Home তোমার আমার গল্প তোমার আমার গল্প পর্ব ২৬

তোমার আমার গল্প পর্ব ২৬

তোমার আমার গল্প পর্ব ২৬
noorayn

গাড়ি এসে দাঁড়িয়েছে খান ম্যানশেন এর সামনে…
সামনে থেকে আরহাম নেমে পিছনের ডোর ওপেন করে দিলো, আয়শা নেমে আসলো সেখান থেকে।
“বাবুকে আমার কাছে দাও আলিশা” (আয়শা)
আলিশা সায় দিয়ে কোল থেকে বাবুকে আয়শার কাছে দিয়ে দিলো।
আরহাম এর সাহায্যে আলিশা ধীরে ধীরে গাড়ি থেকে নেমে আসলো, সামনে থেকে এক নজর দেখলো বাড়িটা।
ড্রাইভার গাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় সব জিনিস নামাচ্ছে আরহাম এর তদারকি তে।
“ছোট মা, ওকে দাও আমার কাছে”
আয়শার কোল থেকে ছেলেকে নিয়ে নিলো আরহাম আর আয়শা আলিশার পাশে গিয়ে দাড়ালো।
“এই মিনি গন্ডার দেখ তোর বাড়ি”
ছোট বাচ্চাটা চোখ পিটপিট করে বাবার দিকে তাকিয়ে আছে, মাত্রই ঘুম ভেঙেছে তার।
আরহাম মনে মনে বললো, যখন লাস্ট বাড়ি থেকে বের হয়েছিলাম তখনো জানতাম না যে নেক্সট বাচ্চার বাপ হয়ে ফিরবো।
বাবু আঙুল চুষছে দেখে আরহাম বললো, সারাদিন মুখে হাত দিয়ে রাখিস কেন?

“নামা হাত।”
“কত্ত বড় বেয়াদব, বাপের কথা অমান্য করিস?”
“কিরে হাত নামা”
“উফ আরহাম কি করছো, ও কি এসব বুঝে” (আলিশা)
“তুই চুপ কর, তুই কে আমাকে মানা করার? আমার আর আমার ছেলের মাঝে কথা বলবিনা”
“এতমাস পেটে রাখলাম আমি, এতো ব্যাথা সহ্য করে জন্ম দিলাম আমি আর হয়ে গেলো তোমার ছেলে?”
“আমার ই তো, দেখ চোখ, মুখ সব আমার মতো।”
“মায়ের অধিকার বেশি হয়, তাই ও আমার বেশি তোমার কম”
আরহাম এটা শুনে হো হো করে হেসে দিলো।
“হাসছো কেন?”
“আমি ডিএনএ না দিলে তুই মা হতি? হতিনা, আমি দিয়েছি বলেই মা হতে পেরেছিস তাই তোর চেয়ে আমার অধিকার বেশি”

“বেহায়া বেটা”
“বেহায়া বেটার বউ”
আরহাম আলিশা বাবুকে নিয়ে এসো জলদি, ওকে এতোক্ষন ঘরের বাইরে রাখা ঠিক না।
আয়শার কথা শুনে দুজনে ঘরের দিকে পা বাড়ালো।
দরজার সামনে আসতেই দেখলো পুরা বাড়ি ডেকোরেশন করা হয়েছে ব্লু থীমে।
“দেখি দেখি সরো তোমরা, আমার বংশের আলো এসেছে।”
মেহরোজা আক্তার এর কথায় সবাই দরজার সামনে থেকে সরে দাড়ালো।
দরজায় ফিতা লাগানো হয়েছে যেটা কেটে ভিতরে প্রবেশ করবে তারা।
এরমধ্যেই আরহাম খেয়াল করলো, বাড়ির ভিতরে আরাফ, আদি, কাহাফ, রিহান, নেহা, নিধি আর আলিশার ফ্রেন্ড দিহান এবং মিথি ও রয়েছে।
“দেখি আমার চাঁদ কে” (শাইনা)
“বড় বউ এসব দেখা দেখি পরে করতে পারবা আগে ওদের বাড়িতে ঢুকতে দাও”
“জ্বী আম্মা”

ফিতা কেটে খান বাড়িতে প্রবেশ করলো আরহাম আর আলিশা।
আরহাম এর কোলে বাবু।
তারা ঢুকতেই সবাই একসাথে ফুলের বর্ষন করলো তাদের উপর, সাথে সবাই একই সাথে বলে উঠলো, “ওয়েলকাম হোম বেবী”।
সবার একপ্রকার কাড়াকাড়ি লেগে গেলো বাবুকে কোলে নিবে বলে।
“বাবু তো দেখি পুরাই আরহাম” (রিহান)
“কই আমার তো লাগছেনা” (নেহা)
“উফ কি আদুরে” (নিধি”
“একদম রসগোল্লা” (আদি)
“একদম আমার মতো কিউট হয়েছে” (কাহাফ)
“এই বয়সে মামা হয়ে গেলাম” (দিহান)
“এই বাবুকে আমার কাছে দাও” (মিথি)
“থাম সবাই, আমার ছেলে ভয় পাচ্ছে” (আরহাম)
“ওহ হোওওও আমার ছেলেএএএএ, সবাই একসাথে সুর টেনে বললো।”
“তো কি পাড়া প্রতিবেশির ছেলে?”

“না না, নিউ আব্বা ও আপনার ই ছেলে” (আরাফ)
“তুই চুপ থাক, আর ফোন টা রাখ সেই কখন থেকে ভিডিও করে যাচ্ছিস।” (আরহাম)
“তোর বউ বলেছে ভিডিও করতে” (আরাফ)
আরাফ ওর কথা শুনে আরহাম আলিশার দিকে ভ্রু কুচঁকে তাকালো।
“কি এভাবে দেখছো কেন? আমি তো জস্ট ফর মেমোরি ভিডিও করে রাখতে বলেছিলাম।”
“সবাই বসো, আগে নাস্তা করে নাও” (আয়শা)
“আগে পুতুল কে মিষ্টি মুখ করা ছোট”
আয়শা হাতে অল্প করে পায়েশ এনে আলিশা কে খাইয়ে দিলো।
“এই তো ভারি অন্যায়, আমার পায়েশ কই?” (আরহাম)
“তোকে কেন দেব? তুই কি করেছিস?” (শাইনা)
“আমি না থাকলে তুমি দাদি হতে পারতে না” (আরহাম)
“হতচ্ছাড়া ছেলে, আমি তোর মা, শরম কর। (বলেই আরহাম ওর কান মলে দিলো শাইনা)
“আহ মা সবার সামনে এসব কি?”
“আরো জোড়ে টানো বড় মা”

“তুই আজকে ঘরে চল শুধু” (আরহাম)
“দেখেছো বড় মা, তোমার সামনে আমাকে হুমকি দিচ্ছে”
“চুপ করো আলিশা” (আয়শা)
“নাও বাবা, এদের কথা শুনতে হবেনা তোমার, আমি তোমার জন্যও পায়েশ এনেছি।
আরহাম কেও পায়েশ খাইয়ে দিলো আয়শা।
” সবাই এসো, আজ না খেয়ে কাওকে যেতে দিচ্ছিনা” (শাইনা)
সবাই চলে গেলো ডাইনিং টেবিল এ।
“পরি তুই রুমে যা, ছোট বাচ্চাকে এতক্ষন না খাওয়াই রাখেনা” (মেহরোজা আক্তার)
আলিশা বাবুকে নিয়ে রুমে চলে গেলো, গিয়ে দেখে সেখানে ওয়ালে আরহাম আলিশা আর বাবুর ছবি ফ্রেমে বাধাঁ, যেটা বাবুর হওয়ার দিন আরাফ তুলেছিলো।
আরহাম ও আলিশার পিছু পিছু রুমে ঢুকলো, সেও আলিশার মতো অবাক, এতোসব কখন করলো সবাই?
“সুন্দর হয়েছে না?” (আরহাম)
“হুম, আমি, তুমি এবং আমরা” (আলিশা)

সবাই চলে গিয়েছে প্রায় দুঘন্টা হবে, আরহাম আলিশা ঘুমুচ্ছে আর বাবু এখন তার দাদি নানির সাথে রয়েছে।
মেহরোজা আক্তার এর শরীর টা আজকাল ভালো যাচ্ছেনা, হাটুঁতে ব্যাথা বেড়েছে, তাই তিনিও ঔষধ নিয়ে ঘুমাচ্ছেন।
আরহাম আলিশা কে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে।
হঠাৎ দরজার করঘাতে আরহাম এর ঘুম ভাঙলো।
উঠে গিয়ে দরজা খুলে দেখলো শাইনা বাবু হাতে দাঁড়িয়ে আছে আর বাবু এখন গলা ফাটিঁয়ে কান্না করছে।
আরহাম কে ঠেলে শাইনা রুমে ঢুকে গেলো।
“কিরে কিরে কার না কার বাচ্চা নিয়ে এখানে কি করছো তুমি?” (আরহাম)
শাইনা আরহাম এর কথা শুনে বড় বড় চোখ করে তাকালো তার দিকে।
এই ছেলে ঘুমের ঘোড়ে ভুলে গিয়েছে যে তার একটা বাচ্চা ও আছে, শাইনা আরহাম এর সামনে গিয়ে জোড়ে কান টেনে ধরলো।

“হতচ্ছাড়া ছেলে, এটা তোর বাচ্চা”
কানের ব্যাথায় আর মায়ের কথা শুনে যেন আরহাম এর হুশ ফিরলো।
আরহাম কে ছেড়ে শাইনা আলিশার কাছে গিয়ে তার বুকে বাবুকে দিয়ে দিলো।
আলিশার ঘুম হালকা হয়ে এসেছে, ঘুম ভাঙতেই দেখে ছোট একটা হাত তার জামা ধরে বুকে মুখ গুজে আছে।
“পুতুল, ক্ষিদে পেয়েছে ওর, খাইয়ে দে”
“দিচ্ছি”
শাইনা বেড়িয়ে গেলো রুম থেকে।

বাবুকে বুকে নিয়ে আলিশা শুয়ে আছে।
“খালি বাবুকে আদর দিলে হবে? বাবুর বাবাকেও দিতে হবে” (আরহাম)
“এতো বড় দামড়া বেটাকে কেন আমি আদর দিতে যাবো?”
“এই দামড়া কাকে বলছিস?”
“তোমাকে”
“আমি এখনো ছোট বাচ্চা”
“তাহলে ও কি? (বাবুকে ইশারা করে দেখালো আলিশা)
“তোর বাচ্চা”
“আমি কে?”
“চাচ্চুর বাচ্চা”
“আরহাম এর বাচ্চা”
“বল আমার বাচ্চার মা”
“তুইইই….
কিছু বলার আগে বাবু হালকা নেড়ে উঠলো।
আলিশা বুকে চাপড় দিয়ে আবার ঘুম পাড়িয়ে দিলো।
“আচ্ছা ওর কি নাম রাখবি?” (আরহাম)
“ভাবিনি”
“আমি ভেবেছি”
“কি?”
“আরশান”
“আবার বলো”

তোমার আমার গল্প পর্ব ২৫

“আরশান মেহতাব খান”
“আরশান??
“হুম আমাদের আরশান”
“সুন্দর”
“পছন্দ হয়েছে তোর?”
“অনেককক”

তোমার আমার গল্প পর্ব ২৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here