তোমার আমার গল্প পর্ব ৩৯
noorayn
রাত ১০ টা…
কাল সকালের ফ্লাইট বলে সবাই ডিনার করে ঘুমিয়ে গেছে। জেগে আছে কেবল আলিশা এবং আরশান।
আলিশা মুখ ফুলিয়ে বসে আছে আর ছোট ডোরা নিচে বেবি ম্যাটের উপর হামাগুড়ি দিয়ে খেলছে।
আরহাম হাতে গাড়ির চাবি ঘুরাতে ঘুরাতে রুমে প্রবেশ করলো। এসেই তার ভ্রুজোড়া আপনা-আপনি কুচকে গেলো কেননা আরশান তার নতুন আন্ডারওয়্যার হাতে নিয়ে খেলছে আর চারিদিকে সব জামাকাপড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এইসব নিশ্চয়ই এই বেয়াদব মহিলার কাজ – সকালের ব্যবহারের প্রতিশোধ নিচ্ছে।
আরহাম ডোরার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বললো –
“বজ্জাত বাচ্চা, এতো জামা কাপড় থাকতে তুই আমার গোপন বস্ত্রে হাত দিলি কেন? তোর কাজই বাপের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলা”
ছোট্ট ডোরা বাবার কথা না বুঝলেও তার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো।
আরহাম এসে তার হাত থেকে বস্ত্রটি নিতে চাইলে সে তা শক্ত করে আকড়ে ধরলো।
“এই ছোট মরিচ ছাড় বলছি।”
বাবার এমন কথা শুনে ডোরা তার ফুলকো গাল আরো ফুলিয়ে রাগান্বিত মুখে শাসিয়ে বললো -” তাইত তাইত”
“যেই না সাইজ সেই আবার বাপকে তাইত দেয়। কত্ত বড় সাহস! দেখি দে আমার জিনিস”
আরহাম টানতে গেলে ডোরা তা আরো শক্ত করে মুঠো করে ধরলো।
“এখনো ঠিকমতো দাঁত উঠেনি আর এই বয়সেই বাপের সাথে ঝগড়া করছিস? একদম চাপকে পশ্চাৎদেশ লাল করে দেবো।” আরহামের কথা শেষ হতে দেরি তবে তার নাক বরাবর ছোট গুলুমুলু হাতের থাবা পড়তে দেরি হলোনা।
“তা..শ তাশ তাইত” ডোরা রাগান্বিত মুখে বললো।
আরহাম নাক ডলছে আর ভষ্ম করে দেবে এমন চোখে ছেলের দিকে তাকিয়ে আছে।
দুইজনের মধ্যে যেন কঠিন এক যুদ্ধ চলছে।
আরহাম এবার জোর করে ডোরার হাত থেকে নিজের ছোট বস্ত্রটি ছিনিয়ে নিলো। ব্যাস শুরু হয়ে গেলো আরশানের গলা উঁচিয়ে কান্না।
“এই আন্ডা থাম, কথায় কথায় কান্না করবিনা।”
ডোরা কেঁদেই চলেছে আর মায়ের দিকে তাকাচ্ছে যেন নালিশ করছে বাবার বিরুদ্ধে।
আলিশা এসে ছেলেকে কোলে নিয়ে আদর করলো –
“কাঁদেনা বাচ্চা, মাম্মা তোমাকে আরো ভালোটা কিনে দেবো।”
আলিশার কথা শুনে আরহাম হো হো করে হেসে উঠলো –
“এতোটুক আন্ডা কিনা আন্ডারও্যায়ের পড়বে, হাহাহা।”
আলিশা তেতে উঠে বললো –
“লজ্জা করেনা আমার দুধের বাচ্চাকে জ্বালাতে?”
“লজ্জা আমার না বরং তোর দুধের বাচ্চার করার উচিত, যেই কিনা বাপের ইজ্জতের দিকে নজর দেয় বারবার।”
“ও এসব কি বোঝে? এক্ষুনি এটা ফেরত দাও আমার ছেলেকে।”
আরহাম বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে শুধালো –
“আরেহ বাপ কান্না থামা। তুই বড় হলে তোকেও কিনে দেবো। বাপ-ব্যাটা একসাথে কিনবো।”
“অসভ্য গন্ডার, এসব কি শেখাচ্ছো ওকে?”
আরহাম জবাব না দিয়ে আলিশার কোল থেকে ছেলেকে নিয়ে ফোলা গালে গপাগপ কটা চুমু খেয়ে নিলো।
ডোরা রাগে বাবার চুল মুঠো করে টান দিলো।
আরহামও পাল্টা ডোরার ছোট ছোট চুল হালকা টেনে ধরলো – এতে ডোরা ব্যাথা না পেলেও তার কান্নার স্বর আরও বাড়লো।
“এই ছোট মরিচ ছাড় আমার চুল নাহলে তোকে আজ ডাব্বু করে দেবো।”
আলিশা ছেলেকে কোলে নিতে চাইলে আরহাম দিলোনা।
“কেন কাঁদাচ্ছো ওকে? দাও আমার কাছে।”
“কান্না করলে ওর গাল দুটো আরও ফুলে যায় তখন আমার চুমু খেতে মজা লাগে।”
“দিতে বলেছি ওকে।”
আরহাম দিলোনা বরং ডোরার হাতে তার ছোট বস্ত্রটি ধরিয়ে দিলো যার জন্য এতো কান্না।
ডোরা নিজের আকাঙ্ক্ষিত জিনিস হাতে পেয়ে কান্না থামিয়ে তা আকড়ে ধরলো।
“কত শেয়ানা বাচ্চা, শুধু বাপের জিনিসে নজর। মাঝে মধ্যে মায়ের কিছু ও নিতে পারিস তা না।”
বলেই আরহাম ডোরাকে আলিশার কোলে দিয়ে চলে গেলো ফ্রেশ হতে। এসবের মাঝে তার খেয়ালে আসলোনা এক রমনীর রাগান্বিত মুখ।
আরহাম চুল মুছতে মুছতে বের হলো ওয়াশরুম থেকে – পরনে তার কেবল একটি টাওয়াল।
আলিশা ডোরাকে ফিড করাচ্ছে আর একটু পরপর আড়চোখে আরহামকে দেখছে।
“সোজা চোখেই দেখতে পারিস, তোরই বর। মাইন্ড করবোনা।”
আলিশা থতমত খেয়ে চোখ সরিয়ে নিলো।
“আমার বয়েই গেছে এরকম একটা হাতিকে দেখতে।”
“হাতি বললি কাকে? এতো ফিট এন্ড হট বডি বানাতে কত কষ্ট করা লাগে জানিস?”
“জানতে চাইনা, হুহহ”
“ব্যাপার না, রাতে হারে হারে জানিয়ে দেবো।”
“কাছেও ঘেষবেনা আমার।”
এমন কথায় আরহাম চোখ টিপে ফ্লাইং কিস ছুড়ে বললো –
“আচ্ছা”
আলিশা জানে এই আচ্ছার মানে কি? তাই সে পাশ থেকে কুশন ছুড়ে মারলো আরহামের দিকে – যা গায়ে লাগার আগেই সে ক্যাচ করে ফেললো।
“এখন এতো ছোড়াছুড়ি করে এনার্জি লস করছিস কেন? রাতের জন্য বাঁচিয়ে রাখ, তখন তোর সব ছোড়াছুড়ি দেখবো।”
“অশ্লীল বেডা মানুষ।”
আরহাম ঠোঁট পাউট করে শুধালো – “শুধুই তোর জন্য।”
আলিশা জানে এখন আরহামকে যাই বলুক না কেন সে আরও অসভ্যতা করবে তাই আর কিছু না বলে চুপ করে গেলো।
ডোরা খেতে খেতে ঘুমিয়ে গেছে তাই আলিশা তাকে সতপর্নে মাঝখানে শুইয়ে দিলো। ডোরার হাতে এখনো সেই ক্ষুদ্র বস্ত্রটি রয়েছে – আলিশা সেটা সরিয়ে রাখতে গিয়ে খেয়াল করলো ডোরা অনেক শক্ত করে তা ধরে রেখেছে ঘুমের মধ্যেও।
তাই সে আর নেয়ার চেষ্টা করলোনা – এখন নিতে গেলে যদি ডোরার ঘুম ভেঙে যায় তবে পুরা রাতেও আর ঘুমাবেনা।
আরহাম ঘুমানোর জন্য বেডে আসতে গেলে আলিশার কথায় তার পাজোড়া থেমে গেলো।
“কি এদিকে আসছো কেন?”
“ঘুমানোর জন্য।”
“কিসের ঘুম? তুমি ঘুমালে এতো কাজ কে করবে?” আলিশা নিচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা কাপড়ের স্তূপের দিকে ইশারা করলো।
“কে করবে আবার? যেই এই হাল করেছে সেই করবে। এবং তুই করেছিস এসব তাই অবশ্যই তুই করবি।”
“আমি পারবোনা।”
“তাহলে আমি কেন করবো?”
“ট্রিপের প্ল্যান কার ছিলো?”
“আমার”
“রাতে দেরি করে এসেছে কে?”
“আমি”
“তাহলে প্যাকিং করবে কে?”
“আমি” নিজে বলে আরহাম নিজেই থতমত খেয়ে গেলো। এই ছোট মরিচের মা সবসময় তাকে কথার জ্বালে ফাসিয়ে কার্য হাসিল করে।
“কারেক্ট”
“আমি করবোনা। আর তুই এখনো প্যাকিং করিস নি কেন? সকালের ফ্লাইট লিশা।”
“তুমি দেরি করে এসছো কেন? আমি তো তোমার অপেক্ষা করছিলাম, একসাথে করবো বলে।”
“কোনো সময় তো অপেক্ষা করিস না। নিজে থেকে তোর আমার প্যাকিং করে রাখিস।”
“এবার ইচ্ছা করেনি।” আলিশা হাই তুলতে তুলতে বললো।
আরহাম বুঝলো আলিশা তাকে সকালের জন্য শায়েস্তা করছে। সে কটমটিয়ে চেয়ে জিজ্ঞেস করলো –
“প্রতিশোধ নিচ্ছিস সকালের জন্য?”
আলিশা কুটিল হেসে শুধালো – “ইয়েস জান।”
“আমি মানিনা এসব। তুই এদিকে আয়, দুজনে একসাথে সব কাজ শেষ করি।”
“আমি পারবোনা। আমার কোমড়ে অনেক ব্যাথা।”
“কেন তুই কি বুড়ি?”
“হ্যাঁ তুমি বুড়ার বুড়ি আমি, উম্মাহহহ। এখন জলদি সব কাজ শেষ করো।”
“সার্ভেন্ট করবে। ডেকে আনছি।”
“ভুলেও না। সার্ভেন্টের প্যাকিং আমার পছন্দ নয়। তুমিই করবে নয়তো আমি কাল যাবোনা।”
আরহাম একপ্রকার বাধ্য হয়েই দাঁতে দাঁত চেপে কাজ করা শুরু করলো। তা দেখে আলিশা কুটিল হেসে চোখ বুজলো।
প্রায় দু’ঘন্টা পর…
ঘুমের মধ্যে আলিশা টের পাচ্ছে তার কোমড়ে পুরুষালী হাতের বিচরন। সে আধো-আধো চোখ খুলে দেখলো আরহাম তার সাথে লেপ্টে আছে।
“কি..কি করছো এসব?”
“তোর কোমড়ের কোথায় কোথায় ব্যাথা তা পরোখ করছি।” বলেই হাতের চাপ বৃদ্ধি করলো।
“প্যাকিং?”
“সব শেষ।”
“ডোরা…”
“দোলনায় রেখে এসেছি।”
আলিশা উপায় না পেয়ে উঠে বসার চেষ্টা করলে আরহাম তা দিলোনা বরং চেপে ধরে ধরলো বিছানার সাথে।
“ঘুমাবো…ছা..ছাড়ো।”
তোমার আমার গল্প পর্ব ৩৮ (২)
“ঘুমাতে হবেনা আজ রাতে।”
“দূরে যাও বলছি।”
“উহম..অনলি কাছাকাছি।”
“তুমি….”
“ডোন্ট ডিসর্টাব, দেখতে দে কোথায় কোথায় ব্যাথা।”
“আরহাম…স্টপ”
আরহাম থামলো না বরং উম্মাদ হলো আলিশাতে।
