চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৩৩
আরোবা চৌধুরী আরু
সায়মান ধীর পায়ে এগিয়ে এলো নাফিসার দিকে।এক মুহূর্তের জন্য সামনে দাঁড়িয়ে রইল, তারপর এগিয়ে গিয়ে এমনি লাইট অফ করে ডিম লাইট জ্বালিয়ে দিল।
ঘরের লাইট অফ করে দাওয়াই নাফিসা কিছুটা জড়োসড়ো হয়ে বসলো।
তারপর বিছানার কাছে এসে ধীরে ধীরে খাটের ওপর এক’পা রেখে আর এক পা, ঝুলিয়ে বসলো।
রুমের ভিতরে দেওয়ালঘড়ি তখন টিকটিক করে এগিয়ে চলেছে। সায়মান একবার চোখ তুলল সেই ঘড়ির দিকে। কাঁটা তখন ১২-তে পৌঁছালো,
নাফিসা গোল গোল চোখে তাকিয়ে আছে কেবল সায়মানের দিকে। বুকের ভেতর দমবন্ধ করা উত্তেজনা, ঠোঁট কাঁপছে, শ্বাসপ্রশ্বাস যেন ভারি হয়ে আসছে।
হঠাৎই সায়মান ঝুঁকে পড়ল। দুই হাত দিয়ে নাফিসার দুই পাশ আটকে দিয়ে বন্দি করে ফেলল নিজের মাঝে। তারপর এক নিঃশ্বাসে ঝাঁপিয়ে পড়ল নাফিসার অধরে। আকস্মিক আঘাত সামলাতে না পেরে নাফিসা চিত হয়ে পড়ে গেল খাটে। সায়মানের ওজন, তার নিঃশ্বাসের গরম ছোঁয়া, আর হঠাৎ পাওয়া এই আঘাতে পুরো শরীর যেন কেঁপে উঠল।
অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়তে দেখে সায়মান নিজেও খানিকটা হতবাক হলো। তারপর দাঁতের দাঁত চেপে ওর দিকে তাকিয়ে—
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
— “ইডিয়েট! এইটুকু সামলানোর মুরোদ নেই, আবার আমার কাছে নিজের ভালোবাসা স্বীকার করতে আসো ?”
নাফিসার আঁখি-পল্লব তখন টইটুম্পুর অশ্রুতে ভরে গেল । সেই পানি দেখেই সায়মানের ভেতরটা যেন আরও গলতে লাগল। ধীরে ধীরে ও নাফিসার শরীরের ওপর আধশোয়া হয়ে এলো। ঠোঁটে শুকনো একটা চুম্বন একে দিল, তারপর ধীরে ধীরে মুখ গুঁজে দিল ওর গলায়।
নাফিসা গুমরে উঠল। কিন্তু সায়মানের স্পর্শ থামল না। গলার কাছে মুখ গুঁজে রেখেই ধীরে ধীরে ওর কানের কাছে চলে এলো। কানের লতিতে আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে ফিসফিস করে বলল—
— “Happy 4th Marriage Anniversary! You’ll be my little one forever.”
“বিবাহের ৪র্থ বার্ষিকী শুভ হোক! তুমি চিরকাল আমার ছোট্টটি থাকবে।”
আবারও নাফিসার গলায় নরম চুম্বন আঁকলো । নিজের নাক ঘষে দিল ওর কোমল গলায়। মৃদু হাসি দিয়ে আবার বলল—
— “My pocket-sized happiness (আমার পকেট ভর্তি সুখ)।”
নাফিসা স্তব্ধ হয়ে রইল। কানে বাজতে লাগল সায়মানের প্রতিটি শব্দ। মুখ থেকে শব্দ বের করতে গিয়েও পারল না, শরীরের ভেতর উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে, তবুও যেন পালাতে পারছে না সেই জাদুকরী আবেশ থেকে।
সায়মান থামল না। এবার তার শক্ত ঠোঁট নামিয়ে আনল নাফিসার বিউটি বনের ওপর। আলতো করে সেখানে চুমু এঁকে মৃদুস্বরে বলল—
— “Happy little doll of mine (আমার ছোট্ট পুতুল)।”
কিন্তু ঠিক পরের মুহূর্তেই দাঁত বসিয়ে দিল সেই বিউটি বণ এর ওপর থাকা কালো তিলের ওপর।
“আঁহহ…” ব্যথা আর লজ্জা মেশানো এক গুমরে ওঠা শব্দ বেরিয়ে এলো নাফিসার মুখ থেকে। চোখ বন্ধ করে শক্ত করে আঁকড়ে ধরল খাটের চাদর।
তবুও সায়মান থামল না আরো জোরালো ভাবে নিজের দাঁত চেপে ধরল। কিছুক্ষণ পর দাঁত বসানো জায়গাটাই ভরে দিল মৃদু ভেজা চুম্বনে। চুষে নিতে থাকল সমস্ত ব্যথা নিজের ওষ্ঠ দ্বারা, বিড়বিড় করতে লাগল—
— “Sweet baby wifey,, Pocket-size biwi (পকেট সাইজের বউ)।”
আস্তে আস্তে ঠোঁট নামিয়ে আনল নাফিসার গলার নিচে। একের পর এক চুম্বনে ভিজিয়ে তুলল পুরো গলা। নাফিসার শরীরের প্রতিটি স্নায়ু কেঁপে উঠছে, নিঃশ্বাস ভারি হয়ে আসছে।
সায়মানের হাত নেমে এলো নাফিসার জামা ভেদ করে ভেতরে। গরম তালু স্পর্শ করল নাফিসার পেট।
নিজেকে কোনো রকম সামলিয়ে, সঙ্গে সঙ্গেই নাফিসা নিজের হাত দিয়ে সায়মানের হাত আটকে দিল।
নিজের কাজে ব্যাঘাত ঘটায়, মুহূর্তেই সায়মানের ভ্রূ কুঁচকে উঠল। মাথা উঁচু করে তাকাল নাফিসার দিকে। চোখদুটো লালচে হয়ে আছে, ঠোঁট শক্ত করে চেপে ধরা।
Sweet baby wifey… কি হলো ” সায়মানের কণ্ঠে নেশা চোখে-মুখ দেখে সহজেই বোঝা যাচ্ছে,, হরমোনের তাড়নায় পাগল করে দিচ্ছে ওকে।
নাফিসা জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে, চোখে চোখ রেখে সায়মানকে বলল,
— “আপনি এতদিন আমাকে নিজের থেকে দূরে রেখেছেন কেন? না বলা পর্যন্ত… আমাকে স্পর্শ করতে পারবেন না।”
সায়মানও জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগল। সে নাফিসার উপর থেকে সরে গিয়ে পাশে শাটপাঠ হয়ে শুয়ে পড়ল। রুমে নীরবতা নেমে এলো।
নাফিসার ভিতরে হঠাৎ দ্বিধার ঢেউ উঠল। মনে হলো, হয়তো ভুল সময়ে ভুল কথা বলেছে। সায়মান কি রেগে গিয়েছে? কিন্তু ওর তো কিছু করার নেই সায়মান ওকে এখনো নিজের রহস্যের আড়ালে রেখেছে? নাফিসা নিজেকে স্থির করতে পারছে না।
কিন্তু পরক্ষণেই সায়মান নাফিসাকে নিজের দুহাত দিয়ে টেনে নিজের গায়ের ওপর তুলে শুয়িয়ে দিল। নাফিসা অনুভব করল—তার হৃদয় ধকধক করছে, সমস্ত শরীর উত্তেজনার ঝাপটায় কেঁপে উঠছে। সে হাত দিয়ে সায়মানের শরীরকে আলতো করে ছুঁয়ে ধরল।
সায়মান ওর মাথায় হাত বুলিয়ে ধীরে ধীরে কণ্ঠে স্নেহ মিশিয়ে বলল—
— “ আমার পিচ্চি পুতুলের থেকে এত বছর আমি দূরে ছিলাম, কারণ আমি চাইনি তোমাকে আগে থেকেই সম্পর্কের বেড়াজালে বাধা দিতে। —আমি চাইতাম তুমি প্রস্তুত হও, আমার হাত ধরে সত্যের সঙ্গে দাঁড়াও। আমি চাইতাম তুমি নিজে চাও, নিজে বুঝো, কতটা মূল্যবান তুমি আমার জীবনে। তুমি নিজে থেকে আমার আমাকে গ্রহণ করো। তোমার সমস্ত আবেগ আমাকে ঘিরে হোক, জোর জবরদস্তি করে না। এই চার বছরের প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত, আমি শুধু তোমাকে দেখেছি, তোমাকে ভালোবেসেছি… আর আজ, তোমার কাছে আসা হলো, কারণ আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না।”
নাফিসা কেবল নীরবে মাথা উঁচু করল, সায়মানের চোখে চোখ রেখে, হৃদয়ে অনুভব করল—সব অপেক্ষা, সব রহস্য, সব ধৈর্য্য ছিল সার্থক।
আজকের আমাদের বিবাহ বার্ষিকী এটা আপনি মনে রেখেছেন।
সায়মান নিজের উত্তেজনা সামলাতে পারছে না। সে নাফিসার দিকে তাকাল একবার তারপর এক ঝটকায় নাফিসাকে নিজের নিচে টেনে ফেলল ওর ওপর আধশোয়া হয়ে সে তার চোখে থাকা নেশা আর উন্মাদনা প্রকাশ করল।
নাফিসা কিছুটা হেলাফেলা করে তাকালো, কিন্তু সায়মানের চোখের দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করল সে কি হতে যাচ্ছে। সায়মান গা-ভরে ফিসফিস করে বলল, “প্লিজ, আর একটা কথা জিজ্ঞেস করিস না বউ। আমার হরমোন আর আমাকে শান্ত হতে দিচ্ছে না।”
বলেই নাফিসার অধরে তার অধর মিলিয়ে দিল। উন্মাদের মত করে তার হালাল বউ এর অধর নিজের আয়ত্তে নিচ্ছে।নাফিসা সায়মানের উন্মাদনাকে সামলাতে না পেরে নিজের হাত দিয়ে তার পিঠ আঁকড়ে ধরল।
সায়মান এবার নাফিসার অধর ছেড়ে দিয়ে গলায় চুমু দিয়ে ভিজিয়ে দিতে থাকল, মাঝে মাঝে ছোট ছোট কামড় বসিয়ে
দিচ্ছে । নাফিসা তার তার স্বামী নামক হালাল পুরুষের স্পর্শগুলো সামলে নিচ্ছে,, যদিও বা অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। কিছু সময় পর,সায়মান নাফিসার গলা থেকে মুখ তুলে আবার নাফিসার অধরে নিজের অধর মিলিয়ে দিল।
এবার শুধু অধরের আক্রমণ করেই থেমে নেই, নিজের শক্ত হাত গলিয়ে দিল নাফিসার জামা ভেদ করে। পুরো শরীর জুড়ে ওর হাত বিচরণ করা শুরু করল । তার পর ধীরে ধীরে হাত আরো উপরে নিয়ে গেল নাফিসার নারী সত্তাকে স্পর্শ করে চাপ প্রয়োগ
করতেই । নাফিসা মৃদু গুমড়িয়ে উঠলো,,
সায়মান এবার নাফিসার জামাই ভিতর থেকে হাত বার করে নাফিসাকে হালকা উঁচু করে জামার চেন নিচে নামিয়ে দিল।
নাফিসার আটকে উঠলো,, জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে নিজের হাত সায়মানের হাতের উপর দিয়ে বাধা দিতে গেলে। সায়মান নাফিসার দিকে একবার তাকিয়ে,, ওর জামাটা একটা টান দিয়ে খুলে টান মারলো।
নাফিসা লজ্জায় মাথা নিচু করে সায়মানের বুকে মাথা গুঁজে দিয়ে নিজেকে আড়াল করতে চাইলো।
আচ্ছা ডিম লাইটের আলো সেটা বুঝতে পেরে সায়মানের ঠোঁটে কোনাই মৃদ হাসির রেখা দেখা দিল।
সায়মান তার পিচ্চি বউয়ের ওই বাহু ধরে নিজের বুকের থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে শুইয়ে দিল বালিশের উপর। আস্তে আস্তে বাকি বস্ত্র চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলো৷ নাফিসা আর বাধা দিলনা তার স্বামীজান কে।
৩৪ বছরের সায়মান জীবনে প্রথমবার তার হালাল নারীর প্রকৃত স্পর্শে এলো।
সেই মুহূর্তে যেন সব হিসেব, দিন-তারিখ, দায়িত্ব—সব ভুলে গেল সে। শুধু এক অজানা নেশা, এক অদম্য আকর্ষণ তাকে ঘিরে ফেললো। নাফিসার শরীরের উষ্ণতা তার বুকের ভেতর ঢেউ তুলে দিল।
সায়মানের চোখে তখন একরাশ ঝড়—ভালোবাসা, চাওয়া আর দমিয়ে রাখা আবেগের বিস্ফোরণ। সে যেন নিজের সমস্ত হুশ হারিয়ে বসলো। চারপাশ থমকে গেল, শুধু রয়ে গেল দু’জনার নিঃশ্বাসের আওয়াজ, বুকের ভেতর ঢাকের মতো বাজতে থাকা হৃদস্পন্দন।
নাফিসা হাঁসফাঁস করতে লাগলো, শ্বাসপ্রশ্বাস ভারি হয়ে উঠলো। তবু সায়মানের হুসনি যেন অচল, সে নিজের আবেগে এতটাই মগ্ন হয়ে পড়েছে যে এক চুল সরতেও নারাজ। তার ভেতরে জমে থাকা বছরের পর বছর দমিয়ে রাখা আকুলতা আজ যেন মুক্তির পথ খুঁজে পেল।
ধীরে ধীরে ঘর ভরে উঠলো দু’জনার নিঃশ্বাসে, একে অপরের শরীর থেকে ভেসে আসা তাপে। ঘরের নীরবতাকে ভেঙে দু’জনার আবেগমাখা শ্বাসরোধী পরিবেশ ছড়িয়ে পড়ল চারপাশে। যেন প্রতিটি দেয়াল, প্রতিটি আসবাবপত্র, বাতাস—সবাই তাদের এই মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে থাকলো।
সেই ঘরে তখন শুধু সায়মান আর নাফিসা—দুই নরনারী, যাদের স্পর্শে ভালোবাসা, কামনা আর হালাল সম্পর্কের পবিত্র বন্ধন মিলেমিশে এক অমোঘ আবেশ সৃষ্টি করলো।
দীর্ঘ সময়ের উন্মাদনা শেষে অবশেষে সায়মান ক্লান্ত শরীর নিয়ে নাফিসার কাছ থেকে একটু সরে এল। তবে দূরে নয়—সে হাত বাড়িয়ে নাফিসাকে টেনে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিল। নাফিসার বুক ওঠানামা করছে অনিয়মিতভাবে, সমস্ত শরীর তার ক্লান্তি আর ব্যথায় ভারাক্রান্ত।
নাফিসা কাঁপা হাতে সায়মানের বুকে হাত রাখল,
সায়মান তার আঙুলগুলো আলতো করে চুলের ভেতরে ঢুকিয়ে দিল।
নাফিসার দিকে দৃষ্টি দিল, ওর চোখের কোণ ভিজে উঠেছে, ঠোঁট কাঁপছে,সায়মান অবশেষে নরম কণ্ঠে প্রশ্ন করল—
— “খারাপ লাগছে ?”
সায়মানের কথাটা শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ নাফিসা শব্দ করে কেঁদে ফেলল। তার কণ্ঠ কাঁপছে, শরীর ব্যথায় জর্জরিত। প্রতিটি শ্বাস যেন তাকে ভেঙে টুকরো করে দিচ্ছে।
ছোট্ট বউকে এমন ফুপিয়ে কাঁদতে দেখে সায়মানের বুকটা হাহাকার করে উঠল। সে নাফিসার অশ্রুতে ভেজা মুখে আলতো করে একের পর এক চুমু আঁকলো। ফিসফিস করে বলল—
— “সরি Sweet baby wifey… ঠিক হয়ে যাবে, প্লিজ কান্না করো না।”
তারপর ধীরে ধীরে সায়মান উঠে বসলো। পাশে রাখা জামা ঠিক করল, চুলে হাত বুলিয়ে একটু নিজেকে গোছালো। চোখ ফিরিয়ে আবার তাকাল নাফিসার দিকে। দেখল, ছোট্ট বউটা চাদরে গলা অব্দি জড়িয়ে গুটি মেরে শুয়ে আছে, চোখ বন্ধ করে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে।
সায়মানের বুকের ভেতরটা ভেঙে যেতে লাগল। সে আস্তে করে চাদরটা দিয়ে আরো ঢেকে দিল,তার পিচ্চি পুতুলকে নিজের বাহুতে নিয়ে কোলে তুলল। ধীর পায়ে এগিয়ে গেল ওয়াশরুমের দিকে।
ওয়াশরুমে গিয়ে শাওয়ার অন করতেই ঠান্ডা পানির ছোঁয়ায় নাফিসার শরীর ঝাঁকিয়ে উঠল। ব্যথায় জর্জরিত শরীর নিয়ে সে এক চুল নড়তে পারল না, বরং শক্ত করে সায়মানকে আঁকড়ে ধরল। সরে আসতে চাইলো, কিন্তু ব্যথা আর দুর্বলতায় শরীর তার কথা মানল না। মাথা হালকা হয়ে ঘুরে উঠল। শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে হলো—আজ তাকে নিজের স্বামী নামক হালাল পুরুষের হাতেই গোসল সেরে নিতে হবে।
সায়মান খুব যত্ন করে নাফিসাকে গোসল করিয়ে দিল। তারপর ঘরে ফিরে গিয়ে নিজের তার ধূসর রঙের শার্টটা হাতে নিল। বিছানায় পড়ে থাকা চাদর আর নাফিসার জামা-কাপড়ও তুলে গুছিয়ে নিল ওয়াশরুমে দিয়ে সবগুলো বালতিতে রেখে দিল।
ওয়াশরুমে দাঁড়ানো নাফিসার গায়ে আলতো করে নিজের শার্ট জড়িয়ে দিল। তারপর তাকে আস্তে করে কোলে তুলে আবার ঘরে ফিরে এল।
বিছানায় শুইয়ে দিয়ে, আলমারি থেকে আর একখানা চাদর নিয়ে এসে নাফিসার গায়ে টেনে দিল । সায়মান তোয়ালে দিয়ে ওর ভেজা চুল মুছে দিল ধীরে ধীরে। শেষমেষ শুকনো একটা চুমু দিল ঠোঁটে, মাথায় হাত বুলিয়ে ফিসফিস করে বলল—
— “ঘুমিয়ে পড়ো, seelp… আমি আসছি।”
চলে আসতে চাইলে নাফিসা তার হাত আঁকড়ে ধরল। সায়মান মৃদু হেসে নিচু হয়ে বলল—
— “ওয়াশরুমে যাচ্ছি, ফ্রেশ হয়ে এখনই আসছি। তুমি ততক্ষণ ঘুমাও।”
এরপর সে ওয়াশরুমে গেল। ভেতরে থাকা সমস্ত জামাকাপড় ভালো করে ধুয়ে নিল। নিজেও ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এলো। বাইরে এসে বালতিটা বারান্দায় নিয়ে গিয়ে জামা-কাপড়গুলো মেলে দিল।
ফিরে এসে টেবিলের ওপর রাখা ফোনটা হাতে নিল। সাইফানকে মেসেজ করল—কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আসার জন্য। কারণ, ঘরে কোনো কাপড় নেই, আর শুকাতে সময়ও লাগবে। না চাইলেও তাকে এখন ওর ওপর নির্ভর করতেই হবে।
সব কাজ শেষ করে ফোনটা টেবিলে রেখে সায়মান আবার বিছানায় গেল। দেখল, নাফিসা ইতোমধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েছে। তার মুখটা শান্ত, যেন গভীর ক্লান্তির ঘুম তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।
সায়মান ধীরে ধীরে ওর পাশে শুয়ে পড়ল। নাফিসাকে নিজের কাছে টেনে নিল, মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে তাকিয়ে রইল ওর মুখের দিকে। কখন যে নিজেও ঘুমিয়ে গেল, বুঝতেই পারল না।
পরদিন সকাল। সূর্যের আলো ঘরের জানালার পর্দা ভেদ করে আলো ভরিয়ে তুলেছে। ঘড়িতে তখন সকাল দশটা।
নাফিসা এখনো সায়মানের বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে। অন্যদিন হলে ভোরে উঠে যেত, কিন্তু আজ ক্লান্তি তাকে গভীর ঘুমে আবদ্ধ করে রেখেছে।
হঠাৎ বাইরের দরজার শব্দে সায়মানের চোখ মেলে গেল। একটু ধাতস্থ হয়ে সে চারপাশে তাকাল, তারপর আলতো করে নাফিসার দিকে ফিরল। দেখল, সে তখনো ঘুমে তলিয়ে আছে। নাফিসার কাল ফালতু চুমু দিয়ে।
সায়মান খুব সাবধানে উঠে দাঁড়াল, ধীর পায়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল…
সায়মান খালি গায়ে, কোমরে শুধু একটা টাওয়াল জড়িয়ে দরজা খুলল।
সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সায়ফান তাকিয়ে রইল হাঁ করে। এক নজরে মাথা থেকে পা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করতেই ওর চোখ ছোট হয়ে গেল।
সায়ফান চোখ কুঁচকে,, ভাই! তুমি আমার ছটুর সাথে কি অপকর্ম করেছো বলো তো? গায়ে এসব দুষ্টু দুষ্টু আঁচড় কেন? তোমারে দেখে মনে হচ্ছে আমার ছটুরে শুধু আদরই না, পুরাই গিলে খাইতে চেয়েছো!
সায়মান বিরক্তিতে কপাল কুঁচকালো।
তোর মুখটাই গিলে ফেলব এবার, আজেবাজে বকিস না। নিয়ে এসেছিস যেগুলো নিয়ে আসতে বলেছিলাম।
সায়ফান অভিযোগ ভরা গলায় বলল : ছিঃ ভাইয়া, ছিঃ! আমার ছটুর সাথে এমন… এমন অপকর্ম! আবার আমাকে, এই গরীব সিঙ্গেল মানুষকে দিয়ে কি সব আনাচ্ছ!
চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৩২
সায়মান সায়ফানের হাত থেকে ব্যাগটা এক প্রকার ছিনিয়ে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল।
সায়মান ভেতরে ঢুকতে ফিরতেই সায়ফান আবার গলা ঝাড়ল,
তোমাদের দিন এখন আহা! আমি যে এখনো এক আঁচড়ও পাইলাম না কারো কাছ থেকে… শুধু মশা কামড়ায় ছাড়া হাই…
