তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ৪০
ঐশী আফরিন
আজ সকাল সকালই অভির চিঠি পেয়ে রুহি থমকায়। একদিন দেখা করে রাতের বেলাতেই কত ঝামেলা হলো। এখন দেখা করতে তার কলিজা ধুকপুক করছে। অভি জানিয়েছে সে ছাদে অপেক্ষা করছে। যেন তাড়াতাড়ি যায়। রুহি কিছুক্ষন চিন্তা ভাবনা শেষে মাধবীর কাছে যায়। মাধবী শুয়ে শুয়ে গল্পের বই পড়ছিল। রুহি পা টিমটিম করে বিছানায় গিয়ে বসে। আরিয়ান আপাতত বাড়িতে নেই। মাধবী রুহির দোনামনা দেখেই বুঝেছে কিছু একটা হয়েছে। সে বইটা পাশে রেখে সোজা হয়ে বসে। জিজ্ঞেস করে “কিছু লাগবে?”
রুহি উপর নিচ মাথা নাড়ায়। হ্যা লাগবে। মাধবী বলে “কী?”
রুহি কন্ঠ খাঁদে নামিয়ে বলে “আপুরে ডাক্তার বাবু দেখা করতে এসেছে”
মাধবী শান্ত স্বরেই বলে “তো দেখা কর”
রুহি অনুনয়ের সুরে বলে “উনি ছাদে। আমার ভয় করছে। ঐ দিন রাতে কী থেকে কী হয়েছিল। এখন তুমি একটু আসবে”
“এখানের ছাদ রাস্তা থেকে দেখা যায়। তোর ভাই আমার ঠ্যাং ভাঙবে”
“তোমার উঠা লাগবে না। তুমি শুধু সিরিতে দাঁড়িয়ে পাহারা দেবে। মূল গেট বন্ধ করে দিলে আর বহির থেকে দেখা যাবে না। আপু আসো না”
“ইচ্ছে ভাবি কোথায়?”
“উনার খবর আমি জানি না। বাড়িতে নেই বোধহয়”
“ছেলেদের মত বাহিরে বাহিরে ঘুরে বেরায় তা-ও আবার ছেলেদের সাথেই। আস্ত ব্যাটাছেলে”
রুহি কিছুটা সন্দেহ নিয়ে জিজ্ঞেস করে “আরিয়ান ভাই কোথায়? দুজনের একজনও তো বাড়ি নেই”
মাধবী বিছানা থেকে নামতে নামতে বলে “আয়াজ ভাইও তো নেই। থাকলে সব একসাথে। নয়তো ইচ্ছেনিকে উনার সাথে আয়াজ ভাই কখনো ছাড়বে না”
“ওহ। তাই তো। ইশশশ ওদের কী দুঃখ। ইচ্ছে ভাবি আরিয়ান ভাইকে কত্ত ভালোবেসেও পায়নি আর আয়াজ ভাই পেয়েও পাচ্ছে না”
মাধবী হেসে বলে “তাহলে তো দেখছি সব থেকে ভাগ্যবান তুই রে। কারণ অভি দাঁ আর তুই দুজনেই দুজনকে ভালোবাসিস। নয়তো বাকিরা এক তরফা প্রেমের আগুনে পুরে যাচ্ছে”
রুহি ততক্ষণাত বলে “কেন তুমি আর আরিয়ান ভাইও তো একে অপরকে ভালোবাসো”
মাধবী কিছুক্ষনের জন্য থমকায়। পরক্ষণেই বলে “তোর ডাক্তার বাবু অপেক্ষা করছে। যাবি না”
“ওহ হ্যা চলো”
রুহি ভয়ে ভয়ে বাড়ির সবার গতিবিধি লক্ষ্য করে। সকালের সময় হওয়ায় সবাই ব্যাস্ত। মাধবীকে সিরির গোড়ায় দাঁড় করিয়ে তরতরিয়ে সে ছাদে চলে যায়। অভি ওকে দেখে এগিয়ে আসে। রুহি রেলিংঙে বসে বলে “হঠাত সাত সকালে ডাকলেন কেন? তাড়াতাড়ি বলুন। আম্মুরা ছাদে কাপড় দিতে আসতে পারে”
অভি সোজাসাপটা বলে “রুহি আমাদের পালিয়ে যেতে হবে”
রুহি অবাক হয়ে বলে “ওমা! এত তাড়াতাড়ি কেন?”
“তাড়াতাড়িই”
“কেন বলবেন তো?”
“বয়স তোমার না হলেও আমার হচ্ছে। যত তাড়াতাড়ি ঝামেলা শেষ হবে তত তাড়াতাড়ি বাপ হতে পারবো”
রুহি চোখ মুখ কুচকে বলে “আপনার হলো কী হঠাত?”
“বিয়ে করতে ইচ্ছে করছে”
“পাগল হলেন?”
“হুম”
রুহি কন্ঠ নরম করে জিজ্ঞেস করলো “মুসলিম ধর্ম গ্রহন করেন আগে”
অভি বিশ্বাসী কন্ঠে বলে “আগে চলো। বিয়ের সময় মুসলমান হয়ে যাবো। একসাথে নতুন করে জীবন শুরু করবো”
রুহি ঠোঁট কামরে বলে “আপনার খারাপ লাগছে না?”
অভি ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছেড়ে বলে “একটা মেয়ে যদি পরিবার, বাবা-মা, আত্মীয় স্বজন, সব ছেড়ে কোন নিশ্চয়তা ছাড়াই আমার মত বিধর্মীর কাছে চলে আসতে পারে তাহলে আমি কেন তার জন্য ধর্ম ত্যাগ করতে পারবো না বলতো?”
রুহি প্রশান্তির হাসলো। কথাগুলো হৃদয় ছুঁয়ে গেলো। ক’জন ছেলে এসব বোঝে? সবাই তো প্রথমে পরিবার হাড়া করে পুরোনো হয়ে গেলে ছেড়ে দেয়। তারা এতটুকু বোঝে না যে, মেয়েটা সব ছেড়ে তার কাছে এসেছে। এরকম ঘটনা অহরহ ঘটছে। পালিয়ে নিয়ে গিয়ে পাচার করে দিচ্ছে নয়তো সম্ভ্রমহানী করে ছেড়ে দিচ্ছে। এসব ভাবলে তার নিজের বুকও দুরুদুর করে। কিন্ত ভালোবাসার কাছে এসব হার মানে। মন বারবার বলে একটা ঝুকি নিয়েই দেখ। অভি তো ওর ভাইদের বন্ধু। তার কিছু হলে তার ভাইয়েরা কাউকে ছাড় দেবে না। আরিয়ানের আরশির প্রতি কোন মায়া দয়া নেই বলে আরশিকে এত গুরুত্ব দিয়ে খুঁজছে না। তবে আয়াজ তো ওদের নিজ হাতে বড় করেছে। আরশিকে কত স্নেহ করে। বোনদের কিছু হলে পাগল হয়ে যায়। কিন্ত এখন আয়াজ তার কিছু হলেই দেখে না, আরশি তো দূর। নয়তো বাড়ির মেয়েকে দু তিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কোন বড় বিপদে পরলো কিনা , আদেও বেঁচে আছে না মরে গেছে তাও জানা নেই। তবুও কোন একটা মানুষ গুরুত্ব দিয়ে খোঁজেনি। নিজের মা-ও কয়েকদিন কান্না করে এখন আর জিজ্ঞেসাও করে না যে, কোন খোঁজ পেলো কিনা। আসলেও দুনিয়াতে কেউ কারো নয়। সবই মিছে মায়া।
পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষই জোরের উপর টিকে আছে। খেতে হচ্ছে বলে খাচ্ছে, হাসতে হবে বলে হাসছে, ভালোবাসতে হবে বলে বাসছে, মেনে নিতে হবে বলে মেনে নিচ্ছে। এই নিষ্ঠুর পৃথিবী সবার জন্য নয়। নয়তো কি একটা জলজ্যান্ত মানুষ সবার মাঝ থেকে হাড়িয়ে গেলেও তারা নিজেদের কাজে মত্ত! কারো জন্য কিছু থেমে থাকে না। তুমি না থাকলে তোমায় ছাড়া সবই হবে। তোমার শূণ্যস্থানটাও পূর্ণ হবে। তাই কারো কাছে বেশি আশা না করাটাই শ্রেয়। আরশির সাথে মাধবীর সম্পর্কটা ভালো থাকলে কুক্ষনেও মাধবী হাত গুটিয়ে বসে থাকতো না। ও আবার অন্যরকম। যেভাবেই হোক খুঁজে বের করতো। এখন যদি আরশির স্থানে রুহি হাড়াতো তাহলে বাড়ির সবাই খোঁজাখুজিতে ব্যাস্ত হতো। এমনিতেও আরশির কপাল মন্দ। ছোট থেকেই তেমন কারো আদর পায়নি। একা একা থেকেছে। হাতে হাতে সবার কাজ করেছে। মোটকথা বাড়ির বেশিরভাগ কজ ঐ-ই করেছে। কেন যেন সবাই ওকে তেমন আমলে আনে না। সুন্দরী হওয়ায় অনেক ছেলেরাই প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্ত সেই তো সবাই কে পায়ে ঠেলে এমন একজনের প্রেমে পরলো যে তাকে ধুলোর দামও দেয় না। আরশি প্রায়ই একটা কথা বলতো।
“আমি জানি তাকে আমার পাওয়া হবে না। আর এ-ও জানি তাকে কখনো ভোলা যাবে না। তবুও বেহায়া মন আমার ঐ একটা মানুষেই আটকায়। এক তরফা যারা ভালোবাসে একমাত্র তারাই জানে একটা মানুষের উপর বারবার প্রেমে পড়ার সুন্দর অনুভূতিটা”
আরশির এই কথাটা রুহির আজও কানে বাজে। মেয়েটার কিছুই হলো না। বাবা-মা, ভাই-বোন আর প্রিয় মানুষটার উপর ওর ভালোবাসাটা একতরফাই রয়ে গেল। ও যদি আর ফিরেও আসে তাহলে তার বেঁচে থাকা হবে মৃত্যুসম। সমাজ মোটেও তাকে ছেড়ে দেবে না। গলা টিপে হত্যা করা হবে এক নিষ্পাপ ফুলকে। এর চেয়ে ভালো ও আর না ফিরুক। রুহি বলে ও আর কক্ষনো এখানে না আসুক। সে-ও চলে যাবে। মাধবীরাও গ্রামে ফিরবে। আর কোন ফুল অবশিষ্ট থাকবে না ইশান বাড়িতে। খাঁ খাঁ করবে বাড়ি। এই বাড়ির প্রতিটা সদস্য এক অদ্ভুত শক্তি দিয়ে গড়া। এরা যেকোন নেতিবাচক বিষয় স্বাভাবিক ভাবে ঝেড়ে ফেলে দিতে পারে। কোন প্রভাব পরে না এদের উপর।
“কোথায় হাড়িয়ে গেলে?”
অভির কোথায় ধ্যান ভাঙে রুহির। মাথা ঝাকিয়ে বলে “কিছু না”
অভি রুহির হাতদুটো ধরে বলে “কাল রাতে আমরা চলে যাবো রুহি। আরিয়ানের সাথে আমার কথা বলা আছে। তুমি মাধবীর সাথে কথা বলে নিয়ো। আর বাকিরাও জানে। আমার সব বন্ধুবান্ধব কাল উপস্থিত থাকবে। ইচ্ছেও থাকবে। শুধু আয়াজ ছাড়া। তুমি তোমার ভাইয়ের কাছে মাফ চেয়ো। আজ দিনটা পরিবারকে দেও। বেঁচে থাকলে আরেকবার পুরো পরিবার সহ শেরপুরে পা রাখবো। সব কিছু গুছিয়ে রাখবে ঠিক আছে?”
রুহি মাথা ঝাকায় “হুম”
অভি হাত ছেড়ে বলে “তাহলে আসছি”
রুহি ডেকে বলে “দাঁড়ান দাঁড়ান। মাধবী আপু সিরিতে দাঁড়ানো। আপুকে সতর্ক করে নেই”
অভি এক পেশে হেসে বলে “বাহ। ময়মনসিংহের রাণীকে পাহারায় দাঁড় করিয়ে প্রেমিকের কাছে এসেছো। সাহস তো কম নয়”
রুহি হেসে মাধবীকে সতর্ক করলে অভি হাত নাড়িয়ে বিদায় জানিয়ে চলে যায়। অভি চলে গেলে মাধবীও ছাদে আসে। জিজ্ঞেস করে “হঠাত ডাকলো কেন?”
“কাল রাতে নাকি আমাকে নিয়ে চলে যাবে”
মাধবী চোখ সরু করে বলে “কোথায়?”
“জানি না। আমাকে নিয়ে পালিয়ে যাবে”
“তোর আরিয়ান ভাই জানে?”
“হুম। আয়াজ ভাই ছাড়া ওরা সবাই জানে। কালই চলে যাবো”
মাধবী কিছুক্ষন চুপ থেকে হেসে বলে “মন খারাপ?”
রুহিও হাসে “হু”
“মন খারাপের কিছু নেই। কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়। এমনিতে যতটুকু বুঝলাম অভি দাঁ ভালোই। তবে হ্যা; গিয়েই কিন্ত আগে ধর্ম বাদল করাবি। আর বিয়ের আগেই”
“উনি বলে গেছেন বিয়ের আগেই মুসলমান হয়ে যাবে। আপু আমার না ভয় লাগছে”
“ওমা কেন?”
“আমি তো কিছুই পারি না। সংসার কীভাবে করবো”
“ওরে মেয়ে সংসার করা শিখতে হয় না বোকা। থাকতে থাকতে একদিন দেখবি তোদের সব আছে। আর অভি দাঁ তো সরকারি ডাক্তারই। টাকা পয়সার তো কোন অভাব হবে না। শুধু একটু বুদ্ধি করে চলবি। আর হ্যা, কখনো একা বাজার টাজারে যাবি না। আর কোন ছেলে কিছু বললে ভ্যা ভ্যা করে না কেঁদে এক বারি দিয়ে মাথা ফাটিয়ে ফেলবি। আস্তে আস্তে প্রথমে তোর প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে তারপর রান্নার যা যা লাগবে কিনবি। রান্নার সময় সাবধানে থাকবি। তেল ছিটে গায়ে যেন না আসে। অভি দাঁ বাড়ি না থাকলে সর্বদা দরজায় খিল দিয়ে রাখবি। বাচ্চাদের সাবধানে রাখবি। খেয়ালে খেয়ালে রেখে রান্না করবি। আশেপাশে পুকুর থাকলে বাচ্চাদের একা ছাড়বি না। কোন কারণে অভি দাঁর সাথে ঝগড়া হলে আগে আগে ক্ষমা চেয়ে নিবি। সম্পর্ক সুন্দর থাকবে। এতক্ষণ যা যা বললাম মাথায় রাখবি কিন্ত। আর যে কোন বিপদে খবর পাঠাবি। মনে থাকবে?”
রুহি ভ্যাবাচেকা খায়। মাধবীর দ্বারা সংসারী কাজকর্ম সে আশা করেনি। এমন ভাবে উপদেশ দিলো যেন নিজের একটা সুন্দর সংসার আছে। সে হেসে বলে “এমনভাবে পাঞ্জাবিওয়ালা আর মধুমতীর একটা ছোট্ট সংসার হলে মন্দ হয় না কিন্ত”
রুহিকে অবাক করে দিয়ে মাধবী বলে “ছোট্ট কেন? বড় সংসার হলেও মন্দ হয় না। কিন্ত ছোট বাচ্চাদের হাসাহাসিটা থাকবে না”
রুহির মন খারাপ হয়ে যায়। সে শুনেছে কেউ মাধবীকে কালো যাদু করেছে, যার ফলে কখনো মা হতে পারবে না। তার এখন ভীষণ আফসোস হচ্ছে। ইশশশ মাধবী এখন চায় তার একটা সংসার হোক। কিন্ত এখন সেটা হলেও বাচ্চাদের পরিপূর্ণতা থাকবে না। একটা বাচ্চাই পারতো দুই ছন্নছাড়াকে এক সুতোয় বাঁধতে। নয়তো মাধবী তো কম কিছু জানে না সংসারের। নিশ্চয় মনে মনে একটা সংসার আশা করে। সে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে “দেখবে একদিন সব কিছুকে মিথ্যে প্রমাণিত করে তোমার কোল আলো করে মাধরিয়া আর আদ্রিয়ান আসুক। দুই ছেলে মেয়ে ভরিয়ে দিক তোমাদের সংসার”
মাধবী তাচ্ছিল্য হেসে বললো “এসব নাম কোত্থেকে আনলি?”
“কত ভেবে যে এই নাম দুটো আমরা বের করেছি। যখন তোমাদের প্রথম বিয়ে হয়েছিল তখনই ঠিক করে রেখেছিলাম একটা ছেলে হলে আরিয়ান আর ইরাবতি মিলিয়ে নাম রাখবো ‘আদ্রিয়ান’। আর মেয়ে হলে মাধবীর প্রথমটুকু আর আর আরিয়ানের শেষটুকু মিলিয়ে নাম রাখবো ‘মাধরিয়া’। এসব কিন্তু আমি একা করিনি। আরিয়ান ভাইও সাথে ছিলো। আমি তো শুধু মিলিয়েছিলাম। নাম রেখেছে আরিয়ান ভাই। সুন্দর না নামগুলো?”
মাধবী শুষ্ক ঢোক গিলে বলে “হু”
আরিয়ানও নাম রেখেছে? তার মানে আরিয়ান একটা বাচ্চার জন্য মরিয়া। কিন্ত প্রকাশ করছে না। নাম পর্যন্ত রেখেছিলো! আর এখন সব আশা ভেস্তে গেলো? না জানি ঠিক কতটুকু কষ্ট পেয়েছে লোকটা। তবুও মুখ ফুটে কিচ্ছুটি বলেনি। হয়তো এই নামগুলো মালিকের আশায় অপূর্ণ হিসেবে আজীবন হৃদয়ে থেকে যাবে।
রুহি আবারও বলে “আর হ্যা। যদি আল্লাহ চাইলে সবকিছু ঠিক হয় তাহলে…
বলতে বলতেই অপূর্ব কে দেখে থেমে যায় রুহি। চটজলদি মাধবীর দিকে তাকায়। ওমা মাধবী মুখ ঢাকেনি! এমন না যে অপূর্বকে দেখেনি। বরং তাকিয়ে আছে উনার দিকে। সে ঢোক গেলে। অপূর্ব এসেছিলো অভিকে খুঁজতে কিন্ত মাধবীকে এখানে আশা করেনি। অযথাই বুক ধুকপুক শুরু হয়ে গেছ। দ্বিতীয়বারের মত দেখা হলো মাধবীর সাথে। সে মোটেও আশা করেনি যে মাধবীকে এভাবে আর কখনও দেখতে পারবে। তবে এখন তো খুব করে চাইলেও দুটো কথা বলতে পারবে না। তাই সে গলা খাঁকারি দিয়ে বলে “দুঃখিত। আমি বুঝতে পারিনি আপনারা এখানে আছেন। আসছি”
বলে ঘুরে চলে যেতে নিলে মাধবীর অযাচিত কথায় থমকে যায় তার পা। মাধবী কন্ঠ কিছুটা শক্ত রেখে বলে “দাঁড়ান”
অপূর্ব দাঁড়িয়ে যায়। না চাইতেও হাত চলে যায় বুকের বা পাশে। সে ফিরে তাকালে মাধবী রুহিকে বলে “রুহি তুই ঘরে যা। আমি আসছি”
তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ৩৯
রুহি ঢোক গিলে বলে “আপু তুমি চেহারা ঢাকছো না কেন। আর আরিয়ান ভাই জানতে পারলে রাগ করবে”
“বলিস না। আর এর মধ্যে বাড়ি আসলে বলবি আমি গোসলে। যা”
রুহি আর কথা না বারিয়ে অপূর্বের পাশ কাটিয়ে চলে যায়। অপূর্ব একবার সেদিকে তাকিয়ে মাধবীকে জিজ্ঞেস করলো “কিছু বলবেন?”
“হুম। সামনে আসুন। কথা আছে”
