাকিলো । হা করে তাকিয়ে থাকা নাফিসাকে দেখে ভ্রু জোড়া কুঁচকালো। গম্ভীর কণ্ঠে বলল———
—————“ইডিয়েট! এভাবে হা করে কি দেখছ? তাড়াতাড়ি আমার ড্রেস দাও।”
নাফিসার ভেতরের রক্ত ঝরঝর করে। এতক্ষণ ধরে সে সায়মানকে চেয়ে রেখেছিল, আর সায়মান সেটা ধরে ফেলল———— ভেবে মনে হলো কান গরম হয়ে গেল। লজ্জায় মাথা ধীরে ধীরে নিচু হয়ে এলো।
ভেতরের অস্থিরতা সামলাতে সামলাতে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল। সায়মানের টি-শার্ট ও টাউজার হাতে তুলে দিল। মাথা নিচু রেখে আবার দূরে সরে দাঁড়ালো। বুকের ভেতর ধকধক করছে, নিঃশ্বাস জোরে উঠছে।
সায়মান দূরে দাঁড়িয়ে তার দিকে তাকাল। চোখে মনোযোগ, প্রতিটি ছোটো স্পর্শও খেয়াল করলো। ———“ তারপর চেঞ্জ করলো দূরত্ব। ”
নাফিসা মাথা নিচু করেই দাঁড়িয়ে আছে।
সায়মান ধীরে ধীরে টাওয়াল হাতে নিয়ে জামাকাপড়ের বালতি তুলে বেলকনির দিকে এগোল।
নাফিসা বালটির দিকে তাকিয়ে চোখ বড় বড় করে ফেলল। বালতিতে সাজানো জামাকাপড়ের দিকে তাকিয়ে তার মনের ভেতরে এক অদ্ভুত বিস্ময় জন্মালো————সায়মান জামা কাপড় ধুয়ে দিয়েছে, তার জামা কাপড়ের তো ছিল সেগুলো কি ধুয়ে দিয়েছে, সবকিছু ধুয়ে দিয়েছে । শুধু বাইরের কাপড় নয়, এমনকি ইনারও আচে তো । ভাবতেই ওর বুক ভারী হয়ে এলো, কানে গরম, চোখে অদ্ভুত টান।
একদিকে অবাক হওয়া,,তাড়াহুড়ো করে ওয়াশরুমের দিকে গেল নাফিসা ভিতরে ঢুকল। চোখে পড়ল————কোথাও আর কোনো জামাকাপড় নেই। পুরো শাওয়ারের সময়ের প্রক্রিয়া মনে পড়তেই তার হৃদয়ে এক অদ্ভুত মিশ্রিত বিস্ময় জেগে উঠল। কপালে হালকা ঘাম,সায়মান সব আর ভাবতে পারল না……. চোখের কোণে অল্প স্রোত দেখা দিল সাথে সাথে ———— কান্না ধীরে ধীরে ভেতর থেকে ছুটে আসছে।
নাফিসা ধীরে বাইরে এলো। তখনই দেখল সায়মান বেলকনি থেকে ফিরে আসছে। বেলকনির দিকে তাকিয়ে উঁকি মারল, কৌতূহল আর আতঙ্কের মিশ্রণে।
সায়মান সেটা দেখতে পেল। ওকে উঁকিঝুঁকি মারতে দেখে ভ্রু কুঁচকিয়ে এক চমকানো দৃঢ় চোখে ওর দিকে তাকাল। তারপর হঠাৎ, এক ঝটকায় এগিয়ে এসে নাফিসাকে কোলে তুলে নিল। নাফিসা চমকে উঠে অচেতনভাবে সায়মানের গলা আঁকড়ে ধরল। হৃদয়ের স্পন্দন দ্রুত, শরীর কেঁপে উঠছে ———— ভয়, বিস্ময় আর অচেনা আকর্ষণের এক অদ্ভুত মিশ্রণ।
সায়মান নীরবভাবে তাকে কোলে নিয়ে বেডের দিকে এগোল। বেডে পৌঁছেই ধীরে ধীরে শুইয়ে দিল। পাশে টেবিল থেকে এসির রিমোট তুলে চালু করল, বাতাসে নরম হাওয়া ছড়িয়ে দিয়ে ঘরের পরিবেশ আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করে দিল। রিমোট আবার জায়গায় রেখে, পায়ের কাছে ব্ল্যাঙ্কেট তুলে নাফিসার গায়ের ওপর ঢেকে দিল।
তারপর ধীরে ধীরে ঝুঁকে নাফিসার মাথা থেকে ওড়না সরিয়ে দিল। ভিজে চুলগুলো ছড়িয়ে দিল মনোযোগসহকারে, যেন প্রতিটি তার সংযম, ধৈর্য, মনোযোগ————সবকিছুই স্পষ্ট।
নাফিসা এক দৃষ্টিতে সায়মানের দিকে তাকিয়ে আছে। চোখের মধ্যে বিস্ময়, লজ্জা আর কৃতজ্ঞতার এক অদ্ভুত মিশ্রণ। নিঃশ্বাস নিয়েছে গভীর, মুখে সামান্য ঢোক। ভেতরের উত্তেজনা এবং শান্তির সমন্বয় যেন এই মুহূর্তে পুরো ঘরকে ভারী করে তুলেছে।
এক মুহূর্তের নীরবতার পর নাফিসা একটি গিলে উদ্বিগ্ন হয়ে নিজের ভিতরে,, জমিয়ে রাখা অনুভূতিগুলো বের করে দিয়ে বলল…
চৌদ্দের চিঠি পর্ব ২৭
——DSP সাহেব ভালোবাসি আপনাকে
আপনি মানেন আর না মানেন ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি।
আমাকে আবেগ বলে দূরে ঠেলে দিতে পারবেন না,
এটা আমার আবেগী না———এটা আমার স্বামীর প্রতি আমার ভালোবাসা।
যেটা আল্লাহ নিজে হালাল ভাবে আমার হৃদয়ে রোপণ করে দিয়েছেন।
তাই আপনি না মানলেও আপনাকে আমি ভালোবাসি স্বামীজান। এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে থেমে সায়মানের দিকে দৃষ্টি দিল….
