Home তুমি আমার শেষবেলা তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৪

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৪

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৪
নীতি জাহিদ

বাইরে তুমুল বর্ষণ। জানালার কাচ বেয়ে জলকণার ধারা বেয়ে বেয়ে পড়ছে। বিদ্যুতের ঝলকানিতে রাত ও দিন হয়ে যায়। ঘড়িতে এখন সন্ধ্যা ৭ টা। সৃষ্টিকর্তার কি অপার মহিমা। মাঝে মাঝে রাস্তার নিয়ন আলো দেখা যাচ্ছে। গাড়ি কম চলছে। ইমরান এখন আশুলিয়ার ফ্যাক্টরিতে বসে আছে। নয়ন নিরবতা ভেঙ্গে বললো,
-‘ বুঝলাম না, আসছি আধ ঘন্টা হয়ে গেলো তুই এমন চুপচাপ কেনো? কিছু তো বলবি।’
-‘ কি বলব,কিভাবে বলব তাই ভাবছি।’
-‘ কি হয়েছে।’
-‘ আমার বয়স কত লাগে তোর কাছে, আই মিন আমাকে দেখতে কি কোনো ভাবে টিন এইজ লাগে, না মানে আমাকে দেখলে কি লাভ এট ফার্স্ট সাইড হয়ে যায়।আর সাদা শার্ট পরলে কি বেশি মানায়?। উফ হচ্ছে না মানে কোনো টিনেজ মেয়ে কি প্রেমে পড়তে পারে আমার?’

নয়ন ভূত দেখার মত চমকে উঠেছে হাতের সামনে কফি এসপ্রেসো ছিলো। নয়নের এসপ্রেসো অনেক পছন্দ।আসার সময় ইমরান নিয়ে এসেছে। ইমরানের কথা বলার আগে আয়েশ করে এক চুমুক কফি মুখে পুরে নিলো কিন্তু গলা অবধি আর যেতে পারলো না। ভুশ করে সামনে ছেড়ে দিলো। ভাগ্যভালো ইমরানের সাদা শার্টে পড়ে নাই। নয়ন গ্লাস থেকে পানি নিয়ে ঢকঢক করে গলধকরন করে,টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে নিলো। এযাবৎকালে এভাবে কথা বলতে ইমরানকে দেখেনি। ইমরান অনেকটা মেপে কথা বলার মানুষ। সে মানুষ কিসব আবোলতাবোল বকছে যা তার চরিত্রের সাথে একদমই বেমানান। কিছুটা শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক করে বলে,

-‘ বন্ধু গাঞ্জা খাইছোস? কি কস এডি। তোর চুল পাকে নাই মানলাম তার মানে এই না যে টিনেজ মাইয়া প্রেমে পড়বে। বয়স দেখছোস। আমার যদি পয়ত্রিশ চলে,তুই আমার এক বছরের সিনিয়র ব্যাচমেট। তোর ছত্রিশ চলবে তাই না। পোলা তোর ক্লাস ফোরে পড়ে। কয়টা বছর পর পোলা বিয়া করাবি, এডি কি কস। লাভ এট ফার্স্ট সাইড অবশ্যই আছে। তা হবু ভাবী যদি আমাদের মত হয় ঠিক আছে। কিন্তু টিনেজ??? কোনো বিদেশী টিনেজ নাকি রে?’
ইমরানের মুখে ঘোর অন্ধকার। মুখ কালো করে বসে আছে। নয়নের দিকে তাকিয়ে বলে,
-‘ যা বলব শুনবি,আমি সিরিয়াস ঠিক আছে,মজা করবিনা। সল্যুশন দিবি।’
-‘ওকে।’
-‘ যদিও আমি শিউর জানিনা, জাস্ট গেস করলাম। এরপর পুরো ঘটনা নয়নকে খুলে বললো।’
নয়ন হাসতে হাসতে মাটিতে লুটোপুটি খাওয়ার মত অবস্থা। তার এত বুদ্ধিমান বন্ধু কিন্তু এসবের বেলায় এত কাঁচা ভেবেই হাসি পাচ্ছে। শেষমেষ কিনা একটা বাচ্চা মেয়ে। ইমরান এখনো মুখের ভঙ্গি আগের মত করে আছে।এখানে এমন হাসার কি আছে। নয়নকে দেখে রাগে গা জ্বলছে ইমরানের। ইচ্ছে করে চপেড়াঘাত করে কামরা থেকে বের করে দিতে কিন্তু সে আজ পরিস্থিতির শিকার।তাই নয়ন ও আজ মজা নিচ্ছে। ইমরান দাঁত কটমট করে বললো,

‘- হাসছিস কেনো এভাবে? হাসির কি বললাম?
নয়ন ইমরানের দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলে,
-‘ বন্ধু আসল ঘাপলা তুই বুঝবিনা,দেশে থাকোস না তো। মোনা মামনির সাথে আমার ও দেখা হয়েছিলো। বাচ্চাটা বেশি সুইট,আবেগ বেশি,মা নেই বুঝোসই তো,এছাড়া একটু জেদী। সারাক্ষন ফ্যান্টাসিতে থাকে। এংরি ইয়াংম্যান এর উপন্যাস পড়ে, প্রাইড এন্ড প্রেজুডিস পড়েছে এই বয়সে বুঝোস তুই। ইভেন রোমিও-জুলিয়েট,হ্যামলেট,ইলিয়ট সব ওর নখ দর্পনে। কারো সাথে তেমন ঝামেলায় যায় না। বই,মিনহাজ ভাই আর দুষ্টুমিতে ব্যস্ত থাকে। ওর মনের ফ্যান্টাসিতে যাকে ধরেছে সে হয়তো তোর সাথে মিলে যায় যার দরুন আগ পিছ না ভেবে দূষ্টুমিতে মেতে উঠেছে। তোর কাজ হচ্ছে ওর সাথে নরম ভাবে কথা বলবি।বাচ্চা তো, সফটলি হ্যান্ডেল করতে হয়। রেগে কথা বললে হিতের বিপরীত হবে। ইশানকে যেভাবে হ্যান্ডেল করিস ওভাবে করবি। ওর আসলে জেদ চেপে গিয়েছে। ওইদিন চকলেট খাসনি তাই,অথবা তোকে নাকানিচুবানি খাওয়াতে ইচ্ছে করে কাজ গুলো করতেছে। আরেকটা কথা বি কেয়ারফুল। এই মেয়ে কিন্তু বেল্ট পাওয়া। ও মার্শাল আর্ট জানে।’
-‘ তাই নাকি, না তাহলে তো এতো বাচ্চা না। ইচ্ছে করে এসব করছে। অবশ্য আমারই দোষ। বাচ্চার সাথে বড়দের মত ডিল করতে গিয়েছিলাম,মেয়ে বাচ্চা তো হ্যান্ডেল করি নাই বুঝবো কিভাবে। থ্যাংস দোস্ত। কি পরিমান ভয় যে পেয়েছিলাম। এখন মন থেকে বিশাল বোঝা নেমে গিয়েছে।’

তোমায় দেখে মনে ভেতর জাগলো ইমোশন,
আমি প্রেমে পড়ে গেছি ওগো ওগো জেন্টাল ম্যান..
মনেতে প্রেমের বাতি জ্বলছে দিবা রাতি
পরান জুড়ে উঠেছে যে তুফান
আমি প্রেমে পড়ে গেছি
ওগো ওগো জেন্টাল ম্যান…
ক্লাস শেষে করিডর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে মোনা গুণ গুণ করছে। চয়নের ব্যাপারটা ভালো ঠেকলো না। পাগল টাগল হলো নাকি এই মেয়ে। তাও এটা কি ধরনের গান। তাদের স্কুলে কস্মিনকালেও কোনো প্রেমে পড়ার মত জেন্টালম্যান শিক্ষক আসে নি তাহলে এই মেয়ে কার প্রেমে পড়ে কি সব গাইছে???
বিরক্ত নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

-‘ কিরে মোনা ক্লাসে ও দেখলাম মনোযোগ নেই, এখনো দেখছি প্রেমের গান গাইছিস কি ব্যাপার। আজকে তানিয়া মিসের ক্লাসেও তো কান ধরলি। লজ্জা ও পেলি না।’
-‘ দোস্ত, আমি অনেক খুশি। তাই আজকে সবার সব দোষ মাফ। ‘
-‘ তানিয়া মিসকে টাইট দিবি না?’
-‘ আরেহ নাহ।’
-‘ ওয়াও গ্রেট মোনাশা ইকবাল আজ এত খুশি কেনো, যে কিনা টিচারদের টাইট দিতে ব্যস্ত থাকে, সে আজ ক্লাসেও চুপচাপ ছিলো। হঠাৎ চোখের পলক ফেলে চয়ন বলে উঠলো, এই তুই কি বললি কার প্রেমে পড়েছিস?’

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৩

চয়নের কথায় মোনার তেমন কিছুই এসে যায় না। তানিয়ে মিসকে দেখলেই এই মেয়ে বিভিন্ন কান্ডকীর্তি করে। কখনো বেত ভে*ঙ্গে ফে*লে, কখনো উনার বায়োলজি বই এ তেলাপোকা ঢুকিয়ে দেয়। দুনিয়ার আজব কাজ করে। অথচ কেউ টেরই পায় না। একমাত্র সঙ্গী চয়ন।বেচারী অসহায় হয়ে সব সহ্য করে। কিন্তু সেই মোনা আজ তানিয়ে মিস এর ক্লাসে কানে ধরেও উনাকে ছেড়ে দিবে? এ ও সম্ভব।
মোনা আবার গুনগুন করলো, ‘ আমি প্রেমে পড়ে গেছি ওগো ওগো জেন্টালম্যান।’

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here