Home তোমার নামে নীলচে তারা তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৫৫

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৫৫

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৫৫
নওরিন মুনতাহা হিয়া

অতিরিক্ত জ্বালে চোখ লাল হয়ে গেছে মেঘের। চোখের কার্নিশ বেয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়ছে! গোলাপি ঠোঁটদ্বয় লাল বর্ণ ধারণ করছে। প্রায় পাঁচ মিনিট হয়ে গেছে তবুও আদ্রিয়ান একমুহূর্তর জন্য ছাড়ে না মেঘের ঠোঁটের! নিজ শরীরে থাকা সমস্ত রাগ, হিংসা, জেদ সব উপড়ে দেয় তার ঠোঁটের উপর! ছোফায় বসা অবস্থায় ফারহানের প্রশংসায় মেঘের কাল হয়। কিন্তু আর এই অসয্য অত্যাচার সয্য করা সম্ভব হচ্ছে না মেঘের!

একবার ঠোঁট ফাঁক করে নিশ্বাস ছাড়ার সুযোগ অবধি দেয়নি আদ্রিয়ান! মেঘের দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তার ডান হাত দিয়৷ জোরে কাঁধে ধাক্কা দিতে থাকে মেঘ! কিন্তু আদ্রিয়ান শুনল না। মেঘ তার হাত দিয়ে বা বিভিন্ন কর্মকাণ্ড দিয়ে বুঝানর চেষ্টা করে, নিশ্বাস ছাড়তে পারছে না সে। করুণ চোখে অনুরোধ করে তার ওষ্ঠদ্বয়র উপর এমন অর্ত্যাচার বন্ধ করতে! কিন্তু সম্ভব হয় না! মেঘের কোন অনুরোধ, ধাক্কা আদ্রিয়ানের কানে পৌঁছায় না। ধীরে ধীরে যেন আদ্রিয়ানে এগ্রেসিভ হয়ে উঠে। বাধ্য হয়ে মেঘ তার ঠোঁটের ভাঁজে থাকা আদ্রিয়ানের ঠোঁটে কামড় বসায়।

“আহ্” করে উঠে দূরে সরে যায় আদ্রিয়ান। ওষ্ঠদ্বয় ছাড়া পেয়ে যেন দম ফিরে পায় সে। ঘনঘন নিঃশ্বাস ছাড়ে আর কিছুক্ষণ যদি এমন অবস্থায় থাকতত, তবে হয়ত দম আটকে মারা যেত। মেঘের এমন অবস্থা দেখে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা আদ্রিয়ান মিটমিট করে হাসে , তার ঠোঁটে প্রতিশোধময় হাসি ঝুলছে। কিন্তু মেঘ বেশ জোরে কামড় বসায় ঠোঁটে! ওষ্ঠপুট কেটে দাঁত রক্তের মৃদু মৃদু কণা বাহির হয়ে আসে। বৃদ্ব আঙুল দিয়ে ওষ্ঠে থাকা রক্ত মুছে নেয়।
জ্বালে মেঘের সারা শরীর জ্বলে উঠে। জিহ্বা পুড়ে ছাই হয়ে যাবে, এমন অবস্থা। মেঘ শুধু জোরে জোরে নি:শ্বাস ছাড়ে, আর জ্বাল কমানর জন্য মুখে হাত দিয়ে বাতাস করে। পাশে থাকা টেবিল থেকে পানি এগিয়ে দেয় আদ্রিয়ান আর প্রতিশোধময় কণ্ঠে বলে

“পানি খেয়ে নাও মেঘ।”
রাগে দাঁত কটমট করে তাকায় মেঘ! জ্বালে আর রাগে তার শরীর আগুনের ন্যায় জ্বলে উঠে। চোখ গরম করে তাকায় সে। কিন্তু মুখের জ্বালের কারণে তার রাগ দীর্ঘক্ষণ হয় না, বাধ্য হয়ে আদ্রিয়ানের হাত থেকে দ্রুত পানি নেয় সে! এরপর ঢকঢক করে গ্লাসের সম্পূর্ণ পানি খেয়ে নেয়। জ্বাল যেন তবুও কমে না, দ্রুত ছুটে যায় রান্নাঘরে থাকা টিউপকলের দিকে। টিউপকল ছেড়ে পানি পান করতে থাকে, যতখন না তার ঠোঁটের জ্বাল কমছে। আদ্রিয়ান সব দেখে শুধু মিটমিট করে হাসছে।
তৃষ্ণা আর জ্বাল না মিটা অবধি অফুরন্ত পানি পান করতে থাকে। প্রায় পাঁচ মিনিট পর পানি খাওয়া শেষ করে টেবিলের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে জোরে জোরে নিঃশ্বাস ছাড়ে! আদ্রিয়ান এগিয়ে আসে মেঘের কাছে এরপর দুষ্ট হাসি দিয়ে বলে

“জ্বাল কি বেশি হয় গেছে মেঘ? আর একটু পানি খাবে”?
মুখের জ্বাল আর আদ্রিয়ানের কথায় যেন মেঘের রাগ সপ্তম আসমানে পৌঁছে যায়! রাগী মুখশ্রী নিয়ে এগিয়ে এসে শক্ত করে আদ্রিয়ানের শার্টের কর্লার চেপে ধরে বলে উঠে
“কি সমস্যা আপনার আদ্রিয়ান? এমন জ্বাল কেন খাওয়ালেন? ফারহান চৌধুরীর প্রশংসা করেছি বলে প্রতিশোধ নিলেন? আর একটু হলে আমার দম বন্ধ হয়ে যেতো?”
কাঁধে থাকা মেঘের হাত নিজ শরীরের সাথে চেপে ধরে আদ্রিয়ান! কপালে ভাবলেশহীন ভাবে পড়ে থাকা ছোট ছোট চুল কানের পিঠে গুঁজে দিয়ে। জোড়াল কণ্ঠে বলে উঠে
“যে মুখে আমি ছাড়া অন্য কোন পুরুষের নাম অবধি উচ্চারণ হবে। ওই মুখ আমি জ্বালে না বরং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিব”।

সকাল থেকে জিয়ার সাথে আদ্রিয়ান যে এতো ভালো ব্যবহার করছিল? তার যত্ন করছিল? তা কি ছিল তবে? শুধু মেঘের উপর সকল নিষিদ্ধ থাকবে! নিজে বউ থাকা অবস্থায় অন্য নারীর সাথে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলতে পারবে। অথচ মেঘ, রাগের ভসে ফারহানের নাম নেওয়া দোষের হয়ে গেছে? মেঘ বলে

“ওহ্ রিয়েলি আদ্রিয়ান! তবে এতোখন জিয়ার সাথে কি করছিলেন আপনি? ও কেয়ার করলেন? প্রায় একসাথে গল্প করলেন তার শাস্তি কে দিবে? আজ হঠাৎ করে জিয়ার প্রতি এতো ভালোবাসার উদয় কেন হল আপনার?”
মেঘের শরীরে এখন অনেক রাগ যা বুঝল আদ্রিয়ান। হাত বাড়িয়ে কাঁধ ধরে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নেয় মেঘকে! মেঘও কিছুটা শান্ত হয়ে যায়। আদ্রিয়ানের বুকের মধ্যে লেপ্টে যায়! আলতো হাতে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় আদ্রিয়ান। জিয়ার সাথে ভালো ব্যবহার করলে মেঘ কষ্ট পাবে, বা হিংসা করবে তা আদ্রিয়ান জানে। কিন্তু সে বাধ্য। এই জিয়ার মতো সাইকো মহিলার কর্মকাণ্ড সে জানে।

যদি একবার জিয়া তাদের দুইজনের বিয়ের সত্যি জানতে পারে। তবে সবর্নাশ হয়ে যাবে এখন? রাগে, জেদে মেঘকে খুন অবধি করে ফেলতে পারে। মেঘের পড়াশোনার ক্ষতি সে করতে চাই না। কিন্তু আর কতদিন জিয়াকে সয্য করবে সে? আজ না হয় কাল জিয়া সত্যি অবশ্যই জানবে! খুব শীঘ্রই এর কোন ব্যবস্থা করতে হবে। আদ্রিয়ান ধীর শান্ত কণ্ঠে বলে উঠে

“মেঘ, তুমি আমার বউ। এই পৃথিবীতে একমাত্র তুমি ছাড়া আর কোন নারীর প্রতি আমি যত্নশীল নয়। কিন্তু আমার জীবনে জিয়া একটা ঝামেলা! ওর প্রতিটা কথায়, আচরণে আমার বিরক্ত লাগে। কিন্তু আমি চাই না ওর জন্য তোমার কোন ক্ষতি হোক।”

আদ্রিয়ানের কথার মাঝেই মেঘ প্রশ্ন করে উঠে
” জিয়া কি ক্ষতি করবে আমায়? ওর কি আমায় খুন করে ফেলবে?”
আদ্রিয়ান দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বলে
“জিয়ার মতো সাইকো মহিলার দ্বারা খুনা করা অসম্ভব নয়। ওর খুবই সাংঘাতিক একজন মেঘ। জিয়া প্রায় অনেক বছর ধরে আমাকে পছন্দ করে। যখন আমি হাসপাতালে ইন্টানিং করতাম তখন থেকে। জিয়া আমার প্রতি প্রচুর পজিসিব। জিয়া যদি একবার জানতে পারে, তুমি আমার বিবাহিত বউ। ও কিন্তু তোমার ছেড়ে দিবে। যেকোন মূলে তোমায় শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করবে। তাছাড়া তুমি যে কলেজে পড়ো তার প্রিন্সিপ্যাল ইরফান সাহেব। তাই যদি ব্যক্তিগত দ্বন্ধের কারণে কলেজ থেকে বহিষ্কার করে তোমার কেরিয়ার শেষ হয়ে যাবে”
আদ্রিয়ানের সব কথা বেশ মনোযোগ সহকারে শুনে মেঘ। জিয়া যে সাইকো তা সে সুই”সাইড করার ঘটনা শুনে বুঝতে পারছিল। তবে আজ জিয়ার কথাবার্তা শুনে, এমন মনে হয়নি!সত্যি, আদ্রিয়ানের কথা মিথ্যা নয়। কিন্তু কতদিন জিয়ার থেকে লুকিয়ে রাখবে তাদের বিয়ের ঘটনা। মেঘ বলে

“আদ্রিয়ান, কতদিন জিয়ার থেকে লুকিয়ে রাখবেন এই সব সত্যি? সত্য একদিন না একদিন প্রকাশ অবশ্যই পাবে।”
“হুম আমি জানি। এইজন্য খুব দ্রুত জিয়ার কোন ব্যবস্থা করতে হবে। মামার সাথে খুব শ্রীঘই আমি কথা বলব। ইরফান স্যারের সাথেও।”
আদ্রিয়ানের বুক থেকে মেঘ মাথা তুলে সন্দেহ বোধক দৃষ্টি নিয়ে প্রশ্ন করে
“তবে কি এতোদিন আপনি জিয়ার যত্ন করবেন?
মেঘের কথা শুনে আদ্রিয়ান ঠোঁট টিপে হাসে এরপর বলে
“কেন মেঘ, তুমি কি জেলাস?”
মেঘ দুষ্ট হাসি দিয়ে বলে
“ফারহানের কথা শুনে কি? আপনি জেলাস?”
মেঘের কথা শুনে আদ্রিয়ান শাসিত কণ্ঠে বলে উঠে
“তুমি পুনরায় ওই ফারহানের নাম নিলে মেঘ? সাহস কতো বড়ো তোমার?
“তবে আপনিও আর কখনও জিয়ার যত্ন করবেন না। ওর থেকে দুই হাত না দশ হাত দূরে থাকবেন। আর না হলে এই দুনিয়ায় মধ্যে থাকবেন না।”

আদ্রিয়ান মিষ্টি হাসি দিয়ে ভয় পাওয়ার অভিনয় করে বলে উঠে
“সরি বউ, ভয় পায়ছি।”
তারপর তারা দুইজন একসাথে হেঁসে উঠে। একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে বেশ দীর্ঘক্ষণ।
‎দুপুর ১২:০০। রুমে বসে ল্যাপটপে কাজ করছে আদ্রিয়ান। রান্নাঘরে দুপুরের খাবারের আয়োজন করছে মেঘ। আজ ছুটির দিন বাসার কাজ করার পরিকল্পনা ছিল মেঘের। কিন্তু জিয়া এসেছে মেহমান হয়ে তাই দুপুরে খাবার রান্না আয়োজন ভালো করে করতে হবে।
রান্নাঘরে রান্নার সময় জিয়া আসে। দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকে এগিয়ে এসে মিষ্টি হাসি দিয়ে বলে
“মেঘ? কি করছ তুমি?”
“দুপুরের রান্নার আয়োজন করছি।”

ছুরি দিয়ে সবজি কুটিকুটি করে পাএে রাখছে। জিয়া টেবিলে সাথে শরীর মিশিয়ে বলে উঠে
“আচ্ছা মেঘ, তুমি কি আজ খেয়াল করেছ আদ্রিয়ান আমার সাথে ভালো ব্যবহার করছে? তোমার কি মনে হয়, আদ্রিয়ান কি আমার প্রেমে পড়েছে?”
জিয়ার কথা শুনে তরকারি কাটা অবস্থায় মেঘের হাত থেমে যায়। যদিও সে জানে, আদ্রিয়ান শুধুমাএ তাকে ভালোবাসে! জিয়ার প্রতি তার কোন অনুভূতি নাই। তার প্রেমে পড়বে আদ্রিয়ান, অসম্ভব। কিন্তু তবুও মেঘের কষ্ট হয় এমন কথা শুনে। মেঘ শান্ত হয়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে, জিয়া আবার পুনরায় প্রশ্ন করে উঠে
“মেঘ বল না, আদ্রিয়ান কি সত্যি আমায় ভালোবাসে?”
মেঘ শান্ত গলায় ছোট কথায় জবাব দেয়
“হয়ত”
জিয়া মেঘের উত্তর শুনে মৃদু হেঁসে বলে উঠে
“কিন্তু আমার মনে হয়, আদ্রিয়ান আমায় ভালোবাসে? ধীরে ধীরে ওহ্ আমার প্রেমে পড়ে যাচ্ছে”।
জিয়ার কথা শুনে মেঘের বেশ রাগ হয়, শরীরটা জ্বলে উঠে। রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না সে, মেঘ পিছনে ঘাড় ঘুরিয়ে বলে উঠে

“জিয়া ম্যাম, একবারও কি আদ্রিয়ান তোমায় ভালোবাসি বলেছে? অতিরিক্ত কেন বুঝ তুমি? একজনের সাথে ভালো ব্যবহার করা মানে কি! তার প্রেমে পড়ে যাওয়া”
____ মেঘের এমন কথা শুনে জিয়া অবাক হয়ে যায়! হঠাৎ এমন রেগে কেন গিয়েছে সে? জিয়া বলে
“মেঘ, তুমি এতো রেগে যাচ্ছো কেন? আমি শুধু তোমায় আমার মনের কথা বলছিলাম।”
মেঘ শান্ত হয়ে যায়। তার রাগ দেখে হয়ত জিয়া সন্দেহ করতে পারে! মেঘ শান্ত হয়ে যায়। জিয়া বলে
“মেঘ। আদ্রিয়ান কি করলে আমার প্রেম পড়বে? তুমি কিছু টিপস দাও না? পুরুষা কি করলে খুশি হয়?”
‎_____ জিয়ার কথা শুনে মেঘের মুখে সয়তানি হাসি ফুটে উঠে। তার মাথায় দ্রুত দুষ্ট বুদ্ধি চলে আসে! এই সুযোগ, জিয়াকে শিক্ষা দেওয়ার খুব শখ তাই না মেঘের স্বামীকে কেড়ে নেওযার শাস্তি তাকে অবশ্যই দিবে।
উকিলের রুমে মুখ গম্ভীর করে বসে আছে জামান সাহেব। তার সামনে উঁকিল সাহেব কাগজের উপর মুখ গুঁজে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বসে চেক করছে! প্রায় পাঁচ মিনিট পর উকিঁল কাগজ সম্পূর্ণ চেক করে এগিয়ে দেয় জামান সাহবের কাছে এরপর হাসি মুখে বলে

“জামান সাহেব, আপনার ডিভোর্স পেপার রেডি!”
উকিঁলের কথা শুনে জামান সাহেব হাত এগিয়ে দিয়ে ডিভোর্স পেপার গ্রহণ করেন! পেপার স্পষ্ট দুইটা নাম ফুটে উঠে “আদ্রিয়ান রোদায়ান আর মালিহা জান্নাত মেঘ” ডিভোর্স পেপার। জামান সাহেব শরীর ছেড়ে দিয়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে পড়ে। উঁকিল জামান সাহেবের সব অঙ্গভঙ্গি খেয়াল করে এরপর বলে
“জামান সাহেব, আপনি কি সত্যি সিউর ডিভোর্স পেপারের বিষয়ে? আদ্রিয়ান আপনার ছেলে। বাবা হয়ে ছেলের সংসার ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত কেন নিলেন?”
জামান সাহেব চেয়ারে বসা থাকা অবস্থায় বলে উঠে

“উঁকিল সাহেব আপনি তো সব জানেন! বাবা হয়ে ছেলের সংসার ভাঙ্গতে আমি চাইনি? কিন্তু আমার ওই কুলাঙ্গার ছেলে বাধ্য করেছেন। ওর কাছে বিয়েটা কোন মজা? একবার বউকে রেখে নিজের কেরিয়ারের জন্য আমেরিকায় চলে যাবে। আবার, নয় বছর পর ওই বউয়ের সাথে সংসার করতে চাইবে?
উকিঁল সাহেব বেশ দীর্ঘদিন ধরে জামান সাহেবের সাথে কাজ করে তাই ওনি সব জানেন। উঁকিল বলে
“জামান সাহেব আমি সব জানি। কিন্তু এখন আদ্রিয়ান যদি চাই তবে সংসার করবে। তবে অসুবিধা কি?”
“অসুবিধা আছে উঁকিল, মেঘ এতিম একটা মেয়ে। ছোটবেলা থেকে ওর অনেক অত্যাচার, কষ্ট, সয্য করেছে। আমার মৃত বন্ধু বেঁচে থাকলে হয়ত, আমার ছেলের মতো এমন কুলাঙ্গারকে তার মেয়ের জন্য বেছে নিত না।
উঁকিল সাহেব বলে

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৫৪

“আপনি কি সত্যি মেঘ আর আদ্রিয়ানের ডিভোর্স করিয়ে দিবেন?”
জামান সাহেব চেয়ার থেকে উঠে, ডিভোর্স পেপার হাতে নিয়ে মৃদু হেঁসে উঠে
“ডিভোর্স না হলেও শাস্তি অবশ্যই হবে।”
জামান সাহেব কথাটা বলে উঁকিলের রুম থেকে বের হয়ে যায়। দরজা দিয়ে বাহিরে বের হয়ে ওনি পকেট থেকে ফোন বের করে তার পিএকে কল করে বলে
“আমার পরিবারের সকলের জন্য বিমানের টিকিট বুক কর। আগামী সাত দিনের মধ্যে আমরা আমেরিকায় যাব।
অপর পাশ থেকে একজন বলে উঠে
” ওকে স্যার”।

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৫৬