Home সুইটহার্ট সুইটহার্ট পর্ব ১৬

সুইটহার্ট পর্ব ১৬

সুইটহার্ট পর্ব ১৬
মোনালিসা মেহরোজ

রাত আনুমানিক ক’টা তার সঠিক হিসেব জানা নেই মেহরিনের। শপিং থেকে ফিরেছে সন্ধ্যা সারে সাতটা নাগাদ। আর ফিরেই ক্লান্ত শরীরটাকে ফ্রেশ করিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছিলো। তারপর কতক্ষণ পেরিয়ে গেছে তা ঠিক জানা নেই রমণীর। হুট করেই ফোনে মেসেজের টুংটাং আওয়াজে চোখমুখ কুঁচকে নিলো মেহরিন। ঘুমটা ছুটে গেলেও চোখ খুলতে পারছে না তেমন ভাবে। হাত তুলে ফোনটা হাতড়ে কোনমতে সামনে এনে চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে দেখতে পেলো রাত বারোটার কাছাকাছি।
মেহরিন তবুও নড়লো না। ভাবলো বাবা-মা তাকে ডাকে নি খেতে! মেহরিন স্ক্রিনের পানে ভালো করে তাকাতেই খেয়াল করলো শিফা মেসেজ পাঠিয়েছে নাগাতারভাবে। ভ্রু কুঁচকে গেলো মেহরিনের। এতো রাতে কি এমন গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে যে সকাল হওয়ার অপেক্ষা করতে পারলো না ভাবতে ভাবতে মেসেজ ওপেন করতেই চক্ষু চড়কগাছ রমণীর। একটা স্ক্রিনশট পাঠিয়েছে, যা আদ্রিয়ান স্টোরি দিয়েছে। স্ক্রিনশটের সাথে আরো অনেক কথা লিখেছে শিফা।
স্টোরিতে আদ্রিয়ান একটা মেয়ের হাত ধরে আছে। সাথে কিছু লাল গোলাপ, উপরে ক্যাপশনে দেওয়া ‘মাই লাভ’।

মেহরিনের মাথা ঘুড়ে উঠলো। চোখজোড়া আপনা-আপনিই ঝাপসা হয়ে এলো কেমন। আঙুল দিয়ে স্পর্শ করলো মেসেজটা বেশ কয়েকবার। কি ভেবে যেনো ঠোঁট কামড়ে সরাসরি আদ্রিয়ানের প্রোফাইলে’ই গেলো নিজ চোখে স্টোরিটা দেখতে। রমণী বুঝে উঠতে পারলো না আসল ঘটনা। তবে ঘটনা মিথ্যা নয়, আদ্রিয়ান সত্যিই এমন ক্যাপশনের সাথে স্টোরি দিয়েছে।
মেহরিন স্থির বসে রইলো বিছানায়। বুঝে উঠতে পারলো না এই রমণীটা আসলে কে যার সাথে আদ্রিয়ান এভাবে ছবি তুলেছে৷ আবার ভালোবাসার কথাও বলছে! মেহরিনের বুকটা ধক করে উঠলো। অজানা ব্যথায় কাহিল হয়ে পরলো রমণী। চিনচিনে ব্যথায় বুকটা কেমন ভার হয়ে এলো। মেহরিন চোখ মুছে নিলো খুব সন্তপর্ণে। তবুও অবাধ্য অশ্রুকণা অজানা কারণে আবারো গড়াতে লাগলো নির্বিকার ভাবে। মেহরিন বুঝে উঠতে পারলো না তার কি হচ্ছে। কেনো বুকে এই সুক্ষ্ম ব্যথায় আভাস পাচ্ছে সে! কেনো সহ্য করতে পারছে না এই দৃশ্যটা?
মেহরিন স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো ছবিটার পানে। বুকে যেনো কেউ পাথর চড়ে দিয়েছে এমন ভারী অনুভূত হলো৷ ফের চোখমুছে দু’হাতে ফোনটা চোখের সামনে ধরলো। ঠোঁট কেঁপে উঠল রমণীর—

—ক…কে এই মেয়ে?
উত্তর এলো না। আদ্রিয়ান কাকে ‘মাই লাভ’ বলছে তা বুঝতে পারলো না। হুট করেই রমণীর মস্তিষ্কে হানা দিলো সেদিনের দৃশ্য। আদ্রিয়ানে স্পর্শ, যখন পুরুষটির ঠোঁট তার ঠোঁট আঁকড়ে ধরেছিলো। মেহরিন চোখ বন্ধ করে নিলো। তবে কি ছিলো ওসব? আদ্রিয়ান তার সাথে কেনো ওসব করলো?
মেহরিনের চোয়াল অজানা কারণে শক্ত হয়ে এলো। আদ্রিয়ানের সাথে কথা বলতে চাইলো। মেসেজ পাঠাবে কি-না তা নিয়েও ভাবলো অনেক্ক্ষণ। তবে পাঠালো না। তার বদলে হুট করেই, একদম হুকরেই বাঁকা হাসি টেনে স্টোরিতে ‘হা’ ‘হা’ রিয়েক্ট দিয়ে বসলো বেচারি। এতে মনে মনে পৈশাচিক আনন্দও অনুভব করলো খানিক। এতোক্ষণের জমে রাখা কষ্ট খানিক মুহূর্তের জন্য গলে গেলো পৈশাচিকতায়।

পরেরদিন ভার্সিটিতে পৌঁছেই কপালে গাঢ় ভাজ পরলো মেহরিনের। শিফা-শাওনও একে অপরের পানে তাকিয়ে আবার অবাক লোচনে ছাত্র-ছাত্রীদের পানে তাকালো। সকলেই কেমন মিটিমিটি হাসছে মেহরিনের পানে চেয়ে। অনেকেই আবার কানে কানে ফিসফাস করছে। মেহরিন বুঝলো না কিছু। কপালে গাঢ় ভাজ ফেলে ধপধপ পায়ে এগিয়ে গেলো সামনের দিকে। তখনি তাদের ক্লাসমেট জুঁই হাসতে হাসতে এগিয়ে এলো তাদের সামনে৷
—কি রে মেহু? পাকনামি বেড়িয়েছে তোর?
মেহরিন শিফার পানে তাকালো৷ শিফা অবাক হয়ে আওড়ালো—-
—মানে? কি বলছিস? মেহু কি করেছে?
—কি করেনি তাই বল? আদ্রিয়ান স্যারের স্টোরি চেক কর।
মেহরিন অবাক হলো। সে কি করলো? কাল রাতের স্টোরি তো সে দেখেছে, তাহলে আবার কি দেখতে বলছে জুঁই? শিফা ফোন বের করে দেখতে লাগলো ঘটনা। তবে স্টোরি চেক করে মাথায় হাত রমণীর। মেহরিনের কান্ড দেখে দাঁতে দাঁত চেপে তার পানে তাকালো। মেহরিন তখনো ফ্যাল ফ্যাল করে তার পানে চেয়ে।

—আদ্রিয়ান স্যার একদম ঠিক কাজ করেছে। তুই যেমম স্যারও তেমন।
বলতে বলতে জুঁই সেখান থেকে চলে গেলো।
—দেখি তো কি হয়েছে?
বলতে বলতে শিফার হাত থেকে ফোনটা খপ করে কেড়ে নিলো মেহরিন। আর যা দেখলো, তাতে তার চোখ কোটর হতে বেড়িয়ে আসার উপক্রম। আচমকা অস্বাভাবিক হয়ে গেলো তার মুখের গড়ন। রমণীর চোখমুখ কেমন লাল হয়ে এলো। তীব্র রাগে কান গরম হয়ে এলো৷ ফোনটা আচমকা আছড়ে ফেললো শিফার গায়ে। অতঃপর ধপধপ পা ফেলে আদ্রিয়ানের কেবিনের দিকে পা বাড়ালো রমণী। পিছন থেকে হতভম্ব শিফা দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে আওড়ালো—-
—সত্যিই একটা আ*বাল তুই।
—আদ্রিয়ান স্যার কি করেছে রে?
শিফা ভ্রু কুঁচকে শাওনের পানে তাকালো। খিটখিটে মেজাজে বলে উঠলো—-
—তোর বা*ল পাকনা বোন পাকনামি করে স্যারের স্টোরিতে হা হা দিছিলো। সেটাই আবার স্যার স্ক্রিনশট মেরে স্টোরি দিছে, ক্যাপশনে বড় বড় অক্ষরে লেখা ‘এক আ*বাল’।

তীব্র রাগ আর অপমানের ঝাঁঝ নিয়ে ফুঁসতে ফুঁসতে মেহরিন এসে উপস্থিত হলো আদ্রিয়ানের কেবিনে। রাগের বশে কাঁপতে কাঁপতে ভুলে গেলো পারমিশন নেওয়ার কথা। ফলস্বরূপ না বলেই হনহনিয়ে ভেতরে পা রাখলো রমণী। আর রাখতেই থমকে গেলো তার পা জোড়া। সামনে আদ্রিয়ান আর প্রথম দিনের দেখা সেই মেয়েটা একসাথে বসে কি সুন্দর হাসি হাসি মুখ করে কথা বলছে। মেহরিনের হৃদয়টা ছ্যাঁত করে উঠলো। অন্যদিকে মেহরিনকে এভাবে হুট করে কোনরূপ অনুমতি ব্যতীত নিজের কেবিনে প্রবেশ করতে দেখে আদ্রিয়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। চোখমুখ শক্ত করে আচমকা খেঁকিয়ে উঠলো যুবক—-
—এই মেয়ে! ভদ্রতা জানো না? কারো রূমে পা রাখার আগে যে নক করে ঢুকতে হয় তা ভুলে কি গেছো? বুদ্ধি কি হাঁটুর নিচে নেমে গেছে তোমার?
মেহরিন হাতের মুঠোই শক্ত করে মাথা নুইয়ে নিলো। কাঁপতে লাগলো তীব্র রাগে, অপমানে আর লজ্জায়। আদ্রিয়ানের পাশে বসে থাকা মেয়েটা মেহরিনকে পা থেকে মাথা অবদি সরু দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করে ঠোঁট বাঁকালো।

—আদ্রিয়ান বেবি! এটা প্রথমদিনের ওই অসভ্য মেয়েটা না? আজ আবারো অসভ্যতামো করছে? তুমি কিছু বলছো না কেনো?
—রিলাক্স বেবি। আমি দেখছি।
অতঃপর মেহরিনের পানে চেয়ে শক্ত গলায় আওড়ালো—–
—মিস মেহরিন! কি চাই? থাম্বার মতো দাঁড়িয়ে না থেকে স্পিক আপ।
তীব্র অপমানে কান দিয়ে ধোঁয়া বের হতে লাগলো রমণীর। কি বলতে এসেছিলো তা যেনো গুলিয়ে ফেললো তাদের এহেন আচরণে। সাথে আদ্রিয়ানের এতোটা উগ্র আচরণে মেহরিনের হৃদয় টুকরো টুকরো হয়ে যেতে লাগলো। অজান্তেই চোখ দিয়ে পানি পরতে লাগলো টপটপ করে। যা স্বযত্নে গিয়ে আছড়ে পরলো মেঝেতে। মেহরিন ঠোঁট কামড়ে ধরলো দাঁতের সাহায্যে। সাথে বুঝতে পারলো, উপস্থিত এই মেয়েটাই নিশ্চয়ই কালকের ছবিটির মেয়ে, যাকে আদ্রিয়ান ‘মাই লাভ’ বলে সম্মোধন করেছিলো৷ মেহরিনের দম বন্ধ হয়ে আসে।

—তুমি কি কিছু বলবে? না বলার থাকলে প্লিজ, গেট আউট।
এ পর্যায়ে মেহরিন চোখ বন্ধ করে নিলো। দম খিঁচে ফিসফিস করে আওড়ালো—-
— আ….আপনার ওই পোস্টটা….!
—ওও, ওই পোস্টটা নিয়ে কথা বলতে এসেছো?
মেহরিন উপর নিচ মাথা নাড়ালো। আদ্রিয়ান ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো। তৎক্ষনাৎ তার পাশে বসে থাকা সারা নামক মেয়েটা চট করে বলে উঠলো—-
—ওয়েট অ্যা মিনিট, বেবি! তুমি কি ‘এক আ*বাল’ নামক ক্যাপশন দিয়ে যেই পোস্টটা করেছো সেটা নিয়ে কথা বলছো?
আদ্রিয়ান মাথা নাড়ালো। সারা চাঁদ পাওয়ার ন্যায় খুশি হয়ে হাসতে হাসতে আওড়ালো—
—ওও, তাহলে এটাই ওই আ*বাল। হা..হা..হা।
—তোর বা*ল।

চট করেই হাসি থেমে গেলো সারার। চোখজোড়া বড়বড় করে তাকালো মেহরিনের পানে। মেহরিন তখন জলন্ত দৃষ্টিতে তার পানে তাকিয়ে। দাঁত কিড়মিড় করতে করতে কথাখানা বলেই তাকিয়ে আছে, মনে হয় ভস্ম করে দিবে তার ওই দৃষ্টি দিয়ে। সারার হাসি বন্ধ হয়ে গেলো। আচমকায় মুখে কঠোরতার উদয় হলো।
—কি বললে তুমি?
—কালা তুই? শুনতে পাসনি?
সারার চোয়ালদ্বয় শক্ত হয়ে আসে। কিছু বলতেই যাবে তৎক্ষনাৎ আদ্রিয়ান ধমকে উঠলো মেহরিনকে—-
—মেহরিন। মুখ সামলে কথা বলো। মনে রেখো ও আমার হবু স্ত্রী। তোমার ছোট জা হতে যাচ্ছে।
মেহরিন চোখের পানি মুছে নিলো। হুট করেই বলে বসলো—-
—মনে রাখবো। সাথে এটাও আপনার হবু স্ত্রীকে মনে রাখতে বলবেন দেবরজী, যে আমি তার বড় জা হতে যাচ্ছি। তাই আমাকে নিয়ে এরূপ তাচ্ছিল্য করতে আসলে জা হয়ে কিন্তু আদর করে দাঁত ভেঙে দেবরের পকেটে রেখো দিবো। তখন আমার দেবরকে ফোকলা বউ নিয়ে সংসার করতে হবে। আসি…..।
কথাখানা শেষ করেই আদ্রিয়ানের পানে দাঁত কিড়মিড় করে একপলক তাকিয়ে গটগট পায়ে সেখান থেকে বেড়িয়ে গেলো মেহরিন। হতভম্ব আদ্রিয়ান, মেহরিনের কথাগুলো তার মাথার উপর দিয়ে গেলো। মেয়েটা বললো কি এসব? এরমধ্যেই আদ্রিয়ান খেয়াল করলো, মেহরিন তাকে দেবর বলেছ!
যুবকের মাথায় আগুন জ্বলে উঠলো আচমকা। মাথার চুল খামচে দাঁতে দাঁত পিষে তৎক্ষনাৎ কেবিন ছেড়ে বেড়িয়ে গেলো দ্রুত পদক্ষেপে। সারা তখনো হতবিহ্বল হয়ে তাকিয়ে আছে। মেহরিন কি বলে গেলো তাকে? তার দাঁত খুলে নিবে? হোয়াট! আনমনেই সারার হাত চলে গেলো তার দাঁতে। চমকে উঠলো রমণী। ভয়ে কেমন সিঁটিয়ে গেলো।

—মেহু! স্টপ মেহু, লিসেন টু মি। মেহু।
পিছন থেকে আদ্রিয়ানের উদ্বিগ্ন কন্ঠেও পা থামালো না রমণী। বরং তীব্র অভিমানে বুক ফুলিয়ে দ্রুত পা বাড়ালো সামনের দিকে। তবে আদ্রিয়ানের বিশাল ধাপের সাথে সে পেরে উঠলো না এতোটা দ্রুত হেঁটেও। করিডর পেরিয়ে সামনের দিকে ধাপ তুলতেই আচমকা পিছন থেকে আদ্রিয়ান চেপে ধরলো মেহরিনকে। মেহরিন চমকে উঠলো, তবে হাল ছাড়লো না। বরং আদ্রিয়ানের ছোঁয়া অগ্রাহ্য করতে ধস্তাধস্তি করতে লাগলো যুবকটির সাথে। তার এহেন আচরণে আদ্রিয়ানের রাগ তখন সপ্তমে পৌঁছালো।
যুবকের চোখমুখ কেমন হিংস্র হয়ে উঠলো সেকেন্ডের ব্যবধানে। মেহরিন তার হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করতেই আদ্রিয়ান মেহরিনের হাতের কবজি ধরে দেওয়ালে চেপে ধরলো। অন্যহাতে খামচে ধরলো রমণীর সরু কোমড়। মেহরিন কুঁকিয়ে উঠলো ব্যথায়। তবে টু’শব্দ অবদি করলো না ঠোঁটের ফাঁক গলিয়ে। বরং রক্তচক্ষু নিয়ে তাকালো সামনের পুরুষটির পানে।
আদ্রিয়ান মেহরিনের অগ্নিদৃষ্টিকে উপেক্ষা করে গেলো পুরোপুরিভাবে। উল্টো দাঁতে দাঁত চেপে আওড়ালো—-

—অভ্রের বউ হওয়ার বড্ড শখ জেগেছে তোমার? দেবর আমি? খুব দেবর বানানোর শখ?
—হবে না! আপনারও তো খুব শখ আমাকে ভাবি বানানোর। কাল তো খুব ভাবি ভাবি বলছিলেন। আপনার শখ থাকতে আছে, আমার নেই?
আদ্রিয়ান দাঁতে দাঁত চেপে মুখ এগিয়ে আনলো মেহরিনের মুখের কাছে। একটু হলেই স্পর্শ হতো ঠোঁট,তবে মেহরিন দাঁতে দাঁত চেপে মুখ ফিরিয়ে নিলো তৎক্ষনাৎ। আদ্রিয়ান হিসহিসিয়ে বলে উঠলো—-
—হিংসা হচ্ছে?
—কিসের জন্য?
চট করে প্রশ্ন করে বসলো মেহরিন। আদ্রিয়ান হাসলো সেভাবেই। আদ্রিয়ানের এতোটা কাছে আসায় তার পুরুষালী ঘ্রাণে মেহরিনের দম বন্ধ হয়ে আসে, তবুও নিজেকে সামলে নেয় রমণী।
—সারার সাথে আমার বিয়ে হতে চলেছে। ঠিক সেই তারিখে, যেদিন তোমার আর অভ্রের বিয়ে হবে।
মেহরিনের চোখ ভরে উঠলো পানিতে। মেয়েটা মাথা নিচু করে নিলো। তবে চোখের পানি ঝড়ে পড়ার আগেই হুট করেই বলে উঠলো—-

—ওহ, নাইস। কনগ্রাজুলেশন।
মেহরিনের অকপটে বলা কথাটায় আদ্রিয়ানের খুব লাগলো। চক্ষুদ্বয় হতে যেনো অগ্নিবর্ষিত হতে লাগলো৷ বুকের ভেতর অজানা আক্রোশে রক্ত গরম হয়ে এলো। কিছু বলতেই যাবে তখনি মেহরিন ফের আওড়ালো—-
—বিয়ে করবেন তা ঠিক আছে। গুড নিউজ ভাবিকে দিচ্ছেন সেটাও মানছি। তাই বলে এভাবে ধরে? হবু ভাবি হই আপনার? ভাইয়ের বউ। ডিস্টেন্স মেইনটেইন করে চলুন। তা না হলে সমাজের লোকেরা কি বলবে বলুন? হবু ভাবিকে দেওয়ালে এভাবে পিন করে কোন দেবর রাখে শুনি? ছি ছি পরে যাবে যে!
—মেহু…!!
আদ্রিয়ান সাপের ন্যায় ফোঁস করে উঠলো। তীব্র রাগে, মেহরিনের গা জ্বালানো কথায় কাঁপতে লাগলো যুবক। মেহরিন মনে মনে বেশ আনন্দ পেলো এবার। মনে পরলো একটু আগে তাকে অন্য একটা মেয়ের সামনে কিভাবে অপমান করেছে আদ্রিয়ান। আর এখন সেই অপমান করার সাধ মিটিয়ে দিবে। জন্মের মতো ঘুঁচিয়ে দিবে কথা শোনানো।

—ঠিকই তো বলছি। ভাবি হই না আমি……
মুখ দিয়ে পুরো কথাটা আর বের করতে পারলো না মেহরিন। তার আগেই আচমকা একদম হুট করেই কোনরূপ পূর্বাভাস ব্যতীত রমণীর ওষ্ঠদ্বয় নিজের ওষ্ঠের মাঝে চেপে ধরে আদ্রিয়ান। মেহরিন কেঁপে উঠলো সেই আকস্মিক হামলায়, সর্বাঙ্গে শীতল স্রোত বয়ে গেলো রমণীর। চোখজোড়া কেমন স্থির হয়ে এলো৷ মস্তিষ্ক অচল হয়ে এলো কেনো যেনো।
আদ্রিয়ানের হাত শক্ত হয়ে এলো মেহরিনের কোমড়ে। সরু কবজিটা এমনভাবে চেপে রেখেছে যে মেহরিনের দম বের হওয়ার উপক্রম। মেহরিনের মেইলি নরম ওষ্ঠদ্বয়ে আদ্রিয়ানের ন্যায় বলিষ্ঠবান পুরুষের খরখরে ঠোঁট জোড়ার ঘর্ষনে রমণীর ঠোঁট জোড়া নুইয়ে পরলো। র*ক্তের দেখা মিললো সেথায়। অন্যদিকে মেহরিনের মস্তিষ্ক সজাগ হতেই নড়েচড়ে উঠলো। মৃদু গুঙিয়ে উঠলো ব্যথায়।
—ছা…ছাড়ুন…।

আদ্রিয়ান ছাড়লো না। আর না মেহরিন তার আশা করলো। বরং নিজ থেকেই শক্তি সঞ্চয় করে হুট করেই আদ্রিয়ানকে ছিটকে ফেললো নিজের কাছ থেকে। এতোটা জোড়েই প্রবল এক ধাক্কা মারলো যে আদ্রিয়ান তাল সামলাতে না পেরে বেশ কয়েক’পা পিছিয়ে গেলো। মেহরিনের চোখ পানিতে ভরে উঠলো। আদ্রিয়ান তা খেয়াল করে বাঁকা হেঁসে ঠোঁটের কোণায় লেগে থাকা শেষ র*ক্ত বিন্দুটুকু স্বযত্নে মুছিয়ে নিতে লাগলো।
—বুঝতে পেরেছো আমি কে?

সুইটহার্ট পর্ব ১৫

মেহরিন চোখের পানি মুছে নিলো। এ পর্যায়ে ঘৃণা কাজ করলো আদ্রিয়ানের জন্য। একদলা থুথু ফেললো মাটিতে। শক্ত গলায় কিছু বলতেই যাবে, তার আগেই সেখানে আকস্মিক উদয় হলো অনাকাঙ্ক্ষিত এক ব্যাক্তির। মেহরিনের চোখ কোটর হতে বেড়িয়ে আসার উপক্রম। নিজের সকল দুঃখ, কষ্ট এক সাইটে ফেলে মাথায় হাত দিলো রমণী। বিড়বিড় করে আওড়ালো—-
—এক জাউড়াকেই সামলাতে পারছি না, আর এক জাউড়া হাজির। বাহ্,

সুইটহার্ট পর্ব ১৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here