Home তুমি আমার শেষবেলা তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৪০

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৪০

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৪০
নীতি জাহি

একটা কালো মসলিন এর শাড়ি। স্টোন আর জরির কাজ। শাড়িটা পাতলা। হাফ স্লিভ ব্লাউজ। সাধারণত মোনা হাফ স্লিভ পরে না। তবে আজ পরবে। ইমরান সবকিছুতেই আভিজাত্য নিয়ে আসে। জামদানী, কাতান,মসলিন তার কাছে অন্যরকম সৌন্দর্য্য। একটা পার্ল সেট। একটা ওয়াচ। সাথে একটা চিরকুট।
‘ বউসোনা,

এগুলা পরে রেডি থেকো। আমি এসে নিয়ে যাব।’
মোনা ফ্রেশ হয়ে শাড়িটা পরলো। শাড়ি কিছুটা পাতলা হওয়াতে পেটের দিকটা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে এই অবস্থায় বাইরে যাবে কি করে। চুলগুলো ছেড়ে দিয়েছে। সাজার পর মনে হচ্ছে যে কারো চোখ ধাঁধিয়ে যাবে। লক খোলার আওয়াজ পেয়েই বুঝলো ইমরান সাহেব। ইমরান দরজা আটকে মোনার দিকে তাকাতেই থমকে গেলো। চোখের পলক না ফেলেই মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে রইলো। দরজার দিকে দেয়ালটাতে বুকে দু হাত গুঁজে হেলান দিয়ে দাঁড়ালো। এমন নেশাময় দৃষ্টি দেখে মোনা একটু মিইয়ে দাঁড়ায়। মুখ ফুটে বলেই ফেললো,
‘ এভাবে বাইরে যাবো কি করে ইমরান সাহেব’।
‘কোলে করে।’

মোনা দু অধর আলগা হয়ে গেলো। হা সদৃশ মুখ করে তাকিয়ে আছে।
‘ বাড়িতে আপাতত কেউ নেই।সবাইকে রেস্টুরেন্টে পাঠিয়ে দিয়েছি। এখানে শুধু তুমি আর আমি।’
ইমরান যে মোনার কাছে আসলে নিজেকে এভাবে মেলে ধরে সেটা মোনার অজানা নয়। তবে আজকের সারপ্রাইজ কি তা ভেবে মোনা চিন্তিত। এমন ড্রেস আপে মোনাকে ইমরান কোথায় নিয়ে যাবে তাই ভাবছে। অকস্মাৎ নিজেকে শূণ্যে ভাসমান আবিষ্কার করলো। মোনাকে পাঁজকোলা করে ইমরান সিড়ি দিয়ে নামছে। মোনা ইমরানের গলা জড়িয়ে ধরে আছে।
‘ কোথায় যাচ্ছি আমরা।’
‘ ইমরানের স্বর্গে।’

মোনা মুগ্ধ হয়ে ইমরানের দিকে তাকিয়ে আছে। ইমরান মুচকি মুচকি হাসছে। হাসি দেখে মোনার লজ্জ্বা আরো বেড়ে যাচ্ছে। এমন সময় ইমরান বলে উঠলো,
‘ মিনহাজ ভাইয়ের বাচ্চাটা দুষ্টু, বাঁদর জানতাম কিন্তু লজ্জাবতী তা তো জানতাম না। স্পষ্টবাদী মেয়েটা হুট করে লাজুক হলো কি করে?’
মোনা ইমরানের বুকে মুখ লুকায়। আসলেই আজকে তার লজ্জা পাওয়ার দিন। ওয়েস্টার্ন, ট্রেডিশনাল সব ধরনের পোশাকের অভিজ্ঞতা থাকলেও নিজেকে এভাবে কখনো প্রকাশ করেনি ইমরানের সামনে। কেনো লজ্জা পাচ্ছে জানে না।
গাড়ির দরজা খুলে মোনাকে বসিয়ে নিজেও ড্রাইভিং সিটে বসে ইমরান। এক টানে মোনাকে কোলে বসিয়ে গাড়ি স্টার্ট দেয়। মোনা নিষ্পলক চেয়ে আছে। ধ্যান ভেঙ্গে যায় ইমরানের আওয়াজে,

‘ আজ আমার শ্বশুরমশাইয়ের মেয়ের কি হয়েছে,সে শুধু আমাকেই দেখে যাচ্ছে।’
‘দেখার জিনিস সামনে থাকলে না দেখে কি চোখ বন্ধ করে থাকবো।’
ঠোঁটের কোনে ভুবন মাতানো রঙিন হাসি কড়কড়ে শ্যামকৃষ্ণ পুরুষের। কথা বলতে বলতে কখন যে গন্তব্য স্থানে চলে এসেছে মোনা বুঝতেই পারেনি। চারদিকে সুনশান নিরবতা। ইমরান মোনাকে নিয়ে বের হয়। সামনে একটা রেস্টুরেন্ট। ঝলঝল করে চারদিকে বাতি জ্বলছে। ঢাকা শহরে জঙ্গল পাওয়া অনেক কঠিন ব্যাপার। এত অল্প সময়ের মধ্যে তো ঢাকার বাইরে আসার সম্ভাবনাই কম। হয়তো ঢাকার ভেতরই আছে এমন সুন্দর মনোরম গাছে ঘেরা জায়গা। মোনার আঁচল টা ইমরান ঘাড়ে তুলে দিলো।
‘ মোনালিসার সৌন্দর্য্য শুধু তার ইমরানই দেখবে। আপাতত আঁচল টা এভাবে রাখুন ম্যাডাম।’
রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার সম্ভবত এগিয়ে আসলেন।
‘ গুড ইভিনিং স্যার,গুড ইভিনিং ম্যাডাম।’
‘ মাসুদ কাজ শেষ হয়েছে?’
‘জ্বি স্যার। আপনারা উপরে চলে যান।’

মোনা রুমজুড়ে পায়চারি করছে। আধ ঘন্টা আগে ইমরান তাকে কোলে নিয়ে এই বিলাশবহুল কামরাতে রেখে অপেক্ষা করতে বলে চলে গেলো। রুমের বারান্দা থেকে মনে হয় পুরো ক্লান্ত,পরিশ্রান্ত ঢাকা নগরীকে দেখা যায়। রাতের ঢাকা হুতুম পেঁচার মতোই নিরব। মোনা আকাশের তারা গুনছে। আজ আকাশে এত তারা কেনো। আজ কি তবে পূর্নিমা! আচ্ছা পূর্নিমা রাত কেমন হয়? আকাশে চাঁদটা জ্বলজ্বল করছে। কোনাকুনি চাঁদ টা চারদিকে জোৎস্না বিচ্ছুরণ করছে। ঠান্ডা কোমল হাওয়া মোনার শরীর জুড়িয়ে দিল। বাম গালে ঠান্ডা হাতের স্পর্শ পেয়ে শরীর শিহরিত হলো। এই স্পর্শ মোনার পরিচিত। চোখ দুটো আপনা আপনি বুৃঁজে গেলো। চোখ না খুলেই মোনা দু অধরে উচ্চারণ করলো,

‘ ইমরান সাহেব’
‘ ইম্প্রেসিভ। স্পর্শেই জাদু।’
‘ উহু,দুটোতেই জাদু। মাতাল মাতাল সুগন্ধ আর ঠান্ডা শিহরিত স্পর্শ।’
‘ এত প্রেম’
‘সে তো প্রথম দিন থেকেই।’
‘ এভাবেই তো মে*রে* ফে*লে*ছে*ন ইমরানকে। এখানে নিশ্চুপ একা দাঁড়িয়ে কি আমাকে মিস করা হচ্ছিলো?’
‘ উহু,কারো অনুভূতি জাগানো ভালোবাসাময় মুহুর্তগুলোর স্মৃতিচারন হচ্ছিলো।’
‘ পাক্কা লিটারেচার সউল’
‘ আপনার’
মোনা এবার ইমরানের দিকে ঘুরে ওর দু হাত ইমরানের কাঁধে রেখে গলা জড়িয়ে ধরলো। ইমরান ক্ষীন হাসছে তবে তার রাজ্য শাসন করা মস্তক নত। মোনার দিকে না তাকিয়েই বললো,
‘ আপনার মনের সকল রকম সন্দেহের আজ অবসান ঘটানোর সময় এসেছে মিসেস ইমরান শরীফ খান। প্রশ্ন করতে পারেন মহারাজ আজ তার মহারানীর সামনে নিজেকে মেলে ধরবে।’

‘ কিভাবে পড়ে ফেলেন আমার মনটাকে?’
‘মনটার মালিক যে আমি।যেখানে শুধু আমারই বাস’
খুব ভালো ফ্লার্ট করতে পারে এই লোক। যেদিন তাদের প্রথম প্রণয়ে মোনার কিছু প্রশ্নের উত্তর ইমরান করেনি।বলেছিলো সময় হলেই করবে।আজ সময় এসেছে। মোনাকে নিয়ে রুমে ঢুকে ইমরান। মোনা লক্ষ্য করলো পুরো রুম সেই রাতেই মতো ক্যান্ডেলে সাজানো। সামনে একটা কেক। তাতে লিখা,
” HAPPY BEGINNING ”

সেখানে ইমরান এবং মোনার ছবি। মোনা ইমরানের মালা বদলের ছবিটা যেটাতে ইমরান মাথা ঝুঁকে ছিলো। এই ছবিটা কখন উঠানো হলো। সেদিন তো ইশান অনেক ভিডিও করেছে হয়তো তখনই। দুজন মিলে কেকটা কে*টে একে অপরকে খাইয়ে দিলো। এর মধ্যে ইমরান সাংঘাতিক এক কাজ করে বসলো। মোনার গালে কেক লাগিয়ে দিলো। অধর স্পর্শ করলো কেকের জায়গায়। মোনার হার্টবিট ফাস্ট। এবার মোনাকে ডেইরি মিল্ক খাইয়ে দিয়ে মোনার মুখ থেকেই খেলো। মোনার লাজে রাঙা নেতিয়ে যাওয়া মুখ তুলে বলে,
‘ আই লাইক টু ইট চকলেট স্টাফ ফ্রম ইউর লিপ্স এন্ড চকলেট গার্ল এজ ওয়েল।’
নতুন ইমরান তার সামনে আজ। তার কাজ দেখলে কেউই বলবেনা মধ্য বয়স। এত পটুভাবে মেয়ে পটানোর জন্য খুব ভালো এক্সপিরিয়েন্স না থাকলে ও খুব ভালো প্রেমিক পুরুষ হতে হয়। রাত টা তাদের দুষ্টুমিতেই কাটছিলো। ইমরান মোনাকে বুকে টেনে নিয়ে বলে উঠলো,
‘ যা যা জানার আছে জেনে নাও আজই। আর সুযোগ দিব না পুরোনো কথা জানার।’
মোনার মনের প্রশ্ন গুলো আজ সে করবেই। এই সুযোগ মিস করবে না।
‘ আমাদের বিয়ের দিন বিকালে আপনি ইতালি চলে যাওয়ার কথা ছিলো। তাহলে আমাদের বাড়িতে কেন গিয়েছিলেন?’

‘ বিয়ে করতে’
মোনা হতবাক হয়ে পলক না ফেলে ইমরানের দিকে চেয়ে আছে। ইমরানের ঠোঁটের কোনে লেগে থাকা দুষ্টু হাসিটাই বলে দিচ্ছে সেদিন ইমরান বিয়ের পূর্বপ্রস্তুতি নিয়েই গিয়েছিল। এই লোক তো মহাধড়িবাজ। নিজেই বললো বিয়ে করবেনা অথচ সে প্রস্তুত ছিলো। ইমরানের ডাকে মোনার সৎবিৎ ফিরে পায়।
‘ মোনালিসা গো এহেড’
‘আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন আমি আপনার কাভার্ড এ একটা রিভলবার দেখেছি। আপনি কি কোনো মাফিয়া? কাউকে কি কখনো খু*ন করেছেন। যদিও জানি একটা দুটো রিভলবার থাকা কোনো ব্যাপারই না আপনার কাছে। যার বিজনেসই ওয়েপন নিয়ে তাকে এই প্রশ্ন করা অবান্তর।জানি অন্যায় কাজ করেন না তাও আমি চাই না সন্দেহ থাকুক।’

ইমরান ভ্রু কুচকে নিজেকে সংযত করলো।ভাবছে ঠিক কতটা সত্যি বলা যায় এই নারীকে। মনের তাড়না বার বার তাড়া দিচ্ছে মোনালিসা তোর একান্ত সম্পদ।তাকে তুই সব বলতে পারিস ইমরান।
‘ মোনালিসা তুমি অনেক ছোট এসব কথা থাক’
‘ না সব জানতে চাই’
ইমরান দম ছেড়ে বলে,
‘ খু*ন করিনি একটাও তবে শ্যুট করেছি, হাত পা কে*টে দিয়েছি, ভেঙ্গে দিয়েছি।’
‘ কিহ?? কেনো?
‘ রেপ, টিজিং, সিডিউজের মত অপরাধ করলে তাদের শাস্তি তো ভয়ানক হতেই হবে তাই না। ‘
‘ তার মানে মুজিব স্যারকে আপনি…’
‘ হ্যাঁ আমিই তোমার ভার্সিটির সেই জা*নো*য়া*র টিচার এর পঙ্গুত্বের জন্য দায়ী। জানে মে*রে দিতাম।ইশতিয়াকের জন্য পারিনি। ‘
‘ আমি যখন ভার্সিটিতে ভর্তি হই আপনি তো ইতালি ছিলেন।’
‘ এটা লাস্ট প্রশ্ন। এরপর আর কোনো এন্সার দিব না। আমি চাই না রাত টা নষ্ট হোক। তুমি কি এগ্রি করছো?’
মোনা উপর নিচ মাথা নাড়লো।
‘ তুমি ভর্তি হওয়াতে দু মাস পর পর দেশে আসতাম। আমার সিকিউরিটি ফোর্স তোমাকে ইমরানের নিরাপত্তার চারদেয়ালে বন্ধি রাখতো।’
মোনা নির্বাক। বিস্ময়ের চরম পর্যায়ে। এর কোনো মানে হয়। মোনা তো জানতো ইমরানের মোনার প্রতি টান থাকলে ও কখনো তা প্রকাশ করেনি বা ওভাবে ফিল করেনি কিন্তু..

‘একটা প্রশ্ন করি এই শেষ ‘
‘হুম’
‘ঔশান কে?’
‘ আমাদের মেয়ে যে তোমার গর্ভে জন্ম নিবে।’
মোনার শ্বাস আটকে আসছে। মোনা এতদিন যা পাগলামি করেছে ইমরানকে পেতে তার তিন ভাগের এক ভাগ ও ইমরানের মধ্যে দেখতে পায় নি। মেয়ের নাম কিভাবে ঠিক করলো।এই বাড়ি তো অনেক আগে করা। আর মোনার সাথে সম্পর্ক তো অল্প কয়েক বছর। কিভাবে সম্ভব!!!
‘ মানে কি?’
‘ বাড়ির নাম আগে দিয়েছি শখ করে, ইচ্ছে ছিলো একটা মেয়ে হবে আমার। তোমার প্রেমে পড়ার পর কনফার্ম করেছি আমাদের মেয়ের নামই ঔশান হবে।’
মোনা নির্বাক, নিস্তব্ধ, নিশ্চুপ।
‘ মোনালিসা তুমি কি জানো আজ তোমাকে বড্ড পরিণত লাগছে!!’
‘ শাড়িটা আপনি নিয়েছেন?’
ইমরান অধর প্রসারিত হাসি দেয়।

‘ পছন্দ হয়েছে?’
‘ পেট দেখা যাচ্ছে।’
‘ আমার সামনেই তো’
ইমরানের ঘোর লাগানো অক্ষি মোনার মাথা আরো নত করে দিয়েছে। ইচ্ছে করছে মানুষটাকে সামনে থেকে সরিয়ে দিয়ে দরজা লাগিয়ে শুয়ে পড়ি। এভাবে তাকিয়ে আছে কেনো। উফফ লজ্জা দেওয়ার জন্য সেরা এই মানুষটা।
‘ এভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো?’
‘ সামনে মধু, মৌমাছির কি দোষ?’
ইমরান মোনাকে পাজকোলে উঠিয়ে নিয়ে খাটে শুইয়ে দেয়। এই রজনীও স্বাক্ষী তাদের পরিণত প্রনয়ের। সকল বাঁধা পেরিয়ে কিছু একান্ত সময় তাদের নামেই লিখা থাকুক।

থমথমে মুখে বসে আছে নয়ন। কাঁচুমাঁচু করছে আধ ঘন্টা ধরে। আইরিন,রিক্তা,তুশি সহ মেয়েরা গল্প করছে। ইশতিয়াক রাজ্যের আলোচনা নিয়ে বসেছে। কোথায় কি হলো না হলো,কয়জন আসামী ধরলো। মিনহাজ ইশতিয়াকের কথা মন দিয়ে শুনছে। ইমরান আজ ফ্যামিলি গেট টুগেদার এর আয়োজন করে দিয়েছে ঠিকই কিন্তু নিজেই লা পাত্তা। নয়ন মুখে বিরক্তিকর শব্দ করে এবার খেটখেটে গলায় বললো,
‘ সোহান তোর মামা কি আসবেনা আজকে? ক্ষুধা লাগছে আমার। ওরা খানা দেয় না কেন? আর ইশতিয়াকের বাচ্চা কি শুরু করছিস সেই তখন থেইক্কা।থানা বানায় ফেলছে রেস্টুরেন্ট টারে।’
বড় ভাই সমতুল্য লোকের কাছ থেকে এহেন সম্বোধন পেয়ে ইশতিয়াক তেঁতেঁ উঠলো।
‘ নয়ন ভাই তুমি আমারে এত ইনসাল্ট কইরা কি মজা পাও। হুদ্দাই আমার পিছে লাগো।’
‘ তুই হইলি ঘুষখোর, কেমনে ভাঙায় খাইতে পারোস ওই ধান্দায় থাকোস। তোর লগে আবার সুন্দর কথা কিসের।’

নয়ন ও মজা পায় ইশতিয়াককে ক্ষেপিয়ে। ইশতিয়াক ও জানে নয়ন মজা করে বলছে। এই মানুষ টা একদম স্বচ্ছ মনের। এদের দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক মিনহাজ থামায়।
‘ নয়ন তুই কি বাচ্চা, তুই ওরে এগুলা কি বলোস?’
‘ আমার মাথা খারাপ হচ্ছে। এতক্ষন ধইরা বসে আছি ইমরান কই।’
ইশান এসে নয়নের পাশে বসে মুচকি মুচকি হাসছে।নয়নের ধমকে হাসি থামিয়ে বলে,
‘ চাচ্চু পাপা তো মাকে নিয়ে ঘুরতে গিয়েছে। আহারে চাচ্চু তোমাকে নিয়ে পাপা আর কোথাও যাবে না। এখন থেকে পাপার পার্টনার মা।’

‘ কি দিন আইলো পোলাও মজা নেয়। তোর বাপের মত তুই ও একটা বিটকেল। তাও ভালো ব্যাটা রোমান্টিক হচ্ছে। কিন্তু ও আমারে কইলোনা কেনো মিনহাজ ভাই? তুমি ও জানতা??’
‘ তোরে বললে তুই আমার মেয়ের জামাই মানইজ্জত রাস্তায় রাস্তায় করতি। তাই তোরে বলে নাই। তোর কি মুখের লাগাম আছে।’

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৩৯

‘আহ আইছে ভদ্র। মুখ খুলাইও না। তোমার কাছ থেকে শিখছি।’
খাবার শেষ করে সবাই মিলে উঠে যাওয়ার জন্য নিচে নেমে আসে। তখনই নয়নের ফোনে মেসেজ আসে,
‘ Imran is no more. Save mona.come to nightingale Inn.’

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৪১