জাহানারা পর্ব ১৯
জান্নাত মুন
রাতের প্রকৃতির তান্ডব শেষ হয় ভোরের দিকে। সকাল হওয়ার সাথেই কেটে যায় সকল অন্ধকার। সূর্য উদয়ের সাথে প্রকৃতি আবারো ফিরে আসে তার চাকচিক্য রুপে। পূর্ব দিকে থেকে আসা সূর্যের তীর্যক রশ্মি বৃষ্টি ভেজা সবুজ ঘাসের উপর জমে থাকা বিন্দু বিন্দু কণাগুলোর উপর পড়ায় মুক্তোর মতো চকচক করছে। ব্যস্ত শহরটা আবারও ব্যস্ততায় রুপ নিয়েছে।সকাল হতে না হতেই পথিকরা ছুটছে নিজ গন্তব্যে।যানবাহন, মানুষ, পশুপাখি একথায় সকল কিছুর কোলাহলের মিশ্রণে ভরপুর এই ব্যস্ত জন নগরী।
গতরাতে আমার উপর দিয়ে গেছে ভয়ংকর একটা ঝড়। এই ঝড় প্রকৃতির নয়, আমার চোখের বি’ষ ইফান চৌধুরীর তোলা। সেই ঝড় কখন যে থেমেছে আমি বলতে পারবো না। সকাল আটটা বাজে। আমি এখনো সেন্স লেস হয়ে বিছানায় শুয়ে আছি। বাম হাতে ক্যানুলা লাগানো। শেষরাত থেকে এখনো সেলাইন চলছে। অনেক সময় ধরে হিমশীতল পানিতে ডুবে ছিলাম বলে রাত তিনটার দিকে শরীর কাঁপিয়ে জ্বর আসে। আমার এমন অবস্থা দেখে ইফান ভীষণ বিরক্ত হয়। কারণ আমার দোষেই শরীরের এমন বেহাল দশা হয়েছে। কিন্তু বেশিক্ষণ বিরক্তি ধরে রাখতে পারেনি। অধিক মাত্রায় জ্বর উঠায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে আর কি চৌধুরী বাড়ির ফ্যামিলি ডাক্তারকে কল করে। মাঝ রাত হওয়ায় তিনি আসতে রাজি হয় নি। এতে খ্যাপা বাঘ আরও খেপে যায়।সারে তিনটার দিকে চৌধুরী বাড়িতে ডক্টরকে ইফানের লোকজন তুলে নিয়ে আসে। তারপর আমাকে সেলাইন, ওষুধ পত্র দেয়। উনার কাজ শেষ হলে আবারও ইফানের লোকেরা দিয়ে আসে।
সেই তখন থেকেই জেগে আছে লোকটা। রুমের আলোটা ম্লান। সকল দরজা জানালা বন্ধ, কিন্তু তার সামনে সাজানো ক্রিস্টাল-টপ টেবিলটা ঝলমল করছে দামি “হুইস্কি”বোতলের প্রতিফলনে। প্রতিটি বোতলই যেন অহংকারে দাঁড়িয়ে আছে। তার সামনে সিঙ্গেল কাউচটায় পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে ইফান চৌধুরী। উদাম শরীর নিচে একটা পেন্ট তাও আবার বিপদ সীমার নিচে নেমে আছে। ঠোঁটের কোণে সিগারেটের শলাকা। কিছুক্ষণ পরপর কুন্ডলী করে মুখ বড়তি ধোঁয়া ছাড়ছে। সে ধীরে ধীরে একটা ডেক্যান্টার তুলে নিল, গাঢ় অ্যাম্বার লিকুইডটা গ্লাসে ঢেলে swirling করলো, যেন প্রতিটি ফোঁটার দাম পরিমাপ করছে। গম্ভীর মুখাবয়ব, গ্লাস ঠোঁটে ঠেকিয়ে একবার ছোট ছোট চুমুক নিচ্ছে আরেকবার সিগারেট ধরছে ঠোঁটের ফাঁকে। তার নিস্প্রভ দৃষ্টি আমার দিকেই নিক্ষিপ্ত আছে। অনেকটা সময় আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে যেন আমার মধ্যে কোনো কিছুর সন্ধান করছে আপন মনে। তারপর ঠোঁটে জ্বালিয়ে রাখা সিগারেটের শলাকাটার শেষ অংশটুকু পায়ের নিচে পিষে কাউচে শরীর এলিয়ে দেয়। চোখ বন্ধ রাখে বেশ কিছু সময়। অতঃপর অস্পষ্ট ভাবে বিরবির করে,
“নারী তুমি ভীষণ ভয়ংকর। তাই তো তোমাকে পুড়াতে আমার এত আয়োজন।”
ইফান আর বেশিক্ষণ ভাবতে পারলো না। তার ভ্রম ভঙ্গ হয় দরজায় জোরে জোরে করাঘাতে। অতন্ত্য বিরক্তি নিয়ে দরজার দিকে একবার তাকায়। তখনই নোহার চেঁচানো গলা শুনতে পায়।
–“ডার্লিং এখনো বেড রুমে কি করছো? ওপেন দ্যা ডোর, আমিও তোমাকে একটু কোম্পানি দেই।”
নোহার গলার আওয়াজ শুনে বিরক্তি তে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে ইফান। আমার দিকে একবার তাকিয়ে দরজার দিকে পা বাড়ায়। ইফান দরজা খুলতেই ওর প্রশস্ত বুকে শরীর লাগিয়ে দু হাতে গলা জড়িয়ে ধরে নোহা। নেকামি করে বলে,
–“বেইবি কাল রাতে কখন রুম থেকে চলে এলে? ডু ইউ নো সকালে তোমাকে দেখতে না পেয়ে কতটা হার্ড হয়েছিলাম?”
–“না এভাবে হবে না। এখন দেখছি থাপ্প”ড়েই তর কু”রকু’রানি থামাতে হবে।”
ভীষণ রাগে চোয়াল শক্ত করে বাক্যটা ছুড়লো ইফান। এতেও নোহার কোনো হেলদোল নেই। গলা জড়িয়ে ধরা নোহার হাতটা ছাড়তে ছাড়তে ইফান দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
–“দূরে সর বা*ন্দির বাচ্চা। আর না তো এখানেই পু*তে দিয়ে সারা জীবনের জন্য বেডা মানুষের সাথে তর ঘষলা-ঘষলি বন্ধ করার ব্যবস্থা করবো।””
–“দিন রাত চব্বিশ ঘন্টায় রুমে কি করিস? নাকি ভাবি চব্বিশ ঘন্টায় তোকে সার্ভিস দেয়।আউচচচ!”
আরেকটা পুরুষালী কন্ঠ স্বর কানে পৌঁছাতেই সেদিকে দৃষ্টি ঘুরায় ইফান। পঙ্কজ হাসতে হাসতে নোহা আর ইফানের মাঝে দাড়ায়। পঙ্কজের নোংরা ইঙ্গিত পূর্ণ বাক্যটা শুনে রাগে চোখ লাল টকটকে হয়ে গেছে ইফানের। নিজের রাগ কন্ট্রোলে রাখতে দু হাত মুষ্টি বদ্ধ করে ফেলে। এদিকে পঙ্কজ একই ভাবে দাঁত কেলিয়ে হাসছে। তার চোখগুলো ইফানের চেয়ে অত্যধিক লালচে। অধিক মাত্রায় নে”শা করলে এমনটা হয়ে থাকে। ইফান চোখ বড় বড় করে চোয়াল শক্ত করে পঙ্কজের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।পঙ্কজ সে সবে পাত্তা দিলো না।
–“আর কত একা একা এমন সুন্দরীর সার্ভিস নিবি? আমাকেও একবার সুযোগ করে দে ভাই।”
শেষ কথাটা বলতে বলতেই ইফানের বাহুতে সামান্য ধাক্কা দিয়ে রুমে প্রবেশ করতে চায় পঙ্কজ। কিন্তু তা তো হলোই না বরং ইফানের শক্ত পোক্ত হাতের চাপেঘাত পঙ্কজের বাম গালে পড়ে। আচমকা ইফানের শক্ত হাতের থাপ্পড় খেয়ে তাল সামলাতে না পেরে পড়ে যেতে নিলে নোহার উপর পড়ে যায়। নোহা শক্ত ভাবে না দাঁড়ালে দু’জনেই মুখ থুবড়ে পড়তো। ইফানের হাতের চড় খেয়ে পঙ্কজের হাত মাত্রা অতিরিক্ত কাঁপতে থাকে। রাগে ওর চোখ গুলো আরও ভয়ংকর রুপ নেয়। ইফান এক পা এগিয়ে পঙ্কজের সামনে দাঁড়ায়। নোহা ভয়ে কাঁপছে। সে ইফান কে খুব ভালো করে চেনে। এখন ইফানকে দেখে তার মনে পড়ে যায় আজকের মতোই একই ভাবে ইফানকে নোহা ভীষণ রাগতে দেখেছিলো।তারপর যা হয়েছিলো, না নোহা আর ভাবতে পারে নি। তার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। এদিকে দু জোড়া ক্রোধিত নয়ন নির্ভয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে। এভাবেই দাঁতে দাঁত চেপে রাগে রিরি করতে করতে ইফান আরেকটি বাক্য ছুড়লো,
–“এটাই লাস্ট টাইম ওয়ার্ন করছি। ওর থেকে তোর কু দৃষ্টি দূরে রাখবি বা”স্টার্ড। আই রিপিট এগেইন,
আমার বউকে ছোঁয়া তো দূর আমি ওর ত্রিসীমানায়ও যদি তোকে দেখি তাহলে তোর বা*ল চুলগুলো একটা একটা করে ছিড়বো।”
পঙ্কজের রাগ আরও বেড়ে চলেছে। সে জন্যই হাত দুটো মুষ্টি করে নিয়েছে। এদিকে ইফানের কথাটা নোহার মুটেও পছন্দ হয় নি। তাই নাক ছিটকে বলেই ফেলে মনের কথাটা,
–“বেইবি বা*ল চুল তো মেয়েদের থাকে ব্রো তো ছেলে….”
বাকিটা আর শেষ করতে পারে নি মেয়েটা। তার আগেই ইফান কড়া দৃষ্টি ওর দিকপ তাক করে ৷ অতঃপর চেঁচিয়ে উঠে ইফান,
–“তুই শা*লি চুপ থাক। না হলে তর সা’উয়ার ভাইয়ের বদলে তর গুলোই ছিরবো, বি’চ।”
ইফানের রাম ধমকে মেয়েটার অন্তর আত্মা কেঁপে ওঠে। এদিকে পঙ্কজ ইফানের দিকে তেড়ে আসতে নিলেই পেছন থেকে আরেকটি মেয়েলি কন্ঠ স্বর কানে আসে। যার ফলে নিজেকে কোনো মতে সামলে নেয় পঙ্কজ।
–“What are you doing here? You’ve all gone crazy. এত সকালে তোমরা বাচ্চাদের মতো চেচামেচি করছ! What happened?”
ধমকাতে ধমকাতে নুলক চৌধুরী ওদের তিন জনের মধ্যে এসে দাঁড়ায়। অত্যন্ত দাপটে একজন মহিলা। মধ্যবয়সী অথচ নাবিলা চৌধুরীর মতোই তার পদচারণ, ভাব ভঙ্গিমা। এখনো যুবতী মেয়েদের মতো নিজেদের সৌন্দর্যকে ধরে রেখেছে। উচ্চতায় নাবিলা চৌধুরীর থেকে সামান্য উঁচু। তারপরও হাই হিল পড়ে চলাফেরা করে। সকল দিক দিয়েই ফরেনার বুঝালেও পড়নের শাড়ি তাদের বাঙালি নিশ্চিত করে। আজকেও একটা কালো Singhania’s এর প্রিমিয়াম কালেকশনের দামি শাড়ি পরনে। বলতে গেলে এই বাড়ির সকলেই শাড়ি পড়ে আর শাড়ির প্রাইজ হাই লেভেলের। যেমনটা আমি আর পলি ও পড়ে থাকি।
–Why aren’t you answering?”
নুলক চৌধুরীর কাটকাট প্রশ্নের উত্তরে ইফান মুখ খুললো। দাঁত কটমট করে বললো,
–“নিজের ছেলেকে সামলে রাখবে মিমি। এক কথা আমি বারবার রিপিট করবো না। এর পরও যদি আমার নির্দেশ না মানে তাহলে আমিও ভুলে যাব পঙ্কি তোমার ছেলে।”
ইফান রাগে বাক্যটা বলেই রুমে ঢুকে ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দেয়। এদিকে অনুভূতিহীন ভাবে বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে নুলক চৌধুরী। তার চোখ মুখ স্বাভাবিক, নেই কোনো রাগ আর না তো হিংসার প্রতিচ্ছবি। বেশ কিছু সময় সেভাবে তাকিয়ে থেকেই পিছন ফিরে যে পথ দিয়ে এসেছিল সেই দিকেই চলে যায়। যাওয়ার আগে নোহা আর পঙ্কজ কে ডাকে,
–এখুনি আমার রুমে আস দু’জন।
মায়ের সাথে নোহাও হাঁটা ধরে।এদিকে পঙ্কজ আরও কিছুক্ষণ ক্রোধিত নয়নে বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে। আর বার বার হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে নাকে ঘষতে থাকে। অতঃপর ক্রুর হেসে বিরবির করে,
–“আর কতদিন পাখিকে খাঁচায় বন্দী করে রাখবি ডিয়ার? very soon, তোর বেড থেকে এই পরীটাকে তুলে এনে আমার বেডে শুয়াবো।
I swear.”
প্রায় সারে বারোটার দিকে আমার ঘুম ভাঙে। তখন আমার শরীর একদমই ফুরফুরে লাগছিল। রাতের সেই ক্লান্তি আর দুর্বলতা কেটে গিয়েছে। তবে শরীর এখনো গরম। ভেতরে জ্বর এখনো কিছুটা আছে। রুমের সকল দরজা জানালায় পর্দা ফেলা। তাই রুমটা মৃদু অন্ধকারাচ্ছন্ন। চোখটা ঘুরাতেই দেখতে পাই আমার পাশে পলি আর ইতি বসে আছে। তখুনি রাতের সব কিছু পরিষ্কার মনে পড়ে যায়। আমি সারা রুমে একবার চোখ বুলিয়ে দেখি লোকটা এখনও রুমে আছে কিনা। আমার দৃষ্টি বুঝতে পেরে পলি বলে,
–“ইফান ভাইকে খুঁজছ ভাবি? কিন্তু ভাইয়া তো তাড়াহুড়ো করে বাবা আর কাকাইকে নিয়ে বেড়িয়ে গেছে রাজনৈতিক কাজে। কি সব ঝামেলা হয়েছে তাই।”
পলির কথার পিছে মুখ কাঁদু কাঁদু করে ইতি বলে উঠলো ,
–“বড় ভাইয়া দিনদিন শ’য়তান হয়ে যাচ্ছে। দেখনা তোমার নাকি রাত থেকে শরীর খা’রাপ আর আমাদের কে বেড়িয়ে যাওয়ার আগে জানিয়েছে।”
আমি ইতির মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম। মেয়েটা আমাকে আর পলিকে ভীষণ ভালোবাসে। আমি মৃদু হেসে বললাম,
–“বোকা মেয়ে মন খা’রাপ করছ কেন? এই দেখ আমি ঠিক আছি।”
আমার কথার পিছে পলিও মুখটা গুমরা করে বলে,
–“আর বলো না ভাবি, সকাল থেকে ইতি ভীষণ ভয় পেয়ে আছে। আর এখন তোমার শরীর খা’রাপ দেখে তখন কেঁদেও ছিল।”
পলির কথায় আমি চোখ সরু করে তার দিকে তাকালাম,
–“কেন পলি কি হয়েছে?
পলি একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেললো,
–“আর কি বলবো ভাবি কদিন ধরে দেশে যা শুরু হয়েছে। এই দেখ সকাল সকাল নিউজ টিভিতে দেখলাম একটা দশম শ্রেণির স্কুল ছাত্রীকে দুর্বৃত্তরা রে*প করে দিয়াবাড়ি লেখের পাশের জঙ্গলটায় ফেলে দিয়ে গেছে।”
–“আবারো?”
পলির কথা শুনে আমি অবাক হয়ে প্রত্যুত্তর করলাম।এদিকে ছোট ইতি ভয়ে আমার সাথে আরও মিশে গেছে। পলি মনমরা হয়ে উত্তর দিলো,
–“না জানি মেয়েটার পরিবারের কি অবস্থা। কিন্তু জানো ভাবি..”
আমি প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিতে তার দিকে চেয়ে। সে আবারো বলতে আরম্ভ করলো,
–“যে মেয়েটার লা*শ পুলিশ উদ্ধার করেছে তার পরনে আগের লা”শগুলোর মতোই লাল শাড়ি। লা*শ দেখে মনে হচ্ছিল নববধু। অথচ শরীরের ভিতরে শতশত কাটা*ছেঁ*ড়া দাগ।”
ফ্রেশ হয়ে যোহরের নামাজ আদায় করলাম। কিছুক্ষণ পরেই রুমে দাদি আসে। মানুষটার বয়স হচ্ছে দু তলায় কখনো উঠে না হাঁটুতে ব্যথা তাই। কিন্তু আমার শরীর খা’রাপ বলে আর না এসে থাকতে পারে নি। বেশকিছু সময় আমার কাছে বসে গল্প গুজব করেছে। আর দাদির গল্প গুজব মানেই হাদিস শুনানো। এই বৃদ্ধ বয়সে তছবি জপা ছাড়া মানুষ টার আর কোনো কাজ নেই। উনার আদরের ছেলেরা পানিটাও ওনাকে নিজের হাতে খেতে দেন না। মা’র প্রতি সন্তানের এমন আদর যত্ন দেখে ভীষণই ভালো লাগে। তবুও দাদির একটা কষ্ট রয়েই যায়। এই যে হাদিস শুনানোর ফাঁকে ফা্কে মৃত দাদা কে নিয়ে নিজের ভালোবাসার কথা শেয়ার করেন। এটা ভীষণ ভালো লাগে। কষ্টও লাগে নিজের জন্য। দাদার মতোন যদি আমার ঘরের মানুষটাও হতো। অনেকক্ষণ আমার কাছে দাদি থাকে তারপর দাদিকে ইতি নিয়ে যায়। ইফান কড়া আদেশ দিয়ে গিছে বাড়ির সকলকে, আমি যাতে কিছুতেই নিচে না নামি। তাই তো একটু পরপর পলি না হয় ইতি আবার কাকিয়াও এসে দেখে যাচ্ছে।
দুটোর দিকে পলি দুপুরের খাবার নিয়ে রুমে আসে। তার পিছে পিছেই আসে নাবিলা চৌধুরী। এই প্রথম আমি এই বাড়িতে আসার পর এই রুমে ঢুকে নাবিলা চৌধুরী। শুধু নাবিলা চৌধুরীই নয় তার বড় বোন নুলক চৌধুরীও এসেছে। নাবিলা চৌধুরীর আচরণ খিটখিটে। যদিও ওনার ব্যক্তিত্বটাই এই স্বভাবের যা এতদিনে বুঝলাম। কিন্তু নুলক চৌধুরীর আচরণ কেমন যেন অস্বাভাবিক। এই যে সব সময় অনুভূতিহীন ভবে আমার দিকে কেমন তাকিয়ে তাকে যা ভীষণ অস্বস্তিকর। তবে একদমই কথা বলে না।একদিনে যা বুঝলাম এই বাড়ির সদস্য ছাড়া কারও সাথেই তেমন কথা বলে না। এমনকি পলির সাথেও ঠিকঠাক করে বলে না।
–“এখন শরীর কেমন?”
নাবিলা চৌধুরীর গম্ভীর স্বর কানে বাজতেই ভাবনা থেকে বেড়িয়ে আসলাম। নাবিলা চৌধুরী আমার শরীরের অবস্থা জানতে চাইছে এটা অবাক করা বিষয়। আমি পলিকে জিগ্যেস করলাম,
–“এই পলি আমি কি ঠিক শুনছি?”
আমার কথায় পলি ভরকে গেল। ভয়ে ভয়ে নাবিলা চৌধুরীর দিকে তাকালো। একটু আগের স্বভাবিক চেহারাটা নিমিষেই শক্ত হয়ে গেল নাবিলা চৌধুরীর। এদিকে নুলক চৌধুরী আমার দিকে তাকিয়েই কেমন বিরবির করলো। অতঃপর তিনি বিনা বাক্যে রুম ত্যাগ করলো। এদিকে নাবিলা চৌধুরী চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,
–“অসভ্য মেয়ে একটা। বেশ হয়েছে শরীরের এমন হাল হয়ে। আরো সারাদিন জামাই নিয়ে পড়ে থাক ঘরে। এখন তো শুধু জ্বর হয়েছে কালে কালে আরও কত কি যে দেখবো!”
তিনি একদমে বলেই যাওয়া ধরলেন। ওনার এমন কথায় আমার মুখ হা হয়ে গেছে। উনার কথা শুনে আবার পলির দিকে তাকালাম,
জাহানারা পর্ব ১৮
–“এই পলি সাসু মা শেষে কি বললো এটা?”
এরই মাঝে নাবিলা চৌধুরী রুম থেকে বেড়িয়ে পড়লেন। আমি আর পলির উত্তর শুনার অপেক্ষায় রইলাম না। কারণ এই প্রথম উনি আমাকে বেশি কথা শুনিয়ে চলে যাচ্ছে। এটা আমি কি করে হতে দিই।তাই আমিও গলা ছেড়ে উনাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বললাম,
–“সে তো দেখবেনই। কদিন পর আমার বাচ্চা কাচ্চারা আমারই রে*পি*স্টকে বাবা বাবা বলে ডেকে সারা বাড়িতে ছুটে ছুটে বেড়াবে। তখন আরো ভালো করে দেখবেন….”
