তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ১৬
নীতি জাহিদ
পাখির কিচির মিচির আওয়াজে ঘুম ভেঙেছে। আজ ইউনিভার্সিটি নেই। আড়মোড়া ভে ঙ্গে উঠে বসল। মৃদুমন্দ বাতাস চারদিকে। বাতাসে ভেসে যাওয়া সাদা মেঘের মত ভাসতে ইচ্ছে করছে। কাশবন ঘুরে আসলে ভালোই লাগতো। শরতের আগমনে প্রকৃতিতে সাজ সাজ রব। মোনা বারান্দায় এসে দাঁড়ায়। নিচে কিসের যেন গো ল মা ল। বারান্দা থেকে নিচে তাকিয়ে দেখে বাগান সাজাচ্ছে বাবা। স্টেজ করছে বাগানে। বাবার সাথে ইমরান সাহেব ও আছেন। মোনা নিচে নেমে এলো ভ্রু কুঁচকে আছে। মিনহাজের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়।
‘ বাবা কি করছো? এটা কিসের স্টেজ?’
মোনার গলার স্বরে ফিরে তাকালো দুজন।
‘ গুড মর্নিং, বাবার শাহাজাদী। উঠে গেলেন কেনো এত তাড়াতাড়ি। ‘
‘ঘুম ভেঙে গিয়েছে চেঁচামেচিতে।’
ইমরানের দিকে তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিলো। বাবার সাথে হাত নাড়িয়ে কথা বলছে মোনা। ইমরানের দু চোখ মোনাকে দেখছে। একটা ঢোলা ট্রাউজার পরেছে, ওভার সাইজ টি শার্ট। চুল গুলো এলোমেলো, কক্সবাজারে যে কাঠিটা দেখেছিলো ওরকম কাঠি দিয়ে আধ খোঁপা করা। মেয়েটার কি কোনো কা*ন্ড/জ্ঞা*ন নেই। এভাবে নিচে কেনো এসেছে। আশে পাশে ইভেন্টে লোকজনে ভরা। মিনহাজ মেয়েকে বুঝালো অফিসের একটা প্রোগ্রাম হবে বাড়িতে তাই তার আয়োজন। মোনা চলে যেতে পা বাড়ালো সামনের দিকে। ইমরান তাকিয়ে দেখে মিনহাজ কাজ বুঝাচ্ছে ইভেন্টের লোকদের। সেই সুযোগে খ*প করে মোনার হাতটা ধরে বাড়ির পেছন দিকে নিয়ে আসলো।
‘ এসব কি পরে নিচে নেমেছো মোনালিসা?’
‘ আপনার কি সমস্যা? যা ইচ্ছা পরবো’
ইমরান দাঁত খিচে ক্রো*ধ সংযত করে বললো,
‘ এভাবে কথা বলছো কেনো?’
আচমকা ইমরানের গলা টিপে ধরলো মোনালিসা। ইমরান ভ্যা/বা/চে/কা খেয়ে হাতটা ছাড়িয়ে নিলো।
‘ পুতুলের হাত দিয়ে ড্রাগনকে মা*রা*র চেষ্টা, নট বেড। কিন্তু এই রূপ অ/ত/র্কি/ত আ*ক্র*ম*ণ এর কারণ জানতে চাচ্ছি।’
‘ ফোন দিয়েছি অনেকবার মালয়েশিয়া যাওয়ার পর, ব্যাক করেছিলেন??’
‘ রাগ হয়েছে?’
‘ খবরদার কাছে আসবেন না। বিকাশ আসবে আজ। রিং পরিয়ে দিব আমি। ও তো দিনে পাঁচ বার ফোন দেয়। গুড মর্নিং কি*সি পাঠায়। হি ইজ মোর মোর বেটার দেন ইউ।’
ইমরান বিস্মিত, চমকিত,বড় বড় অক্ষি মেলে তাকিয়ে আছে। বাহ নতুন রূপ প্রেয়সীর। বাচ্চা মেয়ের সাথে প্রেম করে মজা আছে। নিজের মত গড়ে তোলা যায়। আচ্ছা আমি কি প্রেম করছি? ছিঃ কি বলছি এসব? অবাধ্য মন সামলানো দায়। কিন্তু এত অল্পতেই মেজাজ তিরিক্ষি হয় এই মেয়ের কেনো?
মোনার চলে যাওয়া দেখছে।হেলে দুলে বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়লো।
সন্ধ্যা হতেই পুরো বাড়িতে আলোর রোশনাই। স্লো মিউজিক চলছে। সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। অফিসের লোকজন সবাই এসেছে। সবার হাতে সফট ড্রিংকস। কালো জামদানী পরে ওয়েস্টার্ন খোপা করেছে মোনা। চুলে লাগিয়েছে সাদা বেলীর গাজরা। ঠোঁটে মভ পিংক কালার লিপস্টিক। রূপবতীর সব রূপ একসাথ হয়েছে আজ। চোখে টানা কাজল। আজ চয়ন এসেছে। মোনা ফোন দিয়ে চয়নকে ইনভাইট করেছে। চয়ন মোনার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে বললো,
‘ মোনা তোর এত রূপ কোথায় রেখেছিলি?’
‘ মজা কম কর,যাকে ব শ করতে চাই তাকে তো পারিনা।কি করবো এত রূপ দিয়ে।’
চয়ন বড় একটা শ্বাস ফেলে মোনার দিকে হতাশার চোখে তাকায়।
‘ মোনা তুই তো জানিস ভাইয়া একটু কা*টখো*ট্টা টাইপ। তবে আজ সে ফি/দা/হ হবেই।’
‘ আমি লোকটার উপর রাগ করতে পারিনা কেনো চয়ন বলতো?’
‘ তুই এমন একজনকে ভালোবেসেছিস যে ম্যাচিউর। তোকে রাগার সুযোগ উনি দেয় নাকি। উনার ভালোবাসা আমাদের মত এক্সপ্রেসিভ নয়।’
‘ চল নিচে গিয়ে দেখি আমার হিরো এলো কিনা?’
দুজনই হেসে বেরিয়ে বাগানে চলে এলো। মোনা এবং চয়ন মিনহাজের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। নয়ন এবং মিনহাজ কথা বলছিলো। অকস্মাৎ দুইটা গাড়ি ঢুকছে গেট দিয়ে। একটা ইমরান শরীফের সেই কালো মার্সিডিস বেনজ-জি-ক্লাস। অপরটা বুঝা যাচ্ছে না। প্রথমে সাদা গাড়ি থেকে দুজন মহিলা, একটা বাচ্চা এবং সোহান ভাই নেমে এলো। বুঝা গেলো ইমরানের পরিবারের লোকজন।পরের গাড়ি থেকে দুজন শক্ত বলিষ্ঠ দেহের লোক নেমে পেছনের দরজা খুলে দিলো। এরা ইমরানের বডিগার্ড। পেছন থেকে প্রথমে একটা বাচ্চা ছেলে নেমে এলো,বয়স দেখে আন্দাজ করা যাচ্ছে না। এরপর ইমরান শরীফ নামলো। ছেলে উনার হাত ধরে আছে। তামাটে শ্যাম বর্ণের ইমরান সাহেব আজ গ্রে কালার স্যুট, প্যান্ট,কালো শার্ট পরেছে। হাতে সিলভার চেইন এর ঘড়িটা যেটা মোনা গিফট করেছে, চোখে ব্রাউন সানগ্লাস। মহিলারা কেমন তাকিয়ে আছে। সবাই সামনের দিকে এগিয়ে এসে মিনহাজের সামনে আসলো। মিনহাজ সাদা গাড়ির মহিলাকে সালাম দিলো। এগিয়ে নিয়ে এসে মোনার সাথে পরিচয় করিয়ে বললো,
‘ আপা আমার মেয়ে মোনা। মোনা উনি ইমরানের বড় আপা।’
‘ আসসালামু আলাইকুম।’
আইরিন মোনাকে জড়িয়ে ধরে বললো,
‘ কেমন আছো মোনা? তুমি তো মাশাল্লাহ মাইশার কপি পুরো।পুতুল একটা।’
সবার সাথে পরিচিতি শেষ হলো। এতক্ষনে বুঝতে পারলো ইমরানের সাথে ছেলেটা ইশান। ইমরানের একমাত্র ছেলে। বাবার মতই লম্বা।কেউ দেখলে বুঝবে না ইমরানের এত বড় একটা ছেলে আছে, দেখতে তো মোনার মতই মনে হয়। বাপরে এই ছেলে মোনাকে কি মা ডাকবে!! মোনার হাসি আসলো। এরমধ্যে ইমরান এসে উপস্থিত। সে একটু দূরে ছিলো এতক্ষন। মোনার হাসি দেখে এগিয়ে এসে বললো,
‘ কি ব্যাপার মোনালিসা এত খুশি কেনো?’
ইমরানের দিকে আরেকবার তাকাতেই মোনার মনে হলো এই বুঝি হার্ট ব্রে/ক হবে। চয়ন মিট মিট করে হাসছে। বিট বেড়ে যাচ্ছে। মাথা ভনভন করছে। ক্রাশ শব্দটা মোনার অপছন্দের। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে ইমরানের চেহারায়,সাজে একটা মাতাল মাতাল ভাব। সে তো এই ভাবে ইমরানকে দেখেই মাতাল হয়ে যাচ্ছে। মোনার শ্বাস নেয়ার গতি ক্রমশ বাড়ছে। চয়নের ধাক্কায় সৎবিৎ পেয়ে মোনা বললো,
‘ আজ বিকাশ আসছে,তাই আমি অনেক খুশি।’
কথাটা বলেই মোনা চয়নের হাত ধরে সামনে থেকে চলে গেলো। সাথে ইশানকে নিয়ে গেলো। মিনহাজের দিকে তাকিয়ে ইমরান বললো,
‘ ও কি বললো,বিকাশ আসবে বলে ও খুশি!! এ ও কি সম্ভব?’
‘ হয়তো বিকাশের সাথে ফ্রি হয়েছে। ভাবছি সুযোগ থাকলে রিং টা আজ পরিয়ে দিতে বলব। এভাবে আর কত?’ কি বলিস?’
‘ আজ থাক।এঞ্জয় করতে দাও।’
মিনহাজ ইমরানের কথায় সায় দিয়ে মাথা নাড়লো। এক পলক ইমরান এর দিকে তাকিয়ে বললো,
‘ যেভাবে সেজে এসেছিস, ভাবছি এখানে কোনো মেয়ে দেখে তোর বিয়েটা পড়িয়ে দিব। কে বলবে চল্লিশে পা দিয়েছিস?’
‘ছেলের বউ দেখো আমার? আমার কথা পরে ভাববে। হঠাৎ একদিন চ!ম!কে দিব।’
‘ ওয়েটিং টু সি ইউ এজ আ গ্রুম’।
টেবিলে বসে ইমরান,মিনহাজ এবং নয়ন আলোচনা করছে বিজনেস নিয়ে।বানিজ্যমন্ত্রী এসেছেন। উনার আপ্যায়নে কোনো ত্রু*টি রাখা হয় নি। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে কালো জামদানী পরা সেই রহস্যময়ী মোনালিসা বিকাশের সাথে হাত নাড়িয়ে বিভিন্ন অঙ্গ ভঙ্গিতে কথা বলছে। ইমরানের সাথে চোখাচোখি হওয়াতে মেয়েটা ইচ্ছে করে আরো বেশি হেসে কথা বলছে। কিছুটা রা*গ হলো ইমরানের, পরক্ষনে নিজেকে সংযত করে আবার মিটিং এ মনোযোগ দিলো। কিছুক্ষন পর মন্ত্রী চলে যায়। ইশান বাড়ির ভেতর দৌঁড়ে এসে বলল, মোনা আন্টির হাত কে*টে গিয়েছে। এই নিউজ পেয়ে কারো মাথাই ঠিক ছিলোনা। মোনার হাত থেকে
গ!ল!গ!ল করে র*ক্ত যাচ্ছে। এত র*ক্ত একসাথে দেখে মিনহাজের মাথা ঘুরে গেলো। পড়ে যেতে নিলে নয়ন ঝাপটে ধরে। বিকাশ পানি দিচ্ছে। ইমরান গিয়ে মোনার হাত ধরে ওকে কাছে টেনে বসালো। ড্রেসিং করে ব্যান্ডেজ করে দিলো। কিছুক্ষন আগে ইলেক্ট্রিসিটি চলে গিয়েছিল তখনই অন্ধকারে মোনার হাত দরজার মেটালের হাতলে লেগে কে*টে যায়। পরিবেশ কিছুটা শান্ত করলো ইমরান। সবাইকে খাবার খাওয়ার জন্য জো*র করে বসায়। মিনহাজ মেয়ের কিছু হলে অল্পতেই অ*সু*স্থ হয়ে যায়। পাশে মোনাকে বসিয়ে খাইয়ে দিতে লাগলো, ইমরানের দিকে তাকিয়ে বললো,
‘ ইমরান আমার মাথা ঘুরছে।’
‘ নিজের টা খাও।আমি মোনালিসাকে খাইয়ে দিচ্ছি।’
মিনহাজকে নিজের চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে,নিজে উঠে মিনহাজের চেয়ারে বসলো। ইমরান ভাত মাখিয়ে মোনাকে খাইয়ে দিতে শুরু করলো। উপস্থিত সবাই বিস্মিত নয়নে চেয়ে আছে। ইশান ছাড়া ইমরান কখনো কাউকে খাইয়ে দেয় নি। মায়া একটু খোঁচা দিলো ইমরানকে,
‘ ইমরান ভাই আমাদের ও হাত কাটা উচিত ছিলো,তাহলে আপনার হাতে খাওয়ার সুযোগ হত।’
‘ মায়া আমি তো সবাইকে খাওয়াই না।’
মোনাকে ধমক দিলো সবজি খেতে আনবান করাতে,
‘ মোনালিসা হা করো,আমার ক্ষুধা পেয়েছে। তুমি দেরী করলে আমার ও দেরী হবে।’
মোনা খেতে গিয়ে ইচ্ছে করে ইমরানের আঙ্গুলে কামড় দিলো। আচমকা ব্যা*থা লাগায় ইমরান আর্তনাদ করতে যেয়েও করেনি। মুচকি হাসি দিলো। বুঝতে পারছে তার ছোট্ট প্রেয়সী নিজের রা*গ তুলছে। এভাবে যতবার মুখে খাবার দিচ্ছে ততবার কামড় দিচ্ছে। ইমরানের নিরবতা আর হাসি মোনাকে ভাবাচ্ছে। তাই মোনা কামড় দেয়া বন্ধ করে দেয় । এরমধ্যে খাবার শেষ।
‘গো মোনালিসা,টেক রেস্ট।’
‘ইমরান ভাই তো ভালোই মেয়েদের কেয়ার করতে পারেন।’
এবার খোঁচা টা সালমা দিলো।
‘আমার ঘরে কি মেয়ের অভাব পড়েছে যে মেয়েদের কেয়ার করতে পারবোনা সালমা। সামান্তা,তুশি, আপা,কাঁকন ছিলো। উলটো এটা বলতে পারি তোমরা কেউই মেয়ের কেয়ার জানোনা। আমার জায়গায় তোমাদের উচিত ছিলো ওকে খাইয়ে দেয়া। মা হওয়ার জন্য বেসিক কিছু গুণ থাকা লাগে।’
স্পষ্ট মা না হওয়ার খোঁচা পেয়ে সালমা আক্রমণ করলো,
‘ কাঁকন ও তো মা,কি গুণ ছিলো?’
‘জন্ম দিলেই মা হয়না, আবার জন্ম না দিয়েও মা হওয়া যায়। ১০ মাস পেটে তো সব মেয়েই ধরতে পারে।সন্তান লালন পালনের অভিজ্ঞতা আমার তোমাদের চাইতে অনেক বেশি।’
মনসুর সালমাকে ধমক দিলে চুপ হয়ে যায়। খাওয়া শেষে ইমরান বাগানের দিকে চলে যায়।
ইমরান তখন থেকে বাগানের পেছনে এসে সি/গা/রে/ট ফুঁকছে। বুকের ভেতর জ্ব*ল*ছে। একটাই প্রার্থনা। আজ কোনো অ*ঘ*ট*ন সে চায় না। না বুঝে একটা বড় বোকামি করে ফেলেছে। সে জানতো না বিজনেস ক্লায়েন্টদের একজনের পার্টনার অনাকাঙ্ক্ষিত কেউ। দূর থেকে বার বার চোখ যাচ্ছে তার দেখা অনিন্দ্য সুন্দরীর দিকে। প্রথম ভালোবাসা কাঁকন ছিলো অপরূপা। কিন্তু মোনা অনিন্দ্য। কালো শাড়িতে এই মেয়েকে মনে হচ্ছে রহস্যময়ী রানী। এই রূপে সে অতি সহজেই ইমরানকে ঘা!য়ে!ল করতে পারবে। চোখ দুটো যেন ভ!স্ম হয়ে যাচ্ছে।বুকের মাঝে আবার তাকে কাছে টানার তীব্র আকাঙ্খা জন্মেছে। আদো কি পারবে একমাত্র অধিকার নিয়ে মোনাকে বুকে নিতে! যে অধিকার শুধুই তার। ইমরান নিজের চুল নিজে টেনে আরেকটা সি!গা!রে!ট ধরাতে উদ্ধত হলে কেউ একজন পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো। হাতের
সি/গা/রে/ট নিয়ে নিলো নিজের হাতে। ওর হাতের আঙুলে কামড় দেয়া জায়গায় বার কয়েক নিজের অধর ছোঁয়ালো। ইমরান মাথা ঘুরাতেই দেখতে পায় তার মনের রাজ্যের রানীকে। গায়ের মিষ্টি গন্ধটা ইমরানের দেহ আন্দোলিত করলো। আবেশে ইমরান চোখ বন্ধ করে বললো,
‘ মোনালিসা কি মাখো গায়ে।পাগল করে দিচ্ছ তো?’
মোনার খিলখিল করে হাসি ইমরানের ধ্যান ভাঙলো।মোনার হাত থেকে ছুড়ে সি!গা!রে!ট ফেলে দিলো ইমরান।
‘ এভাবে হাসবেনা। হাতের কি অবস্থা এখন? এত কাছে এসেছে কেনো? দূরে যাও। কেউ দেখবে মোনালিসা।’
‘দেখুক, তারপর চিৎকার দিলে বলব, ইমরান শরীফ শুধু আমার,আর আমি তার।’
কিশোরীর উচ্ছলতা ইমরানের বুকে প্রশান্তি এনে দেয়। আজ চেয়েও হাসতে পারছেনা। কারণ ঝড় আসবে। এরপর পরিণতি কি হবে ইমরান নিজেও জানেনা। মোনাকে দূরে সরিয়ে দিলো ইমরান।
বিজনেস ডিল অনেকটা সম্পন্ন হয়েছে। একটা সাইন বাকি। ইমরান ফোন এর দিকে তাকিয়ে আবার সামনে তাকায়। মেসেজে গোটা অক্ষরে লিখা, আমি আসছি। গেট দিয়ে একটা গাড়ি ঢুকছে। গাড়ি থেকে নেমে এলো সেই অপরূপা। একটা গোলাপি ফিনফিনে জর্জেট শাড়ি পরেছে। স্লিভলেস ব্লাউজ। সাদা হাত দৃশ্যমান। মুখে মেক আপ এর স্তর। সব পুরুষের চোখ না চাইতেই সেই রমনীর দিকে যাচ্ছে। ইশান একটু দূরে ছিলো। বাবার পাশে এসে হাত ধরলো। লক্ষ্য করলো বাবা বিড়বিড় করছে। শোনার জন্য সামনে আসতেই শুনলো, ইমরান বলছে,
‘ অসভ্য মহিলা। শরীর ওর কাছে প্রদর্শন করার জিনিস। ছিঃ।’
ইশান বাবার দিকে তাকিয়ে বলে,
‘ পাপা,কি করে এত ভালোবাসলে এই মহিলাকে। আমার তো মা ,তাও তো পারছিনা। ‘
ইমরান ছেলের চোখে ক্রো*ধ দেখে নিজেকে সংযত করে মিষ্টি হাসি দিয়ে বললো,
‘ ইশান এভাবে বলেনা, বাবা।’
কাকন সামনে এসে দাঁড়ালো, আইরিন এর শরীর রা*গে রি রি করছে। সামান্তার ইচ্ছে করছে ক*ষে চ*ড় মা*র*তে। বে/য়া/দ/প মহিলা মামার জীবনটা ন/ষ্ট করেছে। একজন লোক এসে জিগ্যেস করলো,
‘ আপনি তো কাকন ম্যাডাম। কিন্তু আপনি এখানে?’
‘আমি মিসেস ইমরান শরীফ। ‘
তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ১৫
মোনা কাঁকনের দিকে এক পলক চেয়ে ইমরানের দিকে চাইলো। ইমরান কোনো প্রতিবাদ করলো না। হয়তো এখনো ভালোবাসে। চোখ দিয়ে গরম উষ্ণজল পড়ছে মোনার। দু হাতে মুছে লুকানোর চেষ্টা করছে বার বার। ইমরান মোনার দিকে এক পলক চাইলো। মেয়েটার চোখের পানি সহ্য হলোনা। এই অবেলায় কেনো এলো এই মেয়ে জীবনে। ইচ্ছে করছে সকলের সামনে বুকে চেপে ধরি। ওর সুন্দরতম চোখে কিছুতেই নিজের জন্য ঘৃনা মেনে নিতে পারছেনা, ওই চোখ শুধু ইমরানকে ভালোবাসার জন্য থাকবে। কি হবে আজকের পর!! মোনা দূরে চলে যাবে?? এত ভালোবাসার যোগ্য তো সে নয়!!!
