তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৫৬
তানিশা সুলতানা
আদ্রিতা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। জার্নি করলেই তার ঘুম পায়। এ্যানি আবরারের কোলে। সে এক হাতে এ্যানিকে সামলাচ্ছে এবং অপর হাতে আদ্রিতার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। ইয়াং ইউ পলকহীন দৃষ্টিতে এই দৃশ্য খানা দেখতে থাকে।
একটা মানুষ এতো কেয়ারিং কিভাবে হতে পারে?
যখন ওরা প্লেনে উঠলো তখন আবরার আদ্রিতার পেছন পেছন উঠেছে। ওর প্রতিটা কদম ফলো করেছে। যেনো এতোটুকুও আঁচড় না লাগে। আবার নিজে হাতে জুস বানিয়ে সিয়ামকে দিয়ে পাঠিয়েছে।
একটু আগে আদ্রিতার পায়ের জুতো খুলে দিয়েছে।
এই মানুষটাকে ইয়াং ইউ পেয়ে গেলে কতোটা ভালো থাকবে?
তার গোটা দুনিয়া আলোয় ঝলমল করবে সর্বক্ষণ। পৃথিবীর সব সুখ ওর পায়ের কাছে চলে আসবে।
ইয়াং ইউ এর পেছনের সিটে বসেছে সিয়াম এবং আমান। তারা গভীর দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছিলো চতুর মহিলাটিকে।
এখন ছোঁছার মতো আবরারের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে আমান সিয়ামের কানে কানে বলে
“ভাই যেভাবে আব্বোকে দেখছে মনে হচ্ছে চোখ দিয়েই গিলে খাবে। কিছু একটা কর।
আমার একটা আব্বো।
তাকে খেয়ে ফেললে এতিম হয়ে যাবো।
সিয়াম শুকনো কাশি দিয়ে গলা পরিষ্কার করলো। তার ইয়াং ইউ কাছাকাছি এগিয়ে বললো
” আবরারকে পেতে চান?
ইয়াং ইউ ভ্রু কুঁচকে তাকালো সিয়ামের দিকে।
“আরেহহহ আমার কাছে ঝাক্কাস আইডিয়া আছে। শুধু বলুন পেতে চান কি না?
” কি আইডিয়া?
সিয়াম নিজের সিট থেকে উঠে গিয়ে ইয়াং ইউ এর পাশে বসে পড়লো। বড়লোক্স ম্যাম দুটো সিট নিয়ে বসেছিলো।
“দেখুন আমাকে সাধারণ একজন মানুষের মতো দেখলেও আমি কিন্তু সাধারণ না। একজন লাভ গুরু। বাংলাদেশের ভাষায় ঘটক। নিজের এই দুই হাতে কতো বিয়ে দিছি গুনে শেষ করা যাবে না।
সুইজারল্যান্ড এর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেও নিজে হাতে বিয়ে করিয়েছি।
” কিন্তু ট্রাম্প তো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
সিয়াম মুখ বাঁকিয়ে তাকালো ইয়াং ইউ এর দিকে। তারপর বললো
“বয়স হয়েছে পোঁচষট্টি
এতো কিছু মনে থাকে না কি?
” আচ্ছা স্যরি
বলুন প্ল্যানিং কি?
“প্ল্যানিং হচ্ছে থাইল্যান্ড পৌঁছে হোটেলে যাওয়ার পরে আপনি টনিকে কল করবেন। তাকেও ইমিডিয়েটলি থাইল্যান্ড আসতে বলবেন। তারপর টনির টুনটুনি কে/টে দিবো।
” টুনটুনি কি?
“মানে হচ্ছে টনিকে টপ বানিয়ে আদ্রিতা সরিয়ে দিবো। তারপর আপনার সাথে টনি
থুক্কু আবরারের বিয়ে দিয়ে দিবো।
কিছু মুহুর্ত সময় নিয়ে কিছু একটা চিন্তা করতে থাকে ইয়াং ইউ।
সিয়ামের প্ল্যানিং মন্দ লাগে নি। আদ্রিতাকে সরিয়ে দিতে পারলে আবরারকে পাওয়া ইজি হয়ে যাবে। আর টনি এবং গ্রিলিকে থাইল্যান্ড আনতে পারলে ওরাই আদ্রিতাকে সরিয়ে দিবে।
তখন ইয়াং ইউ এর রাস্তা ক্লিয়ার। আবরার শুধু এবং শুধুমাত্র তারই হবে।
তাই বললো
” ঠিক আছে তাই করবো।
বিনিময়ে আপনার কি চাই?
সিয়াম তাড়াহুড়ো করে জবাব দিলো
“আমার শুধু টনিকে কাছাকাছি পেলেই হলো। টুনটুনি কা/টার দায়িত্ব আমি একাই নিতে পারবো।
থাইল্যান্ড এর ব্যাংককের সব থেকে সেরা এবং বিলাস বহুল হোটেল হচ্ছে capella Bangkok
ব্যাংককের চাও ফ্রায়া নদীর তীরে অবস্থিত এই হোটেলটি বিশ্বমানের সেরা বিলাসবহুল নামকরা হোটেলের স্বীকৃতি পেয়েছে। এই হোটেল এর ৯ তালার ৪০৩ নাম্বার রুম খানা বুকিং করেছে আবরার।
মূলত এখানেই সে আদ্রিতাকে নিয়ে ৪ রাত কাটাবে।
হোটেল এর সামনে গাড়ি থামতেই ঘুম ভেঙে গেলো আদ্রিতার। পিটপিট করে চোখ খুলতেই দেখতে পেলো তার পাশে বসে আবরার তাসনিন ফোন দেখছে।
এ্যানি আদ্রিতার বুকের ওপর শুয়ে আছে।
রাগ হলো মেয়েটার।
এই হাতির আর কোনো কাজ নেই?
সে সারাক্ষণ কেনো ফোন দেখতে থাকে? আশ্চর্য
খারাপ লোক একটা।
সিয়াম আমান আহাদ এবং ইভান ইয়াং ইউকে নিয়ে অলরেডি হোটেলের ভেতরে ঢুকে পড়েছে। টনিও আসছে।
মজা হবে আজকে।
শালার টনির জীবনটা ছারখার করতে না পারলে সিয়ামের নাম পাল্টে রাখতে হবে।
আবরার ফোন পকেটে রাখলো তারপর তাকায় আদ্রিতার মুখ পানে।
তারপর এলোমেলো চুল গুলো ঠিকঠাক করতে করতে বলে
” ঘুম ভেঙেছে?
চলো হোটেলে যেতে হবে।
আদ্রিতা হাই তুলে এ্যানিকে বুকের সাথে জড়িয়ে সোজা হয়ে বসলো।
“আমরা এখানে কেনো এসেছি?
আপনার বাইক রেস আছে?
আবরার জবাব দিলো না। নেমে পড়লো বাইক থেকে। তারপর এ্যানিকে কোলে নিয়ে আদ্রিতার হাত ধরে তাকেও নামালো।
কোথা থেকে একদল মেয়ে ছুটে আসতে নেয় কিন্তু আবরার তাসনিন এর গার্ডগুলো তাদের আটকালো।তবুও তারা থেমে থাকলো না। চিৎকার করে ডাকলো তাসিন তাসিন বলে।
পিকচার তুললো, ভিডিও করলো।
আবরার নিজের হুডি দিয়ে আদ্রিতার মুখ খানা ঢেকে দিলো।
এবং ওর হাতে ধরে দ্রুত গতিতে হোটেলের ভেতরে প্রবেশ করলো। দুই এক বার হাত নাড়িয়ে সবাইকে বাই বলতেও ভুললো না।
আদ্রিতার ভালোই লাগলো।
বাহহহ কতো সেলিব্রিটি একটা মানুষের সঙ্গে রিলেশনশিপ এ আছে সে।
আসলেই কি রিলেশনশিপ এ আছে?
আবরার তো তাকে প্রপোজ করে নি।
তাহলে প্রেম হলো কিভাবে?
প্রশ্ন খানা মনে জাগতেই আদ্রিতা আবরারকে প্রশ্ন করলো
” কে হই আমি আপনার?
আবরার সহজ ভাষায় জবাব দিলো
“আপাতত কেউ না।
বাট আজকের পর থেকে আমার বউ+বেড পার্টনার হবে।
আদ্রিতার পা থামলো। সে বুঝতে পারলো আবরারের কথা। তবুও প্রশ্ন করলো
” আমরা কি আজকে বিয়ে করবো?
“ইয়েসস
সহজ এবং স্বাভাবিক জবাব আবরারের। কিন্তু আদ্রিতার বুকের ভেতরে টিপটিপ করতে থাকলো। বিয়ে খুব ছোট্ট একটা শব্দ তবে প্রতিটা মেয়ের হৃৎস্পন্দন বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
ততক্ষনে ওরা নিজেদের রুমে চলে আসে।।
কার্ড দিয়ে কক্ষে প্রবেশ করলো আবরার। তবে আদ্রিতা এখনো সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে। ওর ইচ্ছে করছে নাচতে। বা হি হি করে খানিকক্ষণ হাসতে। ইসসস এতোদিনে স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে।
আবরার তাসনিন ওকে বিয়ে করবে। সারাজীবন এক সাথে থাকবে। চাইলেও আর দূরে সরাতে পারবে না। বাবা মামাও কিছু বলতে পারবে না।
এসব ভাবতে ভাবতেই কক্ষে ঢুকে পড়লো আদ্রিতা। এবং আবরারকে বলে
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৫৫
” আমাকে প্রেগন্যান্ট ও করে দিয়েন। তাহলে আব্বু আর মামা চাইলেও আমাদের আলাদা করতে পারবে না।
আবরার এ্যানিকে খাটের ওপর রেখে শার্ট খুলছিলো। আদ্রিতার কথা শুনে ভ্রু কুচকে তাকালো ওর মুখ পানে। এবং বললো
“ছুঁতে গেলেই গুইসাপের মতো লাফালাফি করো। প্রেগন্যান্ট হবা কিভাবে?
