Home জাহানারা জাহানারা পর্ব ১৮

জাহানারা পর্ব ১৮

জাহানারা পর্ব ১৮
জান্নাত মুন

আমি বিছানার উপর ধপাস করে বসে পড়লাম। রা’গে নিজের চুলগুলো কে ছিঁড়তে ইচ্ছে করছে। অধিক ক্রোধান্বিত হয়ে দু হাতে চুল টেনে ধরে শব্দ করে শ্বাস নিতে লাগলাম। খুব ঘৃণা করি এই ইফান চৌধুরীকে। ও শুধু আমার রে”পিস্টই নয়, আমার জীবিত আত্মার খু*নী। কিন্তু আমি ওকে এত সহজে মা’রবো না। যেভাবে তিলতিল করে আমি পুড়ছি ঠিক সেই ভাবেই ওকে পুড়াবো। অত্যাধিক উত্তেজনার ফলে বুকের বা পাশের হৃদপিন্ডটা গতি হারাচ্ছে। হৃদয়ে ভয়ংকর রকমের ব্যথা শুরু হয়েছে। এই ব্যথা আজও প্রকাশ করতে পারি নি আর না কখনো পারবো। আর এক মূহুর্ত দেরি করলাম না।জামাকাপড় না নিয়েই ওয়াশরুমে ঢুকে পড়লাম শাওয়ার নিতে। এটা নতুন কোনো কিছু নয়। গত চার বছর ধরেই এটা করে আসছি। যখনই অন্তরে দহন শুরু হয়, নিজেকে ঠিক করে সামলাতে পারি না– তখনই শাওয়ার নিতে চলে যায়। হোক দুপুর কিংবা মধ্যে রাত।

কৃত্রিম ঝরনার নিচে গিয়ে চোখ বন্ধ করে দাঁড়ালাম। সেই জলধারায় যখন মাথার চুল ও শাড়ি ভেজা ঢুকঢুকে হয়ে গেছে তখন বন্ধ করে দিলাম। আস্তে আস্তে শাড়ি ব্লাউজ সহ শরীরের সব বস্র খুলে বিলাশ বহুল বাথটবটায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম। বাথটবের পানির মিশার লো টেম্পারেচারে চালিয়ে দিলাম। অতঃপর প্রচন্ড ক্লান্তিতে চোখগুলো বন্ধ করলাম। খুবই ধীরে ধীরে পানি দিয়ে বাথটবটা পূর্ণ হতে থাকে।আমি চোখ বন্ধ করেই বেশ কয়েকবার জোরে জোরে শ্বাস-প্রশ্বাস নিলাম। আজকের আবহাওয়া এমনিতেই শীতল কিন্তু তা আমাকে স্পর্শ করতে পারছে না। মনের ভিতরের অগ্নী স্ফুটনকে শীতল করার জন্যই টেম্পারেচার আরো লো করে রাখলাম। বেশ সময় নিয়ে বাথটবটা পূর্ণ হচ্ছে। সাথে নিভতে থাকে ভেতরে ধাও ধাও করা আগুন। এখন খুব হালকা লাগছে। মনে হচ্ছে কষ্টগুলো সাময়িক সময়ের জন্য উধাও হয়ে গেছে। ধীরে ধীরে বাস্তব জগত থেকে হারিয়ে যেতে থাকি। চোখের সামনে ভেসে উঠছে সেই সুখময় দিনগুলোর প্রতিচ্ছবি। আমার অজান্তেই কখন যে কম্পিত ওষ্ঠ কোণে হাসির রেখা ভেসে উঠলো আমি নিজেও জানি না। এভাবেই পা দিলাম ফেলে আশা এক ক্ষীণালোক অতীতে __

সারা রুম সুভাসিত তাজা তাজা ফুল দিয়ে। বিছানার মাঝখানে আমি বসে আছি বউ সেজে। মাথায় বিশাল বড় ঘোমটা টেনে রাখা। অধীর আগ্রহের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রুমে প্রবেশ করে কাঙ্ক্ষিত পুরুষটি।দরজা লাগিয়ে ধীরে ধীরে আমার কাছে এসে পাশে বসে। আমি ল’জ্জায় সিটিয়ে যেতে থাকি। সবাই আমাকে বেপরোয়া নি’র্লজ্জ ঠোঁট কাটা বললেও লোকটার সামনে কেমন যেন মিলিয়ে যাই। লোকটা আমার ঘোমটা টানা দোপাট্টাটা সরিয়ে থুতনি ধরে উঁচু করে, নুইয়ে যাওয়া মুখটা। আমি ল’জ্জায় চোখদুটো বন্ধ করে নিই। লোকটা আমার ল’জ্জা মিশ্রিত লালছে মুখাদল দেখে মুচকি হাসল। অতঃপর সেডাকটিভ টোনে ডেকে উঠল ,

–“জারা।”
কি ভয়ংকর মিষ্টি এই পুরুষালী টোন। যে একবার শুনবে নিশ্চিত সেই বশীভুত হবে। মোহিত হয়ে আমি চোখ তুলে তাকালাম লোকটার দিকে। যতটা না লোকটার কন্ঠ মাদকীয় তার চেয়ে দ্বিগুণ শুভ্র চেহারা তার। শ্যামবর্ণের মায়াবী মুখটায় খুঁচা খুঁচা দাড়ি ভরপুর। এই মুখে একবার যে তাকাবে সে সহজে চোখ সরাতে পারবে না। শুভ্র রঙের পাঞ্জাবি পড়ে আছে। নিত্য দিনের মতো ঘন কালো চুলগুলো উষ্কখুষ্ক হয়ে কপালে পড়ে আছে। তাতে লোকটার কোনো খেয়াল নেই। তারপর বেশ কিছু সময় চোখেচোখে কথা হলো। আমার নে’শা ধরে গেছে লোকটার মায়াবী চোখ জোড়ায়। কিছু তো একটা আছে সেই চোখে যা আমাকে বার-বার বাস্তব দুনিয়া থেকে নিয়ে যায় এক কল্পনার শহরে।আমি যখন পুরোপুরি মোহিত তখন আবারো কানে আসে লোকটার মাদকীয় কন্ঠ স্বর।

–“জারা জান।”
-“উমম।”
গভীর ঘোরে তখনও। সেভাবেই লোকটার ডাকে সারা দিলাম। আমার মুখাধ্বনি লোকটার কানে পৌঁছাতেই মৃদু হাসলো। ভীষণ মিষ্টি সেই হাসি। একটা পুরুষ এতটা মায়াবী কি করে হতে পারে আমি ভেবে পাই না।
–“জান আর ইউ রেডি ফর টুনাইট ?”
সেই একই সেডাকটিভ টোনে বাক্যটা উচ্চারণ করলো। আমি ল’জ্জায় আরও নুইয়ে যেতে থাকি। লোকটা সময়ের সাথে একটু একটু দূরত্ব ঘুচাতে লাগলো। নিজের পাঞ্জাবি টা খুলে ছুড়ে ফেলে দিয়ে আমার লাল টকটকা শাড়ির আচলটা খুব যত্ন করে কাঁধ থেকে নামিয়ে নিলো। শুনিপুন তার প্রতিটা পদক্ষেপ। আমি ল’জ্জায় আচমকা তার বলিষ্ঠ বুকে মুখ লুকালাম। আমার কাজে লোকটা মৃদু হাসলো। মাথা আলতো করে হাত বুলিয়ে কপালে শব্দ করে চুমু খেলো। আমি বুঝতে পারছি না আজ আমার এত ল’জ্জা লাগছে কেন? এই লোকটাকে তো সেই ছেলেবেলা থেকেই মনে জায়গা দিয়ে বসেছিলাম। বয়সের সাথে সাথে তাকে কাছে পাওয়ার ইচ্ছে গুলো আরও গভীর হতে থাকে। আজ সেই পূর্ণতা প্রাপ্তির দিন তাহলে আমার আজ কি হলো?

আমার সামনে এখন আমার স্বপ্নের পুরুষ যাকে আমি আমার সর্বস্ব দিতে সর্বদা প্রস্তুত। সেই শখের পুরুষটা আজ সময়ের সাথে আরও গভীর ভাবে আমার সাথে মিশে যাচ্ছে। আমার কাঁধে অসংখ্য চুমু একে ভরিয়ে দিচ্ছে। ধীরে ধীরে চুমু গলার নিচ দিয়ে থুতনি বেয়ে ঠোঁট পর্যন্ত থামে। আমার থলপেটে কেমন যেন করছে। মনে হচ্ছে সেখানে চঞ্চল লক্ষ প্রজাপতি উড়ছে। নিজেকে সামলে রাখতে পারছি না। এ ভীষণই অস্বস্তিকর অনুভূতি। তবে এই অনুভূতি সব সময় হয় না। যখনই লোকটা আমার আসেপাশে থাকে তখন এমনটা হয়। লোকটা আমার বন্ধ করে দেওয়া চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।উনাকে থেমে যেতে দেখে আমি আস্তে করে চোখ খোললাম। কি মায়া ভরা দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে। এই চোখ দুটোকে কখনোই এড়িয়ে যাওয়া যায় না।আবার নেশা ধরে গল। আমার মোহিত দৃষ্টি দেখে লোকটা আবারও মৃদু হাসলো। আর সময় নষ্ট না করে একে অপরের মধ্যকার সকল দূরত্ব ঘুচাতে থাকি। খুব যত্ন নিয়ে লোকটা আমাকে বালিশে শুইয়ে দিলো। সাথে সে নিজেও আমার উপর নিজের ভার ছেড়ে দিয়ে ওষ্ঠ দিয়ে মধু শুধা আহরণে লিপ্ত হয়। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ভারী হয়ে আসে শ্বাস প্রশ্বাস।

আমার বেহাল শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা দেখে ওষ্ঠ মিলনের ইতি টানে। আবার কিছুক্ষণ একে অপরের দিকে গভীর দৃষ্টিতে চেয়ে রইলাম। লোকটা বারবার ঢোক গিলে কিছু ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঢুক গিলার সময় তরঙ্গায়িত হচ্ছে পুরুষালী “এডামস অ্যাপল”। যা দেখে আমি আরো অস্থির হয়ে পড়লাম। তলপেটের প্রজাতিগুলো আরো জোরে জোরে উড়তে আরম্ভ করলো। আমি আর নিজেকে আঁটকে রাখতে পারলাম না। আমিও ঢুক গিলে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলাম। ব্যস লোকটা এতক্ষণ ধরে বুঝাতে চাওয়া ইঙ্গিত পূর্ণ ব্যক্যের উত্তর পেয়ে যেতেই আবারো ওষ্ঠ মিলনে আবদ্ধ হলো। জিহ্ব দিয়ে লেহন করতে করতে কানের লতিতে এসে থামে। অতঃপর নেশালো কন্ঠে আবারো একটি শরীরে কাঁপন ধরানো বাক্য উচ্চারণ করে।

❝এইটুকু বয়সে এইটুখানি শরীরে আমাকে কিভাবে সহ্য করবে জান? But now i can’t stop anymore. Let’s get lost in a different world today,জানপাখি।❞
আর কোনো বাক্য বিনিময় হওয়ার সুযোগ হলো না।আমার শখের পুরুষটার অত্যাধিক উত্তেজনা স্বাদরে গ্রহণ করতে লাগলাম। আমাদের দুজনের শরীরে না আছে কোনো বস্র আর না আছে ন্যানো সেন্টিমিটার দূরত্ব। দুজনেই মিশে একাকার। তার করা স্পর্শগুলো কখনো কোমল তো কখনো যন্ত্রণাদায়ক। যা আমার ভেতরের নারী সত্তাকে নাড়িয়ে দিচ্ছে বারংবার। বদ্ধ অন্ধকার রুমে দু’জন মেতে উঠলাম এক উন্মাদনার খেলায়। একই চাদরের নিচে দু’জনেই প্রেম তৃষ্ণা নিবারনে মত্ত। পুরো রুমে ভিন্ন ভিন্ন সুগন্ধি তাজা ফুলের সুভাষের সাথে মিশে প্রতিটি দেয়ালে প্রতিফলিত হচ্ছে আমাদের উন্মাদনার আওয়াজ।আমাদের দুজনের মহা মিলনের সামিল হতে মনের গহীন থেকে বেজে উঠলো গানের সুর,

……সারদি কি রাতো মে
হাম সোয়ে রাহে এক চাদার মে
হাম দোনো তানহা হো না কই ভি রাহে ইস ঘার মে..

লোকটার স্পর্শগুলো যখন আরো বেশি বেসামাল রুপ ধারণ করে তখন আমি আর নিজেকে সামলাতে পারছিলাম না। ওকে ছাড়াতে চাইছি তবু পরছি না। ও আমার হাত-পা দুটো ওর দু হাত পায়ের বাঁধনে বেধে ফেলে। ওর ওষ্ঠগুলো হঠাৎই ভয়ংকর রুপ নেয়। দম বন্ধ হয়ে আসছে তাই আমি কাঁদু কাঁদু স্বরে বললাম,
–“ছা ছাড়ুন না প্লিজ,,”
আগের ন্যয় কানে বারি খেলো তার মাদকীয় হাস্কি স্বর,
–“উমম সবে তো ধরলাম এখনই আবার কিসের ছাড়াছাড়ি?”
না সত্যি আমি আর পারছি না। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। মনে হচ্ছে আমার শ্বাস নালি কেউ চেপে ধরেছে। বড্ড কষ্ট হচ্ছে। মনে হচ্ছে, এই বুঝি দম বন্ধ হয়ে এখনই মা’রা যাবো। আমার বেসামাল শ্বাসরুদ্ধকর অস্থিরতার মধ্যে কোথা থেকে ভেসে আসছে দুটো মানবীর কন্ঠ স্বর। একটা মেয়ে ভীষণ চিৎকার করে ডাকছে,

–“জাহান আপু আর কত ঘুমাবে তাড়াতাড়ি উঠ।”
মেয়েটার চেচামেচির মধ্যে আরেক প্রান্ত থেকে একজন কোমল কন্ঠে আস্তে আস্তে ডাকছে,
–“বুলবুলি, বুলবুলি।”
আবার দুটো কন্ঠ স্বর এলোমেলো ভাবে কানে বারি খাচ্ছে । আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না, কারণ ইতি মধ্যে মনে হচ্ছে শ্বাস আটকে গেছে। ধীরে ধীরে দেহটা নিথর হয়ে যাচ্ছে। এরই মাঝে মেয়েটার অস্পষ্ট স্বর স্পষ্ট হয়ে গেল,
–“জায়ান ভাইয়া একটু আগে ঢাকা বিমানবন্দরে ল্যান্ড করেছে। আব্বু, জ্যাঠামণি আর ভাইয়া তাকে ড্রপ করে আনতে বেড়িয়ে গেছে। কি হলো উ,,,,,,”
আবার অপর প্রান্ত থেকে পুরুষালী কোমল কন্ঠটা কাঠিন্যে পরিণত হয়ে কানে ঝংকার তুললো,

–“শা*লির মেয়ে আমাকে না মে*রেই ম*রার ধান্দা করছিস?”
আবার দুটো কন্ঠ একত্রে মিশে গেল। দুজনেই ভিষণ চেঁচামেচি করছে। বারবার তাদের একটা শব্দই কানে আসছে,
–“উঠো, উঠ বলছি, উঠো……..”
আমার শরীরের সকল রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই তো আর কয়েক সেকেন্ড তারপরই জাহানারা নামটা সকলের থেকে মুছে যাবে। মৃত্যুর শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও আমার অজান্তেই ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠলো। কারণ আমার প্রিয় মানুষটা হাত বাড়িয়ে আমাকে তার কাছে ডাকছে। মোহিত হয়ে যখন তার হাত ধরে ঐ প্রান্তে চলে যাবো তখনই ঐ দু’জনের ডাক শেষ বারের মতো কানে আসলো,

–“জায়ান ভাইয়া চলে এসেছে আপুওওও…”
আরেক প্রান্ত থেকে চেচিয়ে উঠলো,
–“খা*ন*কি মা*গী তাড়াতাড়ি শ্বাস নে, না হলে কিন্তু থাপরে তোর সা*উ*য়া ফাটিয়ে দিবো।”
দু’টো মানুষের চেঁচামিচির মাঝে তড়িৎ গতিতে চোখ খুলে, পানির নিচ থেকে মাথা ভাসালাম একটা শব্দ উচ্চারণ করে,
–“জায়ান ভাই….”

আমার বেলকনিতে প্রস্থান দেখে ইফানও মাতাল নোহাকে তার রুমে দিয়ে আসতে যায়। অনেকদিন পর নোহা দেশে ফেরায় ইফান আর নোহার ফ্রেন্ড রা পার্টি অ্যারেঞ্জ করে। যার কারণেই বাসায় ফিরতে অনেক রাত হয়ে যায় তাদের। আর ইফান নোহাকে রুমে দিয়ে আসতে গেলেই বাঁধে আরো বিপত্তি। নোহা কিছুতেই ইফানকে ছাড়তে চাইছিলো না।তার একটাই কথা,
–“বেইবি আজ আমার সাথে ঘুমাও না প্লিইইইজ।”
–“চুপ কর শা*লি। একটা হাই বোল্টেজ চুম্মা দেওয়ার এক্টিং করেছি এটাই তোর চৌদ্দ গোষ্ঠীর ভাগ্য। এঁটো জিনিসে সেকেন্ড টাইম মুখ দেয় না ইফান চৌধুরী । তবে আমার ঝাঁঝওয়ালি হলে আবার অন্য কথা।”

ইফানের ধমক কোনো কানেই তুলছিলো না নোহা। চিনা জোকের মতোই ধরে রেখেছিল ইফান কে। নোহা ইফানের শুধু কাজিনই নয় ওরা গুড ফ্রেন্ড। তাই নোহাকে ইফান ফেলেও চলে আসতে পারছিলো না । বেশ খানিকটা সময় লাগে মাতাল নোহাকে ঘুম পারাতে। নোহা ঘুমিয়ে পড়তেই মুখ ফুলিয়ে শ্বাস বের করে ইফান। তারপর আমাদের রুমে আসে। সেখানে আমাকে দেখতে না পেয়ে ইফানের কপাল কুঁচকে যায়। পুরো রুমে একবার চোখ বুলিয়ে আবার বেলকনিতে যায়। সেখানেও আমাকে না পেয়ে বুঝতে পারে আমি ওয়াশরুমে। সারাদিন বাইরে থাকায় তার ফ্রেশ হওয়া জরুরি। দু হাত বিছানায় ভর দিয়ে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে বেশ কিছু সময়। এতক্ষণেও আমাকে বের হতে না দেখে ওয়াশরুমের দরজার কাছে আছে।

দরজা হালকা খোলা ছিল। তখন আমি তাড়াহুড়ো করে ঢুকে গিয়েছিলাম তাই লাগাতে ভুলে যাই। দরজা খোলা পেয়ে ইফান ভেতরে ঢুকে। অতঃপর সেখানেও আমি নেই। তার চোখমুখ শক্ত হয়ে যায় আমাকে না পেয়ে। বিরক্তি নিয়ে দু আঙ্গুল কপালে ঘষতে থাকে। হঠাৎ করেই চোখ পরে আমার দিকে। বাথটপ ভরতি পানিতে ডুবন্ত ন*গ্ন ফর্সা শরীর চকচক করছে। খালি মুখটা হালকা উপরে ভেসে আছে।

এভাবে বস্ত্রহীন আমাকে ইফান অসংখ্য বার দেখেছে। কিন্তু কখনো গভীর চাউনি দিয়ে পরখ করতে দেখিনি। আজ প্রথম সে আমাকে গভীর দৃষ্টিতে দেখছে। ডুবন্ত ন”গ্ন দেহটা পানিতে কেমন সুন্দর গ্লো করছে। তারপর আমার মায়াবী মুখটায় পলকহীন তাকিয়ে থাকে। ভীষণ মায়াবী চেহারা যে একবার দেখবে সেই প্রেমে পড়তে বাধ্য। এই তো কি সুন্দর লাগছে ভেজা ঘন কালো চোখের পাপড়িগুলো। আস্তে আস্তে চোখ পড়ে আমার গোলাপি ঠোঁটে। ঠান্ডায় আমার ঠোঁট গুলো অস্বাভাবিক ভাবে কাঁপছে। এটা দেখে ইফানের টনক নড়ে যায়। সময়ের সাথে সাথে মুখও তলিয়ে যেতে থাকে। ইফান বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে। সে আমার উপর ঝুকে কোমল কন্ঠে ডাকতে থাকে। আস্তে আস্তে আমার ঠোঁটগুলো নীল হয়ে যেতে দেখে ইফানের বুঝতে আর দেরি হয় নি আমি আসলে নিজের মধ্যেই নেই।

আমি তখনই চোখ খোলে পানির তল থেকে মুখ ভাসিয়ে উঠতে উঠতে উচ্চারণ করলাম,
–“জায়ান ভাই…”
–“জানোয়ার, তোমার ব্যক্তিগত জানোয়ার, তোমার রে*পিস্ট,,,”
সবে একটা ঘোর থেকে উঠার ফলে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকলাম। তখনই ইফানের কণ্ঠ কানে আসতেই মস্তিষ্ক আবার সচল হয়। ওর দিকে তাকাতেই দেখতে পেলাম ইফানের রণমুর্তি। একটু আগেও এতটা রেগে ছিল না। কিন্তু হঠাৎই তার চোখগুলো ভীষণ রকম ভাবে লাল বর্ণ ধারণ করে। আমি বুঝতে পারছি না তার রেগে থাকার কারণ।
–“ম*রতে চাইছিলি, এত সহজ। আর এত সহজেই আমি তোকে মুক্তি দিয়ে দিবো কি করে ভাবলি?”

আমি ঘৃণা ভরা দৃষ্টিতে ইফানের দিকে তাকালাম। আমার শরীর এই মূহুর্তে কেমন নেতিয়ে গেছে। ইফানের সাথে ঝগড়া করা তো দূর, কথা বলার শক্তিটাও পাচ্ছি না। আমার এমন বেহাল অবস্থা দেখে ইফানের চোখগুলো আবার শীতল হয়ে গেলো। নিজের ঘামে জবজবে শার্টটা খুলে ফেলে দিলো। অতঃপর হাত বাড়িয়ে পানি থেকে আমার ন*গ্ন নেতিয়ে পড়া দেহটা পাজাকোলে তুলে নিয়ে রুমের দিকে যাওয়া ধরলো। আমার হাত, পা, ঠোঁট অস্বাভাবিক ভাবে কাঁপছে। ইফান এটা খুব মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করছে। তারপর রুমে নিয়ে গিয়ে আমাকে অতি সন্তপর্ণে বিছানায় শুইয়ে দিলো। কিন্তু আমি বস্ত্রহীন থকায় উঠতে চাইলাম শরীর ঢাকার জন্য।

তবে পারলাম না। শরীরে এক বিন্দু পরিমাণ শক্তি নেই। হাত বাড়িয়ে ইফান লাইটের সুইচ অফ করে দিয়ে পুরো ঘর অন্ধকার করে ফেললো। বাগান থেকে বেলকনির দিক দিয়ে হালকা হলুদ আলো ঘরে প্রবেশ করে। যার কারণে স্পষ্ট কিছু দেখা না গেলেও অবয়ব দেখা যায়। আমিও দেখতে পেলাম ইফানকে আমার উপর ঝুঁকে পড়তে। ঐভাবেই কিছুক্ষণ আমার শরীরের মাত্রা অতিরিক্ত কম্পন অনুভব করল। তারপর আমার কপালে শব্দ করে গভীর চুমু খেল। এতে আমি ঘৃ’ণা নিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিলাম। এখনোও ইফান সব সময়ের মতো ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো, ক্ষিপ্ত হলো না। তারপর তার ঘামে ভেজা শরীরটা আমার ন*গ্ন দেহের সাথে মিশিয়ে দিলো।কানের কাছে হাস্কি সরে জানান দিলো,

–“তুমি আমার বৈধ স্ত্রী অথচ আমি তোমাকে কখনো বৈধ ভাবে স্পর্শ করিনি। আমি সারাজীবন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তোমার রে*পিস্ট হয়েই থাকবো। বিলিভ মি জান, আমাদের মধ্যে কখনো বৈধ স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক কিংবা প্রেম ভালোবাসার মতো ফা*কিং রিলেশন তৈরি হবে না। লিসেন কেয়ারফুলি,
“Our relationship will forever remain tainted.”

আমি নিজের মধ্যে নেই। একটা ঘোরে এখনো আটকে আছি। আমার উপর ইফান তার কর্তৃত্ব ফলাতে মগ্ন। আমার বাঁধা দেওয়ার সাধ্যও নেই। সময় যত যাচ্ছে আমার বাস্তব জ্ঞানটাও বিলীন হয়ে যাচ্ছে। শুধু মস্তিষ্ক জায়ান ভাইয়ের অগাধ বিচরণ। ঘোরের মধ্যেই কেমন যেন ইফানকেই বড্ড আপন মনে হলো।তেমন করেই প্রিয় মানুষটাকে কাছে টানতে ইচ্ছে করলো। পরম আবেশে চোখ বন্ধ করে নিজের অজান্তেই দুর্বল হাত জোড়া দিয়ে এই প্রথম জড়িয়ে ধরলাম আমার চোখে সবচেয়ে জঘন্যতম পুরুষটাকে। কেন জানি বার বার মনের গহীনে উঁকি দিচ্ছে গানের সেই সুর,,,

জাহানারা পর্ব ১৭

তেরি কাসাম, মুঝে সানাম দূর কাহি না যা এ
……..দূরি কিতনা হে মেরে পাস আজা রে…
জারা জারা ব্যাহেকতা হে
ম্যাহেকতা হে, আজ তো মেরা তান বাদান
মে প্যায়াসি হো মুঝে ভার লে আপনি বাহো মে….

জাহানারা পর্ব ১৯