Home তোমার আমার গল্প তোমার আমার গল্প পর্ব ২

তোমার আমার গল্প পর্ব ২

তোমার আমার গল্প পর্ব ২
noorayn

–“আমি এই বাচ্চা চাইনা…..”
আরহামের এমন কথায় আলিশা যেন হঠাৎ থমকে গেলো।
“এসবের মানে কি আরহাম? আমি এই কাজ করতে পারবোনা।”
“এটা পারবিনা মানে কি? বাচ্চা পালার বয়স হয়েছে আমাদের? এখনো কেউ বিয়ের ব্যাপারটা জানেনা সেখানে বাচ্চা কিভাবে? আর তুই এখনো অনেক ছোট লিশা; তুই এসব পারবিনা, তুই নিজেই যেখানে বাচ্চা সেখানে বাচ্চা কিভাবে পালবি? আর আমি তো ফরএভার ব্যাচেলার আমি কিভাবে বাবা হবো? ও মাই গড! এবং সবচেয়ে বড় কথা বাড়ির সবাইকে কিভাবে বলবো?”

আরহামের কথা শুনে যুক্তিসম্মত মনে হলো আলিশার তাই সে বললো – “তুমি কি ভেবে বলছো?”
“এতো ভাবার সময় নেই লিশা। কালকেই চল হসপিটাল।”
“সব তোমার দোষ সব ; তুমি ইচ্ছে করে আমার সাথে এমন করেছো তাই না?”
“সব আমার দোষ কিভাবে হয়? তোকে পিল এনে দেয়নি? তুই পিল ঠিকমতো নিলে এই সিচুয়েশন ক্রিয়েট হতোনা। সব তোর দোষ… ” এটা বলেই আলিশা কে মারতে গেলো।
আলিশাও রেগে আরহামের চুল টেনে ধরলো।
–ওদের চিল্লা-চিল্লিতে শাইনা আর আয়শা দৌড়ে এলো। এসেই শাইনা ওদের ছাড়ালো কিন্তু এর মধ্যেই আয়শার চোখে পড়লো বেডে রাখা প্রেগন্যান্সি কিটের উপর।
আয়শা তা দেখা মাত্রই যেন থমকে গেলো। আয়শার এমন চেহারা দেখে শাইনা এগিয়ে এসে কি হয়েছে জানতে চাইলেও আয়শা কিছু বললোনা তবে আয়শার দৃষ্টি খেয়াল করে শাইনা যখন বেডের দিকে তাকালো তখন কিট দেখে কিছু বলার আগেই একটা শব্দে থমকে গেল। আয়শা থাপ্পর মেরেছে আলিশাকে।
আলিশা অবাক চোখে চেয়ে থাকলো তার মায়ের দিকে; যে মা কিনা আজ পর্যন্ত তার গায়ে একটা টোকা ও দেয়নি সেই মা তাকে মেরেছে কিন্তু কেন?

আরহাম এসেই আলিশা কে ধরলো।
শাইনা বেগম কিছু বলার আগেই আবার চড় মারার জন্য হাত উঠাতেই আরহাম সামনে এসে দাড়ালো যার কারনে চড় টা আরহামের বুকে এসে ঠেকলো।
আরহাম চিল্লিয়ে বললো – “ছোট মা এসব কি? এত বড় মেয়ের গায়ে হাত তুলছো কেন? কি করেছে ও?”
এরমধ্যেই শাইনা এসে আলিশা কে আগলে নিলো, আলিশা ফুপিয়ে কান্না করছে।
আয়শা বলে উঠলেন – “কি করেছে ও? এই বয়সে মা হতে চলেছে! প্রেগন্যান্সির মানেও বুঝে ও? বিয়ের পর বুঝাই নি ওকে আরহাম থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে সময় হলে আমরাই আয়োজন করে এক করতাম ওদের। কিন্তু ও কি করেছে! বাচ্চার মানেও বুঝে ও? এখনো স্কুল শেষ করেনি। এই মেয়েকে আজকে আমি মেরেই ফেলবো…” বলে এগিয়ে যেতেই আরহাম তার ছোট মায়ের হাত ধরে ফেললো আর শক্ত চোখে তাকিয়ে বললো – “আমি আমার বউয়ের গায়ে হাত তোলার অনুমতি কাউকে দেইনি। ওর এক কথার বাক্য যেন সবার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। যে ছেলে এই বিয়েই মানেনা এখনো, যাদের মধ্যে সাপ-নেউলে সম্পর্ক; সেই ছেলে কিনা আলিশাকে বউ বললো তাও আবার সবার সামনে!

–শাইনা রেগে আয়শা কে বললো যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে এখন এসব বলে লাভ নেই। ওদের বাবারা ঘরে আসুক তারপর নাহয় যা বলার বলবে; বলেই আয়শা কে নিয়ে রুম থেকে চলে গেলো। ওরা যেতেই আরহাম রুমের দরজা বন্ধ করে দিলো। আর আলিশাকে বললো “এই মরা কান্না বন্ধ কর, ছোট মা এত জোড়েও মারেনি তোকে। বলেছিলাম পিল ঠিকমত নিতে ; যদি নিতি তাহলে আজকে এই হাল দেখতে হতোনা।”
আলিশা ফোপাঁতে ফোপাঁতে উত্তর করলো –
“সব দোষ এখন আমার? বাচ্চা টা কি এমনি এমনি আমার পেটে এসেছে? তুমি কিছু করনি?”
“এই মেয়ে তোর এসব বলতে লজ্জা করেনা? এতোটুক বাচ্চা মেয়ে আবার আমার মুখের উপর এসব কথা বলছে! শরম কর শরম – তোর চার বছরের বড় আমি।”
“কিসের লজ্জা? লজ্জা তো তোমার হওয়া উচিত; একটা বাচ্চা মেয়ের সাথে এসব করতে তোমার লজ্জা করেনি? এখন আমার সাথে ঝগড়া করছো?”

“হয়েছে ছাড় এসব। আজকে বাবা আর ছোট বাবা আসলে কি হবে ভাবতে পারছিস? বাবা তো আমাকে মেরেই ফেলবে।”
“মারাই উচিত তোমাকে।”
“এই কি বললি তুই? আবার বল। এখন না তোকে ছোটমার হাত থেকে বাঁচালাম আর তুই আমাকেই মার খেতে বলছিস?”

তোমার আমার গল্প পর্ব ১

“না মানে…ওই…”
“হয়েছে আর মিথ্যা বলতে হবেনা। এখন সামনে কি হবে তা নিয়ে ভাবতে হবে আমাদের।”
“হুম, ঠিক বলেছো। কি করা যায়?”
“শুন আমার কাছে একটা প্ল্যান আছে।”
“কি প্ল্যান?”
“শুন আমরা আজকে….”

তোমার আমার গল্প পর্ব ৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here