Home তোমার আমার গল্প তোমার আমার গল্প পর্ব ১৭

তোমার আমার গল্প পর্ব ১৭

তোমার আমার গল্প পর্ব ১৭
noorayn

আরহাম অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো –
“বেবী কথা বলতে পারে?”
“না, তবে আমি বুঝতে পারি ও কি চায়।”
“এখন বেবী কি চাচ্ছে?”
আলিশা হাত দুই সাইডে মেলে বললো –
“এতগুলা টেডি বিয়ার।”
“বেবী চাচ্ছে নাকি বেবীর মাম্মা?”
“দুজনেই।”
“কোনটা নিবি জলদি নে। কেউ আমাদের চিনলে সমস্যা হতে পারে।”
–আলিশা গুনে গুনে তিনটা বড় টেডিবিয়ার নিয়েছে। সেগুলা গার্ডের হাতে রেখে তারা সামনের দিকে গেলো।
–একটা ম্যাটারনিটি শোরুমে ঢুকে আলিশা নিজের জন্য বেশ কিছু কাপড় নিলো।
এদিকে, আরহাম বারবার পাশ থেকে বলছে – “থাম এবার, আমাকে ফকির বানিয়েই দম নিবি তুই।”

“তোমার কি টাকার অভাব আছে?”
“অভাব না থাকলেও তুই এভাবে শপিং করতে থাকলে শীগ্রই অভাবে পড়তে হবে।”
“আমি আরও অনেককিছু কিনবো। হুহহহ, সরো তো।”
“তোর বাপ কি আমাকে টাকা দিয়েছে?”
“বারবার আমার বাপের কথা বলো কেন? দাড়াও,
এখনই বাবাকে কল দিয়ে বলছি, আমাকে টাকা দিতে। আমার
লাগবেনা তোমার টাকায় শপিং।”
“ন্যাকামি কম কর।”
“দাড়াও, এখনই করছি কল…”
“নাটক করবিনা, বেয়াদব মহিলা। আমার এত খারাপ দিনও আসেনি যে শশুরের টাকায় বউকে শপিং করাতে হবে।”

“তাহলে বারবার বাধা দিচ্ছো কেন?”
“আমাকে লুটে ফেলবি তুই।” কথাটি বলেই আরহাম পাশে তাকাতে দেখলো আলিশা নেই।
“কিরে? এই মহিলা আবার কই গেলো?” মনে মনে আওড়াতেই একটু দূরে তাকাতেই দেখলো ; আলিশা বেবীদের দোলনার সেকশেনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি যেন দেখছে।
আরহাম কাছে গিয়ে বললো –
“এখানে কি করছিস?”
“বাবুর জন্য দোলনা দেখছি।”
“বাবু কি এসেছে?”
“আসছে তো…আমি ওর জন্য এই দোলনা টা নিবো।”
“যখন আসবে তখন নিস। এখন দরকার নেই।”
“আমার এখনই লাগবে।”
–আরহাম দোলনাটার দিকে তাকিয়ে দেখলো – সাদা রঙের অনেক সুন্দর একটা দোলনা ; বেশ কিছু আধুনিক সিস্টেমও রয়েছে এতে।
আবার, আলিশার দিকে তাকিয়ে দেখলো, সে অনেক এক্সাইটেড হয়ে আছে এটা কেনার জন্য। তাই আর কোনো কথা না বলে দোলনাটা কিনে নিলো।
আলিশা অন্যদিকে যেতে যেতে বললো –

“শুনো, আমার না অনেক গুলা কাপড় লাগবে।”
“একটু আগেই না নিয়েছিস?”
“সেগুলা তো আমার জন্য নিয়েছি।”
“তাহলে এখন কার জন্য নিবি?”
“বাবুর জন্য।”
“কি বাবু হবে সেটা জানিস?”
“না”
“তবে, কোন বাবুর জন্য কিনবি? ছেলে নাকি মেয়ে?”
–আলিশা ভেবে দেখলো – তাইতো… সে এখন মেয়ে বাবুর কাপড় নিবে নাকি ছেলে বাবুর কাপড়?
এসব ভাবতে ভাবতেই আরহাম তাড়া দিলো অন্যাদিকে যাওয়ার জন্য।
–তারা শপিং মলে হাঁটতে হাঁটতেই আলিশা হঠাৎ থেমে গিয়ে আরহামে দিকে কেমন করে যেন তাকালো।
–আরহাম পাশে তাকিয়ে দেখে আলিশা নেই। পিছে তাকিয়ে দেখে আলিশা আগের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে।
সে আবার আলিশার দিকে এগোলো।

“আবার কি হয়েছে?”
“এদিকে আসো তো।”
আরহাম কাছে গেলে তখন আলিশা বললো –
“তুমি এমন মুরগীর মতো কেন?”
“আবার শুরু হয়েছে?”
“তোমাকে দেখতে একদম ছিলা মুরগির মত লাগছে।”
“এই ছিলা মুরগির উপরেই মেয়েরা মরে।”
“তোমার হেয়ারকাট চেঞ্জ করা উচিত।”
“নোওওও নিশা…”
“ইয়েস।”
“তুই থাক, আমি যাচ্ছি..”
“আমার আরও শপিং বাকি আছে।”

আরহাম ভয়ে নিজের সব ক্রেডিট কার্ড আলিশার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো – “এই নে ক্রেডিট কার্ড। তোর যা ইচ্ছা, যত ইচ্ছা নে। আর শপিং শেষে গার্ডের সাথে বাড়ি চলে যাস। আমি যাচ্ছি।”
–আরহাম কোনোমতে পালাতে চাইলো কারন সে জানে, আলিশার একবার জেদ উঠলে সে আরহামের হেয়ারকাট চেঞ্জ না করিয়ে যাবেনা। তাই আগত বিপদের সন্ধান পেতেই সে পালাতে চাইলো।
আরহাম সামনের দিকে হতদন্ত পায়ে চলে যেতে নিলেই আলিশা পিছন থেকে ডেকে বললো – “তুই কোথাও যাবিনা।”
“তোকে সব কিনে দিবো চল।”
“আমার কিছুই লাগবেনা। তুই আগে আমার সাথে চল।”
“আবার, তুই তোকারি করছিস?”
“আচ্ছা করবোনা, এখন চলো।
” কোথায়?”
“এখানে জেন্টস স্যালন আছে উপরে। সেখানে গিয়ে তোমার হেয়ারকাট চেঞ্জ করবো।”
“মাথা খারাপ হয়েছে?” আমি কোনো হেয়ারকাট চেঞ্জ করবোনা।”
“তুমি করবে মানে করবেইইইইই…”

–আরহাম কথা কাটানোর জন্য বললো – “তুই তো জানিস লিশা? আমার পার্সোনাল হেয়ার আর্টিস্ট ছাড়া আমি অন্য কোথাও হেয়ারকাট করিনা।”
“উপরের স্যালনটা অনেক ভালো। এখানে অনেক সেলিব্রেটিরা এসে সার্ভিস নেয়।”
“আমি আরহাম নেইনা আর নেবোও না।”
“তোর ১৪ গুষ্টি ও নেবে…চল।”
“তাহলে, তুই’ও চল। আমার ১৪ গুষ্টি এর মধ্যে তো তুই’ও পড়িস।”
–নিজের কথাই নিজেই ফেসে গেলো আলিশা। তবে সে হার মানলোনা। কাঁদো কাঁদো মুখ করে বললো – “করাবেনা?”
“একদমই না।”
আলিশা রাগে দুঃখে নিজের পেটে হাত বুলিয়ে বলছে –
“এই দেখ, তোর বাপ তোকে ভালোবাসেনা। তোর আর আমার জন্য সামান্য হেয়ারকাট ও চেঞ্জ করাতে চাচ্ছেনা।”
“সারাদিন তোকে সহ্য করি আমি। এটাই তো অনেক…”
–আলিশা এবার আরহামের টি-শার্টের কাছে খামচে ধরলো –
“করাবি কিনা বল?”
“জীবনেও না”
“তাহলে আজকে আমি বাসায় যাবোনা।”

“থাক এখানে, আমি গেলাম।” বলেই আরহাম সামনের দিকে চলে গেলো।
–তবে বেশ কিছুটা পথ হেঁটে যাওয়ার পর সে হঠাৎই খেয়াল করলো, আলিশা তার পিছে আসছেনা।
আরহাম কোথাও আলিশাকে দেখতে না পেয়ে দ্রুত আগের জায়গাটায় ফিরে এলো।
এসে দেখলো, আলিশা ঠিক সেখানেই একটা বেঞ্চে চুপচাপ বসে আছে। এক হাতে টিস্যুর বক্স, আর একটু পরপরই নাক মুছে চলেছে।
তার চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা গার্ডগুলোও একেকজন অসহায় মুখে একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে। ম্যাডামকে কীভাবে ম্যানেজ করবে? আর কিই বা বলবে – সেটা তারা কেউই যেন বুঝে উঠতে পারছে না।
“স্যার কি সত্যিই চলে গেলেন?” ফিসফিস করে বললো আনিস। (আরহামের পার্সোনাল এসিস্ট্যান্ট)
“তাই তো মনে হচ্ছে, এতক্ষণ হয়ে গেলো। এখনো ফিরে আসলেন না।” দীর্ঘশ্বাস ফেলে জবাব দিলো রাজিব।
“এমন চলতে থাকলে আমাদের কী হবে রে ভাই?”
“আমার তো মনে হয় না আলিশা ম্যাম আজকে এখান থেকে ফিরবেন।”
–আনিস চারপাশে একবার তাকিয়ে নিচু গলায় বললো –
“দেখ, আশপাশের মানুষগুলো কেমন কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে আছে।”
রাজিব চোখ বড় বড় করে আলিশার দিকে তাকালো।
“আরে… ম্যাম তো মাস্কটাও খুলে ফেলেছেন! কেউ যদি চিনে ফেলে, তাহলে আজকে আর রক্ষা নেই।”
“তুই গিয়ে বল।”

রাজিব সঙ্গে সঙ্গে মাথা নেড়ে প্রতিবাদ করলো।
“মাথা খারাপ নাকি? এরপর বলবেন – ‘রাজিব, তোমাকেও ছিলা মুরগির মতো লাগছে। আশার নাম্বারটা দাও। ওকে কল দিয়ে বলি, তোমার হেয়ারকাট চেঞ্জ করতে।”
কথাটা বলেই আনিস হাসি চেপে রাখতে পারলো না। রাজিবও তার সাথে হেসে ফেললো।
“বসের ধৈর্য আছে বলতে হবে।” হাসতে হাসতেই বললো রাজিব।
আনিস ঠোঁট বাঁকিয়ে মাথা নাড়লো।
“বসের আবার ধৈর্য! ধৈর্য-টৈর্য কিছুই নেই। আলিশা ম্যাম প্রেগন্যান্ট বলেই সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করছেন। অন্য সময় হলে এতক্ষণে এদের দু’জনের ঝগড়া লেগে যেতো, আর আমাদেরই মাঝখানে গিয়ে সামলাতে হতো।”

–তাদের কথোপকথন এর মাঝেই আরহাম এসে উপস্থিত হলো।
আরহামকে দেখতেই যেন আলিশার কান্নার বেগ বাড়লো।
“লিশা কি শুরু করেছিস এসব?”
“তুমি ভালো না। আমাদের একটুও ভালোবাসোনা, তাই তো সামান্য একটা হেয়ারকাটও চেঞ্জ করতে পারছোনা।”
–আরহামকেই শেষমেষ হতাশ হয়ে রাজি হতে হলো। নয়তো,
এই মহিলা আজ বাড়ি ফিরবেনা। আশে পাশেও মানুষ কানাঘুষা করা শুরু করেছে।
–শেষ পর্যন্ত আলিশার পছন্দমতোই নিজের হেয়ার কাট বদলে ফেললো আরহাম। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে তার এবার মনে হলো – একটু আগে না লাগলেও এখন তাকে একদম সত্যিই ছিলা মুরগির মতোই লাগছে!
অন্যদিকে, আলিশার মুখজুড়ে তৃপ্তির হাসি। নিজের পছন্দের হেয়ারকাট করাতে পেরে সে এতটাই খুশি যে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে উঠলো –
“আজ বাসায় গিয়ে তোমার জন্য নিজের হাতে ডেজার্ট বানাবো।”
আরহাম দীর্ঘশ্বাস চেপে আয়নায় নিজের নতুন চেহারার দিকে আরও একবার তাকালো। সে না পারছে কাঁদতে না পারছে সইতে।
সব মিলিয়ে ক্ষতির হিসাবটা একান্তই তার। আর লাভের খাতাটা পুরোপুরি আলিশার।
–সব কাজ শেষে, তারা শপিং মল থেকে বেরিয়ে সবাই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো।

বাড়ি ফিরতেই আলিশা ক্লান্ত শরীর নিয়ে সোজা লিভিং রুমের সোফায় গিয়ে বসে পড়লো।
আরহামও তার পিছু পিছু এসে পাশেই বসলো। কিছুক্ষণ পর গার্ডরা একে একে সব শপিং ব্যাগ ভেতরে রেখে চলে গেলো।
ঠিক তখনই আয়শা সেদিকে তাকিয়ে বললেন –
“এই অবস্থায় শপিংয়ে যাওয়ার কী দরকার ছিল? যা যা লাগতো, সব বাসাতেই এনে দেওয়া যেতো।”
আরহাম অসহায়ের মতো মুখ করে বললো –
“ওটা তোমার গুণধর মেয়েকেই জিজ্ঞেস করো, ছোট মা। আজ আমাকে একেবারে নাজেহাল করে ছেড়েছে।”
“ও বললেই তোমাকে শুনতে হবে কেন? একদম শুনবেনা এই পাজি মেয়ের কথা।”
“না শুনে কি উপায় আছে? নাহলে আবার তোমার আদরের বেয়াইন শাইনা আমাকে কেলানি দেবে।”
–কথাটা শুনে আয়শা হেসে ফেললেন।
এমন সময় শাইনা দুই গ্লাস জুস এনে এক গ্লাস আলিশার আর অন্যটা আরহামের হাতে ধরিয়ে দিলেন।
“কিরে, ঘরের ভেতরেও মাথায় ক্যাপ পরে আছিস কেন?” সন্দেহের দৃষ্টিতে জিজ্ঞেস করলেন তিনি।
আরহাম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো –

“তোমার আদরের পুত্রবধূর কারসাজির জন্য।”
“সবকিছুতে আমার মেয়েটাকে টানিস কেন?”
“আচ্ছা বলো তো, তুমি আমার মা, নাকি এই মিনি হাতির মা?”
আলিশা সঙ্গে সঙ্গে ঠোঁট ফুলিয়ে প্রতিবাদ করলো –
“দেখেছো বড় মা? আমাকে হাতি বলেছে!”
“আরহাম, এসব কী ধরনের কথা?” কড়া গলায় বললেন শাইনা।
আরহাম আর কোনো উত্তর না দিয়ে ধীরে ধীরে মাথা থেকে ক্যাপটা খুলে ফেললো।
–আরহামের এই নতুন চুলের দিকে চোখ পড়তেই শাইনা আর আয়শা দু’জনেই মুখে হাত চাপা দিলেন।
“এই ছেলে! নিজের এই কী অবস্থা করেছিস? একদম ছিলা মুরগির মতো লাগছে তোকে!” বিস্মিত হয়ে বলে উঠলেন শাইনা।
কথাটা শুনেই আরহাম ধীরে ধীরে ঘাড় ঘুরিয়ে আলিশার দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকালো।
আর আলিশা?
সে নির্বিকার মুখে দাঁত বের করে ফোকলা হাসলো।
আয়শা আলিশার দিকে কটমট দৃষ্টিতে চেয়ে বললেন –

“নিশ্চয়ই এসব এই বদমাশ মেয়ের কাজ।”
“একদম ঠিক ধরেছো, ছোট মা।”
আয়শা এবার আলিশার দিকে তাকিয়ে কঠোর গলায় বললেন-
“আলিশা, এসব কেমন দুষ্টুমি? এখনও কি তুমি ছোট আছো? দু’দিন পরই মা হবে, আর এখনো বাচ্চাদের মতো আচরণ করো!”
–কথাটা শুনে আলিশা সাথে সাথেই মুখ ভার করে চুপচাপ বসে রইলো।
–পরিস্থিতি হালকা করতে শাইনা বললেন –
“আচ্ছা, থাক না। দু’দিন পর চুল আবার ঠিক হয়ে যাবে। এটা নিয়ে এত মাতামাতির কী আছে?”
নিজের মায়ের কথায় আরহাম মুখ বাঁকিয়ে বললো –
“হ্যাঁ, বলাই সহজ। আমার জায়গায় যদি এই শাকচুন্নিটা থাকতো, তবে পুরো বাড়িটাই আজ মাথায় তুলে ফেলতো।”
“চুপ করো, বেয়াদব ছেলে!” ধমক দিয়ে বললেন শাইনা।
“আহা আপা, থাক না। অনেকক্ষণ পর বাসায় ফিরেছে ওরা। আগে দু’জন ফ্রেশ হয়ে নিক, আমরা ততক্ষণে ডিনারের ব্যবস্থা করি।” (আয়শা)
“হ্যাঁ, চল ছোট। ওদের বাবারাও আসার পথে। এসেই আবার ডিনার চাইবে।”
–দুজনেই নিজেদের কাজে রান্নাঘরের দিকে চলে গেলেন।

আলিশা প্রথমেই দাদির রুমে গিয়ে একে একে সব শপিংয়ের ব্যাগ খুলে দেখাতে শুরু করলো। ছোট ছোট জামা, নরম কম্বল, খেলনা – প্রতিটা জিনিসই দাদি হাসিমুখে হাতে নিয়ে দেখলেন। শুধু বাবুর দোলনাটায় দেখাতে পারলো না আলিশা। কারণ সেটা আরও দুদিন পর ডেলিভারি হওয়ার কথা।
সব দেখিয়ে নিজের রুমে ফিরতেই দেখলো – আরহাম ইতোমধ্যেই, ফ্রেশ হয়ে বিছানায় এক লাফে শুয়ে পড়েছে। তবে, মুখটা এখনো গম্ভীর।
আলিশাও ফ্রেশ হয়ে এসে ধীরে ধীরে তার পাশেই শুয়ে পড়লো।
আরহাম সাথে সাথেই একটু সরে গিয়ে বললো,
“সর… আমার কাছে আসবি না।”
আলিশা ঠোঁট কামড়ে মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করলো,

“রাগ করেছো?”
“না।”
আলিশা আরও একটু কাছে এগিয়ে এলো।
“আর করবো না… প্রমিস।”
আরহাম কোনো উত্তর দিলো না।
কিছুক্ষণ নীরব থেকে আলিশা নিচু গলায় বললো,
“আজকাল হঠাৎ হঠাৎই খুব মুড সুইংস হয়। তখন, কেন জানি মাথায় যা আসে, সেটা না করলে একদমই শান্তি পাই না।”
আরহাম দীর্ঘশ্বাস ফেললো।
“আর কত কি যে সহ্য করতে হবে, আল্লাহই জানেন…”মুখে বিরক্তির সুর থাকলেও কথাটা শেষ করে সে নিজেই হাত বাড়িয়ে আলিশাকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে নিলো।
আলিশাও নিঃশব্দে তার বুকে মুখ লুকিয়ে হাসলো। সে জানে, এই গন্ডারটা যতই রাগ দেখাক না কেন, শেষ পর্যন্ত তার সব অভিমান গিয়েই থামে আলিশার কাছেই।

২ দিন পর…
আরহাম আলিশার কাছে এসে তার চুলে হাত দিয়ে বললো –
“চুলের এই কি অবস্থা করেছিস?”
“আমি করিনি, তোমার বাবু করেছে।” (আলিশা)
“বাবু কি তোকে চুলের যত্ন নিতে মানা করেছে?”
“না, তবে ওর জন্য আজকাল আমার অনেক অলস লাগে, কোনো কিছুই করতে মন চাইনা।”
“এদিকে এসে বস।”
আলিশা এসে বসতেই আরহাম বললো- “দাড়া আসছি।”
–একটু পরেই, সে হাতে করে একটা গোল বাটিতে তেল নিয়ে এসেছে।
আলিশা তা দেখে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো –
“এটা কি?”
“তেল”
“কেন এনেছো?”
“তোর মাথায় এটা দিয়ে বারি মারবো তাই।”
“আমি তেল দিবোনা।”
“তোকে জিজ্ঞেস করিনি আমি।”
আলিশা গাল ফুলাতেই আরহাম বললো -“কোনো লাভ নেই, আজকে তেল দিতেই হবে। তুই আমার পছন্দের চুলের, এই কি অবস্থা করেছিস? কেমন রুক্ষ হয়ে আছে।”

–আলিশা জানে সে যাই করুক না কেন, এখন এই গন্ডার তেল না দিয়ে থামবেনা। তাই সে চুপচাপ এসে বসলো আরহামের হাঁটুর কাছে।
–আরহাম আলিশার চুল থেকে ক্লিপ খুলে অনেক যত্ন সহকারে তেল দিয়ে দিতে লাগলো।
আলিশার চুল অনেক লম্বা, জন্মগত হালকা ব্রাউন আর স্ট্রেইট
চুল কিন্তু প্রেগন্যান্সির কারনে কেমন ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।
আলিশা হঠাৎই বলে উঠলো –
“জানো, আমি ভাবছি চুলে নতুন কালার করবো।”
“ঘর থেকে বের করে দিবো।”
“এটা আমার বাপের ঘর।”
“সাথে তোর শশুরের ও ঘর। আর আমি তোর শশুরের একমাত্র ছেলে এবং তোর বাপের একমাত্র মেয়ের জামাই হওয়ার জন্য আমার অধিকার বেশি। তাই তোকে বের করে চিড়িয়াখানায় রেখে আসবো।”
“তুই আমাকে একটুও আদর করিস না।”
“এখন এত আদর করে চুলে তেল দিয়ে দিচ্ছে কে?”

“আমার বাবুর বাপ।”
“বাবুর বাপটা কে?”
“একটা কিউট ছেলে।”
“কিউট ছেলেটা কে?”
“আমার সুইট কিউট হাবি…”
“তোর সুইট কিউট হাবিটা কে?”
“একটা গন্ডার…”
–আরহাম হেসে দিলো সাথে আলিশাও।
“ঘুমাবো আমি।”
“দাড়া, বেনি করে দেই…”
–আলিশার চুলে বেনী বাধা শেষে আরহাম আলিশাকে ঘুম পাড়িয়ে চলে গেলো নিজের হোম স্টুডিওতে। তার অনেক কাজ বাকি আছে। আজকাল আলিশার জন্য অনেক কাজ পেন্ডিংয়ে পড়ে থাকে। এদিকে, সামনে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা তাই পড়তেও হবে।

সকাল হতেই শাইনা বেগম আলিশা কে নিয়ে ছুটলেন ডাক্তার কাছে, আজ আলিশার আলট্রাসাউন্ড করাবে।
আজ আরহাম আসতে পারেনি, তার কাজ আছে আর আয়শা ঘরে আছে মেহরোজা আক্তার এর কাছে, আজকাল মেহরোজা আক্তার এর শরীর ও ভালো থাকেনা।
“ছোট বউ, পরীর তো সাত মাস পেড়িয়ে গেছে, এখনো সাত মাসের অনুষ্ঠান করা হয়নি। (মেহরোজা আক্তার)
“আপা ও কাল এটা বলছিলো আম্মা” (আয়শা)
“তাহলে বড় বউ আসলে সবাই কে নিয়ে বসতে হবে, যত তাড়াতাড়ি অনুষ্ঠান করা যায় তত ভালো, আর কিছুদিন গেলে পরী ও আর এসব দখল নিতে পারবেনা।
” ঠিকাছে আম্মা”
“আমার আরশাদ আর নীলার কি খবর ছোট বউ? আজ কতদিন আমার দুইটা নাতি নাতিন এর চেহারা ও দেখিনা।

“আরশাদ এর সাথে কথা হয়েছে আম্মা, বললো আলিশার ডেলিভারির আগে চলে আসবে তারা।
” নীলার চিকিৎসা কতদূর? ডাক্তার কি বললো?
“আগের মতই আম্মা, ডাক্তার নতুন করে আর কিছুই বলেনি, সব ট্রিটমেন্ট এর পরও কোনো রেজাল্ট পাওয়া যায়নি।
“আমার নীলা টার কোল যে কবে ভরে উঠবে – হতাশার সাথে বললেন মেহরোজা।
“আল্লাহ কে ডাকা ছাড়া আর উপায় নেই আম্মা, আমার অনেক কষ্ট হয় বাচ্চাগুলার জন্য”
“ভিডিও কল ও দেয়না এখন আর, আগে সারাদিন দাদি দাদি করতো ফোন দিয়ে আমার নীলা টা।
“আরশাদ বলেছে এখন আর কারো সাথেই কথা বলতে চায়না নীলা, সারাদিন মনমরা হয়ে থাকে।

“আরহাম তুই এমন ঢেকে ঢুকে আছিস কেন? তাও আবার এই গরমে মাথায় ক্যাপ দিয়ে আছিস। (নেহা)
“সেটা তোকে বলতে হবে ওর?” (কাহাফ)
“তোকে জিগ্যেস করেছি? তুই কেন উত্তর দিচ্ছিস আজব। (নেহা)
“এই থামবি তোরা, যখন তখন শুরু হয়ে যাস (আরাফ)
-আরহাম তখন নিজের গানের লাইন লিখতে ব্যাস্ত।
” তোরা এসব না করে আমাকে একটু সাহায্য কর, এই গানের লাইন মিলাতে পারছিনা আমি। (আরহাম)
“আগে তো এমন ছিলিনা তুই আরহাম, আলিশার প্রেগন্যান্সির পর থেকেই কেমন হয়ে গেছিস, কাজে/পড়াশোনায় তোর কোনো মন নেই, সারাদিন বউ কে নিয়ে পড়ে থাকিস। (ঠেস মেরে কথাটা বললো নেহা)

তোমার আমার গল্প পর্ব ১৬

“আরহাম যেন শুনেই নি কিছু এমন ব্যবহার করলো।
“কিরে উত্তর দিচ্ছিস না কেন? (নেহা)
” এটা আমাদের কাজের জায়গা, আমার সাংসারিক আলাপ এর জায়গা না” (আরহাম)
নেহা যেন অপমানিত বোধ করলো কথাটা শুনে।

তোমার আমার গল্প পর্ব ১৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here