Home জাহানারা জাহানারা পর্ব ৪৩

জাহানারা পর্ব ৪৩

জাহানারা পর্ব ৪৩
জান্নাত মুন

রাত আট’টার ঘটনা,,,,,,
সিআইডি অফিসে কিছুক্ষণ আগে উপস্থিত হয়েছে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রী ইকবাল চৌধুরী।তার সাথে আছে উনার ভাই ইরহাম চৌধুরী এবং কনিষ্ঠ পুত্র ইমরান চৌধুরী। অফিস কার্যালয়ের বাইরে দলের লোকদের উপচে পড়া ভীড়।পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্মরত আছে।দলের সকলেই অপেক্ষায় আছে কখন মন্ত্রী সাহেব বাইরে বেড়িয়ে আসবে।
মন্ত্রী সাহেব মানে আমার শ্বশুর মশাইয়ের সামনে বসে আছে সিআইডি অফিসার এসপি আরমান শেখ জিতু।তার দু পাশে দাঁড়িয়ে আছে বাকি সিআইডি অফিসার’রা।মন্ত্রী সাহেব জিতু ভাইয়ার উদ্দেশ্য বললো,

–অফিসার আজ আপনারা সময় মতো না আসলে হয়তো আমরা এখনো বেঁচে থাকতাম না।
জিতু ভাইয়া উনার কথা শুনে মুচকি হেসে ইমরানের দিকে তাকালো।ইমরানের কপালে ব্যান্ডেজ।সাদা গজে র*ক্তে ভিজে লালছে হয়ে গেছে।আজ পার্টির সাথে মিটিং শেষ করে তিনজন যখন বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হয়, তখনই মাঝ পথে বিরোধী দলের লোকেরা রাস্তা আটকায়।ইমরানদের পেছনের গাড়িতে ওদের বডি গার্ডরা ছিলো।যা বিরোধী দলের ছেলেপুলেদের চেয়ে সংখ্যায় অনেক কম।তবুও নিজেদের প্রাণ বাজি রেখে মন্ত্রী সাহেবকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকে।তখনই ইমরানের উপর হামলা হয়।হকি স্টিক দিয়ে মাথার এক সাইডে আঘাত করা হয়।তখন সাথে সাথে ইমরান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।এদিকে দ্বিতীয় আঘাত আনার আগেই পুলিশ সহ সিআইডি টিম উপস্থিত হয়।অফিসার আবির সেই নেতার হাতে শুট করে।তাই দ্বিতীয় আঘাত ইমরানের উপর পড়ে নি।
ইমরান ব্যান্ডেজের উপর হাত রেখে জোরে জোরে শ্বাস ফেলছে।জিতু ভাই হেসে বললো,

–কি ব্যপার, এই টুকুই সহ্য করতে পারছেন না__তাহলে ভাবেন বুকে পরপর নাইফ বসালে কেমন যন্ত্রণা হতে পারে।
জিতু ভাইয়ার আচমকা এমন অদ্ভুত কথা শুনে ইমরান নিজের ব্যথা ভুলে জিতু ভাইয়ার দিকে তাকালে।এদিকে ইকবাল চৌধুরী সহ ইহরাম চৌধুরীও আশ্চর্য হলো।তিনজনের এমন প্রশ্নাত্মক চাউনি দেখে জিতু ভাইয়া সহ সকল অফিসাররা ঠোঁট টিপে হাসলো।ইমরান সকলকে দেখে জিতু ভাইয়াকে প্রশ্ন করলো,
–সরি অফিসার। আমি আপনার কথার মানে বুঝতে পারছি না।
ইমরানের কথা শুনে অফিসার হিমন হো হো করে হেসে দিলো।এতে সকলের দৃষ্টি হিমনের দিকে স্থির হলো।অফিসার হিমন কৌতুক স্বরে বললো,

–পারবেন পারবেন সবই বুঝতে পারবেন।প্রথম প্রথম সকল অপরাধীরাই কিছু বুঝতে পারে না।পরে আরমান স্যারের চুমু খেয়ে সব সুর সুর করে বুঝে যায়।আ,,,,,,
অফিসার হিমন মুখের কথা আর বের করতে পারলো না।তার আগেই জিতু ভাইয়ার কড়া চাউনি নজরে পরে। অফিসার হিমন হালকা হেসে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে অফিসার আবিরের পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো।পিছন থেকে অফিসার কণা, অফিসার হিমনকে ফিসফিস করে বললো,
–স্যার এভাবে উচিৎ কথা বলবেন না।যতই হোক মন্ত্রী হয়।আমাদের চাকরিও খেয়ে নিতে পারে।
কণার ফিসফিস কথা অফিসার অরণা শুনতে পেয়ে ফিসফিস করে বললো,
–কণা তোমার মুখ বন্ধ রাখ।এখানে অনেক ইম্পর্ট্যান্ট কাজ হচ্ছে।সো অযৌক্তিক কথাবার্তা না বলায় শ্রেয়।
অরনার কথা শুনে কণা গাল ফুলিয়ে হিমনের দিকে তাকালো।উনিও বললেন আর কথা ন বাড়াতে। এদিকে ইকবাল চৌধুরী উঠে দাঁড়ালেন।উনি অনেক শান্ত এবং ভদ্রলোক। তাই হিমনের কথায় বেশ অপমানবোধ করলেন।তিনি বিরক্তি নিয়ে বললো,

–এটা কি ধরনের আচরণ এসপি?
জিতু ভাইয়া বসে থেকেই বললো,
–স্যর আপনি শান্ত হয়ে বসুন প্লিজ।
–কিভাবেই শান্ত হব বলেন?আপনার অফিসার’রা যথারীতি আমাকে অসম্মান করে কথা বলছে।
পিছন থেকে ইমরান আর ইরহাম চৌধুরী, ইকবাল চৌধুরী কে বলে বসালো।এদিকে অফিসার কবির একটা ফাইল টেবিলের উপর রাখলো।মন্ত্রী সাহেব ফাইলটার দিকে এক নজর তাকিয়ে জিতু ভাইয়ার দিকে তাকাতেই__জিতু ভাইয়া হাত দিয়ে ইশারা করে বুঝালো ফাইটা খুলে দেখতে।ইমরান ফাইলটা খুলে দিলো।অতঃপর তিনজন ফাইলটায় একবার চোখ বুলালো। মন্ত্রী সাহেব জিতু ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,
–এখানে তো মিস্টার আব্দুল হোসাইনের তথ্য দেওয়া।
মন্ত্রী সাহেবের কথা শুনে জিতু ভাইয়া সহ সকল অফিসাররা একে অপরের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট টিপে হাসলো।অতঃপর জিতু ভাইয়া স্টেট কাট উত্তর করলো,
–ইয়েস,ইনি আপনার বিরোধী দলের নেতা, সাবেক মিনিস্টার আব্দুল হোসাইন।যিনি বর্তমানে মৃত।
–কিহ্!!!

জিতু ভাইয়ার কথা শুনে অবাক তিনজন।জিতু ভাইয়া তিনজনের অবাক হওয়ার সীমা আরেকটু বাড়াতে বললো,
–সাবেক বানিজ্য মন্ত্রী আব্দুল হোসাইন কে গতরাতে মা*র্ডার করা হয়েছে উনার নিজ ভবনে।আজ সন্ধ্যায় উনার ডেড বডি সি আই ডি টিম উদ্ধার করেছে।আর সেই নিউজ ছড়িয়ে পড়তেই সাবেক মন্ত্রীর দলের লোকরা আপনাদের কে সন্দেহ করে রাস্তায় আটকায়। আমরা না পৌঁছালে আপনাদের কি অবস্থা হতো বুঝতে পারছেন।
জিতু ভাইয়ার কথা শুনে তিন জন যেন আকাশ থেকে পড়লো।এরই মাঝে অফিসার আবির বললো,
–খু*নের পিছনে আপনাদের হাত নেই তো?
আবিরের কথায় আরেক দফা হোটচ খেলো তিনজন। ইমরান অবিশ্বাস্য স্বরে বললো,
–এসব কি বলছেন আপনারা।উনি যে খু*ন হয়েছে সে খবর মাত্রই আপনাদের থেকে পেলাম।
অফিসার কবির বললো,

–এই নিউজ তো সন্ধ্যার পরই ছড়িয়ে পড়েছে। আর আপনারা বলছেন শুনেননি?
ইহরাম চৌধুরী বললো,
–আজ আমাদের পার্টির জরুরি মিটিং ছিলো সারে ছয়টার দিকে।আমরা সেখানেই ছিলাম।আর বাড়ি ফিরার পথেই আমাদের উপর হামলা করা হয়।এর মাঝে আমাদের ফোনও অফ ছিলো।তাই হয়তো নিউজ আমাদের পর্যন্ত আসেনি।
ইকবাল চৌধুরী এখনো বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না, আব্দুল হোসাইন খু*ন হয়েছে।তিনি জিতু ভাইয়াকে বললো,
–এটা কি ভাবে হতে পারে অফিসার? গতকাল রাতেও সাবেক মিনিস্টার আমাকে ফোনে হুমকি দেয় যাতে আমি পদ ছেড়ে দেই।আরও অনেক হুমকি দেয় আমাদেরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার।
ইকবাল চৌধুরীর কথা শুনে সিআইডি অফিসাররা অবাক হলো।অফিসার আবির বললো,

–তার মানে আপনি স্বীকার করছেন যে গতরাতে আপনার সাথে উনার কথা হয়েছিলো।
–এসব কি ধরনের কথা অফিসার?অস্বীকার যাওয়ার কি আছে। সাবেক মন্ত্রীর সাথে হাঠাৎ হঠাৎ ফোনকলে কথা হতো।যেখানে তিনি নিজে থেকে সবসময় আমাকে ফোন দিত।কখনো দুইদলের মিমাংসার জন্য, তো কখনো উনার রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার জন্য বলতো।
অফিসার কবির বললো,”আপনি কি জানেন আপনাদের কথোপকথনের কল লিস্ট আমাদের হাতে আছে?”
কবিরের কথায় না চাইতেও কিছুটা হাসলো ইমরান। সে কবিরকে উদ্দেশ্য করে বললো,

–এটা আধুনিক যুগ।আর কল লিস্ট আপনাদের কাছে থাকবে এটাই স্বাভাবিক।
জিতু ভাইয়া হেসে__উঠে দাঁড়িয়ে বললো,”সেই তো।যাইহোক, এই বিষয়ে আপনারা কি আছেন? ”
ইকবাল চৌধুরী উঠে দাঁড়িয়ে বললো,”অফিসার আপনি কিন্তু সরাসরি আমাদের দিকে আঙুল তুলছেন।যেখানে এই বিষয়ে আমরা কেন, আমাদের দলের কোনো সদস্যই জানে না।”
জিতু ভাইয়া ইকবাল চৌধুরীর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে, মৃদু হেসে বললো,”সবদিক বিবেচনা করলে আঙুল সরাসরি আপনাদের দিকেই যায়।যদিও প্রমাণ ছাড়া আমরা আপনাদের কোনো দোষারোপ করবো না।আমরা আইনের লোক।আমাদের কাজই জেরা করা।যাইহোক, আপনি কিন্তু সউরলি বলতে পারেন না,যে আপনার লোকদের মধ্যে কেউ করে নি।”

ইহরাম চৌধুরী বললো,”একশো ভাগ নিশ্চিত নই ঠিকই। তবে আমাদের লোক হলে অবশ্যই খবর আগে আমাদের নিকট আসতো।আশা করছি আমাদের লোকের কেউ এমন অপরাধ মূলক কাজ করবে না।আপনারা ইনভেস্টিগেশন করে বের করুন, কে এত বড় অপরাধ করলো।”
জিতু ভাইয়া জিহ্বা দিয়ে গাল ঠেলতে ঠেলতে বললো, “সে আপনারা না বললেও খুঁজে বের করবো।আর যদি জানতে পারি এর মাঝে আপনারা জড়িত__তাহলে কিন্তু ক্ষমতা দেখিয়ে পার পাবেন না।”
ইকবাল চৌধুরী কিছু বলার আগেই পিছন থেকে ইমরান উত্তর করলো,”একশোভাগ নিশ্চিত থেকে তদন্ত চালান,আমরা এই ক্রাইমে নেই আর না তো কোনোদিন ছিলাম।আর অপরাধীর অবশ্যই দণ্ডনীয় শাস্তি পেতে হবে।যদি আমাদের লোকরাও সেখানে থাকে তাহলেও সাজা মাফ নেই। ”

সিআইডি অফিসার’রা আবারও একে অপরের দিকে তাকিয়ে চোখাচোখি করলো।অতঃপর জিতু ভাইয়া বললো,”আশা করছি এসবে আপনারা থাকবেন না।এতক্ষণ এখানে সময় দেওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আপনারা এবার আসতে পারেন।আর সেইফে থাকবেন।বিরোধী দল আবারও আপনাদের উপর হামলা চালাবে।”
ইকবাল চৌধুরী জিতু ভাইয়ার সাথে হ্যান্ডশেক করে বললো,”এটা আপনাদের সাথে আমাদেরও কর্তব্য, অপরাধীদের খুঁজতে আপনাদের সাহায্য করা।কোনো প্রয়োজন হলে আবার ডাকবেন। আমরা যথাযত সাহায্য করার চেষ্টা করবো।”
ইমরান আর ইহরাম চৌধুরীও হ্যান্ডশেক করলো।অতঃপর জিতু ভাইয়া বললো,”আপনার নিশ্চিন্তে যান।পুলিশের একটা ফোর্স আপনাদের কে নিরাপদে দিয়ে আসবে।”
কথা শেষ করে তিনজন বেড়িয়ে যায়। এদিকে তিনজনের যাওয়ার দিকে সকল অফিসার’রা তাকিয়ে থাকে।কবির ভাবুক হয়ে বললো,

–স্যার উনাদের কেন জানি আমার সন্দেহ হচ্ছে না।মনে হচ্ছে সত্যি কথাই সব বলেছে।
অফিসার হিমনও একই সুর নিলো।অফিসার আবির জিতু ভাইয়ার দিকে তাকালো উত্তরের জন্য। জিতু ভাইয়া কিছুক্ষণ ভেবে বললো,
–তারপরও কাউকে সন্দেহ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।কথায় আছে সরষের মধ্যেই ভূত আছে।
আবির বললো,”স্যার এমনও হতে পারে আসল মাস্টার মাইন্ড চৌধুরীদেরকে আমাদের চোখে বারবার ফেলতে চাইছে।যাতে আমরা একই জায়গায় আঁটকে থাকি।”
জিতু ভাইয়া একটা ব্রু উঁচিয়ে বললো,”হতেও পারে।”

আরেক পাশ থেকে অফিসার অরনা বললো,”স্যার আপনার বোনের রিপোর্ট অনুযায়ী কারও উপর তেমন সন্দেহ প্রবণ কিছু পাওয়া যায়নি।তবে ইফান চৌধুরীর উপর অনেক বেড রিপোর্ট। একটা রিপোর্ট অনুযায়ী আমরা ড্রা*গস রাখার আসল ঠিকানা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলাম।কিন্তু সেখানে আচমকা আগুন লেগে সব প্ল্যান মাঝ পথেই বেস্তে যায়। আরও একটা বেড রিপোর্ট পঙ্কজ নামের লোকটার উপর।”
জিতু ভাইয়া অরনার কথায় বললো,”ইটস এ বিগ পয়েন্ট অরনা।পঙ্কজ ছেলেটার উপর নজর রাখতে হবে।”
কথা শেষ করে সকলে নিজেদের কাজে যাওয়ার জন্য উদ্ধত হলেই, হিমনের কথায় থেমে যায়,
–স্যার আমার মাথায় একটা প্রশ্ন ঘুরছে!!
জিতু ভাইয়া পিছন ফিরে হিমনকে চোখের ইশারায় বলতে বললো।অনুমতি পেয়ে হিমন বললো,
–স্যার ইকবাল চৌধুরী তো আপনার বোনের শ্বশুর, তাহলে আপনার সাথে এমন ভাবে কথা বললো যেন আপনাকে চিনেন না।
জিতু ভাইয়া যেতে যেতে উত্তর দিলো,
–চিনেন। সেটা জিতু নামে।এসপি আরমান শেখকে নয়।

ঘড়ির কাটা ঘুরতে ঘুরতে একটায় এসে থামলো।জুই আর ইতি ঘুমে হেলে পড়তে পড়তেও নিজেকে সামলে নিচ্ছে।এদিকে দুজনেই মাঝখানে বসে থাকা নোহা নিজের অসীম সাহসীকতার গল্প শুনিয়ে যাচ্ছে জ্ঞান ফেরার পর থেকে।ইতি সেগুলো বিশ্বাস করলেও জুই বিশ্বাস করছে না।জুইয়ের ভীষণ রাগ হচ্ছে নোহার প্রতি। অতিথি বলে কিছু বলতেও পাচ্ছে না।এদিকে জুই আর ইতিকে কিছু বলতে না দেখে, নোহা দুই দিকে দুজনকে হালকা ধাক্কা দিলো।সাথে সাথে ইতি আর জুই একই সুরে বলে উঠলো,,
–ওওওওও,,,,,,
দু’জনের থেকে উত্তর পেয়ে নোহা খুশিতে গদগদ করতে করতে বলে উঠলো,
–ছেলেগুলো যখন আমাকে ধরতে চেয়েছিলো তখনই আমি পাঞ্চ মেরে মুখ বাকিয়ে দিয়েছি।তারপর বাকি বেড বয়গুলো আমাকে ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়।বিপদের সময় এভাবেই স্ট্রং থাকতে হয় বুঝতে পেরেছ।
নোহার কথা কিছু শুনলো কি শুনলো না মেয়ে দু’টো। তবুও একই সুরু বলে উঠলো,
–ওওওও।

নোহা নিজের প্রশংসা করে ভিষণ গর্ববোধ করছে।এদিকে জুই আর ইতি ঘুমের মধ্যে থেকেই “ওওও” বলে নোহাকে উত্তর করছে।নোহা নিজের শর্টকাট চুলগুলো এক আঙ্গুল দিয়ে সরিয়ে একটু ভাবসাব নিলো।মূহুর্তেই মেয়েটার কিছু একটা মনে পড়ে গেলো।ফলে হাসি মুখটা নিভে এসেছে।নোহা তৎক্ষণাৎ নেকামি করে কেঁদে দিলো।হঠাৎ অদ্ভুত আওয়াজ কানে যেতেই ইতি আর জুই ভয়ে তাড়াহুড়ো করে সোজা হয়ে বসতে নিলে দু’জনই বিছানার দুই প্রান্ত দিয়ে ফ্লোরে পড়ে যায়।নোহা আবার দুজনকে টেনে তুললো।জুই বুকে থুথু দিয়ে ভয় দূর করে নোহাকে বললো,,,
–তু তুমি এমন অদ্ভুত আওয়াজ করছিলে কেন?এখনই তো আমার হার্ট অ্যাটাক হয়ে যেতো।
ইতি ভয়ে জড়সড় হয়ে খুব কষ্টে একটা ঢুক গিলে বললো,”নোহাপু আমার ভীষণ ভয় লাগছে।তুমি আর এভাবে কেঁদো না।আমার ভীষণ ভয় লাগে।”

–কেন?কেন ভয় লাগবে আমি আছি তো।লিটিল গার্ল আমার ভীষণ সেড লাগছে,,,,
নোহা আবার নেকামি করে কাঁদতে লাগলো।এটা দেখে ইতির ঘুম পালিয়েছে।তার মনটাও নোহার দুঃখ দেখে কেঁদে উঠলো।এদিকে জুই অসহায় চোখে দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো একটার উপরে বেজে গেছে। অথচ নোহা ওদের কে কিছুতেই ঘুমাতে দিচ্ছে না।জুই আবার নোহা আর ইতির দিকে তাকালো।ইতি নোহাকে শান্তনা দিয়ে বলছে,

–ও আপু, আমার লক্ষী আপু প্লিজ কেঁদো না।তোমার কি কষ্ট হচ্ছে আমাকে বল।
নোহার নাক দিয়ে সর্দি বেড়িয়ে আসছে।সে আসেপাশে তাকিয়ে টিস্যুর খোঁজ করলো। অতঃপর না পেয়ে হাত দিয়ে নাক পরিষ্কার করে আবার নিজের জামাতে মুছে নিলো।এটা দেখে জুই নাক ছিটকে বিছানা থেকে উঠে টিস্যুর বাক্স নিয়ে আসলো।নোহা সেখান থেকে টিস্যু নিয়ে নাকের একটা ছিদ্রে গুঁজে দিলো যাতে আর সর্দি না পড়ে।অতঃপর দুঃখী মন দিয়ে নেকামি করে কাঁদতে কাঁদতে বললো,

–ইউ নো লিটল গার্ল, আমি একজনকে লাইক করি।বাট সে আমার সাথে একটুও কথা বলে না,মিশেও না।আমার অনেক কান্না পাচ্ছে। এখন একটা সেড গান গাইতে ইচ্ছে করছে।
ইতি নাক টেনে বললো,”তাহলে গেয়ে মনটা হালকা কর।”
জুই অসহায় চোখে দুই বলদকে দেখে যাচ্ছে। সে ইতিকেও একটা টিস্যু এগিয়ে দিলো।নোহা হঠাৎ শান্ত হয়ে চোখ দুটো বন্ধ করে ফেললো।অতঃপর মাথা দুপাশে দুলাতে লাগলো।সে হাতে মুদ্রা দেখিয়ে সঙ্গীত শিল্পীদের মতো সুর তুলার জন্য হাত নাড়াতে লাগলো।নোহাকে দেখে জুই এবার একটু সুন্দর করে বসলো।তার কাছে মনে হচ্ছে আজাইরা গল্প শুনার থেকে নোহার গান শুনা ডের ভালো।নোহা আগের ন্যয় বসে থেকে সুর তুললো।যা শুনে জুইয়ের চোখ কঠোর থেকে বেড়িয়ে আসার উপক্রম। ওর জীবনে এমন বেসুরো কন্ঠে গান হয়তো আর কোনোদিন শুনে নি।নোহা বেসুরা কন্ঠে সুর দিয়ে গান ধরলো,

❝ওগো ললিতে,আর যাবো না বেগুন তুলিতে।হাতে নাতে পড়লাম ধরা, শরম লাগে বলিতে।আর যাব নো বেগুন তুলিতে,,,,,❞
নোহা মনের সুখে বেসুরে গান গাইতে লাগলো।এদিকে ইতি শক্ত করে নিজের দুহাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে রেখেছে।যাতে হাসি আটকাতে পারে।জুই চোখ বড় বড় করে নোহার দিকে তাকিয়ে বিরবির করলো,
–ওও উপরওয়ালা। তুমি আমাকে কি মাইনকার চিপায় ফেললা গো।

নিজের কাজ সেরে ঢাকা থেকে কেরানীগঞ্জ আসতে জিতু ভাইয়ার অনেকটা রাত হয়ে গেছে।তিনি ক্লান্ত শরীরটাকে টেনে টেনে নিজের রুমের দিকে যাচ্ছে। হঠাৎ কারো খিলখিল হাসির আওয়াজ শুনেই থেমে গেলো পা জোড়া। তিনি জুইয়ের রুমের দিকে তাকাতেই দেখলো, ওদের রুমে এখনো লাইট জ্বলছে। জিতু ভাইয়া একই জায়গায় দাঁড়িয়ে বেশ কিছুক্ষণ সেই হাসির শব্দ শুনে।হঠাৎই হাসির আওয়াজ বন্ধ হয়ে যেতেই যেন হুঁশে ফিরলো।তিনি আবার চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই, একই হাসির আওয়াজ শুনতে পেল।তা আবার মূহুর্তেই বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি কিছু একটা ভেবে জুইয়ের রুমের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো।
এদিকে ইতি আবারও দু’হাত দিয়ে নিজের মুখ চেপে ধরছে।তবুও মেয়েটার হাসি বেড়িয়ে আসছে।নোহাকে গাল ফুলাতে দেখে আবার থেমে যায়।তখন নোহা আবার মনের সুখে গান কন্টিনিউ করতে থাকে।এবার ইতির সাথে জুইও দু’হাত দিয়ে মুখ চেপে বসে আছে।ওদের দু’জনের চোখ দেখলেই যে কেউ বলে দিতে পারবে, ওরা কত কষ্ট করে হাসি চেপে বসে আছে।হঠাৎই রুমের দরজায় কেউ নক করলো।জুই সাথে সাথে স্বাভাবিক হয়ে ইতি আর নোহাকে বললো,

–ইশশশ দেখেছ, তোমাদের কারণে সবার ঘুম ভেঙে গেছে।
আবার দরজায় কেউ নক করলো।জুই আর এক মূহুর্ত দেরি করলো না।আসছি বলে দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দিলো।তক্ষুনি দেখলো জিতু ভাইয়া দাঁড়িয়ে। জিতু ভাইয়া চোখ মুখ অন্ধকার করে রেখেছে। এটা দেখে জুই মনে মনে দোয়া করছে যাতে বকা না দেয়।কিন্তু জুইয়ের ধারণা বদলে দিয়ে জিতু ভাইয়া ঠান্ডা কন্ঠে বললো,
–এত রাত জেগে থাকা শরীরের জন্য ভালো নয়।ঘুমিয়ে পড়।
শেষ কথাটা বিছানায় বসে থাকা ইতির দিকে তাকিয়ে বললো।ইতি এতক্ষণ ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলো।যেই ভাইয়া ওর দিকে আচমকা তাকালো।অমনি ভয়ে জড়সড় হয়ে গেলো।এদিকে জিতু ভাইয়ার কন্ঠ শুনে বিছানা থেকে ছুটে আসলো নোহা।জিতু ভাইয়াকে দেখে খুশিতে গদগদ করছে সে।নোহা ভাইয়াকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে বললো,

–ওয়াও ওয়াও একেবারে ওয়াও।
নোহার এমন আচরণ দেখে দাঁত কটমট আওয়াজ করলো জিতু ভাইয়া।সেটা জুই শুনে ভয়ে একটা ঢুক গিললো।এদিকে জিতু ভাইয়া রাগে বললো,
–এই মানসিক ভার্সাম্যহীন প্রাণী তোদের সাথে কি করছে?
জুই কোনো উত্তর দিতে পারলো না।ইতি চোরের মতো এদিকে তাকিয়ে দেখতে গিয়ে আবার জিতু ভাইয়ার সাথে চোখাচোখি হয়।ইতির লজ্জায় গাল লাল বর্ণ ধারন করেছে।জিতু ভাইয়া ইতির এই বিষয় টা দেখে ভীষণ অবাক হলো।মেয়েটা এত লাজুক, তাও আবার এই জেনারেশনে?জিতু ভাইয়া ঠোঁটে ঠোঁট চেপে কিছুক্ষণ ভেবে বিরবির করলো,

–লজ্জাবতী।।।
জিতু ভাইয়ার মনযোগ ক্ষুন্ন হয় নোহার কন্ঠে,
–ওমমম কোথায় জানি এই শার্টটা দেখেছি?কোথায় জানি??
নোহা জিতু ভাইয়াকে দেখে দাঁত দিয়ে নখ কামড়াতে লাগলো।নোহার আচরণ বরাবরই জিতু ভাইয়ার বিরক্তির কারণ।এদিকে কিছুক্ষণ ভাবার পর নোহা হটাৎ লাফিয়ে উঠলো,
–ওহ্ হলি।এই শার্টটা তো ঐইই নটি পুলিশটা পড়েছিলো সেদিন। ইয়েএএএ আমি পেরেছি।আমি মনে করতে পেরেছি।সেদিন ক্লাবে তুমিই আমর পু*টকিতে লাটি মেরেছিলে।ইয়েএএএ,,,

নোহা খুশিতে লাফিয়ে উঠেছে। এদিকে জুই একবার ভাইয়াকে আরেকবার নোহাকে দেখে, ভয়ে ওর গলা শুকিয়ে আসছে।জিতু ভাইয়া এতক্ষণ শান্ত থাকলেও আর পারলো না।নোহাকে ধমক দিবে তার আগেই কানে আসে ইতির খিলখিল করা হাসির আওয়াজ। মূহুর্তে তিনি থমকে যান।আস্তে আস্তে ইতির দিকে তাকাতেই দেখলো লজ্জাবতী মেয়েটা মুখে হাত ধরে হাসি আটকানোর চেষ্টা করছে।কিন্তু বৃথা হচ্ছে।ইতি মুখে হাত ধরে হাসতে হাসতে সামনে তাকাতেই আবার দুটো শান্ত চোখের সাথে তার দৃষ্টি স্থির হলো।মূহুর্তেই মেয়েটা আবার লজ্জায় লাল হয়ে উঠলো।আস্তে আস্তে পিছন ফিরে বসতে লাগলো।ভাইয়া ওর অস্বস্তি বুঝে দৃষ্টি সরিয়ে নিলো।তিনি আর কিছু না বলে চলে যেতে নিলে নোহা পথ আটকায়। ভাইয়া জুইয়ের দিকে তাকায়।জুই বুঝতে পারে ভাইয়া নোহাকে সামনে থেকে সারাতে বলছে।জুই নোহাকে হাতে ধরে ভাইয়ার সামনে থেকে সরাতে নিলে নোহা বাঁধা দেয়।অতঃপর জিতু ভাইয়ার সামনে দাড়িয়ে সারা শরীর দোলাতে দোলাতে বললো,

–জান জিতু বেইবি,আমি খুব ভালো সিংগিং করি।এই তো এতক্ষণ লিটিল গার্লদের গান শুনচ্ছিলাম।
জিতু ভাইয়া চোখমুখ শক্ত করে নোহার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে রইলো।এতে নোহা লজ্জার ভং ধরে মুখ ঢেকে নিলো।অতঃপর নিজেই বললো,
–আমি না একটা বেঙ্গলি রোমান্টিক সং শিখেছি। জাস্ট ফর ইউ।
নিজের কথা বলেই নোহা আবার নখ কামড়াতে লাগলো।মনে তো হচ্ছে মেয়েটা বিশ্বের সবচেয়ে লজ্জাবতী।জিতু ভাইয়া নিজের রাগ কমাতে চোখ বন্ধ করে একটা দম নিলো।অতঃপর আবার রুম থেকে চলে যেতে নিলে,নোহা পথ আটকায়।জিতু ভাইয়া কিছু বলার আগেই নোহা শুকনো কাশলো,

–এহেম এহেম,,,
অতঃপর কয়েকটা ঢুক গিলে চোখ বন্ধ করে আত্নবিশ্বাসের সাথে গান ধরলো,
❝খা খা খা আমায় চু*ষে চু*ষে খা, আমা,,,,,,,❞
বেসুরা কন্ঠে বাকি গান আর গাওয়া হলো না মেয়েটার। তার আগেই জিতু ভাইয়ের শক্ত হাতের থা*প্পড় নোহার গালে পড়ে।নোহা তাল সামলাতে না পেরে, গালে হাত ধরে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে।মেয়েটা বুঝতে পারছে না তার সাথে কি হয়েছে।এদিকে জুই আর ইতি ভয়ে জড়সড়। নোহা চোখ খুলে জিতু ভাইয়ার দিকে তাকাতেই দেখলো,ভাইয়া শার্টের হাতা হাতের কব্জি পর্যন্ত গুটিয়ে নিচ্ছে। অতঃপর ভাইয়ার মুখের দিকে তাকাতেই দেখলো কাঠিন্যে চেহারা।জিতু ভাইয়া বিরবির করে অ*শ্রাব্য ভাষায় নোহাকে গা*লি দিলো,

–দ্যা ফা*কিং বি*চ।
জিতু ভাইয়া বলেই রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো।এদিকে ভাইয়াকে চলে যেতে দেখে জুই আর ইতি ছুটে নোহার কাছে এসে বসলো।নোহা গালে হাত দিয়ে এখনো দরজার দিকে তাকিয়ে। জুই বললো,
–আপু তুমি ঠিক আছ?
নোহা আনমনে পেটে গুরগুর করতে থাকা গানের বাকি অংশটাও গেয়ে পূরণ করলো,
❝আমায় গিলে গিলে খা,,,❞

❝চল একটা গেইম খেলি,,,❞
ইফানের কথায় আমি উত্তর করলাম না।ইফান আমার উত্তর না পেয়ে নিজেই আবার বললো,
–গেইমে যদি আমি জিতি তাহলে আজ না করতে পারবে না।আর তুমি জিতলে যা বলবে তাই করবো।
ইফানের অফরটা শুনে আমি চোখ মেলে তাকালাম।মনে মনে ভাবলাম এই সুযোগ তো আর হাতছাড়া করা যায় না।আমি মনের কথা মনে চেপে ওর দিকে ফিরে বললাম,
–আমি যা চাইবো তাই করবে?
–গেইমে আমি হারলে অবশ্যই শুনবো।
–তাহলে আমার শর্ত হচ্ছে, আমি জিতলে আগামী এক মাসের মধ্যে আমার সাথে ডলাডলি করতে পারবে না।
আমার কথা শুনে ইফান ব্রু কুঁচকালো। অতঃপর মুখে হাত ধরে হাই তুলতে তুলতে বললো,

–এক রাতের জন্য একমাস সেক্রিফাইস করা ইম্পসিবল। থাক বউ আজ রাত আমি ম্যানেজ করে নিতে পারবো।
ইফান চোখের উপর হাত ধরে শুয়ে পড়েছে। আমি মাথা উঁচিয়ে ওকে দেখে মনে মনে ভাবলাম,”এত বড় একটা অফার পাচ্ছিস এটা হাতছাড়া করিস না, আর কদিন কমিয়ে দে। তবুও তর শান্তি আসবে।” আমি কিছুক্ষণ ভেবে শুকনো কাশলাম,
–এহেম এহেম।।বিশ দিন, রাজি?
ইফান চোখের উপর হাত রেখেই উত্তর করলো,”বেশি হয়ে গেছে। ”
–তাহলে পনেরো দিন?
–চলবে না।।
আমি দাঁতে দাঁত পিষে বললাম,”দশদিন, এর চেয়ে একটা দিনও কমাবো না।”
ইফান আবার নড়েচড়ে শুয়ে ভাবলেশহীন ভাবে উত্তর করলো,”থাক বউ আজ তোমায় লাগবে না।আগামীকাল কালের জন্য নিজেকে রেডি রেখো।একদিনে আবার আমার হরমোনের পাওয়ার বেড়ে যায়।এনার্জির ঠেলায় আবার জ্ঞান হারিও না।”
ইফানের কথায় রাগে শরীর জ্বলছে।আমি চোখ বন্ধ করে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললাম,

–এক সপ্তাহ,,,,
এবার ইফান চোখ থেকে হাত সরিয়ে বালিশে মুখ গুজে শুয়ে পড়তে পড়তে বললো,
–ধুর শালি, রাত হইসে ঘুমা।আমাকে আর নাড়া দিস না।
–তিনদিন???
ইফান মাথা তুলে আমার দিকে তাকালো।আমি শান্ত চেহারা দেখিয়ে বললাম,
–এটাই শেষ আমি আর কমাবো না।
ইফান আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ঠোঁট কামড়ে হাসলো।আমি নিজের রাগ আর ধরে রাখতে পারছি না।তাই আবার শুইয়ে পড়তে নিলে ইফান হাত ধরে আামকে নিয়ে উঠে বসতে বসতে বললো,
–ওকে আমি রাজি।এবার তাহলে খেলার নিয়ম টা বলি??
আমি অন্যদিকে তাকিয়ে মাথা নাড়িয়ে সায় দিলাম।অতঃপর ইফান বলতে লাগলো,

–আমি তোমাকে লাভ বাইট দিব।আর তুমি আমাকে দিবে।যে আগে “ও” “আ” আওয়াজ করবে সেই আউট।
–এ্যা,,,!!
–এ্যা নয় হ্যা।।
ইফানের এমন কথায় আমি চোখ সুর করে বললাম,”এটা কোনো গেইম?”
আমার কথা শুনে আামর ঠোঁটে এক আঙ্গুল দিয়ে হাত বুলাতে বুলাতে কৌতুক করে বললো,
–কেন আমার হাই ভল্টেজ ঝাঁঝওয়ালি কি ভয় পাচ্ছে?
ইফানের কথায় তাচ্ছিল্য করে হেসে বললাম,”ভয় আর আমি?হাহ্ চল আমিও দেখি কে জিতে? ”
অতঃপর দু’জন কিছুক্ষণ একে অপরের দিকে তাকিয়ে থেকে খেলার প্রস্তুতি নিলাম। ইফান নিজের মেইন পয়েন্টে হাত বুলিয়ে সেই হাত মাথায় ছুইয়ে একটা ভাব নিলো।তারপর বাঁকা হেসে বললো,
–বুলবুলি লেট’স স্টার্ট দ্যা গেইম।
আমি দুহাতে থুথু দিয়ে ঘষতে ঘষতে বললাম,❝বিসমিল্লাহ্।।❞

অতঃপর ইফানের উপর ঝাপিয়ে পড়লাম।আমি ইফানের ঘাড়ে শক্ত করে দাঁত বসিয়ে দিলাম।এদিকে লু*চ্চা লোকটা আামর সুযোগ নেওয়া শুরু করেছে।আমার শাড়ির ফাঁকে উন্মুক্ত কোমরে হাত ঢুকিয়ে তার সাথে মিশিয়ে নিয়েছে।এরপর আমার ঘারে চুমু খেতে আরম্ভ করেছে।আমিও সমান তালে দাঁত বসিয়ে দিচ্ছি। আমার কাম*ড়ের তরে ইফান নিজের ব্যথা ভুলতে আমার কোমর শক্ত করে চেপে ধরে ঘারে সেও দাঁত বসিয়ে দিলো।আমি নিজের ব্যথা ভুলতে ওর ঘারের একটার পর একটা জায়গায় কাম*ড়াতে লাগালাম।এক পর্যায়ে ইফানের ঘাড় থেকে রক্ত বেড়িয়ে আসলে।অথচ ইফান দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে নিচ্ছে। এদিকে ইফানের কামড়ের ফলে আমার গলা,ঘারের সবটা জুড়ে লালচে লালচে কাম*ড়ের দাগ তৈরি হয়েছে।আমি কাম*ড়াকামড়ি তে না পেরে ইফানকে কিল ঘুষি দিতে লাগলাম।ইফান আমাকে শক্ত করে চেপে ধরে ঠোঁটে হামলে পড়লো।রুলস অনুযায়ী কোনো আওয়াজ বের করা যাবে না।এদিকে আমি একেবারে ক্লান্ত হয়ে গেছি।ইফানকে সরাতে ওর বুকে ধাক্কা মেরে ফেলে, তার পেটের উপর উঠে বসলাম।আমার ঠোঁটে র*ক্ত লেগে আছে।ইফান হাত বাড়িয়ে সেটা মুছে দিতে দিতে বললো,

–ধুর শালি,দুই নাম্বার মাল নিয়া ঘুরস।তর দাঁতের চেয়ে তো আমার ইয়ের ধার আরও বেশি।ও আ শব্দ করাতে বেশ এক্সপার্ট।
আমি রাগে দাঁত কিরমির করতে করতে ইফানকে উরাধুরা মা*রতে লাগলাম।এদিকে আমার এমন কান্ডে ইফান হা হয়ে গেছে।আমি ইফানকে আবার কামড়ে দিতে গেলে ইফান আমাকে বিছানায় ফেলে, আমার উপর উঠে আসে।এক পর্যায়ে আমি নিজের শরীরের ব্যথার জ্বালা মিটাতে ইফানকে বালিশ দিয়ে মা*রতে লাগলাম।ইফান আমাকে আঘাত না করলেও তার বন্য স্পর্শ দিয়ে বারবার কাবু করার চেষ্টা করছে।কিন্তু আমি সব সহ্য করে নিচ্ছি। ইফানও এটা দেখে অনেকটা অবাক। ও ভেবেছিলো আমি একটুতেই হাঁপিয়ে উঠবো।কিন্তু ঘটলো তার বিপরীত। এদিকে ইফান আমাকে থামাতে চাইছে,আর আমি বালিশ দিয়ে ওকে পিটিয়েই যাচ্ছি।এক পর্যায়ে বালিশ ছিড়ে ভেতরের সব তুলা বেড়িয়ে এসে সারা বিছানা ফ্লোরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে।বালিশ ছিড়ে যাওয়ায় ইফান হো হো করে শরীর কাঁপিয়ে হেসে দিলো।রাগ আমার আরও বাড়লো তাতে।আমাকে পাগলের মতো দেখাচ্ছে। চুলগুলো সব এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে।শাড়ির আচল কোথায় আছে সেই খবর নেই আমার।আমি আবার ইফানের উপর হামলে পড়তে নিলে, ইফান আমাকে ঝাপটে ধরে শুইয়ে দিলো।অতঃপর আমাকে শান্ত করতে বললো,

–থাক বউ আজ না-হয় একটু মুচরামুচরি নাই বা করলা।চল তিন জন ঘুমিয়ে পড়ি।
ইফানের কথা শুনে আমি হতবাক।তাই শান্ত হয়ে চোখ সরু করে প্রশ্ন করলাম,
–তিন জন??
আমার কথায় লোকটা ঠোঁট কামড়ে হাসলো।অতঃপর আমার সাথে আরেকটু ঘেঁষে শুইয়ে পড়ে বললো,
–ইয়ে মানে তুমি,আমি আর ছোট ভাই
আরকি,,,,,,,
আমি আবার ক্ষেপে উঠলাম। তাই আবারও ইফানের সাথে ধস্তাধস্তি আরম্ভ করলাম।ইফান আমাকে বলতে লাগলো,
–বুলবুলি, মেরে জান শান্ত হও।তুমি জিতেছ যাও।

কে শুনে কার কথা।আমার সারা গলার অংশে জ্বালা করছে। সেটা যতক্ষণ না কমবে আমার শান্তি নেই। এদিকে ইফানের অবস্থাও খারাপ।ওর ঘার কামড়ে র*ক্তাক্ত করে দিয়েছি।ওর সারা বুকে পিটে আমার নখের আচরে ক্ষতবিক্ষত।এভাবে বিছানাতেই ওর সাথে গড়াগড়ি করে__ধস্তাধস্তি করতে করতে এক সময় খাট ভেঙে পড়ে, সাথে আমি আর ইফানও।হঠাৎ খাট ভেঙে পড়ার শব্দে আমারই আতংক ধরে গেছে। ইফান আমাকে নিজের উপর জড়িয়ে ধরে জোরে জোরে শ্বাস ফেলতে ফেলতে বললো,
–এবার শান্তি হয়েছে জান?
আমি কিছু আর বলালম না।রাগে রিরি করতে করতে জোরে শ্বাস নিচ্ছি।

আমাদের রুমের আওয়াজ সকলে একটু আধটু পাচ্ছিল।কিন্তু স্বামী স্ত্রীর ব্যপার বলে কেউ আসেনি।এদিকে এত জোরে শব্দ হওয়ায়,জিতু ভাই, ইনান, আর আলাল দুলাল ছুটে আসলো।আমি আর ইফান এখনো নিচেই পড়ে আছি।আমার রা*গ কমাতে ইফান এখনো আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে,তখনই দরজায় শব্দ হয়।আমি বুঝতে পারছি বাইরে বাড়ির সকলে এসে জড়ো হয়েছে।কি ল*জ্জাজনক বিষয়?এখন রাগে দুঃখে কাঁদতে ইচ্ছে করছে।এদিকে বাইরে থেকে জিতু ভাইয়া সহ বাকিদের কন্ঠ কানে আসছে।জিতু ভাইয়া বলছে,,,
–জাহান কি হয়েছে? তুই ঠিক আছিস?জাহান,,,
জিতু ভাইয়ার ডাকে বিরক্ত হয়ে ইফান অশ্রাব্য গা*লি দিলো,
–শালার ভাই বো*ধা নাকি ? বুঝে না মাঝ রাতে জামাই বউ খাট ভাঙ্গার মিশনে নামে?
–বাঙ্গির পোয়া তর মুখ বন্ধ কর।

আমি ইফানকে বকতে বকতে উঠে দাঁড়ালাম।আমাকে পাগলের চেয়ে কম দেখাচ্ছে না।এদিকে দরজায় ডাকের শব্দ বেড়েই চলেছে।সেখানে আব্বু আম্মুরাও যুক্ত হয়েছে।আমি তাড়াতাড়ি শাড়ির আচল দিয়ে মাথা থেকে শুরু করে গলাও ঢেকে নিলাম।তারপর তাড়াতাড়ি দরজা হালকা খুলে দিলাম।আমাকে সুস্থ দেখে সকলে একটু স্বস্তি পেল।কেউ কিছু বলার আগেই ইফানও আমার পাশে এসে দাঁড়াল। ইফানের এমন বিধস্ত অবস্থা দেখে বড়রা আর এক মূহুর্ত দাঁড়াল না।লজ্জায় আমার মরি মরি অবস্থা।এদিকে জিতু ভাইয়াও অস্বস্তি তে পড়ে গেলো।ইফান রাগে বিরবির করলো,

জাহানারা পর্ব ৪২

–শালা কালই বউ নিয়ে বিদায় হব।ভালোই বুঝতে পারছি, সাউন্ড প্রুফ ঘর ছাড়া এই ঝাঁঝওয়ালিকে সামলানো যাবে না।
ইফান বিরবির করতে করতে আবার ভেতরে যাওয়া ধরলো।এদিকে জিতু ভাইয়া সহ সকলের চোখ কপালে।কারণ মারামারির সময় ইফানের পশ্চাতের লুঙ্গির অনেকটা ছিড়ে গেছে।পিছন সাইডের এমন এক অবস্থা, আরেকটু হলেই মান ইচ্ছতের পতাকা উড়ে যেতো।

জাহানারা পর্ব ৪৪