তাকদিরে তুমি পর্ব ২
মোনালিসা মেহরোজ
সারাটা দিনই অদ্ভুত এক নীরবতার মধ্য দিয়ে কাটলো আসিফ-ফাতিহার। আসিফ ঘরেই ছিল বেশিরভাগ সময়। কখনো ফোনে ব্যস্ত, কখনো ল্যাপটপে চোখ গুঁজে বসে আছে। অন্যদিকে ফাতিহা নিজের মতো বই পড়েছে, নামাজ আদায় করেছে, শাশুড়িকে কাজে সাহায্য করেছে। একই ঘরে থেকেও যেন তারা দুই ভিন্ন জগতের মানুষ।
কেউ কারও দিকে তাকাচ্ছে না। আসিফের কিছু দরকার হলে তা আগেই বুঝে নিচ্ছে ফাতিহা। নিঃশব্দে করে দিচ্ছে আসিফের সকল কাজ। এতে আসিফ বিরক্ত হয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়েছিলো। তবে আসিফের বাবা আযান মির্জা তা হতে দেননি
মাঝেমধ্যে আসিফ বিরক্ত চোখে তাকিয়েছে কালো রঙা থ্রি-পিস পরিহিতা মেয়েটার দিকে। মাথায় ওড়না দিয়ে হিজাব বাঁধা। মুখটাও আড়ালে রেখেছে। তবে আসিফ বুঝলো না, ঘরে এভাবে থাকার মানেটা ক? সে না মানুক, তবুও তো ফাতিহা তার স্ত্রী, তাহলে এভাবে নিজেকে আড়াল করার মানে কি? স্বামীর সামনে কে এভাবে পরনারীর ন্যায় নিজেকে আড়াল করে রাখে। এতে আসিফ বিরক্ত হলেও তার খুব একটা ক্ষতি নেই। এমনিতেও এ মেয়ের মুখদর্শন করার কোন ইচ্ছে তার নেই।
আসিফ এসব ভাবলেও ফাতিহা নির্বিকারভাবে নিজের কাজে ব্যস্ত থেকেছে। সে বুঝতে পারছে আসিফের ভাবগতি। কাল থেকে নতুন কিছু নিয়ম চালু করবে বলেও মনস্থির করলো মনে মনে। সে জানে, এই নতুন নিয়মগুলো আসিফের কাছে বোঝা মনে হবে। তবে কিছু করার নেই ফাতিহার। আসিফকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে তাকে এসব করতেই হবে।
সন্ধ্যার পর সবাই একসাথে ডাইনিং টেবিলে বসলো। বিশাল ডাইনিং রুমের মাঝখানে লম্বা টেবিল সাজানো। মাথায় ঘোমটা টেনে একে একে খাবার সার্ভ করছে ফাতিহা। আযান মির্জা সন্তুষ্ট চোখে তাকিয়ে আছেন পুত্রবধূর দিকে। সায়না মির্জার মুখেও প্রশান্তির হাসি। শুধু আসিফের মুখটাই বিরক্তিতে গোমড়া হয়ে আছে। খাবার পরিবেশন শেষ করে ফাতিহা একটু দূরে দাঁড়াতেই আযান মির্জা গম্ভীর কণ্ঠে
আসিফকে বললেন—
—কাল থেকে অফিসে যাওয়া শুরু করবে তুমি।
আসিফ ভ্রু কুঁচকালো।
—কেন
—কেন মানে? ব্যবসা সামলাবে। আর কতদিন দায়িত্বহীন হয়ে ঘুরে বেড়াবে? শুধু সম্পত্তি চাইলে তো হবে না, তা সামলাতে শিখতে হবে।
আসিফ বিরক্ত হয়ে পানির গ্লাস নামিয়ে রাখলো।
—বাবা! আমি আগেও বলেছি, ব্যবসায় আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই।
—কিন্তু আমার আছে।
কঠোর হয়ে উঠলো আযান মির্জার কণ্ঠ। কঠোর গলায় ফের বললেন—-
—একদিন এই সবকিছুর দায়িত্ব তোমাকেই নিতে হবে। তাই আমি বেঁচে থাকতে থাকতে সবকিছু সামলানো শিখে দিতে চাই।
আসিফ ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বললো—-
—তাহলে সবকিছু আমার নামে লিখে দাও। আমি দেখে নিবো কি করতে হবে।
টেবিলের পরিবেশ মুহূর্তেই ভারী হয়ে উঠলো।
সায়না মির্জা অস্বস্তিতে ছেলের দিকে তাকালেন। আযান মির্জার চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। সকলে জানে আসিফ কেনো এ কথা বললো। কেননা এই একটা কারণেই তাকে ফাতিহাকে বিয়ে করতে হয়েছে। এখন সম্পত্তি পেলে নির্ঘাত মেয়েটাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবে। তখন তো আর আযান মির্জা সম্পত্তির ভয় দেখিয়ে ছেলেকে আটকাতেও পারবেন না। আসিফ লোভী নয়, তবে খরচার দিক দিয়ে সে বাঁধনহারা। এক সেকেন্ড টাকা ছাড়া চলতে পারে না। আর তাই জন্যই বাবার হুমকিতে সে ফাতিহাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছিলো। নইলে এই বিয়ে তাকে দিয়ে ইহকালেও করানো যেতো না। আসিফের পছন্দের ঠিক বিপরীতে ফাতিহার বাস। মর্ডান মেয়ের প্রতি আসিফের বড্ড টান। যে তার সাথে তালে তাল মিলিয়ে চলবে। সারাদিন বন্ধু-বান্ধব আড্ডা-পার্টি এসব করবে। ফাতিহার মতো নিজেকে সকলের থেকে আড়ালে রাখবে না। তাছাড়াও আসিফের মন খুঁজে চলেছে অন্য কাউকে। তার সাথে অবশ্য ফাতিহার বেশ মিল রয়েছে পর্দা নিয়ে।
আসিফ কথাগুলো ভাবতে ভাবতে ফাতিহার দিকে তাকালো। যে মাথায় ঘোমটা টেনে অন্যদিকে ফিরে আছে। বিরক্ত হয় আসিফ। ঠিক তখনি ফাতিহা জোড় গলায় বললো—-
—কোন সম্পত্তি আপনার নামে দেওয়া যাবে না। আব্বাজান যতদিন আছেন ততদিন সবকিছু তার’ই থাকবে। আপনার মতো দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষকে সবকিছু দিয়ে পরে পথে বসতে হবে। তাই আব্বাজান ঠিকই বলেছেন। আপনি কাল থেকে অফিসে যান। সব-কাজ সামলাতে শিখুন। আর আব্বাজানকে একটু স্বস্তি দিন।
আসিফ বিস্মিত হয়ে তার দিকে তাকালো। এই মেয়েটা একদিন হলো বাড়িতে এসেছে। আর আজ’ই তাদের পরিবারের সকল ব্যাপারে কথা বলতে শুরু করে দিয়েছে? আর সকলে তার কথা শুনছেও? আশ্চর্য?
আসিফ মা-বাবার পানে তাকালো। তাদের মুখ দেখে মনে হচ্ছে তারা বোধহয় খুশিই হয়েছে ফাতিহার কথায়। আসিফ চোখমুখ কুঁচকে নিলো। বিরক্ত স্বরে বললো—
—তোমার মতামত কেউ চায়নি। আর দু’দিন হলো এসেছো। তাই সব ব্যাপারে কথা বলা বন্ধ করো, ষ্টুপিড।
ফাতিহা নির্বিকার। সে ফের গম্ভীর গলায় বললো—
—মতামত চায়নি বলেই যে সত্য কথা বলবো না, এমন তো নয়। আর আমি ক’দিন হলো এসেছি সেটা ম্যাটার করে না, ম্যাটার করে এটা যে আমি ঠিক বলছি না ভুল।
আসিফ হেঁসে উঠলো।
—ওহ! শুরু হয়ে গেলো আবার জ্ঞান দেওয়া?
ফাতিহা ধীরস্বরে বললো—-
—জ্ঞান নয়। দায়িত্বের কথা বলছি। আল্লাহ কাউকে কোনো নিয়ামত দিলে তার হিসাবও নিতে পারেন।
টেবিলে কয়েক মুহূর্ত নীরবতা নেমে এলো।
আযান মির্জা সন্তুষ্ট চোখে তাকালেন পুত্রবধূর দিকে। আর আসিফ বিরক্তিতে খাবারের প্লেট সরিয়ে উঠে দাঁড়ালো। আঙুল তুলে বললো—-
—এনাফ। যথেষ্ট হয়েছে, নেক্সট টাইম আমাকে জ্ঞান দিতে এসো না। তোমার এসব সেকেলে ভাবনাচিন্তা তোমার কাছে রাখো।
বলেই গটগট পায়ে সেখান থেকে চলে গেলো আসিফ। ফাতিহা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। সায়না মির্জা অসহায় চোখে ছেলের চলে যাওয়া দেখলেন। আযান মির্জা মৃদু হেঁসে ফাতিহাকে বললেন—-
—এভাবেই এগিয়ে যাও। আমি আছি তোমার পাশে।
রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা। আসিফ ছাদ থেকে নেমে ঘরে প্রবেশ করতেই দেখলো ফাতিহা জায়নামাজ গুছিয়ে রাখছে। সে কিছু না বলে বিছানার একপাশে গিয়ে বসল। ফাতিহা তাকালো না তার দিকে। আসিফ ফাতিহার দিকে তাকালেও তার গোমটার আড়ালে মুখখানা আর দেখতে পেলো না। আসিফ বিরক্ত হলো। যখন-তখন মুখ ঢেকে রাখার কি আছে বুঝলো না সে। পরক্ষনেই ঘরের নীরবতা ভেঙে আসিফ বললো—-
—শোনো, একটা কথা পরিষ্কার করে রাখি।
—বলুন।
—আমার জীবনে ইন্টারফেয়ার করার চেষ্টা করবে না। বাবা-মা নিচে ছিলো বলে তখন তোমায় কিছু বলিনি বলে এটা ভেবো না যে আমি কিছু বলবো না।
ফাতিহা শান্তভাবে ওড়না গুছাতে গুছাতে বললো—-
—আপনার উগ্র জীবন যদি আমার সংসারের ওপর প্রভাব ফেলে, তাহলে অবশ্যই কথা বলবো।
—আমি তোমার অনুমতি নিয়ে চলি না। মনে রেখো, আসিফ মির্জা কারো হাতের পুতুল হতে পছন্দ করে না।
—আমিও আপনার অন্যায় দেখে চুপ থাকতে পারবো না। কারো পারমিশন নিয়ে কথা বলি না আমি। কাউকে ভয়’ও পাইনা আল্লাহ ব্যতীত। আপনি আমার স্বামী, আপনার আদেশ মানা আমার কর্তব্য হলেও ভুল-সঠিকের ব্যপারে আমি বড্ড সচেতন।
আসিফ রেগে গেলো। বসা হতে শক্ত মুখে উঠে আঙুল তুলে বললো—-
—তুমি কি সবসময় এতটা বিরক্তিকর কথা বলো?
ফাতিহা তার দিকে না ফিরেই বললো—
—আপনি কি সবসময় এত অভদ্রভাবে চলেন?
কথাটা শুনে আসিফ দাঁতে দাঁত চেপে ধরলো। চোখ বন্ধ করে সামলাতে চাইলো নিজেকে। দাঁতে দাঁত চেপে ফের বললো—-
—আমি বুঝতে পারছি না বাবা-মা তোমাকে কোথা থেকে খুঁজে এনেছে!
—আর আমি বুঝতে পারছি না তারা আপনাকে এত আদর দিয়ে কীভাবে মানুষ করেছে? আপনার মধ্যে সামান্য ভদ্রতাটুকুও নেই যে মেয়েদের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় সেটুকু পর্যন্ত জানেন না। তারওপর আমি আপনার স্ত্রী।
এক মুহূর্তের জন্য ঘরের বাতাস যেনো জমে গেলো। আসিফ অবিশ্বাস্য চোখে তাকিয়ে রইলো ফাতিহার দিকে। মেয়েটা ভয় পায় না তাকে? একটুও না? কিভাবে মুখের উপর কথা বলে চলেছে!
ফাতিহা ততক্ষণে বিছানার অন্য পাশে গিয়ে বসেছে। কণ্ঠে কোনো রাগ নেই। কোনো উত্তেজনাও নেই। যেন সাধারণ কথাই বলছে।
আসিফ বিরক্তিতে চুলে হাত চালালো। তারপর হঠাৎ বালিশটা তুলে নিলো। ফাতিহা ভ্রু কুঁচকালো।
—কোথায় যাচ্ছেন?
—যেখানে তোমার বক্তৃতা শুনতে হবে না।
—রাগ করে সমস্যার সমাধান করা যায় না।
—তোমার সাথে একঘরে থাকাটাই সমস্যা।
কথাটা বলে দরজা খুলে বেরিয়ে গেলো আসিফ।
ধপ করে দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দে পুরো ঘর কেঁপে উঠলো। ফাতিহা কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বসে রইলো। অতঃপর ধীরে ধীরে চোখ তুলে দরজার দিকে তাকালো। তারপর অতন্ত্য নিচু স্বরে বললো—-
—আল্লাহ, মানুষটা খুব রাগী। ওকে হেদায়েত দান করুন। সে আমার স্বামী, আর তার সাথে মুখে মুখে তর্ক করার জন্য ক্ষমা করুন আমায়। সঠিক পথ দেখান খোদা। আমাকে সাহায্য করুন।
ফাতিহা বিরস মুখে তাকিয়ে রইলো দরজার পানে। অতঃপর আস্তে আস্তে বালিশে মাথা রেখে চোখ বুঁজে নিলো।
অন্যদিকে বালিশ হাতে স্টাডি রুমে ঢুকতে ঢুকতে আসিফ বিড়বিড় করে বললো—-
—এই মেয়েটা আমার জীবন অতিষ্ঠ করে ছাড়বে!
কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো, সারাদিনে প্রথমবারের
মতো আসিফের মাথায় একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগলো—পর্দার আড়ালে থাকা মেয়েটাকে দেখতে আসলে কেমন? সে কেনো তার ঘরেও পর্দা করছে? এ কেমন পর্দাশীল নারী?
রাত প্রায় সাড়ে তিনটা।
স্টাডি রুমের সোফায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করছে আসিফ। বিরক্তিতে মাথা ধরার উপক্রম হয়েছে তার। সোফাটা এতটাই অস্বস্তিকর যে একটানা পাঁচ মিনিটও চোখ বন্ধ করে থাকা যাচ্ছে না। শেষমেশ বিরক্ত হয়ে উঠে বসল সে। চুলে হাত চালিয়ে নিচু স্বরে গালি দিলো।
—ফা*ক অফ!
আসিফ খানিকক্ষণ চুপচাপ বসে রইলো। অতঃপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে দরজা খুলে বেরিয়ে এলো ঘর ছেড়ে। সারা বাড়ি তখন নিস্তব্ধ। চারপাশে এমন এক নীরবতা যে নিজের পদশব্দও স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে।
ধীর পায়ে নিজের ঘরের সামনে এসে থামলো আসিফ। কয়েক সেকেন্ড দরজার দিকে তাকিয়ে থেকে অবশেষে ভেতরে প্রবেশ করলো। রুমের হালকা নীলাভ নাইট ল্যাম্প জ্বলছে। বিছানার একপাশে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে শুয়ে আছে ফাতিহা। মাথা থেকে পা পর্যন্ত সাদা চাদরে ঢাকা।
আসিফ বিরক্ত মুখে অন্যদিকে তাকাতে গিয়েও থমকে গেলো। অবচেতনেই চোখ আটকে গেলো বিছানার দিকে। ঘুমের ঘোরে ফাতিহার ওড়নাটা সামান্য সরে গেছে। ওপাশ হয়ে শুয়ে থাকলেও চোখে লাগছে মুখের একাংশ। বেশিরভাগ অংশই এখনো আড়ালে তবুও দৃশ্যমান ছোট্ট অংশটুকু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। দুধসাদা গাল। বন্ধ চোখের ঘন পাপড়ির ছায়া গালে পরেছে।
আর অদ্ভুত প্রশান্তিতে ভরা একটা মুখাবয়ব।
কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো আসিফ।
কেন জানি চোখ ফেরাতে পারলো না। খুব টানছে মুখটা তাকে। নিজের অজান্তেই দু’পা এগিয়ে গেলো বিছানার দিকে। দৃষ্টি স্থির হয়ে রইলো ঘুমন্ত মেয়েটার ওপর। এতক্ষণে প্রথমবারের মতো মনে হলো—মেয়েটার কণ্ঠের মতোই কি তার মুখটাও শান্ত? আর সেই শান্তের ভেতরে’ই কি কঠিন সত্তা লুকিয়ে আছে?
ভাবনাটা আসতেই ভ্রু কুঁচকে গেলো আসিফের। সে কি করছে বুঝতে পেরে’ই মুহূর্তেই চোয়াল শক্ত হয়ে এলো তার।
সে কী করছে? একজন অচেনা মেয়েকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখার চেষ্টা চালাচ্ছে? তাও সেই মেয়েকে, যাকে বিয়ে করতে সে কখনোই চায়নি?
নিজের ওপরই বিরক্ত হয়ে উঠলো আসিফ। দ্রুত দৃষ্টি সরিয়ে নিলো। তারপর কোনো শব্দ না করে ঘুরে দাঁড়ালো। লম্বা পায়ে দরজার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করলো—
—ননসেন্স!
পরক্ষণেই দরজা খুলে আবার বেরিয়ে গেলো ঘর ছেড়ে। করিডোরে এসে দাঁড়াতেই বুকের ভেতর অদ্ভুত এক অস্থিরতা টের পেলো সে। যেনো তার চোখে ভাসছে মেয়েটার মুখের এক টুকরো অংশ। আর সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের ন্যায় তাকে আছড়ে ফেলছে কোন এক অদ্ভুত মায়ায়। তবে এমনটা কেনো হচ্ছে? কেনো তোলপাড় হচ্ছে বুকে? মেয়েটার মুখটাও তো দেখে নি সেভাবে, তাহলে কেনো এতটা অস্থিরতা কাজ করছে? কেনো? আর সেই মুখটা কেনো তাকে এতো টানছে? কেনো?
তাকদিরে তুমি পর্ব ১
কারণটা অবশ্য বুঝলো না আসিফ। আর না-তো বুঝতে চাইলো।
অন্যদিকে, ঘরের ভেতর গভীর ঘুমে ডুবে থাকা ফাতিহা জানতেও পারলো না— কিছুক্ষণ আগে তার স্বামী প্রথমবারের মতো তাকে দেখার চেষ্টা করেছিল। যদিও সেই চেষ্টাকে পরমুহূর্তেই জোর করে অস্বীকার করেছে সে।
