Home তোমাতেই বসন্ত তোমাতেই বসন্ত পর্ব ২৪

তোমাতেই বসন্ত পর্ব ২৪

তোমাতেই বসন্ত পর্ব ২৪
জেরিন আক্তার

প্রাণেশা স্নিগ্ধকে দেখে ওকে কাঁদা ছুড়ে মারলো। স্নিগ্ধ হতবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। প্রাণেশা বলল,
“মিথ্যে বললেন কেনো? কি ভেবেছেন আমি আপনাকে চিনতে পারবো না?”
স্নিগ্ধ ওর হাত দুটো ধরে বলল,
“তা না হয় বুঝলাম। আর কাঁদা দিও না।”
প্রাণেশা নিজের হাত ছাড়িয়ে বলল,
“আমাকে মিথ্যে বললেন কেনো তাহলে?”
স্নিগ্ধ মৃদু হেসে বলল,
“এই সামনেই আমার অফিস। এখান দিয়েই যাওয়া-আসা করি। তাই ভাবলাম তোমাকে একটু বোকা বানালে কেমন হয়।”
প্রাণেশা এই শুনে আরও কাঁদা ছুড়ে ওর শার্ট-প্যান্ট নষ্ট করে ফেললো। পাশ থেকে একজন বৃদ্ধা পুরুষ এগিয়ে এসে স্নিগ্ধকে বলল,
“কি হয়েছে বৃষ্টির মধ্যে বউয়ের কথা শুনছো না কেনো?”
স্নিগ্ধ হেসে বলল,
“আমার বউয়ের মাথায় একটু সমস্যা আছে।”
যা শুনে প্রাণেশার চোখদুটো বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গেলো। আজ তো স্নিগ্ধর খবর আছে।

পরেরদিন সন্ধ্যার আগ দিয়ে স্নিগ্ধ এসে প্রাণেশাকে নিয়ে গেলো। সুবহা অনেকবার বলেছে আর দুটো দিন থাকতে কিন্তু কে শোনে কার কথা।
রাতে স্নিগ্ধ আর আরশাদ খান মিলে অনেকক্ষণ ফোনে কথা বলে একটা বুদ্ধি বের করলেন। যাতে সৌরভ আর সুবহার মাঝে একটু বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরী করা যায়।
সকালে খাবার টেবিলে আরশাদ খান সৌরভকে বললেন,
“সৌরভ, আমাকে আজই ঢাকার বাহিরে যেতে হবে। জানোই তো সেখানে একটা ফ্ল্যাট করছি। তো আমি চাই সেটা আমার প্ল্যান মতো হোক।”
সৌরভ গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“ভালোই তো।”
আরশাদ খান শ্বাস ছেড়ে বললেন,
“আমি ১৫-২০ দিন সেখানেই থাকবো।”
সৌরভ কপাল কুঁচকে নিয়ে বলল,
“কেনো?”

“প্রতিদিন তো এতদূর জার্নি করে যেতে পারবো না। বয়স হচ্ছে। তাই ওখানে শিফট হয়ে যাবো।”
সৌরভ কি যেনো ভেবে বলল,
“তাহলে আমি যাই, তুমি বাড়িতে থাকো।”
আরশাদ খান মাথা নাড়িয়ে বললেন,
“তুমি গেলে তাহলে আর কি! ওই ফ্ল্যাটটা ভেবেছি আমি নিজের মতো করে বানাবো।”
সৌরভ খাবারের দিকে তাকিয়ে বলল,
“ঠিক আছে যাও।”
আরশাদ খান এই প্ল্যানে সাকসেস হলেন।
“আর হ্যা সৌরভ, তোমার অফিসে যাওয়ার দরকার নেই। যখন খুব দরকার হবে ম্যানেজার কল দিবে।”
“ওকে।”
“আজ বিকেলেই বেরিয়ে যাবো। তুমি কিন্তু বাড়িতে থাকবে। সুবহাকে রেখে কোত্থাও যাবে না।”
“হুমম।”

এভাবেই ২ দিন চলে গেলো।
রাত ৮ টা…
রাজিয়া বেগম তার শাশুড়ি আসমা খাতুনের সাথে কথা বললেন ফোনে। আসমা খাতুন গ্রামে থাকেন। সেখানে তার আরেক ছেলে রফিক রেজা চৌধুরী তার কাছেই থাকেন।
আসমা খাতুন তিনি কল করে বাড়ির সবাইকে যেতে বললেন। বিশেষ করে স্নিগ্ধ আর সুবহার বিয়ে হয়েছে বলে ওদের দেখার আগ্রহ খুব। স্নিগ্ধর বিয়ের সময় এসেছিলেন কিন্তু বিয়ের পরেরদিনই চলে গিয়েছেন।
সাঈদ রেজা চৌধুরী সৌরভ আর সুবহাকে এই বাড়িতে আসতে বললেন। একই সাথে কালকেই বেরিয়ে পড়বেন গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে।

পরেরদিন, সৌরভ আর সুবহা এলো সকাল ১১ টার দিকে। আর সবাই মিলে গ্রামে যাওয়ার জন্য রওনা হলো দুপুর ২ টার দিকে।
গ্রামে এসে পৌছালো ৫ টার দিকে। আসমা খাতুনের খুশি দেখে কে। একই সাথে নাতবৌ আর নাতজামাই। প্রাণেশা আর সৌরভকে স্বর্ণের চেইন পড়িয়ে বরণ করে ঘরে তুললেন।
বাড়িটা দোতলা। তবে একটু পুরোনো। কিন্তু মোটেও বোঝা যায়না পুরোনো। সবাইকে যার যার রুম দেখিয়ে দেওয়া হলো। সৌরভ আর সুবহা রুমে আসতে পারলেও প্রাণেশা আসতে পারেনি। সবাই নতুন বউই দেখছে।
সৌরভ ফ্রেশ হতে ঢুকলো। সুবহা ওদের জামাকাপড়গুলো বের করে আলমারিতে তুলে রাখলো। সৌরভ ড্রেস চেঞ্জ করে এসে বিছানায় শুলো। আর সুবহাকে বলল,
“পানি নিয়ে এসো।”
সুবহা পানি আনতে চলে গেলো।
সামনেই দেখা হলো রাইসার সাথে। সে সুবহাকে দেখে জড়িয়ে ধরে বলল,
“কেমন আছিস?”
“ভালো। কখন এলি?”
“মাত্র। আচ্ছা স্নিগ্ধ ভাইকে দেখেছিস?”
সুবহা ওকে একটু জেলাস ফিল করাতে বলল,
“দেখ আশেপাশে হয়তো তার বউ নিয়ে ঘুরছে।”
রাইসা গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“ভালোই।”
সুবহা বলল,
“এই তোর সাথে পরে কথা হবে। উনি পানি চেয়েছে অনেকক্ষণ আগে। না নিয়ে গেলে মাথায় রাগ উঠবে।”
“হুমম যা।”
সুবহা চলে গেলো পানি আনতে।

রাতে খাবার টেবিলে সবার সামনে আসমা খাতুন রসিকতা করে প্রাণেশা আর স্নিগ্ধকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন,
“এবার ঘোরাফেরা করো। এরপরের বার যেনো কোলে কাউকে দেখতে পাই।”
প্রাণেশা লজ্জায় লাল হয়ে মাথা নত ফেলল। স্নিগ্ধ ওর দিকে তাকিয়ে আবার আসমা খাতুনকে বলল,
“দাদু খাওয়ার মাঝে আবার কি বলছো।”
ওর কথা শুনে সবাই হেসে উঠল।
আসমা খাতুন বললেন,
“এরপরের বার ৩ জন হয়ে না এলে খবর আছে দাদুভাই।”
সাঈদ রেজা চৌধুরী হেসে আসমা খাতুনকে বললেন,
“মা ওদের একটু আরামে খেতে দাও। ওরা লজ্জা পাচ্ছে।”
সৌরভ খাবার খেয়ে ছাদে বসে ফোনে কথা বলছে আরশাদ খানের সাথে। ওদের বাড়িটা যেহেতু এখন খালি তাই ওরা বাবাকে বাড়িতে ফিরতে বলল। সুবহা ছাদে আসে কফি নিয়ে। সৌরভকে কফিটা দিয়ে পাশেই বসে।
তার পরপর স্নিগ্ধ আর প্রাণেশা আসে। স্নিগ্ধ ওদের দুজনকে দেখে মিনমিন করে প্রাণেশাকে বলল,
“চলো, অন্য জায়গায় যাই। ওরা প্রেম করুক।”

প্রাণেশা তাই চলে গেলো।
সৌরভ কফিতে চুমুক দিয়ে সুবহার দিকে তাকাচ্ছিলো। সুবহা অন্যদিকে তাকিয়ে কি যেনো দেখছে।
হুট্ করে সৌরভ সুবহাকে ডাকলো,
“সুবহা এদিকে এসো।”
সুবহা কাছে এসে বলল,
“বলুন।”
সৌরভ গম্ভীর গলায় বলল,
“তোমার বিয়ে হয়েছে কয়দিন?”
“৭ দিন।”
সৌরভ আরেকটু শক্ত গলায় বলল,
“এর মধ্যে শাড়ি পড়েছো কয়দিন?”
সুবহা নিচু গলায় বলল,
“১ দিন।”
সৌরভ আগের ন্যায় বলল,
“কালকে সকালে থেকে যেনো দেখি শাড়ি পড়েছো। এমন না যে তোমার বিয়ে হয়নি। আর এমনও নয় যে এটা শহর। নতুন বিয়ে হয়েছে শাড়ি পড়বে। বুঝেছো?”
সুবহা সৌরভের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে চলে গেলো। সৌরভের রাগ করে বলা কথাটা সামান্য হলেও সুবহার কাছে তা অনেক।

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে,, সবাই প্রাণেশা আর স্নিগ্ধকে খুঁজছিলো। দুজনকে পেলে জমিয়ে গল্প করবে। বড়রা আগেই ঘুমিয়ে পড়েছে।
এদিকে স্নিগ্ধ আর প্রাণেশা এসে বসে আছে বাড়ির পুকুরের সিঁড়িটায়। প্রাণেশা মনের আনন্দে স্নিগ্ধর বুকে মাথা রেখে পানিতে পা ডোবাচ্ছে।
স্নিগ্ধ ইতস্তত ভেঙে বলল,
“প্রাণেশা তখন দাদুর কথায় কিছু মনে করো না। বাচ্চা নিয়ে তোমায় আমি জোর করবো না। তোমার যখন ইচ্ছে হবে তখনই।”
প্রাণেশা কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলো স্নিগ্ধর দিকে। স্নিগ্ধ ভ্রু উঠিয়ে জিজ্ঞাসা করলো,
“কি হয়েছে? কিছু বলেছি তো নাকি?”
প্রাণেশা লাজুক হেসে বলল,
“শুনিনি কি বলেছেন। আবার বলুন।”
স্নিগ্ধ বাকা হেসে বলল,
“কাছে এলে বলবো।”
“আপনার সবসময় আজেবাজে কথা। ভালো কথা বলতে পারেন না।”
“নাহ, ভালো কথা বের হয়ইনা।”

স্নিগ্ধ প্রাণেশাকে কাছে টেনে ঠোঁটে ঠোঁট মিশিয়ে নিলো। মিনিট পাঁচেক পরে ছেড়ে দিয়ে বলল,
“এখন রুমে চলো। রাত হচ্ছে।”
“না, আরেকটু থাকি।”
“ঠিক আছে।”
স্নিগ্ধ প্রাণেশাকে বুকে জড়িয়ে মৃদু আওয়াজে গান আওড়ালো…..

“তোর আঁচলের গন্ধে আছে
চিনতে পারার সুখ..
টানলে কাছে লজ্জাতে তোর
নেমেছে চিবুক..
কল্পনাদের আশকারা দিই
ইচ্ছে গাছে জল..
অল্প আলো, অল্প ছায়া
গল্প আমায় বল..
আমি যেতে পারি
হেসেই পেরোতে পারি
অনেক অনেক অতল..
তোর কথা উঠে
আমার কপালে জোটে
দারুন খুশির দল..
কে তু্ই বল!
কে তু্ই বল!
কে তু্ই বল!”
প্রাণেশা হেসে বলল,
“আমি আপনার কে হই?”
স্নিগ্ধ হেসে বলল,
“আমার প্রাণ, আমার জান, আমার জীবন, আমার প্রেম, আমার ভালোবাসা।”

সৌরভ শুয়ে ফোন স্ক্রল করছে। সুবহা ওর পাশে থেকে বালিশটা নিয়ে রুমের দরজার খুলতে নিলে সৌরভ উঠে বসে বলল,
“কোথায় যাবে এখন?”
“ওই আসলে অন্য রুমে ঘুমাতাম।”
সৌরভ বিছানায় থেকে নেমে ওর সামনে এসে বলল,
“অন্য রুমে ঘুমাবে কেনো?”
সুবহা কিছু বলার আগেই সৌরভই মাথা নাড়িয়ে বলল,
“কি প্রমান করতে চাইছো! তোমার যার সাথে বিয়ে হয়েছে সে তোমাকে বিছানায় ঘুমাতে দেয়না? এইতো! চুপচাপ বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ো।”
সুবহা চুপচাপ বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো। সৌরভও পাশে শুলো। কিছুক্ষন পরেই সৌরভ ফোন রেখে ঘুমিয়ে পড়লো। তবে সুবহার মনে হয়না এই রাতে খুশিতে ঘুম হবে। কয়েকদিন ধরে সৌরভকে নতুন রূপে দেখছে।

সকাল সকাল সৌরভ ঘুম থেকে উঠে স্নিগ্ধর সাথে পাশেই বাজারে গেলো একটা জিনিস আনতে। আর সুবহা সেই শাড়ি পড়ার চেষ্টা করছে। একা একা কি আর পড়া যায়?
সৌরভ ১৫ মিনিট পরেই রুমে ঢুকতেই সুবহাকে বসে থাকতে দেখে অবাক হলো। সুবহা উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
“একটা কাজ করে দিবেন?”
“কি কাজ?”
“একটু প্রাণেশাকে ডেকে দিন না। ওকে কল করছি কিন্তু ধরছে না।”
সৌরভ রুম থেকে বেরিয়ে এলো। ড্রইং রুমে দেখলো প্রাণেশা কাজ করছে। সৌরভ হাই তুলে ডাকলো।
“প্রাণেশা শোন তো!”
“আসছি।”
প্রাণেশা উপরে চলে এলো। সৌরভের সামনে এসে বলল,
“বলো।”
“তোর বান্ধবী ডাকছে, দেখতো কি বলে।”
“হুমম যাচ্ছি।”
সৌরভ নিচে নেমে এলো। আর প্রাণেশা সুবহার কাছে। সুবহা ওকে দেখে বলল,
“এই শাড়িটা পড়িয়ে দে না। অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না। আর তোকে কতবার কল দিয়েছি!”
প্রাণেশা খিলখিলিয়ে হেসে সুবহার শাড়িটা পড়িয়ে দিলো। সুবহা বলল,
“তু্ই শাড়ি পড়া শিখলি কই থেকে?”
প্রাণেশা ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বলল,
“তোর ভাইয়ের থেকে।”
সুবহা কর্তব্যবিমূঢ় অবাক কণ্ঠে বলল,
“কিহ! ভাইয়ার থেকে?”
প্রাণেশা হেসে বলল,
“উনিই তো শিখিয়েছে। তু্ই চাপ নিস না, আমার ভাইও তোকে শিখিয়ে দিবে।”

স্নিগ্ধ বাহিরে ওর কাজিন সিয়াম, সাইফ, হিমি ওদের সাথে বাগানে কাজ করছে। সাইফ আর হিমি ওরা দুজন রফিক রেজা চৌধুরীর ছেলেমেয়ে। সাইফ ইউনিভার্সিটিতে পড়ে আর হিমি ক্লাস টেনে।
স্নিগ্ধরা বাগানেই আজ রাতে ছোটখাটো একটা পিকনিক করবে। প্রাণেশা স্নিগ্ধকে খুঁজতে খুঁজতে সেখানেই চলে এলো। স্নিগ্ধ ঘেমে ভিজে গিয়েছে মনে হচ্ছে যেনো এখনই পুকুর থেকে গোসল করে এসেছে।
প্রাণেশা দাড়িয়ে স্নিগ্ধকে দেখছিলো। স্নিগ্ধ কাজ শেষে শার্টটা খুলে কাঁধে রেখে বাতাসে দাঁড়িয়ে আছে। সেই সুযোগে রাইসা এসে দাড়ালো ওর পাশে। প্রাণেশা কালকে রাতেই সুবহার থেকে রাইসার ব্যাপারে জেনেছে।
রাইসা স্নিগ্ধর সাথে টুকটাক কথা বলছিলো। একটা সময় ও স্নিগ্ধর দিকে তাকিয়ে হেসে বলল,
“ভাইয়া তোমাকে কিন্তু এভাবে ভালোই লাগছে।”
তখনই প্রাণেশা এগিয়ে গিয়ে স্নিগ্ধ পিঠে জোরে চিমটি কেটে রাইসাকে বলল,
“উনি তোমার বড় ভাই হয়, বুঝেশুনে কথা বলবে।”
রাইসা হাসার চেষ্টা করে বলল,
“সিরিয়াস হয়ে বলিনি বুঝেছো! জাস্ট মজা ছিলো।”
প্রাণেশা স্নিগ্ধর দিকে তাকিয়ে হেসে দাঁত চেপে বলল,
“আপনার রুমে দাদু বসে আছে। ডাকছে অনেকক্ষণ ধরে।”
স্নিগ্ধ স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,
“ঠিক আছে যাচ্ছি।”
স্নিগ্ধ চলে গেলো। প্রাণেশা রাইসার দিকে তাকিয়ে বাকা হেসে সেখানে থেকে চলে এলো। রাইসা যেনো ওর হাসি দেখে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল।
স্নিগ্ধ রুমে এসে ওর দাদিকে পেলো না। তাই ডাকছিলো। প্রাণেশা তখন রুমের দরজা লাগিয়ে দিলো। স্নিগ্ধ বলল,

“দাদু কই?”
প্রাণেশা মুখ ভেঙচি দিয়ে বিছানায় এসে বসলো। আর মুখ বাকিয়ে বলল,
“ভাইয়া তোমাকে কিন্তু এভাবে ভালোই লাগছে।”
স্নিগ্ধ ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বিড়বিড় করে বলল,
“স্নিগ্ধ আজকে তু্ই বউয়ের হাতে পড়েছিস। তোর বউ জেলাস হয়ে এখন তোকে জ্বালিয়ে মারবে।”
স্নিগ্ধ হেসে বলল,
“তুমি বসো আমি শাওয়ার নিয়ে আসি।”
স্নিগ্ধ শাওয়ার নিয়ে এলো। প্যান্ট পড়লো ঠিকই কিন্তু প্রাণেশা ওকে শার্ট পড়তে দিলো না। স্নিগ্ধ যেটাই ধরছিল প্রাণেশা সেটাই কেড়ে নিচ্ছিলো। স্নিগ্ধ বলল,

তোমাতেই বসন্ত পর্ব ২৩

“বাহিরে যাবো। শার্ট দাও!”
প্রাণেশা ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলল,
“যান! না করেছে কে। আর এমনেও আপনাকে এভাবে খুব ভালোই লাগছে।”

তোমাতেই বসন্ত পর্ব ২৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here