Home তোমার আমার গল্প তোমার আমার গল্প পর্ব ১৮

তোমার আমার গল্প পর্ব ১৮

তোমার আমার গল্প পর্ব ১৮
noorayn

শাইনা বেগম আলিশা কে নিয়ে ওয়েটিং রুমে বসে আছেন।
“বড় মা আর কতক্ষন? (আলিশা)
“এইতো মা এখনি চলে আসবে ডাক্তার” (শাইনা)
ডাক্তার নিলুফার কিছুদিনের জন্য দেশের বাহিরে গিয়েছেন যার দরুন আরেকজন ডাক্তার এর কাছে আজকে আলট্রাসাউন্ড করাবে আলিশা।
“Sorry for getting late” (দেরি করার জন্য দুঃখিত)
কথাটি বলতে বলতেই আলট্রাসাউন্ড রুমে এসে হাজির হলেন একজন নারী, বয়স খুব বেশি হলে ৩০ হবে,
“হ্যালো, আমি ডাক্তার মেহরুন ফিজা”
আলিশা আর শাইনা বেগম এর সাথে আলাপ আলোচনা সারতেই আলিশা কে বেডে শুতে বললো।
“বড় মা ভয় করছে” আলিশা কথাটি বলেই শাইনার দিকে তাকালো।
“আগেও তো করেছিস পুতুল, ভয়ের কিছু নেই।
আলিশার এখন প্রায় ৮ মাস।
আলট্রাসাউন্ড শেষে যেন আলিশার খুশির ধার ধারেনা, তার ছোট্ট সোনা টা এখন পরিপূর্ণ শিশু।
সেই ছোট একটা ভ্রুন থেকে এই পরিপূর্ণ শিশু হয়েছে আলিশার পেটে, আর এটা যেন আলিশা বিশ্বাস ই করতে পারছেনা, সে বারবার নিজের পেটে হাত দিতে ব্যাস্ত।

বাড়ি ফিরতেই আলিশা সবার আগে দাদিকে গিয়ে রিপোর্ট দেখালো।
এরপর আয়শার কাছে, সবাইকে যেন নিজের অংশের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে আলিশা।
” এই মেয়ে আস্তে হাটোঁ, পড়ে যাবা তো” (আয়শা)
আলিশা শুনে শান্ত হয়ে লিভিং রুমের সোফায় বসলো।
অপেক্ষা করছে আরহাম এর ফিরার।

আরহাম ফিরেছে রাত ১২ টার পর, আলিশা তখনো আরহাম এর অপেক্ষায় ছিলো।
“আজ এত দেরি কেন?” (আলিশা)
“কাজ ছিলো” (আরহাম)
“জানো আজ কি হয়েছে, আলিশা কথা শুরু করার আগেই আরহাম বলে উঠলো,
” মাত্র ফিরেছি, পরে শুনবো” বলেই ওয়াশরুমে চলে গেলো।
শাওয়ার নিয়ে আসতেই আলিশা বললো,
“খাবেনা?”
“খেয়ে এসেছি”
“কি খেয়েছো?”
“সব কিছু বলতে হবে তোকে?”
“এভাবে কথা বলছো কেন?”
“তো কিভাবে বলবো?”
আলিশা বুঝলো আরহাম এর মুড খারাপ তাই আর কথা বাড়ালো না।
“ঘুমাতে এসো”
আরহাম এসেই আলিশা কে বুকে নিয়ে শুয়ে পড়লো।
ভোর ৪ টা বাজে,

আরহাম গভীর ঘুমে মগ্ন, হঠাৎ ঘুমের মধ্যে সে তার পেটে সুরসুরি অনুভব করলো তবুও সে ঘুম থেকে উঠলোনা, কিন্তু না এই সুরসুরি তো রীতিমতো খামচি তে পরিনত হচ্ছে তাই সে আস্তে আস্তে তার চোখ খুললো,
খুলেই দেখলো আলিশা তার পেটে কি জানি করছে, সে খপ করে আলিশার হাত ধরে ফেললো,
হঠাৎ আলিশার হাতের উপর হাত পড়ায় আলিশা থতমত খেয়ে তার বুকে থুথু দিলো।
“ওহ তুমি?” (আলিশা)
“কি করছিলি?” (আরহাম)
এমন প্রশ্নে আলিশা যেন সিরিয়াস হলো আর গম্ভীর মুখ করে আরহাম এর দিকে তাকিয়ে উত্তর করলো,
“তোমার পেট দেখছিলাম”
“কেন আমার পেট কি কোনো মিউজিয়াম যে দেখতে হবে?”
“তোমার পেটে বাচ্চা নেই কেন?”
“হোয়াটটট?” (এমন উত্তরে সে যেন সপ্তম আসমান থেকে পড়লো)
“এমন গন্ডার এর মত করছো কেন?”
“কি বলছিস খেয়াল আছে?”

“বলেছি তোমার পেটে বাচ্চা নেই কেন?”
‘কেন থাকবে?” আমি পুরুষ মানুষ।”
“পুরুষ মানুষের পেটে কি বাচ্চা থাকেনা?”
“নেশা করে এসেছিস? এক থাপ্পরে দাতঁ সব ফেলে দিবো।”
“আমি অনেক সিরিয়াস, একদম আমায় ধমকাবে না”
“কি নিয়ে সিরিয়ার?”
“বাচ্চা তো তোমারো তাই না?”
“হ্যাঁ, তো?”
“তাহলে তোমার পেটে বাচ্চা থাকবেনা কেন?” খালি আমার পেটে কেন থাকবে?”
“কারন তুই মহিলা”
“আমার তো তেমন বয়স হয়নি, তুমি আমাকে মহিলা বলছো কেন?”
“আচ্ছা তুই পুরুষ”
“ইচ্ছা করে আমাকে বিরক্ত করছো কেন?”
“আমি বিরক্ত করছি? এত রাতে আমার ঘুম ভেঙে এসব আবোলতাবোল কথা বলছিস তুই আর বিরক্ত করছি আমি!”

“আমার প্রশ্নের উত্তর দাও”
“এই প্রশ্নের কোনো উত্তর হয়না”
“কেন হয়না?”
“কারন এরকম প্রশ্ন ই হয়না”
“আমি তো করেছি এমন প্রশ্ন তাহলে উত্তর দাও”
“পাবনা তে গেলে এমন প্রশ্নের উত্তর অনেক পাবি, এখন ঘুমা, কাল সকালে রেখে আসবো তোকে”
“বেজ্জত করছো কেন?”
“তোর আদৌ ইজ্জত আছে?”
“আবার বেজ্জত করছো?”
“ইয়া মাবুদ, আমায় রক্ষা কর”
“এভাবে বলছো কেন? কি করেছি আমি?”
“আল্লাহ জানে, তোর পেট থেকে কোন এটম বোম বের হয়, একটা কি কম ছিলো এখন আরেকটা আসছে, আমার কি হবে রে লিশা?”
“কি হবে মানে কি, তুমি কি কোনোভাবে আমার ছানা আর আমাকে অপমান করছো?”
“আমি তো সরাসরি ই অপমান করছি”
“গন্ডার এর ঘরের গন্ডার”
“আরহাম আবার শুয়ে পড়লো, আর আলিশা কেও বললো, ঘুমিয়ে পড়তে।

সকাল ৯ টা বাজে,
আলিশা উঠেছে আরো ১ ঘন্টা আগে, আয়শা নাস্তার জন্য ডেকে গেছে তবে আলিশা বলেছে আরহাম উঠলে একসাথে খাবে।
আজ তার মুড অনেক খারাপ, বাচ্চা টা কাল রাত থেকেই বেশি নড়াচড়া করছে এতে আলিশা একটু ও ঘুমাতে পারেনি।
“এই একদম নড়াচড়া করবিনা, কাল রাত থেকে এমন করছিস কেন?” (পেটে টোকা দিয়ে বললো আলিশা)
“কি হয়েছে ক্ষুদা লেগেছে তোর? একটু দাড়া তোর বাবা উঠুক তারপর একসাথে খাবো।
“উফ এতো নড়ছিস কেন সোনা, মার কষ্ট হচ্ছে তো।”
আলিশা যখন নিজের বাবুর সাথে কথোপকথন এ ব্যাস্ত তখন ই আরহাম এর ফোন বেজে উঠলো।
আলিশা আরহাম এর ফোন হাতে নিয়ে দেখলো, নেহা কল দিয়েছে।
আলিশার মেজাজ তুঙ্গে উঠে গেলো, এই মহিলা এত সকালে তার জামাই কে কল দিচ্ছে কেন?
আলিশা এবার নিজেই কল ধরে বললো,

“হ্যালো, মিসেস আরহাম স্পিকিং”
“নেহা যেন আরহাম এর বদলে আলিশার আওয়াজ শুনেই থতমত খেলো”
“আরহাম কে দাও” (নেহা)
“কেন?” (আলিশা)
“কাজ আছে”
“কি কাজ?”
“সেটা তোমাকে বলতে হবে?”
“অবশ্যই বলতে হবে আমি আরহাম এর ওয়াইফ”
“ছোট মেয়ে ছোটর মত থাকো”
“এই ছোট মেয়ে টাই আরহাম এর বাবুর মা হবে কিছুদিন পর, তাই সম্মান দিয়ে কথা বলুন”
“আরহাম কে ফোন দাও বেয়াদব মেয়ে”
“দিবোনা” বলেই কল কেটে দিলো আলিশা।
আরহাম উঠলো ১১ নাগাদ, উঠেই ফ্রেশ হয়ে ফোন টা হাতে নিলো।
নিয়েই দেখলো আরাফ এর অনেক গুলা মিসড কল।
“আরাফ কে কল ব্যাক করতেই আরাফ যেন খেকিয়ে উঠলো”
“এখন উঠেছেন লাট সাহেব, ঘুম ভেঙেছে আপনার? (আরাফ)

“কি হয়েছে এভাবে বলছিস কেন?” (আরহাম)
“আজ সকালে মিটিং ছিলো ডিরেক্টর এর সাথে”
“হোয়াট! কাল রাতেও তো তোদের সাথে ছিলাম তখন তো জানাস নি”
“আমরাও তো জানতাম না, সকাল সকাল দেখি ব্যাটা স্টুডিও তে এসে হাজির।”
“এত ডেট ক্যান্সেল করার পর না জানিয়ে আসার মানে কি?”
“সেটা তো খাটাশ ব্যাটা ই বলতে পারবে”
“আমাকে জানাস নি কেন?”
“একটা দিবো ধরে শালা, সকালে নেহাকে বলেছিলাম তোকে জানাতে”
“আমাকে তো নেহা জানায় নি কিছু”
“নেহা আমাকে বলেছে তোকে কল দিয়েছিলো, বাকিটা ওর থেকেই শুনে নে, বলেই কল কেটে দিলো আরাফ।
আরহাম তো রেগে ফায়ার, নেহা তো করেনি তাহলে মিথ্যা বললো কেন? এর উপর এই ডিরেক্টর টা এতদিন ধরে মিটিং এর ডেট ঘুরাচ্ছে, এখন এসে আবার তাকে না পেয়ে চলে গেছে, এর মানে নিশ্চয়ই সহজে আর দেখা দিবেনা।
এসব ভাবতে ভাবতেই নেহাকে কল দিলো আরহাম।
নেহা তো অবাক আরগাম এর কল পেয়ে কেননা আরহাম তাকে তেমন একটা কল দেয়না।

” হ্যালো” (নেহা)
“সকালে মিটিং এর জন্য জানালি না কেন?” (আরহাম)
“আমি জানাই নি নাকি তোর সো কল্ড বউ এর জন্য জানাতে পারিনি?”
“মাইন্ড ইউর ল্যাংগুয়িজ”
“সকালে কল দিয়েছিলাম আমি কিন্তু আলিশা বলেছে তুই ঘুম আর বেয়াদবি করে কল কেটেছে।”
“এটা আমাকে বিশ্বাস করতে বলছিস?”
“সেটা তোর বউ কেই জিগ্যেস কর যে সে আমার কল কেটেছে কিনা”
আরহাম আর কিছু না বলেই কল রেখে দিলো, নেহার কথা শুনেই লাগছে যে সে সত্যি বলছে।
এরমধ্যেই আলিশা হাতে কফির মগ নিয়ে ঢুকলো,
“তোমার কফি” (আলিশা)
“সকালে কি নেহা কল করেছিলো আমাকে?”
“আলিশা চুপ”
“কিছু জিজ্ঞেস করেছি?”
“হ্যাঁ”
“কখন?”
“সকালে”
“তুই রিসিভ করেছিলি?”
“হ্যাঁ”
“নেহা আমাকে খুজেছিলো?”
“হ্যাঁ, কিন্তু…
” আমকে দেসনি কেন?”
“তুমি ঘুম ছিলে তাই।”
“নেহার কল কেটেছিস?”
“হুম কিন্তু তুমি আমার কথাটা শোনো..

“চুপ একদম চুপ বেয়াদব মেয়ে, সবকিছুতে আদর দিয়ে দিয়ে বেয়াদব হয়েছিস, বড়দের সম্মান দিতে না জানলে বেয়াদবি কেন করবি?”
“আমি কি বেয়াদবি করেছি?”
“এক থাপ্পরে গাল ফাটিয়ে দিবো, আবার মুখে মুখে তর্ক করছিস।
আলিশা চুপ।
“আমার ফোন কেন ধরেছিলি?”
“তুমি ঘুম ছিলে তাই”
“ঘুম থাকলে জাগানো যেতোনা?
চুপ করে আছিস কেন? আমার ফোন ধরার আগে জিগ্যেস করেছিলি আমাকে? আমার পারমিশন ছাড়া আমার ফোন ধরেছিস আবার কল রিসিভ করে নেহার সাথে বেয়াদবি করে কল কেটেছিস।
“আমাকে কথা বলার সুযোগ তো দাও” (আলিশা)
“কি কথা বলবি?
” আমি…

“লাইফ টা হেল করে ছেড়েছিস আমার, দুনিয়া তে আর কেও প্রেগন্যান্ট হয়না? শুধু কি তুই?
যখন যা ইচ্ছা করিস, কেও কিছু বলতে পারবেনা, রাতে বিরাতে ঘুম থেকে উঠিয়ে তোর যত বায়না, সারাদিন কাজ করে বাসায় ফিরে শান্তি পাইনা তাও তোর সব নিয়ে টু শব্দ ও করিনা কিন্তু আজ তুই যা করেছিস তা নিয়ে কোনো আইডিয়া আছে তোর?

তোমার আমার গল্প পর্ব ১৭

আমকে উঠানো যেতোনা? বেয়াদব এর মত নেহার কল কেটেছিস কেন? তোর জন্য কর লস হয়েছে জানিস?
আলিশা চুও করে কথা শুনছে।
আরহাম রেগে আলিশার হাত থেকে কফির মগ নিয়ে ছুড়ে ফেললো,
আলিশা ভয়ে কেপে উঠলো।
আরহাম নিজের মোবাইল টা নিয়ে বের হয়ে গেলো ঘর থেকে।

তোমার আমার গল্প পর্ব ১৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here