Home তোমাতেই বসন্ত তোমাতেই বসন্ত শেষ পর্ব 

তোমাতেই বসন্ত শেষ পর্ব 

তোমাতেই বসন্ত শেষ পর্ব 
জেরিন আক্তার

প্রাণেশা আর তার বাচ্চা দুজনেই সুস্থ আলহামদুলিল্লাহ।
পরেরদিন সন্ধ্যা ৭ টায়, আরশাদ খান এয়ারপোর্টে এসে অপেক্ষা করছেন সৌরভের জন্য। তারও আধঘন্টা পরে সৌরভ এসে আরশাদ খানের সামনে দাঁড়ালো। কেউই জানে না ও এই সময়ে দেশে আসবে।
আরশাদ খান ওকে রিসিভ করে নিয়ে গেলেন। যেহেতু এতদূর জার্নি করে এলো। তাই সোজা বাড়িতে এসে একটু রেস্ট নিয়ে শাওয়ার নিলো। এরপরে রাতের খাবার খেয়ে রুমে এসে সুবহাকে কল দিলো।

“কেমন আছেন?”
“ভালো। তুমি?”
“ভালো।”
“এই সুবহা, কোথায় তুমি?”
“হসপিটালে।”
“ওহ, কে কে আছো?”
“আমি, মা, ভাইয়া, বাবা, সিয়াম। একটু পরে বাবা, ভাইয়া, সিয়াম চলে যাবে। আমি আর মা থাকবো রাতে।”
সৌরভ খুশিই হলো একথা শুনে। যাই হোক হসপিটালে গেলে সুবহাকেও দেখতে পাবে।
ও টুকটাক কথা বলে বেরিয়ে গেলো হসপিটালের উদ্দেশ্যে।
হসপিটালে..
প্রাণেশা বাচ্চাকে নিয়ে শুয়ে আছে। স্নিগ্ধরা মাত্র চলে গেলো। প্রাণেশার সাথে আছে রাজিয়া বেগম আর সুবহা। তিনজনে টুকটাক কথাও বলছে।
এরই মাঝে রুমে নক করলেন আরশাদ খান। সুবহা দরজা খুলে ভালো-মন্দ জিজ্ঞাসা করার পরে তিনি ঢুকলেন রুমে। ওর পিছু পিছু সৌরভও ঢুকলো। সুবহা অবাক হলো। ওর সাথে সাথে সবাই। সৌরভ সুবহাকে ধরে হেসে এগিয়ে গেলো।
প্রাণেশা অবাক। ওর মুখে কোনো কথা নেই। যেনো স্বপ্ন দেখছে। সৌরভ প্রাণেশার সাথে কথা বলতে বলতে বাচ্চাটাকে কোলে নিলো। আর বাচ্চাটার দিকে হেসে বলল,

“পিচ্চি মামা কেমন আছো? তোমার মামা তো লেট্ করে ফেললো আসতে।”
প্রাণেশা উঠে বসে বলল,
“তুমি এলে জানালে না কেনো?”
সৌরভ হেসে বলল,
“জানিয়ে এলে সারপ্রাইস থাকতো বল!”

৩-৪ দিন যাওয়ার পরে প্রাণেশা আর ওর বাচ্চাকে হসপিটালে থেকে বাড়িতে আনা হলো। সবাই যেনো আরও দ্বিগুন আনন্দিত। গ্রামের বাড়িতে থেকেও সবাই এসেছে। বাচ্চার আকিকা করা হবে এর জন্য। আর অন্যদিকে স্নিগ্ধর খুশি দেখে কে? এমনেই প্রাণেশার সাথে থেকে সবসময়ই খুশি থাকতো, তার উপরে আবার ছেলে। নিজেই বাড়িটা মাতিয়ে রাখছে। অন্য কারোর আর প্রয়োজন নেই।
প্রাণেশা স্নিগ্ধকে ছেলের পাশে রেখে ওয়াশরুমে গেলো। স্নিগ্ধ ছেলের সাথে কথা বলছে, ছেলেকে আদেশ করে বলছে – শোনো মাকে বেশি জ্বালাবে না। মা যা বলবে তাই করবে। একদম কান্না করবে না। ভালো বাচ্চারা কিন্তু কান্না করে না।
প্রাণেশা ওয়াশরুমের দরজায় হেলান দিয়ে দুজনকে দেখছে। আর স্নিগ্ধর কথা শুনছে। এরপরে স্নিগ্ধর দিকে হেসে হেসে বলল,

“আপনি ওকে কি বলছেন? ও কি বুঝবে?”
স্নিগ্ধ বলল,
“বুঝবে না কেনো? অবশ্যই বুঝবে।”
এই বলে স্নিগ্ধ বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে হেসে হেসে বলল,
“তোমার মা কি বলছে? তুমি নাকি আমার কথা বুঝবে না। কি আসলেই বুঝবে না?”
প্রাণেশা বিছানায় বসে বলল,
“একটু বড় হোক অবশ্যই বুঝবে।”
এর মাঝে স্নিগ্ধর ডাক পড়ে ও বাহিরে চলে যায়।
সন্ধ্যার পরপর,

প্রাণেশা স্নিগ্ধকে ছেলের কাছে বসিয়ে রেখে রুমে থেকে বেরোলো। সারাদিন ধরে রুমে বসে থাকতে থাকতে বোরিং হচ্ছিলো। তাই পাশেই মিহির রুমে গেলো।
সুবহা চলে গিয়েছে। সৌরভের সাথে আবার কালকে সন্ধ্যায় আসবে।
এদিকে স্নিগ্ধ ছেলেকে আলগোছে নিজের শরীর ঘেষিয়ে শুইয়ে ঘুম পাড়ালো।
প্রাণেশা রুমে এসে দাঁড়াতেই বাবা-ছেলের এমন মুহূর্তটা ছবি তুলে নিলো।
আর রসিকতা করে স্নিগ্ধকে বলল,
“এখন মনে হচ্ছে আমিই বেশি হয়ে গেলাম বাবা ছেলের মাঝখানে।”
স্নিগ্ধ গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,
“তুমি কে? তোমাকে তো আমরা চিনি না। আমাদের বাবা-ছেলের মাঝে তোমাকে নিবো না।”
প্রাণেশাও তালে তাল মিলিয়ে বলল,
“আমাদের মা-ছেলের মাঝেও আপনাকে নিবো না। বুঝলেন?”
স্নিগ্ধ হেসে বলল,
“যাও কাউকে কারো দলে নিতে হবে না। তিনজনে মিলে মিশে জীবনটা পার করে দিবো।”

সৌরভ শশুরবাড়ি যাওয়ার জন্য জামাকাপড় গুছিয়ে নিচ্ছে। পাশে বসে আছে সুবহা। দুজনের মাঝে কথা হতে হতে সুবহা বলে উঠল,
“শুনছেন প্রাণেশার বাচ্চাটা কি কিউট না।”
সৌরভ নিজের কাজ করতে করতে বলল,
“হুমম কিউট। তারপর!”
সুবহা ভনিতা না করে আগের সুরেই বলে উঠল,
“হ্যা কিউট, তবে আমাদেরও একটা কিউট বাচ্চা হলে মন্দ হবে না তাইনা।”
সৌরভ ওর কথার মানে বুঝতে পেরে সুবহার দিকে তাকালো। সুবহা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। সৌরভ জামাকাপড় ভাজ করে রাখতে রাখতে বলল,
“বাচ্চার শখ সোজা বললেই পারো।”
সুবহা লজ্জা পেলো। সৌরভ ওর দিকে তাকিয়ে হেসে বলল,
“এতো লজ্জা পাও কেনো? আমি না করেছি? আল্লাহ দিলে হবে ইনশাআল্লাহ।”
সুবহা খুশিতে সৌরভকে জড়িয়ে ধরলো। সৌরভ সুবহার কপালে চুমু দিয়ে বলল,
“আমাদের বাচ্চা হবে, একটা সংসারও হবে। কেউ ছোট ছোট পায়ে সারা বাড়িতে হেটেও বেড়াবে।”
সুবহা সৌরভের দিকে তাকিয়ে আদুরে গলায় বলল,
“আপনিও অনেক কিউট।”
যা শুনে সৌরভ খিলখিলিয়ে হেসে উঠল।

গ্রামের বাড়িতে থেকে যারা যারা এসেছিলো তাঁরা আকিকার অনুষ্ঠানের পরের দিনই চলে গেলো। যেহেতু সবারই কর্মজীবন আলাদা আলাদা। এদিকে স্নিগ্ধর বাচ্চার নাম রাখা হয়েছে “সাইফান চৌধুরী সাইফ।”
এক রাতে…
রাত তখন ১ টা,
পিচ্চি সাইফান কাঁদছিলো। প্রাণেশা মাত্রই ঘুমিয়েছে। স্নিগ্ধ আগে বিছানায় থেকে নেমে বাচ্চাকে কোলে নিয়ে রুমজুড়ে হাটছিলো। আর ছোট ছোট করে কথা বলে ঘুম পাড়াচ্ছিলো।
প্রাণেশার ঘুম ভেঙে যায়। ও উঠে বসে স্নিগ্ধকে বাচ্চা নিয়ে হাঁটতে দেখে অবাক হতেও ভুলে গেলো। লোকটা এতো ভালো কেনো? ও নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করলো। এরপরে ওড়না গলায় ঝুলিয়ে বিছানায় থেকে নেমে স্নিগ্ধর সামনে গিয়ে বলল,
“আপনি আমাকে ডাকবেন না?”
স্নিগ্ধ বলল,

“সমস্যা নেই। তুমি ঘুমাও। উঠেছো কেনো? আমি পারবো।”
প্রাণেশা হেসে বলল,
“আরে আপনি পারবেন না। আমি ঘুম পাড়াচ্ছি দিন।”
স্নিগ্ধর থেকে জোর করে প্রাণেশা কোলে নিলো। এরপরে ওকে খাইয়ে আলগোছে শুইয়ে দিয়ে প্রাণেশা নিজেও পাশে শুলো। আর স্নিগ্ধকে বলল,
“আপনার ক্লান্ত লাগে না?….. আপনি এতো ভালো কেনো?”
স্নিগ্ধ প্রাণেশার পাশে শুয়ে বলল,
“না আমার একটুও ক্লান্ত লাগে না। কারণ তোমাতেই ফুটে ওঠে আমার হৃদয়ের সব ঋতুর রঙিন ফুল। তোমার ভালোবাসাতেই খুঁজে পাই জীবনের পূর্ণতা আর শান্তির ঠিকানা। তুমি পাশে থাকলে প্রতিটি দিনই যেন নতুন বসন্তের আগমন। বুঝলে?”
স্নিগ্ধ প্রাণেশাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে বলল,

তোমাতেই বসন্ত পর্ব ৩১

“তোমার হাত ধরে শুরু হওয়া পথ আজ আমাদের ছোট্ট সংসারের ঠিকানা। তুমি আর আমাদের সন্তানের হাসিতেই খুঁজে পাই জীবনের সব পূর্ণতা।
ভালোবাসা শুধু দু’টি মনের মিলন নয়, একসাথে গড়ে তোলা একটি পরিবারও। তাই আমার প্রতিটি বসন্ত, প্রতিটি সুখ, প্রতিটি পূর্ণতা তোমাতেই। তুমিই আমার জান, আমার প্রাণ, আমার প্রেম, আমার ভালোবাসা, আমার জীবন। আর তোমাতেই বসন্ত।”

সমাপ্ত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here