Home তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৯

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৯

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৯
তানিশা সুলতানা

অহনা মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। ভিজে জবুথবু হয়ে গিয়েছে। চোখ মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে প্রচন্ড রেগে আছে। সিয়াম বাইক থামালো। আদ্রিতা বাইক থেকে নেমে অহনার সামনে গেলো। বললো
“আপু তুমি এখানে?
আজকে তো তোমার ক্লাস ছিলো না।
” নিহানের সঙ্গে মিট করতে এসেছিলাম।
সিয়ামের মুখ পানে তাকিয়ে থেকেই জবাব দিলো। তবে সিয়াম ভুলেও তাকালো না। সে বাইক সাইড করে এসে দাঁড়ালো আদ্রিতার পাশে। হেলমেট খানা খুলতে যাচ্ছিলো ও সিয়াম খুলতে দিলো না। বললো

“আম্মো মাথা ভিজলে ঠান্ডা লেগে যাবে।
অহনাকে বললো
” খালা আপনি আম্মোকে নিয়ে বাসায় চলে যান।।
অহনার রাগ হলো তার থেকেও বেশি আশ্চর্য হলো। খালা মানে কি?
সে হিসহিসিয়ে বলে
“খালা?
আমি আপনার খালা কবে হলাম?
” আজকে থেকে। আসসালামু আলাইকুম খালা।
আসছি তাহলে
অহনা নিজের পায়ের জুতো খুলতে যেতেই সিয়াম দৌড়ে বাইকে উঠলো। ফুল স্পিডে একটা টান মেরে চলে যেতে লাগলো। খানিকটা এগোতেই একটা মেয়েকে ধাক্কা মেরে দিলো বাইকটা।
মেয়েটা কাঁদার মধ্যে পড়ে গেলো। খুব বেশি ব্যাথা পায় নি দেখেই বোঝা গেলো।
সিয়াম আসমান পানে তাকিয়ে বলে উঠলো

“আজকে আমার হলো কি?
মেয়ে মানুষ মানেই ছিহহ
ওরেহহ সিয়াম তুই দূরে থাক
মেয়েরা আর যাই হোক তোর মতো ভালো ছেলে জীবন সঙ্গী হিসেবে না পাক।
কবিতা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটা তেড়ে আসে সিয়ামের দিকে। আঙুল তুলে বলে
” কানা না কি আপনি? চোখে দেখেন না?
সিয়াম শুকনো ঢোক গিলে বললো
“আসলে মা বলেছে মেয়ে দেখলে চোখ বন্ধ করে ফেলতে। কারণ মেয়েরা কাল নাগিনী।
আপনাকে দেখেই চোখ বন্ধ করে ফেলেছিলাম।
মেয়েটা কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইলো সিয়ামের মুখ পানে। তারপর হাত থেকে হেলমেট নিয়ে রাস্তায় ফেলে দিলো। পেছন থেকে আরেকটা মেয়ে বলে উঠলো
” এই ইশারা
কাঁদায় পড়লি কিভাবে?
মেয়েটা কি জবাব দিলো সেটা সিয়াম শুনলো না। ও শুধু তাকিয়ে রইল রাস্তায় পড়ে থাকা ভাঙ্গা হেলমেটের পানে।
বিড়বিড় করে অভিশাপ দিলো
“আল্লাহ তুমি বিচার করিও
ওর কপালে যেনো খারাপ একটা জামাই জোটে।

কক্সবাজারের সব থেকে বিলাস বহুল হোটেলে উঠেছে আবরার। এখানকার সবাই তাকে চেনে। অন্য সব গেস্টদের থেকে ওকে একটু বেশি খাতির যত্ন করছেন।
দলে দলে দৌড়ে আসছে অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য। এই বিষয়টা বিরক্ত লাগছে তার।
মানুষের ভিড়াভিড় খুব একটা পছন্দ না করায় কড়া ভাষায় বারণ করে দিলো তাদের।
এরপর আর কেউ কাছে ঘেঁষার সাহস করেনি। শুধু দূর থেকে দেখে যাচ্ছে সুদর্শন পুরুষটিকে।
এই মুহূর্তে সমুদ্র সৈকতের কাছে এ্যানিকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আবরার। বাচ্চাটা সমুদ্র দেখে একটুও খুশি হয় নি। কেমন মুখ গোমড়া করে রেখেছে।
আবরারের পাশে দাঁড়িয়ে আছে শিহাব। ঢাকা বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স এ নিজের ব্যান্ডের কিছু পোশাক লন্স করতে চাচ্ছে।
সেটার দায়িত্ব শিহাবকে দেওয়ার জন্যই কক্সবাজার আসা।
তাছাড়া এখানেও একটা মানুষের সঙ্গেও হিসাব-নিকাশ করা বাকি।
শিহাব গভীর সাগরের গর্জনের দিকে তাকিয়ে আবরার কে বলে

“জীবনটাকে জটিল করার কোনো দরকার আছে?
তুমি কি বুঝতে পারছো ধীরে ধীরে মৃ/ত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছো?
আবরার স্পষ্ট স্বরে জবাব দিলো
” হুমম
“তাহলে আদ্রিতার সঙ্গে নিজেকে জড়াচ্ছ কেনো? তোমার কিছু হয়ে গেলে ও কিভাবে বাঁচবে?
তুমি না ওকে ভালোবাসো।
“ফাকিং লাভ
ও আমার ব্যাড হ্যাবিট
যেটা ছাড়তে পারছিনা।
আই এম কিং
গোটা পৃথিবীতে আমার রাজত্ব চলবে। এসব ফাকিং লাভস, কেয়ার, ইমোশন, সিমপ্যাথি আবরার তাসনিনকে বাঁধতে পারবে না।
ইটস নট পসিবল।
শিহাব জবাব দিলো না। তবে মনে মনে বলল
“কি চলে তোমার মাথায়?
কেনো বুঝতে পারিনা?
আবরার তাসনিন তুমি খুব চালাক। তবে আমিও দেখবো। কতদূর পর্যন্ত যেতে পারো।
শিহাব তার ভাবনার মাঝেই দেখতে পায় একটা স্পিডবোর্ড ওদের দিকে এগিয়ে আসছে।
মুহূর্তের মধ্যেই কাছাকাছি এসে বোর্ড থামে। দুটো ছেলে নেমে আসে।
একটা ছেলেকে আবরার চেনে। সুইজারল্যান্ড এর টিশান। তবে আরেকজনকে চেনে না।
দুই ভ্রু আড়াআড়ি ভাবে কুঁচকে ফেলে আবরার।
টিশান হাসি মুখে বলে

“আমাকে ছাড়া থাকতে পারছিলাম না।
কোথায় চলে আসলাম।
আর ইউ হ্যাপি?
আবরার জবাব দিলো না।
” ও আমার ফ্রেন্ড। নিলি গ্রিনি।
চলো আমরা তোমার বাড়ি দেখতে চাই।
আবরার এক পলক তাকালো শিহাবের দিকে। তারপর দাঁড়ি চুলকে বলে
“আর ইউ শিওর?
” ইয়েসস
“লেটস গো
বলেই এ্যানিকে শিহাবের কোলে দিলো।
“আধ ঘন্টার মধ্যে আমার বন্ধুরা এসে এ্যানিকে নিয়ে যাবে। ততক্ষণ পর্যন্ত ওর খেয়াল রেখো।
কথা শেষ করেই স্পিডবোটে উঠে পড়ে। ওর পেছন পেছন টিশান এবং নিলিও ওঠে।।
শিহাব পেছন থেকে ডেকে বলে
” আবরার
তোমার উচিত আদ্রিতার সঙ্গে দেখা করে যাওয়া। মেয়েটি অপেক্ষা করছে।
শিহাবের কথা আবরার শুনলো কিনা বোঝা গেল না। তবে পেছন ফিরে আর তাকালো না। চলে গেলো চোখের আড়ালে।
এ্যানি অনবরত মিউ মিউ আওয়াজ তুলে ডাকতে থাকলো পাষাণ আবরারকে।

সামনে মাসে দুই তারিখ অহনার বিয়ে। হাতে সময় খুব কম। অনেক কেনাকাটা করতে হবে।
তবে আদ্রিতা এসব বিষয়ে এক্সাইটেড নয়। তার মনের মধ্যে রয়েছে আবরার। মানুষটা সেই যে গেলো আর একটা বারও কল করলো না।
বা খোঁজখবরও নিলোনা।
আদ্রিতা আগ বাড়িয়ে দুবার কল দিলো কিন্তু সেটাও রিসিভ করলো না।
একটা মানুষ এতটা পাষাণ কিভাবে হতে পারে? কিভাবে বা এতো কেয়ারলেস হতে পারে? ঠিকই বুঝতে পারে না তার চিন্তায় একটা মেয়ে ঘুমোতে পারছে না। কোথাও শান্তি পাচ্ছে না।
আদ্রিতাকে অন্যমনস্ক দেখে আরিফ বলে উঠলো

“আদ্রিতা
মামনি তোমার জন্য আজকে একটা সারপ্রাইজ আছে।
আদ্রিতা কপাল কুঁচকে জানতে চাইলো
” কি সারপ্রাইজ?
“তুমি আর অহনা আজকে আমার সাথে কক্সবাজার যাচ্ছো।
কথাটা শোনা মাত্রই লাফিয়ে উঠলো আদ্রিতা। খুশি চকচক করে উঠলো ওর চোখ দুটো।
বললো
” কিন্তু সত্যি বলছো মামা?
“একদম সত্যি।
” তাহলে আমি এখুনি যাচ্ছি লাগেজ প্যাকিং করতে।
কখন বের হবো?
“এই তো আর ঘন্টা খানিক পরেই।
আদ্রিতা দৌড়ে নিজ কক্ষে চলে গেলো।
যেতে যেতে আবরারকে টেক্সট করতে ভুললো না
” আমি আসছি আবরার তাসনিন।
আপনার কাছে আসছি।
একটুখানি অপেক্ষা করুন আমার জন্য।

আবরার স্পিডবোট থেকে নামার সময় ফোন ওপেন করে মেসেজখানা দেখলো।
তারপর কল করলো আমানের নাম্বারে। কল রিসিভ হতেই পকেটে রেখে দিলো।
সমুদ্রের ঠিক মাঝখানে বিশাল একটা দ্বীপ রয়েছে। ঠিক মরুভূমির মতো। গাছপালা নেই। চারিদিকে শুধু পানি তার মাঝে বালুর তৈরি দ্বীপ।
সেই দ্বীপে কয়েকশো বিদেশি পুরুষ দাঁড়িয়ে রয়েছে। সকলের হাতে রিভলবার।
আবরার স্পিডবোট থেকে নামতেই টিশানের বাবা টনি সহস্রে হেসে বলে উঠলে
“আরেহহ আবরার তাসনিন যে
ওয়েলকাম
ওনার সঙ্গে থাকা আরেকটা লোক বলে
” ওকে একা এনেছো কেনো?
ওই মেয়েটাকেও আনতে। যার ফটো দেখিয়েছিলে। কি যেনো নাম?
একটা ছেলে বলতে যায়
“আদ্র
বাকিটা শেষ করার আগেই ছেলেটার মাথা শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়। আবরার টিশানের পকেটে থাকা চাকু খানা বের করে ছুঁড়ে মেরেছিলো ছেলেটার গর্দান বরাবর।
সকলেই ভয় পেলো। দু পা পেছালো।
আবরার গম্ভীর স্বরে বললো

“সে পবিত্র
ঠিক চাঁদের মত
তোর নাম মুখে আনার যোগ্যতা ওর ছিলো না। দ্যাটস হুয়াট মুখ বন্ধ করে দিলাম।।
টনি শুকনো ঢোক গিলে বলে
” আমরা তোমাকে এখানে এনেছি কথা বলে ঝামেলা মেটানোর জন্য।
তুমি তো এসেই খু/নো/খু/নি শুরু করে দিয়েছো।

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৮

“প্রসঙ্গ যখন আমার পাখি
তখন পৃথিবীর সবথেকে নিষ্ঠুর আমি।
তার দিকে তাকালে চোখ তুলে ফেলবো
তার নামটা মুখে আনলে গলা কেটে দেব
আর তাকে নিয়ে বাজে কোনো পরিকল্পনা করলে গোটা পৃথিবী ধ্বংস করে ফেলবো।

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৪০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here