সুইটহার্ট পর্ব ১৭
মোনালিসা মেহরোজ
রেস্টুরেন্টের গোল টেবিলে পায়ের উপর পা তুলে অতন্ত্য দাম্ভিক ভঙ্গিতে মুখোমুখি হয়ে বসে আছে অভ্র তালুকদার আর আদ্রিয়ান চৌধুরী। মুখের ভাব অতি গম্ভীর দু’জনের’ই। আদ্রিয়ানের ডান পাশে বিরক্তিকর মুখে বসে আছে সারা। আর ঠিক তার উল্টো দিকে বসে আছে মেহরিন। তার চোখেমুখেও সুস্পষ্ট তীব্র বিরক্তির ছাপ। তখন তার আর আদ্রিয়ানের ছোট্ট-খাট্টো একটা যুদ্ধের মাঝখানে উপস্থিত হয় অভ্র নামক আর এক জাউড়া। এতে চরম বিরক্ত হয় মেহরিন। যখন তখন যেখানে সেখানে না বলে হুট করে উপস্থিত হওয়ার কারণ সে ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। ঠিক যেমনটা বুঝে উঠতে পারে না আদ্রিয়ানের যেখানে সেখানে হুট করে দেওয়ালে ঠেসে ধরে চুমু খাওয়ার কারণ। এই দু’ভাইয়ের সাথে তার মতো ছোট্ট-খাট্টো মুরগির বাচ্চার ন্যায় মেয়েটার যে কি শত্রুতা আছে তা ভেবে পেলো না রমণী। জুসের স্ট্র’তে চুমুক বসিয়ে ফের চোখ রাখলো সামনে বসে থাকা দুই পুরুষের পানে। যাদের ভাবসাব বোঝা যাচ্ছে না এখনো।
আদ্রিয়ান অভ্রের থেকে চোখ সরিয়ে নিলো এ পর্যায়ে। সামান্য মুখ কুঁচকে ধোঁয়া ওঠা কফিতে চুমুক বসালো। অভ্রও তাই করলো৷ অতঃপর ধীর হস্তে কোট’টা টেনে ঠিক করে আচমকা আদ্রিয়ানের পানে হাত বাড়ালো অভ্র। হাসি হাসি মুখ করে আওড়ালো—-
—কংগ্রাজুলেশান্স ব্রো। এভাবে সারপ্রাইজ দিবি তা ভাবতেই পারিনি।
আদ্রিয়ান কুটিল হাসলো। হাত বাড়িয়ে দিতে দিতে আচমকা তা ফিরিয়ে নিলো।হাত ছুঁই ছুঁই অবস্থায় এভাবে ফিরিয়ে নেওয়াতে অপমানিত বোধ করলো অভ্র। তবুও মুখের ভাব স্বাভাবিক রাখলো।
—থাঙ্কিউ।
বলেই ফের কফিতে ঠোঁট ছোঁয়ালো আদ্রিয়ান। এক চুমুক বসিয়ে আওড়ালো—
—আসলে কি বলতো! হুট করেই দীর্ঘ পাঁচ বছর পর দেশে ফিরে বিয়ে করছিস বলে সারপ্রাইজ দিলি আমায়। তাই আমিও ভাবলাম তোকে সারপ্রাইজ দিই,
অভ্র হাসলো।
—বাই দ্যা ওয়ে। আমাদের বিয়েটা কিন্তু একদিনেই।
—হুম, জানি। বেশ ভালোই একটা দিন বেছে নিয়েছিস কিন্তু।
—একদম।
কথাটা বলেই বাঁকা নজরে মেহরিনের পানে একবার চাইলো আদ্রিয়ান। মেহরিন চোখ উল্টালো বিরক্তিতে। ধপ করে বসা হতে উঠে পরলো রমণী। কাঁধের ব্যাগখানা তুলে আওড়ালো—
—আমার দেরি হয়ে যাচ্ছি, আমি যাচ্ছি। আপনারা গল্প করুন। কেমন!
ভ্রু কুঁচকে গেলো অভ্রের।
—এখনি তো বসলাম। আর একটু পর উঠো, আমি বাসায় ড্রপ করে দিবো যাওয়ার সময়। আপাতত ছোট জা’র সাথে পরিচয় করো।
মেহরিন বাঁকা নজরে সারার পানে তাকালো। সারা অবশ্য ফিরেও চাইলো না তার পানে। আদ্রিয়ান সুক্ষ্ম দৃষ্টিতে মেহরিনকে পরখ করলো। মেহরিন ঘাড় বাঁকিয়ে চোখ উল্টালো ফের। বিরক্তিকর শ্বাস ফেলে বললো—
—ইন্টারেস্ট নেই আপাতত। যেটুকু পরিচয় হয়েছে সেটুকুই এনাফ। আমি আসছি, আপনাকে আর কষ্ট করে ড্রপ করতে হবে না।
—হ্যাঁ হ্যাঁ যাও। আমারো ইন্টারেস্ট নেই তোমার সাথে কথা বলার।
সারা ঠোঁট বাঁকালো। মেহরিন অবশ্য বললো না কিছুই। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আদ্রিয়ানের পানে একপলক তাকিয়ে গটগট পায়ে রেস্টুরেন্ট হতে বেড়িয়ে গেলো। এদের তামাশা দেখার ন্যায় অতিরক্তি সময় তার নেই।
মেহরিন যেতেই কফিতে শেষ বারের মতো চুমুক বসিয়ে আদ্রিয়ানও উঠে দাঁড়ালো। অভ্র ভ্রু কুঁচকে নিলো ফের।
—কি রে! তুই কোথায় যাচ্ছিস?
—কাজ আছে, অফিসে যেতে হবে। ড্যাড ডেকেছে।
—এখনি?
মাথা দোলালো আদ্রিয়ান। সারাও চট করে দাঁড়িয়ে তার বাহু জড়িয়ে ধরলো অতন্ত্য আহ্লাদী ভঙ্গিতে।
—বেবি, তাহলে আমাকে ড্রপ করে দিয়ে অফিসে যাও।
আদ্রিয়ান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সারার পানে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আলগোছে নিজের হাতটা সারার হাত হতে সরিয়ে নিলো৷ টিস্যু পেপার তুলে গটগট পায়ে এগিয়ে গেলো রেস্টুরেন্টের বাহিরের দিকে।
—সরি, আই ক্যান্ট।
সাইত্রিশ তলা বিশিষ্ট বিশাল আকৃতির কাচে ঘেরা অফিসটা দাঁড়িয়ে আছে শহরের ঠিক মধ্যি খানে। মাথা উঁচু করে আকাশের বুক চিরে দীর্ঘ এই দালানটার অগ্রভাগে বড়বড় অক্ষরে খোদাই করা আছে ‘চৌধুরী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রি’। একুশ তলার বিশাল বিলাসবহুল একটা অফিস-রূমে নিজের কাজে ব্যস্ত আশিক চৌধুরী। গায়ে ফরমাল শার্ট-প্যান্ট। হাতে ঘড়ির সাথে মুখটা অতন্ত্য গম্ভীর, এক ধরনের পেশাদারিত্বের ছোঁয়া লেপ্টে আছে সারা বদনে। চোখদুটো আবদ্ধ ল্যাপটপের স্ক্রিনে। পাশেই তার অ্যাসিস্ট্যান্ট রুহুল অতি দক্ষতার সাথে নতুন একটা ডিল নিয়ে আলোচনা করছেন, সকল তথ্যাদি সংরক্ষণ করে তা খুঁতিয়ে দেখে বুঝিয়ে দিচ্ছে আশিক চৌধুরীকে। আশিক চৌধুরী আপাতত সেদিকেই ধ্যানমগ্ন।
এরমধ্যেই কেবিনে কোনপ্রকার নক না করেই হুট করেই আগমন ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত এক ব্যাক্তির৷ কাজের সময় কোনরূপ অনুমতিব্যতীত এভাবে প্রবেশ করার চট করে উপস্থিত দু”জনেই দরজার পানে তাকায়। নাজমা তালুকদারকে দেখে আশিক চৌধুরী কপাল কুঁচকে নিলেন। রহুল সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে নিজের দ্বায়িত্ব অনুযায়ী কাউকে পরোয়া না করে বেশ কঠোর গলায় বলে উঠলো——
—এক্স কিউজ মি! এটা কোন ধরনের মানার্স? এসময় কাউকে এলাউ না, তা জানিয়ে দেওয়া হয়নি? আর পারমিশন ছাড়া হুট করে এভাবে আশার মানে কি?
বলেই দ্বায়িত্বরত আর একজন স্টাফ আরশাদকে ডাকতে উদ্ধুত হলো রুহুল। নাজমা তালুকদার তখন দাম্ভিক ভঙ্গিতে হেঁসে উঁচু হিলের ঠকঠক আওয়াজ তুলে এগিয়ে এলেন।
—বাহ্, নিজের ভাইয়ের কেবিনে আসতেও আজকাল পারমিশন লাগে?
আশিক চৌধুরী কিছু বলতেই যাবেন। ফের রুহুল বলে উঠলেন—–
—সরি ম্যাম। কাজের জায়গায় আমরা সম্পর্ক দেখিনা। ইনফ্যাক্ট এই নিয়মটা আমাদের বস-এর’ই শেখানো।
—উহু, রহুল। এনাফ। আমরা পরে আলোচনা করি। তুমি এখন এসো।
আশিক চৌধুরীর কথায় মাথা নাড়ালো রহুল।
—জ্বী স্যার। এজ ইউর উইশ।
রুহুল কাগজপত্র গুছিয়ে গটগট পায়ে বেড়িয়ে গেলো রূম থেকে। আশিক চৌধুরী সেদিকে একবার তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। অতঃপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি বোলালেন স্বীয় বোনের পানে। নাজমার হঠাৎ আগমনের যথাযথ কারণ সুস্পষ্ট নয় তার কাছে। কপালে পরলো কয়েক দস্তর ভাজ।
—কি চাই?
ভাইয়ের কথায় ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলেন নাজমা তালুকদার।
—যা আগেও চাইতাম।
এ পর্যায়ে তীব্র বিরক্তিতে ‘চ’ বর্ণ উচ্চারণ করে বসেন আশিক চৌধুরী।
—মাথা খারাপ তোর?
—শুধু সম্পত্তির জন্য।
—তোর ভাগ তোকে দিয়ে দিয়েছি।
আশিক চৌধুরীর কথায় হুট করেই নাজমা তালুকদারের মুখে তীব্র হিংসা ফুটে উঠলো। রাগে রীতিমতো থরথর করে কাঁপতে লাগলেন তিনি। নাকের পাটা ফুলিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে আওড়ালেন—-
—কিন্তু আমার ওই জমিটায় চাই। যেই জমিটা তোমার বাবা তোমার ছেলের নামে করে দিয়েছে। এ্যাট এনি কস্ট আমি ওই প্রপার্টি নিজের নামে চাই। বুঝেছো?
আশিক চৌধুরী হাসলেন। মনে মনে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলেন তিনি। নিজের বোন হয়ে কি-না তার ছেলের সাথে এভাবে কমপিটিশন করছে? পারছে এটা করতে? এতিমদের বরাদ্দকৃত জমিতে এভাবে কুনজর দিতে তার বুক কাঁপছে না? নাজমার কি আইডিয়া আছে ওই জমিতে কত অসহায় এতিম ছোট ছোট বাচ্চাদের বাস! সেখানে কত দরিদ্র পরিবার নিজেদের আশ্রয় গড়ে তুলেছে?তাদের শেষ আশ্রয় ওটা। যা আদ্রিয়ানের নামে থাকলেও স্বাধীনতা সেই অবুঝ শিশুদেরসহ দরিদ্রদের।
আশিক চৌধুরীর বাবা নিজের নাতিকে কয়েক একর-এর সেই জমি দিয়ে গেছিলেন ভালোবেসে। তখন অবশ্য সেটা ফাঁকা পরে ছিলো। দীর্ঘ দিন কোন ধরনের যাতায়াত না থাকায়, এবং আদ্রিয়ানের সিদ্ধান্তে বেশ কিছু বছর আগে সেখানে এতিমখানা নির্মাণ হয়। বৃদ্ধাশ্রম থেকে শুরু করে বাচ্চাদের জন্য খেলার মাঠ, মসজিদ ও মাদ্রাসা। সাথে গরিবরা নিজেদের ঘাঁটি গেড়ে তা এখন বস্তিতে পরিনত হয়েছে।
যেই জমির প্রতি প্রথম থেকেই তীব্র লালসা কাজ করতো নাজমার। আদ্রিয়ানের নামে জমিটা উইল করে দেওয়াতে নিজের বাবার সাথেও সম্পর্ক ভালো ছিলো না খুব একটা। এর কয়েক বছর পর আশিক চৌধুরী বাবা অবশ্য মা*রা যান, তবে নাজমার লোভ তখনো কমেনা। আদ্রিয়ানকে যেভাবে হোক ফাঁদে ফেলে সেই জমিটা হাসিল করার ধান্দায় মশগুল তিনি। আর আজ আবার এসেছে ভাইয়ের কাছেস সেই জমি নিয়ে কথা বলতে!
আশিক চৌধুরী দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। যাই কিছু হয়ে যাক আদ্রিয়ান কখনোই ওই জমি নাজমার হাতে দিবে না। নিজের প্রাণ থাকতে তো নয়’ই। ভাবনার মাঝেই নাজমা তালুকদার আশিক চৌধুরীর সামনে তুড়ি বাজালেন বাঁকা হেঁসে। আশিক চৌধুরীও হাসলেন সেই তালে। দৃঢ় গলায় বললেন—
—কিন্তু ওটা তো তুই পাবি না।
—কেনো?
—খুব ভালো করেই জানিস কেনো?
নাজমা তালুকদার তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলেন।
—ওহ জাস্ট ফাক অফ ভাই। তোদের এতো মায়া থাকলে ওই অনাথদের নিজেদের ঘরে জায়গা দে, তবুও ওই জমিটা আমার চাই। আর হ্যাঁ,
নাজমা তালুকদার এক সেকেন্ড থামলেন। আশিক চৌধুরীর পানে চেয়ে বাঁকা হেঁসে বলে উঠলেন—-
—এই কথাটা তোর ওই জনদরদী ছেলে মিস্টার আদ্রিয়ান চৌধুরীকেও জানিয়ে দিস। হয় জমি ছাড়বে, নয় ভালোবাসা। দু’টোর মধ্যে একটা তাকে হারাতে হবে। হবেই।
বসা হতে উঠে এক ঝটকায় গটগট পায়ে রূমের দরজা খুলে বেড়িয়ে গেলেন নাজমা তালুকদার। আশিক চৌধুরীর চোয়ালদ্বয় শক্ত হয়ে উঠলো। শিকারী চোখদুটো এক নিমিষে জ্বলে উঠলো তার। দাঁতে দাঁত চাপলেন ভদ্রলোক।
—মিসেস নাজমা তালুকদার। আমার ছেলের পিছনে লেগে একদম’ই ঠিক করিস নি। ও তো কিছুই হারাবে না, না অসহায়দের জমি—না ভালোবাসা। উল্টো তোদের মা-ছেলেকে এমন শিক্ষা দিবো যে সারাজীবন সেটা মনে রাখবি। অ্যান্ড আই প্রমিস ইউ মাই ডিয়ার সিস্টার।
মেহরিন বাড়িতে ফিরেছে সেই দুপুরবেলা। আর ফেরার আধাঘন্টা বাদেই লক্ষ করলো তার গলার স্বর্নের চেইনটা নিখোঁজ। রমণীর বুকটা হুট করেই ধক করে উঠলো। চেইনটা তার বাবা তাকে বানিয়ে দিয়েছিলো ছোট্টবেলা। লাভ শেভের ভেতরে তার নাম’ও খোদাই করা আছে ছোট্ট করে। মনোয়ার শেখের অতন্ত্য আদরের সন্তান মেহরিন। সে হওয়ার পর দ্বিতীয় কোন সন্তানের স্বপ্নও দেখেননি। চেইনটা মেহরিনের দশম’তম জন্মদিন উপলক্ষে তিনি পড়িয়ে দিয়েছিলেন। আর সেই থেকেই সেটা গলায় ছিলো৷ না-তো মেহরিন সেটা খুলেছে আর না কোনদিন হারিয়েছে। তবে আজ হুট করেই কোথায় কি হলো কে জানে? গোসল করার সময় লক্ষ করলো চেইনটা গলায় নেই।
মেহরিনের গলা শুকিয়ে কাঠ। পুরো ঘর তন্নতন্ন করে খুঁজে চলেছে রমণী। তবে কোথাও প্রিয় জিনিসটার হদিস নেই। চোখে পানি এসে গেছে, বুকের ভেতরটা কেমন ধুকপুক ধুকপুক করছে চেইনটা হারিয়ে।
মেহরিন সারাঘর এক নাগারে খুঁজে চললেও তার হদিস না পেয়ে হতাশ হলো। ধপ করে বসে পরলো বিছানায়। সাথে মনে হলো ভার্সিটিতে পরে গেলো না-তো! আর যদি সেখানেই পরে যায় তাহলে তা কি করে ফিরে পাবে সে? মেহরিন ভাবতে পারেনা। চোখের কোণে পানি জমে। বাবাকে কি জবাব দিবে চেইনের কথা জিজ্ঞেস করলে? নিশ্চয়ই বাবা খুব অভিমান করবে তার উপর!
ভাবনার মাঝেই ফোনের টুংটাং আওয়াজে ধ্যান ভঙ্গ হয় রমণীর। বিষন্ন চেহারায় সরু হাত তুলে আলগোছে মুছে নেয় সুশ্রী মুখখানা। অতঃপর ধীর হস্থে ফোন তুলে দেখতে পায় আদ্রিয়ান মেসেজ করেছে। হুট করেই কপালে ভাজ পরে মেহরিনের। এসময় আদ্রিয়ান কেনো নক করছে তা ঠিক বুঝে উঠতে পারলো না রমণী। মেসেজটা চেক করে বুঝতে পারলো শহরের বাহিরে কোন এক রিসোর্টের নাম উল্লেখ করা। নানান ডিরেকশনসহ সেখানকার বিভিন্ন তথ্যাদি। মেহরিন কপালে স্লাইড করতে দেখতে লাগলো তা। এর মধ্যেই টুং করে আর একটা মেসেজ ভেসে উঠলো ফোনের স্ক্রিনে। যেখানে গুটিগুটি অক্ষর লেখা ‘Get ready, sweetheart, our new chapter begins right here at this resort!’
মেহরিনের ভেতরটা কেঁপে উঠলো হুট করেই। তনু মনটা ছলকে উঠলো অজানা আশংকায়। ধপ করে ফোনটা পরে গেলো তার হাত থেকে। মেসেজটার যথাযথ অর্থ ঠিক বুঝে উঠতে পারলো না রমণী। তিরতির করে কাঁপতে থাকা ওষ্ঠযুগল ভেদ করে মাত্র বেড়িয়ে যায় কয়েকটা ভাঙ ভাঙা শব্দ—
—ন..নতুন অধ্যায় মানে?
অজানা কারণে বুকের ভেতরটা শিউরে উঠলো তার৷ শিরা-উপশিরায় অদ্ভুত অনুভূতি খেলা করতে লাগলো। যার সঠিক নাম অজানা মেহরিনেরও। আদ্রিয়ান তাকে এরূপ মেসেজ কেনো পাঠালো তা বুঝে উঠতে পারলো না ঠিক! আর না ভাবার ন্যায় অতিরক্তি মানসিক শক্তি পেলো।
দেখতে দেখতে মাঝখানে বেশ কয়েকটা দিন কেটে গেছে। তালুকদার বাড়িসহ শেখ পরিবারেও চরম ব্যস্ততায় কাটছে দিন। সাথে চৌধুরী পরিবারও যোগ দিয়েছে। একসাথে দু দু’টি জুটির বিয়ে বলে কথা। সেই আয়োজনে ব্যস্ত সকলে।
সকাল সকাল সুফিয়া বেগম সারাদিনের রান্না একেবারে করে টিফিন প্যাক করে নিয়েছেন। এগারোটার দিকে বের হবেন।দীর্ঘ পথের যাত্রা, বাহিরের খাবার সন্তানদের খাওয়াবেন না বলেই মায়ের এই ব্যাবস্থা। মনোয়ার শেখের ব্যাস্ততারও শেষ নেই। আত্নীয়-স্বজন কে কে যাচ্ছে সেই লিস্ট করতে জান যায় যায় অবস্থা তার। মেহরিন, শিফা-শাওন নিজেদের ব্যাগ প্যাক করায় ব্যাস্ত। গায়ে হলুদ থেকে শুরু করে বিয়ের পুরো অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে একটা দামী রিসোর্টে৷ রিসোর্টটি শহরের বাহিরে অবস্থিত, চৌধুরী পরিবার নিজ দ্বায়িত্বে এটি বুক করেছে অনুষ্ঠানের জন্য।
সুইটহার্ট পর্ব ১৬
অন্যদিকে সেদিনের সেই মেসেজের পর থেকে মেহরিন যেনো আরো চুপচাপ হয়ে গেছে। আদ্রিয়ানের সাথেও কথা হয়নি এ ক’দিন। সেদিন সেই মেসেজে পাঠানোর উদ্দেশ্য কি ছিলো এখনো ঠিক বুঝে উঠতে পারেনা রমণী। আদ্রিয়ানের সাথে তার কিভাবে নতুন কোন অধ্যায়ের সূচনা হবে! প্রথমদিকে আদ্রিয়ানের পাঠানো সেই রিসোর্টির ঠিকানা মেহরিনের কাছে ধোঁয়াশা ছিলো, সেই রিসোর্টের ঠিকানা কেনো সেদিন আদ্রিয়ান তাকে পাঠিয়েছিলো তা বুঝতে না পারলেও আজ ঠিকই বুঝতে পেরেছে, কারণ সেই রিসোর্টেই তাদের আজকের যাত্রা। তাদের বিয়ের সকল অনুষ্ঠান সেখানেই আয়োজন করা হবে। আর সেখানেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে আদ্রিয়ান চৌধুরী।
