Home তোমার নামে নীলচে তারা তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৫০

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৫০

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৫০
নওরিন মুনতাহা হিয়া

__ নিউইয়র্ক সিটির পিচ ঢালা রাস্তায় পাশাপাশি হাত ধরে হাটঁছে মেঘ আর আদ্রিয়ান। আদ্রিয়ানের মুখে বিস্তর হাসি ছাপ! কিছুক্ষণ আগে ফারহানের অপমানিত হওয়া চোখ _ মুখের কথা মনে পড়ে ভীষণ হাসি পায় তার! মেঘের হাত ধরার অপরাধে আদ্রিয়ান শাস্তি স্বরূপ ফারহানকে খুন করতে চেয়েছিল! কিন্তু মেঘ যখন মুখের উপর ফারহানকে যেমন করে অপমান করে তার চেয়েও বড় শাস্তি দিয়েছে। আদ্রিয়ানের গলা জড়িয়ে ধরে যখন ঠোঁটে তার ঠোঁট ছোঁয়ায় তখন ফারহানের মুখের অঙ্গভঙ্গির দেখার মতো ছিল। আদ্রিয়ানের মুখে পৈশাচিক হাসি ফুটে উঠে যেন সে আজ বিশ্ব জয় করে ফেলেছে। অবশেষে মেঘ তার! শুধুমাএ আদ্রিয়ানের!

____ কিন্তু অপরদিকে মেঘের মনে এখন বিষন্নতা আর চিন্তার ছাপ! রেস্টুরেন্টে ফারহানকে কোন প্রকার অপমান করতে চাইনি মেঘ। কিন্তু সে বাধ্য হয়েছে! মেঘ যদি তখন কড়া কণ্ঠে ফারহানকে কথা না শুনাত, তবে আদ্রিয়ানের হাতে হয়ত ফারহান এখন খুন হয়ে যেত। আদ্রিয়ানের রাগের তীব্রতার উপর মেঘের ধারণা রয়েছে। কিন্তু ফারহানের বলা শেষ কথাগুলো শুনে মেঘের বেশ ভয় করছে। ফারহান যদি এইসব কথা জামান সাহেবকে বলে দেয় তখন? জামান সাহেব কি রাগ করবেন মেঘের উপর? জামান সাহেব এক কথার মানুষ, ওনি যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন যে ফারহানের সাথে মেঘের বিয়ে দিবে। তবে অবশ্যই দিবে! তখন মেঘ কি করবে? আদ্রিয়ান ছাড়া অন্য পুরুষকে তার স্বামী রূপে গ্রহণ করার সাধ্য হবে না! অসম্ভব মেঘ পারবে না, ফারহানকে বিয়ে করতে।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

_____ আদ্রিয়ান বেশ উৎফুল্ল নয়নে পাশে থাকা মেঘের দিকে তাকায়। কিন্তু মেঘের গম্ভীর মুখে বিচলতা আর চিন্তার ছাপ দেখে আদ্রিয়ান বেশ অবাক হয়! আদ্রিয়ান প্রশ্ন করে উঠে
___ মেঘ? কি হয়েছে তোমার? এমন মন খারাপ করে হাঁটছ কেন? কোন বিষয় নিয়ে চিন্তিত তুমি? ___
আদ্রিয়ানের প্রশ্নের জবাবে মেঘ তার দিকে ফিরে তাকায়। এরপর দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে চিন্তিত কণ্ঠে বলে উঠে
___ আদ্রিয়ান। আপনার কি মনে হয়? ফারহান কি এতো সহজে সব অপমান সয্য করবে? এখন যদি ফারহান বড় আব্বুকে সব বলে দেয়? তখন কি হবে? ___.
মেঘের চিন্তার কারণ আদ্রিয়ান বুঝল! হাঁটা থামিয়ে শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে মেঘের হাত শক্ত করে ধরে বলে
___ মেঘ। তুমি কোন চিন্তা কর না! ফারহান কোন ক্ষতি করতে পারবে না আমাদের? আর আব্বু যদি সব কথা জেনে যায়, তবে ওনি খুশিই হবেন! কারণ আব্বু চাই তুমি আর আমি একসাথে সংসার করি। তালুকদার বাড়ির বড় বউ হও তুমি! ___.

____ আদ্রিয়ানের কথা শুনে মেঘের মন শান্ত হয় না বরং ভীষণ রকম ছটফট করে উঠে। জামান সাহেবের ব্যাক্তিক্তর বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা রয়েছে তার। জামান সাহেব এমনি গম্ভীর আর শান্ত প্রকৃতির হলেও যথেষ্ট জেদি আর রাগী ব্যক্তি ওনি। আদ্রিয়ানের সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে ওনি ডিভোর্স পেপার রেডি করেছেন! এরপর তার বন্ধুর ছেলের সাথে মেঘের বিয়ে করেছে। একমাস পর ফারহানের সাথে মেঘের বিয়ে হবে, এই কথা তার বন্ধুকে দিয়েছে। কিন্তু এখন যদি আদ্রিয়ান ডিভোর্স দিতে অস্বীকার করে তবে ওনার রাগ করা স্বাভাবিক! তাছাড়া জামান সাহেব এক কথার মানুষ কখনও প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা ভঙ্গ করেন না!

আদ্রিয়ান যদি এখন মেঘকে ডিভোর্স দিতে না চাই, তার সাথে সংসার করতে চাই। তবে জামান সাহেব রাগ করবেন? আদ্রিয়ানের জন্য ওনার বন্ধুর কাছে অপমানিত হতে হবে? ফারহান নিশ্চয়ই ছেড়ে কথা বলবে না জামান সাহেবকে। নিজের অপমানের বদলা অবশ্য নিবে! জামান সাহবে তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে না? একমাস পর ওনি জোর করে হলেও ফারহানের সাথে মেঘের বিয়ে দিবে?

তবে জামান সাহেব চাই মেঘ যেন সুখে থাকুক। জামান সাহেবের ধারণা এখন ফারহানের সাথেই মেঘ ভালো থাকবে! ফারহান মেঘের যোগ্য আদ্রিয়ান নয়! কিন্তু জামান সাহেবের ধারণা সম্পূর্ণ ভুল! মেঘ কখন ফারহানের সাথে সুখে সংসার করতে পারবে না! যে মানুষকে মেঘ ভালোবাসে না, তার সাথে সারাজীবন থাকবে কি করে? একমাস পর যে কি হবে? তা ভেবেই ভীষণ চিন্তা হচ্ছে মেঘের?

‎____ জামান সাহেব অপমানিত হোক বা কষ্ট পাক তাই মেঘ চাই না। মা_ বাবা মৃত্যুর পর তার বড় আব্বুর আশ্রয়ে সে বড় হয়েছে। বাবার স্নেহ যত্ন দিয়ে আগলে রেখেছে, নিজ সন্তানের চেয়ে বেশি ভালোবাসা দিয়েছে মেঘকে। বাবার অপমান সয্য করা কোন সন্তানের পক্ষে সম্ভব নয়! মেঘ এখন কি করবে? তার কি বড় আব্বুকে সব ঘটনা বলে দেওয়া উচিত? না, চুপচাপ থাকবে? ফারহানের সাথে যদি মেঘের বিয়ে হয় তবে নিশ্চয়ই আদ্রিয়ান আত্মাহত্যা করবে! মেঘ চোখের সামনে তার ভালোবাসার মানুষের মৃত্যু সয্য করতে পারবে না। আবার বড় আব্বুর কষ্ট বা অপমানও সয্য করার ও তার দ্বারা সম্ভব নয়! মেঘ কি করবে এখন?

আদ্রিয়ান বেশ দীর্ঘক্ষণ ধরে মেঘের মুখশ্রী পর্যবেক্ষণ করছে। মেঘের কপালে চিন্তার ভাজঁ পড়েছে, চোখে মুখে ভয়ের ছাপ ফুটে উঠেছে! তার গলায় মৃদু মৃদু ঘামের উৎপত্তি হয়েছে। আদ্রিয়ানের যে টেনশন হচ্ছে না, তা নয়। তার বাবার রাগ, জেদের কথা সেও জানে! আদ্রিয়ান তার হাত দিয়ে মেঘের ঘামার্ত মুখে আলতো করে ছুয়িঁয়ে দেয় এরপর বলে

___ মেঘ। তুমি এতো ভয় কেন করছ? আব্বু সব কথা শুনলে কখনও রাগ করবে না! যা হবে সব ভালোই হবে। আর তোমার চিন্তার করার কোন প্রয়োজন নাই! ভবিষ্যতে যদি কোন সমস্যা হয় তবে তা আমি সামলে নিব!
____ আদ্রিয়ানের কথা শুনে মেঘ মৃদু হাসে। এরপর তার গালে থাকা আদ্রিয়ানের হাতের উপর মৃদু হাত বুলায়! আদ্রিয়ানের মনে পড়ে মেঘ একা ফারহানের সাথে রেস্টুরেন্টে দেখা করতে গিয়েছিল! কিন্তু তাকে বলেনি? বরং মিথ্যা বলেছে! আদ্রিয়ান প্রশ্ন করে উঠে
___ মেঘ। তুমি রেস্টুরেন্টে ফারহান চৌধুরীর সাথে দেখা করতে যাবে! এই কথা কেন বললি? মিথ্যা শপিংমলে যাওয়ার কথা কেন বলছ?
মেঘ কিছুটা ইতস্তত বোধ করে বলে উঠে

___ আসলে আমি আপনাকে কষ্ট দিতে চাইনি! ফারহানের সাথে ডেইটে যাওয়ার কথা শুনে যদি আপনি আমায় ভুল বুঝেন তখন? আমাদের সম্পর্কে আর কোন সমস্যা আমি চাই না আদ্রিয়ান!
আদ্রিয়ান শান্ত চোখে মেঘের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেঁসে বলে উঠে
__ মেঘ। আমি তোমায় এখনও ভুল বুঝব না! তুমি আমার বউ হয়, তোমার উপর আমার বিশ্বাস রয়েছে। কোথাও যাওয়ার আগে আমার অনুমতি নেওয়ার প্রয়ােজন নাই তোমার। কিন্তু আমার চিন্তা হয় তোমার জন্য!
মেঘ আদ্রিয়ানের কথায় সম্মতি দিয়ে বলে
___ আই এম সরি আদ্রিয়ান। প্লিজ ক্ষমা করে দেন। এই ভুল আর কখন হবে না!
আদ্রিয়ান মেঘের মুখের দিকে তাকিয়ে সয়তানি হাসি দিয়ে বলে
___ সত্যি আমার কাছে ক্ষমা চাও মেঘ?
মেঘ মাথা নাড়িয়ে বলে

___ হুম চাই!
এক পা এগিয়ে যায় মেঘের কাছে আদ্রিয়ান। এরপর মাথা নিচুঁ করে হাত দিয়ে তার গালে ইশারা করে বলে
___ দ্যান কিস মি __
হঠাৎ আদ্রিয়ানের এমন আবদারে মেঘ চমকে উঠে! চোখ বড় বড় করে আশেপাশে তাকায়, রাস্তা দিয়ে হাজার হাজার মানুষ হেঁটে যাচ্ছে। এই সকল মানুষের সামনে কিস করবে? রেস্টুরেন্টে যা করেছে তার জন্য মেঘের এখনও লজ্জা করছে। মেঘ চোখ গরম তাকিয়ে বলে
___ আদ্রিয়ান রাস্তায় কত মানুষ দেখছেন? আগে বাসায় চলুন এরপর সব দিব।
আদ্রিয়ান বিরক্ত ভরা চাহনি দিয়ে বলে উঠে
___ রাস্তায় শত শত মানুষ দেখলে কি হবে? আমি আমার বউকে কিস করছি! পর কোন নারীকে নয়? যদি ক্ষমা চাও তবে এখুনি কিস কর_.

মেঘ বিরক্তি নিয়ে তাকায় একবার আশেপাশে মানুষের দিকে । আর আরেকবার আদ্রিয়ানের দিকে! এরপর অবশেষে বাধ্য হয়ে পা উঁচু করে আদ্রিয়ানের গালে কিস করার উদ্দেশ্য এগিয়ে যায়। কিন্তু দুষ্ট আদ্রিয়ান তার মুখ ঘুরিয়ে নেয়।, যার ফলে দুভাগ্যবশত মেঘের ঠোঁট ছুঁয়ে দেয় আদ্রিয়ানের অধর জুড়ায়!
চোখ বড় বড় করে তাকায় আদ্রিয়ানের দিকে মেঘ। এরপর দ্রুত দূরে সরে আসে, ঠোঁটের হাত দিয়ে মাথা নিচুঁ করে ফেলে। মেঘের এমন মুখশ্রী জুড়ে এমন লজ্জার আভা দেখে আদ্রিয়ান শব্দ করে হেঁসে উঠে এরপর বলে উঠে
___ মেঘ। তুমি দেখি অনেক চালু। গালে কিস না করলে ঠোঁটে করলে! বেরি গুড মেঘ। স্বামীর মনের ইচ্ছা খুব সহজেই বুঝতে পার তুমি। __

____ লজ্জায় মেঘের নাকের ডগা লাল হয়ে যায়। আদ্রিয়ান শব্দ করে হেঁসে উঠে। মেঘ রাগী চোখে তাকায় হাসির বেগ আরও তীব্র হয় আদ্রিয়ানের। বাহুদ্বয়ে মৃদু ঘুষি দেয় মেঘ! লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে বলে উঠে
___ আদ্রিয়ান। চলুন বাসায় যাওয়া যায়। রান্না করা লাগবে!রাতের ডিনার করবেন না?
আদ্রিয়ান হাসি থামিয়ে দেয়। এরপর পুনরায় তারা হাত ধরে একসাথে হাঁটতে থাকে!
____ রাত প্রায় আটটা তিরিশ মিনিটে আদ্রিয়ান আর মেঘ বাসায় পৌঁছায়। ড্রয়িং রুমে এসে বাড়ির লাইট জ্বালায়! আদ্রিয়ানকে উদ্দেশ্য করে মেঘ বলে
___ আদ্রিয়ান। আপনি ফ্রেশ হয়ে আসুন। আমি রান্নাঘরে গিয়ে খাবার রেডি করছি।
মেঘ এগিয়ে যায় রান্নাঘরে কিন্তু তার আগেই আদ্রিয়ান তার হাত ধরে থামিয়ে দেয়। এরপর পিছন থেকে মেঘের কোমড় জড়িয়ে ধরে বলে উঠে

___ মেঘ। তুমি রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে আসো। আজ খাবার আমি রান্না করব!
মেঘ অবাক করা কণ্ঠে বলে
___ আপনি খাবার রান্না করতে পারেন?
আদ্রিয়ান হ্যাঁ বোধক সম্মতি দিয়ে বলে
__ সাধারণ ডিম ভাজি আর ভাত রান্না করতে পারি। রাতের খাবারের জন্য এইটুকু যথেষ্ট!
____ আদ্রিয়ানের কথা মেঘ শুনল না! সারাদিন ক্লাস করে এসে আদ্রিয়ান নিশ্চয়ই ক্লান্ত। এরপর আবার রান্নাঘরে গিয়ে তার জন্য রান্না করবে? মেঘ বলে
___ আদ্রিয়ান, আমি রান্না করতে পারব। সারাদিন ক্লাস করিয়ে আপনার শরীর টার্য়াড হয়ে গেছে। যান রুমে গিয়ে বিশ্রাম করেন __.
মেঘের কথা আদ্রিয়ান শুনল না সে বলে উঠে

___ মেঘ। সারাদিন তুমিও ক্লাস করেছ। প্রতিদিন তুমিই রান্না কর। আজ না হয় আমি করলাম।
___ কিন্তু আদ্রিয়ান?
___ কোন কিন্তু নাই মেঘ। তুমি যাও রুমে আমি খাবার নিয়ে আসছি। আর কাল ক্লাসের পড়া কে শেষ করবে? তাড়াতাড়ি যাও ফ্রেশ হয়ে পড়তে বসো.
আদ্রিয়ান জোর করে মেঘকে তার রুমে পাঠিয়ে দেয়। এরপর রান্নাঘরে গিয়ে চুলায় ভাত বসিয়ে দেয়, ফ্রিজ থেকে ডিম নিয়ে এসে। গরম গরম ডিম ভাজি করে খাবার প্লেটে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে মেঘের রুমে চলে যায়। ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে মেঘ একটু বিশ্রাম নেয় এরপর টেবিলে বসে পড়াশোনা শুরু করে দেয়।
প্রায় দশ মিনিট পর আদ্রিয়ান খাবার নিয়ে রুমে আসে। টেবিলে বইয়ের মধ্যে মুখ গুঁজে বসে থাকা মেঘের কাছে গিয়ে বসে। এরপর পাশে থাকা চেয়ার টান দিয়ে বসে যায়, খাবার প্লেট থেকে চামচ দিয়ে খাবার তুলে এগিয়ে দিয়ে বলে

__ মেঘ মুখ খুলো। খাবার খাবে।
আদ্রিয়ানের কথায় মেঘ হা করে এরপর খাবার খেয়ে নেয়। মেঘ পড়াশোনা করছে আর আদ্রিয়ান তাকে খায়িয়ে দিচ্ছে! মেঘ যখন পুনরায় খাবার খেতে চামচের দিকে এগিয়ে আসে, তখন আদ্রিয়ান তার কপালে চুমু দেয়! মেঘ মৃদু হাসে! সত্যি বলতে মেঘ কখনও আশা করি আদ্রিয়ান তাকে ভালোবাসবে! এমন যত্ন করবে! স্বামীর ভালোবাসা, আদর, যত্ন পাওয়ার সৌভাগ্য আজ নয় বছর পর হয়েছে মেঘের। এক জীবনে এর চেয়ে বেশি আর কি চাই তার? একটু সুখ, বিন্দুমাএ ভালোবাসা আর সামান্য যত্ন, ব্যাস এইটুকু!
খাবার খাওয়া শেষ হলে। আদ্রিয়ান গ্লাস থেকে পানি নিয়ে মেঘের ঠোঁট মুছিয়ে দেয়। এরপর বলে

___ মেঘ। তুমি পড়াশোনা কর। আমি রুমে গেলাম।
আদ্রিয়ানের কথা শুনে মেঘ আবদার করে বলে উঠে
___ আদ্রিয়ান। আজ রাত এই রুমে থাকুক। আমার সাথে।
মেঘের কথা শুনে আদ্রিয়ান হাসে। তারা কখনও স্বইচ্ছায় এক রুমে থাকেনি! কিন্তু আজ প্রথম মেঘ এমন আবদার করল! তাছাড়া তারা দুইজন স্বামী স্ত্রী একরুমে থাকতে কি অসুবিধা? আদ্রিয়ান বলে
___ কিন্তু তোমার পড়াশোনা মেঘ? আমি রুমে থাকলে কি তোমার পড়ার প্রতি মনোযোগ থাকবে?
মেঘ দৃঢ় কণ্ঠে বলে
__ হুম অবশ্যই থাকবে।
আদ্রিয়ান হাসে এরপর বলে

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৪৯

___ তবে তুমি পড়াশোনা কর। আমি রুম থেকে ল্যাপটপ নিয়ে আসছি।
__ ওকে।
___ আদ্রিয়ান তার রুম থেকে ল্যাপটপ নিয়ে আসে। এরপর মেঘের রুমের সোফায় বসে তার সার্জারি রিলেটেড ভিডিও দেখা শুরু করে দেয়। মেঘ পড়াশোনায় বেশ মনোযোগী। একবার পড়া শুরু করলে অন্য কোন কিছুর প্রতি তার খেয়াল থাকে না! তবে আদ্রিয়ান কাজের ফাঁকে ফাঁকে প্রায়ই মেঘের উপর নজর বুলায়। বেশ সুন্দর সময় কেটে যায় দুইজনের

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৫১