তোমাতেই বসন্ত পর্ব ২৫
জেরিন আক্তার
প্রাণেশা স্নিগ্ধকে আর শার্ট পড়তে দিলো না। স্নিগ্ধ প্রাণেশার সাথে না পেরে বিছানায় এসে শুয়ে পড়লো। প্রাণেশা মুখটিপে হাসলো। পরক্ষনেই প্রাণেশা গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“শুয়ে পড়লেন কেনো? ঘুমাবেন?”
স্নিগ্ধ শ্বাস ছেড়ে বলল,
“বাহিরে যেতে দিলে না, তাহলে আর কি করবো ঘুমাবো। তোমার ঘুম পেলে তুমিও ঘুমাও।”
প্রাণেশা মুখটিপে হেসে উঠে দাঁড়িয়ে শক্ত গলায় বলল,
“হয়েছে, এখন শার্ট নিয়ে কোথায় যাবেন যান। তবে মনে রাখবেন এরপরে যদি ওই মেয়ের আশেপাশে দেখেছি তবে আপনাকে শুধু টাওয়াল পড়িয়ে রাখবো। বুঝেছেন?”
স্নিগ্ধ কপাল কুঁচকে নিয়ে বলল,
“কিহ শুধু টাওয়াল পড়ে থাকতে হবে? না ভাই আমি আর ওই মেয়ের সামনেও যাবো না। কথাও বলবো না।”
প্রাণেশা এই শুনে একটা শার্ট এগিয়ে দিয়ে অভিমানী কণ্ঠে স্নিগ্ধকে বলল,
“আপনি আমার মানে আমার। কেউ আপনাকে দেখে হাসলে আমার শরীর রাগে রি রি করে জ্বলে উঠে। বুঝেছেন?”
স্নিগ্ধ হেসে বলল,
“হুমম বুঝেছি ম্যাডাম।”
প্রাণেশা এগিয়ে এসে স্নিগ্ধর পরনের শার্ট টেনে কচলাতে কচলাতে বলে উঠল,
“রাগ করেছেন আমার উপরে? আসলে ওই সময় শার্ট দিতে চাইনি রাগ উঠেছিল।”
স্নিগ্ধ ওর দুগালে হাত রেখে বলল,
“এই নিয়ে আমার একটুও রাগ উঠেনি। দেখলাম আমার বউ কতটা ভালোবাসে আমায়। হাসো একটু এখন।”
প্রাণেশা আবার কঠোর গলায় বলল,
“ওই মেয়ে যদি সেধে এসে কথা বলে আপনি বলবেন না।”
স্নিগ্ধ খিলখিলিয়ে হেসে উঠে বলল,
“এত্ত জেলাস! ঠিক আছে আপনি যা বলবেন তাই হবে।”
বাহিরে থেকে সৌরভ ডাক দিলো। স্নিগ্ধ চুলটা সেট করে শরীরে পারফিউম দিয়ে চলে গেলো।
বিকেলে বাড়ির সবাই একসাথে বসে আছে। রাজিয়া বেগম, কোহিনুর বেগম, আলিয়া বেগম তিনজন মিলে বসে বসে প্রাণেশাকে পিঠা বানানো শিখাচ্ছে। পাশে সৌরভ বসে বোনকে দেখছিলো। প্রাণেশাকে অনেকবার অনেকভাবে খুশি হতে দেখেছে কিন্তু এই প্রথমবার সবার মাঝে এতো খুশি হতে দেখছে। সবাই প্রাণেশাকে মেয়ের মতো করে আদর করছে।
সৌরভ উঠে ধীর পায়ে হেটে বাহিরে এসে বাগানে চলে এলো। সবাই সেখানে পিকনিকের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সৌরভও টুকটাক কিছু কাজ করে দিলো। যেহেতু বাড়ির জামাই।
সন্ধ্যা বেলা…..
আসমা বেগম সব নাতি-নাতনিদের একসাথে নিয়ে বসে গল্প করছেন। সৌরভ চলে যেতে চেয়েছিলো কিন্তু স্নিগ্ধ আর প্রাণেশা ওকে শক্তপোক্ত ভাবে ধরে বসে আছে।
অনেকক্ষণ গল্প করার পরে স্নিগ্ধ সবাইকে নিয়ে পিকনিকের জায়গায় এলো। সবার উদ্দেশ্যে বলে উঠল,
“পিকনিক তো আর পরিশ্রম ছাড়াই হয়না তাই সবার কাজ ভাগ করে দিবো।”
সৌরভ চোখ ছোট ছোট করে বলল,
“আমাকে কাটাকাটি কিছু দিও না। ট্রাস্ট মি আমি চলে যাবো।”
স্নিগ্ধ হেসে বলল,
“না, তোমাকে এইসব কাজ দিবো না।”
সিয়াম বলল,
“বলো এখন কে কি করবে।”
স্নিগ্ধ বলল,
“সিয়াম তু্ই পানি এনে দিবি। সুবহা যা যা ধোয়া লাগে ধুয়ে দিবি। আর সাইফ তু্ই আগুন জ্বালিয়ে দিবি। সৌরভ ভাই আপনি দেখবেন সবাই কাজ ঠিকমতো করছে কিনা। আর রাইসা তু্ই কাটাকাটি করবি।”
সবাই সবার কাজ পেয়ে খুশি হলেও রাইসা মুখ ভার করে বলল,
“কাটাকাটি অন্য কেউ করলে হতো না।”
সাইফ বলল,
“একটা মাইর দিবো। আমরা কোনোটা নিয়ে না করেছি? তু্ই করছিস কেনো? চুপচাপ কাজ করবি।”
সিয়াম স্নিগ্ধর সামনে এসে হেসে বলল,
“সবার কাজ দিলে কিন্তু ভাবি কি করবে?”
স্নিগ্ধ হেসে বলল,
“তার কোনো কাজ নেই। সে আমাকে বাতাস করবে।”
সুবহা বলল,
“তাহলে রান্না কে করবে?”
স্নিগ্ধ বলল,
“রাঁধুনি ডেকে আনছি তোরা কাজ কর।”
স্নিগ্ধ চলে গেলো রাঁধুনিকে ডাকতে। আর সবাই যে যার কাজ শুরু করলো। রাইসা বসে মরিচ, পেঁয়াজ কাটছে। তখন এগুলো কাটাকাটির ভয়ে কেউ এই কাজ নিতে চায়নি। স্নিগ্ধ বেছে বেছে রাইসাকেই এই কাজের ভার দিয়েছে।
প্রাণেশা ভাইয়ের পাশে বসে সবজি কাটছে। সৌরভ প্রাণেশার কানে ফিসফিস করে বলল,
“তোকে কাজ করতে দেখে কষ্টই লাগছে রে..।”
প্রাণেশা ফিসফিস করে বলল,
“আমারটা তো সামান্য নিজের বউয়েরটা দেখো, মাছ, মাংস, চাল, ডাল সব ধুয়ে দিতে হবে।”
সৌরভ তা শুনে বলল,
“তোর এতো পুড়ছে তু্ই গিয়ে ধুয়ে দে।”
প্রাণেশা মুখ ভেঙচি দিয়ে সবজি কাটছিলো। বসেই বা থাকবে কেনো! স্নিগ্ধ প্রাণেশা, সৌরভের পাশে বসলো। প্রাণেশা থেকে থেকে গাজর ছোট ছোট স্লাইড করে কেটে খাচ্ছিলো। সৌরভ বোনের এই কান্ড দেখে বলল,
“কি করছিস ভাই এটা পিকনিক।”
প্রাণেশা ফিচেল হেসে একটুকরো গাজর সৌরভের মুখেও পুড়ে দিয়ে বলল,
“ভাইয়া তুমিও তো খাচ্ছো।”
সৌরভ চোখ বড়বড় করে তাকালো প্রাণেশার দিকে। স্নিগ্ধ বলল,
“তোমাদের আবার কি হলো!”
প্রাণেশা স্নিগ্ধর মুখেও একটুকরো গাজর দিয়ে বলল,
“ভাবলাম শুধু আমি একা গাজর খাচ্ছি তা তো দেখি আপনারাও খাচ্ছেন।”
ওর শয়তানি দেখে স্নিগ্ধ আর সৌরভ দুজন মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো। প্রাণেশা খিলখিল করে হেসে উঠল।
আরেকদিকে বেচারি রাইসা পেঁয়াজ-মরিচ কাটতে কাটতে অবস্থা খারাপ। বলতেও পারছেও না সইতেও পারছে না।
পিকনিকের রান্না করার জন্য এলেন রশিদ রেজা চৌধুরী আর রাজিয়া বেগম। দুজনের হাতের রান্না বেশ ভালো। স্নিগ্ধরা আগে গ্রামে এলে তার ছোট চাচার কাছেই বায়না ধরতো পিকনিকের রান্না করে দিতে।
রাত ১২ টার উর্ধে,
সবাই খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বসে আছে। সিয়াম, সাইফ ওরা দুজনে একটু আলাদা হয়ে দাঁড়িয়ে কিছু একটা আলোচনা করছে।
স্নিগ্ধ সুবহাকে বলল ওদের দুজনকে ডেকে আনতে। সুবহা ওদের কাছে গিয়ে কিছু একটা শুনতে পেলো। সুবহাকে দেখে সিয়াম হেসে বলল,
“তু্ই এখানে?”
“তোমাদের ডাকছে।”
সিয়াম সাইফ জানালো দুই মিনিট পরে আসবে। সুবহা তড়িৎ পায়ে এগিয়ে এসে দেখলো স্নিগ্ধ আর প্রাণেশা সেখানে নেই। সৌরভ বসে আছে। সুবহা সৌরভের হাত ধরে বলল,
“আমার সাথে আসুন তো একটু।”
সৌরভ কোনো কিছু না জিজ্ঞাসা করে ওর সাথে গেলো। কয়েককদম যেতেই সুবহা বলল,
“শুনুন সিয়াম আর সাইফ যদি কিছু খেতে বলে সেটা কিন্তু খাবেন না।”
“কেনো?”
“আমি শুনে এসেছি, ওরা আগে থেকেই প্ল্যান করেছে পিকনিক শেষে ড্রিঙ্কস খাবে। কিন্তু স্নিগ্ধ ভাই আর আপনাকে এসব বলেনি। আপনাদেরও খাওয়াবে। তাই আগেই বলতে এলাম। ওরা জোর করলেও খাবেন না।”
সৌরভ হেসে বলল,
“সমস্যা নেই। আমার অভ্যাস আছে।”
সুবহা কপালে ভাজ ফেলে বলল,
“মানে? আমি আপনাকে খাওয়ার জন্য না করছি আর বললেন অভ্যাস আছে!”
সৌরভ হেয়ালি করে বলল,
“টেনশন করো না, ড্রিঙ্কস করে নিজেকে ব্যালেন্স করতে পারি।”
সুবহা কিছু না বলে একটু অভিমান করেই চলে গেলো। যেতে যেতে বিড়বিড় করে বলল, “কাউকে ভালো কথা বলবো না। যার যেমন ইচ্ছা থাকুক আমার কি!”
সুবহা বাড়িতে ঢুকে সোজা রুমে এসে শুয়ে পড়লো।
মিনিট দশেক পরে সৌরভ ফিরে এলো রুমে। দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে সোজা ব্যালকনিতে চলে গেলো। সুবহা মাথা তুলে সৌরভকে দেখে আবার শুয়ে পড়লো। তবে ওর কথা শুনেছে সৌরভ। কি যে খুশি লাগছে সুবহার বলার বাহিরে।
আর অন্যদিকে স্নিগ্ধ প্রাণেশাকে নিয়ে উপরে এসে পড়েছে। যার কারণে সিয়াম, সাইফের প্ল্যান পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেলো।
পরদিন সকাল থেকেই ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। প্রাণেশা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে ব্যালকনিতে এলো।
মেঘে ঢাকা আকাশ থেকে টুপটাপ বৃষ্টি ঝরছে। ও রুমে ফিরে এলো। জানালার কাঁচ বেয়ে নেমে আসা জলের ফোঁটাগুলো বাইরের দৃশ্যটাকে ঝাপসা করে দিয়েছে। ভেজা মাটির গন্ধে চারপাশ ভরে গেছে, আর শীতল বাতাস মনটাকে অকারণেই শান্ত করে দিচ্ছে।
স্নিগ্ধ ঘুমিয়ে আছে। প্রাণেশা নিচে এসে সবার সাথে বসে আছে। আসমা বেগম প্রাণেশাকে কাছে ডাকলেন। প্রাণেশা গিয়ে তার পাশে বসলো। দুজনে ভালোই গল্প করতে শুরু করলো।
প্রাণেশা ফোন বের করে স্নিগ্ধকে একটিভ দেখে মেসেজ দিলো,
—উঠেছেন কি?
—হুমম। তুমি কোথায়? উপরে এসো!
—আপনি নিচে আসুন।
—তুমি এসে নিয়ে যাও।
—পারবো না। আপনি আসুন।
এই লিখে প্রাণেশা ফোনটা রেখে দিয়ে বসে আছে। স্নিগ্ধ রুম থেকে বেরিয়ে নিচে এলো। সিঁড়ির কাছে এসে দাঁড়িয়ে রইলো। প্রাণেশা খেয়াল করেনি স্নিগ্ধ এসেছে।
আসমা খাতুন স্নিগ্ধকে দেখে রসিকতা করে বললেন,
“এসো দাদুভাই এখানে বসো। তোমার বউকে লুকিয়ে রাখিনি, এখানেই বসিয়ে রেখেছি।”
স্নিগ্ধ হেসে এগিয়ে গিয়ে প্রাণেশার পাশে বসলো।
দূর থেকে ওদের দুজনকে একসাথে দেখে জ্বলে পুড়ে একাকার হয়ে যাচ্ছে রাইসা। স্নিগ্ধ যদি ওর সাথে রিলেশন না করতো তাহলে আজকে প্রাণেশার জায়গায় ও থাকতো।
সকাল পেরিয়ে দুপুর। এরপরে বিকেল। বৃষ্টি কমার নামই নেই। সবাই যে যার যার রুমে শুয়ে আছে। বৃষ্টির কারণে কেউ কোথাও বেরোতে পারছে না।
অন্যদিকে রাজিয়া বেগম, কোহিনুর বেগম আর আলিয়া বেগম, তিনজনে আজকেও ভিন্ন রকমের পিঠা বানাচ্ছেন। সুবহা এসে দাঁড়ালে ওকে একটা ট্রে ধরিয়ে দিয়ে কোহিনুর বেগম বললেন,
“যা জামাইকে এই গুলো দিয়ে আয়।”
সুবহা কিছু বলতে গিয়ে আবার থেমে গিয়ে চলে গেলো। রুমে আসতে আসতে ও সেখানে থেকে কয়েকটা পিঠা খেতে খেতে এলো। সৌরভ ব্যালকনিতে বসে ফেসবুক স্ক্রল করছিলো। সুবহা ট্রে রেখে বলল,
“এগুলো আপনার জন্য।”
“তুমি খাও।”
“আপনি খাবেন না?”
“পরে খাবো।”
সুবহা সেখানে থেকে যেতে যেতে আদেশ করে বলল,
“১ টা, ২টা যা পারেন খান। তবুও খেতেই হবে।”
সৌরভ ফোন রেখে ওর যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলো।
সন্ধ্যায় স্নিগ্ধ আর সিয়াম চলে গেলো বাজারে। প্রাণেশার একটু জ্বর জ্বর ভাব সেই জন্য ওষুধ আনতে। কেউ জানে না, জানলে অবশ্য হৈচৈ লেগে যাবে। আরও সবাই দুশ্চিন্তা করবে ভেবে স্নিগ্ধ কাউকেই বলেনি।
ও ওষুধ নিয়ে ফিরে এলো। প্রাণেশাকে ওষুধগুলো খাইয়ে দিয়ে শুয়ে থাকতে বলল। প্রাণেশা তাই শুয়ে রইলো।
মধ্যরাতে স্নিগ্ধ প্রাণেশাকে ছেড়ে অন্যদিকে ফিরে শুলো। প্রাণেশা নড়েচড়ে উঠে স্নিগ্ধকে ঘেঁষে শুলো। মিনিট পাঁচেক পরে প্রাণেশার ঘুম ভেঙে যায়। এরপরে বিছানায় থেকে নেমে ওয়াশরুমে চলে যায়। ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে বিছানায় বসে। সাইড টেবিল থেকে পানির গ্লাস নিয়ে পানি খেলো। সাথে খেয়াল করলো পানির জগে অল্প একটু পানি। ও জগটা হাতে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে নিচে এলো। কিচেন থেকে পানি ভরে নিয়ে ড্রইং রুমে এসে সোফায় বসলো। এখন আর ঘুম আসবে না। এরপরেই স্নিগ্ধ এলো। প্রাণেশা বলল,
“আপনি এখানে আসতে গেলেন কেনো? আমার ঘুম আসছিলো না বলে নিচে এসে বসলাম।”
স্নিগ্ধ কোনো কথা না বলে সোফায় বসে প্রাণেশাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে শুয়ে পড়লো। প্রাণেশা ওর এহেন কাজে হতবাক। হয়তো ঘুমের ঘোর কাটেনি। প্রাণেশা মাথা তুলে স্নিগ্ধর কাঁধে হাত রেখে বলল,
“এই রুমে চলুন।”
স্নিগ্ধ ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলল,
“ভোরের আগে ঠিকই চলে যাবো।”
ভোরে আসমা খাতুন নামাজ পড়ে রুম থেকে বেরিয়ে ড্রইং রুমের লাইট জ্বালিয়ে দিলেন। এতো তীক্ষ্ণ লাইটে প্রাণেশা চোখ-মুখে হাত দিয়ে নড়েচড়ে উঠল। স্নিগ্ধরও ঘুম ভেঙে গেলো। ও চোখ মেলে আসমা খাতুনকে দেখে প্রাণেশাকে জাগিয়ে দিয়ে উঠে বসলো। এরপরে দুজনে উঠে দাড়ালো।
আসমা খাতুন তো ওদের দেখে মিটিমিটি হেসে বলেই উঠলেন,
“দুইজনে কি ঝগড়া করে নিচে এসে ঘুমিয়েছো?”
প্রাণেশা লজ্জায় তাড়াহুড়ো করে উপরে চলে গেলো। এখনই আস্তে আস্তে করে সবাই এসে পড়বে। স্নিগ্ধ আসমা খাতুনের কথায় বলল,
তোমাতেই বসন্ত পর্ব ২৪
“ও রাতে পানির জন্য এসে এখানেই বসেছিলো। এরপরে আমি এখানে এসে কি করে ঘুমিয়ে গিয়েছি মনে নেই।”
সকাল ৮ টা,
স্নিগ্ধ সারা বাড়িতে প্রাণেশাকে খুজলো কিন্তু পেলো না। পরে হিমির থেকে জানতে পারলো ওকে আর রাইসাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেখেছে। স্নিগ্ধ তখনই চিন্তিত হয়ে গেলো কারণ দুজনের একজনও গ্রামের রাস্তা চিনে না।
