তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৫৬
নওরিন মুনতাহা হিয়া
__ হঠাৎ মাথায় দুষ্ট বুদ্ধির উদয় হয় মেঘের। পাশে থাকা জিয়ার দিকে তাকিয়ে মিটমিট হাসে! মেঘের কর্মকাণ্ড জিয়া বুঝতে পারে না। মেঘ সয়তানি হাসি দিয়ে বলে
“জিয়া, পুরুষ মানুষ কর্মঠ নারী খুব পছন্দ করে। তুমি যদি আদ্রিয়ান স্যারের সামনে বাড়ির কাজ কর। ওনার জন্য রান্না কর তবে হয়ত ওনি খুশি হবেন?”
মেঘের পরামর্শ শুনে খুশিতে ঠোঁট চকচক করে উঠে! জিয়া্ দ্রুত মেঘের মুখের কাছে এগিয়ে গিয়ে আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করে
“সত্যি মেঘ, আমি কাজ কর্ম রান্না করলে আদ্রিয়ান খুশি হবে? আমার প্রেমে পড়ে যাবে?”
মেঘ সম্মতি দিয়ে আত্মাবিশ্বাসের সহিত বলে উঠে
“অবশ্যই হবে।”
জিয়া খুশিতে গদগদ হয়ে উঠে। সে আদ্রিয়ানকে ইমপ্রেস করার উপায় পেয়ে গেছে। জিয়া বলে
“মেঘ, তবে তাড়াতাড়ি বল আমায় কি কি কাজ করতে হবে? ঘরের কাজ কি বাকি আছে?”
মেঘ একটু অসহায় মুখ করে জিয়ার মুখের দিকে তাকায়। কিন্তু মনে মনে পৈশাচিক আনন্দ পায় সে। মেঘ বলে
“জিয়া, ঘরের অনেক কাজ বাকি? আজ ছুটির দিন সব কাজ করব মনে করেছিলাম। কিন্তু সময় হয়ে উঠেনি!”
জিয়া মেঘের হাত থেকে খুন্তি নিয়ে নেয়। এরপর বলে উট
“মেঘ, তোমার কোন কাজ করতে হবে না। সব কাজ আমি করব! বল, কি কাজ করা লাগবে?”
“সবই করা লাগবে।”
মেঘ সয়তানি হাসি দিয়ে ঘরের সব কাজ দেখিয়ে দেয় জিয়াকে। রুম থেকে বের হয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসে আদ্রিয়ান। হঠাৎ সিঁড়ির মধ্যে একজন কাজের মহিলাকে দেখে থমকে যায়, হাতে নেকড়া নিয়ে উল্টো দিকে মাথা ঘুরিয়ে বসে ঘর মুছার কাজ করছে। আদ্রিয়ান অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে? বাড়ির কাজের মহিলা এখনও ফিরে আসেনি? তবে ঘরের কাজ কে করছে? আদ্রিয়ান কয়েক সিঁড়ি নিচে নেমে মেঘকে ডাকতে থাকে
“মেঘ? মেঘ!”
মেঘ তখন সোফার উপর পা নাড়িয়ে বসে ফুল ভলিউমে গান শুনছিল! হঠাৎ আদ্রিয়ানের কণ্ঠ কানে আসায় টিভি বন্ধ করে সিঁড়ির কাছে ছুটে আসে। মেঘ বলে
“কি হয়েছে আদ্রিয়ান স্যার? ডাকছেন কেন আমায়?”
সিঁড়ির মধ্যে বসে থাকা মহিলার দিকে হাতের আঙুল দিয়ে ইশারা করে প্রশ্ন করে উঠে!
“এই মেয়ে কে? নতুন কাজের মহিলা?”
আদ্রিয়ানের প্রশ্ন শুনে মেঘ সিঁড়ির দিকে তাকায় আর ঠোঁট টিপে হাসে! এইবার ঘর মুছা দেওয়া মহিলা পিছনে ফিরে! বলে উঠে
“আদ্রিয়ান? তুমি আমায় কাজের মহিলা বলছে?আমায় কি কাজের মহিলা মতো দেখতে?”
হঠাৎ পিছনে ঘুরে তাকান মহিলার মুখ দেখে থমকে যায় আদ্রিয়ান। অবাকের চরম সীমানায় পৌঁছে গিয়ে বলে উঠে
“জিয়া, তুমি এখানে? সিঁড়ির মধ্যে কি করছ?”
জিয়া একটু ন্যাকা কণ্ঠে বলে উঠে
“ঘর মুছা দিচ্ছি আমি আদ্রিয়ান?”
“কিন্তু তুমি এইসব কেন করছ হঠাৎ?”
জিয়ার প্রতি আদ্রিয়ানের এমন ন্যাকামি দেখে মেঘ রাগে দাঁত কটমট করে তাকায়! মেঘের তীক্ষ দৃষ্টি দেখে। আদ্রিয়ান আর অতিরিক্ত আদিখ্যেতা দেখায় না। জিয়া বলে
“আদ্রিয়ান। আমার ঘরের কাজ করতে সবসময় ভালো লাগে। তাই করছি! রান্না করা, ঘর ঝাড়ু দেওয়া আমার ভীষণ পছন্দের?”
জিয়ার কথা শুনে আদ্রিয়ান অবাক? জিয়ার কবে থেকে এই ঘরের কাজের উপর পছন্দ করে! ওর মতো অলস মেয়ে এই আমেরিকা শহরে খুঁজে পাওয়া যাবে না? কিন্তু হঠাৎ এমন পরিবর্তন হয়ে গেছে কেন? সিঁড়ি নিচে আদ্রিয়ান মেঘ মিটমিট করে হাসছে। আদ্রিয়ান তা দেখল, নিশ্চয়ই মেঘই কিছু করেছে! ওদের দুইজনের কথার মধ্যে মেঘ বলে উঠে
“দেখুন না আদ্রিয়ান স্যার, জিয়া ম্যামকে আমি বলেছি এইসব করতে হবে না? কিন্তু ওনি শুনলেন না!”
_ মেঘের কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে তাকায় আদ্রিয়ান! সে বেশি কথা বলে না। জিয়া পুনরায় ঘর মুছা দিচ্ছে। আদ্রিয়ান সাইড হয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে যায়, এরপর নিচে গিয়ে জিয়ার দিকে তাকায়। বেচারি জিয়ার ঘর মুছতে গিয়ে অবস্থা খারাপ! চুল এলেমেলো হয়ে মুখের উপর এসে পড়ছে। এক হাত দিয়ে চুল সরিয়ে দিচ্ছে অন্য হাত দিয়ে ঘর মুছা দেয়। বাবার একমাত্র সন্তান হওয়ায় কখনও ঘরের কাজ সে করেনি, তাছাড়া জিয়া যে পরিমাণের অলস ওর দ্বারা কোন কাজই সম্ভব নয়।
তবে জিয়ার এমন অবস্থা দেখে আদ্রিয়ানের বেশ হাসি পায়। মেঘ পাড়ছে না শব্দ করে হাসছে, জিয়ার এখন বেশ বিরক্ত লাগছে এইসব কাজ করতে। কিন্তু আদ্রিয়ানকে খুশি করতে চাই! যদি এইসব কাজ করা দেখে আদ্রিয়ান তার প্রেমে পড়ে যায়। তাই জিয়া বাধ্য হয়ে ঘর মুছা শুরু করে! মেঘ ওর বিরক্তর মাএা অতিরিক্ত বাড়িয়ে দিয়ে বলে
“জিয়া, তুমি ভালো করে ঘর ঝাড়ু দেও। ময়লা পরিষ্কার হচ্ছে না।”
সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে অসহায় মুখ নিয়ে জিয়া বলে উঠে
“মেঘ, আমি মুছার চেষ্টা করছি। পরিষ্কার হচ্ছে না।”
“জিয়া, জোরে শক্তি দিয়ে সিঁড়ির উপর ঘসা দাও পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
জিয়া পানি দিয়ে জোরে জোরে ঘষা দিয়ে সিঁড়ি পরিষ্কার করা শুরু করে। এমন নাজেহাল অবস্থায় জিয়াকে দেখে আদ্রিয়ানের ভীষণ হাসি পায়। আদ্রিয়ান বলে
“জিয়া, তোমায় পারফেক্ট কাজের মহিলা লাগছে। বেশ মানিয়েছে! তুমি ডক্টর না হয়ে কাজের মহিলা হলে কিন্তু মন্দ হতো না।”
আদ্রিয়ানের কথায় জিয়ার রাগ হয়! এমন করে অপমান করল আদ্রিয়ান তাকে? মেঘ এইবার হাসি আটকে রাখতে পারল না। পেট ধরে শব্দ করে হেসেঁ উঠে! জিয়া বলে
“আদ্রিয়ান, মেঘ! তোমরা আমার সাথে মজা করছ?”
“সরি জিয়া, আর মজা করব না। তুমি ঘর মুছ আমরা টিভি দেখি।চল মেঘ।”
দুইজন হাসতে হাসতে চলে যায় সিঁড়ির কাছ থেকে। টিভির মধ্যে ছবি চলছে! ছোফায় বসে রিমোট হাতে নিয়ে ভলিউম আর একটু বাড়ায় দেয়। সামান্য দূরে বসার চেষ্টা করে মেঘ আদ্রিয়ানের কাছ থেকে। কিন্তু হাত ধরে নিজের কাছে নিয়ে আসে মেঘকে! আদ্রিয়ানের হাতে মৃদু থাপ্পড় দিয়ে আদ্রিয়ান বলে
“আদ্রিযান, কি করছেন ছাড়ুন? জিয়া দেখলে সবর্নাশ হয়ে যাবে।”
ছোফার থেকে মাথা উঁচু করে সিঁড়ির দিকে তাকায় আদ্রিয়ান! জিয়া এখন মুখ ঘুরিয়ে উপরে সিঁড়ির ময়া পরিষ্কার করছে! সে দেখবে না। তাছাড়া সিঁড়ির থেকে ছোফার দূরত্ব অনেক চাইলেও দেখা সম্ভব নয়। আদ্রিয়ান মেঘের মাথা নিচুঁ করে তার কাঁধে রাখে এরপর বলে
“দেখবে না।”
মেঘের মাথার চুলে হাত বুলিয়ে দেয আদ্রিয়ান। টেবিলে থাকা পপকন হাতে নিয়ে টিভির মধ্যে মুভি দেখতে থাকে। আর অন্যদিকে জিয়া ঘর মুছা দিচ্ছে।
_ দুপুরে রান্নাঘরে মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে জিয়া। সারা সকাল বেশ অনেক কাজ করেছে! ঘর ঝাড়ু দেওয়া, মুছা,ময়লা পরিষ্কার করা, কাপড় _ চোপড় ধোয়াঁ সহ প্রায় সব। মেঘ ইচ্ছা করেই সব করিয়েছে, সুযোগের পূর্ণ ব্যবহার সে করেছে। কিন্তু এখন সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হলো রান্না করা। জিয়া রান্না করতে পারে না, কখনও করেনি! এখন দুপুরে কি রান্না করবে?
জিয়ার চিন্তিত মুখ দেখে ঠোঁট চেপে হাসে মেঘ। এরপর বলে উঠে
“জিয়া? কি দেখছ তুমি? রান্না শুরু করে দাও। দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় হয়ে গেছে।”
রান্নাঘরে থাকা শাক সবজির দিকে করুণ চোখে তাকিয়ে মিনমিন করে বলে উঠে
“রান্না!?
” কেন জিয়া? তুমি কি রান্না করতে পার না?”
জিয়া নিজের ব্যর্থতা লুকায়! সে সব পারে। আদ্রিয়ানকে খুশি করার জন্য দুপুরের রান্না তাকে অবশ্যই শিখতে হবে। জিয়া সাহস নিয়ে বলে
“অবশ্যই পারি। জিয়া সব পারে? তুমি বল কি রান্না করতে হবে?”
মেঘ মুখ ভেংচি দেয়। এই জিয়া যে রান্না করতে পারে না তা সে তার মুখ দেখেই বুঝে গেছে। কিন্তু মেঘ চাই জিয়া রান্না করুক! অনেক জ্বালিয়েছে সে আদ্রিয়ানকে এইবার একটু শাস্তি পাক! আসছে মেঘের সতিন হতে? মেঘ বলে
“তুমি বরং আজ আদ্রিয়ান স্যারের পছন্দের খাবার বিরিয়ানি রান্না কর। সাথে মাছের তরকারি, আর যেকোন প্রকার ভাজি _ভরা কর।”
জিয়া এতো সব প্রকার খাবারের আইটমের কথা শুনে ভয় পেয়ে যায়। সে সাধারণ কফির বানাতে পারে না আবার বিরিয়ানি কি করে রান্না করবে? আদ্রিয়ান খাবার খাওয়ার বিষয়ে যথেষ্ট খুঁতখুতে! জিয়া মনে সাহস জোগায় সে পারবে। অবশ্যই পারবে। জিয়া আত্মাবিশ্বাসের সাথে বলে
“আমি সব রান্না করব দুপুরের মেঘ ”
মেঘ বলে
“আচ্ছা তুমি রান্না কর। আমি রুমে গেলাম। গোসল করতে।”
“ওকে যাও তুমি মেঘ।”
কথা বলা শেষ করে রান্না ঘর থেকে বের হয়ে যায় মেঘ। জিয়া ভীতু ভীতু চোখে তাকিয়ে সব শাক সবজি তরকারি দেখছে! সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে আদ্রিয়ানের রুমের পাশ কাটিয়ে যখন মেঘ তার রুমে যেতে যাবে। তখন পিছন থেকে শক্ত করে হাত ধরে নিজের কাছে নিয়ে যায়। হঠাৎ আদ্রিযানের এমন কাণ্ডে মেঘ অবাক হয়ে যায়!
রুমের ভিতরে মেঘের হাত নিয়ে গিয়ে দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দেয় মেঘের! নিজে একটু এগিয়ে এসে নরম আহ্লাদী কণ্ঠে বলে উঠে
“বউ আই মিস ইউ।”
মাএ ড্রয়িং রুমে আদ্রিয়ানের সাথে দেখা হয়েছে মেঘের। এখুনি তাকে মিস করছে! মেঘের সন্দেহ হয় এমন কথায়। আদ্রিয়ানের মুখের দিকে তাকিয়ে সন্দিহান দৃষ্টিতে বলে উঠে
“মতলব কি আপনার? কি চাই?”
মেঘের এমন প্রশ্নে আদ্রিয়ান এগিয়ে আসে তার কাছে। এরপর দুষ্ট হাসি দিয়ে বলে
“ভালোবাসা।”
মেঘ চোখ পাকিয়ে বলে উঠে
“মানে?”
আদ্রিয়ান মেঘের দুই গালে আলতো হাত বুলিয়ে বলে উঠে
“চল না বউ একটু রোমান্স করি।”
সাথে সাথেই মেঘ হাত সরিয়ে নেয়। শক্ত চোখ মুখ নিয়ে বলে উঠে
“হাত সরান। নিচে রান্নাঘরে আপনার জিয়া রয়েছে তার সাথে গিয়ে রোমান্স করুন”।
মেঘের রাগ, হিংসার কারণ আদ্রিয়ান বুঝল। আদ্রিয়ান বলে
” জিয়া কি আমার বউ? যে তার সাথে রোমান্স করব? তুমি আমার বউ হও? বউ!।”
মেঘের মেজাজ খারাপ হয়। সকালের শুরুটা সুন্দর হলেও দিনটা চরম বিরক্তর মধ্যে দিয়ে কাটিয়েছে সে! জিয়ার প্রতি আদ্রিয়ানের এমন যত্নশীল আচরণ তার সয্য হয়নি। স্বাভাবিক ভাবে যেকোন নারীর রাগ উঠবে। মেঘ বিরক্তি নিয়ে বলে
“আদ্রিয়ান ছাড়ুন আমায়। গোসল করতে যাব আমি।”
_ মেঘের কথা শুনে যেন আদ্রিয়ান আর একটু সুযোগ পায়। দুষ্ট হাসি দিয়ে চোখ টিপে বলে উঠে
“চল না, বউ একসাথে গোসল করি। তাহলে সময়ই বাঁচবে আর রোমান্স হবে।”
আদ্রিয়ানের কথার চোখ বড় বড় হয়ে যায় মেঘের। চোখ রাগিয়ে বলে উঠে
“নিচে জিয়া রয়েছে। ও যদি একবার আমাদের দেখে নেয়। তখন কি হবে বুঝতে পারছেন আপনি?”
আদ্রিয়ান ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে উঠে
“কি হবে? জিয়াকে ভয় পায় আমি?”
মেঘ আদ্রিয়ানের সাহসী কথা শুনে খুশি হয় না। বরং তার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে জোরে ডাক দেয়
“জিয়া, দেখ আদ্রিয়ান স্যার আমার সাথে ——।”
মেঘের কথা শেষ হওয়ার আগেই ওর মুখ চেপে ধরে আদ্রিয়ান! দরজার বাহিরে উঁকি দিয়ে দেখে ধীর কণ্ঠে বলে উঠে
“তুমি কি করছে মেঘ? জিয়া যদি উপরে চলে আসে তখন কি হবে? পাগল হয়ে গেছ তুমি?”
“কেন আপনি না জিয়াকে ভয় পান না?”
“মেঘ, তুমি শুধু শুধু রাগ করছ আমার উপর? আমি জিয়ার —-
আদ্রিযানের কথার মাঝে মেঘ হাত বাড়িয়ে থামিয়ে দেয় স্পষ্ট স্বরে বলে উঠে
” থাক্ আমি আর কোর অযুহাত শুনতে চাই না। এখন ছাড়ুন আমায় গোসল করব আমি। রান্নাঘরে আপনার জিয়া কি কি রান্না করছে তা দেখতে হবে?”
জিয়ার রান্নাঘরে থাকার কথা শুনে আদ্রিয়ান শর্কড হয়ে যায়! জিয়া রান্না করবে মানে? ঘর মুছা, আর ঝাড়ু অবধি ঠিক ছিল এখন রান্না? জিয়ার মতো এমন অর্কম করবে রান্না? ওর রান্না করা খাবার কি মুখে দেওয়া যাবে? গলা দিয়ে নামবে তার? আদ্রিয়ান বলে
“মেঘ, তুমি গিয়ে দ্রুত জিয়াকে রান্না করা থেকে আটকাও। ও কিছুই রান্না করতে পারে না?
_”শুনুন জিয়া রান্না পারে কি পারে না? তা জানার কোন প্রয়োজন নাই আমার? তাছাড়া ওর রান্না করা খাবার খাবেন আপনি! আমি না।”
আদ্রিয়ানের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। এই জিয়ার রান্না করা খাবার খাওয়ার চেয়ে বিষ খাওয়া অনেক ভালো। আদ্রিযান অসহায় মুখ দিয়ে মেঘের কাছে অনুরোধ করে বলে উঠে
“মেঘ দয়া করে জিয়াকে রান্না করা থেকে দূরে রাখ। ওর খাবার খেলে আমি মারা যাব! তুমি বিধবা হয়ে যাবে মেঘ। ”
আদ্রিয়ানের কথা শুনে মেঘের মুখে দুষ্ট হাসি ফুটে উঠে মেঘ বলে
“আপনি খাবার খেয়ে মারা গেলে। আমি ফারহানকে বিয়ে করব। এরপর আপনার মতো এমন যত্নশীল হব ফারহানের উপর।”
আদ্রিয়ান বুঝতে পারে তার উপর প্রতিশোধ নিচ্ছে। আদ্রিয়ান বলে
“মেঘ, তুমি আমায় অন্য যোকান উপায়ে শাস্তি দাও। শুধু ওই জিয়ার রান্না খেতে বল না।”
মেঘ জেদ দেখিয়ে বলে
“আজ জিয়ার রান্না আপনি অবশ্যই খাবেন৷ খুব যত্ন, আর ভালোবাসা দেখিয়েছিলেন না আপনি? এর শাস্তি আপনি পাবেন?”
মেঘের কথা শুনে আদ্রিযান বুঝে যায। আজ মেঘ তার উপর প্রতিশোধ অবশ্যই নিবে? কিন্তু সকাল থেকে জিয়ার সাথে কি সে কি ইচ্ছা করে এতো ভালো ব্যবহার করছে। যার জন্য করি চুরি সেই বলে চোর! আদ্রিয়ানের এখন নিজের উপর রাগ হচ্ছে? মেঘ আদ্রিয়ানের এমন চিন্তিত মুখ দেখে মিটমিট করে হাসতে থাকে! খুব ভালো হয়েছে? এখন বোঝ বউ ছাড়া অন্য নারীর উপর যত্নশীল হওয়ার মজা কি?
মেঘ আদ্রিয়ানের থেকে দূরে সরে দরজা দিয়ে বাহির হয়ে যাওয়ার আগে পিছন ফিরে বলে উঠে
তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৫৫
“জিয়া, আপনার প্রিয় বিরিয়ানি রান্না করছে। দুপুরে কিন্তু পেট ভরে খেতে পারবেন আপনি? এরপর বেঁচে নাও থাকতে পারেন।”
সয়তানি হাসি দিয়ে এই কথা বলে মেঘ চলে যায়।আদ্রিয়ান মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে৷ তার প্রিয় বিরিয়ানির প্রতি কতো ভালোবাসা ছিল তার। এখন সব শেষ। আজই মনে হয় জীবনের শেষ বিরিয়ানি খাবে আদ্রিয়ান । “আল্লাহ বাঁচাও আমায় আজ ”

Next part plz taratari den