তোমার আমার গল্প পর্ব ১
noorayn
তুই প্রেগন্যান্ট!! মানে কি এসব এর?? প্রেগন্যান্সির মানেও বুঝিস? এই বয়স কত তোর? ১৬ বছর এর বাচ্চার পেটে বাচ্চা?
–কথাটি বলেই আরহাম মাথায় হাত দিয়ে বেডে বসে পড়লো আর আলিশা ও তার পাশে এসে বসলো।
প্রেগন্যান্সির খবর টা সবার জন্য খুশির হলেও এই দম্পতির জন্য আতংকের কেননা তাদের বয়স অনেক কম।
আরহাম এর ২০ আর আলিশা কেবল ষোড়শী কন্যা।
তাদের বিবাহিত জীবনের বয়স মাত্র ৬ মাস।
চলুন জেনে আসা যাক তাদের পরিবার সম্পর্কে :
খান বংশের ২ ছেলে। বড় ছেলে ইজাজ খান আর তার সহধর্মিণী শাইনা খান, তাদের দুটি সন্তান রয়েছে বড় মেয়ে নীলিমা খান আর ছোট ছেলে আরহাম মেহতাব খান।
ছোট ছেলে নিয়াজ খান আর তার সহধর্মিণী আয়শা খান, তাদের ও দুটি সন্তান রয়েছে বড় ছেলে আরশাদ খান আর ছোট মেয়ে আলিশা খান।
আর এই ঘরের হেইড আর তাদের মা মেহরোজা আক্তার।
এই ঘরের বড়দের জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশে হলেও এই ঘরের ছোটদের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ইতালির রোম শহরে যদিও বছর কয়েক আগে তারা সবাই বাংলাদেশর মাটিতে ফিরেছে।
আরশাদ (২৬) আর নীলা (২৫) ওরা ২ বিবাহিত, দুজনের প্রেমের বিয়ে, শুরুতে কেও না মানলেও আস্তে আস্তে সবাই মেনে নেয় তবে বিয়ের ২ বছর এ ও তাদের ঘরে সন্তান নেই যার চিকিৎসার জন্য ওরা গত ৮ মাস ধরেই ইতালি তে অবস্থান করছে।
এবার ফেরা যাক – আরহাম আর আলিশার কাহিনীতে।
ছোট থেকেই তাদের সাপ নেউলে সম্পর্ক কিন্তু কেউ কাউকে ছাড়া থাকতে পারেনা। ঝগড়া হোক যাই হোক এদের কারোর জীবনে সামান্য কিছু হলেও তারা একে অপর কে বলবেই। এই সম্পর্কের বদল ঘটে আজ থেকে ৬ মাস আগে।
৬ মাস আগে এক রিলেটিভ এর প্রোগ্রামে তারা পুরা পরিবার গিয়েছিলো রূপনগর।
সেখানেও আরহাম আলিশা মেতে ছিল তাদের দুষ্টামি আর ঝগড়াতে যা তাদের আর তাদের পরিবার এর জন্য নিত্যদিনের হলেও ওখানকার মানুষদের জন্য ছিলো অসভ্যতার চরম সীমা যদিও খান বাড়ির ছেলে মেয়ে বলে কেউ কিছু বলেনি; কিন্তু এক দুপুরে আলিশা কিছু মেয়ের সাথে ঘুরতে গিয়ে ভুলবসত পুকুরে পড়ে গিয়েছিল আর তখন পাশে আরহাম থাকাই সেই আলিশাকে তুলেছিল পুকুর থেকে কোলে করে আর এতে দুই জনের ভেজা শরীর লেপ্টে ছিল একে অপরের সাথে আর এই দৃশ্য দেখেই আশে পাশের সবার মুখে মুখে রটে যায় তারা অশ্লীল কাজ করতে গিয়ে ধরা খেয়েছে। বাড়িতে জানাজানি হলে খান বাড়ির সবাই রাগা রাগি করে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তবে বেকে বসেন আরহাম এর দাদি মেহরোজা তিনি বলেন খান বাড়ির ছেলে মেয়ের গায়ে কলঙ্কের দাগ লাগিয়ে তিনি এখান থেকে যাবেন নাহ। উনি প্রস্তাব দেন আলিশা-আরহাম এর বিয়ে আজকেই হবে উনার এই কথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে খান বাড়ির সকল সদস্যদের উপর। অনেক রাগারাগি করেও সিদ্ধান্ত পাল্টানো যায়নি বরং অসুস্থ হয়ে পড়েন মেহরোজা আক্তার। সেদিন ২ জনের কারোও অনুমতি না নিয়েই বিবাহ বন্ধনে আবন্ধ করা হয় আরহাম – আলিশাকে।
তবে তারা ২ জনের কেও ই এই বিষয় নিয়ে রাগ করেনি বরং এটা ছিলো তাদের কাছে একটা নিউ এডভেঞ্চার একটা নিউ ফ্যান্টাসি কিন্তু তাদের এই অবুঝপনাই যে সংসার হয়না এটা কি তারা বুঝেছিল?
বিয়ের পরপরই তারা ঢাকা ফিরে আসে ; এরপর যে যার মতো আগের জীবনে ফিরে গেলেও ফিরেনি আরহাম এবং আলিশা।
তাদের এক রুম দেওয়া না হলেও তারা মাঝরাতে চুপি চুপি দেখা করতো আর এভাবে একসাথে থাকতে গিয়েই কিভাবে যেন তাদের মধ্যে শারিরীক চাহিদা সৃষ্টি হলো আর দেহের মিলন ঘটলো তারা নিজেরাই বুঝলোনা। এসব কিছু বাড়ির সবার চোখের আড়াল হলেও আড়াল হয়নি একজনের – দাদির। উনি তাই সিদ্ধান্ত নিলেন দুজনকে এক রমে রাখা হবে। যেখানে বিয়েই আটকাতে পারেনি কেউ; সেখানে এক রুমে থাকাও আটকানো সম্ভব হয়ে উঠেনি কারও পক্ষে। বিগত ৩ মাস ধরে আরহাম-আলিশা একসাথেই থাকে; কিন্তু এরমধ্যে প্রেগন্যান্সির অনাকাঙ্ক্ষিত খবর টা যেন সম্পর্কের মোড় বদলে দিলো।
–হঠাৎ করেই আরহাম বলে উঠে – “আমি এই বাচ্চা চাই না….”
