Home তোমার আমার গল্প তোমার আমার গল্প পর্ব ৪

তোমার আমার গল্প পর্ব ৪

তোমার আমার গল্প পর্ব ৪
noorayn

আরহাম দৌড়ে এসে ব্যালকনিতে গিয়ে দেখে আলিশা টিকটিকি দেখে চিৎকার করেছে। এটা দেখেই সে এসে আলিশার মাথায় চাটি মারলো আর বিপরীতে আলিশা কি চুপ থাকে? সেও আরহামের বুকে কামড়ে দিলো। আরহাম রাগী চোখে তাকাতেই আলিশা ছলছল চোখে তাকিয়ে বললো – “কেন এসেছো? একটু আগেই না এত কথা শুনালে?”
“লিশা দেখ যা বলেছি রাগের মাথায় বলেছি তবে তোর দোষ আছে। তুই ঠিকমতো পিল নিলে আজ এমন সিচুয়েশনে ক্রিয়েট হতোনা।”

“আমি ইচ্ছে করে করিনি বিশ্বাস করো। কোনদিন কিভাবে মিস করে গেলাম তা বুঝিনি।” বলেই আরহামকে জড়িয়ে ধরলো। আরহামও আগলে নিলো আলিশাকে। তবে আরহামের মাথা টেনশেনে ফেটে যাচ্ছে যদি খবরটা কোনোভাবে মিডিয়াতে পৌঁছে যায় তাহলে ব্যাপারটা খুবই খারাপ দিকে চলে যাবে।
–আরহাম একজন প্রফেশনাল সিঙ্গার। তার বন্ধুদের সাথে মিলে তার নিজের একটা ব্যান্ড আছে যেখানে মেইন গায়ক আরহাম। দেশের টপ সিঙ্গারদের মাঝে তার নাম শীর্ষে থাকে। তবে আরহামের এই প্রফেশনকে আলিশা ছাড়া আর কেউ সাপোর্ট করেনা কারন বাড়ির সবার মতে তার উচিত পড়াশোনা শেষ করে পারিবারিক বিজনেসে জয়েন করা কিন্তু আরহামের শখ গিটারে সুর তোলা। নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়েই আজকে সে কেবল ২০ বছর বয়সেই আলাদা পরিচয় তৈরি করতে পেরেছে।

তার আরও একটি পরিচয় আছে তা হলো মোস্ট ওয়ান্টেড চকলেট বয়। জীবনে সিরিয়াসনেস বলতে যার কিছু নেই শুধু জানে লাইফটা ইঞ্জয় করতে। সবকিছু তার কাছে এডভেঞ্চার মনে হয়। নিজের গানের প্রফেশনের পাশাপাশি সে দেশের টপ প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে অনার্স ২য় বর্ষে পড়ালেখা করছে।
আর আলিশা? সে নিজেও হলো এডভেঞ্চার প্রিয় মেয়ে তাই হয়তো বিয়ে/সংসারের মানে তারা কোনোদিন বুঝে উঠার চেষ্টায় করেনি। আলিশা বর্তমানে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ক্লাস টেনে পড়ছে যার সবকিছু জুড়ে তার ফ্রেন্ড সার্কেল আর দুষ্টামি তবে দিনশেষে আরহামই যেন তার শেষ ঠিকানা যেখানে সব কথা না বললে তার দিনই শেষ হয়না আর একই ব্যাপার আরহামের ক্ষেত্রেও।

বর্তমানে আলিশা আরহামের কোলে বসে তার চুল নিয়ে খেলছে আর আরহাম বারবার বিরক্ত হয়ে বলছে – “কি ভারি তুই। যা সর এখান থেকে। আমার কোমরটা বোধহয় ভেঙে গেলো।”
“ছিঃ এতো দুর্বল তুমি? সামান্য আমার ভার নিতে পারছোনা?”
“আমি দুর্বল হলে তুই এখন প্রেগন্যান্ট থাকতিনা।”
“চুপ করো।”
“শুন, কালকে হসপিটাল যাবো – সব চেকআপ করতে হবে আর আজ থেকে তোর লাফালাফি সব বন্ধ কারন বাচ্চা আমরা না চাইলেও দাদির খুব প্রিয় আর দাদি আমাদের প্রিয়।”
“ভাবা যায়? আমরাও কারও মাম্মা-পাপা হবো?”
“এখন না ভাবলেও কিছু মাস পর এমনিতেই ভেবে নিবি কারন তখন তুই গোল আলু হয়ে যাবি।”
“কি বললি তুই? গোল আলু?” বলেই আরহামকে আবার কামড়
দিলো। আরহামও ছেড়ে দেয়ার পাত্র নয় – সে বললো – “দাড়া, কামড় কাকে বলে তোকে দেখাচ্ছি” বলেই আলিশার ঠোঁট নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিলো।

পরদিন সকালে….
আলিশা স্কুলের জন্য রেডি হচ্ছে আর আরহাম ভার্সিটির জন্য।
আলিশা হঠাৎ বলে উঠলো – “চলো আজকে ওখানে যাবো।”
“পাগল হয়েছিস? এই অবস্থায় ওখানে গেলে আর ঘরে কেউ জানলে আমাদের কপালে বাঁশ আছে।”
“ভীতু কোথাকার, আজ পর্যন্ত কেউ জেনেছে যে আজ জানবে? প্লিজ প্লিজ চলো না।”
“ঠিক আছে যাবো, তবে বাকিদেরও কল দিয়ে বলি আর আজকে স্কুল/ভার্সিটি সব ক্যান্সেল।”

তোমার আমার গল্প পর্ব ৩

“কিন্তু বাড়িতে যেন কেউ না জানে সেই খেয়ালও রাখতে হবে।”
–অন্যদিকে পরিবারের সবাই মিলে নিচ্ছে অন্য এক সিদ্ধান্ত যা তাদের ভাবনার ও বাইরে।
কিন্তু বড়দের এই সিদ্ধান্ত কি তারা মেনে নিবে নাকি তাদের গল্প অন্যদিকে মোড় নিবে?

তোমার আমার গল্প পর্ব ৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here