Home তোমার নামের রোদ্দুরে তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ২৩

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ২৩

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ২৩
আশফিয়া হিয়া

ধরনীতে সন্ধ্যা নেমেছে।প্রকৃতির নিয়মানুসারে একটু পরেই রাত নেমে আসবে। বিয়ে বাড়ি একদম নিশ্চুপ হয়ে রয়েছে। একটু আগেই পিহুকে বিদায় দেয়া হয়েছে। অনেক কান্না – কাটির পরে বাড়ি একদম শান্ত হয়ে গেছে। সকলেরই মন খারাপ তাই আপাতত যে যার ঘরে আছে। আরুকে যে রুমে থাকতে দেয়া হয়েছে সে রুমের জানালা ধরে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। তার পরনে এখনো বিয়ে বাড়ির সেই পোশাক।রুদ্ধর দেখা পাওয়া যায় নাকি সেই আশায়। আরু তখন রুদ্ধর পিছু ছুটলেও তার নাগাল পায়নি।পেছন থেকে তার মা ডেকে উঠায় সেদিকে ছুটতে হয়েছে। এসে আর রুদ্ধকে পায়নি। ফারিশের থেকে খবর নিয়েছে রুদ্ধ গাড়ি নিয়ে কোথাও বেরিয়ে গেছে। কোথায় গিয়েছে কাউকে কিছু বলে যায়নি। এমনকি সে ফারিশকে দিয়েও ফোন করিয়েছি কিন্তু রুদ্ধ ফোণটাও কেটে দিয়েছে। আরু এবার শেষবারের মতো রুদ্ধর ফোণে আবার কল লাগাল। ভাগ্যক্রমে এবার ফোণটা রিসিভ হলো। আরু নাক টেনে বলল,

– ” রুদ্ধ ভাই?”
ওপাশ থেকে রুদ্ধ নিশ্চুপ। কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। আরু আবার বলল,
– ” রুদ্ধ ভাই শুনছেন?”
– ” হু।”
– ” আপনি কোথায় গিয়েছেন?”
– ” সেটা জেনে তোর কাজ?”
– ” বলুন না প্লিজ আমি আপনার সাথে কথা বলতে চাই।”
– ” এখন কি করছিস?”
আরু কেঁদে দিয়ে বলল,
– ” কথা বলছি।”
– ” তাহলে আমি কোথায় আছি জেনে তোর কি লাভ?”
– ” এভাবে না আমি দেখা করতে চাইছি।”
– ” আমি চাইছি না।”
আরু এবার পুরোপুরো কেঁদে কেঁদে বলল,

– ” আপনি আমার কথাটা না শুনেই ওভাবে চলে এলেন কেনো?”
রুদ্ধ এতক্ষণ শান্ত স্বরে কথা বললেও এখন আর সে শান্ত থাকতে পারল না রেগে হিসহিসিয়ে বলল,
– ” তোর কোন কথাটা শুনাতে চাচ্ছিস আমাকে বল? তোর আর রোহানের প্রেম কাহিনী নাকি তোকে কিভাবে তার মনের কথা জানিয়েছে সেটা বলবি? কি হলো চুপ কেনো? আন্সার মি? শেষের কথাটা প্রচন্ড ধমকের স্বরে বলেছে।
রুদ্ধর ধমক শুনে। আরুর হাত ফসকে মোবাইল পড়তে নিলেও সে সামলে নিল। কাঁপা কাঁপা স্বরে বলল,
– ” আপনি ভুল বুঝছেন। আমার কথাটা একবার শুনুন?”
রুদ্ধ তার কোনো কথা না শুনেই মুখের ওপর কল কেটে দিল। আরু দীর্ঘশ্বাস ফেলল কিভাবে সে রুদ্ধকে বোঝাবে।

আহি মুখ গোমরা করে পিহুদের বেলকনিতে বসে আছে। ইয়াজ তাকে ওভাবে ধমক দেয়ার পর থেকেই তার মনটা ভীষন খারাপ হয়ে আছে। এমনি এমনি বলে ঠিক আছে তাই বলে সবার সামনে এভাবে বলবে? তার মন খারাপকে দীর্ঘস্থায়ী করতে রুহা এসে হাজির। সে এসেছেই আহির পাশে বসে পড়ল। আহি তাকে দেখেও কিছু বলল না চুপচাপ বাইরের দিকে মনোযোগ দিল।
– ” আপু তোমার ফেসবুক আইডি আছে?”
আহি ভ্রু কুঁচকে বলল,
– ” কেনো?”
– ” আ.. আসলে একটা কথা বলবো কাউকে বলবে না তো?”
– ” জানি না।”
– ” মজা করো না তো কাউকে বলো না কিন্তু।”
– ” বলো।”
– ” ইয়াজের আইডিটা আমাকে দেবে?”

ইয়াজকে নাম ধরে ডাকাতেই আহির মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। সে তার দিকে ঘুরে রাগান্বিত স্বরে বলল,
– ” তুমি ইয়াজ ভাইয়ে নাম ধরে ডাকছ কেনো? সে কি তোমার ছোট?”
রুহা তার রাগ দেখে ঘাবড়ে গেল। পরক্ষণে লাজুক গলায় মিনমিন করে বলল,
– ” ওসব তুমি বুঝবে না। উনাকে আমি ভাই টাই ডাকতে পারব না। তুমি কি আমাকে উনার নাম্বার বা ফেসবুক আইডিটা দিতে পারবে না।”
আহি এবার দাঁড়িয়ে গেল। চ্যাঁচিয়ে বলল,
– ” না পারবো না এসব কথা একদম আমাকে বলতে আসবে না পাকা মেয়ে কোথাকার।” বলেই সে হনহনিয়ে চলে গেল।
রুহা আর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ভেংচি কাটলো। তার সাথে কি ব্যবহারটাই না করল। অতিথি দেখে সে কিছু বলল না নাহলে সেও দেখিয়ে দিত রুহা কি জিনিস।

রাত এখন ৮ টা বেজে ১৫ মিনিট রুদ্ধ গাড়ির চাবি হাতের আঙুলে ঘোরাতে ঘোরাতে সদর দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করল। ড্র‍য়িং রুমে বাড়ির সবাইকে একসাথে বসে থাকতে দেখে সে দাঁড়িয়ে গেল। তার চোখ সবার প্রথমে আরুর দিকে পড়েছে যে কিনা সোফার এক কনে বসে আছে। চোখ দুটো দেখে মনে হচ্ছে কেঁদেছে বোধ হয় তার দিকেই করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রুদ্ধ তাকে এক পলক দেখেই চোখ দুটো সরিয়ে নিল। রুদ্ধকে দেখেই রুমা বেগম ছুটে গেল তার কাছে।
– ” কোথায় ছিলি বাবা ফোণ ধরছিলি না কেনো?”
মাকে দেখে রুদ্ধ নরম স্বরে বলল,

– ” সরি মা শুনতে পায়নি।”
– ” তুমি কি এমন রাজ কার্য করছিলে যে এতগুলো মানুষ তোমাকে ফোণ করল তুমি শুনতেই পেলে না?”
– ” কাজ ছিল বাবা।”
– ” এখানে তোমার কি কাজ আছে আমাকে বোঝাও। এটা একটা নতুন জায়গা এখানে এসে তুমি কোথায় যাচ্ছ না যাচ্ছ কাউকে বলার প্রয়োজন মনে করো না তাই তো?”
– ” সকলেই ব্যস্ত ছিল তাই বলে যাওয়ার সু্যোগ হয়নি। আমার খুব ক্লান্ত লাগছে আমি একটু ঘুমাতে চাই।
কথাটা বলেই সে নিজের জন্য বরাদ্দকৃত রুমে চলে গেল।
রুদ্ধ যেতেই রুমা বেগম বললেন,

– ” তোমাকে কতদিন বলেছি ছেলেটার বিয়ে দাও। ঘরে বউ আনলে এসব ঠিক হয়ে যাবে। আমার একটা কথাও শুনো না।
আসলাম শেখ বলল,
– ” বাড়ি গিয়ে এই নিয়ে কথা বলছি।”

কথাটা শুনেই নিধি মাথা নিচু করে মিটিমিটি হাসতে লাগল। বিষয়টা আরুর মোটেই ভালো লাগল না। অজানা ভয়ে আরুর বুকটা কেঁপে উঠল। রুদ্ধর বিয়ে মানে। আর এই কথা শুনে নিধি আপু এরকম লজ্জা পাচ্ছে কেনো? আরু আর ভাবতে পারল না নিজের রুমে চলে গেল।

ভোরের নরম আলোয় শিশির ভেজা ঘাসে ঝলমল করছে প্রকৃতি, পাখির কূজন ভরে তোলে নিস্তব্ধ আকাশ। শীতল হাওয়ার স্পর্শে মন জুড়িয়ে যায়, নতুন দিনের শুরু হয় শান্ত আর স্নিগ্ধ অনুভূতিতে। ঘড়িতে এখন সকাল সাতটা বাজচ্ছে। শেখ বাড়ির সকলে প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছে আজ তারা ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হবে। সকলের গোছগাছ সম্পূর্ণ হয়েছে। আগের বারের মতোই বড়রা যাবে একটা গাড়িতে। অন্য গাড়িতে ছোটরা মিলে একসাথে যাবে। আরু ভেবেছিল আগের বারের মতো রুদ্ধ হয়তো তার পাশেই বসবে তবে তেমন কিছুই হলো না। রুদ্ধ মাঝের সীট এ বসেছে। চোখ জোড়া বন্ধ করে দু হাত বুকে গুজে হেলান দিয়ে বসেছে সে। আশে – পাশে তার কোনো ধ্যান নেই। নিধি আগেই রুদ্ধর পাশে বসে পড়েছে। নিধির পাশে রুহানি বসেছে। আরুর এসব দেখে মুখটা মলিন হয়ে গেল। কালকের থেকেই তার বুকের ভেতরটা কেমন অস্থির করছে। তার ওপর নিধির এভাবে আগ বাড়িয়ে সব জায়গায় রুদ্ধর কাছাকাছি যাওয়াটা তাকে ভীষণ ভাবাচ্ছে। রুদ্ধ ও তার সাথে কথা বলছে না। সে চুপচাপ পেছনের সীটে জানালার কাঁচ ঘেঁষে বসে পড়ল। আরুর পাশে আহি ও ইয়াজ বসেছে। আহি বোনের দু – হাত জরিয়ে ধরে কাঁধে মাথা রেখে বলল,

– ” কি হয়েছে আপু? তোর কি মন খারাপ?”
আরু তার গালে হাত এক হাত রেখে বলল,
– ” কিছু হয়নি। এমনি মাথা ব্যাথা করছে।”
– ” আমি মাথা ম্যাসেজ দিচ্ছি।”
আহি আরুর মাথা টিপে দিতে গেলে আরু তাকে থামিয়ে বলল,
– ” আমার মাথা ম্যাসাজ করতে হবে না। তুই ঘুমা অনেক সকালে উঠেছিস। ” আরু আহির মাথাটা টেনে আবার তার কাঁধে রেখে দিল। আহির বোনের কাঁধে মাথা রেখে জড়িয়ে ধরে আছে। সামনে থেকে রুহানি টিপ্পুনি কেটে ইয়াজকে বলল,
– ” দেখেছিস বোনের প্রতি কত ভালোবাসা এমনি সময় তো ঝগড়া না করে থাকতেই পারে না।”
ইয়াজ আড় চোখে আহির দিকে তাকিয়ে বলল,
– ” দুজনেই দেখ মুখটা কেমন বানিয়ে রেখেছে। তোদের কি জামাই মরেছে এমন শোক পালন করছিস কেন?”
আহি তো তার দিকে ফিরেও তাকাল না। আরুও কোনো প্রতিওর করল না সেও চুপচাপ চোখ বন্ধ করে নিল। আহির কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ইয়াজ বেশ অবাক হয়েছে। এমনি তো তার সাথে ঝগড়ার তালে থাকে সবসময় আজ হঠাৎ কি হলো মেয়েটার? কালকের বিষয় নিয়ে এখনো রেগে আছে বোধ হয়। ইয়াজ আর কিছু না ভেবে নিজেও চোখ বুজল ঘুমানোর উদ্দেশ্যে।

ঘন্টাখানের বাদেই আরুর ঘুম ছুটে গেল। আহি তাকে এক হাতে এখনো জরিয়ে রেখেছে। ইয়াজের মাথাটাও কিছুটা আহির দিকে হেলে পড়েছে। আরু চোখ হঠাৎ রুদ্ধর দিকে গেল। রুদ্ধ বাইরের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তাকে ব্লুট্রুথ লাগান। নিধি পাশ থেকে বার বার তার দিকে হেলে পড়ছে রুদ্ধ বিরক্ত হয়ে তাকে সরিয়ে দিচ্ছে। এবার নিধি ইচ্ছে করেই পুরো মাথাটা রুদ্ধর কাধেঁ রেখে দিল। আরুর রাগে চোখ ভিজে গেল। রুদ্ধ কিছু করার আগেই সে পেছন থেকে নিধির মাথাটা দু হাত দিয়ে সরিয়ে দিল। রুদ্ধ পেছনে ফিরে তার দিকে এক পলক তাকিয়ে দৃষ্টি সরিয়ে নিল। আরুর ইচ্ছে করল রুদ্ধর মাথার চুলগুলো মুঠো কতে পেছন থেকে চেপে ধরতে। কি এমন করেছে সে? কথা শুনলে বুঝবে কি করে সে? আরু মনে মনে বলল,
– ” একবার বাড়ি গিয়ে নেই এরপর আমাকে এত কষ্ট দেয়ার ফল আমি কড়ায় গোন্ডায় আদায় করে নেব।”
কিছুক্ষণ বাদেই আহির ঘুমটাও ছুটে গেল। ইয়াজকে তার দিকে হেলে পড়তে দেখেই এক ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিল। ঘুমের ঘোরে এমন হওয়ায় ইয়াজ হকচকিয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠল। আহিকে ভাবলেশভাবে বসে থাকতে দেখে ইয়াজ দাঁত কিড়মিড় করে বলল,

– ” তুই আমাকে ধাক্কা দিয়েছিস কেনো?”
আহি কোনো জবাব দিল না। ইয়াজ আবারও বলল,
– ” কি বললাম কথা কানে যায়ন? ”
আহি তার দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকাল। ইয়াজ আর কিছু বলার বা করার সুযোগ পেল না তার আগেই রুদ্ধ গম্ভীর গলায় তার নাম ধরে ডেকে উঠল। ব্যাস সে ওখানেই থেমে গেল। আরু এবার ইয়াজের উদ্দেশ্য বলল,
– ” আমার খিদে পেয়েছে গাড়ি থামিয়ে কিছু নিয়ে আয়।”
ইয়াজ গাড়ি থামাতে বললে রুদ্ধ গমগমে স্বরে না নাকোচ করে দিল।
– ” এখন গাড়ি থামানো সম্ভব নয় । একটু পরেই রেস্টুরেন্ট পড়বে সামনে তখন একেবারে গাড়ি থামানো হবে।”
তার কথা শুনে ইয়াজ আরুর দিকে তাকাল। আরুর চোখদুটো ছলছল করে উঠল। আগেরবার রুদ্ধ তার জন্য আগে থেকেই গাড়িতে খাবার কিনে রেখেছিল। পুরোটা রাস্তা তাকে আগলে রেখেছিল। আর এখন একটু খেতে চেয়েছে বলে এইভাবে না করে দিবে। আরুর চোখ থেকে এক ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ল।

আধঘন্টাবাদে গাড়ি দুটো পরপর রেস্টুরেন্টের সামনে এসে দাঁড়াল। গাড়ি থেকে বাড়ির সকলে নেমালেও আরু শক্ত হয়ে নিজের সীটে বসে রইল। রুদ্ধ বাদে সকলেই তাকে নামার জন্য বললেও সে নামল না শরীর ভালো লাগছে না বলে অজুহাত দেখাল। মিতা বেগম এসে বকেও তাকে গাড়ি থেকে নামাতে পারল না। বাবার কথাটাও আজ আরু শুনল না। সে খাবার গাড়িতে পাঠিয়ে দেবে বলাতেও আরু না করে দিল৷ সে ভেতরে কিছুতেই যাবে না। সে আজ না খেয়েই থাকবে। রুদ্ধ অনেক্ষণ ধরে শক্ত চোখে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার কাহিনী দেখল। এরপর রাস্তার একপাশে গিয়ে লাইটার দিয়ে সিগারেট ধরাল। রুদ্ধ নাক – মুখ দিয়ে ধোঁয়া উড়িয়ে সিগারেট টানতে লাগল। দূর থেকে গাড়িতে বসে রুদ্ধকে এভাবে সিগারেট খেতে দেখে আরু আতঁকে উঠল। উনি সিগারেট ও খায়? ছিহ ছিহ যেই কাজগুলো সে অপছন্দ করে রুদ্ধ ঠিক সেই কাজগুলোই রুদ্ধকে করতে হবে। আরু গাড়ি থেকে নেমে রুদ্ধর দিকে এগিয়ে গেল। রুদ্ধ তাকে দেখেও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাল না। সে তার নিজেত কাজে মগ্ন। আরু একপ্রকার সিগারেট ছিনিয়ে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিল। রুদ্ধ তার দিকে আগুন চোখে তাকাল। আরু তার সেই দৃষ্টি দেখে ভয় পেলেও প্রকাশ করল না। নিজেকে শক্ত করল।

– ” আপনি সিগারেট খাচ্ছেন কবে থেকে?”
– ” আমি কাউকে জবাব দিতে বাধ্য নয় আমার চোখের সামনে থেকে যা।”
আরু রাগান্বিত স্বরে বলল,
– ” যাব না কি করবেন আপনি? কি করেছি আমি যার জন্য কাল থেকে আপনি আমাকে ইগনোর করছেন? বলুন? শেষের কথাটা আরু কিছুটা উচ্চস্বরে বলল।
রুদ্ধ তার সামনে এগিয়ে দু হাতে গাল চেপে ধরল হিসহিসিয়ে বলল,
– ” আওয়াজ নিচে। আমার কাছে কি তোর। যাকে নতুন জুটিয়েছিস তার সাথে কাছে যা। ডোন্ট ইউ টু টোক উইথ মি।” রুদ্ধ তার গাল থেকে হাত সরিয়ে নিল।
আরু চোখে পানি ছেড়ে বলল,
– ” আপনি সেই প্রথম থেকেই আমাকে কষ্ট দিয়ে এসেছেন। আপনি কি আদও আমাকে বুঝেছেন? সেদিন আপনি শুধুমাএ রোহান ভাইয়ার কথাগুলো শুনেই চলে এলেন। আমি কি বলেছি আপনি কি একবারও জানতে চেয়েছেন? এইসব অনুভূতি বুঝার পর থেকেই আমি একজনকেই আমার মন দিয়ে বসে আছি। সেই কথা নিশ্চয় আপনার অজানা নয়? সেখানে নতুন কাউকে জুটিয়ে নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আপনার যেটা ভাবার আপনি ভাবতে পারেন। আমার আর কিছু বলার নেই।”

কথাগুলো এক নিশ্বাসে বলেই কোনোদিকে না তাকিয়ে আরু গাড়িতে গিয়ে বসল। রুদ্ধ আরুর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দু হাতে চুল খামচে ধরল। রাগের মাথায় সে আরুকে কষ্ট দিয়ে ফেলেছে। সে তো জানে আরু তাকে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারে না তাহলে এই কাজটা কিভাবে করতে পারল সে। রাগ উঠলে তার মাথা একদমই ঠিক থাকে না। রুদ্ধ গাড়ির কাছে গিয়ে দাঁড়াল। ইয়াজকে ফোণ করে কিছু বলতেই ইয়াজ সম্মতি জানাল। রুদ্ধ এবার আরুর পাশে বসে বসল। আরু দেখেও না দেখার ভান করে বাইরের দিকে তাকিয়ে রইল।
রুদ্ধ তার হাতখানা চেঁপে ধরল। আরু জোর করে হাত ছাড়িয়ে নিতে চেয়েও পারছে না রুদ্ধ খুব শক্ত করে হাত ধরে রেখেছে।
– ” ছাড়ুন আমার হাত।”
রুদ্ধ তার হাত ছাড়ল না উল্টে তাকে জোর করে নিজের দিকে টেনে নিয়ে দু হাতে বক্ষে জরিয়ে ধরল। আরু রুদ্ধকে ঠেলতে লাগল তবে রুদ্ধর শক্তির সাথে সে পেরে উঠল না।আরু ফুঁপিয়ে বলল,
– ” আপনি খুব খারাপ সবসময় আমাকে কষ্ট দেন।”
রুদ্ধ তার চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে বলল,

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ২২

– “সরি আমার মাথা ঠিক ছিল না। আর তোকে কষ্ট পেতে দেব না লিটল বার্ড। ”
তার সম্বোধন শুনে আরু কান্না ভুলে তার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে বলল,
– ” লিটল বার্ড? ”
– ” হুম আমার ছোট পাখি তুই।”
বলেই দুহাতে আবারও আরুকে আগলে নিল। আরুও শাস্তিতে তার বক্ষে মাথা এলিয়ে দিল। রুদ্ধর প্রতি তার রাগ অভিমান এক নিমিষেই গলে গেল।

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ২৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here