Home জাহানারা জাহানারা পর্ব ২৭

জাহানারা পর্ব ২৭

জাহানারা পর্ব ২৭
জান্নাত মুন

রাত পেরিয়ে ভোরের আলো ফুটছে।এখনো ধরণী সম্পূর্ণ আলোকিত হয় নি।রাতে ইফানের যন্ত্রণায় ঠিক মতো ঘুমাতে পারি নি।কি আশ্চর্য ব্যাপার, তার শরীর এখনো সুস্থ হয় নি।এমনকি রাতে ডক্টর এসে মাথার রক্তভেজা গজটা খুলে আবার নতুন করে ড্রেসিং করে গেছে। সাথে বারবার বলে গেছে উত্তেজিত না হতে। যে হাই ভোল্টেজ উত্তেজিত মানুষ সে নাকি উত্তেজিত হবে না! ডাক্তারের কথা শুনে ভিষণ হাসি পেয়েছিল।ইফান সারারাত কিছুক্ষণ পরপর ঘ্যানঘ্যান করেছে তার সাথে ঘনিষ্ঠ হতে।আমার ঝাড়ি খেয়ে কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবারও একই কাজ করেছে। তারপর শেষ রাতে আমার বুকে মুখ গুজে ঘুমিয়েছে।

ঘুমের মধ্যে কেমন যেন অস্তিত্ব ফিল হচ্ছে। আমি পিটপিট করে চোখ খুললাম। আমার বুকের মধ্যে এখনো ইফান আমাকে খুব আষ্টেপৃষ্টে তার সাথে মিশিয়ে রেখেছে।ইফান সাথে থাকলে বেলকনির দরজাটা রাতে খোলাই রাখি। আজও তাই, সেখান দিয়ে ভোরের মোলায়েম আভায় ইফানের চেহারার একাংশ দৃশ্যমান।খনিকের জন্য আমার দৃষ্টি আঁটকে যায় ওর ঘুমন্ত চেহারায়। আমি অপলক তাকিয়ে রইলাম। যদিও কখনো না ওকে মন থেকে দেখেছি আর না দেখবো। তবে এভাবে ওকে খুব স্নিগ্ধ আর নিষ্পাপ লাগছে। আপসোস ঘুমন্ত এই মানুষটা যতটা না স্নিগ্ধ আর নিষ্পাপ বাস্তবে ঠিক ততটাই ভয়ংকর আর নিকৃষ্ট। আমি তো ইফানের থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম। আমি তো কখনো চাইনি ওর সাথে পুনরায় সাক্ষাৎ হোক।চাইনি তাকে আমার প্রতিশোধের দহনে পোড়াতে। তবে কেন সে আমার অনিচ্ছা সত্যেও আমার জীবনে আসলো?কেন এই রক্তের খেলায় মেতে উঠলো? সে কি চায়,আমাকে পোড়াতে নাকি নিজে পুড়তে?আমি কাঁপা কাঁপা হাত ইফানের মাথায় রাখলাম। চুলগুলো আগের মতো বড় নেই।অপারেশনের কারনে কেটে ফেলতে হয়েছে।বুকের লোম আর খুঁচা খুঁচা দাড়ি গুলোও অযত্নে বেড়েছে। আমি আল্তো হাতে ওর বেন্ডেজে হাত বুলিয়ে দিলাম।আমার হাতগুলো কাপছে কারণ এই কাজটা আমার সাথে বড্ড বেমানান। আচ্ছা আজ যদি আমার জায়গায় অন্য কেউ হতো তাহলে সে কি ইফানের যত্ন নিতো?

আমার চোখ দুটো আচমকা জলে ভরে উঠেছে। এই বুঝি বর্ষণ নামলো বলে। আমি ওর চেহারাটাকে মনযোগ দিয়ে দেখতে লাগলাম। আমার কাঁপা হাত আলতো ভাবে বেন্ডেজের সবটা জুড়ে বিচরণ করছে।আমি নিঃশব্দে ইফানের কানের কাছে মুখ নিলাম।হঠাৎ আমি আমার শক্ত ব্যক্তিত্বের খোলশ ছেড়ে বেরিয়ে আসলাম যেন। কান্নার তোরে গলা ভেঙে আসছে। আমি বারবার ঢোক গিলে নিবারণ করার নিদারুণ চেষ্টা চালিয়ে ফিসফিস করে অশ্রু ভেজা কন্ঠে বললাম,

–“আমার চাওয়াটা কি খুব বেশি পরিসরে ছিল? আমার হাসিটা কি বড্ড বেমানান ছিলো? কেন কেড়ে নিলেন সেটা– ইফান আপনি জানেন আমি কতদিন ধরে মন খুলে হাসি না? যন্ত্রণায় প্রতিটি রাত কিভাবে চটপট করে কাটায়। আপনি জানেন আমি আপনাকে এক পাহাড় সমান ঘৃণা করি? আপনার করা প্রতিটি স্পর্শ কতটুকু পীড়া দেয় আমায়। আপনি যতবার আমার কাছে আছেন ততবারই নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছে করে। ঘৃণা ধরে গেছে নিজের দেহের প্রতি– এটুকু বলেই চোখমুখ খিচকে বন্ধ করে নিলাম। এতক্ষণ আটকে রাখা জলধারা এবার ঝড়ে গেল। টপটপ করে দুফোঁটা জল ইফানের বাম গালে পড়ল। তখনই ইফানের শরীরে সুক্ষ্ম একটু কাঁপন অনুভব করলাম। যা সেকেন্ডের মধ্যেই মিলিয়ে গেল। আমি আবার শান্ত ভাবে ইফানের চেহারাই দৃষ্টি বুলালাম। সে এখনো ঘুমে আচ্ছন্ন এটা নিশ্চিত হতেই আবার ভাঙা কন্ঠে হিসহিসিয়ে বললাম,
–“আপনি জানেন, আমি এক অদ্ভুত মস্তিষ্কের টানাপোড়নে আটকে আছি— চাইলেও সেখান থেকে বের হতে পারছি না। আপনাকে শাস্তি না দিলে আমার প্রিয় মানুষটার প্রতি অন্যায় হবে, আবার আপনাকে শাস্তি দিলে অন্য এক মানুষের প্রতি অন্যায় হবে। আর আমার সাথে আপনার বোঝাপড়াটা না হয় পরকালের জন্যই তোলা থাকুক।”

“তুই কাঁদছিস জাহান!!”
নাদিয়ার কথায় জাহানারা পলক ফেলল।বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে। সাথে প্রবল হাওয়া বইছে। যার কারণে তার অনাবৃত হাত মুখে বিন্দু বিন্দু বৃষ্টি কণা জমা হয়েছে।জাহানারা সে সবে তোয়াক্কা করল না। বরং ব্যথাতুর মৃদু হেসে উত্তর করল,

–“যদি কাঁদতে পারতাম তবে সব যন্ত্রণা থেকে হয়তো কিছুটা পরিত্রাণ পেতাম।আফসোস আল্লাহ আমার হৃদয়টাকে বড্ড শক্ত খোলশে আবৃত করে রেখেছে। তাই তো না বলা কথাগুলো আজও না বলায় রয়ে গেল।”
নাদিয়া দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে জাহানারার বাহু ধরে বললো– “অনেকক্ষণ ধরে দাড়িয়ে আছিস এই শরীর নিয়ে। তার উপর বৃষ্টির ছিটে ফোঁটায় অনেকটা ভিজে গেছিস।এবার ভেতরে আয়।আজ আমি তোর না বলা সব কথা শুনবো।”
জাহানারা এখনো বাইরের দিকে তাকিয়ে।নাদিয়াকে কোনো উত্তর করল না।নাদিয়া তার এক কাঁধ থেকে ওড়নাটা নামিয়ে জাহানারার মুখ আর গলার দিকটা মুছে দিলো।তারপর জাহানারার বাহু ধরে রুমে নিয়ে গেলো।জাহানারা বিছানার এক কোণায় গিয়ে বসল।নাদিয়াও পাশে এসে বসলো।নাদিয়া জাহানারার এলোমেলো চুলগুলোকে কানে গুজে দিচ্ছে তখনই কাজের মহিলা আমেনা এসে হাজির। আমেনা নাদিয়ার উদ্দেশ্য বললো,

–“আপা মণি ছোটবাবু সাহেবের ইস্কুল ছুটির সময় হয়ে গেছে। আনতে যাইবেন না?”
নাদিয়া জাহানারার চুলগুলো সুন্দর করে সেট করে দিতে দিতে প্রতিত্তোর করলো__
–“আমি আজ ব্যস্ত আছি।তুমি এক কাজ কর– তোমার স্যারকে কল করে বল অফিস থেকে আসার পথে ওকে নিয়ে আসতে।”
নাদিয়ার কথা শেষ হলে আমেনা মাথা নাড়িয়ে বের হয়ে যায়।
–“তারপর,,, ”
নাদিয়া জাহানারার কাঁধে হাত রেখে বললো।জাহানারা অন্যমনস্ক ছিল।তাই ওর ডাকে আবার ঘোর কাটল।অতঃপর দু’চোখ বন্ধ করে নিতেই তপ্ত শ্বাস বেড়িয়ে আসলো।

আজ আমার খুব ইচ্ছে করছে মনের সব কথা উগরে ফেলি।কিন্তু আমি না চাইতেও নিজের মুখে লাগাম টানলাম। তল পেটে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করছি।তখনই মনে পড়ে গেল আজকের তারিখের কথা।আমার ফ্রেশ হওয়া প্রয়োজন। তাই খুব যত্ন নিয়ে ইফানের মাথাটা বালিশের উপর রাখলাম।রাতে অনেক মেডিসিন নিয়েছে।তার মধ্যে ঘুমেরও ছিল।তাই আর এখন এত তাড়াতাড়ি ঘুম ভাঙ্গবে না।আমি ব্লাউজের দুটো বোতাম লাগিয়ে কাঁধে আচল টেনে নিই।তারপর ওয়াশরুমের দিকে রওনা দিই।

বেশ কিছুটা সময় নিয়ে শাওয়ার নিলাম।আজকে আর ফজরের নামাজ পড়া হয়ে উঠলো না।রুমে এসে দেখি এখনো সেই ভাবেই ইফান শুইয়ে আছে যেভাবে আমি রেখে গিয়েছিলাম।আমি ওর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে টাওয়ালের সাহায্যে নিজের চুলগুলোকে মুছতে থাকলাম। হঠাৎ মনে হলো কেউ আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমি তরাগ গতিতে বেডে ইফানের দিকে তাকালাম। না সে আগের ন্যায় বেঘোরে ঘুমচ্ছে।তখনই বাইরে গাড়ির হর্ণ বেজে উঠলো। এত সকালে চৌধুরী মেনশনে কে আসলো?

এখনো তো তেমন সকাল হয়নি।আর না তো বাড়ির কারো ঘুম ভেঙেছে।নিজের মনের কোণে জেগে উঠা প্রশ্নের উত্তর পেতে রুম থেকে বেড়িয়ে দোতলার রেলিং ধরে লিভিং রুমে তাকালাম। তখুনি সদর দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে মাহিন।তারপর আস্তে ধীরে দরজাটা লাগিয়ে দেয়। মাহিন আসেপাশে একবার চোখ ঘুরালো তবে উপরের দিকে তাকালো না।নাহলে হয়তো আমাকে দেখতে পারতো।সে আর এক মূহুর্ত এখানে দাড়ালো না।বরং দাদির রুমের পাশের রুমটার দিকে চলে গেলো।আমি চোখ সরু করে তার গতিবিধি দেখছি। মাহিনের রুম তো উপরে তাহলে ঐ দিকে যাচ্ছে কেন? তার চেয়েও বড় কথা আজ পঙ্কি ঐ রুমে আছে।তার পায়ের অবস্থার জন্য নিচে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে সেই রুমটায়।এত সকালে পঙ্কির সাথে মাহিনের কি দরকার থাকতে পারে? এরই মাঝে মাহিন পঙ্কির রুমের দিকে চলে যায়।আমি এখনো দাড়িয়ে ভাবছি এই ব্যপারে।কিছুক্ষণ এটা সেটা ভেবে আবার রুমের দিকে পা বাড়ালাম। অথচ আমি বুঝতেই পারলাম না কোনো এক জোড়া চোখ সেই থেকে আমার দিকে তাক করা ছিলো।আর আমার প্রস্থানে আগুন্তকঃ ও প্রস্থান করে।

পঙ্কির রুমের দরজা খোলা তাই আর তাকে ডাক দিতে হলো না মাহিনের।সে রুমে ঢুকেই তাড়াতাড়ি দরজা লাগিয়ে দিয়েছে। রুমের লাইট ওয়ান করতেই চোখে পড়লো পঙ্কিকে।সে মাহিনের দিকেই তাকিয়ে আছে ডেবডেব করে।মাহিন যে বাসায় এসেই তার সাথে দেখা করবে তা আগেই মাহিন ফোনে জানিয়ে দিয়েছিলো ।মাহিন ধপ করে বিছানায় বসে পড়লো।এদিকে পঙ্কি চাপা রাগ নিয়ে চেচিয়ে উঠলো,
–“আরে বা*স্টার্ড তোরা কি আমাকে উপরওয়ালার কাছে পাঠিয়ে দিতে উঠে পড়ে লেগেছিস।”
মাহিন ব্রু কুঁচকে পঙ্কির দিকে তাকালো।সারারাত অঘুমে থাকায় চোখ লাল হয়ে গেছে।পঙ্কি আবার বললো,
–“এমনভাবে বসেছিস যে আমার কলিজা পর্যন্ত কেঁপে উঠেছে।”
–“ফাউল কথা ছেড়ে লাইনে আস।সারারাত দুচোখ বুজতে পারি নি।এখন ঘুমের দরকার।”
–“মেয়েগুলো কে ঠিকঠাক ভাবে সাপ্লাই দিয়েছিস তো নাকি?”
বিরক্তি তে মাহিনের মুখ অন্ধকারে তলিয়ে আছে।সেভাবেই উত্তর করলো,
–“হুম অল ডান।খুব তাড়াতাড়ি মিয়ানমার পৌঁছে যাবে।আর যে মেয়েটাকে তুলে আনা হয়েছিলো ঐটা টপকে গেছে।”
মাহিনের কথায় পিঙ্ক চোখ সরু করে বললো,

–“টপকে গেছে মানে?”
–“শালা মাদারবোর্ড গুলো একলা পেয়ে অবস্থা কাহিল করে দিয়েছিল। আমার কাছে যখন মেয়েটাকে আনা হয় তখন অবস্থা ভালো ছিল না।সেভাবেই শীপে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। তবে মাঝ পথে খবর আসে মারা গেছে। ঐ জন্যই বাড়ি ফিরতে সারারাত পার হয়ে গেছে।”
মাহিনের কথা শুনে পঙ্কির চোয়াল শক্ত হয়ে আসলো। সে চাপা হুংকার ছেড়ে বলে,
–“হারামি গুলো এখনো আছে নাকি?”
মাহিন পঙ্কিকে শান্ত হতে বললো।উত্তেজিত হয়ে উঠে বসতে চাওয়ায় হাতে টান পরেছে।ফলে ব্যথায় চোখমুখ কুচকে ফেলেছে।তাকে শান্ত করতে মাহিন বললো,”কুল ব্রো কুল।সব কটাকে জমের দোয়ারে পাঠিয়ে দিয়ে এসেছি।”মাহিনের কথায় পঙ্কি শান্ত হয়ে আবার বললো,”খবর পেয়েছিস এখনো কে বা কারা সি আই ডি কে সব খবর অগ্রীম দেয়।”পঙ্কির কথায় মাহিন কিছুটা চিন্তিত হয়ে পড়লো–

–“কেউ তো আছে ভাই যে আমাদের এক ধাপ উপর দিয়ে চলছে। গতকাল রাতে আমি লক্ষ করেছি বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকেই আমাদের একটা গাড়ি ফলো করছিলো। কেউ তো আছেই যে আমাদের গতিবিধির উপর সবসময় দৃষ্টি রাখছে। আর খবর প্রদান করছে। ঐ শালাকে ধরেও কোনো কথা বের করতে পারি নি আমি।তাই ত উপাই না পেয়ে বুড়িগঙ্গা তেই মেরে ফেলে দিয়ে এসেছিলাম।পরে ভেবেছিলাম মেয়েটার থেকে যদি কোনো ক্লো জানতে পারি।”
মাহিন এটুকু বলতেই পঙ্কি বিরক্তি নিয়ে বললো,”বিচ’টার দম একে বারে হাঁটুর চিপায় ছিলো।ভালোই হয়েছে মরেছে।না হলে এমন কেবলা মাল চালান করে ক্লাইন্ডদের সামনে মানসম্মান যেতে,,,,,
–“কে কে ওখানে?”
পঙ্কিকে মাঝ পথে থামিয়ে দিলো মাহিন।দরজায় কারো উপস্থিতি টের পেয়ে তাড়াতাড়ি উঠে দরজা খুলে দিলো।তবে বাইরে কাউকে দেখতে পেলো না।মাহিন আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো, না কেউ এখানে নেই। তাহলে হয় তো ওর মনের ভুল। এটা ভেবেই পঙ্কির থেকে বিদায় নিয়ে নিজের রুমের উদ্দেশ্য বেড়িয়ে পড়লো।

ভালোভাবে দিনের আলো ফুটে উঠেছে। তবে এই বাড়ির মানুষ এত তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে না।মাহিন মুখে হাত ধরে হাই তুলতে তুলতে সিড়ির দিকে এগোলো।তবে সিঁড়িতে পা রাখার আগেই কেউ একজন টান মেরে সিড়ির আড়ালে নিয়ে চলে গেলো।ঘটনাটা এতটাই তাড়াতাড়ি ঘটেছে যে মাহিন কিছু বলার ফুসরতই পেলো না।এদিকে সামনের ব্যক্তিকে চোখে পড়তেই মাহিনের মুখ হা হয়ে গেলো।নোহা মাহিনের শরীরের সাথে শরীর মিশিয়ে গলা জড়িয়ে ধরে আছে।নোহার এমন কান্ডে বাকহারা হয়ে পড়েছে মাহিন।এদিকে নোহা ঠোঁটের এক কোণা দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরেছে।
“মাহি ডার্লিং সারা রাত কোথায় ছিলে তুমি? Do you know তোমাকে কাছে না পেয়ে আমার কতটা ক্রেভিংস উঠেছিলো? তারপর আমি একটুও ঘুমাতে পারি নি। তখন আমার কষ্ট ভুলতে সারারাত মিয়া খলিফার ভিডিও দেখেছি।”

নোহা কথাগুলো বলছে আর এক আঙুল দিয়ে মাহিনের সারা মুখে হাত বুলাচ্ছে। মাহির চোখ কুঠর থেকে বেড়িয়ে আসার উপক্রম হয়েছে নোহার এমন খাপছাড়া কথা শুনে। মাহিন যখন চরম আশ্চর্যের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে তখনই নোহা আরেক কাজ করে বসলো। কোনো ইশারা ইঙ্গিত না দিয়ে মাহিনের মেইন পয়েন্টে হাত মেরে দেয়। এবার বেচারা মাহিন চেচাতে নিলে ওর ঠোঁট নিজের দখলে নিয়ে নেয় নোহা।জীবনের প্রথম কোনো নারী সঙ্গ পেয়ে মাহিনের শরীর কেমন অবস হয়ে আসছে। তবুও নোহাকে নিজের থেকে ছাড়াতে চাইছে।কিন্তু নোহা লাগামহীন ভাবে মাহিনকে বেড টাচ করে যাচ্ছে ঠোঁটে শব্দ করে কিস করতে করতে।

এদিকে ইমরান হাই তুলতে তুলতে নিচে নামছে।তার চোখে ঘুমের রেশ লেগে আছে।ইমরানের হাতে একটা ওয়াটার পট। ঘরে পানি শেষ তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে নামতে হলো।পলি ঘুমাচ্ছে তাই আর ওকে ডেকে তুলে নি।সিঁড়ির নিচে নামতেই ইমরানের পা আপনা আপনি থেমে গেলো। কেমন অশ্লীল শব্দ আর কারো গোঙ্গানো শব্দ কানে এসে বারি খাচ্ছে। ইমরানের চোখগুলো বড় বড় হয়ে গেছে। কারণ তার সাত মাসের বিবাহিত জীবনের অবিজ্ঞতা জানান দিচ্ছে এখানে কেউ বা কারা কোনো আকাম-কুকাম করছে।ইমরান মনে মনে ভবাছে,”এই বাড়িতে এমন হাই ভোল্টেজ কুকাম কে করছে।তার বউ তো ঘরে সে তো এসব ঘরে করে।বাকি থাকে ইফান ভাই আর জাহানারা ভাবি– এটুকু ভেবেই জিহ্বা কামড়ে ধরলো ইমরান।কারণ জনসম্মুখে এমন বেহায়া কাজ করার রেকর্ড আছে ইফানের।ইমরান এটা ভেবেই দাঁত দিয়ে নখ কাটতে কাটতে লাজুক হেসে উচ্চারণ করলো,

–“আস্তাগফিরুল্লা”
এই শব্দ মাহিন আর নোহার কান অব্ধি পৌঁছে যায়।কারোও উপস্থিতিতে মাহিনের শরীরের শক্তি আবার যেন ফিরে এসেছে।সে জোরে ধাক্কা মেরে নোহাকে দূরে সরিয়ে হাত দিয়ে ঠোঁট চেপে ধরে। এদিকে নোহা নিজের আয়েশ কিছুটা মিটাতে পেরে খুশি খুশি মনে ঐখান থেকে বেড়িয়ে আসে।এদিকে বড় ভাই ভাবির প্রাইভেট মোমেন্টে এখানে হাজির হওয়ায় লজ্জায় দাঁত দিয়ে জিহ্বা কেটে স্থান ত্যাগ করতে যাবে তখনই নোহা ইমরানের সামনে দিয়ে ভেজা ঠোঁট মুচতে মুচতে মুচকি হেসে উপরে চলে যায়।তবে ইমরানকে দুটো সিড়ি ডিঙ্গিয়ে যেতেই আবার পিছন ফিরে চোখ মেরে নোহা স্থান ত্যাগ করে।
আমার বদলে নোহাকে দেখে ইমরানের চোখ দুটো বেড়িয়ে আসার উপক্রম হয়েছে। সে বোকা চেহারা করে নোহার স্থান ত্যাগ দেখলো।অতঃপর নিঃশব্দে এখানে দাড়িয়ে থেকে ভাবতে লাগলো,”এই মাইয়া এতক্ষণ ধরে কার সাথে কুকাম করছিলো।”ইমরান একটা ঢুক গিলে পিছনে ফিরতেই চোখ পড়লো এলোমেলো মাহিনের প্রতি।মূহুর্তেই ইমরানের হেঁচকি ইঠে পড়লো।মাহিন নিজের শার্টের কলার ঠিক করতে করতে শুকনো কাশলো,

জাহানারা পর্ব ২৬

–“এহেম এহেম।”
মাহিন জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে, হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে তরলটুকু মুচে আড় চোখে ইমরানের দিকে তাকালো। ইমরান মুখ হা করে ধীরে ধীরে মাহিনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বললো,
–“কিরে ভাই তুই নোহার সাথে ঐ চিপায় কি করছিলি?”
মাহিন বাচ্চাদের মতো ইমরানের দিকে তাকিয়ে অসহায় কন্ঠে বললো,
–“ভাই,ভাইরে ঐ মাইয়া আজ আমার ইজ্জতে হাত মেরে দিয়েছে।”

জাহানারা পর্ব ২৮