Home জোড়া পাতার দিনলিপি জোড়া পাতার দিনলিপি পর্ব ২

জোড়া পাতার দিনলিপি পর্ব ২

জোড়া পাতার দিনলিপি পর্ব ২
তোনিমা খান

স্থির দাঁড়িয়ে থাকা তালহার ঘন ঘন পলক ঝাপটায়। চোয়াল শক্ত হয়ে আসে ক্ষণকাল পূর্বের ঘটনার আকস্মিকতা হজম করতে না পেরে। না কোনো প্রশ্ন, না কোনো অভিযোগ, সোজাসাপ্টা সংসার ত্যাগ করার এই সিদ্ধান্ত সে মানতেই পারল না। ক্ষণকাল পূর্বেও তার সংসার আঁকড়ে ধরে বাঁচা মেয়েটি দশ মিনিটের ব্যবধানে তার সংসার ত্যাগ করে চলে গিয়েছে? এটা অসম্ভব!
সে ত্রস্ত পায়ে ফ্লাট থেকে বেরিয়ে আসে। লম্বা লম্বা পা ফেলতে ফেলতে বিড়বিড় করে,

“সবটা এত সহজ হতে পারে না, বিন্দু। তোমার সাথে আমার বোঝাপড়া এতটা ভিত্তিহীন ছিল না।”
তালহার ছুটে বের হয় রাস্তায়। হন্য হয়ে খোঁজে স্বামী ব্যতীত কখনো শহুরে রাস্তায় একা না বের হওয়া মেয়েটিকে। কিন্তু নেই, কোথাও নেই। তালহার অনুভব করল, মেয়েটির কাছে বোধহয় খুব ভিত্তিহীন ছিল সে আর তার সংসার। সে বোধহয় মুখিয়ে ছিল সংসার ত্যাগ করার জন্য। নয়তো এতটা সহজে এক নিমিষেই তিন বছরের গভীর সম্পর্ক, সংসার ত্যাগ করে চলে যাওয়া যায়? যায় না।
যেই মেয়েটি শহুরে রাস্তায় একা চলতে পারে না, সে নিশ্চয়ই কোনো বন্দোবস্ত ছাড়া সংসার ত্যাগ করেনি। তাই বিন্দুকে খোঁজার প্রচেষ্টা ম্লান হয়ে আসল তালহারের। শূন্য রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে সে স্মিত হাসল। বিড়বিড় করে বলল,
“একবার কৈফিয়ত চাওয়ার মতো সম্পর্ক তো আমাদের ছিল, বিন্দু।”

“চরিত্রহীনতার কোনো কৈফিয়ত হয় না। এই এক অপরাধের শুধু ফয়সালা হয়। কারণ একজন খু/নীকে ক্ষমা করা যায় কিন্তু একজন চরিত্রহীন ব্যক্তিকে নয়।”
ঠিক যতটা দ্রুত ছুটলে যন্ত্রণারা আর পিছু নিতে পারবে না ততটা দ্রুত ছুটছে বিন্দু। ছুটতে ছুটতে একটা সময় সে ক্লান্ত হয়ে পড়ল। বিন্দুর পায়ের গতি থেমে যায়। হাতের ব্যাগটা ধপ করে পড়ে যায় পিচ ঢালা সড়কে। বিন্দু পিছু ফিরে তাকায়। নেই, কিছু নেই। সে যন্ত্রণাদের পিছু ফেলে অনেক দূরে চলে এসেছে। আর কখনোই মানসিক যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে তার দম বন্ধ হয়ে আসবে না।
বিন্দু স্তম্ভের ন্যায় দাঁড়িয়ে রইল ওই শূন্য সড়কের মাঝে। বৃষ্টি নামার ঠিক পূর্বমুহূর্তে আকাশের অবস্থা এক অপূর্ব নাট্যমঞ্চ হয়ে উঠল। যেখানে আলো আর আঁধার মিলে রচনা করছে এক গভীর বিষণ্ণতা। বিন্দু ঘাড় উঁচিয়ে উদাসীন দৃষ্টি রাখে মেঘেঢাকা অম্বরপানে। দূরে কোথাও বিদ্যুতের রেখা ক্ষণিকের জন্য আকাশের বুক চিরে ছলকে উঠল। তারপর আবার নিস্তব্ধতা।

আকাশে তখন আর নীলাভ মেঘের ঘনঘটা নেই; সেই রঙ বদলে যায় ধূসর থেকে ধূম্রাভ কালোয়। মেঘগুলো ভারী হয়ে নিচের দিকে ঝুঁকে পড়েছে, যেন একটু পরেই পৃথিবীর বুক ছুঁয়ে ফেলবে। তাদের চলাফেরা ধীর, কিন্তু উদ্দেশ্য স্পষ্ট—বৃষ্টি নিয়ে নামবে শিগগিরই।
ঠিক যেমনটা বিন্দুর আঁখিদ্বয়ের উদ্দেশ্য স্পষ্ট। তারাও আজ ঝরবে! বহুদিনের জমিয়ে রাখা দুঃসহনীয় ভারী যন্ত্রণা গুলো আজ ঝরবে মুক্তির আনন্দে!
এই মুহূর্তে বিন্দুর আর আকাশের রূপে একই সৌন্দর্য বিদ্যমান। বিষন্ন সৌন্দর্য! দু’জনের মাঝেই আছে এক অদ্ভুত চাপা কষ্ট। তারা বোধহয় কষ্টের ভার আর নিতে পারছে না। মেঘলা আকাশ নিজের ভার কমায়‌। বিন্দু বিন্দু শীতল জল টুপটাপ করে বিন্দুর বদ্ধ নেত্র সহ মুখশ্রীতে পড়তেই বিন্দু ও আস্কারা পেল!
বৃষ্টির ফোঁটার সাথে পাল্লা দিয়ে বিন্দুর চোখের কার্নিশ বেয়ে অবমুক্ত কোনো ধারার ন্যায় নোনাজল বইতে লাগল।

একটা সময় বৃষ্টির বেগ বাড়ল এবং সেই সাথে বিন্দুর পনেরো দিনের জমিয়ে রাখা চাপা আর্তনাদগুলোও উপচে বেরিয়ে আসল। বিন্দু ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। বৃষ্টির ক্ষিপ্র বেগ আর আর্তনাদভরা কান্নার শব্দ একে অপরের সাথে মিলেমিশে এক ভয়ঙ্কর ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করল।
অশ্রু আর বৃষ্টির পানি মিলেমিশে একাকার। বিন্দু ততক্ষণ কাঁদল যতক্ষণ না তার ভেতরের জ্বলন কমলো।
বলহীন দেহে বিন্দুর সিক্ত বদন মৃদু কাঁপছিল। সে আচমকা আকাশপানে লালচে নেত্র মেলে তাকালো। কাঁদতে কাঁদতে অভিযোগের সুরে বলল,
“আমি তো নিজের একটা ঘর আর একজন নিজের মানুষ চেয়েছিলাম। খুব বেশি চেয়ে ফেলেছি কী? এভাবে যন্ত্রণা দিয়ে টুকরো টুকরো করে ভেঙে দিলেন কেন? কেন সবটা দিয়েও ছিনিয়ে নিলেন?”
কান্নার মতো তার অভিযোগ গুলোও হারিয়ে যায় বিকট গর্জনের অন্তরালে। আর স্বামী সংসারকে নিজের জীবন ভেবে নিজের সবটুকু বিলিয়ে দিয়ে দেয়া বিন্দু তখন নিঃস্ব হস্তে মাঝরাস্তায় একা দাঁড়িয়ে আছে।
গাছের পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা পাখিগুলোও নীরবে দেখে চলেছে আর্তনাদরত এক সর্বহারা নারীকে।

তালহার ধীর কদমে ঘরে ঢুকতেই শূন্যতায় হাহাকার জুড়লো এক একটা তৈজসপত্র। এটি ছিল একটি বিলাসবহুল ফ্লাট। যার কোনায় কোনায় শৌখিনতার ছোঁয়া আর স্বর্গীয় সুখ ছিল দশ মিনিট আগে। কিন্তু এখন কিচ্ছু নেই।
তালহার পুরো ঘরময় চোখ বুলিয়ে সোফায় থম মেরে বসে রইল কিয়ৎকাল। সোফায় পিঠ এলিয়ে ভ্রুযুগল মর্দন করতে করতে কাউকে একটা মেসেজ পাঠালো। অতঃপর চুপটি করে বসে রইল। তার দেখা সবচেয়ে নিখুঁত অভিনেত্রী যে বিন্দু! মেঘ বিয়ের আলোচনা করেছিল পনেরো দিন আগে। তার মানে বিন্দু পনেরো দিন যাবৎ এটা মনে লুকিয়ে তার সাথে অভিনয় করে চলেছে। যেখানে এক মুহুর্তের জন্যও তার মনে হয়নি বিন্দু সবটা জেনে গিয়েছে। গতকাল রাতেও তারা সুন্দর একটা সময় কাটিয়েছে, এমনকি কিছুকাল পূর্বেও।
সেলফোনটি তীব্র শব্দে বেজে উঠতেই থুতনিতে হাত ঠেকিয়ে বসে থাকা তালহার নড়েচড়ে উঠল। অলস কদমে ঘরে গিয়ে দেখল ফোনের স্ক্রিনে ভাসছে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর খিলজি মাহমুদ এর নামটি।

“আসসালামুয়ালাইকুম স্যার!” তার পেশাগত গম্ভীর কণ্ঠে খিলজি মাহমুদ থমথমে কণ্ঠে বললেন,
“তালহার তুমি কোথায়?”
“বাড়িতে খেতে এসেছি, স্যার।”
তালহার কানে ফোন চেপে খাবার টেবিলের সব খাবার উল্টে দেখতে লাগল‌। মেনুতে স্বাভাবিক দিনের খাবারের বদলে শাহী সব খাবার দাবার দেখে ভ্রু কুঁচকে গেল। এত আয়োজনের কারণ কী? শেষ বিদায়ের জন্য নাকি? বিদ্রূপের সাথে নিঃশব্দে হাসল তালহার।
“তুমি জানো আমাদের কাজের কী চাপ! আজ একদিন তুমি দুপুরের লাঞ্চটা এখানে করতে পারতে।”
“স্যার, আপনি জানেন আমি ঘরের খাবার ব্যতীত কখনো বাইরের খাবার খাই না। আর আমি আমার কাজের একটা গতি করেই সাময়িক ব্রেক নিয়ে এসেছি।”
খিলজি মাহমুদ অসন্তোষের নিঃশ্বাস ফেললেন। বললেন,
“এদিকে তোমার জন্য নিজের হাতে ঘরের খাবার রান্না করে এনে বসে আছে মেঘ।”
তালহারের ভ্রুযুগলে বিরক্তির ভাঁজ পড়ল। বিরক্তি নিয়ে বলল,

“মেঘ অফিসে এসেছে?”
“হ্যাঁ।”
“তাকে এতটা প্রশ্রয় দেয়া আপনার উচিৎ হয়নি, স্যার। এখন সে যখন তখন অফিসে আসছে।”
“এটাকে প্রশ্রয় বলে না তালহার, ভালোবাসা বলে। যেটা সে নিজ যোগ্যতায় অর্জন করে নিয়েছে। আর আমি শুধু তাকে বাধ্য হয়েই ভালোবাসছি। কারণ সে একটা মিষ্টি মেয়ে। যে তোমার মতো একজন কঠোর মানুষকে নিজের মিষ্টতা হারাচ্ছে। এখন দয়া করে অফিসে এসে তার রান্না করা খাবারগুলো একটু খাও।
তালহার অনাগ্রহে শুনল। এবং বরাবরের মতোই রুক্ষ কণ্ঠে বলল,
“দুঃখিত স্যার! কিন্তু আমি আমার ঘর ব্যতীত কখনোই কোনো জায়গার খাবার খাই না। একেবারে বাধ্য না হলে। মেঘকে বলবেন এমন কাজ আর কখনো না করতে আর বাড়ি ফিরে যেতে।”
“Need to know” গোয়েন্দা সংস্থার এই নীতিরমালার ক্ষেত্রে সবচেয়ে স্ট্রিক্ট অফিসার হলেন তালহার মুজাহিদ। যার কাজ ব্যতীত কোনো ব্যক্তিগত তথ্য আজ পর্যন্ত কখনো প্রকাশ পায় নি। পেশাগত জীবনে তালহার কতটা কঠিন মানুষ তা খিলজি মাহমুদ জানেন। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে ব্যক্তিগত জীবনে তালহার মুজাহিদ আরো কঠিন। আর সেই কঠিন মানুষটাকেই তার অতি প্রিয় একটি মানুষ মন দিয়ে বসেছে। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,

“তুমি নিজেই বলো।”
মেঘ ফোনটা ছিনিয়ে নেয় তার থেকে। বারান্দার ছুটে গিয়ে হড়বড়িয়ে বলল,
“তালহার তুমি এমনটা করতে পারো না। আমি সারাদিন বসে তোমার জন্য রান্না করে এনেছি। এগুলো তোমার খেতেই হবে।”
তালহারের বিরক্তির মাত্রা বাড়ে। প্লেটে খাবার বাড়তে বাড়তে অনাদরে বলল,
“আমি খাবার খাচ্ছি, মেঘ। তুমি আমার কাছে না জানিয়ে এমন কাজ করেছ কেন? এর দ্বায়ভার আমার না।”
“তুমি এতটা কঠোর হতে পার না, তালহার। আজ তোমার জন্মদিন। আমি তোমায় সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম।”
মেঘ এর অনুযোগ ভরা কণ্ঠ।
তালহার মৃদু চমকায় নিজের জন্মদিনের কথা শুনে। কানে ফোন ঠেকিয়ে ধরা হাতটি হালকা হয়ে আসে টেবিল ভরতি পোলাও, রোস্ট, মাংস সহ শাহী ভোজ আয়োজনের কারণ বুঝতে পেরে।
মনে পড়ে, বিন্দু তার প্রতি জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন করে। এতক্ষণে বুঝলো আজ রান্নায় কেন এত বিশেষত্ব। শেষবারের মতো বিশেষ কিছু করে দয়া দেখিয়ে গিয়েছে বোধহয়।
অথচ সে এই মেয়েটির রান্না ব্যতীত অন্য কোনো খাবার পারতে সই মুখে তোলে না।
সে গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,

“অফিসের অন্য কাউকে খাইয়ে দাও। আমার খাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, আর না আমি খাবো।”
মেঘের মুখটি মলিন হয় ঠিক যেমন আকাশে জমা মেঘগুলো বারিধারার পূর্বে ধূম্রাভ হয়ে থাকে। তালহার সর্বদা এমনি কঠোর! কখনো তাকে কোনোপ্রকার প্রশ্রয় দেয় না। কিন্তু সে তার এই কঠোরতার ই প্রেমে পড়েছিল।
সে আদুরে কণ্ঠে আবদার করে বলে,
“তালহার প্লিজ!”
“এগুলো অতিরিক্ত মেঘ।”, তালহারের গুরুগম্ভীর কণ্ঠে মেঘ হাল ছেড়ে দিল। তবুও বলল,
“আচ্ছা তুমি যখন খাবে না, তবে আমাদের খাওয়াও। তোমার জন্মদিন নিয়ে আমাদের অনেক এক্সপেক্টেশন।”
“ঠিক আছে।”
তালহার মেনে যেতেই মেঘের মুখে হাসি ফুটে উঠল। চঞ্চল কণ্ঠে বলল,
“সত্যি?”
“হু।”

“আমরা কেক কাটব কিন্তু তালহার। আমি কেক নিয়ে অপেক্ষা করব তোমার। জলদি আসবে।”
“এসব কেক কাটা আমার পছন্দ নয়, মেঘ। বাড়াবাড়ি করো না। আমি এসব কিছুই করব না।”
“তোমার পছন্দ নয় কিন্তু আমার তো পছন্দ। আমার জন্য অন্তত এতটুকু করো, প্লিজ।”
তালহার জবাব দেয় না। মেঘ পুনশ্চঃ আবদার করে বলে,
“ তুমি তো আমার রান্না করা খাবার খেলে না, তালহার। আমি খুব কষ্ট পেয়েছি, তুমি কি আমার আরেকটা আবদার পূরণ করবে, প্লীজ?”
“কী?”
“বলো পূরণ করবে?”
“পূরণ করার মতো হলে করব।”
“অবশ্যই পূরণ করতে হবে তালহার। কারণ তুমি আমার জন্মদিনে আমায় কথা দিয়েছিলে আমি যদি কখনো কিছু আবদার করি তুমি রাখবে।”
তালহার তখন ডুবে আছে তৃপ্তি সহকারে স্ত্রীর রান্না করা খাবারে। তার মায়ের ভাষ্যমতে বিন্দুর হাতের রান্নাকে তার পরিবারের কোনো বউ টেক্কা দিতে পারবে না। কিন্তু তার ভাষ্যমতে, বিন্দুর হাতের রান্নাকে পৃথিবীর কেউ টেক্কা দিতে পারবে না। সে পেটভরে খেতে খেতে বলল,

“বলো।”
“আমি আজ একটু তোমার বাসায় আসি? তুমি কোথায় থাকো, কীভাবে থাকো আমি তো কিছু জানি না। আমার খুব দেখতে ইচ্ছে করে। তুমি বলেছিলে আমার আবদার রাখবে।”
মেঘ তাকে মানানোর সকল চেষ্টা অবলম্বন করে সতর্ক কণ্ঠে বলল। ভেবেছিল প্রতিবারের মতো এবারেও সে এক রাম ধমক খাবে। কিন্তু না! তালহার শান্ত স্বরে বলল,
“আচ্ছা।”
“ইয়েয়েয়েয়ে!”
মেঘ সরব আনন্দে চিৎকার করে উঠল। তালহার নিরুদ্বেগ সেই উল্লাস উপেক্ষা করে বলল,
“এখন ব্যস্ত আছি, ফোন রাখছি।”
“আমি কখন আসব বললে তো না।”
“যখন তোমার সুযোগ হয়।”
“আচ্ছা তবে কাল যাব, ঠিক আছে?”
“আচ্ছা। আর বারবার এই আফিসে আসা বন্ধ করো মেঘ। এটা তোমার জন্য বিপদজনক।”
মেঘের চঞ্চলতা থমকায়। মৃদু হেসে বলল,

“তুমি থাকতে বিপদ কিসের?”
“আমি নিজেই তোমার জন্য বিপদজনক।”
“হোয়াট আ জোক তালহার। কিন্তু আমার হাসি পাচ্ছে না। তুমি তাড়াতাড়ি এসো আমরা না খেয়ে অপেক্ষা করছি তোমার জন্য।
“হু।”
ছোট্ট জবাব দিয়েই তালহার ফোন কেটে খাওয়ায় মগ্ন হয়। নীরবে নিরুদ্বেগ অনেক সময় নিয়ে খাবার খেতে লাগল। যতটা ধীরগতিতে সম্ভব। মনে হচ্ছে সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে, সুখ ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাকে বোধহয় এখন বাইরের খাবারের অভ্যাস গড়তে হবে।
মেঘ ফোন কেটে খিলজি মাহমুদ এর অফিস থেকে বেরিয়ে অন্য একটি অফিস গিয়ে দাঁড়ালো। কম্পিউটারের সামনে চোয়াল শক্ত করে কর্মরত অফিসারের দিকে বাঁকা দৃষ্টি ফেলে বলল,
“মিস্টার মাথা ছাড়া মেহমেদ শুনছেন?”

তালহারের কতি নিকটস্থ সহকর্মী মেহমেদের গম্ভীর মুখে বিরক্তি ফুটে উঠল। তবুও সংযত ভাষায় বলল,
“শুনছি মিস মঞ্জুলিকা।”
মেঘ নাকের পাটা ফুলালো। বলল,
“আপনার এইবেলার খাবার আমি জোগাড় করে ফেলেছি। তালহার আমাদের ট্রিট দিচ্ছে তার জন্মদিনের জন্য।”
মেহমেদ কাজ করতে করতে বিস্ময় নিয়ে বলল,
“আপনি এ বেলায় আমার খাবার না জোগাড় করলে তো আমি না খেয়েই মরে যেতাম, মিস মঞ্জুলিকা। এত কৃপা কী করে করলেন?”
“আমি খুব দয়ালু তাই।”
“তবে আরেকটু দয়া করেন মিস।”

মেহমেদ এবার কাজ থামিয়ে মেঘের ফুলকো মুখের দিকে চোখ রাখল। মেয়েটিকে দেখতে ঠিক একটা সাদা ধবধবে ফ্যাকাশে জবা ফুলের মতো। যার মধ্যে একটু গোলাপী ছোঁয়া রয়েছে। ওই ঠোঁট দুটো।
মেঘ বিরক্তি নিয়ে বলল,
“বলুন।”
মেহমেদ প্রগাঢ় হেসে বলল,
“আপনার এই ভুতের মতো মুখটা নিয়ে এখান থেকে বিদায় হন।”
সহসা মেঘ ফুঁসে উঠল। বলল,
“যেদিন আমি আপনার বসকে বিয়ে করব সেদিন আমি আগে আপনাকে ফায়ার করব‌।”
“আপনাকে মন থেকে শুভকামনা জানাচ্ছি, মিস মঞ্জুলিকা‌”
মেহমেদ প্রগাঢ় হেসে বলল। মেঘ ফুঁসতে ফুঁসতে চলে গেল খিলজি মাহমুদ এর রুমে।
একদিন মেঘ কলেজ শেষে একদল গুন্ডার হাতে পড়েছিল। সেই বিপদে থেকে তাকে বাঁচায় তালহার এবং খিলজি মাহমুদ। সেই থেকে আজ পর্যন্ত সে এই মানুষ দুটির পিছু ছাড়েনি। খিলজি মাহমুদ এর একটা ছেলে। আর সে হলো মেহমেদ। তার কোনো মেয়ে নেই। সে এই প্রাণবন্ত নিষ্পাপ মেয়েটিকে দেখলে নিজের সব দুঃখ ভুলে যায়।
মেঘ যখন খিলজি মাহমুদ এর রুমে বসেছিল মেহমেদ তখন নক করল।

“এসো মেহমেদ।”
মেহমেদ ঢুকে বলল,
“স্যার, তালহার স্যার কখন আসবে?”
“কিছুক্ষণের মধ্যেই।”
“এই খাবারগুলো কী নষ্ট হচ্ছে?”
মেহমেদ মেঘের আনা খাবারগুলোর দিকে নির্দেশ করে বলল। খিলজি সাহেব বলল,
“তুমি চাইলে খেতে পারো। তালহার খাচ্ছে না।”
মেহমেদ কোনোরূপ সময় নষ্ট না করে বাটি খুলে খেতে বসে গেল। বলল,
“খেয়ে বেঁচে থাকব তো মিস মঞ্জু…না না মিস মেঘ?”
মেঘ কঠোর দৃষ্টি ফেলে এগিয়ে গেল তার কাছে। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“আপনার মতো মানুষের বেঁচে থাকার কোনো প্রয়োজন ও নেই। আপনি মরে যান।”
মেহমেদ গাল ভরে হেসে বলল,
“আহ্! তারমানে তো আমায় দীর্ঘদিন বাঁচতে হবে।”

মেঘ গজগজ করতে করতে গিয়ে খিলজি সাহেবের কাছে গিয়ে বসল। সে এখানে প্রায়শই আসে এই বৃদ্ধার সাথে দেখা করতে। আজো এমনি একটা বিশেষ দিন ছিল।
খাওয়া শেষে তালহার খাবারগুলো ফ্রিজে রাখতে গেলে তার দেহ ম্লান হয়ে আসে। সে যত স্বাভাবিক ভাবে বিষয়টাকে নিতে চায়, বিষয়টা ততই জটিল ছিল।
সে তার দেহের অর্ধেক অংশ থেকে এড়াতে চাইছে—অথচ সেই বিষয়টা তার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
ফ্রিজের ভেতরে একটা সুন্দর কেক সাজিয়ে রাখা। সে হাত বাড়িয়ে কেকটা বের করে। কেকের উপর গোটা গোটা অক্ষরে লেখা “শুভ জন্মদিন তালহার”। স্মিত হাসল সে, বিন্দু সবকিছুতে পটু! প্রতি জন্মদিনে তার জন্য নিজের হাতে কেক বানায়। আর সেটা তার খুব পছন্দের! এবারেও তার ব্যতিক্রম হয় না। যেতে যেতেও বিন্দু তার দায়িত্ব পালন করে গিয়েছে। শুধুই কি দায়িত্ব না-কি ভালোবাসাও ছিল? তিন বছরের সংসারে তার মনে হয়েছে বিন্দু সে বলতে পাগল। তবে কারোর জন্য পাগল হলে এভাবে অভিযোগ বিহীন কোনো সম্পর্ক ত্যাগ করা যায়? যায় না।
সে উপেক্ষা করতে পারে না কেকটিকে। কেকটা কেটে এক পিস খেলো। জনসম্মুখে কেক কাটা এবং খাওয়া পছন্দ না করা মানুষটা অবলীলায় এক পিসের জায়গায় চার পিস কেক খেয়ে নিল।
রুমে ঢুকে কাবার্ড খুলল। খুলতেই দেখল সেখানে একটা নতুন শার্ট আর প্যান্ট খুব যত্ন করে ব়্যাপিং করে রাখা। সে নির্বিকার সদ্য সংসার ত্যাগ করে যাওয়া স্ত্রীর রাখা উপহার খুলে পরে নিলো। মুখশ্রী একদম নির্লিপ্ত!
শার্ট ইন করে আরশির সামনে দাঁড়াতেই তার ঠোঁটে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল। সংসার নামক পিছুটান ছুটে গেল এক নিমিষেই। তাকে ছুটতে হয় কর্মের তাগিদে।

সাদা শার্ট কালো প্যান্ট পরিহিত একজন সুঠামদেহী সুদর্শন অফিসার লম্বা লম্বা কদম ফেলে অফিসে ঢুকতেই মেঘের মুখে হাসি ফুটে উঠল।
একত্রিশ বছর বয়সী এই গোয়েন্দা সংস্থার সিনিয়র অফিসার তার দেখা সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ। যার মাঝে সে প্রতিনিয়ত নিজেকে হারায়।
“তালহার।”
তালহার তার দিকে দৃষ্টি ফেলল। সে আজ শাড়ি পরেছিল। কিন্তু বিন্দুর থেকে সুন্দর শাড়ি কেউ পরতে পারত না। অজান্তেই তালহার বিড়বিড় করল।
মেঘ ছুটে আসতেই তালহার তার উচ্ছাসে পানি ঢেলে দিয়ে বলল,
“আগামী দুই ঘন্টা আমার গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে মেঘ। তুমি দুই ঘন্টা পর পাশের রেস্টুরেন্টে অপেক্ষা করবে। আমরা ওখানে চলে আসব।”
“কিন্তু তালহার!”

“কোনো কিন্তু নয় মেঘ। আর একটা কথা, এরপর থেকে তুমি আর কখনোই অফিসে আসবে না। এটা আমার ব্যক্তিগত অফিস নয় যে তুমি হুটহাট চলে আসবে।”
বলেই সে নিজের অফিসে ঢুকে গিয়ে দরজা আঁটকে দিল। মেঘ দীর্ঘশ্বাস ফেলে সেদিকে তাকিয়ে রইল। সে ওই ধরণের মেয়ে ছিল না যারা কথায় কথায় কষ্ট পায়। বরং তাকে কষ্ট দেয় অনেক কঠিন ছিল। কঠিন না হলে কী সে এই রসকষহীন কঠোর মানুষটাকে ভালোবাসে?
খিলজি সাহেব সহ মেহমেদের কাজের ব্যস্ততাও ততক্ষণে বেড়ে গেল। খিলজি সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেলে পকেটে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে আছে। মেঘ তার পানে তাকাতেই বৃদ্ধা ম্লান হাসল।
মেঘ অভিমান ভুলে চমৎকার হেসে চঞ্চল কণ্ঠে বলল,
“আরে আঙ্কেল চিল! আমি এই পাথরকে পানিতে পরিণত করতে জানি। আমার উপর ছেড়ে দিন।”
“আমি জানি। আর তাই আমি তোমায় এত ভালোবাসি।” খিলজি সাহেব মৃদু হেসে বললেন। মেঘ হেসে নিজের সবকিছু নিয়ে ছুটলো রেস্টুরেন্টে। আজকের দিনটা সে সুন্দর করে সেলিব্রেট করতে চায়।

বাসস্টপের এক কিনারায় ছাউনীর নিচে গুটিয়ে বসে থাকা মানুষটিকে দেখে তন্ময় দ্রুত তার সামনে বাইক থামায়। বৃষ্টির ক্ষিপ্র ফোঁটা উপেক্ষা করে ছুটে যায়। ব্যস্ত কণ্ঠে বলল,
“আপু, ঠিক আছেন? আমার কোচিং থেকে বের হতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছে আপু। আপনি তো ভিজে গিয়েছেন।”
মূর্তির ন্যায় বসে থাকা বিন্দু কারোর ব্যস্ত কণ্ঠে নড়েচড়ে উঠল। চোখ তুলে তাকিয়ে মৃদু হাসল চিন্তিত ছেলেটিকে দেখে। মিহি স্বরে বলল,
“সমস্যা নেই। আমি ঠিক আছি, তন্ময়। একটু বৃষ্টিতে ভিজতে ইচ্ছে করছিল, তাই ভিজেছি। চলো যাওয়া যাক।”
তন্ময় তার লালচে নেত্র দেখে বুঝে নেয় তার পরিস্থিতি। কিন্তু কোন প্রশ্ন করে না। সে বলল,

“এই বৃষ্টিতেই যাবেন আপু? না-কি থামলে পর যাবেন।”
“তোমার যেমনটা সুবিধা হয়। আমার কিছু কিনতেও হবে।”
“আচ্ছা আপু একটু থামুক, তারপর যাই।”
তন্ময় তার পাশে বসে। বিন্দু শুধায়,
“আজ আরো কোচিংয়ের ক্লাস আছে?”
তন্ময় মাথা নেড়ে বলল,
“আজ আর ক্লাস রাখিনি আপু। আজ আপনার সমস্যার স্থায়ী সমাধান করব তাই সব কাজ বন্ধ।”
ছেলেটির প্রসন্ন কণ্ঠ। বিন্দু হাসল। ঢাকায় আসার পরেও সে তার পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছে। মাস্টার্স কমপ্লিট করেছে ঢাকা থেকেই। কিন্তু স্ত্রীর চাকরি করা তালহারের পছন্দ নয়। তাই সে চাকরি করেনি।
এবং আল্লাহ তায়ালার অদ্ভুত মর্জি অনুযায়ী আজ তিন বছরেও সে কনসিভ করতে পারেনি। দুইবার করেছিল কিন্তু তা এক সপ্তাহ ও টিকেনি। এরপর আর কখনোই কনসিভ করেনি। অবশ্য তালহার এই তিন বছরে কখনোই সন্তানের কথা উল্লেখ করেনি। আগে ভাবত তালহার বোধহয় তাকে ভালোবেসে সন্তান চায় না। কিন্তু এখন তার কাছে সবটা স্পষ্ট! তালহার তো তাকেই চায় না।
তবে দীর্ঘ একটা সময় একাকী থাকতে তার খুব খারাপ লাগতো। তালহার ফলশ্রুতিতে একটা বিড়াল ও এনে দিয়েছিল। কিন্তু তার ইচ্ছা করত তার মেধা কাজে লাগাতে। তার শিক্ষাকতা করাতে ভালো লাগে। তাই তালহারের থেকে অনুমতি নিয়ে তাদের বাসার সামনেই থাকা একটা কোচিং সেন্টারে কেমিস্ট্রি টিচার হিসেবে দু’টো ক্লাস করাত।

উচ্চমাধ্যমিক থেকে ভার্সিটির স্টুডেন্ট পড়াত। মেধাবী হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীরা খুব সহজে তার পড়া গ্রহণ করে নেয় এবং একটা ভালো ফলাফল ও আনে। ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে খুব দ্রুতই তার জনপ্রিয়তা বেড়ে যায় এবং সেখান থেকেই তন্ময়ের সাথে পরিচয়।
তন্ময় ও তার স্টুডেন্ট। ভার্সিটির থার্ড ইয়ারের কেমিস্ট্রি বিভাগের ছাত্র।
তাকে নিজের সমস্যার কথা জানালে সে জানায় সে সাহায্য করতে পারবে। তন্ময়ের বাসাতেই স্বল্পমূল্যের একটা ঘর ভাড়া নিয়েছে সে। তন্ময় সবদিক থেকে সাহায্য করছে। নতুন কোচিং সেন্টারে যুক্ত হতেও সাহায্য করছে।
তন্ময় বিন্দুকে আড়চোখে দেখতে দেখতেই নীরবতা ভাঙল।

“আপনাকে ঠিক লাগছে না আপু।”
বিন্দু হকচকিয়ে মুখে হাত দিল। এলোমেলো চুলগুলো কানের পিঠে গুঁজে কৃত্রিম হেসে বলল,
“আমি একদম ঠিক আছি তন্ময়। তুমি তো জানো তিন বছরের মায়া কাটানো একটু কঠিন। কিন্তু আমি মন থেকেই সব পিছুটান কাটিয়ে উঠছি।”
তন্ময় সব জানে। সে মৃদু হেসে বলল,
“আমি ভাইয়ার সাথে কথা বলেছি আপু। ভাইয়া বলছে এই সপ্তাহের মধ্যে আপনাকে কোচিং এ নিয়োগ দিতে পারবে।”
“তোমায় ধন্যবাদ দিলে ছোট করা হবে ছোট ভাই। তবুও আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ। চেনা জানা নেই একটা মানুষকে তুমি এতটা সাহায্য করছ।”
বিন্দুর নরম কণ্ঠ। তন্ময় উৎকণ্ঠা নিয়ে বলল,
“আপু, আপনাকে হাতছাড়া করলে আমার ফেইল নিশ্চিত। আমি আর আমার ফ্রেন্ডরা আপনার পড়া যত ভালো বুঝি তা আর কোনো টিচারের কাছে বুঝি না। আর আপনি আমাদের নিজের ভাই বোনের মতো করে পড়ান। আমাদের আপনাকে যেকোনো মূল্যে চাই আপু। ভাইয়া নিতে চেয়েছিল না হুটহাট কাউকে। আমি আর আমার ফ্রেন্ডরা তার হাতে পায়ে ধরে রাজি করিয়েছি।”

বলেই তন্ময় গাল ভরে হাসল। বিন্দু স্মিত হাসল। বুকে ঘর ভাঙার ব্যথা নিয়ে আরেক ঘর গোছাতে উঠে দাঁড়ায়। বৃষ্টি থেমে গিয়েছে। তন্ময় বাইকে উঠে বসে। বিন্দু ফিরে থাকায় একবার সেই পথের পানে—যেই পথ থেকে তাকে নিঃস্ব হয়ে বের হতে হয়েছে। ঐ পথ জুড়ে অজশ্র মায়া। তাকাতেই বুক মুচড়ে ওঠে বিন্দুর। যন্ত্রণারা বাড়তে লাগল। দ্রুতহাতে চোখ মুছে বিন্দু আবার পালাতে লাগল। যেই পথ এতটা যন্ত্রণা দিতে জানে সেই পথে আর ফিরে তাকাবে না।
সে বাইকের কাছে গিয়ে নিজের ফোনের সিম দুটো বের করে ভেঙে চুরমার করে ফেলে দিল রাস্তায়।
অতঃপর বাইকে উঠে বসল কিছু নতুন আশা নিয়ে। ঘর ভাঙা মেয়ে মানুষ, এমন অসহায়ত্ব নিয়ে পরিবারের সামনে সে দাঁড়াবে না। নিজেকে একটা জায়গায় দাঁড় করিয়ে তারপর পরিবারের সম্মুখে দাঁড়াবে।
একটা ইলেকট্রিক চুলা, কিছু খাবারের সামগ্রী আর প্রয়োজনীয় কিছু তৈজসপত্র কিনে বিন্দু ওঠে তার নতুন ঘরে। দুই রুমের একটা ছোট্ট ঘর, যেটা তন্ময়ের পরিবার ব্যবহার করে না। তন্ময়ের বদৌলতে মাত্র আড়াই হাজার টাকায় ঘরটা ভাড়া নিতে পেরেছে সে। তন্ময়ের সাধ্যের মাঝে যতটুকু ছিল সে সব করল। তন্ময় আর তার বাড়ির কাজের মহিলা বিন্দুকে সব গুছিয়ে উঠতে সাহায্য করে। ফলস্বরূপ খুব সহজেই বিন্দু নতুন জায়গা নিজের মতো গুছিয়ে নিল।
বিন্দু কৃতজ্ঞতার দৃষ্টিতে তাকায় তন্ময়ের দিকে।

“অনেক করেছ ছোট ভাই। বড় আপুকে এত সাহায্য করলে এখন আমি তোমার জন্য কি করব বলোতো?”
তন্ময় লাজুক হাসল। ফিসফিসিয়ে বলল,
“আমার ফ্রেন্ডদের আগে আমায় একটু আলাদা করে সাজেশন করে দিয়েন আপু, আমি যেন ওদের থেকে বেশি নাম্বার পাই।”
বিন্দু স্মিত হাসল, তার পিঠ চাপড়ে বলল,
“দুষ্টু ছেলে! তোমাদের সবাইকে আমি আমার সর্বোচ্চটা দেব যেন সবাই ভালো রেজাল্ট করো।”
তন্ময় মুখ লটকে বলল,
“আচ্ছা আপু! আপনি আমার বাড়িতে আছেন এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট। যা ওদের নেই। আমি এমনিতেই ভালো রেজাল্ট করব।”

জোড়া পাতার দিনলিপি পর্ব ১

সে হেসে বিন্দুর থেকে বিদায় নিল। যেতে যেতে বলল,
“কোন সাহায্য লাগলেই আমায় বলবেন আপু।”
“আচ্ছা ছোটভাই।”

জোড়া পাতার দিনলিপি পর্ব ৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here