Home তবু গল্পটা ভালোবাসারই তবু গল্পটা ভালোবাসারই পর্ব ৩

তবু গল্পটা ভালোবাসারই পর্ব ৩

তবু গল্পটা ভালোবাসারই পর্ব ৩
নাজনীন নেছা নাবিলা

মাহিন নিজের ছোট ভাই বোন কে যেই না কাহিনী বলতে নিল ওমনি তার বাবা উপস্থিত হলো তাদের আড্ডার মাঝে।
মামুন খান এসেই বড় ছেলে কে জিজ্ঞেস করলেন ___
বাবা কেমন আছো? পড়াশোনা কেমন চলছে?
মোহনা আর মাহিম দুজনেই বাবার এহেন মূহুর্তে আসায় বিরক্ত হলো কিন্তু প্রকাশ করলো না। মাহিন বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বাবার কাছে গেল এবং সালাম দিয়ে কুশল বিনিময় করল। তারপর বাপ ছেলে মিলে সিঙ্গেল সোফায় একজন একজন করে বসলো। মাহিম বিরক্তিকর ভঙ্গিমা করল মোহনার দিকে তাকিয়ে।মোহনা তা দেখে হেসে উঠলো।মাহিন তার বাবার সাথে বসে হোস্টেল জীবনের আলাপ করছে।

হঠাৎ মামুন খান জিজ্ঞেস করলেন____
বাবা তোমার সেই বন্ধুর কি অবস্থা?সে কি বাড়ি ফিরেছে ছুটিতে? নাকি এবারেও আসবে না?
মাহিন দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কিছুক্ষণ নিরব থাকলো।মোহনা খেয়াল করছিল হঠাৎ তার ভাইয়ের চেহারায় কেমন উদাসীনতা নেমে এসেছে।সে কান খাড়া করে বাবা এবং বড় ভাইয়ের কথা শোনার জন্য নড়ে চড়ে উঠলো।
মাহিন বাবার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো ____
তুমিতো জানোই রাইফ কেমন।সে আর ফিরবে না নিজের বাড়িতে যতদিন না নিজের বাবা মাকে খুঁজে পায়।আর আগে যদিও নিজের বাড়ি আসতো কেবল দাদু মনি আর দাদা ভাইয়ের জন্য। কিন্তু তারা মারা যাবার পর থেকে তো রাইফ নিজের বাড়িতে আসা পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছে।
মামুন খান ছেলের বলা কথাগুলো শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।উনি আর কি বলবেন।রাইফ তো নিজের জায়গায় একদম ঠিক আছে। বরং উনার রাইফের এমন আত্মমর্যাদা বোধ বেশ মন কাড়ে। ছেলেটির উপর উনি উনার বেশ গর্ববোধ হয়।

মোহনা কান খাড়া করে সবটাই শুনছিল।নামটা শোনার পর থেকেই মনের কোণে একটা অদ্ভুত দোলাচল দিচ্ছে মোহনার। মনে মনে বলল__
কে সে? এই নামটি এমন চেনা লাগছে কেন?
মোহনা রাইফের মুখাবয়ব কল্পনা করতে গিয়ে কুয়াশার আস্তরণ পড়ে যাচ্ছে তার চোখে, অথচ বুকের ভেতর একটা মৃদু আলোড়ন।
মোহনা আরো কিছু ভাবতে যাবে তার আগেই মাহিম তাকে ধাক্কা দিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো ___
বাংকু!

আসলে মাহিম মোহনাকে ক্ষেপানোর বাংকু ভাইয়া বলে ডাকে। কারণ মোহনার bhoothnath মুভি খুব পছন্দ।তাই ভূতনাথ মুভির বাংকু ভাইয়া বলে ডাকে ডাকে মাহিম।
মাহিমের কন্ঠ শুনে মোহনার ভাবনার মাঝে ছেদ পড়ল।সে ভাইয়ের দিকে তাকাতেই মাহিম বলতে লাগলো ____
বাবা এবং ভাই সেই কখন থেকে কথা বলেই যাচ্ছে তো বলেই যাচ্ছে শেষ হবার নামই নেই। তুইও কি সেটার জন্য অপেক্ষা করছিস যার জন্য আমি অপেক্ষা করছি?
মোহনা ভ্রু কুঁচকে মাহিমের দিকে তাকালো এবং বলল____
তুমিও মাহিন ভাইয়া কি গল্প বলবে তা শোনার জন্য অপেক্ষা করছো?
মাহিম মোহনার মাথায় গাট্টা মারে দাঁতে দাঁত চেপে বলল ____
আরে বাংকু ভাইয়া সরি বনু এইসব গল্প শোনার প্রতি আমার কোন ইন্টারেস্ট নেই। তুই জানিস না ভাইয়া সব সময় হোস্টেল থেকে আসার সময় আমাদের জন্য কিছু না কিছু নিয়ে আসে। আমি তার জন্যই অপেক্ষা করছি যে এবারে আমার জন্য কি নিয়ে এসেছে। এসব গল্প তোর শুনতে ইচ্ছে করলে তুই শুনিস আমার মাথা খারাপ করবি না একদম বলে দিলাম।

মোহনা মুখ ভেংচি কেটে মাহিমের কাছ থেকে উঠে গিয়ে বাবার সাথে বসল।বাবার কাঁধে মাথা রেখে চুপচাপ বসে রইল।মামুন খান মেয়ের মাথায় চুমু খেয়ে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন।মাহিম এইসব দেখে মুখ ভেংচি কেটে মাহিনের উদ্দেশ্য বলতে লাগলো ____
ভাইয়া এবার কিছু আনোনি আমার জন্য?
মাহিন ঠোঁট কামড়ে হাসলো তারপর বলল___
বাহিরে আমার গাড়ি দাঁড় করানো আছে। যে গাড়ির ডিকি খুলে দেখবি একটি ব্যাগ আছে। সেই ব্যাগ খুলে দেখ তোর জন্য ক্রিকেট ব্যাট, বল, স্টাম্প ও বেলস,হেলমেট, ব্যাটিং প্যাড, গ্লাভস, এবং থাই গার্ড জার্সি,ট্রাউজার্স, ক্যাপ সাথে ক্রিকেট বুট সব আছে।
মাহিম খুশি হয়ে চিৎকার দিয়ে দৌড়ে বাইরে চলে গেলো। উপস্থিত সবাই হেসে উঠল।
মাহিন বোনের দিকে তাকিয়ে আদুরে গলায় বলল___
বনু এদিকে আয়।

মোহনা হাসি মুখে বাবার কাছ থেকে সরে ভাইয়ের কাছে গিয়ে বসলো। মাহিন বোন কে জড়িয়ে ধরে বলল____
তোর জন্য অনেক গুলো চকলেট, বাবলগাম, প্রিন্সেস পেন্সিল বক্স,প্রিন্সেস নোটবুক এবং ওয়াটার বোতল এনেছি।
মোহনা মুচকি হেসে বলল ___
থ্যাংক ইউ ভাইয়া কিন্তু তুমি এসেছ আমি এতেই অনেক খুশি হয়েছি।
মাহিন বোনের কথা শুনে মুগ্ধ হয়ে বোনের কপালে ভালোবাসার পরও এঁকে দিল। মোহনা ভাইয়ের কাঁধে মাথা রেখে ভাইয়ের হাতের আঙ্গুল গুলো নিয়ে খেলতে খেলতে বলল___
ভাইয়া কাহিনীটা তো বললে না আমি তো শোনার জন্যও উতবলা হয়ে উঠেছি।
মাহিন হেসে উঠলো।ওমনি সাবিনা ইসলাম জামায় ভেজা হাত মুছতে মুছতে রান্নাঘর থেকে বের হয়ে বলতে লাগলেন____

এখন এইসব কাহানি শুনতে হবে না। মোহনা তুই গিয়ে ফ্রেস হয়ে আয়, আর মাহিন তুইও গিয়ে একদম গোসল নিয়ে তারপর নিচে আয় খাবার হয়ে গেছে সবাই মিলে খাবার খেয়ে নিবি।
মোহনার মন খারাপ হয়ে গেল‌।সে কাহিনী শুনতে চেয়েছিল।তার মন বলছে কাহিনীটা রাইফ নামক ব্যক্তিকে নিয়েই। এবং এই ব্যক্তি সম্পর্কে সে আরও জানতে চায়।সে সোফা থেকে উঠে ভাইয়ের উদ্দেশ্যে বলল____
ভাইয়া খাবার খাওয়ার পর তো আর গল্প শোনা হবে না।তুমিও ট্রায়াড তাই রেস্ট নিয়ে বিকালে কাহিনী শোনাবে কেমন?

মাহিন মুচকি হেসে বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। মোহনার যায়গায় যদি মাহিম হতো তাহলে যতক্ষণ না পর্যন্ত নিজের কাজ হাসিল করছে ততক্ষণ পর্যন্ত কাউকে শান্তি দিত না। অথচ মোহনা বয়সে ছোট হলেও সবসময় সবার দিকটা আগে বোঝে।তাই তো সবার আদরের সে।ভাই বোন মিলে দোতালায় যার যার রুমে চলে গেল। দোতালায় তিন রুম। দুই সাইডে মাহিন এবং মাহিমের রুম আর মাঝখানে মোহনার রুম।আর নিচে তিনটি রুমা আছে। একটিতে মিসেস সাবিনা ইসলাম এবং মামুন খান থাকেন। আর দুইটি গেস্ট রুম। ড্রয়িং রুমে ঠিক বাম পাশে রয়েছে রান্নাঘর। এই নিয়ে তাদের সুন্দর এবং একটি ছোট সংসার। খুব বিলাসী জীবনযাপন করে না তারা তবুও অনেক সুখী আছে।
খাবার টেবিলে সবাই মিলে খাবার খাচ্ছে আর এইটা সেটা আলাপ করছে। খাবার খেয়ে যার যার রূমে চলে গেলো।মোহনা গিয়ে পড়ার টেবিলে বসলো। সকাল থেকে তার পড়া হয়নি ভাই আসবে এই খুশিতে। সবে সবে ক্লাস নাইনে ভর্তি হয়েছে তাও আবার বিজ্ঞান বিভাগে।জীব বিজ্ঞান বই হাতে নিয়ে পৃষ্ঠা উল্টাচ্ছে আর মনে মনে বিড়বিড় করে
বলছে____

কোনো বইয়ের প্রথম অধ্যায় কি কখনো এত কঠিন হয়? জীব বিজ্ঞান বই তুই থাকবি জীব আর বিজ্ঞান নিয়ে ঠিক যেরকম ছোটবেলার বিজ্ঞান বইতে ছিলি। কিন্তু তা না বরং কতসব প্রাণীর ইংরেজি নাম বৈজ্ঞানিক নাম শিখতে হচ্ছে এখন। এসব পড়তে পড়তে নিজের বাংলা নাম কবে জানি আমি ভুলে যাই।
বিরক্ত সহকারে বই বন্ধ করে ফেলল মোহনা।এক তপ্ত শ্বাস ফেলল।এখন তার পড়তে ইচ্ছে করছে না। হঠাৎ মনে পড়ল রাইফ নামক ব্যক্তির কথা। আনমনেই ঠোঁটের কোণে সূক্ষ্ম হাসি ফুটে উঠল। পড়ার টেবিল ছেড়ে আলমারির কাছে গেল। তার মনে আছে সে যখন ক্লাস ফাইভে পড়তো। তার জন্মদিন ছিল সেই দিন। কিন্তু তখন তার বড় ভাই বাহিরে এক বন্ধুর সাথে কোন কাজে ব্যস্ত ছিল তাই সেইদিন বাড়ি ফিরতে পারেনি।মোহনা ভীষণ অভিমান করেছিল নিজের প্রাণপ্রিয় বড় ভাইকে নিজের জন্মদিনের দিন উপস্থিত না পাওয়ায়। তার জন্মদিনের পরের দিন যখন তার ভাই তার জন্য উপহার নিয়ে আসলো তখন সাথে একটি ডাইরিও দিয়েছিল এবং বলেছিল এই ডায়েরিটি আমার বন্ধু রাইফ দিয়েছে তোর জন্য। এবং বলেছে তার জন্য তোর প্রাণপ্রিয় ভাইতো জন্মদিনে উপস্থিত ছিল না তাই তার তরফ থেকে একটি সরি এবং বার্থডে গিফট। মোহনার খুব পছন্দ হয়েছিল ডায়েরিটি। কিন্তু তখন তার কাছে এই উপহারটি যে দিয়েছে তার নামটা বেশ কঠিন দেখেছিল। তবুও নিজের আলমারিতে এই ডায়েরিটি খুব যত্ন সহকারে রেখে দিয়েছিল এবং ভেবে রেখেছিল যদি কখনো খুব প্রয়োজনীয় কিছু লিখতে হয় তখন সে এই ডায়েরিতেই লিখবে।
পুরনো কথাগুলো মনে করে মোহনা মুচকি হেসে আলমারি খুলে ডায়েরি বের করলো। ডায়েরিটির যত্ন নেওয়ার কারণে ঠিক আগের মতই আছে একদম নতুন এবং চকচকে। সে প্যাকেট সহই ডায়েরিটি রেখে দিয়েছিল আলমারিতে।

আলমারি থেকে ডায়েরিরটি বের করতে করতে একা একাই বলল____
তখন ছোট ছিলাম বলে নামটা ভুলে গিয়েছিলাম আজ ভাইয়ার মুখে নামটা শুনে মনে পরে গেলো।জানি না আপনি দেখতে কেমন। তবুও কেন জানি আমাকে খুব টানছে আপনার সম্পর্কে আরো অনেক কিছু জানতে। তাই আপনার দেওয়া ডায়েরিতেই আপনার বর্ণনা লিখব।
মোহনা ডায়েরি নিয়ে আবার নিজের চেয়ারে এসে বসল। টেবিলের উপর ডায়েরিটি রেখে যত্ন করে কাগজ খুলল।সাথে একটা কলমও ছিল।সে প্রথমেই ডায়েরির উপরে আজকের তারিখ এবং ঘড়ি দেখে সময় লিখে নিল। তারপর যেই দিন এই ডাইরিটি পেয়েছিল সেই দিনের তারিখ এবং সাল লিখল। কিছু আবেগ প্রবণ লাইন লিখলো।এবং আজকের তারিখ এবং সাল লিখল। ঠিক সেই সময়টি মনে নেই যে সময়টিতে সে রাইফের কথা শুনেছে ভাইয়ের কাছ থেকে। তাই আনুমানিক সময় লিখল। তারপর যে ব্যক্তিটির জন্য ডায়েরি লিখছে সেই ব্যক্তিটির নাম উল্লেখ না করেই লিখতে
লাগল ____

কল্পনা আর বাস্তবের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমি এখন এক অদ্ভুত ঘোরের বাসিন্দা। যাকে আমি কোনোদিন দেখেনি, যার কণ্ঠস্বর কেবল মনের গহীনে প্রতিধ্বনিত হয়, তার জন্যই আমার কিশোরী হৃদয়ে আজ এক অস্থির জোয়ার। সেই অদেখা মানুষটি আমার কাছে কোনো রক্ত-মাংসের শরীর নয়, বরং একগুচ্ছ মেঘমল্লার রাগের মতো—যাকে ছোঁয়া যায় না, কিন্তু অনুভব করা যায়।আপনাকে কোনোদিন দেখিনি আমি, হয়তো দেখবও না কিংবা সৌভাগ্য বসত দেখা মিলতেও পারে। তবুও কেন জানি মনে হয়, আমার এই নিঃসঙ্গ দুপুরের রোদ আর একাকী রাতের তারাগুলো সব আপনার জন্যই অপেক্ষায় সাজানো।আপনি বলেই সম্বোধন করলাম কেমন?আপনি বলে আমি সচারচর কাউকে ডাকি না। যেহেতু আপনি স্পেশাল তাই আপনাকে ডাকলাম।আজ থেকে এই সাদা পাতাগুলোই হবে আমাদের দেখা হওয়ার তীব্র ইচ্ছের গোপন অলিগলি।ডায়েরির পাতায় ঝরে পড়া কালির দাগগুলো এখন কেবল অক্ষর রইল না, হয়ে উঠল এক কিশোরীর প্রথম প্রেমের পবিত্র স্বাক্ষর। যেখানে দেখার চেয়েও অনুভব করাটা অনেক বেশি সত্য হয়ে ধরা দিয়েছে।

লেখা শেষ হলে নিজের লেখা লাইনগুলো বারবার ঠোঁট দিয়ে আওড়ালো কিশোরী। লাজুক হাসি ফুটে উঠল ঠোঁটের মাঝে। কলম টেবিলে রেখে দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলল। সে তো ভেবেছিল হয়তো সাধারণ কিছু লিখবে কিন্তু কখনো ভাবতে পারেনি তার মন থেকে এরকম অনুভূতি আসবে এবং সেই সেগুলো ডায়েরির পাতায় তুলে ধরবে। কিন্তু নিজের অনুভূতিকে চাপা রাখা যায় না। তাই সেও আর রাখল না।
মোহনা মুখ থেকে হাত সরিয়ে ডায়েরীতে লেখা লাইনগুলোর দিকে চোখ বুলিয়ে বলতে লাগলো___
কিশোরী বয়সে প্রথমবার মনে প্রেমের দোলা দিয়ে গেল। এবং এই দোলায় দোলতে দুলতে আমার কোন আপত্তি নেই। এই দোলায় দোললে দুটি জিনিস ঘটতে পারে। একটি হলো নয়তো আমি দোলতে দোলতে কোন একদিন পড়ে গিয়ে খুব বেশি আঘাত পাবো যার ক্ষত চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।আর না হয় যার জন্য এই দোলায় দোলছি সে একদিনে এসে আমাকে থামিয়ে দিবে এবং নিজের করে নেবে।

মোহনা অতীত থেকে ফিরে এলো এবং ডায়েরিটি বন্ধ করলো। পুরনো ডায়েরিটি হারানোর পর যখন আর খুঁজেই পেলো না তখন নাতাশা তার কষ্ট দেখে কিছুদিন আগে তাকে নতুন একটি ডায়েরি উপহার দিয়েছিল। এবং সেই ডাইরিতেই সে এতক্ষণ ধরে অতীতের কথা গুলো মনে করতে করতে নিজের মতো করে সাজিয়ে লিখেছে।সময় বদলাতে পারে,দিন বদলাতে পারে, মাস বদলাতে পারে, বদলাতে পারে বছর। কিন্তু কখনোই মোহনার মনের অনুভূতি বদলাবে না। তাইতো প্রাণপ্রিয় বান্ধবীর দেওয়া ডায়েরিতে অতীতের স্মৃতিগুলো আবার তুলে ধরল নিজের মতো করে লিখে। তার একাকীত্ব সময় গুলো যায় কেবল অতীতের কথাগুলো মনে করতে করতেই। ঠিক যেমন একটু আগে সেও অতীতের কথা গুলো ভেবে ভেবে নতুন ডায়েরিতে নতুন করে তুলে ধরছিল। পড়াশুনা এবং টিউশনিতে যতই সে ব্যস্ত থাকুক না কেন ডায়েরি লেখার জন্য অথবা অতীতের কথা মনে করার জন্য সব সময় নিজেকে ব্যক্তিগত সময় দেয় সে। প্রিয় মানুষটার জন্য তো সকল ব্যস্ততার মাঝেও সবাই বের করা যায়। হয়তো তার প্রিয় মানুষটা তার সাথে নেই অথবা কখনো তার হবে না তবুও সে তো তার প্রিয় মানুষটিকে খুব ভালোবাসে তাই নিজের ব্যস্ততার মাঝেও সময় বের করে প্রিয় মানুষটির কথা কেবল ভাবে। এতেই সে শান্তি পায়।

দুই বন্ধু মিলে কিচেনে রান্না করছে। দুজনেই বেশ চমৎকার রান্না পারে। রাইফ Saaristolaisleipä তৈরি করছে।এটি মাল্ট এবং সিরাপ দিয়ে তৈরি এক ধরণের গাঢ়, মিষ্টি রাই রুটি।আর মাহিন Salmon Soup (Lohikeitto) তৈরি করছে এটি ফিনল্যান্ডের জাতীয় খাবারগুলোর একটি, যা সাধারণত মাছ, আলু, গাজর এবং ক্রিম দিয়ে তৈরি হয়।
রাইফ ওভেনের ভেতর ব্রেড দিয়ে মাহিনের উদ্দেশ্য বলল___
তোর বোন কি সত্যিই কোনো রিলেশনে নেই?
মাহিন চামচ দিয়ে সুপ নাড়তে নাড়তে বিরক্তির ভঙ্গিতে বলল____
উফ্ কতবার বলবো তোকে? নেই কোনো বয়ফ্রেন্ড ওর।আমি খোঁজ নিয়েছি তো। পড়াশোনা আর টিউশন পড়ে এবং করিয়েই সময় পায় না আবার প্রেম কখন করবে? চিন্তা করিস না তোর জন্যই টিকিট বুক করা আছে। ডোন্ট ওয়ারি ডার্লিং।

রাইফ নাক মুখ কুঁচকে ভমি করা ভাব নিয়ে বেসিংএ গেল এবং ওয়াক থু থু করতে করতে বলল___
এইসব অশ্লীলন‌ শব্দ আমার সাথে ব্যবহার করবি না। আস্তাগফিরুল্লাহ নাউজুবিল্লাহ। আল্লাহ আমার বন্ধুকে হেদায়েত দান কর। এসব শব্দ তুই চাইলে আমার চাচাতো বোনের জন্য যার প্রেমে তুই হাবুডুবু খাচ্ছিস তাকে বলতে পারিস আমি মাইন্ড করবো না কিন্তু আমাকে একদম বলবি না। আমাকে ডার্লিং জান বিবি সোনা মনা টুনু সনু জুনু যা আছে সব বলে ডাকার অধিকার কেবল আমার মহীনির।
ফাহিন নিজের কাজের মাঝে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় বাঁকা হেসে বলল___
কিন্তু তোমার সেই মহীনি তো তোমাকে বা ফর বাবু না বলে ভা ফর ভাইয়া বলে ডাকে।
কথাটি বলেই অট্টো হাসিতে ফেটে পরলো মাহিন।রাইফ রাগী চোখে তাকিয়ে মাহিনের দিকে দাঁতে দাঁত পিষে এগোতে এগোতে বলল___

শোন শালা বেশি কথা বললে তোকে আমি আমার বোন দিব না। তোর বোন তো তাও আমাকে চিনে, আমার সাথে কিন্তু তোর খুব ভালো সম্পর্ক ভুলে যাবিনা। অথচ আমার বোনকে যে তুই ভালবাসিস সে তো তোকে ভাল করে তোকে মনে রেখেছে কিনা তা সন্দেহ। তাই দিবা স্বপ্ন দেখা বন্ধ কর। আমার বোনকে পেতে হলে কিন্তু তোর আমার সাহায্য লাগবেই।
মাহিন চুপসে যাবার বদলে উল্টো ধমকি দিয়ে বলল__
আর আমার বোন কিন্তু আমার ভক্ত আমার কথা ছাড়া ডানে বামে যায় না। আমাকে প্রচুর ভালবাসা এবং সম্মান করে। তাই আমার বোনকে পেতে গেলে আমাকে ভালো না বাসলেও তোর আমকে সম্মান করতে হবে। নয়তো আমার বোনকে কখনো পাবিনা।

রাইফ শার্টের হাতা ফোল্ট করে মাইক্রোওভেন থেকে ব্রেড বের করতে করতে বলল___
তোর মতামতের ধার আমি ধারি না। তুমি সোনা কোন ক্ষেতের মুলা? তুমি নামক মুলার কারণেই মানুষের পেছন থেকে দূষিত পাদ বের হয়। তোমার থেকে নিজেকে এবং আমার মহিনীকেও আমি দূরে রাখবো। যদি মহিনী কে নিজের করার সময় তুই বাঁধা হয়ে যায় দাড়াস তাহলে ওকে আমি কিডন্যাপ করে বিয়ে করবো তবুও ওকেই বিয়ে করবো।
মাহিন হাসলো এবং হাসতে হাসতে বলল___

থাপড়িয়ে কান চাপা লাল বানিয়ে দিব। এমন লাল বানাবো যে মানুষ ভাববে তুই মেকআপ মেখে ঘুরে বেড়াস। তুই কি ভাবিস তুই একাই আমার বোনকে কিডন্যাপ করে বিয়ে করতে পারবি আমি করতে পারবো না? আমিও তোর বোনকে কিডন্যাপ করেই বিয়ে করবো। তোর পাঁচটা না দশটা না একটা মাত্র চাচাতো বোন তাকে তো খুব যত্নে রাখবো তাই না? তাই তুমি বেবি চিন্তা করো না রান্নাই মনোযোগ দাও আমার ক্ষুধা পেয়েছে।
দুই বন্ধু হাসতে হাসতে আবার নিজেদের কাজে মনোযোগ দিল। হঠাৎ দরজায় কলিং বেল বাজালো কেউ। রাইফ কাজ রেখে দরজা খুলল। এখন ডেলিভারি ম্যান একটি পার্সেল দিল।রাইফ ফর্মালিটি পূরণ করে পার্সেল নিয়ে আবার কিচেনে চলে এলো। মাহিনের উদ্দেশ্য বলল___

তবু গল্পটা ভালোবাসারই পর্ব ২

ব্রো বাংলাদেশে যাবার সময় হয়ে গিয়েছে।
মাহিন চুলা উফ্ করে উৎফুল্ল কন্ঠে চিৎকার করে বলে উঠলো _____
হুররেএএএএ অবশেষে টিকিট চলে এসেছে।
রাইফ হাতে থাকা পারসনটি খুলতে খুলতে মাহিনের উদ্দেশ্যে বলল আরে হুররে না বলে বল ফাআআআআআহ
তারপর দুই বন্ধু এক সাথে বলল ফাআহহহহহ

তবু গল্পটা ভালোবাসারই পর্ব ৪