তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৩৯
নীতি জাহি
ডাইনিং এ আজ গল্পের আসর। সবাই মিলে খেতে বসেছে। ডেজার্ট টেস্ট করবে সবাই। অনেকটা সময় অতিবাহিত হয়েছে নাস্তার টেবিলে। ইমরান প্রতিদিনের মত কফি খেয়ে জগিং এ চলে গিয়েছে। টেবিলে ডেজার্ট চলে এসেছে। ঘরের সদর দরজা দিয়ে ঢুকতেই আইরিনের ডাক পড়লো,
‘ ইমন উপরে পরে যাস,খেয়ে যা।’
‘ না আপা তোমরা খাও,আমি ফ্রেশ হয়ে আসি।’
‘আরেহ আয় পরে ফ্রেশ হ, আজ মোনা পায়েশ করেছে। আমি সালমার কাছে শুনেছি মোনার হাতের পায়েশ এবং ফ্রুট সালাদ নাকি ওই বাড়িতে সবার অনেক পছন্দ।’
ইমরান মুচকি একটা হাসি দিয়ে টেবিলের সামনে এসে দাঁড়ালো। মনে মনে ভাবলো মোনা রাঁধতে ও পারে। এই মেয়ে টা আর কত ভাবে তাকে মুগ্ধ করবে। ইমরান বেসিনে চলে গিয়েছে হাত মুখ ধুতে। আইরিন ফিসফিস করে মাশফি,নওশীন,নকিব,সুরাইয়াদের বলছে,
‘ ইমন পুরাই বউ পাগল হয়ে গেছে দেখছোস, প্রথমে ডাকলাম শুনলোনা। যেইনা বললাম বউ রানছে কি সুন্দর হাত ধুতে গেছে।’
‘ কেন ফুফু আম্মা আপনি চান না চাচাজান এমন থাকুক?’
মাশফির কথায় আইরিন মুচকি হেসে ইমরানের প্লেটে খাবার বাড়তে বাড়তে বলে,
‘ ওরে বশ করার জন্য মোনারে দুই বেলা ডোজ দিই আমি। আর তোরা বলোস আমি খুশিনা? ভাই যে আমার এই বয়সে বউয়ের পিছে পিছে ঘুরবে সেটাই তো কল্পনাতীত ছিলো।আমি তো চাই বউ এর আঁচলের তলায় থাকুক।’
ইমরান চেয়ার টেনে বসলো। এর মধ্যে মোনা হাতে ডেজার্ট এর বাটি এবং সালাদের বাটি নিয়ে ডাইনিং সামনে এসে বসলো। ইমরানের খাবারের চার্ট সম্পর্কে মোনা এখনো জানে না। সকালের নাস্তায় বেশিরভাগ সময় ব্রেড আর ব্ল্যাক কফি, ফ্রেশ ফ্রুটস খেতে দেখেছে৷ ইমরান ব্রেড টা কামড় দিয়ে ব্ল্যাক কফিটা চুমুক দিয়ে খেলো। ইমরান চিনি খায়না। গত ১৪ বছর ওকে কেউ চিনি খেতে দেখেনি। পায়েশে চিনি থাকে। খাবে কিনা ভাবছে। খাবারের ব্যাপারে ইমরান অনেক সচেতন। বাইরেও খুব একটা খায় না। বাড়িতে যে শেফ আছে সে চার্ট করে খাবার করে দেয়। আইরিং শুধু ইন্সট্রাকশন দেয়। সবাই অপেক্ষা করছে ইমরান খাবার মুখে তোলার জন্য। সালাদের দিকে তাকিয়ে দেখে অনেক ফ্রুটস,নাটস,হানি,স্পাইস দিয়ে করা এই সালাদ। সাত পাচ না ভেবে মুখে দিলো। ওর খাবার মুখে তোলার পর অন্যরাও মুখে তুললো। সবাই অনেক প্রশংসা করছে। ইমরানের মুখ ভঙ্গি স্বাভাবিক। খাবার শেষ। মোনা একপাশে দাঁড়িয়ে আছে। ইমরান পানি খেয়ে দাঁড়িয়ে বললো,
‘ ভালো হয়েছে, কিন্তু মোনালিসা আমি স্যুগার খাই না।’
মোনার ছলছল করা চোখের দিকে তাকিয়ে ইমরানের আজ সত্যি মনে হলো সে প্রশংসাই করতে পারে না। সিঁড়ির সামনে পা বাড়িয়ে আবার টেবিলের দিকে এগিয়ে এসে তাকিয়ে দেখে সবাই মোনাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে। ইমরানকে দেখে আবার চুপ হয়ে গেলো।
‘ মোনালিসা পায়েশে কি কি দিয়েছিলে?’
‘ চাল,দুধ,চিনি,বাদাম,কিশমিশ, মালাই’
‘আর সালাদে?’
‘আপেল,কমলা,আনার,ড্রাগন,বিটের রস, রোস্টেড নাট,সিয়া সিড…’
‘ওকে স্টপ। চিনি না দিয়ে এই পায়েশ করা যাবে?’
‘যাবে।
‘তাহলে যদি সম্ভব হয় আমি এই পায়েশ সপ্তাহে তিনদিন টেস্ট করতে চাই,তবে চিনি ছাড়া প্লিজ। আর সালাদ আমার ফুড চার্টে প্রতিদিন রেখে দিও, রোস্টেড নাট নয়।ফ্রেশ দিবে। আমি নিশ্চিত তুমি পায়েশে জাফরান দিয়েছো।’
মোনা মাথা দুলালো।
‘ স্মেলটা ভালো। রুমে এসে গিফট নিয়ে যেও ভালো রান্নার জন্য।’
ইমরান সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলো। মোনা বুকে হাত দিয়ে ধপ করে চেয়ারে বসে পড়লো। দু ফোটা চোখের পানি ফেললো।কেনো ফেললো নিজেও জানে না। সবার সামনে আইরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
‘ আপা, তোমার ভাই এমন কেনো? উনাকে খুশি করা এত কঠিন কেনো?’
‘ ওর মতিগতি মিনিটে চেঞ্জ হয়।ইমরান কারো রান্নায় খুশি হলে গিফট দেয়। সামান্তা,তুশি এবং আমি প্রায়ই পাই।যা যা তাড়াতাড়ি নিয়ে আয় গিফট।’
রহিমা এসে সামনে দাঁড়ায়।
‘আম্মা স্যার আপনেরে উপরে যাইতে কইছে এখনই।’
মোনা ধীর পায়ে উপরে উঠে এলো। মনে আজ খুব কষ্ট পেয়েছে। এই শরীরে উঠে ইমরানের জন্য এই প্রথম খাবার বানিয়েছে। প্রশংসা করতে কেউ এত কিপ্টামী করে জানা ছিলোনা। রুমে ডুকতেই দেখে ইমরান স্যুট বুটে রেডি। মোনা একটু সামনে এগিয়ে গিয়ে দাঁড়াতেই ইমরান নিজে খাটে বসে মোনাকে কোলে তুলে নিলো। ললাটে গভীর চুম্বন দিতে খাটের উপর খাবারের ট্রে থেকে পানির গ্লাসটা উঠিয়ে মুখে তুলে দিলো। মুখে একটা মেডিসিন দিয়ে পানি খাইয়ে দিলো।
‘ খাওনি কেনো টেবিলে আমার সাথে।’
মোনা চুপ করে মাথা নামিয়ে রেখেছে।
‘ এই শরীরে কে বলেছে রান্না করতে? শোয়া থেকে উঠেছো কেন?’
‘কিছু হয়নি আমার।’
‘ কিছু হয়নি মানে?
সারা রাত ঘুমাও নি, মুখের রঙ বিবর্ণ হয়েছে। রাতে বাঁধা দিলাম শুনলেনা, আমাকেও অস্থির,বেসামাল,পাগলাটে করে তুললে। সারা রাত আমার ভালোবাসার অত্যাচার সহ্য করে সকালে রান্না করাটা কি ঠিক হয়েছে? মোনালিসা তুমি কি জানোনা পেইন কিলার খেতে হয়? খেলে না কেনো? তুমি তো অবুঝ নও।’
‘আমি ঠিক আছি।’
‘এত রাগ?’
নিরুত্তর মোনা। একটা বড় নিশ্বাস ফেললো ইমরান,
‘আমি তোমাকে মোটেও বকছিনা ছোট্ট পাখি। তুমি জানো সকালে ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে আমাকে। রাতে তো তোমার হাত পা ছেড়েই দিয়েছিলো।’
‘আপনি কি আমার ড্রেস চেঞ্জ করে দিয়েছেন?’
‘ কেনো আপত্তি আছে তোমার?’
‘নাহ’
‘ থাকলেও করতাম আমি, সালাত তো মিস গিয়েছে সকালের। তোমার কন্ডিশন দেখে আর জাগাই নি। সেন্টার টেবিলের ড্রয়ারে অয়েন্টমেন্ট আছে। বিকেলে লাগিয়ে নিও। সকালে আমি লাগিয়ে দিয়েছি। এখন হা করো আমি খাইয়ে দিচ্ছি সকালের নাস্তা। রান্নাঘরে পা বাড়াবে না। ঘুমাও। যা খাবে আপাকে বলবে খাইয়ে দিতে। রাতে আমি খাইয়ে দিব।’
‘ এই আপনি কোথায় অয়েন্টমেন্ট লাগিয়েছেন?’
‘ আমার মোনালিসার সর্বাঙ্গে যেখানে যেখানে ইমরান আঘাত করেছে। গলায়,বুকে, পেটে,নাভিতে….’
‘ চুপ একদম…. আমাকে নামান আমি খেতে পারবো। প্লিজ।’
‘আই লাভ ইউ মোনালিসা। লজ্জা পেলে তো ভীষণ সুন্দর লাগে।’
অপলক দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে মোনা। মানুষটার ভালোবাসা এত অদ্ভুত কেনো। দু হাত কচলাচ্ছে মোনালিসা। পায়েশ খাইয়ে দিতে দিতে ইমরান মোনালিসার মাথায়, চুলে হাত বুলাচ্ছে। মোনালিসা ইমরানের দুই হাঁটুর উপর কোলে, বুকে মাথা দিয়ে বসে আছে। ইমরানের কোটে আনমনে আকিবুকি করছে আঙ্গুল দিয়ে। খাওয়া শেষ মোনালিসার।
‘ একটা কথা বলি?’
‘হুম’
‘আমাকে ঘুম পাড়িয়ে অফিস যান। আমি আপনার কোলে বুকে ঘুমাবো৷’
ছোট বউ বিয়ে করে ইমরান নিজেও অদ্ভুত আচরন করছে। বাচ্চা কোলে নেয়ার বয়সে সে বউ কোলে নিচ্ছে। মোনার আবদার শুনে অপূর্ণ রাখতে ইচ্ছে হলোনা। মিটিংটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলো,তবে বউ থেকে বেশি নয়। ইমরান মোনাকে কোলে তুলে বড় দোলনায় বসলো। দোলনায় দোল খেতে খেতে চুলে হাত বুলিয়ে দিতেই মোনা ঘুমে মগ্ন। আদুরে বেড়ালছানার মত মোনাকে কোলে নিয়ে দোলনায় বসে আছে। গোল দোলনাটাতে মাঝখানে ইমরান এবং তার কোলে আদুরে বউ বেড়ালকে আরো আদুরে লাগছে। আষ্টেপৃষ্টে ধরেছে ইমরানকে। কাল সারা রাত ইমরান বড্ড জ্বালিয়েছে মোনাকে। মেয়েটা কোনো অভিযোগ করেনি বরং স্বামীর কাছে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছে। দরজা নক করার আওয়াজ। কিন্তু ইমরান উঠছেনা। দুবার আওয়াজ হয়ে থেমে গেলো। ওর উঠতে ইচ্ছে করছেনা। মোনার ঘুম ভেঙে যাবে। পকেট থেকে ফোনটা নিয়ে সেই অবস্থাতেই আইরিনকে ফোন দিলো,
‘ হ্যালো আপা, কে এসেছিলো আমার রুমে। আমি তো রুমে ঝামেলায় আটকে আছি। মোনা ঘুমাচ্ছে। ইশান কিনা দেখোতো?’
‘আমি ছিলাম।’
‘আর্জেন্ট কিছু?’
‘হ্যা তুই একটু ফ্রি হয়ে আয়। খুব দরকার।’
‘দুই ঘন্টার আগে ফ্রি হতে পারবোনা,আমার রুমের এক্সট্রা চাবিটা দিয়ে খুলে ভেতরে আসো।’
পাঁচ মিনিটের মাথায় আইরিন এসে দরজা লাগিয়ে দোলনার কাছে এসেই যা দেখলো চোখ জুড়িয়ে গেলো। ভাই কোলে নিয়ে বউকে বুকে জড়িয়ে ধরে আছে। বউ তার বুকে শরীর গুটিয়ে ঘুমাচ্ছে।
‘এভাবে মেয়েটাকে আগলে রাখিস ইমন। ছোট্ট মেয়ে ভালোবাসারই পাগল।’
‘হুম,কি বলবে বলো?’
‘আম্মার দলিল, আমার কাছে আমানত হিসেবে ছিলো৷’
‘ তো এখানে নিয়ে এসেছো কেনো?’
‘যার জিনিস তাকে বুঝিয়ে দিতে আসছি।’
‘মানে?’
‘ সোহান, সামান্তার অনেক আছে। বাবার,চাচার,মামারা ভরায় দিছিস ওদের। আমি ইশানকেও দিছি। কিন্তু এই গুলশানের জায়গাটা আম্মা আমাকে বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছে একজনের জন্য।’
‘কার জন্য?’
‘আমার ভাস্তির। ভাই রে মোনা একটু স্বাভাবিক হলে আরেকটা বাবু নেয়। ঘরটা হাসি খুশি লাগবে।’
‘ কি বলো আপা। আপা মোনা অনেক ছোট। আর এসব নিয়ে ভাবছিনা এখন আমি। ইশান তো আছেই আমার জন্য। লাগবেনা এসব।ওটা ইতু বা সামান্তাকে দিয়ে দাও।’
‘অসম্ভব, আমি আমানতের খিয়ানত করতে পারবোনা।আম্মার গচ্ছিত আমানত আমি কেনো ইতু বা সামান্তাকে দিব। ইতুর জন্য তুই অনেক রেখেছিস। ইশান না হয় তোর জন্য, কিন্তু মোনার জন্য কি আছে?’
ইমরান ভাবনাদেশে চলে গেলো। কিন্তু এসব ভাব্বে না আপা মাথা এলোমেলো করতেই এসেছে। কিছুক্ষন কথা বলে চলে গেলো আইরিন। পাক্কা দু ঘন্টা পুরিয়ে মোনার ঘুম ভাঙলো। নিজেকে ইমরানের কোলে পেয়ে আরো শক্ত করে ধরলো ইমরানকে। ইমরানের শার্ট এর দুটো বোতাম খুলে লোমশ বুকে মুখ ডুবালো। পাগলী মেয়ে কি করছে। ইমরান মোনার চিকন,পাতলা ঠোঁটে চুমু দিলো।
‘ঘুম হয়েছে বউসোনা?’
‘উহু’
‘ এবার আমি অফিস যাই?’
‘ উহু, আজ যেতে দিব না।’
ঘুম ঘুম গলায় জড়ানো কথা গুলো শুনে ইমরানের মনে হলো মেয়েটাকে এভাবেই কোলে রেখে দিই সারাজীবন। উফ মেয়েদের আল্লাহ এত সুন্দর করে কেনো বানিয়েছেন। আদর আদর লাগে কেনো এত? মাশা আল্লাহর বন্যা বইয়ে দিলেও এদের জন্য কম হবে। ধ্যাত মাথা পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে গিয়েছে ইমরানের। মনে মনে কিসব ভাবছে। ভাবনা ছেড়ে মোনাকে বলে,
‘ বউ সোনা, এমন করেনা। লিটল ফেইরি অনেক কাজ জমেছে গত কয়েকদিনের। রাতে বুকের ভেতর ঢুকিয়ে অনেক আদর করবো।’
‘আমার আদর এখন লাগবে।’
ইমরান কপালে চুমু খেলো।
‘ এই আদর হবে না,চকলেট আদর। রাতের মত। আপনি আমাকে বাইট দিবেন।’
‘বেশি করে খাওয়া দাওয়া করে সুস্থ হও এরপর’
‘কেনো আমি কি অসুস্থ নাকি?’
‘ বোকা মেয়ে। উঠো আজকে মিটিং আছে। বিকেলে রেডি থেকো একজায়গায় নিয়ে যাব।’
‘আগে বলে যান,আমি কি অসুস্থ?’
‘কালকের দাগ এখনো শুকায়নি বউ আমার অস্থির হয়ে গিয়েছে। উঠো’
মোনাকে কোলে থেমে নামিয়ে খাটে বসিয়ে ইমরান আবার রেডি হলো। এই লোকটা একান্ত তার মানুষ। যাই পরে তাতেই ভালো লাগে। এত চুজি।প্রতিটা জিনিস এত সুন্দর করে ম্যানেজ করে। সেই জায়গায় মোনা পুরাই এলোমেলো।
‘ এত সাজার কি আছে?’
‘ অফিসের কর্ণধার আমি, আমি না সাজলে কে সাজবে?’
‘ হুহ,সব মেয়ে পটানোর ধান্দা।’
‘সবাই তোমার মত বেয়াক্কেল,নির্বোধ আর বোকা নয় যে বুড়োতে পাগল হবে।’
‘ তাহসানের বয়স কিন্তু অনেক এরপর ও তো ওর পিছে মেয়েরা ছুটে।’
‘ তাহসান আমার এক বছরের সিনিয়র ব্যাচমেট।’
‘ কিহ??? খবরদার এই কথা কাউকে বলবেন না। কেউ বললে বলবেন আপনার বয়স ৫০। তাই তো বলি এই বয়সে ও কেনো আপনাকে বুড়া লাগে না। আমাদের পাশের বিল্ডিং এর সাফানা ক্লাস এইটে পড়ে। ও তাহসান বলতে অস্থির। এই মেয়ে আপনাকে দেখলে কি করবে? থু থু… কারো নজর যেন না লাগে।’
ইমরান হতবিহ্বল হয়ে মোনাকে দেখছে।
‘তাহলে আমার কিছু ফ্রেন্ডরা তো তোমাকে দেখলে হাইজ্যাক করবে মোনালিসা।’
‘ করলেই হলো,মেইন পয়েন্টে ঢিশুম দিব হাইজ্যাকার এর।’
‘আসতাগফিরুল্লাহ,চুপ করো। কি ভয়ানক তুমি। আমার দেরী হচ্ছে আসি।’
ইমরান বেরিয়ে গেলো কথা না বাড়িয়ে। এই মেয়ে যা নয় তা বলবে এবার। বলে কিনা ক্লাস এইটের মেয়ে নাকি তার জন্য পা*গ*ল হবে। অসম্ভব কিছুনা সে নিজেই ক্লাস এইটে থাকতে ইমরানের জন্য পা*গ*ল হয়েছিলো। চোরের মনে পুলিশ পুলিশ।
মোনা খাটের কোণায় গালে হাত দিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে। খাট কেঁপে ফোন বেজে উঠলো। ফোন হাতড়িয়ে পেলো বালিশের নিচে। চয়নের কল দেখে উত্তেজনায় লাফিয়ে উঠলো। মেয়েটাকে এত করে বলার পর ও আসেনি প্রোগ্রামে। তার কাজিনের বিয়ে ছিলো।
‘ মনে পড়লো তাহলে এতদিনে?’
‘ মনু রাগ করিস না, গ্রামের বিয়ে বুঝোসই তো। না গেলে অনেক কথা বলতো।’
‘ বুঝছি বুঝছি এখন আমার বাড়িতে কবে আসবি বল।’
‘ কালকে ভার্সিটি আসবিনা?’
‘দেখি উনাকে জিগ্যেস করি।’
‘ আচ্ছা,জানাস। অনেক কথা আছে। ক্যাম্পাস থেকে তোর বাসায় গিয়ে থাকবো একদিন। আম্মু ডাকছে,পরে কথা বলব। ‘
‘আচ্ছা’
কথা শেষ করে মোনা ফ্রেশ হয়ে শাড়ি পরার জন্য আয়নার সামনে দাঁড়ালো। আয়নায় চোখ জেতেই দাগ গুলো ভেসে উঠলো। বুকের উপরে দাগে হাত দিতেই লজ্জায় নিজেই কুকড়ে গেলো। ইমরান সাহেব অদ্ভুত একটা মানুষ। কখনো মুডি, তো কখনো খোলামেলা একটা চরিত্র। আবার মোনার কাছে আসলে হয়ে যায় অসম্ভব এলোমেলো আবেগময়ী আগ্রাসী প্রেমিক পুরুষ। জায়গাটা জ্বলছে। দরজায় বাইরে থেকে কেউ কড়া নাড়ছে। মোনা তাঁতের শাড়িটি গায়ে জড়িয়ে বেরিয়ে এলো। নিচে নেমেই দেখে সবাই চলে যাচ্ছে। বাড়িতে আসা অতিথি রা সবাই মোনা থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলো। সবাই চলে গেলে মোনা সোফায় বসে আইরিনের সাথে গল্প করছিলো। ইশান ঘুম ঘুম চোখে এসে মোনার কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়ে।
‘ নাস্তা করেছো ইশান?’
‘না মা’
‘রহিমা আপা ওর নাস্তা টা এখানে দাও আমি খাইয়ে দিচ্ছি।’
আইরিন,তুশি,সামান্তা পাশে বসে প্রোগ্রাম নিয়ে কথা বলছিলো। মোনা আগামীকাল ক্যাম্পাসে যেতে চেয়ে আইরিনকে জানালো। আইরিন অনুমতি দিলো। ইশানকে নাস্তা খাইয়ে দিতে দিতে অনেক কথাই হলো। মেসেজ টোন বেজে উঠলো ফোনের। স্ক্রিন লক খুলে মেসেজ বক্সে দেখে ঝলঝল করছে নামটা IMRAN. কি মেসেজ দিলো দেখতেই লিখা আছে,
তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৩৮
‘ Cupboard er left side er second Chamber e ekta bag rakha ache. Ready theko. Ami half an hour er moddhe aschi.’
