তোমার আমার গল্প পর্ব ২৫
noorayn
কেটে গিয়েছে ২ দিন…
আজ আলিশা কে ডিসচার্জ করে দিবে, এরমধ্যেই মেহরোজা আক্তার আর আরহাম আলিশার কাছের বন্ধুরা এসে দেখে গিয়েছে বাবুকে।
“আমার আর ভালো লাগছেনা এখানে, কবে যাবো বাসায়?”
“আজকেই যাবো মা, আরহাম ডিসচার্জ ফর্মালিটি কমপ্লিট করতে গিয়েছে। (আয়শা)
শাইনা বাড়ি ফিরে গিয়েছে, ঘরের আলো আর সবার ছোট প্রান আজ প্রথম বাসায় আসবে তাই আয়োজন করতে আগে আগেই চলে গিয়েছে আর আয়শা থেকে গিয়েছে আলিশার কাছে।
” আয়শার কোল থেকে বাবু হঠাৎ কেদেঁ উঠলো, তার ক্ষিদে পেয়েছে।”
“আলিশা ওকে খাইয়ে দে, ক্ষিদে পেয়েছে ওর।”
“উফ মা একটু আগেই তো খাইয়েছি, এখন আবার?”
আয়শা বড় বড় চোখ করে আলিশার দিকে তাকালো।
“এভাবে তাকাচ্ছো কেন?”
“ছোট বাচ্চাদের একটু পর পর খাওয়াতে হয়।”
“একটু পর খাওয়াই?”
“আলিশা…
” আচ্ছা দাও”
আয়শা আলিশার কোলে বাবুকে দিতেই বাবু চোখ পিটপিট করে মায়ের দিকে তাকালো আবার মুখ কুচঁকে ফেলছে যেন মাকে বুঝাচ্ছে তাকে এখনো খাবার কেন দেয়া হচ্ছেনা?
“কি এভাবে তাকাচ্ছিস কেন?”
বাবু মায়ের বুকে তার নাক ঘেঁষছে।
“এই তোকে এতমাস পেটে রাখলাম আমি আর চেহারা পেয়েছিস বাপের? তুই তো তোর বাপের চেয়ে বড় মির্জাফর।”
“আর তুই ঘষেটি বেগম” আরহাম ক্যাবিনে প্রবেশ করতে করতে বললো।
“আবার শুরু হয়েছিস তোরা? আর আলিশা তুমি বাবুকে না খাইয়ে এসব কি আবোলতাবোল বলছো?” (আয়শা)
“মা ও বোধহয় খাবেনা, দেখো কেমন করে তাকিয়ে আছে।”
“ও খাবে, মার কোলে বলে শান্ত হয়ে আছে।”
“আচ্ছা হেল্প করো, একা পারবোনা আমি।”
আয়শা যেই না হেল্প করতে যাবে তখুনি তার ফোন বেজে উঠলো, নিয়াজ সাহেব কল দিয়েছেন।
আরহাম তাকে বললো কল রিসিভ করতে, সে নাহয় আলিশা কে হেল্প করবে।
আয়শা আরহাম এর কথা মত ফোন নিয়ে ক্যাবিনের বাইরে চলে গেলো।
আলিশা আরহাম এর দিকে ভ্রু কুচঁকে তাকিয়ে আছে।
“কিইই?”
“তুমি হেল্প করবে আমায়?”
“কোনো সন্দেহ আছে?”
“লাগবেনা, মা এসে করবে”
“কেন? আমি করলে কোনো সমস্যা?”
“অবশ্যই সমস্যা।”
সেটা কেন?”
“তোমার নিয়ত খারাপ তাই।”
“আমার নিয়ত ভালো থাকলে এই ছোট গন্ডার তোর কোলে থাকতোনা।”
“ছিঃ।”
“নাটক বন্ধ কর, আমার ছেলের ক্ষিদে পেয়েছে”
“নার্স কে ডাকো”
“কেন? আমি আছি তো”
“না, তোমার হেল্প নিবোনা”
“এই বাই এনি চান্স, তুই কি লজ্জা পাচ্ছিস?”
আলিশা উত্তর করলোনা।
“আমার বাচ্চার মা হয়ে আমার থেকেই লজ্জা?” আরহাম হো হো করে হেসে উঠলো।
“হ্যাঁ, যেমন ডেলিভারির পর তুমি আমার কাছে আসতে লজ্জা পাচ্ছিলে।”
আরহাম এর হাসি এটা শুনে বন্ধ হয়ে গেলো।
“তোকে এই কথা কে বলেছে?”
“বলেছে একজন”
“নিশ্চয়ই আরাফ, তাই না?”
“হুম, ভিডিও ও দেখিয়েছে”
“এই শালা কে আমি পেয়েছি”
“এই আমার ভাই কে কিছু বলবেনা”
“তোর ভাই এর গুষ্টি উদ্ধার করবো দাড়া”
ওদের ককথোপকথন এর মাঝে বাবু আবার কেদেঁ উঠলো।
“আলিশা এখন বেশি হচ্ছে, ওর ক্ষিদে পেয়েছে।” আরহাম কন্ঠ রাগী শুনালো।
“আলিশার এবার মায়া লাগলো, তার ছোট্ট ছানা কেমন করে কাদঁছে তার দেখে মায়া লাগলেও থামাচ্ছেনা।”
“কি থামা ওকে”
“না”
“কেন?”
“দেখো ও কান্না করলে কত কিউট লাগে, একদম লাল টমেটো।”
আলিশার বর্ননা শুনে আরহাম ও বাবুর দিকে তাকালো,
হ্যাঁ তাই তো, কাদঁলে একদম লাল টমেটো লাগে, আহা এত কিউট বাচ্চা কেমনে হয়েছে তার?
তাদের দুজনের পর্যবেক্ষন এর মাঝেই বাবু আরো চিৎকার করে কেদেঁ উঠলো।
এবার যেন দুজনের হুশ ফিরলো।
আলিশা এবার সংকোচ না করে আরহাম কে বললো হেল্প করতে।
একটু লজ্জা পেলেও আলিশা সামলে নিলো সব আর আরহাম ও যথেষ্ট সাপোর্ট দিয়েছে আলিশা কে।
বাবুর মুখে খাবার দিতেই তার কান্না থেমে গেলো, মার বুকে আদুরে ভঙ্গিতে মুখ কুচঁকে খেতে লাগলো।
ছেলের কান্না থেকে শান্ত রুপ দেখতেই আরহাম বাকা হাসি দিয়ে বললো, বাপকা ব্যাটা ঠিকি নিজের অধিকার বুঝে নিতে জানে।
আলিশা প্রথমে না বুঝলেও একটু পর আরহাম এর এমন ডাবল মিনিং এর কথা বুঝে আসতেই লজ্জায় মুখ নামিয়ে ফেললো।
“আলিশা খাইয়েছিস বাবুকে?”
আয়শা ফোন হাতে ঢুকতে ঢুকতে বললো।
“হুম” (আলিশা)
“ছোট মা তুমি একটু থাকো, আমি গার্ড কে পাঠাচ্ছি সব জিনিসপত্র গাড়িতে নিতে, তুমি বুঝিয়ে দিয়ো কি কি নিতে হবে।”
“ঠিক আছে”
আরহাম চলে গেলো নিচে।
“বাবার সাথে কথা হয়েছে?”
“হুম, তোর বাবার তো তর সইছেনা নাতি কে দেখার জন্য, পারলে এখনি উড়ে উড়ে চলে আসে।”
“কবে আসবে বাবারা?”
“কালকের ফ্লাইট”
“ভাই আর নিলাপু আসবেনা?”
আরশাদ আর নিলীমার কথা শুনতেই আয়শার মন খারাপ হয়ে গেলো, হতাশার শ্বাস ফেলে বললো, কথা হয়েছিলো কাল।
“কি বলেছে?”
“নিলীমা অনেক করে আসতে চেয়েছে তবে আরশাদ রাজি না কারন এখন বাবুকে দেখলে নিলীমার আরো খারাপ লাগবে।”
“তাই বলে আসবেনা?”
“আসবে বলেছে মাস দুয়েক পর, ততদিনে নিলীমা কে একটু সময় দিতে চাচ্ছে যাতে রিয়েক্ট করে না বসে।”
“আমি আজই আলিশার কাছে যাবো” (নোমান)
“পাগলামি করোনা নোমান, ওর ছেলে হয়েছে দুদিন আগে এখন এক বাচ্চার মার জন্য এসব পাগলামি করার মানে নেই।”
“ও দশ বাচ্চার মা হলেও আমার ওকেই চাই ড্যাড।”
“তোমাকে আমি আরো সুন্দরি মেয়ে এনে দেবো”
“আমার চাইনা, আমার শুধু আলিশা কে চাই”
“এসব করে কেন খান দের সাথে আমার সম্পর্ক খারাপ করতে চাইছো?”
“তারা জানলেই তো খারাপ হবে”
“কি বলতে চাচ্ছো?”
তোমার আমার গল্প পর্ব ২৪
“যদি আরহাম আলিশার বিয়ে আর বাচ্চার কথা মিডিয়া জেনে যায় তবে?”
“ভুলেও এই কাজ করবেনা নাহলে আমার চেয়ে খারাপ কেও হবেনা’
নোমান শুনেও শুনলোনা, শিস বাজাতে বাজাতে চলে গেলো নিজের রুমের দিকে।
