তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৫৪
নওরিন মুনতাহা হিয়া
সোফায় বসে বেশ দীর্ঘক্ষণ যাবত কথা বলে তারা দুইজন। আদ্রিয়ান যথেষ্ট শান্ত আর ভদ্র ভাষায় কথা বলে জিয়ার সাথে! পূর্বের ন্যায় ইগনোর বা কটু কথা শোনায় না। হঠাৎ আদ্রিয়ানের এমন ভালো ব্যবহার দেখে জিয়া খুশি হয়ে যায়! তবে কি আদ্রিয়ান ধীরে ধীরে তার প্রেমে পড়ে যাচ্ছে? বাংলাদেশে নিজ স্ত্রীর কাছে ফিরে যাওয়ার আগেই‚ আদ্রিয়ানের কাছাকাছি আসতে হবে তার! নিজের প্রতি আকৃষ্ট করতে হবে। আদ্রিয়ানের উপর জিয়া এমন জাদু করবে যে‚ সে তার জন্য পা”গ”ল হয়ে যাবে!
দুইজনের কথা বলার মাঝেই রান্নাঘরে থাকা মেঘকে ডাক দেয় আদ্রিয়ান। ড্রয়িং রুমে বসা দুইজনের হাসি ‚ আড্ডা, কথা সব কানে যায় মেঘের। রাগে জ্বলে উঠে তার পুড়ো শরীর! কিন্তু নিজের রাগ সংযত রাগে এইসব ঘটনার প্রতিশোধ সে নিবে! দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে আদ্রিয়ানের ডাকে সাড়া দিয়ে ড্রয়িং রুমে যায় মেঘ। বিরক্তি মাখা মুখশ্রী নিয়ে দুইজনের সামনে উপস্থিত হয়ে বলে উঠে
“আদ্রিয়ান স্যার‚ আমায় ডাকলেন কেন? কোন প্রয়োজন?”
____ কণ্ঠ চিবিয়ে কথা বলল মেঘ। রাগে লাল হয়ে রক্তিম বর্ণ ধারণ করা তার দুইটা গালের উপর নজর যায় আদ্রিয়ানের! তার বউয়ের রূপের মোহে মুগ্ধ থাকে সে কিছুক্ষণ‚ রেগে থাকলেও যে কোন নারীকে এতো সুন্দর লাগতে পারে তা হয়ত আদ্রিয়ানের জানা ছিল না! মেঘের রাগী মুখ _ চোখ দেখে মিটমিট করে হাসল আদ্রিয়ান এরপর বলে
“মেঘ‚ রান্নাঘর থেকে জিয়ার জন্য এক কাপ কফি বানিয়ে নিয়ে এসো। ”
—– রাগে দাঁত কটমট করে তাকায় মেঘ! কতো সুন্দর করে আবদার করল “জিয়ার জন্য কফি বানিয়ে এসো”। মানে মেঘ কি তাদের কাজের মহিলা? রান্নাঘরে খাওয়াবে আবার কফি বানিয়েও! আদ্রিয়ান ঠোঁট চেপে মিটিমিট করে হাসছে। অপর পাশের সোফায় বসে থাকা জিয়া অবাক হয়ে যায় আদ্রিয়ানের এমন যত্নশীল আচরণ দেখে? জিয়া খুশিতে গদগদ হয়ে বলে উঠে
“আদ্রিয়ান‚ আমি কফি খাব না। তুমি শুধু শুধু ব্যস্ত হয়ও না।”
জিয়ার ন্যাকামি ভরা কথার মাঝে আদ্রিয়ান আর একটু ন্যাকামি করে বলে উঠে
“জিয়া‚ দীর্ঘক্ষণ ধরে কথা বলায় হয়ত তোমার গলা শুকিয়ে গেছে! তাই একটু কফি খেয়ে নাও?”
শরীরে থাকা রাগ তিরতির করে বেড়ে উঠে মেঘের। দুইজনের এমন আদিখ্যেতা যেন আর সয্য হল না তার! মেঘ মনে মনে আওড়ায়“ ডক্টর : আদ্রিয়ান রোদায়ান। এই দিন দিন আরো দিন আছে‚ ওই দিন খুন হবে তুমি এই মেঘের হাতে! আদ্রিয়ানের আশকারায় জিয়ার ন্যাকাম দিগুণ বাড়ল‚ বেশ কিছুক্ষণ কফি খাওয়া নিয়ে দুইজনের মধ্যে মিষ্টি ঝগড়া হয়! পুরো ব্যাপাটা মেঘ কি করে সয্য করল তা সে নিজেই জানে! অবশেষে জিয়া হ্যাঁ সম্মতি দিয়ে বলে উঠে
“আদ্রিয়ান‚ তুমি যখন বলছ তবে আমি কফি অবশ্যই খাব।
আদ্রিয়ান মেঘের দিকে তাকায়। যে এখন রাগে ফুটন্ত পানির মতো টগবগ করছে! আদ্রিয়ান বলে
“মেঘ‚ যাও জিয়ার জন্য কফি নিয়ে এসো। আর হ্যাঁ অবশ্যই ‚ সুগার ফ্রি কফি আনবে। জিয়া কিন্তু চিনি খায় না। যাও ”
হাত মুষ্টিবদ্ধ করে দাঁতে দাঁত বলে উঠে
“জি অবশ্যই আদ্রিয়ান স্যার। আপনারা বসুন আমি কফি বানিয়ে নিয়ে আসছি। আদ্রিয়ান স্যার আপনি কফি খাবেন?
আদ্রিয়ান ভদ্র ছেলের ন্যায় উত্তর দেয়
“হুম খাওয়া যায়। আমার কফিতে সামান্য পরিমাণ চিনি দিবে।
“আচ্ছা”
রান্নাঘরে চুলায় ফুটন্ত পানির দিকে বিক্ষপ্ত নয়নে তাকিয়ে আছে মেঘ। ইচ্ছা করছে এই ফুটন্ত পানির মধ্যে ওই দুই ন্যাকা সয়তানকে চুবাতে! রাগে‚ হিংসায় তার সারা শরীরে আগুন জ্বলছে! জিয়াকে সে পরে দেখে নিবে। কিন্তু আদ্রিয়ান রেদায়ানকে সে যতখন শিক্ষা না দিবে‚ তার শান্তি হবে না। বউ সামনে রেখে অন্য মেয়ের প্রতি আগলা পিরিত দেখানও তাই না! তোর কপালে দুঃখ আছে আদ্রিয়ান? পাশে থাকা কফি পাউডার মিক্সিং করে‚ এরপর চামচ দিয়ে ক্রমাগত নাগাতে থাকে। প্রায় পাঁচ মিনিট পর কফি রেডি হয় ‚ গ্লাসে কফি ঢেলে দেয়। জিয়ার কাপে চিনি দেয় না! আদ্রিয়ানের কাপে কফি ঢালার না বিষ ঢালার ইচ্ছা করছে তার।
ওয়েট‚ বিষ না মিশাতে না পারলেও মরিচ গুড়ো মিশাতে অবশ্যই পারবে! মেঘের মাথায় দুষ্ট বুদ্ধির উদয় হয়। টেবিল ড্রেক্সের উপর থাকা গুড়ো মরিচের বাক্স থেকে বেশ তিন_ চার চামচ মরিচ গুড়ো মিশিয়ে দেয়! সুন্দর করে নাড়াচাড়া করে! কফির কালার আর মরিচের গুঁড়ো কলারের বেশি পার্থক্য নাই। এরপর সুন্দর করে ট্রের মধ্যে সাজিয়ে কফি নিয়ে চলে যায় ড্রয়িং রুমে। জিয়া আর আদ্রিয়ান বসে টিভির মধ্যে খবর দেখছিল! মেঘ তাদের সামনের টেবিলে কফির কাপ রেখে জিয়ার দিকে মগ এগিয়ে দিয়ে বলে
“জিয়া ম্যাম‚ আপনার কফি ”
জিয়া মগের হাতল ধরে তার হাতে নেয়! আর কৃতজ্ঞতা স্বরূপ বলে উঠে
“ধন্যবাদ মেঘ”
“ওয়েলকাম”
কফির মগ আদ্রিয়ানের কাছে এগিয়ে দিয়ে বলে উঠে
“কফি”—–
মুচকি হাসি দিয়ে কফির মগ নিল আদ্রিয়ান। পাশে বসল মেঘ! তাদের দুইজনের মধ্যে দুরত্ব খুব সামান্য। জিয়া কফিতে চুমুক দিয়ে বলে উঠে
___ মেঘ, তুমি দারুণ কফি বানাও। সত্যি অসাধারণ।
জিয়ার মুখে প্রশংসা শুনে আদ্রিয়ান দ্রুত কফির মগে চুমুক বসায়। কিন্তু গলায় অবধি পৌঁছানর আগেই‚ জিহ্বায় কফির অংশ পড়ার সাথে সাথেই। অতিরিক্ত জ্বালে জিহ্বা পুড়ে যায়! আদ্রিয়ান দ্রুত কেশে উঠে। হঠাৎ আদ্রিয়ানের এমন আচরণে জিয়া চিন্তিত কণ্ঠে বলে উঠে
___ আদ্রিয়ান কি হয়েছে তোমার? এমন করছ কেন? __.
জ্বালে মুখ গলা যেন পুড়ে যাচ্ছে আদ্রিয়ানের! কান দিয়ে গরম ধোয়াঁ বের হবে এখুনি। অতিরিক্ত জ্বালে তার কণ্ঠ দিয়ে কোন শব্দ উচ্চারণ হচ্ছে না! পাশে থাকা মেঘ মিটমিট করে হাসছে। হঠাৎ কফিতে এতো জ্বাল কি করে হল? যেন মনে হচ্ছে কেউ লাল মরিচের গুড়ো মিশিয়ে দিয়েছে! ঘটনার প্রধান দোষীকে ধরতে আদ্রিয়ানের সময় লাগল না! রাগী দৃষ্টিতে মেঘের পানে তাকায়। পাশে থাকা মেঘ একটু এগিয়ে এসে আদ্রিয়ানের কানের কাছে ফিসফিস করে বলে
“এই কফি যদি সম্পূর্ণ শেষ আপনি না করেন আদ্রিয়ান! তবে এই মেঘ আজ আপনাকে খুন করবে! হয় কফি খান‚ না হয় ইদুঁর মরার বিষ খাবেন?___
জ্বাল আর ভয়ে আদ্রিয়ানের প্রাণ চলে যাওয়ার উপক্রম। চোখ _ মুখ লাল টকটকে হয়ে গেছে! আদ্রিয়ান মুখশ্রীর মধ্যে অসহায়ত্বর ছাপ ফুটে উঠে। কিন্তু মেঘের পাষাণ মন গলল না ‚ তার চোখে মুখ প্রতিশোধ তার হিংসা ধরা পড়ল। পুনরায় বিচলিত কণ্ঠে জিয়া প্রশ্ন করে উঠে
___ আদ্রিয়ান? কথা বলছ না কেন? কফির মধ্যে কোন সমস্যা হয়েছে?
মনের সব যন্ত্রণা আর লুকিয়ে রেখে বউয়ের ভয়ে স্বাভাবিক কণ্ঠে বলে উঠে
__ কফি খুব গরম ছিল জিয়া। তাই জিহ্বা পুড়ে গিয়েছে।
___ আদ্রিয়ান, সাবধানে খাও।
বেচারা আদ্রিয়ান বাধ্য হয়ে পুনরায় কফির মধ্যে চুমুক দেয় জ্বালে চোখ _ মুখ খিঁচে বন্ধ করে ফেলে! প্রতিটা চুমুকে যের তার জিহ্বা, গলা সব জ্বলে যাচ্ছে। মেঘ কিলার লুক নিয়ে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসছে। কফি খাওয়ার মধ্যে হঠাৎ টিভির মধ্যে খবর ভেসে উঠে। এক স্বামী তার প্রেমকিার সাথে কফি খাওয়া অবস্থায় রেস্টুরেন্টে তার বউয়ের কাছে ধরা পড়েছে! স্ত্রী রেগে দিয়ে তার স্বামীকে খুন করে ফেলেছে!
নিউজটা শোনা মাএই আদ্রিয়ান কেশে উঠে। জিয়াও দেখে নিউজটা! জিয়া বলে
___ আজকাল মেয়েরা কতো হিংস্র হয়ে গেছে! স্বামী শুধু কফি খেয়েছে বলে অন্য মেয়ের সাথে তার জন্য তাকে খুন করতে হবে?
অপর পাশে বসে থাকা মেঘও নিউটা দেখে মেঘ আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে
___ শুধু মেয়েদের দোষ দিয়ে কি লাভ জিয়া! এখনকার স্বামীরা কম সয়তান না। বউ রেখে অন্য নারীর সাথে পরিকীয়া করে বেড়ায়! এইসব স্বামীদের খুন করা উচিত! আমার স্বামী ভবিষ্যতে এমন করলে আমিও খুন করে ফেলব।
ভয়ে শুকল ঢুক গিলল আদ্রিয়ান। গলা জ্বলে যাচ্ছে তার। এই জ্বাল আর সয্য করা সম্ভব নয়। অতিরিক্ত জ্বালে চোখ মুখ কুচঁকে ফেলে সে! মেঘের কথার বিপরীতে জিয়া প্রশ্ন করে উঠে
___ মেঘ, তোমার স্বামী মানে ফারহান রাইট? আচ্ছা মেঘ তোমার আর ফারহানের বিয়ে কবে? কোথায় প্রথম দেখা হয়েছে? তোমাদের লাভ স্টোরি শোনার বেশ আগ্রহ আমার।
মেঘ আদ্রিয়ানের দিকে তাকায়। এরপর ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে দুষ্ট এসে বলে
___ হ্যাঁ জিয়া ফারহান আমার হবু স্বামী! একমাস পর আমাদের বিয়ে! আমার বড় আব্বু তার সাথে আমার বিয়ে ঠিক করেছে। কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয়েছে আমাদের।
মেঘের কথা শুনে জিয়া অবাক হয়ে বলে
____ নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রথম দেখায় ফারহান তোমার সমগ্র কলেজের সামনে প্রপোজ করল? মনে হয় লাভ এর্ট ফাস্ট সাইড হয়ে গিয়েছিল!
জ্বাল আর হিংসায় শরীর জ্বলে উঠে আদ্রিয়ানের। মেঘ ইচ্ছা করে এমন বানিয়ে কাহিনি বলছে তা সে জানে? কিন্তু বউয়ের মুখে অন্য পুরুষের নাম সয্য করা তার দ্বারা আর সম্ভব হচ্ছে না! আদ্রিয়ান চুপচাপ গম্ভীর মুখ নিয়ে বসে থাকে, জিয়ার সামনে কোন নাটক করতে চাই না। মেঘ বলে উঠে
____ সত্যি বলতে প্রথম দেখায় ফারহানের প্রেমে আমিও পড়ে গিয়েছিলাম। ফারহান কতো সুন্দর, সুর্দশন পুরুষ! আর যথেষ্ট কেয়ারিং। আই লাভ ফারহান।
আদ্রিয়ানের রাগের আগুনে জি ঢালার মতো কথা ছিল এইটা? ওয়াও, প্রথম দেখায় ফারহানের প্রেমে পড়ে গেছে মেঘ? ফারহান সুদর্শন! মেঘ ফারহানকে ভালোবাসে? সাহস কতো বড়ো, আদ্রিয়ানের সামনে অন্য পুরুষকে ভালোবাসি বলছে। আদ্রিয়ান দাঁত কিড়মিড় করে বলে উঠে
___ ফারহান খুব সুদর্শন তাই না মেঘ? তুমি ফারহানকে ভালোবাস?
আদ্রিয়ানের কথার উত্তর মেঘ বলে উঠল
___ হুম বাসি! ফারহানকে অনেক ভালোবাসি। আর আমার দেখা পৃথিবীর সেরা সুর্দশন পুরুষ হল ফারহান।
আদ্রিয়ান কোন কথা বলল না শুধু রাগী রাগী চোখ দিয়ে মেঘকে শ্বাসায়! দূরে থাকা জিয়া বলে উঠে
____ মেঘ তোমার আর ফারহানের প্রেম দেখি জমে খির! নবীন বরণ অনুষ্ঠানের দিন ফারহান কি সুন্দর করে তোমায় প্রপোজ করল! হাটুঁ গেঁড়ে গোলাপ ফুল নিয়ে সত্যি অসাধারণ ফারহান।
মেঘের আদ্রিয়ানের চোখের দিকে তাকিয়ে কথার উত্তর দিল
____ ফারহান খুব সাহসী জিয়া। সবার সামনে নিজের হবু বউকে স্বীকৃতি দেওয়ার সাহস তার আছে। অনেক পুরুষ মানুষ আছে, যারা অন্য নারী বা হাজার মানুষের ভয়ে নিজ স্ত্রীর পরিচয় লুকিয়ে রাখে।
এই কথা বলার সময় মেঘের চোখে কোন প্রতিশোধ বা হিংসা ছিল না। কণ্ঠে একরাশ অভিমান, আর মনের আড়ালে লুকিয়ে রাখা শত কষ্টের বাহক ছিল! আদ্রিয়ান হয়ত তা উপলব্ধি করল। চোখ সরিয়ে নিল সে মেঘের উপর থেকে! জিয়া বলে উঠে
____ যে স্বামী নিজ স্ত্রী পরিচয় দেয় না! এমন স্বামীরকে প্রতি প্রতিটা নারীর ঘৃণা করা উচিত।
মেঘ কণ্ঠ আবেগ জড়িয়ে বেখেয়ালি মনে বলে উঠে
____ হুম। আমিও ঘৃণা করি।
“ঘৃণা” করি এই শব্দটা আদ্রিয়ানের কান অবধি পৌঁছায়। মেঘের অভিমান, কষ্ট যে আদ্রিয়ান এখনও দূর করতে পারেনি তা সে বুঝতে পারে! আদ্রিয়ান শান্ত হয়ে কফির কাপে চুমুক দেয়, পুনরায় মুখ জ্বলে যায়। কফি শেষ! কথা বলার মাঝে মেঘ তাড়া দেখিয়ে বলে উঠে
____ জিয়া তোমরা দুইজন আড্ডা দাও। আমি দুপুরের রান্নার আয়োজন করি।
মেঘ পা চালিয়ে দ্রুত রান্নাঘরে চলে যায়। হাতে থাকা কফি শেষ করে আদ্রিয়ান জিয়ার থেকেও তার কফির মগ নিয়ে বলে
___ রান্নাঘরে কফির মগ রেখে আসি আমি। তুমি টিভি দেখ।
জিয়া টিভি দেখতে থাকে! আদ্রিয়ান কফির মগ নিয়ে রান্নাঘরে চলে যায়। রান্নাঘরের টেবিলে পিঠ ঠেকিয়ে শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মেঘ! তার মুখে কষ্ট আর যন্ত্রণার প্রতিচ্ছবি। রান্নাঘরে দরজায় প্রবেশ করল আদ্রিয়ান। মেঘ মুখ তুলে দেখল, অতিরিক্ত জ্বালে আদ্রিয়ানের মুখ লাল হয়ে গেছে। ঠোঁট জোড়া জ্বালে ফুলে উঠছে। কান লাল হয়ে গেছে! আদ্রিয়ানের প্রতি মায়া হয় মেঘের! যতই রাগ, অভিমান, দুঃখ থাকুক এই পুরুষকে সে ভীষণ ভালোবাসে। পাশে থাকা পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বলে
____ পানি খেয়ে নেন ___.
___ পানির গ্লাস দেখে তৃষ্ণান্ত পথিকের ন্যায় ছুটে আসে আদ্রিয়ান। দ্রুত গ্লাসের সম্পূর্ণ পানি এক চুমুকে শেষ করে ফেলে! এরপর বলে
____ আরও পানি খাব। পানি দাও
পুনরায় জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে এগিয়ে দিল মেঘ। কিন্তু আদ্রিয়ানের মনে পড়ে আগের ঘটনা! সে পানি খাওয়া রেখে, পানির গ্লাস পাশের টেবিলে রেখে। চোখের চশমা খুলে ধরে এক হাত দিয়ে, অন্য হাত দিয়ে মেঘের থুঁতনি ধরে নিজের কাছে নিয়ে এসে। এরপর ক্ষণিক সময়ের ব্যবধানে ঠোঁটে ঠোঁট বসিয়ে দেয়।
তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৫৩
অবাকের সপ্তম স্ততে পৌঁছে যায় মেঘ! চোখ বড় বড় করে তাকয়ে থাকে! হঠাৎ আদ্রিয়ানের এমন আক্রমণ সে আশা করেনি। আদ্রিয়ান নিজেে ঠোঁটের ভাজেঁ মেঘের ঠোঁট ছুঁয়িয়ে দেয়। মেঘ দ্রতু হাত দিয়ে ছাড়ানর চেষ্টা করে! কিন্তু কোন বারণ শুনল না আদ্রিয়ান। দুই ওষ্ঠ জোড়া মিলিত হবার পর আদ্রিয়ানের মুখে থাকা জ্বাল মেঘের ঠোঁটে লাগে! জ্বালে ঠোঁট জ্বলে উঠে তার। চোখ বেয়ে অনবরত পানি গড়িয়ে পড়ছে টপটপ করে। আদ্রিয়ান যেন কিছুই দেখ না নিজের ঠোঁটর রাজত্ব চালাতে লাগল মেঘের উপর
