তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৪০
তানিশা সুলতানা
“তুমি কি চাও আবরার তাসনিন?
গ্রিলবকে কেনো মে/রে/ছো?
আবরার টনির সামনে থাকা চেয়ারে বসলো আরাম করে। ওনার হাতে থাকা সিগারেট কেঁড়ে নিয়ে ঠোঁটের ভাজে গুঁজে নিলো। তাতে দীর্ঘ টান দিয়ে নাকে মুখে ধোঁয়া ওড়াতে ওড়াতে জবাব দিলো
“আবরার তাসনিন কখনো কাউকে কৈফিয়ত দেয় না।
টনি দাঁতে দাঁত চেপে বললো
” এখানে সবাই আমার লোক। চাইলেই তোমায় মে
বাকিটা শেষ হওয়ার আগেই সব গুলো গার্ড টনি তার ছেলে টিশান এবং নীলির মাথায় বন্দুক ঠেকায়।
ওরা ভয় পেলো। চোখ মুখ শুকিয়ে এইটুকুনি হয়ে গেলো।
আশ্চর্য
ওদের পোষা গুন্ডা গুলো আবরারের আন্ডারে কবে থেকে চলে গেলো? এই তো কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত ওদের হয়ে কথা বলতো, জীবন দিতেও প্রস্তুত ছিলো।
টিশান বড়ই ভীতু। ওর হাত পা কাঁপছে। প্যান্টও একটু একটু ভিজে যাচ্ছে। এই নির্জন দিবে ওরা ওদের মে/রে ফেলে রেখে চলে গেলে লাশটাও কেউ খুঁজে পাবে না। টিশান এতো তাড়াতাড়ি ম/র/তে চায় না। তাই সে কাঁপাকাঁপা স্বরে বলে ওঠে
“আবরার তুমি কিন্তু ঠিক করছো না। ঠান্ডা মাথায় এভাবে ফাঁসাতে পারো না আমাদের।
তোমাকে মে/রে ফেলতে এনেছি
বাকিটা শেষ করে না। ইসস সিক্রেট কথা বলে ফেললো। অতি দ্রুত নিজের ঠোঁট চেপে ধরে। যেনো এখন ভুমিকম্প হয়ে গেলেও আর মুখ খুলবে না।
আবরার কিছু বলল না। সে মনোযোগ দিয়ে সিগারেট টানতে থাকে।
টনি বলে
” ভালো করছো না এসব।
আবরার ঝুঁকলো টনির মুখের দিকে। তারপর ফিসফিস করে বলে
“ইয়েস
আই নো দ্যাট
“কেনো করছো এমন?
আবরার জবাব দিল না। শুধু চোখ দুটো বন্ধ করে কল্পনা করলো
সৌদি আরবের মরুভূমি। সেখানে উপস্থিত টনি গ্রিলব সঙ্গে আরও কিছু পরিচিত অপরিচিত মুখ।
কিছু সংখ্যক বডিগার্ড।
তাদের সামনে চোখ বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে সিয়ামের বাবা রাকিব সোহেন। এবং তার স্ত্রী।
বাংলাদেশের সঙ্গে বিজনেস কোলাবেশন করতে চেয়েছিলো গ্রিলব। সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলাদেশের অনেক অর্থ অপহরণ করাই ছিলো তার উদ্দেশ্য।
তাছাড়া বাংলাদেশের ছোট ছোট শিশুদের ওপর ছিলো ওনাদের নজর৷
ওনাদের পরিকল্পনা জেনে ফেলে রাকিব হোসেন। এবং তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সঙ্গে বিষয়টা নিয়ে কথার সিদ্ধান্ত নিতেই গ্রিলব তার দলবল নিয়ে অপহরণ করে ওনাকে।
তারপর যা হয়েছিল সেটা মনে পড়তেই চোখ দুটো জ্বলে ওঠে আবরারের। সে দাঁড়িয়ে পড়ে। ঠোঁটের ফাঁকা থেকে সিগারেটের অংশ ফেলে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়।
গার্ডদের আদেশ দেয়
” এদের এখানেই ফেলে রেখে এসো
পুনরায় কক্সবাজারে সেই হোটেলে চলে আসে আবরার। কার্ডের সাহায্যে নিজ কক্ষে প্রবেশ করে শার্ট খানা খুলে ফেলে।
সেটা উদ্দেশ্যহীনভাবে ছুড়ে ফেলে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। বেশ খানিকটা সময় নিয়ে আয়নায় নিজেকে দেখতে থাকে। তখুনি চোখ যায় বিছানায়। কম্বল মুড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে আদ্রিতা। তার পাশে এ্যানি। আবরার ঠোঁট বাঁকালো।
যেনো সে জানতোই আদ্রিতা এখানে থাকবে।
ঘাড়ে হাত দিয়ে অদ্ভুত ভঙ্গিমায় ঘাড় নাড়িয়ে এসির পাওয়ার কমিয়ে দিলো। তারপর বাতরুমে ঢুকলো ফ্রেশ হতে৷
বেশ খানিকটা সময় নিয়ে গোসল সেরে কোমরে জামাল পেঁচিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে আবরার৷ হাতে আরেকটা তোয়ালে। সেটা দিয়ে চুল মুছছে।
আদ্রিতার ঘুম ছুটেছে। সে হা করে তাকিয়ে আছে আবরারের পানে। লোকটা একটু বেশিই ফর্সা। বুকে একটাও লোম নেই। বড় বড় চুল গুলে কপাল জুড়ে এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এখুনি জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজালো।
বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠলো আদ্রিতার। লজ্জা এবং সংকোচে হাত পাও মৃদু কাঁপছে।
আবরার ওকে খেয়াল করলো। হাতের তোয়ালে সোফায় ফেলে রেখে এগিয়ে আসলো আদ্রিতার দিকে।
কাছাকাছি এসে হাত দিয়ে মুছে দিলো ঠোঁটের পাশে লেগে থাকা লালা।
বালিশেও হালকা পড়েছে।
লজ্জা পেলো আদ্রিতা। একটুখানি পিছিয়ে গেলো। মাথা নিচু করে এদিক ওদিক দৃষ্টি ঘোরাতে থাকে।
তখুনি কলিং বেল বেজে ওঠে। আব্দুল রহমান দরজার ওপাশ থেকে ডাকছে আবরারের নাম ধরে।
ঘাবড়ে গেলো আদ্রিতা। বড়বড় নয়নে আদ্রিতার মুখ পানে তাকিয়ে বললো
“মামা চলে এসেছে।
এখন কি হবে?
হাই আল্লাহ আমি কোথায় লুকাবো?
কি করবো?
আবরার বললো
” তুমি চাও না উনি দেখুক?
আদ্রিতা অনবরত মাথা নারিয়ে সম্মতি প্রকাশ করলো।
আবরার সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়লো আদ্রিতার পাশে। ওকেও টেনে শোয়ালো এবং কম্বল টেনে দুজনকেই ঢেকে ফেললো।
আবরারের শুধু মুখ টুকুই দেখা যাচ্ছে।
তারপর কন্ঠে খাদ নামিয়ে বললো
“কাম ইন
আব্দুল রহমান ভেতরে প্রবেশ করলো।
” এই অবেলায় শুয়ে আছো যে?
আবরার গম্ভীর স্বরে বললো
“এমনি
কি বলতে চাচ্ছেন?
” শুনলাম চায়না গিয়েছিলে। আর ওখানে একজনকে খু/ন করে এসেছো।
“দ্যাটস নান অফ ইউওর বিজনেস।
মাই লাইফ মাই রুলস।
আব্দুল রহমান দীর্ঘ শ্বাস ফেললো
” হুমম
তোমার লাইফে ইন্টারফেয়ার করার ইচ্ছে নেই। শুধু এতোটুকুই বলতে এসেছি।
আদ্রিতার থেকে দূরে থাকো।
আদ্রিতা আছে বড়ই বিপদে। আবরার তাসনিন এর পেটের কাছে পড়ে আছে। লোকটা বড়ই বেহায়া। বাবার সঙ্গে কথা বলছে অথচ তার বেহায়া হাত খানা স্থির নেই।
তার বিচরণ ছোট্ট আদ্রিতার স্পর্শ কাতর স্থানে। মেয়েটা সহ্য করতেও পারছে না আবার বলতেও পারছে না।
এমন বেহায়াপনা করতে করতেই আবরার জবাব দেয়
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৯
“ওকেহহ
থাকলাম দূরে।
আর কিছু?
আব্দুল রহমান আর কি বলবে বুঝে উঠতে পারলো না। তাই চলে যাওয়ার উদ্দেশ্য পা বাড়িয়ে বললো
” চলে যাচ্ছি।
ঘুমাও
“হুমম
