Home তবু গল্পটা ভালোবাসারই তবু গল্পটা ভালোবাসারই পর্ব ৪

তবু গল্পটা ভালোবাসারই পর্ব ৪

তবু গল্পটা ভালোবাসারই পর্ব ৪
নাজনীন নেছা নাবিলা

মেডিকেল স্টুডেন্টের জীবন সাদা এপ্রনের গ্ল্যামার আর কঙ্কালের ভীতিকর বাস্তবতার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ।প্রথম দিন সাদা এপ্রন পরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মনে হয় বড় কিছু অর্জন করা হয়েছে, কিন্তু দ্রুতই তা বড় কোনো দায়িত্বের ভারে রূপ নেয়।হাজার হাজার পৃষ্ঠা, অ্যানাটমি, ফিজিওলজি আর বায়োকেমিস্ট্রির ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া।নিয়মিত পরীক্ষা, ফেল করার ভয় এবং পুনরায় পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়ার দুষ্টচক্রে আটকা পড়ে জীবন, কিন্তু তবুও স্বপ্ন পূরণের জেদ থাকে অটুট।মোহনা অবশ্য পরীক্ষা কে ভয় পায় না। বাস্তব জীবনে তো আর কম পরীক্ষা দিল না। পরীক্ষা আর অপেক্ষা দুটোই তার জীবনের সাথে খুব গভীরে ভাবে জড়িয়ে আছে। কিছুদিন ধরেই তার ক্লাস টেস্ট পরীক্ষা চলছে।মেডিকেল কলেজের ক্লাস টেস্ট হলো একজন চিকিৎসকের ‘অ আ ক খ’ শেখার বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের অতল সমুদ্রে ডুব দেওয়ার পূর্বশর্ত, যা নিয়মিত পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলে মূল পেশাগত পরীক্ষা ভীতি দূর করে।এগুলো ছোট ছোট সাফল্যের সিড়ি, যা আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং জ্ঞানকে ঝালিয়ে নিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে দক্ষ ও দায়িত্বশীল চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

হল রুম থেকে হোইচোই এর আওয়াজ শুনে মোহনার পড়ার ব্যঘাত ঘটলো।চোখ থেকে আলতো করে চশমাটা খুলে বই বন্ধ করলো‌।আজ অফডে। মেডিকেল এবং টিউশনি উভয় বন্ধ।সেই ভোর ৩ টায় উঠে তাহাজ্জুদ নামাজ পরে তারপর পড়তে বসেছিল। মাঝখানে শুধু টেবিল ছেড়ে উঠে ফজরের নামাজ পড়ে একটু কুরআন তেলাওয়াতের করেছিল। তারপর যে পড়ার টেবিলে বসেছিল এরপরে আর উঠেনি। এখন ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো সকাল এগারোটা বেজে গেছে।ডান হাত দ্বারা ঘাড়ের নিচে আলতো করে চাপ দিয়ে মাথা এপাশ ওপাশে কাত করল। আঙুল ফুটালে যেমন শব্দ হয় অনেকটা তেমন শব্দ হলো। হয়তো অনেকক্ষণ একইভাবে বসে থাকার ফল। মোহনা চেয়ার থেকে উঠে ওয়াশ রুমে চলে গেল। চোখে মুখে পানি দিয়ে বের হলো‌। বিছানার উপর ওড়না রাখা ছিল মাথায় সুন্দর করে দিয়ে রুম থেকে বের হলো‌। ভীষণ ক্ষুধাও পেয়েছে তার।

সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে নামতেই দেখলো কিছু পরিচিত মুখ।সেই চেনা পরিচিত মুখগুলো দেখে তার ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠলো। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামার গতি বাড়িয়ে দিল।হল রুমের এক পাশের সোফায় মামুন খান এবং তার স্ত্রী সাবিনা ইসলাম। এবং তাদের সামনাসামনি সোফায় বসে আছেন রফিক চৌধুরী এবং উনার স্ত্রী রেশমা আক্তার। উনারা রাইফের বাবা মা।মোহনা দৌড় দিয়ে এসে পেছন থেকে রেশমা আক্তার কে জরিয়ে ধরল।রেশমা আক্তার বিন্দু মাত্রও ভয় পেলেন না। কারণ উনার এই মেয়ের সকল কর্মকান্ড সম্পর্কে ধারণা আছে। তিনি শব্দ করে হেসে উঠলেন এবং বললেন___

মা মোহনা এতদিন পর মামনির কথা মনে পরলো বুঝি?
মোহনা রেশমা আক্তারের গালের সাথে নিজের গাল মিশিয়ে আদুরে কণ্ঠে বললো___
কি যে বলোনা মামনি তোমার কথা তো আমার প্রতিদিন মনে পড়ে। এক কাজ করো আমাকে তোমার করে রেখে দাও। তোমাকে অনেক ভালোবাসবো এবং আমার ভাগের চকলেট থেকে তোমাকেও দিব। এই বাড়িতে আর ভালো লাগেনা সবাই আমাকে বকা দেয়।
মোহনার বাচ্চামি দেখে সবাই হেসে উঠল। রেশমা আক্তার মোহনা কে নিজের এবং নিজের স্বামীর মাঝ খানে বসিয়ে দিলেন। রফিক চৌধুরী মোহনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।মোহনা মুচকি হাসি দিয়ে বলল___
ভালো আছো বাবাই?

আসলে মোহনা অনেক আগে থেকেই রাইফের মা কে মামুনি এবং বাবা কে বাবাই বলে ডাকে।
রফিক চৌধুরী ছলছল চোখে তাকিয়ে থেকে বলল___
তোর মতোন একটি লক্ষী মেয়ে থাকতে কেউ কি করে খারাপ থাকতে পারে? বল মামুনি।
মোহনা মুচকি হাসলো। আসলে তাদের মাঝে এই সম্পর্ক হয়েছে ৬ বছরের উপর হলো। কিন্তু আন্তরিকতা এমন মানুষ দেখে বলবে কত বছরের পুরনো সম্পর্ক যেনো। মোহনার কারণেই তো রাইফ তার হারানো মা বাবা ফিরে পেয়েছে। ফিরে পেয়েছে মা বাবার ভালোবাসা।তাই তো মোহনা রফিক চৌধুরী এবং রেশমা আক্তারের চোখের মণি।তারা তো পারলে মোহনার জন্য নিজের জান দিয়ে দিবে।মোহনা যদি কলিজা চায় তাহলে কলিজা বের করে দিব। অথচ তারা জানেই না মোহনা তাদের কলিজার টুকরা রাইফ কে ভালোবেসে।জানলে কি করতো তারা? মোহনা কে কি স্বপে দিতো নিজেদের সন্তান? নাকি মোহনার থেকে দূরে নিয়ে যেতো? জানা নেই মোহনার এবং সে জানতেও চায় না।সে তো সব কিছু আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছে।তার ভালোবাসা সত্যি হলে তার কাছেই ফিরে আসবে।
মোহনা যখন নিজের চিন্তায় মগ্ন ছিল তখনই তার মা সাবিনা ইসলাম বলে উঠলেন ___

ভাবি এই মেয়েকে আপনিই নিয়ে যান।আমি আর পারবো না এই মেয়ে কে সামলাতে। সারাক্ষণ শুধু রুমের ভেতর থাকে। খাওয়া দাওয়ারও খবর নেই।দেখুন প্রায় বারোটা বেজে গেল অথচ এখনো সকালের খাবার খায় নি।সে নাকি আবার ডাক্তার হবে। নিজেরই এই অনিয়মের জন্য রোগী হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।
মোহনা কপাল কুঁচকে বিরক্তি নিয়ে বললো ___
উফ্ মা।
রেশমা আক্তার চিন্তিত কন্ঠ বললেন ___
মা মোহনা এইটা কোনো কথা? যতই পড়াশোনার চাপ থাকুক না কেন সবসময় আগে খাবার খেয়ে নিবে মা। আমাদের কে এত জ্ঞান দেও অথচ নিজের খেয়াল রাখো না এইটা কোনো কথা?
রফিক চৌধুরী পাশ থেকে মোহনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন ___

ঠিকই তো বলেছে তোমার মামুনি।আগে নিজের যত্ন নিবি তুই মা। তারপর সব কিছু।রাইফ তো তোকে বলে গিয়েছিল যেন নিজের খেয়াল নিস তুই। এবং তুইও তো কথা দিয়েছিলি যে তুই সবসময় নিজের খেয়াল রাখবি। তাহলে এখন খাবার ঠিক সময় খাচ্ছো না কেন মা? রাইফ যদি জানতে পারে তুমি তার কথা রাখোনি তাহলে তো সে কষ্ট পাবে তাই না? তুমি কি চাও তোমরা রাইফ ভাইয়া কষ্ট পাক?
রফিক চৌধুরী এবং রেশমা আক্তার এক সময় মোহনাকে তুমি করে বলে তো আরেক সময় তুই বলে ডাকে।
মোহনা বাচ্চাদের মতোন মাথা নেড়ে বলল__
না না বাবাই আমি তো প্রতিদিনই খাবার সময় মতোন খাই আজকে শুধু দেরি হয়ে গিয়েছে।এর পর থেকে আর এমন করব না প্রমিজ।

রফিক চৌধুরী মুচকি হেসে বললেন ___
যাও মা আগে গিয়ে খাবার খেয়ে নাও।
মোহনা লক্ষী মেয়ের মতো খাবার টেবিলে চলে গেলো। কাজের বুয়া এসে তাকে খাবার বেড়ে দিল।সে খেতে লাগলো কিন্তু তার কান এবং মন হল রুমের সোফায়।
হঠাৎ সে শুনতে পেলো রেশমা আক্তার বলেছেন___
ভাবি বিয়ে উপলক্ষে কিন্তু মোহনা কে আগে আগেই নিয়ে যাবো। কোনো না শুনবো না।
মামুন খান হাসতে হাসতে বললেন__
মোহনা তো আপনাদেরই মেয়ে। যেদিন খুশি নিয়ে যান আমাদের কোনো আপত্তি নেই।আর এমনিতেও কাল ওর পরীক্ষা শেষ হয়ে যাবে। তারপর ছুটি আছে।
মোহনার ততক্ষণে খাবার খাওয়া শেষ ‌।সে খাবারের প্লেট বেছিংএ রেখে আবার হল রুমে চলে এলো এবং জিজ্ঞেস করল__

কার বিয়ে হবে গো মামুনি?আর কি উপলক্ষে যাবো তোমাদের বাড়ি বলো শুনি?
রেশমা আক্তার মোহনা দিকে তাকিয়ে মুখ ভরা হাসি নিয়ে বললেন____
ওমা তুই জানিস না?আজ কে রাতের ফ্লাইটে রাইফ এবং তোর ভাই বাংলাদেশে ফিরছে।
কথাটি শোনা মাত্রই মোহনার হৃদয়ের গহীনে এক অদ্ভুত শান্ত স্রোত বয়ে গেল, ঠিক যেমন বর্ষার শেষে নদী শান্ত হয়ে আসে। মনে হলো, সমস্ত ক্লান্তি এক নিমেষে উবে গেছে, আর জায়গা করে নিয়েছে এক অদ্ভুত পরিচ্ছন্ন অনুভূতি।এক অজানা আনন্দে তার কণ্ঠ বুজে এল, চোখের কোণে জমে উঠল খুশির জল।মোহনার ইচ্ছে করছে রুমে গিয়ে নাচতে।আজ পাঁচ বছর ২৫ দিন পর নিজের ভালোবাসার মানুষটি দেশে ফিরবে। খুশি না হয়ে যাবে কোথায়? নিজের আনন্দ চেপে রাখতে না পেরে লাফ দিয়ে চিৎকার করে বলে উঠলো ______
ইয়েএএএএএএএ।

উপস্থিত সবাই হেসে উঠলো। কিন্তু মোহনার আনন্দে হয়তো কেউ নজর দিয়েছে তাই তার আনন্দ বেশিক্ষণ বজায় থাকলো না। রেশমা আক্তার বললেন___
এখনি এত খুশি হচ্ছিস মা তাহলে রাইফের বিয়ে ঠিক হয়েছে শুনলে তো খুশিতে পাগল হয়ে যাবি।
মোহনার মুখে অন্ধকার নেমে এলো কথাটি কর্ণপাত হতেই।বিষাদের এক অদৃশ্য চাদর জড়িয়ে নিল চারিদিকে। বুকের ভেতর এক অজানা হাহাকার জেগে ওঠে, ঠিক যেন প্রিয়জন হারানোর পরমুহূর্তের নিস্তব্ধতা।বুকের বাম পাশে এক ফালি অন্ধকার জমেছে, ঠিক যেমন করে ঘরের কোণে ধুলো জমে। এ দুঃখ কান্না হয়ে ঝরে পড়ে না, বরং বাষ্প হয়ে জমে থাকে নিঃশ্বাসে, যা প্রতিটি পদক্ষেপে মনে করিয়ে দেয় “এত ভালোবেসেও কি পাবো না তাকে?”
রফিক চৌধুরী বললেন ____
“আমার ছোট ভাই আবদার করলো তার মেয়ে রূপশা কে যেন আমি আমার ছেলের বউ করে নেই।আর মেয়ে তো আমাদের চেনাই এবং এত বছর পর সম্পর্ক ঠিক হয়েছে তাই আর না করলাম না।রাইফ দেশে ফিরলেই বিয়ে ডেট ঠিক করব।”

মোহনা আর কিছু ভাবতে পারলো না।তার হাত পা অবশ হয়ে আসছে।চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। এখানে দাঁড়িয়ে থাকা তার পক্ষে সম্ভব নাই।তাই কম্পিত পা জোড়া দ্বারা ধীরে ধীরে নিজের রুমের দিকে হাঁটা লাগালো।সবাই কথায় ব্যস্ত ছিল বলে কেউই তাকে দেখলো না।
মোহনা অনেক কষ্টে নিজের রুমে পৌঁছালো। রুমের ভেতর প্রবেশ করে দরজা লাগিয়ে দরজার সাথে হেলান দিয়ে মেঝেতে বসে পরল। মোহনার হাত কাঁপতে লাগলো হয়তো প্যানিক অ্যাটাক শুরু হলো। এক অবিশ্বাস্য, প্রবল আতঙ্ক ঘিরে ধরল মোহনাকে। তার মনে হচ্ছে, এখনই সব শেষ! হয়তো হার্ট অ্যাটাক, নাহলে দম বন্ধ হয়ে এই মুহূর্তেই মৃত্যু নিশ্চিত তার।দম নিতে কষ্ট হচ্ছে।কপাল বেয়ে শীতল ঘাম ঝরছে, হাত-পা অবশ হয়ে আসছে]। মাথাটা হালকা হয়ে দুলছে, যেন পৃথিবীটা পায়ের নিচ থেকে সরে যাচ্ছে।নিজের শরীর থেকে মনটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে, চারপাশটা ধোঁয়াশাচ্ছন্ন, মনে হচ্ছে কোনো এক দুঃস্বপ্নের মধ্যে আটকা পড়েছে সে।

মোহনা কোনো ভাবেই নিজকে সামলাতে পারছে না।তিরতির করে ঠোঁট কাঁপছে তার। কম্পিত ঠোঁট দিয়ে আওড়ালো
রাইফ কে আর পাবো না আমি।না পেয়েই হারাতে হবে আমার নিজের ভালোবাসা কে।এত ভালোবাসার পরেও পাবো না তাকে।যাকে নিজের জীবনের চাইতেও বেশি ভালোবাসলাম এখন মনে হচ্ছে তাকে না পাওয়ার যন্ত্রণা আমার জীবন কেড়ে নিচ্ছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।
মোহনা আর কিছুই বলতে পারলো না। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। কান্নার শব্দ যাতে বাইরে না যায় তাই মুখ চেপে ধর কাঁদছে সে। তবুও যখন দেখলো কান্নার শব্দ হচ্ছে তখন নিজের হাতের মাংস কামড় দিয়ে শব্দ থামালো।চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে অনবরত। মনে হচ্ছে সে সব কিছু এক নিমিষেই হারিয়ে ফেলেছে। এভাবেই কতক্ষণ কাঁদলো মেয়েটি কে জানে। কাঁদতে কাঁদতে থামলো মোহনা।মাথার চুলে হাত বুলিয়ে প্রিয় ক্লিপ খুঁজে পেলো। ক্লিপটিতে ডোরামির মুখ।এই ক্লিপটি দেখলে মোহনার মুখে সবসময় হাসি ফুটে উঠতো কারণ এটা রাইফ তাকে দিয়েছিল। কিন্তু আজ হাসির বদলে কেবল কান্না পেলো তার। ক্লিপ টির দিকে তাকিয়ে ভাঙা কন্ঠে গাইতে লাগলো

ওহে কি করিলে বল পাইব তোমারে?
রাখিব আঁখিতে আঁখিতে
ওহে এত প্রেম আমি কোথা পাব নাথ
এত প্রেম আমি কোথা পাব নাথ
তোমারে হৃদয়ে রাখিতে
আমার সাধ্য কিবা তোমারে
দয়া না করিলে কে পারে?
তুমি আপনি না এলে
কে পারে হৃদয়ে রাখিতে?
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
চিরদিন কেন পাইনা?

এর ভেতরে একদিন চলে গেল।দীর্ঘ ২০ ঘন্টার জার্নি শেষে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখলো মাহিন এবং রাইফ। দুজনের হাতেই দুটি করে লাগেজ এবং কাঁধে ঝুলন্ত ব্যাগ।এত বছর পর দেশে ফিরছে তাই প্রিয় মানুষদের জন্য উপহার নিয়ে যাচ্ছে।রাতে তাদের ফ্লাইট। দুজন মিলে চলে এলো এয়ার পোর্টের থেকে বের হলো। বাহিরে গাড়ি পাঠানো হয়েছে তাদের জন্য।মাহিনের এক বন্ধু পাঠিয়েছে।তারাই বলেছিল যেন তাদের না নিতে আসে।আর তাছাড়াও তারা বাড়ি সবাই কে বলেছিল তাদের ফ্লাইট রাতে কিন্তু ফ্লাইট ছিল দুপুরে।তাই সন্ধ্যায় আসার বদলে বিকালের আগেই চলে এসেছে।তারা মূলত সবাই কে সারপ্রাইজ দিবে বলে এমনটা করেছে।
রাইফ ড্রাইভিং সিটে বসেছে আর মাহিন তার পাশে। হঠাৎ রাইফ বলল ___

চল গান ধরি।
মাহিন মুচকি হেসে বলল ____
আগে তুই শুরু কর আমি।
রাইফ গান ধরল___
এসেছে তোকে নিয়ে ফিরবো বলে।
মনেরই পথ চিনে আয়না চলে।
এইবার মাহিনও গাইলো___
এসেছি তোকে নিয়ে ফিরবো বলে।
মনেরই পথ চিনে আয়না চলে।
রাইফ_
ধরছেরে জ্বর বুকে, ছাড়ে না।
মাহিন_

তবু গল্পটা ভালোবাসারই পর্ব ৩

পারছে তোকে ছাড়া নারে না।
এবার দুজনকে একসাথে গাইলো
এসেছি তোকে নিয়ে ফিরবো বলে
মনেরই পথ চিনে আয়না চলে
ধরছেরে জ্বর বুকে, ছাড়ে না।
পারছে তোকে ছাড়া নারে না।

তবু গল্পটা ভালোবাসারই পর্ব ৫