Home ডাক্টার ইশতিহার ডাক্টার ইশতিহার পর্ব ২

ডাক্টার ইশতিহার পর্ব ২

ডাক্টার ইশতিহার পর্ব ২
অনামিকা আহমেদ

কথাটা শেষ করার আগেই জোরালো এক থাপ্প*ড়ের আঘাতে রূপ মেঝেতে মুখ থুবড়ে পড়ে। মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা মগের ভাঙ্গা টুকরা লেগে রূপের কপালের কোণে কিছুটা অংশ কেটে গিয়ে র*ক্ত ঝরতে থাকে। রূপের দুঠোঁট গলে অস্ফুট আর্ত*নাদ বের হতেই ইশতিহার রূপের মুখটা শক্ত করে চেপে ধরে। রূপের বুকটা ভারী হয়ে আসে, সেই সাথেই তলপেট টা মোচড় দিয়ে উঠে। অজান্তেই রূপ এক হাত দিয়ে কাপড়ের ওপর তলপেট টা চেপে ধরে যা ইশতিহার এর নজর এড়ায় না। রূপের গর্ভে থাকা ছোট্ট প্রাণটা বারবার নিজের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে। রূপের জলে ভেজা চোখের দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে বলে,

” তোর সাহস কি করে হয় আমার সন্তান কে অস্বীকার করার? আমি কি তোকে প্রেগ*ন্যান্ট করে দিয়ে পালিয়ে গেছি? নাকি তোর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তোকে ছুঁয়ে দেখেছি যার ফল হিসেবে তোর পেট বেঁধেছে কোনটা? শুনে রাখ রূপ, তোর আর আমার মধ্যে যা কিছু হয়েছে সেসবে দুজনেরই মত ছিল। আমি নাহয় নেশা*গ্রস্ত ছিলাম, তাহলে তুই কেনো সেদিন আমাকে তোর কাছে আসতে দিলি? আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলতে পারবি যে এসবে তোর কোনো অনুমতি ছিল না, আমি তোর ওপর জোর খাটিয়েছি?”
রূপ চুপ করে অভিমানী চোখে শুধু চেয়ে থাকে, কথা বলে না। আর বলবেই বা কি ইশতিহার যা বলছে সেসবই সত্যি। রূপের এ নিস্তব্ধতা দেখে ইশতিহার আরও চড়াও হয়।
” আমি বেঁচে থাকতে আমার সন্তানের গায়ে কখনও অবৈধতার ট্যাগ লাগতে দিবো না। আর তোকে যদি কখনও দেখি বাচ্চাটা আমার বলে তার প্রতি অযত্ন করছিস তবে মনে রাখিস তোকে জানে মেরে ফেলব। এখন উঠে দাড়া, ওয়াশরুমে গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে আয়। আজ থেকে তুই এই রুমে ঘুমাবি।”

ইশতিহার এর কথা শুনতেই বিস্ময়ে রূপের মুখ হা হয়ে যায়। সে ইশতিহার কে বাঁধা দিয়ে বলে,
” আমি কেনো আপনার সাথে শোবো? আপনার বউ লাগি আমি যে আপনার পাশে শুইয়ে রাত্রি যাপন করবো?”
রূপের কথাশুনে ইশতিহার বাকা হাসি দেয়। আলতো করে নিজের আঙুল দিয়ে রূপের ঠোঁট ঘষতে ঘষতে বলে,
” নিজের ইজ্জত আমাকে বিলিয়ে দেওয়ার সময় তো এই কথা তোর মাথায় আসেনি যে তুই আমার বিবাহিত স্ত্রী না।তাহলে আজ কেনো এই কথা তোকে এত ভাবাচ্ছে রূপ? ( একটু থেমে) তোকে এই রুমে থাকতে বলেছি, এটা বলিনি আমার পাশে শুয়ে আমার সেবা করতে। আমার বাচ্চার সেইফটির জন্য বলেছি তোর জন্য না। এখন যেটা করতে বলেছি সেটা কর।”
ইশতিহার এক কথার মানুষ, যেটা মুখে বলে সে করেই ছাড়ে। তাই রূপের সাহস হলো না। সে তাড়াতাড়ি করে ওয়াশরুমে ঢুকে গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে নেয়। পো*ড়া জায়গা গুলোতে পানির ছিটা লাগতেই যেনো জলাপোড়া দ্বিগুণ হারে বেড়ে যায়। রূপ কোনো রকমে পাতলা গামছা দিয়ে মুখ মুছে বের হয়ে আসে।
আশেপাশে তাকাতেই দেখতে পায় ইশতিহার একটা শার্ট পরে লেপটপে কাজ করছে। আড়চোখে রূপ কে আসতে দেখে সে গম্ভীর কণ্ঠ বলে,

” মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছিস কেনো? বিছানায় শুয়ে পড়।”
” তাহলে আপনি কোথায় শুবেন?”
ইশতিহার লেপটপ টা বন্ধ করে চোখ থেকে রিডিং গ্লাস টা খুলে সোজা তাকায় রূপের দিকে। সাথে সাথেই রূপ নজর সরিয়ে ফেলে।
” আমি কোথায় শুব সেটা নিয়ে তোর না ভাবলেও চলবে। যেটা বলেছি সেটা কর।”
এই বলে ইশতিহার আবারও ল্যাপটপের স্ক্রিনে মনোযোগ দেয়। রূপ আর কথা না বাড়িয়ে বিছানার ওপর পাশ ফিরে শুয়ে পড়ে।
বেশ খানিকক্ষণ পর ইশতিহার এর কাজ শেষ হলে সে লেপটপ কোলের উপর থেকে নামিয়ে বিছানায় শুতে যায়। তখন সে খেয়াল করে রূপের হাত আর মুখের যে যে জায়গায় কফি পড়েছে সে জায়গা গুলো লাল হয়ে গেছে। আলমারির ভেতর থেকে পোড়ার ক্রিম এনে সে নিজ হাতে লাগিয়ে দেয় ক্ষ*তস্থান গুলোতে। এসময় রূপের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে থাকতে দেখে সে রুমের এসি টা ছেড়ে দিয়ে রূপের পাশে ঘাপটি মেরে শুয়ে পড়ে।
রূপের ওপর এক হাত তুলে তাকে নিজের কাছে টেনে নেয়। ঘুমের ঘোরে রূপ ও তার কাছে চলে এসে ইশতিহার কে জড়িয়ে ধরে। ইশতিহার আস্তে আস্তে রূপের তলপেটে হাত নামিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে,
” খুব শীঘ্রই তোকে আর আমাদের বাচ্চাকে আমার নামের সাথে জুড়ে নেবো। এটা ডাক্টার ইশতিহার মির্জার সন্তান, কারো ফেলে যাওয়া জা*রজ সন্তান নয়।”

দুপুরের দিকে বাড়ির সকলে ঘুমিয়ে পড়লে রূপ কিছু টাকা নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। তার প্রেগন্যা*ন্সির সবে দুমাস হয়েছে, এখন বাচ্চাটা কে নষ্ট না করতে পারলে আর কখনও করতে পারবে না। রূপের ভীষণ কষ্ট হচ্ছে, মনে হচ্ছে তার হৃদপিন্ডটা কে কেও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তার কিছু করার নেই, পিতৃপরিচয় ছাড়া সন্তান কে জন্ম দিয়ে নিজের সাথে তাকেও কল*ঙ্কিত করতে চায় না রূপ। ইশতিহার এর ওপর কেনো জানি সে বিশ্বাস করতে পারছে না তাই অনেক ভেবে সে এটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে পেটের সন্তান কে সে নিজের হাতেই মে*রে ফেলবে। এতে পা*প হলে হোক, কিন্তু সে যে কষ্ট সহ্য করেছে একই কষ্ট জেনেশুনে সে তার সন্তান কে দিতে পারবে না।
হাসপাতালের ওয়েটিং রুমে বসে বসে নিজের মনের সাথে এক প্রকার যুদ্ধ করে যাচ্ছে রূপ। প্রতিটা মুহূর্তে তার ইচ্ছা করছে এখন থেকে পালিয়ে যেতে। কিন্তু পা দুটো অসাড় হয়ে আসছে তার। এসময় নার্সের ডাক কানে গেলে চোখের পানি মুছে সে এগোয়।
নার্স তাকে আপাদমস্তক একবার দেখে জিজ্ঞাসা করে,

” আপনিই কি রূপ মির্জা?”
রূপ আস্তে করে মাথা নাড়ায়।
” আপনার সাথে আপনার বাড়ির লোক কেও আসে নি।”
রূপ একটু থমকে যায়। তারপর নাকটা টেনে ঠান্ডা গলায় বলে,
” না আমি একাই এসেছি।”
নার্স আর কোনো প্রশ্ন করে না। রূপের হাতে একটা ফর্ম ধরিয়ে দিয়ে সে নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে যায়।
ফর্মে বাবার নামের জায়গাটা খালি রেখেই রূপ ফর্মটা নার্স কে দেয়। নার্স সেই কাগজটা হাতে নিয়ে একবার চোখ বুলাতে গিয়ে বলে,

ডাক্টার ইশতিহার পর্ব ১

” একি বাচ্চার বাবার নাম ই তো পূরণ করেননি। বাচ্চার বাবার নামটা লিখে দিন।”
রূপের গলা শুকিয়ে আসে। সে কি করবে কিছুই বুঝতে পারে না। কাপা কন্ঠে বলে,
” বাবার নাম তো -”
” ইশতিহার মির্জা, বাচ্চার বাবার নাম ইশতিহার মির্জা। আর আপনি ফর্মটা বাতিল করুন, এই বাচ্চা এব*রশন করানো হবে না।”

ডাক্টার ইশতিহার পর্ব ৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here